Hedayat “A fruitful harvest”
from the gardens of “ Verses and Hadiths ”
Inspiring Dawah cards that highlight the profound meanings of Quranic verses and Prophetic Hadiths. Presented in an accessible and engaging style to help Muslims gain a deeper understanding of their faith with ease.
About Hedayat
Hedayat is a platform that combines simplicity of design and ease of use
displaying the benefits derived from Verses and Hadiths in
attractive cards with unique designs.
Unique Designs
Cards with unique and attractive designs that express the content of the text
Reliable Materials
Scientifically reliable benefits reviewed by a group of scholars
Easy Browsing
You can browse the cards easily and display them effortlessly
Different Languages
Cards are available in more than 40 languages for the benefit of all
Hadith Cards
‘আয়িশাহ রদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিদিন রাতে যখন বিছানায় যেতেন, তখন তিনি তার দু হাতের তালু একত্রিত করে সূরা ইখ্লাস {قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ}, সূরা ফালাক {قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ} ও সূরা নাস {قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ} পাঠ করে তার মধ্যে ফুঁক দিয়ে যতদূর সম্ভব শরীরে হাত বুলাতেন। মাথা ও মুখ থেকে শুরু করে তার দেহের সম্মুখ ভাগের উপর হাত বুলাতেন এবং তিনি তিনবার এ রকম করতেন।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অভ্যাস ছিল যে, তিনি যখন ঘুমানোর জন্য বিছানায় যেতেন, তখন তিনি তার দুই হাতের তালু একত্রিত করে উপরে উঠিয়ে -দু‘আকারী ব্যক্তি যেভাবে করে থাকে- তাতে অল্প করে ফুঁ দিতেন যাতে খুবই সামান্য কিছুটা থুথু থাকত, আর তিনটি সূরা পড়তেন: সূরা ইখ্লাস {قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ}, সূরা ফালাক {قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ} ও সূরা নাস {قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ}। তারপরে তিনি তার হাতের তালু দ্বারা শরীরে যতদূর সম্ভব হাত বোলাতেন, তার মাথা ও মুখমণ্ডল থেকে শুরু করতেন যাতে শরীরের সামনের অন্যান্য অংশও থাকত। এটা তিনি তিনবার করতেন।
বারা’ ইবনে আযেব রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা একটি লোক সূরা কাহাফ পাঠ করছিল। তার পাশেই দুটো রশি দিয়ে একটি ঘোড়া বাঁধা ছিল। ইতোমধ্যে লোকটিকে একটি মেঘে ঢেকে নিলো। মেঘটি লোকটির নিকটবর্তী হতে থাকলে ঘোড়াটি তা দেখে চমকাতে আরম্ভ করল। অতঃপর যখন সকাল হল তখন লোকটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে হাজির হয়ে উক্ত ঘটনা বর্ণনা করল। তা [শুনে] তিনি বললেন, “ওটি প্রশান্তি ছিল, যা তোমার কুরআন পড়ার দরুন অবতীর্ণ হয়েছে।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।বারা’ ইবনে আযেব রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলের যামানায় সংঘটিত একটি আশ্চর্য ঘটনা বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, একদা একটি লোক সূরা কাহাফ পাঠ করছিল। তার পাশেই রশি দিয়ে একটি ঘোড়া বাঁধা ছিল। ইতোমধ্যে লোকটিকে ছাতার মতো একটি মেঘ ঢেকে নিলো। মেঘটি তার নিকটবর্তী হতে থাকলে ঘোড়াটি তা দেখে চমকাতে আরম্ভ করল এবং লাফালাফি করতে লাগল। অতঃপর যখন সকাল হল তখন লোকটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে হাজির হয়ে উক্ত ঘটনা বর্ণনা করল। তা [শুনে] নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন,“এ প্রশান্তিটি কুরআন পড়ার সময় যে সাহাবী কুরআন পড়ছিল তার সম্মানে এবং আল্লাহর কালাম যে সত্য তার সাক্ষ্য হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে।” লোকটি হলো উসাইদ ইবনে হুযাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু।
ইবনে মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে মারফূ হিসেবে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘কেবল দু’জন ব্যক্তি ঈর্ষার পাত্র। সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ ধন-সম্পদ দান করেছেন এবং তাকে তা সৎপথে ব্যয় করার শক্তিও দিয়েছেন। আর সেই লোক যাকে আল্লাহ জ্ঞান-বুদ্ধি দান করেছেন, যার বদৌলতে সে বিচার-ফায়সালা করে থাকে ও তা অপরকে শিক্ষা দেয়।’’ আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘দু’জনের ক্ষেত্রে ঈর্ষা করা সিদ্ধ। [১] যাকে আল্লাহ কুরআন [মুখস্থ করার শক্তি] দান করেছেন, সুতরাং সে ওর [আলোকে] দিবা-রাত্রি পড়ে ও আমল করে। [২] যাকে আল্লাহ তা'আলা ধন-সম্পদ দান করেছেন এবং সে [আল্লাহর পথে] দিন-রাত ব্যয় করে।’’
উভয় বর্ণনা মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।এখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইঙ্গিত করেছেন যে, হিংসা বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। তার মধ্যে এক প্রকার হিংসা নিন্দনীয় এবং শরীয়তে নিষিদ্ধ। আর তা হচ্ছে, কোনো মানুষ তার ভাইয়ের নেয়ামতের ধ্বংস কামনা করা। আরেক প্রকার হিংসা হচ্ছে মুবাহ।অন্যের পার্থিব নেয়ামত দেখে নিজের জন্য অনুরূপ নেয়ামতের আশা করা প্রশংসীয় হিংসা। শরীয়তের দৃষ্টিতে এটি মুস্তাহাব। আর এটিই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর এ বাণী দ্বারা বুঝিয়েছেন, “একমাত্র দু’টি বিষয়েই হিংসা করা যায়।” অর্থাৎ হিংসার প্রকারের ভিন্নতা অনুযায়ী তার আহকামও বিভিন্ন ধরণের হয়ে থাকে। দু’টি ক্ষেত্র ব্যতীত শরীয়তে তা প্রশংসনীয় ও মুস্তাহাব হতে পারে না। প্রথমটি হলো, এমন ধনী ও তাকওয়াবান ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ তাআলা হালাল সম্পদ দিয়েছেন। অতঃপর সে তা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করে। সুতরাং তার মতো হওয়া এবং তাকে এই নেয়ামতের জন্য হিংসা করা বৈধ। দ্বিতীয়টি হলো, এমন আলেম যাকে আল্লাহ তাআলা উপকারী জ্ঞান দিয়েছেন। সে ইলম অনুযায়ী আমল করে, তা অন্যকে শিক্ষা দেয় এবং এর মাধ্যমে মানুষের মাঝে বিচার ফয়সালা করে। অনুরূপ ব্যক্তি হওয়ার আশা করা মুস্তাহাব।
‘উকবা ইবন ‘আমের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তুমি কি দেখনি যে, আজ রাতে আমার ওপর কিছু আয়াত নাযিল হয়েছে, তার ন্যায় মর্যাদাময় আর কোনো আয়াতই কখনো দেখা যায়নি। তা হলো সূরা ফালাক এবং সূরা নাস।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।‘উকবা ইবন ‘আমের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তুমি কি লক্ষ্য করনি?” অর্থাৎ তুমি কী জানতে পারনি? এটি বর্ণনাকারীকে উদ্দেশ্য করে সম্বোধন। তবে এর উদ্দেশ্য সকলকে সম্বোধন করা। এটি আর্শ্চয্যবোধক শব্দ। এর দ্বারা আর্শ্চয্য হওয়ার কারণের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। আর সেটি হচ্ছে তার বাণী, “এর ন্যায় কোনো কিছু দেখা যায় নি।” অর্থাৎ এ অধ্যায়ে, আর তা হচ্ছে আল্লাহর আশ্রয় নেওয়া সংক্রান্ত বিষয়ে। রাসূল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, “কাততু” অর্থ: কখনো। না সূচক কথাকে আরো সুদৃঢ় করতে ব্যবহৃত হয়েছে। নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, “কুল আ‘ঊযু বিরাব্বিল ফালাক এবং কুল আ‘ঊযু বিরাব্বিন নাস (সূরা ফালাক ও সূরা নাস)” অর্থাৎ এ দু’টি সূরায় যেভাবে সব আয়াতে এর পাঠককে অকল্যাণ থেকে আশ্রয় প্রার্থনার কথা এসেছে, অন্য কোনো সূরার সব আয়াতে তা পাওয়া যায় না। ঈমান ও সততার সাথে কোনো আশ্রয় প্রার্থনাকারী এ দু’টি সূরা দিয়ে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করলে আল্লাহ অবশ্যই তাকে আশ্রয় দিবেন। মূলকথা হলো, মানুষের উচিৎ এ দু’সূরার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা। দেখুন, মিরকাতুল মাফাতীহ (৪/৬৩৯); শরহু রিয়াদিস সালিহীন (৪/৬৭৮)।
ইবনু ‘আব্বাস রদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ বিসমিল্লাহ.. নাযিল হওয়া ছাড়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উভয় সূরার পার্থক্য বুঝতেন না।
এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন।ইবনু ‘আব্বাস রদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণনা করেছেন, কুরআনে কারীমের সূরাসমূহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপরে নাযিল হত, তখন তিনি তার সমাপ্তি এবং আলাদা হওয়া সম্পর্কে জানতে পারতেন না, যতক্ষন না بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ নাযিল হত। এটা নাযিল হলে তিনি বুঝতেন, আগের সূরাটি সমাপ্ত হয়েছে আর নতুন সূরা শুরু হয়েছে।
আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: “মহান আল্লাহ বলেছেনঃ আমার এবং আমার বান্দার মাঝে সালাতকে অর্ধেক করে ভাগ করেছি। আমার বান্দার জন্য রয়েছে সে যা চায়। বান্দা যখন বলে, الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ (সমস্ত প্রশংসা বিশ্ব জাহানের রবের জন্য), আল্লাহ তা’আলা তখন বলেনঃআমার বান্দা আমার প্রশংসা করেছে। সে যখন বলে,الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ (অতিশয় দয়ালু এবং করুণাময়) আল্লাহ তা’আলা বলেনঃবান্দা আমার প্রশংসা ও গুণগান করেছে।সে যখন বলে, مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ (তিনি বিচার দিনের মালিক), তখন আল্লাহ বলেনঃআমার বান্দা আমাকে মহিমান্বিত করেছে। আল্লাহ আরো বলেনঃ বান্দা তার সমস্ত কাজ আমার উপর সমর্পণ করেছে। সে যখন বলে, إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ (আমরা কেবল তোমারই ইবাদত করি এবং তোমারই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি) তখন আল্লাহ বলেন, এটি আমার এবং আমার বান্দার মধ্যকার ব্যাপার। (এখন) আমার বান্দার জন্য রয়েছে সে যা চায়। যখন সে বলে,اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ (আমাদের সরল-সঠিক পথে পরিচালনা করুন। যেসব লোকদের উপর আপনি নি’আমাত দান করেছেন তাঁদের পথে , তাদের পথে নয় যাদের প্রতি আপনার গযব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে; তখন আল্লাহ বলেনঃ এসবই আমার বান্দার জন্যে এবং আমার বান্দার জন্যে রয়েছে সে যা চায়।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিচ্ছেন, আল্লাহ তা‘আলা হাদীসে কুদসীতে বলেছেন, আমি সালাতে সূরা ফাতিহাকে আমার ও আমার বান্দার মাঝে দু’ভাগে ভাগ করেছি। আমার জন্যে অর্ধেক আর বান্দার জন্যে অর্ধেক। প্রথম অর্ধেক: আল্লাহর প্রশংসা, গুণকীর্তন ও বড়ত্ব বর্ণনা। আমি তাকে তাঁর উত্তম প্রতিদান প্রদান করব। দ্বিতীয় অর্ধেক: অনুনয়, বিনয় ও দোয়া। আমি তাঁর ডাকে সাড়া দেই এবং সে যা চায় তা প্রদান করি। অতএব, মুসল্লি যখন বলে, الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ (সমস্ত প্রশংসা বিশ্ব জাহানের রব আল্লাহর জন্য), আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ আমার বান্দা আমার প্রশংসা করেছে। সে যখন বলে, الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ (তিনি অতিশয় দয়ালু এবং করুণাময়); আল্লাহ তা’আলা বলেনঃআমার বান্দা আমার প্রশংসা ও গুণগান করেছে এবং আমার মাখলূকের ওপর আমার ব্যাপক নিয়ামতের কথা স্বীকার করেছে। সে যখন বলে, مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ (তিনি বিচার দিনের মালিক), তখন আল্লাহ বলেনঃ আমার বান্দা আমাকে মহিমান্বিত করেছে।) আর এটা ব্যাপক সম্মান। আর সে যখন বলে, إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ (আমরা কেবল তোমারই ইবাদত করি এবং তোমারই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি) তখন আল্লাহ বলেন, এটা আমার এবং আমার বান্দার মধ্যকার ব্যাপার। অতএব, এই আয়াতের (إياك نعبد) থেকে শুরু পর্যন্ত হলো আল্লার জন্যে। আর তার বিষয় হলো আল্লাহর জন্যেই সকল ইবাদতের স্বীকৃতি এবং তাঁরই জন্য ইবাদত আঞ্জাম দেওয়া। এর দ্বারা আল্লাহর জন্যে প্রথম অর্ধেক শেষ হলো। দ্বিতীয় অর্ধেক যা বান্দার জন্যে তা হলো, (إياك نستعين) থেকে শেষ পর্যন্ত। আর তা হলো আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করা এবং সাহায্য করার ওপর তাঁর প্রতিশ্রুতি তলব করা। অতএব, যখন সে বলে,اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ * صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ (আমাদের সরল-সঠিক পথে পরিচালনা করুন। যেসব লোকদের উপর আপনি নি’আমাত দান করেছেন তাঁদের পথে , তাদের পথে নয় যাদের প্রতি আপনার গযব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে; তখন আল্লাহ বলেনঃএই অনুনয়-বিনয় ও দোয়া হলো আমার বান্দার পক্ষ থেকে, কাজেই আমার বান্দার জন্যে রয়েছে সে যা চায়। আমি তার দোয়া কবুল করলাম।
উমার ইবন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা এই কিতাব দ্বারা কতক লোককে উচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেন এবং কতককে অবনমিত করেন।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।উমার ইবন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা এই কিতাব দ্বারা কতক লোককে উচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেন এবং কতককে অবনমিত করেন।” অর্থাৎ লোকেরা এ কুরআন গ্রহণ করেন, তা তিলাওয়াত করেন ও অনুধাবন করেন। তাদের মধ্য থেকে কিছু সংখ্যক লোককে আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়া ও আখিরাতে উচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেন। আবার কিছু সংখ্যক লোককে তিনি দুনিয়া ও আখিরাতে অবনমিত ও অপদস্ত করেন। যারা এ কুরআনের ওপর বিশ্বাস করে সে অনুযায়ী আমল করবে, এর আদেশ মান্য করবে, নিষেধাজ্ঞা থেকে বিরত থাকবে, এর পথনির্দেশনা অনুযায়ী চলবে, কুরআনের আখলাক অনুযায়ী নিজের আখলাক তথা চরিত্র গঠন করবে (কুরআনের সব আখলাকই উত্তম আখলাক) আল্লাহ তাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে উচ্চ মর্যাদাবান করবেন। কেননা এ কুরআন হলো জ্ঞান-বিজ্ঞানের মূল, সমস্ত জ্ঞান ও মর্যাদার মূল উৎস। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে আল্লাহ তাদেরকে মর্যাদায় সমুন্নত করবেন।” [সূরা আল-মুজাদালাহ, আয়াত: ১১] আর আখিরাতে আল্লাহ জান্নাতের চির সুখ-শান্তি দান করে তাদের মর্যাদা উচ্চ করবেন। আর এ কুরআন দ্বারা আল্লাহ যাদেরকে অবনমিত করবেন তারা হলেন যারা এ কুরআন তিলাওয়াত করেছে, সুন্দরভাবে অর্থসহ বুঝেছে; কিন্তু তারা অহংকার করেছে (আল্লাহর কাছে আমরা আশ্রয় চাচ্ছি), তারা কুরআনের সংবাদসমূহের প্রতি বিশ্বাস করে নি, এর বিধান অনুযায়ী আমল করে নি, আমলের ক্ষেত্রে তারা অহংকার করেছে, কুরআন আনিত ঘটনাসমূহ যেমন পূর্ববর্তী নবীদের ঘটনা বা অন্যদের ঘটনা, অথবা কিয়ামত দিবস বা এ রূপ অন্যান্য বিষয়ের প্রতি ঈমান না এনে সন্দেহ পোষণ করেছে ও অস্বীকার করেছে। কখনো তাদের এ অবস্থা এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে যে তারা কুরআন পাঠ করা সত্ত্বেও তা অস্বীকার করেছে, এর বিধানসমূহ অহংকারবশত অস্বীকার করেছে, এর আদেশ অনুযায়ী আমল করেনি এবং নিষেধাজ্ঞা থেকে বিরত থাকেনি। এসব লোকদেরকে আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে অপদস্ত ও অবনমিত করবেন। দেখুন, শরহে রিয়াদুস সালেহীন, (৪/৬৪৫-৬৪৭)
আবূ সা‘ঈদ রাফে‘ ইবনুল মু‘আল্লা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন, মসজিদ থেকে বের হওয়ার পূর্বে আমি কি তোমাকে কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ সূরা শিক্ষা দিব না? তখন তিনি আমার হাত ধরলেন। অতঃপর যখন আমরা মসজিদ থেকে বের হওয়ার ইচ্ছা করলাম তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তো বলেছেন মসজিদ থেকে বের হওয়ার পূর্বে আমাকে কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ সূরা শিক্ষা দিবেন। তিনি বললেন, তা হলো, “আল হামদুলিল্লাহ রাব্বিল আলামীন” (সূরা ফাতিহা)। এটাই বারবার পঠিত সাতটি আয়াত (আস-সাব‘উল মাসানী) এবং কুরআনুল আযীম (মহাগ্রন্থ আল-কুরআন) যা আমাকে দেওয়া হয়েছে।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।আবু সা‘ঈদ রাফে‘ ইবনুল মু‘আল্লা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন, (ألا) এ অব্যয়টি সম্বোধনকারী ব্যক্তিকে ডাকার পরে যা বলা হবে সে সর্ম্পকে সতর্ক করার জন্য ব্যবহার করা হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, (أعلمك أعظم سورة في القرآن قبل أن تخرج من المسجد) অর্থাৎ “মসজিদ থেকে বের হওয়ার পূর্বে আমি কি তোমাকে কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ সূরা শিক্ষা দিব“। তিনি তাকে শুরুতেই সূরাটি শিক্ষা না দিয়ে এভাবে বলার কারণ হলো, যাতে তার স্মৃতিশক্তি অন্য কাজ থেকে খালি হয়ে তাঁর কথাগুলো পুুরোপুরিভাবে গ্রহণ করে। বর্ণনাকারীর কথা, (فأخذ بيدي) তখন তিনি আমার হাত ধরলেন। অর্থাৎ তিনি এ কথা বললেন এবং আমরা যখন হাঁটছিলাম তখন তিনি আমার হাত ধরলেন। অতঃপর বর্ণনাকারী বলেন, (لما أردنا أن نخرج قلت: يا رسول اللّه إنك قلت: لأعلمنك أعظم سورة في القرآن) যখন আমরা মসজিদ থেকে বের হওয়ার ইচ্ছা করলাম তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তো বলেছেন মসজিদ থেকে বের হওয়ার পূর্বে আমাকে কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ সূরা শিক্ষা দিবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, (الحمد للّه ربّ العالمين) তা হলো, “আল হামদুলিল্লাহ রাব্বিল আলামীন” অর্থাৎ সূরা ফাতিহা। এ সূরাকে সবচেয়ে বড় সূরা বলার কারণ হলো, এ সূরাতে আল-কুরআনের যাবতীয় লক্ষ্য-উদ্দেশ্য একত্রিত হয়েছে। এ কারণে উক্ত সূরাকে উম্মুল কুরআন বলা হয়। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরা ফাতিহাকে অন্য সূরা থেকে আলাদা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হওয়া; এমনকি সবচেয়ে বড় সূরা হওয়ার কারণ ইঙ্গিত করে বলেন, (هي السبع المثاني) এটি বারবার পঠিত সাতটি আয়াত। (المثاني) শব্দটি (مثناة ) এর বহুবচন। যা (التثنية ) থেকে নির্গত হয়েছে। এ নামে অভিহিত করার কারণ হলো যেহেতু এ সূরাটি সালাতের প্রত্যেক রাকাতে পড়া হয় অথবা এটি অন্য সূরার সাথে বারবার পাঠ করা হয় অথবা এ নামে অভিহিত করার কারণ হলো, এ সূরাতে দু’ধরনের জিনিস একত্রিত হয়েছে। প্রথম প্রকার হলো, সানা তথা আল্লাহর প্রশংসা এবং দ্বিতীয় প্রকার হলো দো‘আ অথবা এ সূরাতে বালাগাতের ইলমুল মাবানী ও ইলমুল মা‘আনী দু’ধরনেরই ভাষা অলঙ্কার সন্নিবেশিত হয়েছে অথবা এটি সময়ের পালাক্রমে বারবার সংঘটিত হয় ও ফিরে আসে। ফলে এটি মানুষ থেকে বিছিন্ন হয় না এবং মানুষকে শিক্ষা দেওয়া হয়, ফলে তা বিস্মৃত হয় না। অথবা এ সূরার উপকারিতা বারবার নতুন করে প্রাপ্ত হয়, ফলে তা শেষ হয় না। অথবা শব্দটি (الثناء) তথা প্রশংসা থেকে নির্গত ধরা হবে। কেননা এতে মহান আল্লাহর প্রশংসা একত্রিত হয়েছে। যেন সূরাটি আল্লাহর আসমাউল হুসনা তথা গুণবাচক নামসমূহ ও তাঁর সিফাতসমূহ উল্লেখ করার মাধ্যমে আল্লাহর প্রশংসা করেছে। অথবা শব্দটি (الثنايا) থেকে নির্গত হয়েছে। কেননা আল্লাহ এ উম্মতের জন্য সাওয়াব দুই গুণ ও বহুগুণে বৃদ্ধি করে দিবেন। উপরোক্ত ব্যাখ্যা ছাড়াও (المثاني) শব্দটির আরো ব্যাখ্যা রয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, (والقرآن العظيم) মহাগ্রন্থ আল-কুরআন। এ সূরাকে এ নামে নামকরণ করা হয়েছে। (الذي أوتيته) যা আমাকে দেওয়া হয়েছে। এ সূরাকে কুরআনুল আযীম বলার কারণ হলো, এতে দুনিয়া ও আখিরাতের যাবতীয় জিনিস, শরী‘আতের আহকাম ও আকাইদ সবগুলো সম্পর্কেই আলোচনা করা হয়েছে। দেখুন: দলীলুল ফালিহীন, (৬/১৭৮-১৮০)।
ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন যে, উমার আমাকে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী শাইখদের সঙ্গে (তার সভায়) প্রবেশ করাতেন। তাদের মধ্যে কিছু লোক যেন মনে মনে ক্ষুব্ধ হলেন। অতএব, বললেন, ‘এ আমাদের সঙ্গে কেন প্রবেশ করছে? এর মত (সমবয়স্ক) ছেলে তো আমাদেরও আছে।’ (এ কথা শুনে) উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন, ‘এ কে, তা তোমরা জান।’ সুতরাং তিনি একদিন আমাকে ডাকলেন এবং আমাকে তাঁদের সঙ্গে (সভায়) প্রবেশ করালেন। আমার ধারণা ছিল যে, এদিন আমাকে ডাকার উদ্দেশ্য হলো, তাদেরকে আমার মর্যাদা দেখানো। তিনি (পরীক্ষাস্বরূপ সভার লোককে) বললেন, ‘তোমরা আল্লাহর এই কথা: “যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় উপস্থিত হবে।” [সূরা আন-নাসর, আয়াত: ১] এর ব্যাখ্যার ব্যাপারে কী বল?’ কিছু লোক বললেন, ‘আমাদেরকে এতে আদেশ দেওয়া হয়েছে যে, যখন আল্লাহ আমাদেরকে সাহায্য ও বিজয় দান করবেন, তখন যেন আমরা তাঁর প্রশংসা করি ও তাঁর কাছে ক্ষমা চাই।’ আর কিছু লোক নিরুত্তর থাকলেন এবং কিছুই বললেন না। (ইবন আব্বাস বলেন,) অতঃপর তিনি আমাকে বললেন, ‘হে ইবনে আব্বাস! তুমিও কি এ কথাই বল?’ আমি বললাম, ‘না।’ তিনি বললেন, ‘তাহলে তুমি (এর ব্যাখ্যা) কী বল?’ আমি বললাম, ‘তা হলো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যু সংবাদ, যা আল্লাহ তাঁকে জানিয়েছেন।’ তিনি বলেন, “যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় সমাগত হবে।” আর সেটা হলো তোমার মৃত্যুর পূর্বলক্ষণ। “তখন তুমি তোমার রবের প্রশংসা দ্বারা তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা কর ও তাঁর কাছে স্বীয় ত্রুটির জন্য ক্ষমা চাও। নিশ্চয় তিনি তওবা গ্রহণকারী।” [সূরা আন-নাসর, আয়াত: ৩] অতঃপর উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন, এর অর্থ আমি তাই জানি, যা তুমি বললে।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর অভ্যাস ছিল, তিনি কোন জটিল বিষয়ে বুদ্ধিমান লোকদের থেকে পরামর্শ নিতেন। আর তিনি তার সভা কক্ষে বদরী ও বড় বড় সাহাবীদের সাথে আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাসকেও প্রবেশ করাতেন। অথচ তিনি ছিলেন তাদের তুলনায় বয়সে ছোট। ফলে তারা ক্ষুব্ধ হলো এবং তারা বলাবলি করতে লাগলো কীভাবে ইবন আব্বাসকে প্রবেশ করান। অথচ তাদের সন্তানদের প্রবেশ করান না। তাই উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু মেধা, ইলম ও দূরদর্শি হিসেবে আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহর অবস্থান তাদের সামনে তুলে ধরতে চাইলেন। তিনি তাদের সবাইকে এবং তাকে একত্র করলেন। আর তাদের সামনে এ সূরা: “যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় সমাগত হবে এবং আপনি মানুষকে দলে দলে আল্লাহর দীনে প্রবেশ করতে দেখবেন,তখন আপনি আপনার রবের পবিত্রতা বর্ণনা করুন এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাকারী।” [সূরা আন-নাসর] পেশ করলেন। যখন তাদেরকে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন যে, তোমরা এ সূরা সম্পর্কে কী বল? তখন তারা দু’ভাগে বিভক্ত হলো, একদল চুপ থাকল। আর অপর দল বলল, ‘আমাদেরকে এতে আদেশ দেওয়া হয়েছে যে, যখন আল্লাহ আমাদেরকে সাহায্য ও বিজয় দান করবেন, তখন যেন আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাসবীহ পাঠ করি ও তাঁর কাছে ক্ষমা চাই। কিন্তু উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সূরার উদ্দেশ্য সম্পকে জানতে চেয়েছেন। তিনি শাব্দিক অর্থ ও বাক্যগুলোর অর্থ জানতে চান নি। অতঃপর তিনি আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাসকে বললেন, ‘তুমি এ সূরা সম্পর্কে কী বল? তিনি বললেন, ‘তা হলো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যু সংবাদ। অর্থাৎ তার মৃত্যু উপস্থিত হওয়ার আলামত। এটি আল্লাহ তা‘আলা তাকে নির্দশন হিসেবে দান করেছেন। “যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় সমাগত হবে।” অর্থাৎ মক্কা বিজয়। আর সেটা হলো তোমার মৃত্যুর পূর্বলক্ষণ। “তখন তুমি তোমার রবের প্রশংসায় তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা কর ও তাঁর কাছে স্বীয় ত্রুটির জন্য ক্ষমা চাও। নিশ্চয় তিনি তাওবা গ্রহণকারী।” [সূরা আন-নাসর, আয়াত: ৩] অতঃপর উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন, এর অর্থ আমি তাই জানি, যা তুমি বললে। এ ঘটনা দ্বারা আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমার ফযীলত স্পষ্ট হলো।
আবু সাঈদ আল-খুদরী রদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: “মৃত্যুকে সাদা-কালো মিশ্রিত একটি ভেড়ার আকৃতিতে উপস্থিত করা হবে। তারপরে একজন ঘোষক ডেকে বলবেন: হে জান্নাতের অধিবাসীগণ! তখন তারা ঘাড় উঁচু করে তাকাবে আর উক্ত ঘোষক বলবেন: তোমরা কী একে চিনতে পারছ? তারা বলবে: জ্বী, এটা হচ্ছে মৃত্যু। আর এটা প্রত্যেক ব্যক্তিই দেখতে পাবে। তারপরে ঘোষক আবার ডেকে বলবেন: হে জাহান্নোমের অধিবাসীগণ! তখন তারাও ঘাড় উঁচু করে তাকাবে। আর উক্ত ঘোষক বলবেন: তোমরা কী একে চিনতে পারছ? তারা বলবে: জ্বী, এটা হচ্ছে মৃত্যু। আর এটা তাদের প্রত্যেকেই দেখতে পাবে। তারপরে ভেড়াটিকে যবাই করা হবে আর উক্ত ঘোষক বলবেন: হে জান্নাতের অধিাবসীগণ, স্থায়ীত্ব, আর কোন মৃত্যু নেই। হে জাহান্নামের অধিবাসীগণ! স্থায়ীত্ব, আর কোন মৃত্যু নেই। এরপরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করলেন: وَأَنْذِرْهُمْ يَوْمَ الحَسْرَةِ إِذْ قُضِيَ الأَمْرُ وَهُمْ فِي غَفْلَةٍ যার অর্থ: “আর তাদেরকে পরিতাপ দিবসের ব্যাপারে সতর্ক কর, যখন ফয়সালা হয়ে যাবে অথচ তারা গাফিলতির মধ্যে থাকবে।” [মারইয়াম: ৩৯]। এবং এ সমস্ত লোকেরা দুনিয়াদার, যারা গাফিলতির মধ্যে থাকবে । {وَهُمْ لاَ يُؤْمِنُونَ} যার অর্থ: “আর তারা ঈমানও আনবে না।” [সূরা মারইয়াম, আয়াত: ৩৯]।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন যে, কিয়ামাতের দিনে মৃত্যুকে নিয়ে আসা হবে পুরুষ ভেড়ার আকৃতিতে আর ভেড়াটি সাদা ও কালো রঙ মিশ্রিত হবে। তারপরে ডাকা হবে: হে জান্নাতীরা! তখন তারা তাদের ঘাড়গুলো বাড়িয়ে তাদের মাথাগুলো উঁচু করে তাকাবে। একজন ঘোষক তাদেরকে তখন জিজ্ঞাসা করবেন: তোমরা কী একে চিনতে পারছ? তারা বলবে: হ্যাঁ, এটা তো মৃত্যু। জান্নাতীদের প্রত্যেকেই এটি দেখবে এবং চিনতে পারবে। তারপরে ঘোষক ডেকে বলবেন: হে জাহান্নামীরা! তখন তারাও তাদের ঘাড়গুলো বাড়িয়ে তাদের মাথাগুলো উঁচু করে তাকাবে। তিনি জিজ্ঞাসা করবেন: তোমরা কী একে চিনতে পারছ? তারা বলবে: হ্যাঁ, এটা তো মৃত্যু। আর জাহান্নামীদের প্রত্যেকেই এটা দেখতে পাবে। তারপরে মৃত্যুকে যবাই করা হবে। তারপরে উক্ত ঘোষক বলবেন: হে জান্নাতীরা, স্থায়ীদের ন্যায় স্থায়ীত্ব, আর কখনো মৃত্যু হবে না।হে জাহান্নামীরা, স্থায়ীদের ন্যায় স্থায়ীত্ব, আর কখনো মৃত্যু হবে না। আর এতে করে মুমিনদের নি‘আমাত বেড়ে যাবে আর কাফিরদের আযাবের যন্ত্রনাও বৃদ্ধি পাবে। তারপরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাঠ করলেন: {وَأَنْذِرْهُمْ يَوْمَ الْحَسْرَةِ إِذْ قُضِيَ الأَمْرُ وَهُمْ فِي غَفْلَةٍ وَهُمْ لا يُؤْمِنُونَ} যার অর্থ: “আর তাদেরকে পরিতাপ দিবসের ব্যাপারে সতর্ক কর, যখন ফয়সালা হয়ে যাবে অথচ তারা গাফিলতির মধ্যে থাকবে। আর তারা ঈমানও আনবে না।” সুতরাং কিয়ামাতের দিনে জান্নাতী ও জাহান্নামীদের মধ্যে পার্থক্য করা হবে, আর প্রত্যেকে যেখানে সে স্থায়ীভাবে থাকবে, সেখানে প্রবেশ করবে। আর তাই সেদিন খারাপ লোকের জন্য অনুতাপ ও পরিতাপের বিষয় হবে যে, সে ভালো কাজ করেনি। আর অল্প আমলকারীর পরিতাপ হবে যে, তার ভালো কাজের পরিমাণ বেশী হয়নি।