





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
ইবনে মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গেলাম যখন তাঁর জ্বর হয়েছিল। অতঃপর আমি তাঁকে স্পর্শ করে বললাম, ‘আপনার প্রচণ্ড জ্বর এসেছে।’ তিনি বললেন, “হ্যাঁ, তোমাদের দু’জনের সমান আমার জ্বর হয়।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু উল্লেখ করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোগের তীব্রতার কারণে কষ্ট করছিলেন তখন তিনি তার নিকট প্রবেশ করেন। তারপর তিনি হাত প্রসারিত করলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল আপনি রোগের কারণে কষ্ট পাচ্ছেন। তখন তিনি সংবাদ দেন যে, আমাদের মধ্যে দুইজন লোকের মতো তিনি কষ্ট পাচ্ছেন। আর তা ছিল যাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধৈর্যের সবোর্চ্চ উন্নত স্তর লাভ করেন।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা এমন কোনো নবী পাঠান নি, যিনি বকরী চরান নি। তখন তাঁর সাহাবীগণ বলেন, আপনিও? তিনি বলেন, হ্যাঁ, আমি কয়েক কীরাতের বিনিময়ে মক্কাবাসীদের বকরী চরাতাম।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।সকল নবী-রাসূল তাদের জীবনে কোনো না কোনো সময় ছাগল চরিয়েছেন। হাদীসের বাহ্যিক অর্থ থেকে বুঝা যায় যে তারা তাদের ছাগল চরানোর কাজটি নবুওয়াতের পূর্বে করেছেন। এ কারণে আলেমগণ বলেছেন, ছাগল চরানোর হিকমত হলো, নবীদেরকে মানুষের যথার্থ তত্ত্বাবধান ও কল্যাণকর কাজের প্রতি পথনির্দেশনা দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা। কেননা ছাগলের রাখাল কখনো ছাগলগুলো চারণভূমির দিকে নিয়ে যায়, আবার কখনো সেগুলোর দাঁড় করিয়ে রাখে, আবার কখনো কখনো সেগুলোকে আশ্রয়স্থলে ফিরিয়ে নিয়ে আসে। এমনিভাবে নবী ‘আলাইহিস সালাত ওয়াসসালামও তার উম্মতকে ইলম, হিদায়েত ও অভিজ্ঞতা অনুসারে সে রাখালের ন্যায় যথার্থ তত্ত্বাবধান ও কল্যাণকর কাজের পথনির্দেশনা দিয়ে থাকেন, যে রাখালের রয়েছে চারণভূমি সর্ম্পকে উৎকৃষ্ট জ্ঞান। আর তার রয়েছে তার ছাগলের কল্যাণ কামনা ও দিক-নির্দেশনা; যাতে সেগুলোর জন্য রয়েছে খাদ্য ও পানীয়। উপমা দেওয়ার জন্য হাদীসে ছাগলের রাখালকে বেছে নেওয়ার কারণ হলো, ছাগলের রাখাল শান্ত-শিষ্টতা, ধীরস্থিরতা ও ধৈর্য ধারণ ইত্যাদি গুণে গুণান্বিত, যা উটের রাখালের থাকে না। কেননা সাধারণত উটের রাখালের স্বভাব কঠোর ও রূঢ় হয়। যেহেতু উটের স্বভাব হলো রূঢ়তা ও কঠোরতা। এ কারণে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রাসূলগণকে ছাগল চরানোর জন্য পছন্দ করেছেন, যাতে তারা সৃষ্টির যথার্থ তত্ত্বাবধানে অভ্যস্ত ও যোগ্য হয়ে উঠতে পারেন।
আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে কোন মুসলিম আমার উপর সালাম দিলে আল্লাহ তা‘আলা আমার নিকট আমার রূহটি ফেরত দেন যাতে আমি তার সালামের উত্তর দিতে পারি”।
এটি আবু দাউদ ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, তার রূহ তাকে ফেরত দেওয়া হয় যাতে দূরের বা কাছের যারাই তাকে সালাম প্রদান করেন তাদের তিনি উত্তর দেন। বারযাখ ও কবরের জীবন হল গায়েবী বিষয়, তার হাকিকত আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না, তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।
বারা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: চুলওয়ালা, লাল পোশাক পরিহিত কোন লোককে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চেয়ে সুন্দর দেখিনি। তার চুল কাঁধ স্পর্শ করতো। উভয় কাঁধের মধ্যে বেশ দূরত্ব ছিল। তিনি লম্বাও ছিলেন না, বেঁটেও ছিলেন না।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমবারা’ ইবনু আযিব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন যে, তিনি কখনও কাঁধ পর্যন্ত লম্বা চুল এবং লাল ডোরাকাটা কালো লুঙ্গি ও চাদর পরা কাউকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর চেয়ে বেশি সুন্দর দেখেননি। তাঁর শারীরিক বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে ছিল কাঁধের মাঝখানে প্রশস্ত ফাঁকা জায়গা, প্রশস্ত বুক এবং লম্বা ও খাটোর মাঝখানে গড়ন ছিল।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ডান হাত তাঁর ওযূ ও আহারের জন্য ব্যবহার হত এবং বাম হাত তাঁর পেশাব-পায়খানা ও কষ্টদায়ক বস্তু স্পর্শ করার ক্ষেত্রে ব্যবহার হত।” হাফসাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানাহার ও কাপড় পরার ক্ষেত্রে স্বীয় ডান হাত কাজে লাগাতেন এবং তাছাড়া অন্যান্য (নোংরা স্পর্শ ইত্যাদি) কাজে বাম হাত লাগাতেন।
এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সব কর্মে ডান হাত এবং যে সব কর্মে বাম হাত ব্যবহার করেন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা তার বর্ণনা দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, যাতে নোংরামী রয়েছে যেমন ইস্তেনজা, ঢিলা কুলুপ নাক পরিষ্কার ও মুখ পরিষ্কার ইত্যাদিতে তিনি বামকে ব্যবহার করতেন। যত কর্মে আবর্জনা রয়েছে তাতে তিনি বামকে ব্যবহার করতেন। আর বাকী সব কর্মে তিনি ডানের সম্মানার্থে ডানকে সামনে বাড়াতেন। কারণ, ডান বাম থেকে উত্তম। আর এ হাদীসটি যে সব কর্ম সম্মানিত তাতে ডান হাত বাড়িয়ে দেওয়া মুস্তাহাব হওয়ার অন্তভুর্ক্ত। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বাণী: ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ডান হাত তাঁর ওযূ ও আহারের জন্য ব্যবহার হত এবং বাম হাত তাঁর পেশাব-পায়খানা ও নোংরা বস্তু স্পর্শ করার ক্ষেত্রে ব্যবহার হত। তার বাণী: পবিত্রতা জন্য: অর্থাৎ, যখন উযূ করবে তখন ডান হাত দিয়ে শুরু করবে। বাম হাতের আগে ডান হাত ধুইবে আর বাম পায়ের আগে ডান পা ধুইবে। আর দুই কান একটি অঙ্গ যা মাথার অর্ন্তভুক্ত। তাই উভয় কানকে একসাথে মাসেহ করবে। তবে যদি একসাথে দুই কান এক হাত ছাড়া মাসেহ করতে সক্ষম না হয়, তখন ডান কান দিয়ে মাসেহ করা আরম্ভ করবে। আর তার বাণী: আহার, অর্থাৎ আহার করার সময়। আর বাম হাত পেশাব-পায়খানার জন্য। অর্থাৎ, যেহেত তাতে রয়েছে পবিত্রতা অর্জন, ঢিলা ব্যবহার এবং ময়লা দূর করা। আর যাতে রয়েছে নোংরামী। যেমন, থুথু সরানো, নাকের ময়লা এবং মাথার উকুন ইত্যাদি পরিষ্কারে। হাফসা রাদিয়াল্লাহু আনহার হাদীস পূর্বে উল্লেখিত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার হাদীসের সমর্থক। যাতে সম্মানসূচক কর্মে ডানকে বাড়িয়ে দেওয়া মুস্তাহাব হওয়া এবং যে সব কর্ম নোংরামী বা আবর্জনাযুক্ত রয়েছে সে সব কর্মে বামকে বাড়িয়ে দেওয়ার বর্ণনা রয়েছে। যেমন পবিত্রতা অর্জন করা, ঢিলা ব্যবহার করা এবং এ ধরনের আরো যে সব কর্ম রয়েছে।
ছাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ তাআলা গোটা যমীনকে একত্রিত করে আমার সামনে পেশ করলেন। তখন আমি যমীনের পূর্ব ও পশ্চিম দিগন্ত দেখে নিলাম। আমাকে যমীনের যে পর্যন্ত দেখানো হয়েছে আমার উম্মতের শাসন সে পর্যন্ত বিস্তার লাভ করবে। লাল ও সাদা দু’টি ধন ভাণ্ডার আমাকে দেওয়া হলো। আমি আমার রবের কাছে আমার উম্মতের জন্য এ আরজ করলাম, তিনি যেন আমার উম্মতকে ব্যাপক দুর্ভিক্ষের মাধ্যমে ধ্বংস না করেন এবং তাদের নিজেদেরকে ব্যতীত অন্য কোনো শত্রুকে তাদের ওপর ক্ষমতাসীন করেন যার ফলে শত্রু তাদেরকে সমূলে ধ্বংস করবে এবং তাদের সম্পদকে হালাল মনে করবে। আমার রব আমাকে বললেন, হে মুহাম্মাদ! আমি যখন কোনো ফয়সালা করে ফেলি, তখন তা পরিবর্তন হয় না। আমি তোমাকে তোমার উম্মতের জন্য এ প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, আমি তাদেরকে গণ দুর্ভিক্ষের মাধ্যমে ধ্বংস করবো না এবং তাদের নিজেদেরকে ছাড়া বাহিরের শ্রুকে তাদের উপর চাপেয়ে দিবো না। ফরে তাদেরকে সমূলে ধ্বংস করবে। যদিও সারা বিশ্বও তাদের বিরুদ্ধে একত্রিত হয়। তবে আমার ফয়সালা এভাবে হয়ে আছে যে, আমার উম্মতেরই একজন অন্যজনকে ধ্বংস করবে আর একে অপরকে বন্দী করবে। বারকানী তাঁর সহীহ গ্রন্থে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে উক্ত বর্ণনায় নিম্নোক্ত কথাগুলো অতিরিক্ত এসেছে, “আমি আমার উম্মতের জন্য পথভ্রষ্ট শাসকদের আশঙ্কা করছি। একবার যদি তাদের উপর তরবারি উঠে কিয়ামত পর্যন্ত তা নামবে না। আর ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত হবে না যতক্ষণ না আমার একদল উম্মত মুশরিকদের সাথে মিলিত হবে এবং যতক্ষণ না আমার উম্মতের একটি শ্রেণি মূর্তিপূজা করবে। আমার উম্মতের মধ্যে ত্রিশ জন মিথ্যাবাদী অর্থাৎ ভণ্ড নবীর আবির্ভাব হবে।প্রত্যেকেই নিজেকে নবী বলে দাবী করবে। অথচ আমিই হচ্ছি সর্বশেষ নবী। আমার পর কোনো নবী নেই। কিয়ামত পর্যন্ত আমার উম্মতের মধ্যে এমন একটি সাহায্যপ্রাপ্ত দল থাকবে যাদেরকে কোনো অপমানকারীর অপমান ক্ষতি করতে পারবে না।
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন। - এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।এটি একটি মহান হাদীস, যা কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং কিছু সত্য ঘটনাকে অন্তর্ভুক্ত করে। যার মধ্যে সত্যবাদী নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জানাচ্ছেন যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর জন্য যমীনকে একত্র করেছেন। এমনকি পূর্ব ও পশ্চিমের যে পর্যন্ত তাঁর উম্মতের শাসন পৌঁছে যাবে তাও তিনি দেখেছেন। এটি এমন সংবাদ যা বাস্তবায়ন হয়েছে। তাঁর উম্মতের রাজত্ব সম্প্রসারিত হয়ে সুদূর পূর্ব থেকে সুদূর পশ্চিম পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। তাঁর সংবাদ মোতাবেক তাঁকে দু’টি গুপ্তধন দেওয়া হয়েছে। তাঁর উম্মত পারস্য ও রোমক সম্রাটের রাজত্ব দখল করেছে এবং সেখানকার স্বর্ণ, রৌপ্য ও মণি-মুক্তার ধনভাণ্ডার আয়ত্ত করে নিয়েছে। আর তিনি জানিয়েছেন যে, তিনি তাঁর রবের কাছে উম্মতের জন্য চেয়েছেন, তিনি যেন তাদেরকে ব্যাপক দুর্ভিক্ষ দ্বারা ধ্বংস না করেন ও কাফির শত্রুদেরকে তাদের ওপর বিজয়ী না করেন। যাতে তারা মুসলিমদের দেশসমূহকে দখল করে ফেলবে এবং তাদের জামাআতকে সমূলে ধ্বংস করবে। আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রথম চাওয়াটি গ্রহণ করেছেন এবং দ্বিতীয় চাওয়াটিও গ্রহণ করেছেন। তাঁর উম্মত যতদিন মতভেদ, দলাদলি এবং পারস্পরিক ঝগড়া বর্জন করেছিল, ততদিন আল্লাহ তাদের ওপর কোনো শত্রুকে শক্তিশালী করেননি। যখন তাদের মধ্যে পারস্পরিক ঝগড়া পাওয়া যাবে, তখনই তাদের ওপর কাফির শত্রুদের শক্তিশালী করে দিবেন। আর যখন তাঁর উম্মত বিভক্ত হয়েছে, তখনই তাঁর কথা বাস্তবায়ন হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতের উপর আমীর-উমারা ও পথভ্রষ্ট আলেমদের আশঙ্কা করেছেন। কেননা মানুষ পথভ্রষ্টটায় তাদের অনুসরণ করে। আর তিনি জানিয়েছেন যে, উম্মতের মধ্যে ফিতনা ও মারামারি শুরু হলে তা কিয়ামত পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে। তিনি যা বলেছেন তাই হয়েছে। উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর হত্যার মাধ্যমে যে ফিতনা শুরু হয়েছে তা আজও চালু আছে। আর তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁর উম্মতের কিছু লোক ঘরবাড়ি এবং দীন-ধর্মসহ মুশরিকদের সাথে মিলিত হবে। আর উম্মতের একটি দল শির্কের দিকে ধাবিত হবে। তিনি যেমন বলেছেন তেমনি হয়েছে। কবর, গাছ-পালা ও পাথরের পূজা করা হয়েছে। আর তিনি নবুওয়ত দাবীদারের আবির্ভাব সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন। যারাই নবুওয়াতের দাবী করবে তারাই মিথ্যাবাদী। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাধ্যমে নবুওয়াত বন্ধ হয়ে গেছে। আর তিনি সুসংবাদ দিয়েছেন যে, এসব বিপর্যয় ও ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ সংঘটিত হওয়া সত্ত্বেও তাঁর উম্মতের একটি দল ইসলামের ওপর টিকে থাকার। তাদের সংখ্যা কম হওয়ার পরও শত্রুদের ষড়যন্ত্র ও বিরোধীদের চক্রান্ত দ্বারা তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।
আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেন, আমরা যখন গুহায় আত্মগোপন করেছিলাম তখন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললাম, যদি কাফিররা তাদের পায়ের নীচের দিকে দৃষ্টিপাত করে তবে আমাদেরকে দেখে ফেলবে। তিনি বললেন, “হে আবূ বকর, ঐ দুই ব্যক্তি সম্পর্কে তোমার কী ধারণা আল্লাহ্ যাঁদের তৃতীয় জন”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমআমির আল-মুমিনীন আবু বকর আল-সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু হিজরতের সময় বলেছিলেন: আমরা যখন সাওর গুহায় ছিলাম, তখন মুশরিকরা আমাদের মাথার উপরে দাঁড়িয়ে ছিল, আমি তাদের পায়ের দিকে তাকালাম। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, তাদের কেউ যদি তার পায়ের দিকে তাকাত, তাহলে সে আমাদের তার পায়ের নীচে দেখতে পেত। তিনি বললেন: হে আবু বকর, তুমি এমন দুই ব্যক্তি সম্পর্কে কী ভাবো, যখন আল্লাহ তাদের বিজয়, সাহায্য, সুরক্ষা এবং হেদায়েতের জিম্মাদার হিসাবে তৃতীয় ব্যক্তি?!
হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একরাত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সালাত আদায় করলাম। তিনি সূরা আল-বাকারা শুরু করলেন, আমি মনে মনে বললাম যে, হয়তো তিনি একশত আয়াত পরিমাণ তিলাওয়াত করে থেমে যাবেন; কিন্তু তিনি তিলাওয়াত চালিয়েই যেতে থাকলেন, আমি মনে মনে বললাম, হয়তো তিনি দুইশত আয়াত পরিমাণ তিলাওয়াত করে রুকুতে যাবেন; কিন্তু তিনি তিলাওয়াত চালিয়েই যেতে থাকলেন। আমি মনে মনে বললাম, হয়তো তিনি পূর্ণ সূরা এক রাক‘আতেই তিলাওয়াত করে ফেলবেন; কিন্তু তিনি তিলাওয়াত চালিয়েই যেতে থাকলেন এবং সূরা আন-নিসা শুরু করে তাও তিলাওয়াত করে ফেললেন। তারপর সূরা আলে ইমরানও শুরু করে তাও তিলাওয়াত করে ফেললেন। তিনি ধীরে ধীরে তিলাওয়াত করতেন। যদি তিনি এমন কোনো আয়াত তিলাওয়াত করে ফেলতেন যাতে কোনো তাসবীহ রয়েছে তবে তাসবীহ পাঠ করতেন, যদি কোনো কিছু প্রার্থনার আয়াত তিলাওয়াত করে ফেলতেন তবে প্রার্থনা করতেন। যদি কোনো বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনার আয়াত তিলাওয়াত করে ফেলতেন, তবে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। তারপর রুকু করলেন এবং বললেন, “সুবহানা রাব্বিয়াল ‘আযীম”। তার রুকু প্রায় তাঁর কিয়ামের সমান হত। পরে তার মাথা উঠাতেন এবং বলতেন “সামি‘আল্লাহু লিমান হামিদাহ”। তারপর তিনি লম্বা সময় দাঁড়াতেন যা পরিমাণে প্রায় তার রুকুর সমান। তারপর সাজদাহ করতেন এবং বলতেন, “সুবহানা রাব্বিয়াল আ‘লা”। তার সাজদাহ প্রায় তার কিয়ামের সমান হত।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।একবার হুযায়ফা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কিয়ামুল লাইল তথা তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করতে দাঁড়ালেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত অনেক দীর্ঘ করলেন। তিনি প্রথম রাকাতে সূরা আল-বাকারাহ, অতঃপর সূরা আন-নিসা, অতঃপর সূরা আলে ইমরান তিলাওয়াত করলেন। তিলাওয়াতের সময় তিনি যদি কোনো কিছু প্রার্থনার আয়াত তিলাওয়াত করতেন তবে প্রার্থনা করতেন। যদি কোনো তাসবীহর আয়াত তিলাওয়াত করতেন তবে তাসবীহ পাঠ করতেন। যদি কোনো বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনার আয়াত তিলাওয়াত করতেন তবে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। দীর্ঘায়িত হওয়ার দিক থেকে তার সালাত ভারসাম্যপূর্ণ ছিল। রুকু ছিল কিয়ামের কাছাকাছি, আর সাজদাহ ছিল রুকুর কাছাকাছি।
আনাস বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট পানি মেশানো দুধ পেশ করা হল। তখন তার ডান পাশে ছিল জনৈক গ্রাম্যলোক। আর বাম পাশে ছিল আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু। তিনি পান করলেন, অতঃপর গ্রাম্য রোকটিকে দিলেন এবং বললেন, ডান দিক অতঃপর ডান দিক।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।একদা পানি মেশানো দুধ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট পেশ করা হল। তখন তার ডান পাশে ছিল জনৈক গ্রাম্য লোক। আর বাম পাশে ছিল আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুধ পান করলেন। অতঃপর গ্রাম্য লোকটিকে দিলেন। সে পাত্রটি নিয়ে পান করল। অথচ আবু বকর তার চেয়ে উত্তম ছিলেন। তা সত্বেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লোকটিকে প্রাধান্য দিলেন। কারণ, সে ডানে ছিল এবং তিনি বললেন, ডান দিক অতঃপর ডান দিক। অর্থাৎ তোমরা ডানকে প্রাধান্য দাও এবং ডানের লোককে আগে দাও।