





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
আব্দুল্লাহ বিন মাস‘ঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি কথা বললেন, আর আমি(তার সাথে)আরো একটি বললাম। নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন শরীক(ওলী ইত্যাদি) কে ডাকা অবস্থায় মারা যায়, সে জাহান্নামে যাবে।" আর আমি বললামঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর কোন শরীক(ওলী ইত্যাদি) কে না ডাকা অবস্থায় মারা যায়, সে জান্নাতে যাবে।”(বুখারীঃ4497 ও মুসলিমঃ92)
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্যে যা করা ফরজ, তার কোন কিছু অন্যের জন্য করবে,যেমন আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে ডাকা, তাঁর নিকট ছাড়া অন্যের কাছে সাহায্য চাওয়া এবং এ অবস্থায় মারা যায়, তবে অবশ্যই সে জাহান্নামের অধিবাসী। আব্দুল্লাহ ইবন মাস‘ঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সংযোজন করেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরীক না করে মারা যায়, তার ঠিকানা জান্নাত।
আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “দ্বীনের ব্যাপারে নিজের পক্ষ থেকে কঠোরতা অবলম্বনকারীরা ধ্বংস হ। ১ তিনি কথাটি তিনবার বলেছেন।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেননবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে দ্বীনের ও দুনিয়াবী ব্যাপারে, কথা ও কাজে হিদায়েত ও ইলেম ব্যতীত নিজের পক্ষ থেকে কঠোরতা অবলম্বনকারীদের ধ্বংস ও ক্ষতির কথা বর্ণনা করেছেন। সীমালঙ্ঘনকারীগণ শরী‘আতের সে সীমারেখা অতিক্রম করেছে যা নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করেছেন।
ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহ আনহুমা থেকে আল্লাহর বাণী: (অর্থ) “তোমরা তোমাদের ইলাহগুলোকে ছেড়ো না এবং তোমরা ছেড়ো না উদ, সুয়া‘, ইয়াঘূস, ইয়াউক ও নাসরকে”। সম্পর্কে বলেন, এরা হলো নূহ সম্প্রদায়ের নেককার লোকদের নাম। তারা মারা যাওয়ার পর শয়তান তাদের নিকট অহী প্রেরণ করে যে, তোমরা তাদের বসার স্থানে মূর্তি বানাও এবং তাদের নামে নাম করণ করো। তারা তাই করল, কিন্তু উপাসনা করত না। তারপর যখন এরা মারা গেল এবং ইলম ভুলে গেল তখন তাদের ইবাদত করা আরম্ভ হলো।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু গুরুত্বপূর্ণ এ আয়াতটির তাফসীর করেন যে, এসব ইলাহ যাদেরকে এখানে আল্লাহ উল্লেখ করেছেন, নূহ আলাইহিস সালাম তার সম্প্রদায়কে আল্লাহর সাথে শিরক করা থেকে নিষেধ করা সত্ত্বেও তার সম্প্রদায় তাদের ইবাদতে লিপ্ত থাকার প্রতি একে অপরকে উপদেশ দিত। মুলত:এরা হলো তাদের মধ্য থেকে নেককারা লোকদের নাম। শয়তান তাদের কু-মন্ত্রণা দেওয়ার ফলে তারা তাদের সম্পর্কে বাড়াবাড়ি করা আরম্ভ করল। এমনকি তারা তাদের প্রতিকৃতি নির্মাণ করল। এ সব প্রতিকৃতি বানানোর পরিণতি তাদেরকে এ পর্যায়ে নিয়ে গেল যে, এ গুলো তাদের মূর্তিতে পরিণত হলো, আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদের ইবাদত করা হতো।
আবূ হুরায়রা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কোন ব্যক্তি যদি কোন অভাবগ্রস্ত ব্যক্তিকে অবকাশ দেয় বা তার নিকট পাওনা মাফ করে দেয়, আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন তাঁর আরশের ছায়ায় তাকে ছায়া দিবেন। যে দিন আল্লাহর ছায়া ছাড়া আর কোন ছায়া থাকবে না।”
এটি তিরিমিযী ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন যে, যে ব্যক্তি ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিকে ঋণ পরিশোধে অবকাশ দেয় অথবা তার ঋণের কিছু অংশ মাফ করে দেয়, তাহলে তার প্রতিদান হলো: আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন তাঁর আরশের ছায়ায় তাকে ছায়া দিবেন। যেদিন সূর্য বান্দাদের মাথার নিকটবর্তী থাকবে এবং এর উষ্ণতা মানুষের জন্য ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি করবে। সেদিন আল্লাহ যাকে ছায়া দান করবেন, সে ছাড়া কেউ কোন ছায়া পাবে না।
আবূ হুরায়রা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ যে ব্যক্তির কল্যাণ কামনা করেন, তাকে তিনি দুঃখ-কষ্টে পতিত করেন।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, আল্লাহ যখন মুমিন বান্দাদের মধ্যে কারো কল্যাণ চান, তখন তিনি তাদেরকে তাদের জান, মাল ও পরিবার-পরিজনের ব্যাপারে পরীক্ষায় পতিত করেন। কেননা এতে উক্ত মুমিন ব্যক্তির দু‘আর মাধ্যমে আল্লাহর কাছে আশ্রয় অর্জিত হয়, গুনাহ মাফ হয় এবং তার মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।
আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমি যে ব্যাপারে তোমাদেরকে (বর্ণনা না দিয়ে) ছেড়ে দিয়েছি, সে ব্যাপারে তোমরা আমাকে ছেড়ে দাও (অর্থাৎ সে ব্যাপারে আমাকে প্রশ্ন করো না)। কারণ, তোমাদের পূর্ববর্তীরা তাদের অধিক প্রশ্ন করার এবং তাদের নবীদের সঙ্গে মতভেদ করার ফলে ধ্বংস হয়ে গেছে। সুতরাং আমি যখন তোমাদেরকে কোনো জিনিস থেকে নিষেধ করব, তখন তোমরা তা থেকে দূরে থাক। আর যখন আমি তোমাদেরকে কোনো কাজের আদেশ দেব, তখন তোমরা তা সাধ্যমত পালন কর।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন যে, শরী‘আতের আহকাম তিন ধরণের: কিছু বিষয়ে চুপ, কিছু বিষয়ে নিষেধ এবং কিছু বিষয়ে আদেশ দেওয়া হয়েছে। প্রথমত:যে বিষয়ে শরী‘আহ নীরব রয়েছে: যেখানে কোন বিধান নেই, এ বিষয়গুলির ক্ষেত্রে মূলনীতি হল, সেগুলি বাধ্যতামূলক নয়; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে এমন বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন না করা আবশ্যক ছিল, এ ভয়ে যেন আল্লাহর পক্ষ থেকে আবশ্যক অথবা হারামের বিধান নাযিল না হয়ে যায়; কেননা আল্লাহ তা‘আলা সেগুলিকে বান্দাদের উপরে রহমত হিসেবে ছাড় দিয়েছিলেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মৃত্যুর পরে, যদি মুফতির কাছে প্রশ্ন করা হয় অথবা দীনের প্রয়োজনে এমন বিষয়সমূহ শেখার প্রয়োজন হয়, তাহলে তা জায়িয, বরং সেটি আদিষ্ট বিষয়ও বটে। পক্ষান্তরে যদি তা কৃত্রিমতা অথবা সমস্যা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে হয়ে থাকে, তাহলে সেটি হচ্ছে এ হাদীসের মধ্যে আগত প্রশ্নের নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য; কেননা এটি কখনো কখনো বনী ইসরাঈলের সাথে যা ঘটেছিল সেদিকে ধাবিত করতে পারে, যখন তাদেরকে একটি গরু যবাই করার আদেশ দেওয়া হয়েছিল, তারা যদি তখন যে কোন একটি গরু যবাই করত, তাহলে তা তাদের জন্য যথেষ্ট হত, কিন্তু তারা কঠিন করার কারণে তাদের উপর কঠিন করে দেওয়া হয়েছিল। দ্বিতীয়: নিষেধাজ্ঞা: এগুলো হচ্ছে এমন বিষয়, যেগুলো ছেড়ে দিলে সওয়াব হবে আর করলে তার কর্তাকে শাস্তি দেওয়া হবে। সুতরাং এগুলোর প্রত্যেকটি বিষয় থেকে দূরে থাকা আবশ্যক। তৃতীয়: আদেশ: এগুলো হচ্ছে এমন বিষয়, যেগুলো করলে সওয়াব আর ছেড়ে দিলে শাস্তি দেওয়া হবে। সুতরাং এগুলোকে সাধ্য অনুযায়ী পালন করতে হবে।
ইবনু ’আব্বাস রদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মহান রব হতে (হাদীসে কুদসী ) বর্ণনা করে বলেন যে: “আল্লাহ ভাল-মন্দ লিখে দিয়েছেন। এরপর সেগুলোকে বর্ণনা করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি কোন সৎ কাজের ইচ্ছা করল; কিন্তু তা বাস্তবে করল না, আল্লাহ তাঁর কাছে এর জন্য পূর্ণ একটি সাওয়াব লিখবেন। আর সে ভাল কাজের ইচ্ছা করল এবং তা বাস্তবেও সম্পাদন করল, আল্লাহ তাঁর কাছে ঐ ব্যক্তির জন্য দশ গুণ থেকে সাতশ’ গুণ পর্যন্ত, এমন কি এর চেয়ে বহুগুণ সাওযাব লিখে দেন। আর যে কোন মন্দ কাজের ইচ্ছা করল; কিন্তু তা বাস্তবায়ন করল না, আল্লাহ তাঁর কাছে তার জন্য পূর্ণ সাওয়াব লিখবেন। আর যদি সে মন্দ কাজের ইচ্ছা করার পর বাস্তবেও তা করে, তবে তার জন্য আল্লাহ মাত্র একটা গুনাহ লিখবেন।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমএ হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন যে, মহান আল্লাহ ভালো-মন্দ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। অতপর দু’জন ফেরেশতাকে কিভাবে তা লিখতে হবে, তা বর্ণনা করে দিয়েছেন। সুতরাং কেউ কোন সৎ কাজের দৃঢ় ইচ্ছা করলেই আল্লাহ তার জন্য পূর্ণ সাওয়াব লিখে দেন; যদিও সে তা বাস্তবায়ন না করতে পারে। আর যদি সে উক্ত ভালো আমল করে, তাহলে আল্লাহ তাকে দশ গুণ থেকে সাতশ’ গুণ পর্যন্ত, এমন কি এর চেয়েও বহুগুণ সাওয়াব লিখে দেন। সাওয়াবের আধিক্যের পরিমাণ ব্যক্তির অন্তরের নিয়ত, ইখলাস ও উপকারের ব্যাপকতা ইত্যাদি হিসেবে হয়ে থাকে। আর যে কোন মন্দ কাজের ইচ্ছা করল, অতপর সে তা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে বাস্তবে পরিণত করল না, আল্লাহ তাকে পূর্ণ একটি সাওয়াব লিখে দেন। আর যদি সে ব্যস্ততা বা কাজটি সম্পন্ন করার উপকরণের অভাবে তা করতে না পারে, তবে তার জন্য কিছুই লেখা হয় না। আর যদি সে অক্ষমতার কারণে উক্ত মন্দ কাজটি না করে, তবে তার নিয়াত অনুসারে এর প্রতিদান লেখা হয়। আর যদি সে উক্ত মন্দ কাজটি বাস্তবায়ন করেই ফেলে, তবে তার জন্য মাত্র একটি গুনাহ লেখা হয়।
আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের চেহারা ও ধন-সম্পদের প্রতি দৃষ্টিপাত করেন না; বরং তিনি দৃষ্টি দিয়ে থাকেন তোমাদের অন্তর ও আমলের প্রতি।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনএ হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বান্দার বাহ্যিক চাল-চলন, চেহারা ও শরীরের প্রতি দৃষ্টিপাত করেন না যে, এগুলো সুন্দর নাকি অসুন্দর? এগুলো বড় নাকি ছোট? এগুলো সুস্থ নাকি অসুস্থ? এবং আল্লাহ তাদের ধন-সম্পদের প্রতিও দৃষ্টিপাত করেন না। তাদের সম্পদ বেশি না কম? এসব বিষয়ের ব্যাপারে আল্লাহ তাঁর বান্দাহকে পাকড়াও করবেন না এবং এগুলো বেশি-কম হওয়ার কারণে কারো হিসেবও নিবেন না। তবে তিনি দৃষ্টি দিয়ে থাকেন তাদের অন্তরের এবং এতে যে তাকওয়া, ইয়াকীন, সততা, একনিষ্ঠতা অথবা লৌকিকতা ও সুনাম-সুখ্যাতি অর্জনের ইচ্ছা করা হয়েছে কী না সেগুলোর প্রতি। এছাড়াও তিনি দৃষ্টিপাত করে থাকেন তাদের আমলের প্রতি, সেগুলো কতটুকু পরিশুদ্ধ বা অপরিশুদ্ধ। ফলে কর্মটি বিশুদ্ধ হলে তিনি সাওয়াব প্রদান করেন এবং অশুদ্ধ হলে তাকে শাস্তি প্রদান করেন।
‘উমার ইবনুল খত্তাব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “একবার আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে ছিলাম। এমন সময় একজন লোক আমাদের কাছে উপস্থিত হলেন। তার পরিধানের কাপড় ছিল সাদা ধবধবে, মাথার কেশ ছিল কালো কুচকুচে। তার মধ্যে সফরের কোন চিহ্ন ছিল না আবার আমরা কেউ তাকে চিনতে পারলাম না। তিনি নিজের দুই হাঁটু নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুই হাঁটুর সাথে লাগিয়ে বসে পড়লেন আর তার দুই হাত নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের দুই উরুর উপর রাখলেন। তারপর তিনি বললেন: হে মুহাম্মাদ! আমাকে ইসলাম সস্পর্কে অবহিত করুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “ইসলাম হলো, তুমি এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করবে যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো (প্রকৃত) মাবূদ নেই এবং নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করবে, যাকাত আদায় করবে, রমাযানের সাওম পালন করবে এবং বাইতুল্লাহতে পৌঁছার সামর্থ্য থাকলে হজ পালন করবে।” আগন্তুক বললেন, আপনি ঠিকই বলেছেন। তার কথা শুনে আমরা বিস্মিত হলাম যে, তিনিই প্রশ্ন করেছেন আবার তিনিই-তা সত্যায়ন করছেন। আগন্তুক বললেন: আমাকে ঈমান সম্পর্কে অবহিত করুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “ঈমান হলো তুমি আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফিরিশতাদের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রাসূলগণের প্রতি এবং আখিরাতের প্রতি ঈমান আনায়ন করবে, আর তাকদীরের ভাল-মন্দের প্রতি ঈমান রাখবে।” আগন্তুক বললেন: আপনি ঠিকই বলেছেন। তারপর বললেন: আমাকে ইহসান সম্পর্কে অবহিত করুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “ইহসান হলো, তুমি এমনভাবে ইবাদত-বন্দেগী করবে, যেন তুমি আল্লাহকে দেখছ, যদি তুমি তাকে নাও দেখ, তাহলে এ বিশ্বাস রাখবে যে, তিনি তোমাকে দেখছেন।” আগন্তুক বললেন: আমাকে কিয়ামত সম্পর্কে অবহিত করুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “এ বিষয়ে প্রশ্নকারীর চেয়ে যাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে তিনি অধিক অবগত নন।” আগন্তুক বললেন: আমাকে এর আলামত সম্পর্কে অবহিত করুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “তা হলো এই যে, দাসী তার প্রভুর জননী হবে এবং নগ্নপদ, বিবস্ত্রদেহ, দরিদ্র মেষপালকদের বিরাট বিরাট অট্টালিকার প্রতিযোগিতায় গর্বিত দেখতে পাবে।” উমার ইবনুল খত্তাব রদিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন: পরে আগন্তুক প্রস্থান করলেন। আমি বেশ সময় অপেক্ষা করলাম। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বললেন: “হে উমার ! তুমি জানো, এই প্রশ্নকারী কে?” আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই সম্যক জ্ঞাত আছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “তিনি হচ্ছেন জিবরীল। তিনি তোমাদের কে তোমাদের দীন শিক্ষা দিতে এসেছিলেন।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন‘উমার রদিয়াল্লাহু ‘আনহু এ হাদীসে সংবাদ দিয়েছেন যে, একবার জিবরীল আলাইহিস সালাম সাহাবীদের কাছে অপরিচিত একজন মানুষের আকৃতিতে আগমন করলেন। তার বৈশিষ্ট্য ছিল এমন যে, তার পরিধানের কাপড় ছিল সাদা ধবধবে, তার মাথার কেশ ছিল কালো কুচকুচে, সফরের ক্লান্তি, চেহারায় ধুলোবালি, চুল এলামেলো বা কাপড় নোংরা না থাকায় তার মধ্যে সফরের কোন চিহ্ন ছিল না। আবার আমরা উপস্থিত ব্যক্তিরাও তাকে চিনতে পারলাম না অথচ তারা সকলেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে বসা ছিলেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে এসে শিক্ষার্থীর ন্যায় বসলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি তাকে ইসলামের রুকনসমূহের ব্যাপারে উত্তর দিলেন, যার অন্তর্ভুক্ত বিষয় ছিল: দুটি সাক্ষ্যের স্বীকৃতি, পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের সংরক্ষণ, প্রাপ্যদের জন্য যাকাত আদায় করা, রমাযান মাসের সাওম পালন করা এবং সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য ফরজ হজ পালন করা। অতপর প্রশ্নকারী লোকটি বললেন: আপনি সঠিক উত্তর দিয়েছেন। তার কথা শুনে সাহাবীগণ আশ্চর্যান্বিত হলেন; কেননা তার প্রশ্ন দ্বারা বুঝা যাচ্ছিল তিনি এসব বিষয় জানতেন না; কিন্তু তিনিই প্রশ্ন করেছেন আর তিনিই তার সত্যায়ন করছেন। অতপর আগন্তুক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ঈমান সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন। তিনি ঈমানের ছয়টি রুকন উল্লেখ করেন, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত বিষয় ছিল: আল্লাহর অস্তিত্ব, তাঁর গুণাবলী, তার সকল কাজ যেমন সৃষ্টিতে তাঁর একত্ব প্রতিষ্ঠা করা, ইবাদাত পাওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি একক তা সাব্যস্ত করা। ফিরিশতাগণকে আল্লাহ নূর দ্বারা সৃষ্টি করছেন, তারা সম্মানিত বান্দাহ এবং তাদেরকে যা আদেশ করা হয় সে ব্যাপারে তারা কখনো আল্লাহর অবাধ্য হন না। এছাড়াও সকল নবী-রাসূলদের প্রতি নাযিলকৃত কিতাবসমূহের উপর ঈমান আনা,যেমন: কুরআন, তাওরাত ও ইঞ্জিল ইত্যাদি। রাসূলগণ আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর দ্বীনের প্রচারক, যেমন: নূহ, ইব্রাহীম, মূসা, ঈসা, এবং তাদের সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং অন্যান্য নবী-রাসূলগণের উপরে ঈমান আনা। আখিরাতের প্রতি ঈমান আনা, যার অন্তর্ভুক্ত হলো মৃত্যুর পরে যা কিছু ঘটবে যেমন: কবর, বারযাখী জীবন, এছাড়াও মৃত্যুর পরে মানুষকে হিসাব-নিকাশের জন্য পুনরুত্থিত করা হবে, এরপর তার গন্তব্য হয়ত জান্নাতে অথবা জাহান্নামে। এছাড়াও এ বিষয়ে ঈমান আনা, আল্লাহ তা‘আলা প্রতিটি বিষয়কে নির্ধারণ করে দিয়েছেন, তাঁর পূর্ব ইলম অনুযায়ী, হিকমত ও উক্ত বিষয়সমূহ সম্পর্কে তাঁর লিখন ও ইচ্ছা অনুসারে, আর তিনি যা যেভাবে তাঁর পূর্ব ইলেম অনুসারে তাকদীর করেছেন সেগুলো সেভাবেই সংঘটিত হওয়া। অতপর আগন্তুক তাকে ইহসান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন: ইহসান হলো, এমনভাবে আল্লাহর ইবাদাত-বন্দেগী করা যেন সে আল্লাহকে দেখছে। যদি তার এ পর্যায়ে পৌঁছা সম্ভব না হয়, তবে সে এভাবে ইবাদাত করবে যে, তিনি তাকে দেখছেন। প্রথম স্তর হলো মুশাহাদার স্তর যা সর্বোচ্চ স্তর। আর দ্বিতীয় স্তর হলো মুরাকাবার স্তর। অতপর আগন্তুক তাকে কিয়ামাত সস্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: কিয়ামাত সম্পর্কিত জ্ঞান মহান আল্লাহর গোপনীয় বিষয়সমূহের অন্যতম। যা তিনি ব্যতীত সৃষ্টির অন্য কেউ জানে না। সুতরাং এ বিষয়ে জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি ও জিজ্ঞাসাকারী কেউই অবহিত নন। অতপর লোকটি তাঁকে কিয়ামাতের আলামত সস্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বর্ণনা করলেন যে, কিয়ামাতের আলামতের অন্যতম হলো: অধিক দাসী ও তাদের সন্তানের আধিক্য, সন্তান কর্তৃক তাদের মায়ের অধিক অবাধ্যতা, যারা তাদের জননীদের সাথে দাসীর মতো আচরণ করবে, শেষ যামানায় নগ্নপদ, বিবস্ত্রদেহ, দরিদ্র মেষপালকদের জন্য দুনিয়া বিস্তৃত হয়ে যাবে; ফলে তারা বিরাট বিরাট অট্টালিকা নির্মাণ ও এর সৌন্দর্য নিয়ে গর্ব করবে। অতপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবীদেরকে সংবাদ দিলেন যে, প্রশ্নকারী ছিলেন জিবরীল ‘আলাইহিস সালাম, তিনি সাহাবীদেরকে সরল-সঠিক দীন শিক্ষা দিতে আগমন করেছিলেন।