





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
আনাস ইবন মালেক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ তালহা (আমার মা) উম্মে সুলাইমকে বললেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের কণ্ঠ স্বরটা খুব ক্ষীণ শুনলাম। আমি বুঝতে পারলাম, তিনি ক্ষুধার্ত। তোমার নিকট কিছু আছে কি?’ উম্মে সুলাইম বললেন, ‘হ্যাঁ।’ অতঃপর তিনি কিছু যবের রুটি তার ওড়নার এক অংশ দিয়ে বেঁধে গোপনে আমার কাপড়ের নিচে গুঁজে দিলেন। আর অপর অংশ আমার গায়ে জড়িয়ে দিয়ে আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পাঠালেন। আমি তা নিয়ে গেলাম এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মসজিদে বসা অবস্থায় পেলাম। তাঁর সাথে কিছু লোক ছিল। আমি তাদের নিকটে গিয়ে দাঁড়ালাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, “তোমাকে আবূ তালহা পাঠিয়েছে?” আমি বললাম, ‘জী হ্যাঁ।’ তিনি বললেন, “খাবারের জন্যে ?” আমি বললাম, ‘জী হ্যাঁ।’ তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর (সাথীদেরকে) বললেন, “ওঠ।” সুতরাং তাঁরা রওনা হল। আমিও তাঁদের আগে আগে চলতে লাগলাম এবং আবূ তালহার নিকট এসে খবর জানালাম। তখন আবূ তালহা বললেন, ‘হে উম্মে সুলাইম! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদেরসহ আমাদের নিকট এসেছেন, অথচ আমাদের নিকট সবাইকে খাওয়ানোর মত খাদ্য সামগ্রী নেই (এখন কী করা যায়)?’ উম্মে সুলাইম বললেন, ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ভাল জানেন।’ অতঃপর আবূ তালহা (আগে) গিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সঙ্গে আগমন করলেন এবং উভয়ে ঘরে প্রবেশ করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘হে উম্মে সুলাইম! তোমার নিকট যা আছে নিয়ে এসো।’ সুতরাং তিনি ঐ রুটিগুলো এনে হাজির করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেগুলিকে টুকরা টুকরা করতে আদেশ করলেন। অতঃপর তার উপর উম্মে সুলাইম ঘিয়ের পাত্র ঢেলে তরকারি বানালেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাতে আল্লাহর ইচ্ছায় যা বলার বললেন। তারপর বললেন, “দশজনকে আসতে বল।” তখন দশজনকে আসতে বলা হল। তারা এসে পরিতৃপ্তি সহকারে খেয়ে বেরিয়ে গেল। তারপর বললেন, “আরো দশজনকে আসতে বল।” তখন আরও দশজন এসে খেয়ে তৃপ্ত হল। আগত লোকদের সংখ্যা ছিল ৭০ কিংবা ৮০ জন। (সহীহ বুখারী ও মুসলিম) অন্য বর্ণনায় আছে, দশজন ক’রে প্রবেশ করতে ও বের হতে থাকল। এমনকি শেষ পর্যন্ত এমন কোন ব্যক্তি বাকী রইল না, যে প্রবেশ করে পরিতৃপ্তি সহকারে খায়নি। অতঃপর ঐ খাবার জমা ক’রে দেখা গেল যে, খাওয়ার আগের মতই বাকী রয়েছে। অন্য বর্ণনায় আছে, তারা দশ দশজন ক’রে খাবার খেল। এইভাবে শেষ পর্যন্ত ৮০ জন লোককে তিনি খাওয়ালেন। সবশেষে নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং গৃহবাসীরা খেলেন এবং তাঁরাও কিছু (খাবার) ছেড়ে দিলেন। অন্য বর্ণনায় আছে, অতঃপর তাঁরা এত খাবার অবশিষ্ট রাখলেন যে, তা প্রতিবেশীদের নিকট পৌঁছে দিলেন। অন্য বর্ণনায় আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এলাম, তারপর দেখলাম যে, তিনি তাঁর সাথীদের সঙ্গে বসে আছেন। তখন তিনি তাঁর পেটে পট্টি বেঁধে ছিলেন। আমি তাঁর কিছু সাথীকে জিজ্ঞেস করলাম যে, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেন তাঁর পেটে পট্টি বেঁধে আছেন।’ তাঁরা বললেন, ‘ক্ষুধার কারণে।’ অতঃপর আমি (আমার মা) উম্মে সুলাইম বিনতে মিলহানের স্বামী আবূ তালহার নিকট গেলাম এবং বললাম, ‘আব্বা! আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পেটে পট্টি বাঁধা অবস্থায় দেখলাম। আমি তাঁর কিছু সাথীকে (এর কারণ) জিজ্ঞাসা করলে তাঁরা বললেন, ক্ষুধা।’ অতঃপর আবূ তালহা আমার মায়ের নিকট গিয়ে বললেন, ‘তোমার কাছে কিছু আছে কি?’ মা বললেন, ‘হ্যাঁ, আমার কাছে কয়েক টুকরো রুটি এবং কিছু খেজুর আছে। যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট একাই আসেন, তাহলে তাঁকে পরিতৃপ্তি সহকারে খাওয়াব; আর যদি তাঁর সাথে অন্য লোকও এসে যায়, তাহলে তাঁদের জন্য এ খাবার কম হয়ে যাবে।’ অতঃপর তিনি পূর্ণ হাদীস উল্লেখ করেন।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।এ হাদীসের অর্থ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খুব ক্ষুধা পেল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কণ্ঠ স্বরটা খুব ক্ষীণ হওয়ার কারণে তার অবস্থা সম্পর্কে আবূ তালহা অবগত হলেন। ফলে আবূ তালহা তার স্ত্রী উম্মে সুলাইম রাদিয়াল্লাহু আনহাকে রাসূলের অবস্থা জানিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন যে তোমাদের নিকট কিছু আছে কি? উম্মে সুলাইম বললেন, ‘হ্যাঁ।’ অর্থাৎ আমাদের নিকট এ পরিমাণ খাবার আছে যা দ্বারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ক্ষুধা নিবারণ করতে পারব। অতঃপর তিনি কিছু যবের রুটি বের করলেন। তারপর তিনি তার স্বীয় ওড়না নিলেন। তারপর ওড়নার এক অংশ দিয়ে রুটি বেঁধে গোপনে আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাপড়ের নিচে গুঁজে দিলেন। আর ওড়নার অপর অংশ চাদর হিসেবে তাকে ডেকে রাখার উদ্দেশ্যে তার গায়ের ওপর জড়িয়ে দিলেন। তারপর আনাস যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত হলেন, তাকে কতক সাহাবীর মাঝে পেলেন। তিনি তাদের কাছে গিয়ে দাড়ালেন। তখন আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “তোমাকে কি আবূ তালহা পাঠিয়েছে?” আমি বললাম, ‘জী হ্যাঁ।’ তিনি বললেন, “খাবারের জন্য নাকি?” আমি বললাম, ‘জী হ্যাঁ।’ অর্থাৎ তোমাকে খাবারের জন্য আমাদের দাওয়াত দিতে পাঠিয়েছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলের সাথে সাহাবীদের সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে এবং রাসূলের অভ্যাস হলো সে তার সাহাবীগণের ওপর নিজের অধিকারকে প্রাধান্য দিতেন না, এ কথা জানা থাকার কারণে তাকে দাওয়াত প্রকাশ করার চেয়ে বেশী কিছু করতে পারলেন না, যেন তিনি একাই আবূ তালহার বাড়িতে যান এবং তখন যেন তাকে খাওয়ানোর উদ্দেশ্য হাসিল হয়। এ সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর (সাথীদেরকে) বললেন, “ওঠ।” তারা উঠল এবং রওয়ানা দিল। আনাস বলেন, ফলে আমিও তাঁদের আগে আগে চললাম। অপর এক বর্ণনায় বর্ণিত: তার সাথে লোক বেশি হওয়ার কারণে আমি চিন্তিত ছিলাম। তিনি বলেন অবশেষে আমি আবূ তালহার নিকট এসে তাকে খবর জানালাম। তখন আবূ তালহা বললেন, ‘হে উম্মে সুলাইম! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের নিয়ে আসছেন, অথচ আমাদের নিকট সবাইকে খাওয়ানোর মত খাদ্য সামগ্রী নেই (এখন কী করা যায়)?’ উম্মে সুলাইম বললেন, ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ভাল জানেন।’ উম্মে সুলাইম রাদিয়াল্লাহু আনহা বিষয়টি আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূলের প্রতি সোপর্দ করলেন। যেন তিনি বুঝতে পারলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি ইচ্ছাকৃত করেছেন যাতে খাদ্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তার কারামত প্রকাশ পায়। এটি তার তীক্ষ্ন বুদ্ধি ও জ্ঞানের পরিপক্কতার প্রমাণ। অতঃপর আবূ তালহা (আগে) গিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সঙ্গে আগমন করলেন এবং উভয়ে ঘরে প্রবেশ করলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘(হে উম্মে সুলাইম!) নিকট এসো।’ অপর বর্ণনায় আছে: আবূ তালহা তাকে এস্তেকবাল করলেন এবং বললেন হে আল্লাহর রাসূল আমাদের নিকট কতক রুটি যা উম্মে সুলাইম তৈরি করেছে তা ছাড়া আর কিছু নাই। অপর বর্ণনায় আছে : আবূ তালহা বলল, এ তো শুধু কয়েকটি রুটি। তিনি বললেন, নিশ্চয় আল্লাহ তাতে বরকত দেবেন। অপর বর্ণনায় আছে, আবূ তালহা বলল, হে আল্লাহর রাসূল আমি আপনার নিকট আনাসকে পাঠিয়েছি যাতে শুধু আপনাকে ডেকে আনে। আমাদের নিকট যাদের দেখছি তাদের ক্ষুধা নিবারণের পরিমাণ খাদ্য নেই। তিনি বললেন, তুমি প্রবেশ কর, কারণ, আল্লাহ তোমার কাছে যা আছে তাতে বরকত দান করবেন। তারপর যখন রাসূলুল্লাহ আবূ তালহার ঘরে প্রবেশ করলেন, তিনি বললেন, হে উম্মে সুলাইম! তোমার কাছে যা আছে তা নিয়ে আসো। সুতরাং তিনি ঐ রুটিগুলো এনে হাজির করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেগুলিকে টুকরা টুকরা করতে আদেশ করলেন। অতঃপর রুটির টুকরোগুলো তরকারি বানাতে তার উপর উম্মে সুলাইম ঘিয়ের পাত্র ঢেলে দিলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাতে আল্লাহর ইচ্ছায় যা বলার বললেন। অর্থাৎ তিনি দো‘আ করলেন যেন আল্লাহ এই সামান্য খাবারে বরকত দান করেন। অপর বর্ণনায় আছে, ফলে আমি তা নিয়ে আসলাম আর তিনি তার বাঁধন খুললেন ও বললেন, বিসমিল্লাহ, হে আল্লাহ তাতে তুমি মহা বরকত দান কর। তারপর বললেন, “দশজনকে আসার অনুমতি দাও। তখন দশজনকে আসতে বলা হল। তারা এসে তৃপ্তিসহ খেয়ে বেরিয়ে গেল। তারপর বললেন, “আরো দশজনকে আসতে বল।” তখন তাদেরকে আসতে বলা হল, এভাবে সবাই খেল ও পরিতৃপ্ত হল। তারা সংখ্যায় ৭০ কিংবা ৮০ জন ছিল। (সহীহ বুখারী ও মুসলিম) অন্য বর্ণনায় আছে, দশজন ক’রে প্রবেশ করতে ও বের হতে থাকল। এমনকি শেষ পর্যন্ত কেউ প্রবেশ করে তৃপ্তিসহ খাওয়া ছাড়া বাকী রইল না। অতঃপর ঐ খাবার জমা ক’রে দেখা গেল যে, খাওয়ার আগের মতই বাকী রয়েছে। অন্য বর্ণনায় আছে, তারা দশ দশজন ক’রে খাবার খেল। এইভাবে শেষ পর্যন্ত ৮০ জন লোককে তিনি খাওয়ালেন। সবশেষে নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং গৃহবাসীরা খেলেন এবং তাঁরাও কিছু (খাবার) ছেড়ে দিলেন। অন্য এক বর্ণনায় আছে, অতঃপর তাঁরা এত খাবার অবশিষ্ট রাখলেন যে, তা প্রতিবেশীদের জন্যেও যথেষ্ট হলো।
জাবের ইবন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ঈদের দিন সালাতে উপস্থিত হলাম। তিনি আযান ও ইকামত ছাড়া খুতবার আগে সালাত আরম্ভ করলেন। তারপর বিলালের ওপর হেলান দিয়ে দাড়ালেন এবং তাকওয়া অবলম্বন করার নির্দেশ দিলেন এবং তার অনুকরণ করার ওপর উৎসাহ দিলেন। তিনি মানুষকে নসিহত করলেন এবং স্মরণ করিয়ে দিলেন। তারপর তিনি মহিলাদের নিকট আসলেন তাদেরকেও ওয়াজ ও নসিহত করলেন এবং বললেন, তোমরা সাদাকাহ কর, কারণ, তোমাদের অধিকাংশই জাহান্নামের খড়ি। মহিলাদের মাঝখানে বসা রঙ্গীন চেহারা বিশিষ্ট এক নারী দাড়ালো এবং বলল, কেন? হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন, কারণ, তোমরা অভিযোগ বেশি কর এবং স্বামীর নাফরমানি করো। তিনি বলেন: তারপর তারা তাদের স্বর্ণ—অলংকার থেকে দান করা আরম্ভ করে। তারা বিলালের কাপড়ে তাদের কানের দুল এবং আংটি ডেলে দিলেন।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথীদের নিয়ে ঈদের সালাত আযান ও ইকামত ছাড়া আদায় করলেন। সালাত থেকে ফারেগ হয়ে তিনি তাদের ভাষণ দিলেন এবং তাদের তিনি আল্লাহর আদেশসমূহ মানা এবং নিষেধসমূহ হতে বিরত থাকা এবং প্রকাশ্য ও গোপনে আল্লাহর আনুগত্য করাকে আবশ্যক মনে করা দ্বারা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করার নির্দেশ দিলেন। আর তাদের নির্দেশ দিলেন যাতে তারা আল্লাহর ওয়াদা ও হুমকিকে স্মরণ করে এবং ভয় ও আগ্রহের সাথে উপদেশ গ্রহণ করে। মহিলারা পুরুষ থেকে আলাদা স্থানে থাকার কারণে তারা খুতবা শুনতে ছিল না। আর তিনি ছোট বড় সবার প্রতি আগ্রহী ছিলেন। সবার প্রতি তিনি দয়ালু ও মেহেরবান ছিলেন। তাই তিনি নারীদের দিকে বেলালকে নিয়ে অগ্রসর হলেন। তাদের তিনি ওয়াজ করলেন, স্মরণ করে দিলেন। তাদের তিনি বিশেষ নসিহত করলেন। তাদেরকে তিনি বর্ণনা করলেন যে, তারা অধিকাংশ জাহান্নামী। আর তা থেকে নাজাত পাওয়ার উপায় হলো সাদাকাহ। কারণ, তা রবের রাগকে নিবিয়ে দেয়। এ কথা শোনে মহিলাদের মাঝখানে বসা রঙ্গীন চেহারা বিশিষ্ট এক নারী দাড়ালো এবং নারীরা অধিকাংশ জাহান্নামী হওয়ার কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল, যাতে তা ছেড়ে দিয়ে ক্ষতিপূরণ করতে পারে। তিনি বললেন, কারণ, তোমরা অভিযোগ ও অপছন্দনীয় কথা বেশি বল। তোমরা অসংখ্য কল্যাণকে ভুলে যাও যখন তোমাদের ওপর এহসানকারী একবার ভুল করে। যেহেতু সাহাবীগণের স্ত্রীগণ ভালো কর্মে প্রতি প্রতিযোগী ছিলেন এবং যে সব কর্ম আল্লাহকে ক্ষুব্ধ করে তা থেকে দূরে থাকার প্রতি প্রতিজ্ঞ ছিলেন তাই তারা তাদের হাতের চুড়ি এবং কানের বালি এবং আংটি ইত্যাদি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের মহব্বতে এবং তার নিকট যা রয়েছে তার তালাশে বিলালের কোলে নিক্ষেপ করলেন।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহ আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদিজা জীবিত থাকাকালীন আর কাউকে বিয়ে করেন নি।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদিজা বিনত খুওয়ালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহা জীবিত থাকাকালীন আর কাউকে বিয়ে করেন নি। এটি মূলত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে খাদিজার মর্যাদা প্রমাণ করে। তিনি ছিলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রথম স্ত্রী।
আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত: আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিসরা (পারস্যের সম্রাট), কায়সার (রোমের সম্রাট) ও নাজাশী এবং অন্যান্য প্রভাবশালী শাসকগণের নিকট পত্র লিখেন, যাতে তিনি তাদের আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেন। ইনি সে নাজাশী নন, যার জানাযার সালাত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদায় করেছিলেন।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনআনস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর মৃত্যুর পূর্বে বিশ্বের বিভিন্ন রাজাদের কাছে ইসলাম গ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। তিনি কিসরাকে, এটি পারস্যের সকল সম্রাটের উপাধী, কাইসারকে, এটি সকল রোম সম্রাটের উপাধী এবং নাজাশিকে, এটি হাবশার সকল রাজার উপাধী, চিঠি পাঠান। তিনি অন্যান্য সব শক্তিশালী এবং নির্দয় শাসকদেরও চিঠি লিখেছেন, যারা মানুষের ওপর শাসন-শক্তি প্রয়োগ করতেন। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু স্পষ্ট করেছেন যে, যাকে চিঠি লেখা হয়েছিল, তিনি সেই নাজাশি নন, যিনি ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যার উপর জানাযার সালাত পড়েছেন।
আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "হে আল্লাহ! আমি তো একজন মানুষ। সুতরাং আমি কোন মুসলিমকে গাল-মন্দ করলে কিংবা তাকে অভিশাপ করলে অথবা আঘাত করলে তখন তুমি তার জন্য তা পবিত্রতা ও রহমত অর্জনের উপায় বানিয়ে দিও।"
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দোয়া করেছেন: হে আল্লাহ, আমি শুধু একজন মানুষ, মানুষ যেমন রাগ করে আমি তেমন রাগ করি, যদি আমি কোনো মুমিনকে আঘাত করে থাকি, অথবা তাকে গালি দিয়ে থাকি, অথবা তাকে অভিশাপ দিয়ে থাকি, কিংবা তার বিরুদ্ধে তোমার রহমত থেকে তাড়িত হওয়ার দোয়া করে থাকি, অথবা তাকে শাস্তি বা আঘাত দিয়ে থাকি, তাহলে এটিকে তার জন্য আত্মশুদ্ধি, নৈকট্য, পবিত্রতা, কফফারা এবং রহমত বানিয়ে দিন, যা দিয়ে আপনি তাকে দয়া করবেন।
আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিতত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহকে বলা হলো, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনি মুশরিকদের উপর বদদু’আ করুন। তিনি বললেন, “আমি তো অভিসম্পাতকারীরূপে প্রেরিত হইনি; বরং প্রেরিত হয়েছি রহমত স্বরূপ”।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেননবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট মুশরিকদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করার অনুরোধ করা হলে, তিনি বললেন: আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে লানতকারী হিসেবে প্রেরিত হইনি, যে মানুষের বিরুদ্ধে বদদোয়া করব, তাদের আল্লাহর রহমত থেকে দূরে ঠেলে দেব এবং তাদের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত করব। আমি এ উদ্দেশ্যে প্রেরিত হইনি। বরং আমি প্রেরিত হয়েছি যাতে আমি মানুষের জন্য, বিশেষ করে মু’মিনদের জন্য, কল্যাণ ও রহমতের কারণ হতে পারি।
উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ রদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট সর্বপ্রথম যে ওয়াহী আসে, তা ছিল নিদ্রাবস্থায় বাস্তব স্বপ্নরূপে। যে স্বপ্নই তিনি দেখতেন তা একেবারে প্রভাতের আলোর ন্যায় প্রকাশিত হতো। অতঃপর তাঁর নিকট নির্জনতা পছন্দনীয় হয়ে দাঁড়ায় এবং তিনি ’হেরা’র গুহায় নির্জনে অবস্থান করতেন। আপন পরিবারের নিকট ফিরে এসে কিছু খাদ্যসামগ্রী সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার পূর্বে- এভাবে সেখানে তিনি এক নাগাড়ে বেশ কয়েক দিন ’ইবাদাতে মগ্ন থাকতেন। অতঃপর খাদীজাহ-এর নিকট ফিরে এসে আবার একই সময়ের জন্য কিছু খাদ্যদ্রব্য নিয়ে যেতেন। এভাবে ’হেরা’ গুহায় অবস্থানকালে তাঁর নিকট ওয়াহী আসলো। তাঁর নিকট ফেরেশতা এসে বললো, ’পাঠ করুন’। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ [’’আমি বললাম, ’আমি পড়তে জানি না।] তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ [অতঃপর সে আমাকে জড়িয়ে ধরে এমনভাবে চাপ দিলো যে, আমার খুব কষ্ট হলো। অতঃপর সে আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললো, ’পাঠ করুন’। আমি বললামঃ আমি তো পড়তে জানি না।’ সে দ্বিতীয়বার আমাকে জড়িয়ে ধরে এমনভাবে চাপ দিলো যে, আমার খুব কষ্ট হলো। অতঃপর সে আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললোঃ ’পাঠ করুন’। আমি উত্তর দিলাম, ’আমি তো পড়তে জানি না।’ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, অতঃপর তৃতীয়বারে তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরে চাপ দিলেন। তারপর ছেড়ে দিয়ে বললেন, ’’পাঠ করুন আপনার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। যিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত পিন্ড থেকে, পাঠ করুন, আর আপনার রব অতিশয় দয়ালু’’- (সূরাহ্ ’আলাক্ব ৯৬/১-৩)। অতঃপর এ আয়াত নিয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -প্রত্যাবর্তন করলেন। তাঁর হৃদয় তখন কাঁপছিল। তিনি খাদীজাহ বিন্তু খুওয়ায়লিদের নিকট এসে বললেন, ’আমাকে চাদর দ্বারা আবৃত কর’, ’আমাকে চাদর দ্বারা আবৃত কর।’ তাঁরা তাঁকে চাদর দ্বারা আবৃত করলেন। এমনকি তাঁর শংকা দূর হলো। তখন তিনি খাদীজাহ (রাঃ)-এর নিকট ঘটনাবৃত্তান্ত জানিয়ে তাঁকে বললেন, আমি আমার নিজেকে নিয়ে শংকা বোধ করছি। খাদীজাহ (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম, কখনই নয়। আল্লাহ্ আপনাকে কখনও লাঞ্ছিত করবেন না। আপনি তো আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সদাচরণ করেন, অসহায় দুস্থদের দায়িত্ব বহন করেন, নিঃস্বকে সহযোগিতা করেন, মেহমানের আপ্যায়ন করেন এবং হক পথের দুর্দশাগ্রস্তকে সাহায্য করেন। অতঃপর তাঁকে নিয়ে খাদীজাহ (রাঃ) তাঁর চাচাতো ভাই ওয়ারাকাহ ইবনু নাওফাল ইবনু ’আবদুল আসাদ ইবনু ’আবদুল ’উযযাহ’র নিকট গেলেন, যিনি অন্ধকার যুগে ’ঈসায়ী ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি ইবরানী ভাষায় লিখতে পারতেন এবং আল্লাহর তাওফীক অনুযায়ী ইবরানী ভাষায় ইঞ্জিল হতে ভাষান্তর করতেন। তিনি ছিলেন অতিবৃদ্ধ এবং অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। খাদীজাহ (রাঃ) তাঁকে বললেন, ’হে চাচাতো ভাই! আপনার ভাতিজার কথা শুনুন।’ ওয়ারাকাহ তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, ’ভাতিজা! তুমি কী দেখ?’ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা দেখেছিলেন, সবই বর্ণনা করলেন। তখন ওয়ারাকাহ তাঁকে বললেন, এটা সেই বার্তাবাহক যাঁকে আল্লাহ মূসা (আঃ)-এর নিকট পাঠিয়েছিলেন। আফসোস! আমি যদি সেদিন থাকতাম। আফসোস! আমি যদি সেদিন জীবিত থাকতাম, যেদিন তোমার কওম তোমাকে বহিষ্কার করবে।’ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, [’তারা কি আমাকে বের করে দেবে?’] তিনি বললেন, ’হ্যাঁ, তুমি যা নিয়ে এসেছো অনুরূপ (ওয়াহী) কিছু যিনিই নিয়ে এসেছেন তাঁর সঙ্গেই বৈরিতাপূর্ণ আচরণ করা হয়েছে। সেদিন যদি আমি থাকি, তবে তোমাকে জোরালোভাবে সাহায্য করব।’ এর কিছুদিন পর ওয়ারাকাহ (রাঃ) ইন্তিকাল করেন। আর ওয়াহীর বিরতি ঘটে।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমুমিনদের মা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে প্রথম ওহী লাভ করেছিলেন, তা ছিল ঘুমে দেখা একটি সত্য স্বপ্ন। ঘুমের মধ্যে তিনি এমন কোন স্বপ্ন দেখেননি যা স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠেনি ভোরের আলোর মতো। তারপর তার কাছে নির্জনতা প্রিয় করে দেওয়া হল এবং তিনি হেরা গুহায় নিজেকে নির্জনে রাখতেন এবং তার পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত অনেক রাত সেখানে ইবাদত করতেন এবং এর জন্য তিনি তার সাথে খাবার নিয়ে যেতেন। তারপর তিনি মুমিনদের মা খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহার কাছে ফিরে গেলেন এবং একই সংখ্যক রাতের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করলেন, যতক্ষণ না তিনি হেরা গুহায় থাকাকালীন তাঁর কাছে সত্য আদেশ এসে পৌঁছাল। অতঃপর ফেরেশতা জিব্রাইল আলাইহিস সালাম তাঁর কাছে এসে বললেন: পড়। তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আমি সুন্দর তেলাওয়াত করতে জানি না! তিনি বললেন: সে আমাকে জড়িয়ে চেপে ধরল যতক্ষণ না আমি ক্লান্ত হয়ে পড়লাম এবং ব্যথায় কাতর হয়ে পড়লাম, তারপর আমাকে ছেড়ে দিল। তিনি বললেন: পড়ো। আমি বললাম: ভালো তিলাওয়াত করতে জানি না! সে আমাকে নিয়ে দ্বিতীয়বার ঢেকে নিল যতক্ষণ না আমি ক্লান্ত ও পরিশ্রমী হয়ে পড়লাম, তারপর সে আমাকে ছেড়ে দিল। তিনি বললেন: পড়ো। আমি বললাম: ভালো তিলাওয়াত করতে জানি না। সে আমাকে নিয়ে তৃতীয়বারের মতো ঢেকে নিল, তারপর আমাকে ছেড়ে দিয়ে বলল: পড়ুন আপনার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে ‘আলাক’ হতে। পড়ুন, আর আপনার রব মহামহিমান্বিত। [আল-আলাক:১-৩] তারপর তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়াতগুলোসহ ফিরে এলেন, মৃত্যুর ভয়ে তার হৃদয় কাঁপছিল। তিনি তাঁর স্ত্রী মুমিনদের মা খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ রাদিয়াল্লাহু আনহা এর কাছে প্রবেশ করলেন এবং বললেন: আমাকে কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে দাও, কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে দাও, তাই তারা তাকে কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে দিল যতক্ষণ না তার ভয় চলে গেল। তারপর সে খাদিজাকে বলল এবং তাকে খবরটা দিল আর সে বলল: আমি আমার নফসের উপর মৃত্যুর আশঙ্কা করেছিলাম। তাই খাদিজা বললেন: না, আল্লাহর কসম, আল্লাহ কখনো আপনাকে অপমানিত করবেন না। আপনি পারিবারিক বন্ধন বজায় রাখেন, দুর্বলদের সাহায্য করেন যারা নিজেদের যত্ন নিতে পারে না এবং আপনি দরিদ্র ও অভাবীদের সাহায্য করেন। যেখানে আপনি মানুষকে এমন কিছু দেন যা তারা অন্যদের কাছে পায় না এবং আপনি অতিথিদের মেহমানদারি করেন এবং প্রয়োজনের সময় সাহায্য করেন। খাদিজা তাকে তার সাথে নিয়ে চললেন এবং তাকে ওয়ারাকা ইবনে নওফাল ইবনে আসাদ ইবনে আব্দুল উজ্জার কাছে নিয়ে গেলেন, যিনি ছিলেন তার চাচাতো ভাই। তিনি এমন একজন ব্যক্তি ছিলেন যিনি জাহিলি (প্রাক-ইসলামিক) যুগ ত্যাগ করে খ্রিস্টান হয়েছিলেন। তিনি ইঞ্জিল থেকে হিব্রুতে আল্লাহর ইচ্ছায় যা লিখার তা-ই লিখতেন। তিনি একজন বৃদ্ধ মানুষ ছিলেন যিনি তার দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন। খাদিজা তাকে বললেন: হে চাচাতো ভাই, তোমার ভাগ্নের কথা শোনো, তাই ওয়ারাকা তাকে বললেন: হে ভাগ্নে, তুমি কী দেখতে পাচ্ছ? আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে যা দেখেছিলেন তা বললেন। ওরাকা তাকে বললেন: ইনি হলেন জিব্রাইল, যাকে আল্লাহ তাঁর নবী মূসা (আলাইহিস সালাম) এর উপর নাযিল করেছিলেন। তোমার লোকেরা যখন তোমাকে বের করে দেবে, তখন আমি যদি যুবক হতাম! তিনি বললেন: তারা কি আমাকে বহিষ্কার করবে?! তিনি বললেন: হ্যাঁ, তুমি যা নিয়ে এসেছো আর কেউ কখনও এমন কিছু নিয়ে আসেনি যার ফলে তাকে কষ্ট দেওয়া এবং তার সাথে শত্রুতা করা হয়নি। যদি আমি তোমার দিনটি দেখা পর্যন্ত বেঁচে থাকি, তাহলে আমি তোমাকে দৃঢ় সমর্থন দিয়ে সমর্থন করব। এর কিছুদিন পরেই ওয়ারাকা মারা যান এবং কিছু সময়ের জন্য ওহী নাযিল হতে বিলম্ব হয়।
আবু সালামাহ ইবনু আব্দুর রহমান বর্ণনা করেন যে, জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ্ আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহুমা ওয়াহী স্থগিত হওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনার এক পর্যায়ে বলেন: “আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একদা আমি হাঁটছি, হঠাৎ আসমান হতে একটি শব্দ শুনতে পেয়ে আমার দৃষ্টিকে উপরে তুললাম। দেখলাম, সেই ফেরেশতা, যিনি হেরা গুহায় আমার নিকট এসেছিলেন, আসমান ও যমীনের মাঝে একটি আসনে উপবিষ্ট। এতে আমি শংকিত হলাম। অবিলম্বে আমি ফিরে এসে বললাম, ‘আমাকে চাদর দ্বারা আবৃত কর, আমাকে চাদর দ্বারা আবৃত কর।’ অতঃপর আল্লাহ্ তা‘আলা অবতীর্ণ করলেন, {يَا أَيُّهَا المُدَّثِّرُ1 قُمْ فَأَنْذِرْ} [المدثر: 2] إِلَى قَوْلِهِ {وَالرُّجْزَ فَاهْجُرْ} [المدثر: 5]. ‘‘হে বস্ত্রাবৃত রাসূল! উঠুন, সতর্ক করুন”; হতে “এবং অপবিত্রতা থেকে দূরে থাকুন।’’ (মুদ্দাস্সির ৭৪:১-৫) পর্যন্ত। অতঃপর ওয়াহী পুরোদমে ধারাবাহিক অবতীর্ণ হতে লাগল।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন প্রথম নবুয়তের সময় ওহী বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা বলছিলেন, তখন তিনি বললেন: আমি মক্কার গলিগুলো দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম, তখন আমি আকাশ থেকে একটি আওয়াজ শুনলাম। আমি চোখ উঁচু করলাম, তখন দেখতে পেলাম ফেরেশতা জিব্রাইল, যিনি আমার নিকট হিরা গুহায় এসেছিলেন, আকাশ ও পৃথিবীর মাঝখানে একটি সিংহাসনে বসে আছেন। আমি তার কারণে ভীত ও আতঙ্কিত হয়ে পড়লাম, তারপর বাড়ি ফিরে গিয়ে আমার পরিবারকে বললাম: আমাকে কাপড়ে ঢেকে রাখো। অতঃপর আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেন: {يَا أَيُّهَا المُدَّثِّرُ} “হে বস্ত্রাবৃত”! কাপড়ে মোড়ানো, দাওয়াত নিয়ে দাঁড়াও এবং যে তোমার রিসালাতের প্রতি ঈমান আনেনি তাকে সতর্ক কর। আর তোমার পালনকর্তা অর্থাৎ তোমার ইবাদতের যোগ্য আল্লাহর, বড়ত্বের ঘোষণা দাও, অর্থাৎ তার প্রশংসা ও বড়ত্ব বর্ণনা করো। আর তোমার কাপড়গুলো অর্থাৎ তোমার বস্ত্রসমূহকে, পরিষ্কার করো অর্থাৎ নাপাক থেকে মুক্ত করো এবং নাপাককে অর্থাৎ প্রতিমা পূজা ও মূর্তি আরাধনার মতো জঘন্য কাজকে, ত্যাগ করো অর্থাৎ তা থেকে দূরে থাকো। এরপর ওহী শক্তিশালী হয় এবং বৃদ্ধি পায়।
আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজদের দিকে একটি সৈন্যদল পাঠান। আমি তাদের সাথে বের হলাম। আমরা উট ও ছাগল লাভ করলাম। ফলে আমাদের অংশগুলো বারোটি উট পর্যন্ত পৌঁছল। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের একটি একটি উট অতিরিক্ত দান করলেন।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা জানান যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে একটি সৈন্য দলে নাজদের দিকে পাঠান। তারা অনেকগুলো উট ও ছাগল গণীমত হিসেবে লাভ করল। ফলে তারা প্রত্যেকের ভাগে বারোটি করে উট পেল। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে এর ওপর একটি করে উট তাদের অংশের ওপর অতিরিক্ত দান করলেন।