





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমাকে উহুদের যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে উপস্থিত করা হলো, তখন আমি চৌদ্দ বছরের তরুণ। তিনি আমাকে (জিহাদে শরীক হতে) অনুমতি দেন নি। পরে খন্দকের যুদ্ধের দিন আমাকে তাঁর সামনে পেশ করা হয়। তখন আমি পনের বছরের তরুণ। তিনি আমাকে (যুদ্ধে যোগদানের) অনুমতি দেন।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সংবাদ দিয়েছেন যে, তাকে আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করতে উহুদের যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে — আমীরের সামনে বাছাইয়ের জন্য সৈন্য উপস্থিত করার ন্যায়—উপস্থিত করা হয়েছিলো। এ ঘটনাটি ছিলো তৃতীয় হিজরীতে যখন তার বয়স ছিলো চৌদ্দ বছর। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম অল্প বয়সের কারণে তাকে যুদ্ধে যাওয়ার অনুমতি দেন নি। অতপর পঞ্চম হিজরীতে খন্দকের যুদ্ধের দিন তাকে আবার তাঁর সামনে পেশ করা হলো। তখন তিনি পনের বছরের ছিলেন। ফলে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে যুদ্ধে যোগদানের অনুমতি দেন। সম্ভবত তিনি অহুদের যুদ্ধের সময় চৌদ্দ বছরের শুরুর দিকে ছিলেন আর খন্দকের যুদ্ধের সময় পনেরো বছরের শেষের দিকে ছিলেন।
আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, যখন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু-এর কন্যা হাফসা বিধবা হলেন, তখন তিনি বললেন যে, আমি উসমান ইবনে আফ্ফান-রাদিয়াল্লাহু আনু-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম এবং হাফসাকে বিবাহ করার প্রস্তাব দিয়ে তাঁকে বললাম, ‘আপনি ইচ্ছা করলে আপনার বিবাহ আমি উমারের কন্যা হাফসার সাথে দিয়ে দিচ্ছি?’ তিনি বললেন, ‘আমি আমার (এ) ব্যাপারে বিবেচনা করব।’ সুতরাং আমি কয়েকটি রাত্রি অপেক্ষা করলাম। অতঃপর তিনি আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ ক’রে বললেন, ‘আমার এখন বিয়ে না করাটাই ভাল মনে করছি।’ (উমার বলেন,) অতঃপর আমি আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু-এর সাথে দেখা ক’রে বললাম, ‘যদি আপনি ইচ্ছা করেন, তাহলে আমি আপনার বিবাহ হাফসার সাথে দিয়ে দিই।’ আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু চুপ থাকলেন এবং কোন উত্তর দিলেন না। সুতরাং আমি উসমান অপেক্ষা তাঁর প্রতি বেশী দুঃখিত হলাম। তারপর কয়েকটি রাত্রি অপেক্ষা করলাম। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং তাকে বিবাহের পায়গাম দিলেন। ফলে আমি হাফসার বিবাহ তাঁর সাথেই দিয়ে দিলাম। তারপর আবূ বকর আমার সাথে সাক্ষাৎ ক’রে বললেন, ‘আপনি আমাকে হাফসাকে বিবাহ করার দরখাস্ত দিয়েছিলেন এবং আমি কোন উত্তর দিইনি। সেজন্য হয়তো আপনি আমার উপর দুঃখিত হয়েছেন? আমি বললাম, ‘হ্যাঁ।’ তিনি বললেন, ‘আমার আপনাকে উত্তর না দেওয়ার কারণ এই ছিল যে, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাফসাকে বিবাহ করার ব্যাপারে আলোচনা করেছিলেন। সুতরাং আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গোপন কথা প্রকাশ করতে চাচ্ছিলাম না। যদি নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাফসাকে বর্জন করতেন, তাহলে নিশ্চয়ই আমি তাকে গ্রহণ করতাম।’
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।হাদীসটিতে আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সংবাদ দেন যে, উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু-এর কন্যা হাফসা খুনাইস ইবন হুযাফাহ সাহমী থেকে বিধবা হন। যিনি আব্দুল্লাহ ইবন হুযাইফার ভাই, রাসূলের একজন সাহাবী ছিলেন। মদীনায় তিনি মারা যান। তার মৃত্যু ছিল উহুদে আক্রান্ত একটি আঘাতে। এ ছাড়াও তিনি ইসলামে প্রবেশকারীদের প্রথম সারিতে ছিলেন এবং হাবশায় হিজরত করেন। উমার বলেন, “আমি উসমান ইবনে আফ্ফানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম”। অর্থাৎ তার স্ত্রী রুকাইয়া বিনত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর পর। উমার বলেন, “আমি তার নিকট হাফসাকে বিবাহ করার জন্য প্রস্তাব দিলাম”। এতে প্রমাণিত হয় একজন মানুষ তার নিজের মেয়েকে ভালো ও যোগ্য ব্যক্তির কাছে বিবাহের প্রস্তাব দিতে পারবে তাতে কোন দুর্বলতা বা ক্ষতি নাই। যেমনটি এ দ্বারা ইমাম বুখারী শিরোনাম করেছেন। উমার বলেন, “আমি বললাম ‘আপনি ইচ্ছা করলে আপনার বিবাহ আমি উমারের কন্যা হাফসার সাথে দিয়ে দিচ্ছি?” তিনি কথাটি শর্তের বাক্য দ্বারা ব্যক্ত করলেন। আর এ পদ্ধতি গ্রহণ করার কারণ হলো যাতে সম্বোধিত ব্যক্তি স্বাধীন থাকে। এটি বর্ণনার সৌন্দর্য ও উৎসাহী করে তুলে এবং গ্রহণ করার প্রতি আগ্রহ যোগায়। তার কন্যাকে তার দিকে নিসবত করার মধ্যে রয়েছে সংক্ষিপ্ততা। যেন তিনি বলেন, অর্থাৎ উমারের মেয়ে। আর তুমি তার অবস্থা জানো এবং তার সৎ সঙ্গ সম্পর্কে তুমি পরিচিত। তখন উসমানের উত্তর ছিল, ‘আমি আমার (এ) ব্যাপারে বিবেচনা করব।’ অর্থাৎ আমি আমার বিষয়ে চিন্তা করব এখন বিবাহ করব না দেরি করব। উমার বলেন, সুতরাং আমি কয়েকটি রাত্রি অপেক্ষা করলাম। অতঃপর তিনি আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ ক’রে বললেন, ‘আমার এখন বিয়ে না করাটাই ভাল মনে করছি।’ উসমান এ দ্বারা সাময়িক সময় উদ্দেশ্য নেন। অর্থাৎ এ সময়। এভাবে বলার কারণ হলো যাতে এ ধারণা না হয় যে, তিনি বৈরাগী হওয়া বা নারী থেকে বিরত থাকা যা নিষিদ্ধ এমন কোন বিষয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। উমার বলেন, অতঃপর আমি আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু-এর সাথে দেখা ক’রে বললাম, ‘যদি আপনি ইচ্ছা করেন, তাহলে আমি আপনার বিবাহ হাফসার সাথে দিয়ে দিই।’ আবূ বকর চুপ থাকলেন এবং কোন উত্তর দিলেন না। আবূ বকর ইচ্ছা করেই চুপ ছিলেন এবং এমন একটি কারণে চুপ ছিলেন যা চুপ থাকার সাথেই অধিক খাস ছিল। উমার বললেন, সুতরাং আমি উসমান অপেক্ষা তাঁর প্রতি বেশী দুঃখিত হলাম। কারণ, উসমান থেকে একটি উত্তর পাওয়া গেছে। আর সিদ্দীক কোন উত্তরই দিল না। তারপর কয়েকটি রাত্রি অপেক্ষা করলাম। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং তাকে বিবাহের পায়গাম দিলেন। ফলে আমি হাফসার বিবাহ তাঁর সাথেই দিয়ে দিলাম। তারপর আবূ বকর আমার সাথে সাক্ষাৎ করলেন। অর্থাৎ বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার পর এবং বাস্তবতা বর্ণনা করার ক্ষতি দূর হওয়ার পর। সিদ্দীক বললেন, নিজের অপারগতা তুলে ধরা এবং ভাইয়ের অন্তরকে খুশি করার জন্য প্রথমে ‘লা‘আল্লাকা’ ‘শব্দ নিয়ে আসলেন। এটি অনুগ্রহের জন্য ব্যবহার হয়। উমারের সুন্দর চরিত্রের ওপর ভরসা করে এ শব্দটি নিয়ে এসেছেন। এ কারণে সে ক্ষুব্ধ হবেন না। কিন্তু তার থেকে ক্ষব্ধ হওয়ার বৈধতা মানবিক স্বভাব অনুযায়ী ছিল। তাই তাকে তা বললেন। সিদ্দীক বললেন, আপনি আমাকে হাফসাকে বিবাহ করার দরখাস্ত দিয়েছিলেন এবং আমি কোন উত্তর দিইনি। সেজন্য হয়তো আপনি আমার উপর দুঃখিত হয়েছেন? তখন উমার বলল, ‘হ্যাঁ।’ এটি উমার থেকে বাস্তবাতা সম্পর্কে খবর দেওয়া এবং সততার প্রতি আমল করা। তখন আবূ বকর বললেন, ‘আমার আপনাকে উত্তর না দেওয়ার কারণ এই ছিল যে, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাফসাকে বিবাহ করার ব্যাপারে আলোচনা করছিলেন তা আমি জানতাম। অর্থাৎ তাকে বিবাহ করার ইচ্ছা আমার ছিল। হতে পারে হাফসাকে বিবাহের প্রস্তাব বিষয়ে রাসূলের আগ্রহের আলোচনা কেবল সিদ্দীকের উপস্থিতিতে ছিল আর কেউ নয়। তাই তিনি মনে করলেন এটি তার গোপন বিষয় যা প্রকাশ করা বৈধ হবে না। এ কারণে তিনি বলেন, সুতরাং আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গোপন কথা প্রকাশ করতে চাচ্ছিলাম না। যে গোপন কথাটি আমার কাছে প্রকাশ এবং আলোচনা করেছেন। যদি নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাফসাকে বর্জন করতেন, তার থেকে বিমুখ হয়ে তাহলে নিশ্চয়ই আমি তাকে গ্রহণ করতাম।’ কারণ, যার বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলোচনা করেছেন তাকে প্রস্তাব দেওয়া তার জন্য নিষিদ্ধ যে তা জানে। এতে রয়েছে উম্মাতের জন্য এবং প্রতিটি লোকের জন্য শিক্ষা। একজন লোকের জন্য উচিত হলো গোপনীয়তা রক্ষা করা এবং এ ক্ষেত্রে খুব বেশি সতর্কতা অবলম্বন করা। আশঙ্কার ক্ষেত্রে কোন প্রকার কথা না বল।
সায়েব ইবন ইয়াযীদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাবূক অভিযান হতে ফিরে এলেন, তখন তাঁকে মানুষেরা অভ্যর্থনা জানিয়ে আনতে গেল। আমি গেলাম বাচ্চাদের সাথে সানিয়াতুল ওদা‘ নামক স্থানে। আর ইমাম বুখারী বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, “আমরা ছোট শিশুদের সাথে মদীনার উপকণ্ঠে অবস্থিত সানিয়াতুল ওদা‘ নামক স্থানে তাঁকে স্বাগত জানাতে গিয়েছিলাম।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন।হাদীসের অর্থ: সায়েব ইবন ইয়াযীদ রাদিয়াল্লাহু আনহু সংবাদ দিচ্ছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাবূক অভিযান হতে ফিরে এলেন, তখন যুদ্ধে যেতে অপারগ ও অন্যান্য যারা যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেনি তারা তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে সানিয়াতুল ওদা‘ নামক স্থানে গেলেন। সায়েব ইবন ইয়াযীদ রাদিয়াল্লাহু আনহু মদীনার ছোট শিশুদের সাথে সানিয়াতুল ওদা‘ নামক স্থানে তাঁকে স্বাগত জানাতে গিয়েছিলেন।
আবূ মূসা আশ‘আরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক যুদ্ধে আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বের হলাম। আমরা ছিলাম ছয়জন। আমাদের একটি মাত্র উট ছিল। পালাক্রমে আমরা এর পিঠে আরোহণ করতাম। (হেঁটে হেঁটে) আমাদের পা ফেটে যায়। আমার পা দু’খানাও ফেটে গেল, নখগুলো খসে পড়ল। এ কারণে আমরা আমাদের পায়ে নেকড়া জড়িয়ে বাঁধলাম। এ জন্য এ যুদ্ধকে যাতুর রিকা‘ যুদ্ধ বলা হয়। কেননা আমরা আমাদের পায়ে নেকড়া দ্বারা পট্টি বেঁধেছিলাম। আবু বুরদাহ বলেন, আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু উক্ত ঘটনা বর্ণনা করেছেন। পরবর্তীতে তিনি এ ঘটনা বর্ণনা করাকে অপছন্দ করেন। তিনি বলেন, আমি এভাবে বর্ণনা করাকে ভালো মনে করি না। সম্ভবত তিনি তার কোনো আমল প্রকাশ করাকে অপছন্দ করতেন।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।হাদীসের অর্থ: আবূ মূসা আশআরী রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এক যুদ্ধে বের হলেন। তাঁর সাথে তাঁর কয়েকজন সাহাবী ছিলেন। তাদের সংখ্যা ছিল ছয়জন। কিন্তু তাদের সাথে মাত্র একটি উট ছিল। ফলে তারা পালাক্রমে তাতে আরোহণ করল। তাদের কেউ কিছুদূর আরোহণ করে যেতেন। তারপর তার পালা শেষ হলে অন্য আরেকজন আরোহণ করতেন। এভাবে তারা পালাক্রমে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে উদ্দিষ্ট স্থানে পৌঁছলেন। আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, ফলে আমাদের পা ফেটে যায়। আমার পা দু’খানাও ফেটে গেল, মরুভূমির দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার কারণে আমার নখগুলো খসে পড়ল। তাদের কাছে পা বাঁধার কিছু ছিল না। তারা খালি পায়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এতে তাদের বিশাল সমস্যা হয়ে যায়। এতো কষ্ট সত্ত্বেও তারা শত্রুর মোকাবিলা করতে পথচলা বন্ধ করেন নি। আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, আমরা আমাদের পায়ে নেকড়া পেঁচালাম। তার এ কথা প্রমাণ করে যে, দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া ও মরুভূমির শক্ত পথের কারণে তাদের জুতা ছিঁড়ে গিয়েছিল। তারা মরুভূমির শক্ত মাটি ও উষ্ণতা থেকে রক্ষা পেতে তাদের পায়ে নেকড়া পেঁচিয়েছিল। ফলে এ যুদ্ধকে ‘যাতুর রিকা‘’ যুদ্ধ বলা হয়। কেননা এতে আমরা আমাদের পায়ে নেকড়া দ্বারা পট্টি বেঁধেছিলাম। অর্থাৎ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা এ যুদ্ধকে পরবর্তীতে ‘যাতুর রিকা‘’ বলা হয়। এ ঘটনা এ যুদ্ধের নামকরণের একটি কারণ। আবূ বুরদাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আবূ মূসা আল-আশ‘আরী রাদিয়াল্লাহু আনহু এ হাদীস বর্ণনা করেন। অতঃপর তিনি এ ঘটনা উল্লেখ করতে অপছন্দ করতেন। তিনি বলতেন, আমি এ ঘটনা উল্লেখ করে কি করব? আবু বুরদাহ বলেন, মনে হয় তিনি যেন তার আমলের কোনো কিছু মানুষের কাছে প্রকাশ করা অপছন্দ করেছেন। এ হাদীসের অর্থ হলো, আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু এ ঘটনা উল্লেখ করার পরে আকাঙ্খা করতেন যে, তিনি যদি এ হাদীসটিি আদতেই বর্ণনা না করতেন; কারণ এতে নিজের প্রশংসা রয়েছে। তাছাড়া সৎ আমল প্রকাশের চেয়ে গোপন রাখা অধিক উত্তম, তবে হ্যাঁ এতে যদি সর্বসাধারণের জন্য বিশেষে কোনো উপকারিতা থাকে যেমন কেউ এ আমল দেখে অনুসরণ করল, তখন ভিন্ন কথা। অন্য হাদীসে এসেছে, কেউ দান করে এমনভাবে গোপন করল যেন তার ডান হাত যা দান করেছে তা তার বাম হাতও জানলো না। মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।
ইবন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে এক রাতে সালাত পড়েছি। তিনি এত দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে রইলেন যে, শেষ পর্যন্ত আমি একটা মন্দ কাজের ইচ্ছা করেছিলাম।’ ইবন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে জিজ্ঞেস করা হলো, ‘সে ইচ্ছাটা কি করেছিলেন?’ তিনি বললেন, ‘আমার ইচ্ছা হয়েছিল যে, তাঁকে ছেড়ে দিয়ে বসে পড়ব।’
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।ইবন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু একরাত নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে সালাত আদায় করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে রইলেন (এটি ছিল রাসূলের অভ্যাস) ফলে তার জন্য দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা কষ্টকর হলো। তাই সে এমন একটা কাজের ইচ্ছা করল যা করা কোনো মানুষকে আনন্দ দেয় না। ইবন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে জিজ্ঞেস করা হলো, ‘আপনি কি কাজ করার ইচ্ছা করেছিলেন?’ তিনি বললেন, ‘ইচ্ছা করেছি আমি তাকে দাঁড়ানো রেখে বসে পড়ব; কারণ তার অনেক কষ্ট হচ্ছিল।
জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আনসারদের এক লোকের কাছে গেলেন। তাঁর সাথে ছিলেন তাঁর এক সাথী। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আনসারীকে বললেন, “যদি তোমার মশকে রাতের বাসী পানি থাকে, তাহলে নিয়ে এসো; নচেৎ সরাসরি পানিতে মুখ লাগিয়ে পান ক’রে নেব।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবুল হায়সাম বিন তাইহান আল-আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু নামক এক আনসারী সাহাবীর কাছে গেলেন, তাঁর সাথে ছিলেন সাহাবী আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, তোমার কাছে যদি মশকে রাখা বাসি পানি থাকে, তাহলে আমাদেরকে পান করাও। আর তখন ছিল গ্রীষ্মকাল। অন্যথায় আমরা কোনো পাত্র বা হাতের সহযোগিতা ছাড়াই সরাসরি মুখ দিয়েই পান করবো। রাতের বাসি পানি চাওয়ার হেকমত হচ্ছে, রাতের বেলায় কলসী বা মশকে পানি রাখলে তা ঠাণ্ডা হয়ে থাকে।
আব্দুল্লাহ ইবন বুসর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একটি পাত্র ছিল যাকে ‘গার্রা’ বলা হত, সেটাকে চারজন মানুষ ধরে তুলতো। একদা যখন চাশতের সময় হল ও তারা চাশতের সালাত পড়ল, তখন ঐ (বিশাল) পাত্রটি আনা হলো---অর্থাৎ তাতে ‘সারীদ’ (মাংস ও রুটির সংমিশ্রণে সু-স্বাদু খাদ্য) প্রস্তুত করার পর, লোকেরা তাতে জমায়েত হলো। লোকের পরিমাণ যখন বেশি হলো, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাঁটুর ভরে বসে পড়লেন। (এরূপ দেখে) জনৈক বেদুঈন বলল, ‘এ কেমন বসা?’ আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “নিশ্চয় আল্লাহ আমাকে ভদ্র বান্দা করেছেন উদ্ধত ও হৎকারী করেন নি।” তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “তোমরা পাত্রের এক ধার থেকে খাও। আর তার শীর্ষভাগ ছেড়ে দাও, সেখানে বরকত অবতীর্ণ হয়।”
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ‘গার্রা’ নামক একটি পাত্র ছিল যার মধ্যে তিনি খেতেন। সেটাকে চারজন মানুষ ধরে তুলতো। একদা যখন তারা চাশতের সময়ে প্রবেশ করলেন এবং চাশতের সালাত পড়লেন, ঐ (বিশাল) পাত্রটি আনা হলো এবং তাতে রুটি রাখা হলো, তখন লোকেরা চতুষ্পার্শ্বে জমায়েত হলো। লোকের পরিমাণ যখন বেশি হলো এবং জায়গা সংকীর্ণ হলো, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ভাইদের জায়গা প্রশস্ততা করার জন্য হাঁটুর ভরে বসে পড়লেন। তখন উপস্থিত জনৈক বেদুঈন বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! এ কেমন বসা?’ কারণ এতে নম্রতা রয়েছে। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, নিশ্চয় আল্লাহ আমাকে নবুওয়াত ও ইলমের মাধ্যমে ভদ্র (বিনয়ী) বান্দা করেছেন এবং উদ্ধত ও হৎকারী করেন নি। আর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অহংকারী ও অন্যায্য ছিলেন না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “তোমরা পাত্রের এক ধার থেকে খেতে থাক। আর তার শীর্ষভাগ ছেড়ে দাও, সেখানে বরকত অবতীর্ণ হবে। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাত্রের পার্শ থেকে খেতে নির্দেশ দিলেন, আর বর্ণনা করলেন যে, এটি খাদ্যে বরকত হওয়ার একটি মাধ্যম।
আবূ হুরায়রা অথবা আবু সাঈদ খূদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, (বর্ণনাকারী সন্দেহ করেছেন) তিনি বলেন তাবুকের যুদ্ধের সময় সাহাবীগণ অতিশয় খাদ্য-সংকটে পড়লেন। সুতরাং তাঁরা বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! যদি আপনি অনুমতি দেন, তাহলে আমরা আমাদের সেচক উট জবাই করে তার গোস্ত ভক্ষণ এবং চর্বি ব্যবহার করি?’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, (ঠিক আছে) তোমরা কর। (এ সংবাদ শুনে) উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু এসে বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! যদি আপনি (এমন) করেন, তাহলে সওয়ারী কমে যাবে। বরং আপনি (এই করুন যে,) তাদেরকে নিজেদের অবশিষ্ট খাদ্যদ্রব্য আনতে বলুন এবং তাদের জন্য তাতে আল্লাহর কাছে বরকতের দু‘আ করুন। সম্ভবতঃ আল্লাহ তাতে বরকত দেবেন।’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “হ্যাঁ, (তাই-ই করি।)” সুতরাং তিনি চামড়ার একখানি দস্তরখান আনিয়ে নিয়ে তা বিছালেন। অতঃপর তিনি তাঁদের অবশিষ্ট খাদ্যদ্রব্য জমা করার নির্দেশ দিলেন। ফলে কেউ তো এক খাবল ভুট্টা আনলেন, কেউ তো এক খাবল খুরমা এবং কেউ তো রুটির একটি টুকরাও আনলেন। পরিশেষে কিছু পরিমাণ খাদ্য জমা হয়ে গেল। তারপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বরকতের দুআ করলেন। অতঃপর বললেন, “তোমরা আপন আপন পাত্রে নিয়ে নাও।” সুতরাং তাঁরা স্ব স্ব পাত্রে নিতে আরম্ভ করলেন। এমনকি সৈন্যের মধ্যে কোন পাত্র শূন্য রইল না। তাঁরা সকলেই খেয়ে তৃপ্ত হলেন এবং কিছু বেঁচেও গেল। অবশেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু বললেন, “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নেই এবং আমি আল্লাহর রসূল। যে কোন বান্দা সন্দেহমুক্ত হয়ে এ দু’টি (সাক্ষ্য) নিয়ে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে, তাকে যে জান্নাতে যেতে বাধা দেওয়া হবে -তা হতেই পারে না (বরং সে বিনা বাধায় জান্নাতে প্রবেশ করবে)।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।তাবুকের যুদ্ধের সময় লোকদের তীব্র খাদ্যাভাব ও দুর্ভিক্ষ দেখা দিলো। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! যদি আপনি অনুমতি দেন, তাহলে আমরা আমাদের উটগুলো যবেহ করে তার গোশত খাই এবং চর্বি ব্যবহার করি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের যবেহ করতে অনুমতি দিলেন এবং বললেন, তোমরা তা করো। ইত্যবসরে উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! যদি এরূপ করা হয়, তাহলে আমাদের বাহন কমে যাবে; বরং আপনি লোকদের তাদের উদ্বৃত্ত রসদ নিয়ে উপস্হিত হতে বলুন, আর তাতে তাদের জন্য আল্লাহর কাছে বরকতের দু‘আ করুন। আশা করা যায়, আল্লাহ তাতে কল্যাণ করবেন এবং অল্পতে বরকত দিবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ- ঠিক আছে। তখন একটি দস্তরখান আনতে বললেন এবং তা বিছালেন, এরপর সকলের উদ্বৃত্ত রসদ চেয়ে পাঠালেন। বর্ণনাকারী বলেন, তখন কেউ একমুঠো গম নিয়ে উপস্থিত হলো, কেউ একমুঠো খেজুর নিয়ে উপস্থিত হলো, কেউ এক টুকরা রুটি নিয়ে আসল, এভাবে কিছু পরিমাণ রসদ-সামগ্রী দস্তরখানায় জমা হলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বরকতের দু‘আ করলেন। তারপর বললেন, তোমরা নিজ নিজ পাত্রে রসদপত্র ভর্তি করে নাও। সকলেই নিজ নিজ পাত্র ভরে নিল, এমনকি এ বাহিনীর কোন পাত্রই আর অপূর্ণ রইল না। এরপর সকলে পরিতৃপ্ত হয়ে আহার করলেন। কিছু উদ্বৃত্তও রয়ে গেল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর প্রেরিত রাসূল-যে ব্যক্তি সন্দেহাতীতভাবে এ কথা দু’টির উপর বিশ্বাস রেখে মৃত্যুর পরে আল্লাহর কাছে উপস্থিত হবে, সে জান্নাত থেকে বঞ্চিত হবে না; বরং নি:সন্দেহে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। হয়ত শুরু থেকেই নাজাতপ্রাপ্তদের সাথে অথবা পরবর্তীতে জাহান্নাম থেকে মুক্তিপ্রাপ্তদের সাথে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমার গায়ে হেলান দেওয়া অবস্থায় বলতে শুনেছি, “হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন, আমার প্রতি দয়া করুন এবং আমাকে সর্বোচ্চ বন্ধুর সঙ্গ পাইয়ে দিন।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যু যখন ঘনিয়ে আসল, তিনি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার দেহে হেলান দেওয়া অবস্থায় তার রবের কাছে দো‘আ করছিলেন যে, তাকে যেন সর্বোচ্চ বন্ধুর সঙ্গ পাইয়ে দেন। আর তারা হলো, নবীগণ, সিদ্দীকগণ, শহীদগণ এবং নেক বান্দাগণ।