





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
আবূ মূসা আল-‘আশ‘আরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা কুরআন মুখস্থ রাখার ব্যাপারে অধিক যত্নবান হও । যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ আমি সে মহান সত্তার শপথ করে বলছি, কুরআনের মুখস্থ সূরাহ বা আয়াতসমূহ মানুষের মন থেকে বাঁধা উটের চেয়েও অধিক পলায়নপর।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআন হিফযের ব্যাপারে এবং সর্বদা কুরআন তিলাওয়াতের প্রতি যত্নবান হতে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে কুরআন একবার হিফজ করার পরে তা ভুলে না যায়। তিনি এ ব্যাপারে শপথ করে বলেন যে, কুরআনের মুখস্থ সূরাহ বা আয়াতসমূহ মানুষের অন্তর থেকে রশি দিয়ে পা বাঁধা উটের চেয়েও অধিক পরিমাণে পলায়ন করে ও ভুলে যায়। মানুষ যদি কুরআনের মুখস্ত সূরা বা আয়াতের ব্যাপারে যত্নবান হয়, নিয়মিত তিলাওয়াত করে তবে তা তার অন্তরে মুখস্ত থাকে; নতুবা তা ভুলে যায় ও তার অন্তর থেকে হারিয়ে যায়।
‘উসমান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তি সর্বোত্তম যে নিজে কুরআন শিখে এবং অন্যকে শিখায়।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে সংবাদ দিয়েছেন যে, মুসলিমদের মধ্যে আল্লাহর কাছে মর্যাদায় সর্বোত্তম হলেন তিনি, যিনি নিজে কুরআন শিখে, তিলাওয়াত করে, কুরআন মুখস্ত করে, তারতীলসহকারে পড়ে, কুরআন বুঝে ও কুরআনের তাফসীর শিখে এবং তার কাছে কুরআনের ইলমের যা কিছু আছে তা আমল করে অন্যকে শিখায়।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “ তোমাদের ঘরসমূহকে তোমরা কবর বানাবে না।(১) নিশ্চয় যে ঘরে সূরাহ বাক্বারাহ পাঠ করা হয় শয়তান সে ঘর থেকে পালিয়ে যায়।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরগুলোকে সালাত মুক্ত করতে নিষেধ করেছেন, তাহলে তা কবরসমূহের মতো হবে যেখানে সালাত আদায় হয় না। অতপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন, যে ঘরে সূরাহ বাক্বারাহ পাঠ করা হয় শয়তান সে ঘর থেকে পালিয়ে যায়।
আবূ মাস‘ঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি কোন রাতে সূরাহ বাকারার শেষ দু’টি আয়াত পাঠ করে, সে দুটিই তার জন্য যথেষ্ট।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে বর্ণনা করেছেন , যে ব্যক্তি কোন রাতে সূরা বাকারার শেষ দু’টি আয়াত পাঠ করে, যাবতীয় ক্ষতি ও অপছন্দনীয় অবস্থা থেকে রক্ষা করতে তার জন্য আল্লাহ যথেষ্ট। কেউ কেউ বলেছেন: এ দুটি তার কিয়ামুল লাইল (তাহাজ্জুদের সালাত)এর জন্য যথেষ্ট। আবার কেউ কেউ বলেছেন: এ দুটি তার রাতের সকল অযীফার জন্য যথেষ্ট। আবার কেউ বলেছেন: কিয়ামুল লাইলে কুরআন তিলাওয়াতের জন্য এ দু’ আয়াত তার জন্য যথেষ্ট। এ ছাড়াও অন্য ব্যাখ্যাও কেউ কেউ দিয়েছেন। সম্ভবত উল্লিখিত সকল ব্যাখ্যাই সহীহ যা হাদীসে শব্দসমূহ অন্তর্ভুক্ত করে।
আব্দুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি হরফ পাঠ করবে তার জন্য এর এর কারণে একটি সাওয়াব আছে। আর সাওয়াবটি তার দশ গুণ বৃদ্ধি পায়। আমি বলি না যে, আলিফ-লাম-মীম একটি হরফ; বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ এবং মীম একটি হরফ।”
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে সংবাদ দিয়েছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি হরফ পাঠ করবে তার জন্য রয়েছে একটি সাওয়াব এবং তার জন্য এর সাওয়াব দশ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। অতপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিষয়টি স্পষ্ট করেন, আমি বলি না, আলিফ-লাম-মীম একটি হরফ; বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ এবং মীম একটি হরফ। সুতরাং এ তিনটি হরফে ত্রিশটি নেকি অর্জিত হবে।
‘আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বক্ষণ আল্লাহর যিকির করতেন।”
এটি বুখারী মু‘আল্লাক হাদীসরূপে দৃঢ় বাক্য দ্বারা বর্ণনা করেছেন।উম্মুল মু’মিমীন আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা এ হাদীসে বর্ণনা করেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তা‘আলার যিকিরের ব্যাপারে কর্ঠিন আগ্রহী ছিলেন। তিনি সবসময়, সর্বাবস্থায় ও সর্বত্র আল্লাহ তা‘আলার যিকির করতেন।
আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: “মহান আল্লাহ বলেছেনঃ আমার এবং আমার বান্দার মাঝে সালাতকে অর্ধেক করে ভাগ করেছি। আমার বান্দার জন্য রয়েছে সে যা চায়। বান্দা যখন বলে, الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ (সমস্ত প্রশংসা বিশ্ব জাহানের রবের জন্য), আল্লাহ তা’আলা তখন বলেনঃআমার বান্দা আমার প্রশংসা করেছে। সে যখন বলে,الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ (অতিশয় দয়ালু এবং করুণাময়) আল্লাহ তা’আলা বলেনঃবান্দা আমার প্রশংসা ও গুণগান করেছে।সে যখন বলে, مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ (তিনি বিচার দিনের মালিক), তখন আল্লাহ বলেনঃআমার বান্দা আমাকে মহিমান্বিত করেছে। আল্লাহ আরো বলেনঃ বান্দা তার সমস্ত কাজ আমার উপর সমর্পণ করেছে। সে যখন বলে, إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ (আমরা কেবল তোমারই ইবাদত করি এবং তোমারই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি) তখন আল্লাহ বলেন, এটি আমার এবং আমার বান্দার মধ্যকার ব্যাপার। (এখন) আমার বান্দার জন্য রয়েছে সে যা চায়। যখন সে বলে,اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ (আমাদের সরল-সঠিক পথে পরিচালনা করুন। যেসব লোকদের উপর আপনি নি’আমাত দান করেছেন তাঁদের পথে , তাদের পথে নয় যাদের প্রতি আপনার গযব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে; তখন আল্লাহ বলেনঃ এসবই আমার বান্দার জন্যে এবং আমার বান্দার জন্যে রয়েছে সে যা চায়।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিচ্ছেন, আল্লাহ তা‘আলা হাদীসে কুদসীতে বলেছেন, আমি সালাতে সূরা ফাতিহাকে আমার ও আমার বান্দার মাঝে দু’ভাগে ভাগ করেছি। আমার জন্যে অর্ধেক আর বান্দার জন্যে অর্ধেক। প্রথম অর্ধেক: আল্লাহর প্রশংসা, গুণকীর্তন ও বড়ত্ব বর্ণনা। আমি তাকে তাঁর উত্তম প্রতিদান প্রদান করব। দ্বিতীয় অর্ধেক: অনুনয়, বিনয় ও দোয়া। আমি তাঁর ডাকে সাড়া দেই এবং সে যা চায় তা প্রদান করি। অতএব, মুসল্লি যখন বলে, الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ (সমস্ত প্রশংসা বিশ্ব জাহানের রব আল্লাহর জন্য), আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ আমার বান্দা আমার প্রশংসা করেছে। সে যখন বলে, الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ (তিনি অতিশয় দয়ালু এবং করুণাময়); আল্লাহ তা’আলা বলেনঃআমার বান্দা আমার প্রশংসা ও গুণগান করেছে এবং আমার মাখলূকের ওপর আমার ব্যাপক নিয়ামতের কথা স্বীকার করেছে। সে যখন বলে, مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ (তিনি বিচার দিনের মালিক), তখন আল্লাহ বলেনঃ আমার বান্দা আমাকে মহিমান্বিত করেছে।) আর এটা ব্যাপক সম্মান। আর সে যখন বলে, إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ (আমরা কেবল তোমারই ইবাদত করি এবং তোমারই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি) তখন আল্লাহ বলেন, এটা আমার এবং আমার বান্দার মধ্যকার ব্যাপার। অতএব, এই আয়াতের (إياك نعبد) থেকে শুরু পর্যন্ত হলো আল্লার জন্যে। আর তার বিষয় হলো আল্লাহর জন্যেই সকল ইবাদতের স্বীকৃতি এবং তাঁরই জন্য ইবাদত আঞ্জাম দেওয়া। এর দ্বারা আল্লাহর জন্যে প্রথম অর্ধেক শেষ হলো। দ্বিতীয় অর্ধেক যা বান্দার জন্যে তা হলো, (إياك نستعين) থেকে শেষ পর্যন্ত। আর তা হলো আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করা এবং সাহায্য করার ওপর তাঁর প্রতিশ্রুতি তলব করা। অতএব, যখন সে বলে,اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ * صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ (আমাদের সরল-সঠিক পথে পরিচালনা করুন। যেসব লোকদের উপর আপনি নি’আমাত দান করেছেন তাঁদের পথে , তাদের পথে নয় যাদের প্রতি আপনার গযব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে; তখন আল্লাহ বলেনঃএই অনুনয়-বিনয় ও দোয়া হলো আমার বান্দার পক্ষ থেকে, কাজেই আমার বান্দার জন্যে রয়েছে সে যা চায়। আমি তার দোয়া কবুল করলাম।
সাঈদ ইব্নু মুসাইয়্যাব সূত্রে তার পিতা মুসাইয়্যাব ইবন হুজন হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ তালিব এর মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলে, আল্লাহর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট আসলেন। তখন সেখানে ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু আবূ উমায়্যা ও আবূ জাহাল উপস্থিত ছিল। (রাবী বলেন) তিনি তাকে বললেন, চাচাজান! ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ কালিমা পাঠ করুন, তা হলে এর দ্বারা আমি আল্লাহর সমীপে আপনার জন্য সুপারিশ করতে পারব। তারা দু’জন তাকে বলে উঠল, তুমি কি আবদুল মুত্তালিবের ধর্ম হতে বিমুখ হবে? পুনরায় নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট কালিমাহ পেশ করলেন, তারা দু’জনও তাদের উক্তি পুনরাবৃত্তি করল। অবশেষে আবূ তালিব তাদের সামনে শেষ কথাটি যা বলল, তা এই যে, সে আবদুল মুত্তালিবের ধর্মের উপর অবিচল রয়েছে, সে ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ বলতে অস্বীকার করল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহর কসম! তবুও আমি আপনার জন্য মাগফিরাত কামনা করতে থাকব, যতক্ষণ না আমাকে তা হতে নিষেধ করা হয়। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা‘আলা নাযিল করেন: নবীর জন্য সঙ্গত নয় এবং ঈমানদারদের জন্যও সঙ্গত নয় যে,তারা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থণা করবে। যদিও তারা তার নিকটাত্মীয় হয়ে থাকে। আর আল্লাহ তা‘আলা আবূ তালিব সম্পর্কে নাযিল করেন যে, তুমি যাকে পছন্দ করো তাকে হিদায়াত দিতে পারবে না। তবে আল্লাহ যাকে চান তাকেই হিদায়াত দান করেন। আর তিনি হিদায়াত প্রাপ্তদের বিষয়ে অধিক জ্ঞাত।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ তালিবকে তার মুমূর্ষ অবস্থায় দেখতে গিয়ে তার কাছে ইসলাম পেশ করেন, যাতে তার জীবনের পরিসমাপ্তি ইসলামের ওপর হয় এবং এ দ্বারা সে সৌভাগ্যবান হয় এবং সফলতা লাভ করে। তিনি তাকে তাওহীদের কালিমা উচ্চারণ করাইতে চাইলেন। আর মুশরিকরা তার কাছে তাদের বাপ-দাদার দীন অর্থাৎ শির্কের ওপর অটুট থাকা চাইলেন। কারণ, তারা জানতেন যে, এ কালিমা এমন একটি কালিমা যা শির্ককে না করে এবং এক আল্লাহর জন্য ইবাদত করা সাব্যস্ত করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার চাচার কাছে বার বার কালিমা শাহাদাত উচ্চারণ করা কামনা করলেন। আর মুশরিকরা বার বার তার বিরোধিতা করতে লাগল। ফলে সত্য থেকে বিরত থাকা এবং শির্কের ওপর তার মৃত্যু বরণ করার তাঁরাই কারণ ছিল। এ সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লা সপথ করেন যে, নিশ্চয় তিনি তার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবেন যতক্ষণ না তাকে তা থেকে নিষেধ করা না হয়। তারপর আল্লাহ তা‘আলা তা থেকে নিষেধ নাযিল করেন এবং তাকে জানিয়ে দেন যে, হিদায়াত কেবল আল্লাহর হাতে। তিনি যাকে চান তাকে তা দ্বারা মর্যাদাবান করেন। কারণ, তিনি জানেন কে হিদায়েতের যোগ্য আর কে যোগ্য নয়। অতঃপর আল্লাহ তাআলা নাযিল করেন: “নবীর জন্য সঙ্গত নয় এবং ঈমানদারদের জন্যও সঙ্গত নয় যে,তারা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থণা করবে। যদিও তারা তার নিকটাত্মীয় হয়ে থাকে। তাদের নিকট এটা স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর যে নিশ্চয় তারা প্রজ্বলিত আগুনের অধিবাসী”। আর আল্লাহ তা‘আলা আবূ তালিব সম্পর্কে নাযিল করেন যে, “তুমি যাকে পছন্দ করো তাকে হিদায়াত দিতে পারবে না। তবে আল্লাহ যাকে চান তাকেই হিদায়াত দান করেন। আর তিনি হিদায়াত প্রাপ্তদের বিষয়ে অধিক জ্ঞাত”।
আবূ সা‘ঈদ রাফে‘ ইবনুল মু‘আল্লা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন, মসজিদ থেকে বের হওয়ার পূর্বে আমি কি তোমাকে কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ সূরা শিক্ষা দিব না? তখন তিনি আমার হাত ধরলেন। অতঃপর যখন আমরা মসজিদ থেকে বের হওয়ার ইচ্ছা করলাম তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তো বলেছেন মসজিদ থেকে বের হওয়ার পূর্বে আমাকে কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ সূরা শিক্ষা দিবেন। তিনি বললেন, তা হলো, “আল হামদুলিল্লাহ রাব্বিল আলামীন” (সূরা ফাতিহা)। এটাই বারবার পঠিত সাতটি আয়াত (আস-সাব‘উল মাসানী) এবং কুরআনুল আযীম (মহাগ্রন্থ আল-কুরআন) যা আমাকে দেওয়া হয়েছে।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।আবু সা‘ঈদ রাফে‘ ইবনুল মু‘আল্লা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন, (ألا) এ অব্যয়টি সম্বোধনকারী ব্যক্তিকে ডাকার পরে যা বলা হবে সে সর্ম্পকে সতর্ক করার জন্য ব্যবহার করা হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, (أعلمك أعظم سورة في القرآن قبل أن تخرج من المسجد) অর্থাৎ “মসজিদ থেকে বের হওয়ার পূর্বে আমি কি তোমাকে কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ সূরা শিক্ষা দিব“। তিনি তাকে শুরুতেই সূরাটি শিক্ষা না দিয়ে এভাবে বলার কারণ হলো, যাতে তার স্মৃতিশক্তি অন্য কাজ থেকে খালি হয়ে তাঁর কথাগুলো পুুরোপুরিভাবে গ্রহণ করে। বর্ণনাকারীর কথা, (فأخذ بيدي) তখন তিনি আমার হাত ধরলেন। অর্থাৎ তিনি এ কথা বললেন এবং আমরা যখন হাঁটছিলাম তখন তিনি আমার হাত ধরলেন। অতঃপর বর্ণনাকারী বলেন, (لما أردنا أن نخرج قلت: يا رسول اللّه إنك قلت: لأعلمنك أعظم سورة في القرآن) যখন আমরা মসজিদ থেকে বের হওয়ার ইচ্ছা করলাম তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তো বলেছেন মসজিদ থেকে বের হওয়ার পূর্বে আমাকে কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ সূরা শিক্ষা দিবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, (الحمد للّه ربّ العالمين) তা হলো, “আল হামদুলিল্লাহ রাব্বিল আলামীন” অর্থাৎ সূরা ফাতিহা। এ সূরাকে সবচেয়ে বড় সূরা বলার কারণ হলো, এ সূরাতে আল-কুরআনের যাবতীয় লক্ষ্য-উদ্দেশ্য একত্রিত হয়েছে। এ কারণে উক্ত সূরাকে উম্মুল কুরআন বলা হয়। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরা ফাতিহাকে অন্য সূরা থেকে আলাদা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হওয়া; এমনকি সবচেয়ে বড় সূরা হওয়ার কারণ ইঙ্গিত করে বলেন, (هي السبع المثاني) এটি বারবার পঠিত সাতটি আয়াত। (المثاني) শব্দটি (مثناة ) এর বহুবচন। যা (التثنية ) থেকে নির্গত হয়েছে। এ নামে অভিহিত করার কারণ হলো যেহেতু এ সূরাটি সালাতের প্রত্যেক রাকাতে পড়া হয় অথবা এটি অন্য সূরার সাথে বারবার পাঠ করা হয় অথবা এ নামে অভিহিত করার কারণ হলো, এ সূরাতে দু’ধরনের জিনিস একত্রিত হয়েছে। প্রথম প্রকার হলো, সানা তথা আল্লাহর প্রশংসা এবং দ্বিতীয় প্রকার হলো দো‘আ অথবা এ সূরাতে বালাগাতের ইলমুল মাবানী ও ইলমুল মা‘আনী দু’ধরনেরই ভাষা অলঙ্কার সন্নিবেশিত হয়েছে অথবা এটি সময়ের পালাক্রমে বারবার সংঘটিত হয় ও ফিরে আসে। ফলে এটি মানুষ থেকে বিছিন্ন হয় না এবং মানুষকে শিক্ষা দেওয়া হয়, ফলে তা বিস্মৃত হয় না। অথবা এ সূরার উপকারিতা বারবার নতুন করে প্রাপ্ত হয়, ফলে তা শেষ হয় না। অথবা শব্দটি (الثناء) তথা প্রশংসা থেকে নির্গত ধরা হবে। কেননা এতে মহান আল্লাহর প্রশংসা একত্রিত হয়েছে। যেন সূরাটি আল্লাহর আসমাউল হুসনা তথা গুণবাচক নামসমূহ ও তাঁর সিফাতসমূহ উল্লেখ করার মাধ্যমে আল্লাহর প্রশংসা করেছে। অথবা শব্দটি (الثنايا) থেকে নির্গত হয়েছে। কেননা আল্লাহ এ উম্মতের জন্য সাওয়াব দুই গুণ ও বহুগুণে বৃদ্ধি করে দিবেন। উপরোক্ত ব্যাখ্যা ছাড়াও (المثاني) শব্দটির আরো ব্যাখ্যা রয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, (والقرآن العظيم) মহাগ্রন্থ আল-কুরআন। এ সূরাকে এ নামে নামকরণ করা হয়েছে। (الذي أوتيته) যা আমাকে দেওয়া হয়েছে। এ সূরাকে কুরআনুল আযীম বলার কারণ হলো, এতে দুনিয়া ও আখিরাতের যাবতীয় জিনিস, শরী‘আতের আহকাম ও আকাইদ সবগুলো সম্পর্কেই আলোচনা করা হয়েছে। দেখুন: দলীলুল ফালিহীন, (৬/১৭৮-১৮০)।