





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম চেহারা দাগানো একটি গাধা দেখতে পেলেন। তা দেখে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করলেন। অতঃপর বললেন, “আল্লাহর কসম! আমি ওর চেহারা থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী অঙ্গে দাগাব। (আগুনের ছ্যাঁকা দিয়ে চিহ্ন দিব।)” অতঃপর তিনি নিজ গাধা সম্পর্কে নির্দেশ করলেন এবং তার পাছায় দাগা হলো। সুতরাং তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি (গাধার) পাছা দেগেছিলেন।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।হাদীসটির অর্থ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন একটি গাধা দেখতে পেলেন, যার চেহারা দাগা হয়েছিল। তিনি সেটা অপছন্দ করলেন। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমার অপর একটি হাদীসে আছে, "لعن فاعله" “দাগীকে তিনি অভিশাপ করেছেন।” চেনার জন্য জন্তুর দেহে দাগ লাগানোকে আল-ওয়াসাম বলা হয়। জন্তুর মালিকেরা তাদের জন্তুর সুরক্ষার জন্যে আলামত গ্রহণ করেন, আর প্রত্যেক গোত্রের জন্যই নির্দিষ্ট আলামত রয়েছে। হয়তো দু’টি সরল দাগ বা চারকোণা দাগ বা গোল দাগ বা চাঁদের মতো দাগ। মোটকথা প্রতিটি গোত্রের জন্যেই নির্ধারিত আলামত রয়েছে। আলামত জন্তুকে হিফাযত করে, যখন কোনো জন্তু হারিয়ে যায়, তখন মানুষেরা সেই আলামত দেখে বুঝতে পারে যে, জন্তুটি অমুক গোত্রের, তখন তারা তাদের নিকট সংবাদ পোঁছে দেয়। "فقال " অর্থাৎ আব্বাস ইবন আব্দুল মুত্তালিব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন, যেমনটি স্পষ্ট করেছেন ইবন হিব্বান তার সহীহ গ্রন্থে ইবন আব্বাস সূত্রে। তিনি বলেন, “আব্বাস একটি উট বা বাহনকে তার চেহারায় দাগিয়ে ছিলেন। রাসূলুলল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা দেখে ক্ষুব্ধ হলেন। তখন আব্বাস বললেন, আমি তার পেছন ব্যতীত কোথাও দাগাব না। তারপর তিনি তার পাছায় দাগালেন। যখন তিনি (চিহরায় দাগানো) নিষিদ্ধের বিষয়টি জানতে পারলেন, তিনি কসম করলেন, আর কখনো কোনো গাধাকে তার চেহারার শেষ প্রান্তে ছাড়া দাগাবেন না। ইবন হিব্বানের পূর্বের বর্ণনায় বর্ণিত, (তিনি বলেছেন) আমি তার শেষাংশ ছাড়া কোথাও দাগাবো না, ফলে তিনি তার পাছায় দাগ লাগান। অতঃপর তিনি (রাসূল) নিজ গাধা সম্পর্কে নির্দেশ করলেন, ফলে তার গাধার পাছায় দাগা হল। আর দাগের স্থান হলো তার শেষাংশ, উরুর উপর লেজের জায়গায় যেখানে জন্তুকে আঘাত করা হয়। ইমাম নববী রহ. বলেন, যখন দাগ লাগানো হয়, তখন মুস্তাহাব হলো ছাগলকে তার কানে এবং উট ও গরুকে তাদের উরুর গোঁড়ায় দাগ লাগানো। কারণ, এ জায়গাটি শক্ত হওয়ার কারণে কষ্ট কম হয়, এখানে পশমও কম হয়, তাই আলামত স্পষ্ট দেখা যায়। দাগ লাগানোর উপকারিতা হলো একটি জন্তুকে অন্য জন্তু থেকে পৃথক করা। সুতরাং আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুই প্রথম ব্যক্তি যিনি গাধার পাছা দাগিয়েছিলেন।
উসমান আশ-শাহহাম (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ও ফারকাদ সাবাখী মুসলিম ইবনু আবূ বকরাহ (রহ.) এর নিকট গেলাম এমতাবস্থায় যে, তিনি তার স্বীয় ভূমিতে বসা ছিলেন। তার নিকট প্রবেশ করলাম। আমরা তাকে প্রশ্ন করলাম, আপনি কি আপনার আব্বাকে ফিতনা সম্পর্কে কোন হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছেন? জবাবে তিনি বললেন, হ্যাঁ! আমি আবূ বকরাহ রদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে এ কথা বর্ণনা করতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “অচিরেই ফিতনা দেখা দিবে। জেনে রাখ, এটার পর নানা ধরনের ফিতনা এসে পড়বে। সে সময় বসা অবস্থায় থাকা ব্যক্তি চলমান ব্যক্তির তুলনায় উত্তম এবং চলমান ব্যক্তি উক্ত ফিতনার দিকে দ্রুতগামী ব্যক্তির তুলনায় উত্তম। সাবধান যখন ফিতনাহ আপতিত হবে অথবা সংঘটিত হবে, এমতাবস্থায় যে ব্যক্তি উটের মালিক সে তার উট নিয়ে ব্যস্ত থাকুক। আর যার বকরী আছে সে তার বকরী নিয়ে ব্যস্ত থাকুক এবং যার জমিন আছে সে তার জমিন নিয়ে ব্যস্ত থাকুক। এ কথা শুনে তখন জনৈক লোক বলল, হে আল্লাহর রাসূল! যার উট, বকরী ও জমিন কিছুই নেই, সে কি করবে? জবাবে তিনি বললেন: “সে তার তরবারি হাতে ধারণ করতঃ প্রস্তরাঘাতে সেটার ধারালো তীক্ষ অংশ চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফেলবে। অতঃপর সে নিরাপদে থাকা সম্ভব হলে নিরাপদে থাকুক। অতঃপর তিনি বললেন: হে আল্লাহ! আমি কি পৌছিয়ে দিয়েছি? হে আল্লাহ! আমি কি পৌছে দিয়েছি? হে আল্লাহ! আমি কি পৌছিয়ে দিয়েছি?” এ সময় জনৈক লোক বলল: হে আল্লাহর রাসূল! যদি চাপ সৃষ্টি করে দু’ সারির কোন একটিতে অথবা দু’ দলের কোন এক দলে আমাকে নিয়ে যাওয়া হয়, আর কোন এক লোক তার তরবারি দিয়ে আমাকে আঘাত করে বা তীর এসে আমার গায়ে লাগে এবং আমাকে সে মেরে ফেলে, তবে আমার অবস্থা কি হবে? উত্তরে তিনি বললেন: “তবে সে তার এবং তোমার পাপের বোঝা বহন করবে এবং চিরস্থায়ী জাহান্নামে পতিত হবে।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনউসমান আশ-শাহহাম ও ফারকাদ আস-সাবখী মুসলিম ইবনে আবু বাকরা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞাসা করলেন: তিনি তাঁর পিতা থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো হাদীস শুনেছেন কি না, যা মুসলিমদের মধ্যে সংঘটিত ফিতনা ও যুদ্ধ সম্পর্কে। তিনি বললেন: হ্যাঁ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে তাঁর মৃত্যুর পর ফিতনা সংঘটিত হবে। এই ফিতনায় অজ্ঞ ও অসচেতন ব্যক্তি, যে এর দিকে ঝুঁকছে না এবং তা খুঁজছে না, সে ফিতনায় জড়িত ব্যক্তির চেয়ে উত্তম। আর ফিতনায় জড়িত ব্যক্তি, যে তাতে ধীর পায়ে হাটছে, সে তার চেয়ে উত্তম সে ব্যক্তি যে এর দিকে দ্রুত ধাবিত হচ্ছে এবং তাতে অংশ নিচ্ছে। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই ব্যক্তিকে পথনির্দেশ দিয়েছেন যার যুগে বা যার কাছে ফিতনা সংঘটিত হয়েছে, যদি সে কোনো আশ্রয়স্থল পায়, তাহলে সে যেন সেখানে আশ্রয় নেয়। যার উট চরছে, সে যেন তার উটের কাছে চলে যায়, যার ছাগল চরছে, সে যেন তার ছাগলের কাছে চলে যায়, আর যার জমি ও খামার আছে, সে যেন তার জমিতে চলে যায়। এক ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর রাসূল, যার উট, ছাগল বা জমি নেই, তার ব্যাপারে আপনার কী মত? তিনি বললেন: সে যেন তার অস্ত্র নেয় এবং তা ভেঙে ফেলে বা নষ্ট করে দেয়, তারপর পালিয়ে যায় এবং যদি সম্ভব হয় তাহলে নিজেকে এবং তার সন্তানদের বাঁচানোর জন্য পালিয়ে যাবে। তারপর তিনি তিনবার সাক্ষ্য দিলেন এবং বললেন: হে আল্লাহ, আমি কি আপনার বার্তা পৌঁছে দিয়েছি? হে আল্লাহ, আমি কি আপনার বার্তা পৌঁছে দিয়েছি? হে আল্লাহ, আমি কি আপনার বার্তা পৌঁছে দিয়েছি? তখন এক ব্যক্তি বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমাকে বাধ্য করা হয় দুই পক্ষের যেকোনো এক পক্ষে যোগদান করতে, এবং কোনো ব্যক্তি তরবারি দিয়ে আমাকে আঘাত করে বা কোনো তীর এসে আমাকে হত্যা করে, তাহলে এর হুকুম কী?" তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: সে তার নিজের গুনাহ এবং যাকে হত্যা করেছে তার গুনাহ বহন করবে, এবং কিয়ামতের দিন সে জাহান্নামের অধিবাসীদের মধ্যে গণ্য হবে।
আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত: “রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সকল মানুষের মধ্যে উত্তম চরিত্রের অধিকারী।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামই সকল মানুষের মধ্যে সর্বাধিক উত্তম চরিত্রের অধিকারী। উত্তম কথাবার্তা, কল্যাণকর কাজে জড়িত থাকা, হাস্যোজ্জল বদনে কারো সাথে সাক্ষাৎ, কষ্টদায়ক জিনিস থেকে বিরত থাকা এবং অন্যের বোঝা বহন করাসহ সকল উত্তম চরিত্রে ও ব্যবহারে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন অগ্রগামী।
সা‘দ বিন হিশাম বিন ‘আমির রহ. যখন (মদীনায়) ‘আয়িশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার কাছে প্রবেশ করলেন, তখন তিনি বললেন: হে উম্মুল মুমিনীন! আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের চারিত্রিক গুণাবলী সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি বললেন: তুমি কি কুরআন পাঠ কর না? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন: “আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চরিত্র আল-কুরআনই।”
এটি ইমাম মুসলিম একটি দীর্ঘ হাদিসের মাঝে বর্ণনা করেছেন।উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চরিত্র সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি এককথায় পূর্ণাঙ্গ জবাব দেন। তিনি প্রশ্নকারীকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিপূর্ণ চরিত্রের সূত্র হিসেবে আল-কুরআনুল কারীমকে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চরিত্র ছিলো কুরআনের চরিত্র। আল-কুরআন যা নির্দেশ দিয়েছে, তিনি তা-ই পালন করেছেন এবং কুরআন যা নিষেধ করেছে, তিনি তা থেকে বিরত ছিলেন। সুতরাং তাঁর চরিত্র ছিলো কুরআন অনুযায়ী আমল করা, এর সীমারেখা অতিক্রম না করা, কুরআনের শিষ্টাচারে শিষ্টাচার লাভ এবং তাতে বর্ণিত উপমা ও ঘটনাবলী থেকে উপদেশ গ্রহণ।
উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জুতা পরা, মাথা আঁচড়ানো, পবিত্রতা অর্জন করা এবং তাঁর সকল কাজে ডান দিক পছন্দ করতেন।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্মানজনক তাঁর প্রতিটি কাজে ডান দিক পছন্দ করতেন এবং তা দিয়ে শুরু করাকে প্রধান্য দিতেন, যেমন: তাঁর জুতা পরিধান করায় ডান পা দিয়ে শুরু করা এবং তার মাথার চুল ও দাড়ি আঁচড়ানো ও সিথি এবং তেল দেওয়ার ক্ষেত্রে ডান দিয়ে শুরু করতেন আর তাঁর অযুতে বাম হাত ও বাম পায়ের ওপর ডান হাত ও ডান পা অগ্রাধিকার দিতেন।
উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এমনভাবে হাঁ করে হাসাবস্থায় দেখিনি যে, তাঁর আলা জিহ্বা দেখা যেত। তিনি কেবল মুচকি হাসতেন।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমআয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম অত্যধিক হাসতেন না যে তার আলা জিহ্বা দেখা যেত, আলা জিহ্বা হল গলার উপরের অংশে সংযুক্ত মাংস, বরং তিনি মুচকি হাসতেন।
আর আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্দরমহলে থাকা কুমারীর চেয়ে বেশি লজ্জাশীল ছিলেন। যখন তিনি কোন জিনিস অপছন্দ করতেন আমরা তাঁর চেহারায় তা বুঝতে পারতাম।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমআবূ সাঈদ আল-খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ ঘরে পর্দাবৃত এমন কুমারী মেয়ের চেয়েও বেশি লাজুক ছিলেন যে বিয়ে করেনি এবং পুরুষদের সাথে মিশে না । তার লজ্জার তীব্রতা হল, যদি তিনি কোনো কিছু অপছন্দ করতেন, তার চেহারা বদলে যেত এবং তিনি কথা বলতেন না, বরং তার সাহাবীগণ তার মুখে ঐ জিনিসের প্রতি ঘৃণা বুঝতে পারতেন।
বারা ইবন আযেব রাদিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সফরে এশার সলাতের প্রথম দু‘ রাক‘আতের এক রাক‘আতে সূরাহ্ التِّينِ وَالزَّيْتُونِপাঠ করেন। আমি তার ছেয়ে অধিক সুন্দর আওয়াজ ও তিলাওয়াতকাকী আর কাউকে শুনিনি।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এশার সলাতের প্রথম দু‘ রাক‘আতের এক রাক‘আতে সূরাহ্ التِّينِ وَالزَّيْتُونِপাঠ করেন। কারণ, তিনি ছিলেন সফরে। আর কষ্ট ও ক্লান্তির কারণে সফরে সহজীকরণ ও সংক্ষিপ্তকরণের বিষয়টি বিবেচনা করতে হয়। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসাফির হওয়া সত্বেও কুরআন শোনার সময় অন্তরের উপস্থিতি এবং মনোযোগী হতে উদ্বুদ্ধ করে এমন কিছুই তিনি ছাড়েননি। আর তা হলো সালাতের ক্বিরাতে আওয়াজ সুন্দর করা।
আব্দুল্লাহ ইবনু মালিক ইবনু বুহাইনাহ রদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সলাতের সময় উভয় বাহু পৃথক রাখতেন। এমনকি তাঁর বগলের শুভ্রতা দেখা যেতো।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সিজদা করতেন, তখন তিনি তার দুই হাতের মধ্যে ফাঁক রাখতেন। তিনি তার প্রতিটি হাতের পাশের দিক উক্ত হাত দুটি ডানার ন্যায় ছড়িয়ে দিতেন। এমনকি এতে তার বগলের চামড়ার রঙ বোঝা যেত। বাহুদ্বয়কে ছড়িয়ে দেওয়া এবং পার্শদেশ থেকে উভয়টিকে দূরে রাখার ক্ষেত্রে এটি হচ্ছে সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ।