





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, যখন নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেশী অসুস্থ হয়ে পড়লেন এবং তাকে কষ্ট ঘিরে ফেলল, তখন (তাঁর কন্যা) ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আন্হা) বললেন, ‘হায়! আব্বাজানের কষ্ট!’ তিনি সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা শুনে বললেন, “আজকের দিনের পর তোমার পিতার কোন কষ্ট হবে না।” অতঃপর যখন তিনি দেহত্যাগ করলেন, তখন ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আন্হা) বললেন, ‘হায় আব্বাজান! প্রভু যখন তাঁকে আহবান করলেন, তখন তিনি তাঁর ডাকে সাড়া দিলেন। হায় আব্বাজান! জান্নাতুল ফিরদাউস তাঁর বাসস্থান। হায় আব্বাজান! আমরা জিবরীলকে আপনার মৃত্যু-সংবাদ দেব।’ অতঃপর যখন তাঁকে সমাধিস্থ করা হল, তখন ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আন্হা) (সাহাবাদেরকে) বললেন, ‘আল্লাহর রাসূল-এর উপর মাটি ফেলতে কি তোমাদেরকে ভাল লাগল?!
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।হাদীসটিতে মৃত্যু যন্ত্রণার ওপর আমাদের প্রিয় নবীর ধৈর্যকে চিত্রায়িত করা হয়। যে অসুস্থতায় তিনি মারা যান তাতে তিনি ভারি হয়ে, রোগের তীব্রতার কারণে বেহুশ হয়ে যেতেন। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর ব্যথা ও অসুস্থতা খুব তীব্র হতো। এটি বিশেষ হিকমত থেকে ঘটত, যাতে তিনি ধৈর্যের বিনিময়ে উচ্চ মর্যাদা লাভ করেন। যখন তাকে মুসিবত ডেকে ফেলত তখন ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলতেন, ‘হায়! আব্বাজানের কষ্ট!’ তার কষ্টের কারণে কান্নাকাটি করত। কারণ, সে ছিল একজন মহিলা। আর মহিলা সাধারণত ধৈর্য ধারণ করতে পারে না। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা শুনে বললেন, “আজকের দিনের পর তোমার পিতার কোন কষ্ট হবে না।” কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দুনিয়া থেকে বিদায় নিলেন, তখন তিনি রফীকে আলার দিকে প্রস্থান করেছেন। আর মৃত্যু যন্ত্রনায় বেহুশ হয়ে এ দুআই করতেন, হে আল্লাহ, উচ্চ সাথীর সঙ্গ, হে আল্লাহ, উচ্চ সাথীর সঙ্গ। আর ঘরের ছাদের দিকে তাকাতেন। অতঃপর যখন তিনি দেহত্যাগ করলেন, তখন ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আন্হা) ডেকে বললেন, ‘হায় আব্বাজান! তবে তিনি নিম্ন স্বরে ডাকেন যা আল্লাহর ফায়সালা ও নির্ধারিত ভাগ্যের প্রতি অরাজিকে প্রমাণ করে না। আর তার বাণী: “প্রভু যখন তাঁকে আহবান করলেন, তখন তিনি তাঁর ডাকে সাড়া দিলেন”। কারণ, আল্লাহ তা‘আলার হাতেই প্রতিটি বস্তুর কর্তৃত্ব এবং তার হাতেই মাখলুকের মৃত্যু। তাই তিনি আল্লাহর আহ্বানকারীর আহবানে সাড়া দিলেন। আর তিনি যখন মারা যান তখন তিনি মু’মিনদের মতোই হয়ে যান। তার রুহ নিয়ে উপরের দিকে উঠে সাত আসমানের ওপর আল্লাহর সামনে অবস্থান করেন। আর তার কথা: “হায় আব্বাজান! জান্নাতুল ফিরদাউস তাঁর বাসস্থান”। কারণ, জান্নাতে মর্যাদার দিক বিবেচনায় তিনিই হবেন সর্বোচ্চ মাখলুক। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা আমার জন্য ওয়াসীলা চাও। কারণ, এটি জান্নাতের একটি উন্নত স্তর, তা আল্লাহর বান্দাদের থেকে কেবল একজন বান্দার জন্য প্রযোজ্য। আর আশা করি আমিই হবো সেই ব্যক্তি। রাসূলের অবস্থান যে জান্নাতুল ফিরদাউসে হবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। আর জান্নাতুল ফিরদাউস হলো জান্নাতের উচ্চ মাকাম। তার উপরের ছাদ আল্লাহর আরশ। আর রাসূলুল্লাহ হবে জান্নাতের উচ্চ স্তরে। তার কথা: “হায় আব্বাজান! আমরা জিবরীলকে আপনার মৃত্যু-সংবাদ দেব”। তিনি বললেন, আমরা জিবরীলকে তার মৃত্যু সংবাদ দেব কারণ, তার দীর্ঘ জীবনে তিনিই তার কাছে ওহী নিয়ে আসতেন এবং তাকে দরস দিতেন। আর ওহী নবীর হায়াতের সাথেই সম্পৃক্ত। অতঃপর যখন তাঁকে বহন ও সমাধিস্থ করা হল, তখন ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আন্হা) (সাহাবাদেরকে) বললেন, ‘আল্লাহর রাসূল-এর উপর মাটি ফেলতে কি তোমাদেরকে ভাল লাগল?! অর্থাৎ, তার পিতার বিয়োজনে অতি দুঃখ, ব্যথায় এবং এ কথা জানা থাকায় যে, সাহাবীগণের অন্তর রাসূলের মহব্বতে আল্লাহ পূর্ণ করে দিয়েছেন, তিনি তাদের এ প্রশ্ন করলেন। কিন্তু আল্লাহর জন্যইতো যাবতীয় বিধান এবং তার দিকেই ফিরে যাওয়া। যেমন আল্লাহ তা‘আলা স্বীয় কিতাবে বলেন, তুমি মরবে আর তারাও মরণশীল।
আয়েশা -রাদিয়াল্লাহু আন্হা- থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা ছিল পৃথক পৃথক, যারাই তা শুবণ করত বুঝে যেত।
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার হাদীস, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহুু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা ছিল পৃথক পৃথক। পৃথক থাকার অর্থ হচ্ছে হরফগুলো একটি অপরটির ভেতর অনুরূপভাবে শব্দগুলো একটি অপরটির ভেতর প্রবেশ করত না। এতই স্পষ্ট ও পরিস্কার যে, প্রত্যেক শ্রোতাই তা বুঝতে পারত। তাতে কোন জড়তা বা অহেতুক কথা থাকত না। তার কথার ধীরস্থীরতা কারণে যদি কোন গণনাকারী চাইতো তবে তা গণনা করতে পারত। এটি এ জন্য যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেওয়া হয়েছে কম বাক্যে অধিক অর্থবোধক কথা। তার জন্য কথাকে সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। “জাওয়ামিউল কালিম” হচ্ছে অল্প শব্দে অধিক অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করা। সুতরাং একজন মানুষের জন্য উচিত হলো তার কথা যেন একটির সাথে অপরটি সন্নিবিষ্ট না হয় যাতে শ্রোতার কাছে অপস্পষ্ট থাকে। কারণ, কথা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো শ্রোতাকে বুঝানো। যখনই কথা বুঝতে সহজ হবে তা অবশ্যই উত্তম ও সুন্দর। অতঃপর একজন মানুষ যখন এ পন্থা অর্থাৎ কথা পরিষ্কার, স্পষ্ট এবং যে বুঝেনা তার জন্য তিনবার বলার পদ্ধতি অবলম্বন করবে তার অনুভব করা উচিত যে, সে রাসূলের অনুসরণ করছে, যাতে এ দ্বারা তার জন্য সাওয়াব ও বিনিময় লাভ হয় এবং স্বীয় মুসলিম ভাইকে বুঝাতে সক্ষম হয়। প্রতিটি সুন্নাতের ক্ষেত্রে একই নিয়ম- তুমি তোমার অন্তরে এ চিন্তা করবে যে, তুমি তাতে রাসূলের সুন্নাতেরই অনুসারী যাতে তোমার জন্য ইত্তেবা‘ ও তার সাওয়াব উভয়টি সাব্যস্ত হয়।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমার উম্মতের জন্যে যদি কষ্টসাধ্য না হতো, তাহলে অবশ্যই তাদেরকে প্রত্যেক সালাতের সময় মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিচ্ছেন যে, তাঁর উম্মতের মুমিনদের উপর কষ্ট হওয়ার আশঙ্কা না হলে প্রত্যেক সালাতের সাথে মিসওয়াক ব্যবহার করা তাদের উপর ওয়াজিব করে দিতেন তিনি।
ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, ‘নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওয়ার হয়ে ও পায়ে হেঁটে (মসজিদে) কুবার যিয়ারত করতেন। অতঃপর তাতে দু’ রাকআত সালাত আদায় করতেন। ’অন্য এক বর্ণনায় আছে, ‘নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি শনিবার সওয়ার হয়ে এবং কখনো পায়ে হেঁটে মসজিদে কুবা যেতেন। আর ইবনে উমারও এরূপ করতেন।’
উভয় বর্ণনা মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।কুবা মদীনার কাছাকাছি এমন একটি অঞ্চল যেখানে ইসলামের প্রথম মসজিদ নির্মাণ করা হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম পায়ে হেটে বা বাহনে চড়ে তা যিয়ারত করতেন। আর তার বাণী “প্রতি শরিবার”: অর্থাৎ যিয়ারতের জন্য তিনি কোন কোন দিনকে খাস করতেন। সপ্তাহের মধ্যে শনিবারে যিয়ারত করার হিকমত হলো, আনসারদের সাথে যোগাযোগ রাখা এবং তাদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত হওয়া। আর যারা তার সাথে জুমু‘আয় শরীক হয়নি তাদের অবস্থার খোজ খবর নেওয়া। শনিবারকে খাস করার এটিই রহস্য।
উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ও নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাপাক অবস্থায় একই পাত্র থেকে পানি নিয়ে গোসল করতাম এবং তিনি আমাকে নির্দেশ দিলে আমি নিম্নাংশে ইযার পরে নিতাম। আর আমার মাসিক স্রাব অবস্থায় তিনি আমার শরীরের সাথে শরীর লাগিয়ে শয়ন করতেন। তাছাড়া তিনি ই‘তিকাফ অবস্থায় মাথা বের করে দিতেন, আর আমি হায়েয অবস্থায় মাথা ধুয়ে দিতাম।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমউম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা এ হাদীসে তার ও নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের মধ্যকার একান্ত কিছু অবস্থা সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন। তন্মধ্যে কয়েকটি হলো: তিনি ও নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাপাক অবস্থায় একই পাত্র থেকে পানি নিয়ে একত্রে গোসল করতেন। তার হায়েয অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তার কাছে যেতেন, তখন তিনি তাকে তার নাভী থেকে হাঁটু পর্যন্ত ইযার- কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে নির্দেশ দিতেন। অতপর তিনি তার সাথে সহবাস ছাড়া শরীরের জড়াজড়ি করতেন। তাছাড়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মসজিদে ই‘তিকাফ করতেন, তখন তাঁর মাথা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার দিকে বের করে দিতেন। আর তিনি ঘর থেকে হায়েয অবস্থায় তাঁর মাথা ধুয়ে দিতেন।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আব্দুর রহমান আবূ বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু রাসূলুল্লাহর নিকট প্রবেশ করেন আর তিনি আমার সীনায় হেলান দেওয়া অবস্থায় ছিলেন। আর আব্দুর রহমানের সাথে তাজা একটি মিসওয়াক ছিল যা দ্বারা সে দাঁতন করছিল। রাসূলুল্লাহ তার দিকে তাকালেন। আমি মিসওয়াকটি নিলাম এবং চিবালাম। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দিলাম। তিনি দাঁতন করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সেদিনের চেয়ে বেশি সুন্দর দাঁতন করতে আর কোন দিন দেখিনি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষ করার সাথে সাথে তার হাত অথবা আঙ্গুল উঠালেন অতঃপর বলল, সমুন্নত মহান সাথী- তিনবার বললেন- তারপর (মৃত্যুর) ফায়সালা হলো। তাই তিনি বলতেন, তিনি মারা গেছেন আমার থুতলি ও আমার পেটের মাঝখানে।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা আমাদের জন্য একটি ঘটনা উল্লেখ করেন যাতে মিসওয়াকের প্রতি রাসূলের মহব্বত ও সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করা হয়। আর তা হলো, আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার ভাই আব্দুর রহমান ইবন আবূ বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহুমা রাসূলুল্লাহর নিকট তার মুমুর্ষ অবস্থায় প্রবেশ করেন। আর আব্দুর রহমানের সাথে ছিল একটি তাজা মিসওয়াক যা দ্বারা সে দাঁতন করতেছিল। তা দেখে রাসূলুল্লাহ তার দিকে তাকালো। আব্দুর রহমানের হাতে মিসওয়াকটি দেখে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহ তার অসুস্থতা ও মারা যাওয়ার কথা ভুলে গিয়ে মিসওয়াকের মহব্বতে আকৃষ্ট হয়ে তার দিকে তাকালেন। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বুঝতে পেরে তার ভাই থেকে মিসওয়াকটি নিয়ে নিল এবং মিসওয়াকের মাথা স্বীয় দাঁত দ্বারা কেটে তা পরিস্কার ও পরিচ্ছন্ন করল। অতঃপর মিসওয়াকটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দিলে তিনি তা দিয়ে দাঁতন করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সেদিনের চেয়ে বেশি সুন্দর দাঁতন করতে আর কোন দিন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা দেখেননি। তারপর যখন পবিত্র হলেন এবং মিসওয়াক করা শেষ করলেন তখন তিনি হাত অথবা আঙ্গুল উপরের দিকে উঠালেন। আল্লাহর একাত্ববাদের ঘোষণা দেন। আর আল্লাহর দিকে স্থানান্তর হওয়াকে গ্রহণ করেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মারা গেলেন। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা এ বলে ঈর্ষা করতেন যা তার পাওনাও ছিল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন অবস্থায় মারা গেছেন যে তার মাথা তার বুকের উপর।
জাবের বিন আবদুল্লাহ ও আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে মারফূ হিসেবে বর্ণিত, “আমার ও লোকদের উদাহরণ এমন লোকের মতো, যে আগুন জ্বালালো, তখন কীট-পতঙ্গসমূহ আগুনে পড়তে লাগলো। সে সেগুলোকে আগুন থেকে ফিরানোর চেষ্টা করল। আমিও তোমাদের কোমর ধরে আগুন থেকে বাঁচাবার চেষ্টা করছি। কিন্তু তোমরা আমার সামনেই পতিত হচ্ছ।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। - মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বর্ণনা করেন যে, নিশ্চয় তাঁর ও তাঁর উম্মতের অবস্থা এমন লোকের মতো যে আগুন জ্বালালো, তখন কীট-পতঙ্গগুলো আগুনে পড়তে লাগলো। কারণ, এটি ছোট ছোট কীট-পতঙ্গ ও পোকা-মাকড়ের অভ্যাস। মানুষ যখন যমীনে আগুন জ্বালায় তখন তারা এ আলোর দিকে ছুটে আসে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, অবশ্যই আমি তোমাদেরকে তাতে পতিত হওয়া থেকে বাধা দিচ্ছি। কিন্তু তোমরা আমার হাত থেকে ছুটে গিয়ে তাতে পতিত হচ্ছ।এটি সবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিরোধিতা করা ও তার সুন্নাত ছেড়ে দেওয়ার কারণে হয়।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহ আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমু‘আর দিন ফজরের সালাতে আলিফ লাম মীম তানযীলু সাজদাহ এবং সূরা আদ-দাহার পড়তেন।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।রাসূলের অভ্যাস ছিল জুমু‘আর দিন ফজরের সালাতে প্রথম রাকা‘আতে ফাতিহার পর সূরায়ে সিজদাহ এবং দ্বিতীয় রাকা‘আতে ফাতিহার পর সূরা ইনসান পুরোপুরি পড়। এ দুটি সূরা এ দিনে সংঘটিত হয়েছে বা হবে এ ধরনের যে সব ঘটনা অর্ন্তভুক্ত করে তা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য। যেমন আদম আলাইহি ওয়াসাল্লামের সৃষ্টি, পুনরুথ্থানের আলোচনা, বান্দার হাসর, কিয়ামতের অবস্থা ইত্যাদি।
ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাধারে কয়েক রাত অনাহারে কাটাতেন এবং পরিবার-পরিজনরা রাতের খাবার পেতেন না। আর তাদের অধিকাংশ রুটি হত যবের।’
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাধারে কয়েক রাত অনাহারে কাটাতেন। অনুরূপভাবে তাঁর স্ত্রী এবং পরিবার-পরিজনরা; কারণ তারা রাতের খাবার পেতেন না। আর তাদের অধিকাংশ রুটি হত যবের। আর তা ছিল গম ইত্যাদির তুলনায় নিম্নমানের।