





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
উম্মে সালামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট সবচেয়ে প্রিয় পোশাক ছিলো কামিস (সেলাই করা জামা)।
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট সবচেয়ে প্রিয় কাপড় ছিল সেলাই করা জামা। কারণ, তা লুঙ্গী ও চাদর অপেক্ষা বেশি আচ্ছাদনকারী। অধিকন্তু কামিস একটি কাপড় হওয়ায় মানুষ একবারে পরিধান করতে পারে। এটি প্রথমবার লুঙ্গী ও দ্বিতীয়বার চাদর পরিধান করার চেয়ে সহজ। এতদ্বসত্ত্বেও তুমি যদি এমন শহরে থাকো যারা লুঙ্গী ও চাদর পরিধান করে অভ্যস্ত এবং তুমিও তাদের মতো পরিধান কর, তবে সমস্যা নেই। গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে তুমি তোমার শহরবাসীর পোষাক-পরিচ্ছেদের বিরোধিতা করবে না, কারণ সেটা প্রসিদ্ধি এনে দেয়, আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খ্যাতির পোষাক পরিধান করতে নিষেধ করেছেন।
আবূ সায়ীদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত যে কিছু আনসারী আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে কিছু চাইলেন। তিনি তাদেরকে দিলেন। পুনরায় তারা দাবী করল। ফলে তিনি (আবার) তাদেরকে দিলেন। এমনকি যা কিছু তাঁর কাছে ছিল তা সব নিঃশেষ হয়ে গেল। অতঃপর যখন তিনি সমস্ত জিনিস নিজ হাতে দান ক’রে দিলেন, তখন তিনি বললেন, “আমার কাছে যা কিছু (মাল) আসে তা আমি তোমাদেরকে না দিয়ে কখনই জমা ক’রে রাখব না। (কিন্তু তোমরা একটি কথা মনে রাখবে,) যে ব্যক্তি চাওয়া থেকে পবিত্র থাকার চেষ্টা করবে, আল্লাহ তাকে পবিত্র রাখবেন। আর যে ব্যক্তি (চাওয়া থেকে) অমুখাপেক্ষিতা অবলম্বন করবে, আল্লাহ তাকে অমুখাপেক্ষি করবেন। যে ব্যক্তি ধৈর্য ধারণ করার চেষ্টা করবে আল্লাহ তাকে ধৈর্য ধারণের [মতা প্রদান করবেন। আর কোন ব্যক্তিকে এমন কোন দান দেওয়া হয়নি, যা ধৈর্য অপেক্ষা উত্তম ও বিস্তর হতে পারে।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।কিছু আনসারী সাহাবী আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে কিছু চাইলেন। তিনি তাদের দিলেন। পুনরায় তারা চাইল। তিনি আবারও দিলেন। এমনকি যা কিছু তাঁর কাছে ছিল তা শেষ হয়ে গেল। অতঃপর তাদের সংবাদ দিলেন যে, তাঁর কাছে সম্পদ থাকলে তা তাদেরকে না দিয়ে কখনই জমা করে রাখা সম্ভব নয়। কিন্তু তার কাছে কোনো কিছুই নেই। তিনি তাদেরকে চাওয়া থেকে পবিত্র থাকা, অমুখাপেক্ষিতা অবলম্বন করা এবং ধৈর্য ধারণের চেষ্টা করার প্রতি উদ্ধুদ্ধ করেছেন। অতঃপর তিনি জানালেন, যে ব্যক্তি মানুষের কাছে চাওয়া বাদ দিয়ে আল্লাহর কাছে, যা আছে তাকেই যথেষ্ট মনে করে আল্লাহ তাকে অমূখাপেক্ষী করেন। অন্তরের ধনীই হচ্ছে প্রকৃত ধনী। মানুষ যখন মানুষের কাছে চাওয়া পরিহার করে আল্লাহর কাছেই চাইবে, আল্লাহ তাআলা তাকে মানুষের নিকট চাওয়া থেকে অমুখাপেক্ষি রাখবেন এবং তার মনোবল শক্তিশালী করবেন এবং তাকে চাওয়া থেকে বিরত রাখবেন। আর আল্লাহ অবৈধভাবে নারী থেকে যা হারাম করেছেন, তা থেকে যে পবিত্র থাকবে, আল্লাহ তাকে পবিত্র রাখবেন, তাকে সংরক্ষণ করবেন এবং তার পরিবারকেও সংরক্ষণ করবেন। যে ব্যক্তি ধৈর্য ধারণ করার চেষ্টা করবে আল্লাহ তাকে ধৈর্য ধারণের ক্ষমতা প্রদান করবেন। আর কোনো ব্যক্তিকে সবরের চেয়ে অধিক উত্তম রিযিক অথবা অন্য কিছু দেননি।
আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আ’স রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইব্রাহীম আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ব্যাপারে আল্লাহর এ বাণী পাঠ করলেন, “হে আমার রব! এসব প্রতিমা বহু মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে; সুতরাং যে আমার অনুসরণ করবে সে আমার দলভুক্ত, কিন্তু কেউ আমার অবাধ্য হলে তুমি তো চরম ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।” (সূরা ইব্রাহীম ৩৬) এবং ঈসা আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উক্তি (এ আয়াতটি পাঠ করলেন), “যদি তুমি তাদেরকে শাস্তি প্রদান কর, তবে তারা তোমার বান্দা। আর যদি তুমি তাদেরকে ক্ষমা কর, তবে তুমি অবশ্যই প্রবল পরাক্রান্ত, প্রজ্ঞাময়।” (সূরা মায়েদাহ ১১৮ আয়াত) অতঃপর তিনি তাঁর হাত দু’খানি উঠিয়ে বললেন, “হে আল্লাহ! আমার উম্মত, আমার উম্মত।” অতঃপর তিনি কাঁদতে লাগলেন। আল্লাহ আয্যা অজাল্লা বললেন, ‘হে জিব্রীল! তুমি মুহাম্মাদের নিকট যাও—যদিও তোমার রব বেশী জানেন—তারপর তাকে জিজ্ঞেস কর কিসে তাকে কাদাচ্ছে? সুতরাং জিব্রীল তাঁর নিকট এলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে সে কথা জানালেন, যা তিনি (তাঁর উম্মত সম্পর্কে) বলেছিলেন—আর আল্লাহ তা অধিক জানেন—অতঃপর আল্লাহ তাআলা বললেন, ‘হে জিব্রীল! তুমি (পুনরায়) মুহাম্মাদের কাছে যাও এবং বল, আমি তোমার উম্মতের ব্যাপারে তোমাকে সন্তুষ্ট ক’রে দেব এবং অসন্তুষ্ট করব না”।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুর্তি সম্পর্কে ইব্রাহীম আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী পাঠ করলেন, “হে আমার রব! এসব প্রতিমা বহু মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে; সুতরাং যে আমার অনুসরণ করবে সে আমার দলভুক্ত, কিন্তু কেউ আমার অবাধ্য হলে তুমি তো চরম ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।” (সূরা ইব্রাহীম ৩৬) এবং ঈসা আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উক্তি সম্বোলিত এ আয়াতটি পাঠ করলেন, “যদি তুমি তাদেরকে শাস্তি প্রদান কর, তবে তারা তোমার বান্দা। আর যদি তুমি তাদেরকে ক্ষমা কর, তবে তুমি অবশ্যই প্রবল পরাক্রান্ত, প্রজ্ঞাময়।” (সূরা মায়েদাহ ১১৮ আয়াত) অতঃপর তিনি তাঁর হাত দু’খানি উঠিয়ে বললেন, “হে আল্লাহ! আমার উম্মত, আমার উম্মত।” অর্থাৎ, তাদের ক্ষমা করুন এবং মাফ করুন। আল্লাহ আয্যা অজাল্লা জীবরীলকে বললেন, ‘হে জিব্রীল! তুমি মুহাম্মাদের নিকট যাও—আর তোমার রব বেশী জানেন—তারপর তাকে কান্নার কারণ জিজ্ঞাসা কর?’ সুতরাং জিব্রীল তাঁর নিকট এলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে সে কথা জানালেন, যে কারণে তিনি আমার উম্মত আমার উম্মত বলেছিলেন। আর আল্লাহ তার নবী কি কারণ বলেছেন সে সম্পর্কে অধিক জানেন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা বললেন, ‘হে জিব্রীল! তুমি (পুনরায়) মুহাম্মাদের কাছে যাও এবং বল, আমি তোমার উম্মতের ব্যাপারে তোমাকে সন্তুষ্ট ক’রে দেব এবং অসন্তুষ্ট করব না।’ আলহামদু লিল্লাহ আল্লাহ তার উম্মতের বিষয়ে তাকে বিভিন্ন দিক দিয়ে সন্তুষ্ট করেছেন। তাদের বিনিময় অধিক, তারা শেষ উম্মত কিন্তু কিয়ামতের দিন তারা অগ্রগামী উম্মত হবে। এ ছাড়া আরও অনেক ফযীলত দ্বারা তাদেরকে অন্যান্য উম্মতের ওপর প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, মদীনার কোনো দাসী চাইলেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাত ধরে যেখানে ইচ্ছা তাকেসহ যেতে পারত।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।এ হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিনয় ও শিষ্টাচার বর্ণনা করা হয়েছে, যদিও তিনি সৃষ্টিকুলের সর্বোত্তম ব্যক্তি ছিলেন। কারণ মদীনার কোনো দাসীও ইচ্ছা করলে তাঁর হাত ধরে তার প্রয়োজন মিটাতে যেখানে ইচ্ছা তাকেসহ সেখানে যেতে পারত; অথচ তিনি সৃষ্টিজগতের সর্বাধিক সম্মানিত ব্যক্তি ছিলেন। তিনি কখনও এ কথা বলতেন না যে, আমাকে তুমি কোথায় নিয়ে যাচ্ছ? অথবা আমাকে ব্যতীত অন্যকে নিয়ে যাও; বরং তিনি তাদের সাথে যেতেন এবং তাদের অভাব মেটাতেন, তবে এতে আল্লাহ তাঁর সম্মান ও মর্যাদা শুধু বৃদ্ধিই করেছেন। আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক। সতর্কতা: হাদীসে দাসী কর্তৃক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাত ধরার অর্থ এই নয় যে, তারা তাঁর হাত স্পর্শ করেছে। হাফিয ইবন হাজার আসকালানী রহ. বলেছেন, এখানে হাত ধরার অর্থ তিনি তাদের সাথে সাথেই যেতেন, আর এটিই তাঁর কোমলতা ও নম্রতা। সকলের প্রতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সব ধরণের বিনয় বুঝাতে হাদীসে পুরুষের কথা উল্লেখ না করে নারীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, আবার স্বাধীন মানুষের কথা উল্লেখ না করে দাসীর কথা বলা হয়েছে। কেননা ‘ইমা’ শব্দ দ্বারা সব ধরণের দাস-দাসী বুঝানো হয়।
আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একজন ইয়াহূদী বালক নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেবা করত। হঠাৎ সে অসুস্থ হয়ে পড়ল। নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার শুশ্রুষার উদ্দেশ্যে তার নিকট গেলেন এবং তার শিয়রে বসে তাকে বললেন, “তুমি ইসলাম গ্রহণ কর।” সে তার পিতার দিকে তাকাল। তার পিতা সেখানেই উপস্থিত ছিল। সে বলল, ‘আবুল কাসেমের কথা মেনে নাও।’ সুতরাং সে বালকটি ইসলাম গ্রহণ করল। (তারপর সে মারা গেল।) অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা বলতে বলতে বের হয়ে চলে গেলেন যে, “সেই আল্লাহর সমস্ত প্রশংসা, যিনি ওকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচিয়ে নিলেন।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।মদীনায় বসবাসকারী ইয়াহূদীদের একজন কম বয়স্ক ছেলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খিদমত করত। সে অসুস্থ হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম তাকে দেখতে যান এবং তার কাছে ইসলামের দাওয়াত পেশ করেন। অতঃপর ছেলেটি ইসলাম গ্রহণ করল। তখন তিনি বললেন, সমস্ত প্রসংশা মহান আল্লাহর জন্য যিনি তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিলেন।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহ থেকে মারফু‘ সূত্রে বর্ণিত, “যদি আমাকে হালাল পশুর পায়া বা হাতা খেতে আহ্বান করা হয় তাহলে তা আমি গ্রহণ করব। আর যদি আমাকে পায়া বা হাতা হাদিয়া দেওয়া হয় তবে আমি তা গ্রহণ করবো।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।এ হাদীসটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উত্তম চরিত্র ও মানুষের প্রতি বিনয় প্রদর্শন, তাদের ভঙ্গ হৃদয়ে জোড়া লাগানো, লোকদের পাঠানো হাদিয়া গ্রহণ- যদিও তা পরিমাণে কম হয়, কেউ তাকে তার গৃহে দাওয়াত দিলে সে দাওয়াতে সাড়া দেওয়া- যদিও তিনি জানতেন যে, দাওয়াতকারী ব্যক্তির সামর্থ খুবই নগণ্য ইত্যাদির প্রমাণ। কেননা মানুষের হাদিয়া গ্রহণ করা ও তাদের দাওয়াতে সাড়া দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো তাদের অন্তর জয় করা, তাদের প্রতি ভালোবাসা সাব্যস্ত করা আর কারো হাদিয়া ও দাওয়াত কবুল না করা মানে তাকে ঘৃণা করা, তার সাথে শত্রুতা করা ও তার নগণ্য সামর্থের কারণে তাকে অপমানিত করা। হাদীসে পশুর পায়া বা হাত উল্লেখ করা অর্থ হলো পশুর নগণ্য ও গুরুত্বপূর্ণ অংশের সমাহার বুঝানো। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে পশুর হাতের অংশের গোস্ত অন্য অংশের তুলনায় খুব পছন্দনীয় ছিল। অন্যদিকে পশুর পায়া মূল্যহীন।
আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতের তালু অপেক্ষা মোলায়েম কোনো মোটা রেশমী কাপড় কিংবা মিহি রেশমি কাপড় স্পর্শ করিনি। আর না এমন গন্ধ কখনো শুকেছি যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের গন্ধ অপেক্ষা অধিক সুগন্ধিযুক্ত। আমি দশ বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের খিদমত করেছি। তিনি কখনো আমাকে উফ্ বলেন নি। তিনি কখনও আমাকে যে কাজটি করেছি সেটার জন্যে বলেননি, কেন করেছ? অনুরূপ যে কাজটি করিনি সেটার জন্যে, কেন তুমি এরূপ কর নি?
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাত অপেক্ষা মোলায়েম কোনো মোটা রেশমী কাপড় কিংবা মিহি রেশমি কাপড় স্পর্শ করিনি। আনাস ইবন মালিক দশ বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের খিদমত করেছেন। সুতরাং তিনি দেখেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাত সবচেয়ে মোলায়েম ছিল। এমনিভাবে তাঁর শরীরের গন্ধও সুগন্ধময় ছিল। আর তিনি না এমন গন্ধ কখনো শুকেছেন যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের গন্ধ অপেক্ষা অধিক উত্তম। তিনি বলতেন, আমি দশ বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের খিদমত করেছি। তিনি কখনো আমাকে উফ্ বলেন নি। অর্থাৎ তিনি এ সুদীর্ঘ দশ বছরে কখনো তাঁর থেকে বিরক্তি প্রকাশ করেননি। আর আমাদের কাউকে যদি কেউ এক সপ্তাহ বা তার মতো সময় খিদমত করে অবশ্যই তার থেকে কষ্ট অনুভব করে, কিন্তু আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু দশ বছর ধরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের খিদমত করেছেন। এতদসত্ত্বেও তিনি কখনো তাকে উফ্ বলেননি। আমি যে কাজটি করেছি সেটার জন্যে তিনি বলেননি, কেন করেছ? এমনকি আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু ইজতিহাদ করে যেসব কাজ করেছেন সেগুলোর ব্যাপারে তিনি তাকে কষ্টদায়ক কিছু বলেননি বা তাকে ধমক দেননি অথবা বলেননি যে, এ কাজটি কেন করেছ, যদিও তিনি তাঁর খাদিম ছিলেন। এমনিভাবে তিনি যে কাজটি করেন নি সেটির জন্যও কখনও বলেননি যে, কেন করো নি? এসব ছিলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের উত্তম চরিত্রের অন্যতম দিক।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর পথে জিহাদ ব্যতীত তাঁর নিজ হাতে কোনো দিন কাউকে মারেন নি, কোনো স্ত্রীকেও না, খাদিমকেও না। আর যে তার ক্ষতি করেছে, তার থেকে প্রতিশোধও গ্রহণ করেন নি; তবে মহীয়ান ও গরীয়ান আল্লাহর মর্যাদা হানিকর কোনো কিছু করলে তিনি আল্লাহর উদ্দেশ্যে তার প্রতিশোধ নিয়েছেন।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মহান চরিত্র ছিল যে, তিনি তাঁর নিজ হাতে কোনো দিন কোনো প্রাণী বা অন্য কিছুকে প্রহার করেননি। না কোন স্ত্রীকে, না কোনো খাদিমকে। কেননা অধিকাংশ মানুষের অভ্যস হলো স্ত্রী ও খাদিমকে প্রহার করা। মানুষের সাধারণ অভ্যাস অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেহেতু তাদেরকে মারেননি, সেহেতু যাদেরকে সাধারণত মানুষ মারে না তাদেরকে প্রহার না করা সমধিক প্রযোজ্য। তবে আল্লাহর দীনকে সুউচ্চ করতে জিহাদ করার প্রসঙ্গটি ভিন্ন। কোনো মানুষ রাসূল থেকে কোনো আঘাত পেয়ে প্রত্যাঘাত নিয়েছেন তাও দেখা যায় না। যেমনটি ঘটেছিল উহুদের ময়দানে কাফিররা তার মাথায় আঘাত করেছিল, তার সামনের দাঁত ভেঙ্গে ফেলেছিল এবং তার প্রতি তাদের আরো অনেক খারাপ আচরণ প্রকাশ পেয়েছিল, তারপরও তিনি তা ক্ষমা করেছেন, মাফ করেছেন এবং সহিষ্ণুতা অবলম্বন করেছেন। তাদের থেকে প্রতিশোধ নেন নি। তবে মহীয়ান ও গরীয়ান আল্লাহর মর্যাদা হানিকর কোনো কিছু সংঘটিত হলে তিনি তার প্রতিশোধ নিয়েছেন।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, একবার তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, উহুদের দিনের চেয়ে কঠিন কোনো দিন আপনার ওপর এসেছিল কি? তিনি বললেন, আমি তোমার কওম থেকে কষ্টের সম্মুখীন হয়েছি, তবে আকাবার দিন তাদের থেকে যে কষ্টের সম্মুখীন হয়েছি, তা সবচেয়ে কঠিন ছিল। আমি যখন নিজেকে ইবন আবদে ইয়ালীল ইবন আবদে কুলালের নিকট পেশ করি, আমি যা চেয়েছিলাম তার প্রতি সে সাড়া দেয়নি। তখন আমি এমন বিষন্ন চেহারা নিয়ে ফিরে এলাম যে, কারনিস সা‘আলিবে পৌঁছা পর্যন্ত আমি হুশ ফিরে পাইনি। তখন আমি মাথা উপরে উঠালাম। হঠাৎ দেখতে পেলাম এক টুকরো মেঘ আমাকে ছায়া দিচ্ছে। আমি সে দিকে দৃষ্টি দিলাম। তার মধ্যে ছিলেন জিবরীল ‘আলাইহিস সালাম। তিনি আমাকে ডেকে বললেন, আপনার সম্প্রদায় আপনাকে যা বলেছে এবং আপনাকে তারা যেভাবে প্রতি উত্তর করেছে তা সবই আল্লাহ শুনেছেন। তিনি আপনার কাছে পাহাড়ের (দায়িত্বে নিয়োজিত) ফিরিশতাকে পাঠিয়েছেন। এদের সম্পর্কে আপনার যা ইচ্ছা আপনি তাকে হুকুম দিতে পারেন। তখন পাহাড়ের ফিরিশতা আমাকে ডাকলেন এবং আমাকে সালাম দিলেন। তারপর বললেন, হে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনার সম্প্রদায় আপনাকে যা বলেছে এবং আপনাকে তারা যেভাবে প্রতি উত্তর করেছে তা সবই আল্লাহ শুনেছেন। আমি পাহাড়ে নিয়োজিত ফিরিশতা। আমার রব আমাকে আপনার কাছে পাঠিয়েছেন। এদের সম্পর্কে আপনার যা ইচ্ছা আপনি আমাকে হুকুম দিতে পারেন। আপনি যা চান। আপনি যদি চান তাহলে আমি তাদের উপর আখশাবাইনকে (মক্কার আবূ কাবাইস ও এর বিপরীতে অবস্থিত কা‘আইকা‘আন পাহাড়দ্বয়) চাপিয়ে দিব।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।আয়েশা যখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, উহুদের দিনের চেয়ে কঠিন কোনো দিন আপনার ওপর এসেছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ এবং তায়েফে গমনের ঘটনা উল্লেখ করেন। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় ইসলাম প্রচার শুরু করলে মক্কাবাসী তাঁর দাওয়াতে সাড়া না দেওয়ায় তিনি মহান আল্লাহর কালাম প্রচারের জন্য তায়েফে গমন করেন এবং তায়িফবাসীকে ইসলামের দাওয়াত দেন; কিন্তু তারা মক্কাবাসীদের চেয়েও অজ্ঞ ছিলো, বরং তারা তাঁকে পাথর নিক্ষেপ করতে লাগল, পাথরের আঘাতে তাঁর টাখনু রক্তে রঞ্জিত করে ফেলল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেকে তায়েফের সাকীফ গোত্রের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ইবন আবদে ইয়ালীল ইবন আবদে কুলালের নিকট পেশ করেলেন। কিন্তু সে তার ইচ্ছায় সাড়া দেয় নি। ফলে তিনি এমন বিষন্ন চেহারা নিয়ে ফিরলেন যে, কারনিস সা‘আলিবে পৌঁছা পর্যন্ত তাঁর হুশ ফেরেনি। ইত্যবসের এক টুকরো মেঘ তাঁকে ছায়া দিয়ে রেখেছে, তিনি উপরে মাথা তুলে দেখলেন তাতে জিবরীল ‘আলাইহিস সালাম রয়েছেন। তিনি তাঁকে বললেন, ইনি হলেন পাহাড়ের দায়িত্বে নিয়োজিত ফিরিশতা, আপনাকে সালাম জানিয়েছেন, আপনি তাকে সালামের উত্তর দিন। ফিরিশতা তাকে বললেন, আমার রব আমাকে আপনার কাছে পাঠিয়েছেন। আপনি যদি চান তাহলে আমি তাদের উপর মক্কার আবূ কাবাইস ও এর বিপরীতে অবস্থিত কা‘আইকা‘আন পাহাড়দ্বয় চাপিয়ে দিবো। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ধৈর্য, দূরদর্শীতা ও ধীরস্থিরতার কারণে তাকে বললেন, তাদেরকে ধ্বংস করবেন না। কেননা তাদের উপর পাহাড় চাপিয়ে দিলে তারা চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাবে। তিনি বললেন, “না; আমি আশা করি আল্লাহ তাদের বংশ থেকে এমন লোক পাঠাবেন যারা একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করবে, তাঁর সাথে কোনো কিছু শরীক করবে না। আর এটিই হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নবীকে কষ্টদানকারী সেসব মুশরিকদের বংশ থেকে এমন লোকদের সৃষ্টি করেছেন যারা এক আল্লাহর ইবাদত করেছেন এবং তাঁর সাথে কোনো কিছু শরীক করেন নি।