





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, “কিয়ামতের দিন মোটা-তাজা বৃহৎ মানুষ আসবে, আল্লাহর কাছে তার ওজন মাছির ডানার সমানও হবে না।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।দুনিয়াতে আল্লাহর মাখলুকের ওপর বড়াইকারী মোটা দেহের অধিকারী, সৈরাচারী, কথা ও কর্মে অহংকারী ব্যক্তির ওজন কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট মাছির ডানার সমানও হবে না। তার কোন মূল্য হবে না এবং কোন সম্মান থাকবে না।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “দুনিয়াতে কোনো বান্দা যদি অপর কোনো বান্দার দোষ-ত্রুটি গোপন করে তাহলে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা তার দোষ-ত্রুটি গোপন করবেন”।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেননবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করছেন যে, কোনো মুসলিম যে কোনো বিষয়ে তার ভাইকে গোপন করবে, কিয়ামতের দিন অবশ্যই আল্লাহ তাকে গোপন করবেন; বস্তুত যেমন কর্ম তেমন ফল। হাশরের ময়দানে উপস্থিত জনতার সামনে তার দাষ ও ত্রুটি গোপন করার মাধ্যমে আল্লাহ তাকে গোপন করবেন, কখনো এটি হবে পাপের জন্য তাকে পাকড়াও না করা এবং তা স্মরণ করা পরিহার করার মাধ্যমে।
আবূ মুসলিম আল-খাওলানী রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাকে একজন প্রিয় ও বিশ্বস্ত ব্যক্তি হাদীস বর্ণনা করেছেন। বর্ণনাকারী আমার কাছে খুব প্রিয় ব্যক্তি এবং তিনি আমার কাছে খুবই বিশ্বস্ত। তিনি হলেন আওফ ইবন মালিক আল-আশজা‘ঈ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু, তিনি বলেন: একদা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লামের নিকট নয়জন অথবা আটজন অথবা সাতজন লোক ছিলাম। তিনি বললেন, “তোমরা কি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লামের কাছে বাই‘আত করবে না?” (হাদীসের বর্ণনাকারী বলেন) অথচ আমরা সদ্য বাই‘আতকারী ছিলাম। সুতরাং আমরা বললাম, ‘হে আল্লাহর রfসূল! আমরা তো আপনার কাছে বাই‘আত করেছি।’ পুনরায় তিনি বললেন, “তোমরা কি আল্লাহর রাসূলের কাছে বাই‘আত করবে না?” সুতরাং আমরা নিজেদের হাতগুলো বাড়িয়ে দিলাম ও বললাম, ‘হে আল্লাহর রfসূল! আমরা আপনার কাছে বাই‘আত করেছি। সুতরাং এখন কোন কথার ওপর আপনার কাছে বাই‘আত করব?’ তিনি বললেন, “এ কথার ওপর যে, তোমরা এক আল্লাহরই ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরীক করবে না, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করবে এবং আল্লাহর আনুগত্য করবে।” আর একটি কথা তিনি চুপিসারে বললেন, “তোমরা লোকদের নিকট কিছু চাইবে না।” অতঃপর আমি (বাই‘আত গ্রহণকারীদের) মধ্যে কিছু লোককে দেখেছি যে, তাঁদের কারো চাবুক যদি জমিনে পড়ে যেত, তাহলে তিনি কাউকে তা উঠিয়ে দিতে বলতেন না।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেননবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়েকজন সাহাবীদের সাথে ছিলেন। তিনি তাদের কাছে কিছু বিষয়ের উপর দৃঢ় থাকতে বাই‘আত ও অঙ্গীকার গ্রহণ করতে তিনবার অনুরোধ করেন: প্রথম: এক আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মান্য করে শুধু তাঁরই ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরীক করবে না। দ্বিতীয়: দিনে-রাতে ফরযকৃত পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করবে। তৃতীয়: আল্লাহ যাকে মুসলিমদের কর্তৃত্বের অধিকারী বানিয়েছেন, উত্তমভাবে তার আনুগত্য করবে। চতুর্থ: তোমাদের সকলের অভাব আল্লাহর কাছে পেশ করবে এবং মানুষের কাছে কিছু চাইবে না। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথাটি তাদেরকে চুপিসারে বললেন। সাহাবীগণ তাদের কৃত বাই‘আতের উপর আমল করেছেন। এমনকি হাদীসের বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর আমি বাই‘আত গ্রহণকারী সাহাবীদের মধ্যে কিছু লোককে দেখেছি যে, তাঁদের কারো চাবুক যদি যমীনে পড়ে যেত, তাহলে তিনি কাউকে তা উঠিয়ে দিতে বলতেন না; বরং নিজেই সওয়ারি থেকে নেমে তা উঠিয়ে নিতেন।
ইবন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফূ‘ হাদীস বর্ণিত, “যে অভাবগ্রস্ত হয় এবং সে তা লোকদের নিকট প্রকাশ করে, তার অভাব দূর করা হয় না। আর যে ব্যক্তি তা আল্লাহর নিকট প্রকাশ করে, আল্লাহ তাকে শীঘ্র অথবা বিলম্বে হলেও রিযিক প্রদান করেন।”
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে অভাবগ্রস্ত হয়” অর্থাৎ, কঠিন অভাবে পড়ে। আরবী ‘ফা-ক্বাহ’ শব্দটি অধিকাংশ সময় দারিদ্রতা ও সংকীর্ণ জীবন অর্থে ব্যবহৃত হয়। ‘অতঃপর সে তা মানুষের কাছে পেশ করেছে’ অর্থাৎ সে মানুষের কাছে তা পেশ করল এবং তাদের কাছে অভিযোগ হিসেবে ও দারিদ্র লাগবের আবেদনস্বরূপ তা প্রকাশ করেছে। ফলে “তার অভাব দূর করা হয় না।” অর্থাৎ তার প্রয়োজন পূরণ করা হয় না, তার দারিদ্রতা সর্বদা চলতেই থাকে। যখন তার একটি অভাব দূর হয়, তার চেয়ে কঠিন অভাব সামনে এসে দেখা দেয়। আর “যে ব্যক্তি তা আল্লাহর নিকট প্রকাশ করল” যেমন আল্লাহর ওপর ভরসা করল, (তার অবস্থা দু’টির একটি হবে)। প্রথম অবস্থা: ‘আওশাকাল্লাহু’ অর্থাৎ আল্লাহ তাকে শীঘ্রই ও দ্রুত দিবেন ‘লাহু বিল গিনায়ে’ অর্থাৎ যথেষ্ট পরিমাণ। অপর এক ছাপায় ‘বিল-গিনা’ শব্দ এসেছে। মাসাবীহের ব্যাখ্যাকারীগণ বলেছেন, ‘আল-গিনা’ শব্দটি আলেফে মাকসূরা দিয়ে যে বর্ণনা এসেছে, আর যার অর্থ স্বচ্ছলতা, এটি মূলত প্রকৃত অর্থকে বিকৃত করে দেয়। কারণ, রাসূল বলেছেন, সে যে সমস্যার ওপর আছে তা থেকে রেহাই পেতে যা যথেষ্ট হবে তা তার জন্য আসবে, (পূর্ণ স্বচ্ছলতা নয়)। ‘বিমাওতিন আজিল’ বা (দ্রূত মৃত্যুর মাধ্যমে) এর অর্থ কেউ বলেছেন, তার বিত্তশালী কোনো আত্মীয় মারা যাবে ফলে সে তার উত্তরসূরী হবে। খুবসম্ভব হাদীসটি আল্লাহর নিম্নোক্ত বাণী থেকে গৃহীত। আল্লাহ বলেন, “যে আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করবে, তিনি তার জন্য উপায় বের করে দেবেন। তাকে এমন স্থান থেকে রিযিক দেবেন যা তার ধারণায় আসে নি। আর যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তিনিই তার জন্যে যথেষ্ট।” [সূরা আত-তালাক, আয়াত:২,৩] দ্বিতীয় অবস্থা: আল্লাহ তাকে "غنى" দিবেন, অর্থাৎ “স্বচ্ছলতা” দিবেন। آجل অর্থ বিলম্বে। যেমন, তাকে সম্পদ দিবেন এবং তাকে ধনী বানিয়ে দিবেন।
বারা ইবনু ‘আযিব রদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “মুসলিমকে যখন কবরে প্রশ্ন করা হবে, তখন সে সাক্ষ্য দেবে যে: আল্লাহ ছাড়া (সত্য) কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল।“ এই অর্থ রয়েছে আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে: يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الآخِرَةِ তথা: “যারা মুমিন তাদেরকে আল্লাহ সু-প্রতিষ্ঠিত বাণী দ্বারা ইহলৌকিক ও পরলৌকিক জীবনে প্রতিষ্ঠা দান করেন।” [সূরা ইবরাহীম: ২৭]।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমুমিনকে কবরে জিজ্ঞাসা করা হবে, এবং এটির জন্য নিযুক্ত দু‘জন ফেরেশতা তাকে জিজ্ঞাসা করবেন, তারা হচ্ছেন: মুনকার এবং নাকির, যেমন অনেক হাদীসে উভয়ের নাম এভাবে এসেছে। তখন ঐ ব্যক্তি সাক্ষ্য দেবে যে” “আল্লাহ ছাড়া কোন প্রকৃত মাবূদ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল।” নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এটাই হচ্ছে সু-প্রতিষ্ঠিত বাণী, যার কথা আল্লাহ তা‘আলা এ আয়াতে বলেছেন: “আল্লাহ অবিচল রাখেন ঈমানদারদেরকে সুদৃঢ় বাণী দ্বারা দুনিয়ার জীবনে ও আখিরাতে।” [সূরা ইবরাহীম: ২৭]।
ইবনু ‘উমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমাকে লোকেদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে; যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ ছাড়া (সত্য) কোনো মাবূদ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল। আর তাঁরা সালাত প্রতিষ্ঠা করবে ও যাকাত প্রদান করবে। যখন তারা এ কাজগুলো সম্পাদন করবে, তখন আমার পক্ষ থেকে তাদের রক্ত (জান) ও মালের ব্যাপারে নিরাপত্তা লাভ করবে; কিন্তু ইসলামের হক ব্যতীত। আর তাদের হিসাব আল্লাহর ওপর ন্যস্ত হবে।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে সংবাদ দিয়েছেন যে, আল্লাহ তাঁকে মুশরিকদের বিরুদ্ধে ততক্ষণ জিহাদ করতে নির্দেশ দিয়েছেন যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দিবে যে, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো মাবূদ নেই, তাঁর কোন শরীক নেই এবং তারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের রিসালাতের সাক্ষ্য দিবে। আর এ সাক্ষ্যদানের দাবি হলো দিনে-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায়ে যত্নবান হবে, তারা যাকাতের হকদারকে তাদের প্রাপ্য ফরয যাকাত প্রদান করবে। তারা যখন এ কাজগুলো সম্পাদন করবে, তখন ইসলাম তাদের রক্ত (জান) ও মালের ব্যাপারে নিরাপত্তা প্রদান করবে। ফলে তাদেরকে হত্যা করা বৈধ হবে না; তবে তারা যদি কোন অপরাধে জড়িয়ে পড়ে অথবা এমন কোন জঘন্য শাস্তিযোগ্য কাজে লিপ্ত হয়, ইসলামী বিধানে যার শাস্তি হলো হত্যা, তখন সেটি ভিন্ন কথা।(১) অতপর কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের হিসাব গ্রহণ করবেন, যেহেতু তিনি তাদের গোপনীয় সকল কিছু অবগত।
ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম: “নিশ্চয় আল্লাহ আমার উম্মাতের ভুল, বিস্মৃতি ও জোরপূর্বক যা করানো হয় তা ক্ষমা করে দিয়েছেন।”
এটি ইবনে মাজাহ, বায়হাকী ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জানিয়েছেন যে, আল্লাহ তাঁর উম্মতের তিনটি অবস্থায় গুনাহ মাফ করে দিয়েছেন: প্রথমটি হল: ভুল (الخطأ) —যা মানুষ থেকে ইচ্ছা ছাড়াই প্রকাশ পায়। যেমন কোন মুসলিম একটি বিষয়কে উদ্দেশ্য করল, কিন্তু ভুল করে তার কর্ম দ্বারা আরেকটি বিষয় সংঘটিত হল। দ্বিতীয়টি: ভুলে যাওয়া (النسيان)— এটি হলো এমন অবস্থা, যেখানে একজন মুসলিম কোনো বিষয় মনে রাখে, কিন্তু কাজ করার সময় সেটা ভুলে যায়। এ ক্ষেত্রেও তার কোনো গুনাহ হয় না। তৃতীয়টি: বাধ্য করা (الإكراه)—এটি সেই অবস্থা, যখন কাউকে এমন কোনো কাজ করতে জোর করা হয়, যা সে নিজে করতে চায় না এবং সে সেই জোরজবরদস্তি ঠেকাতেও অক্ষম থাকে। এই পরিস্থিতিতে তার উপর কোনো গুনাহ বা পাপ আরোপ করা হয় না। এখানে মনে রাখতে হবে যে, এই কথাটি আল্লাহ ও বান্দার মধ্যকার কোনো নিষিদ্ধ কাজ (গুনাহ) করে ফেলা প্রসঙ্গে। কিন্তু কোন আদেশ পালন করতে ভুলে গেলে তা রহিত হয় না। আর যদি তার ঐ কর্মের উপর কোন অপরাধ সংঘটিত হয়, তাহলে বান্দার হক রহিত হবে না, যেমন যদি সে ভুল করে হত্যা করে, তাহলে তাকে রক্তপণ দিতে হবে, অথবা যদি সে ভুল করে কোন গাড়ির ক্ষতি করে, তাহলে তাকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত, “রাসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন অবস্থায় মারা গেলেন যে, একটা প্রাণীর খেয়ে বাঁচার মত কিছু খাদ্য আমার ঘরে ছিল না, তবে আমার তাকের মধ্যে যৎসামান্য যব ছিল। এ থেকে বেশ কিছুদিন খেলাম, কিন্তু যখন মেপে নিলাম তখন তা শেষ হয়ে গেল।’
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা জানান যে, ‘রাসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করলেন, অথচ তার ঘরে সামান্য যব ছাড়া আর কিছুই ছিল না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে যব রেখে গিয়েছেন তা থেকে বেশ কিছুদিন সে খেতে থাকল, কিন্তু যখন তা ওজন করল, শেষ হয়ে গেল।
সাফওয়ান ইবনু মুহরিয থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক লোক ইবনু উমfর রাদিয়াল্লাহু আনহুমাকে প্রশ্ন করলেন, নাজওয়া (আল্লাহ ও বান্দার গোপন কথা) সম্পর্কে আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কিভাবে শুনেছেন? তিনি বললেন, আমি তাকে বলতে শুনেছি, “কিয়ামতের দিনে মুমিন ব্যক্তিকে তার প্রভুর নিকটবর্তী করা হবে। তারপর আল্লাহ তা’আলা তার উপর পর্দা ঢেলে দিবেন এবং তার পাপের ব্যাপারে তার থেকে জবানবন্দি নিবেন। তিনি প্রশ্ন করবেন, তুমি তোমার পাপ সম্বন্ধে জান কি? সে বলবে, হে রব! আমি জানি। এরপর তিনি বলবেন, তোমার এ পাপ দুনিয়ায় আমি লুক্কায়িত রেখেছিলাম। আজ তোমার এ পাপগুলোকে আমি মাফ করে দিলাম। এরপর তার নেকীর ’আমলনামা তার কাছে দেয়া হবে। এরপর কাফির ও মুনাফিক লোকদেরকে উপস্থিত সকল মানুষের সম্মুখে ডেকে বলা হবে, এরাই তারা যারা আল্লাহ তা’আলার উপর মিথ্যারোপ করেছে”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিয়ামতের দিন আল্লাহর মুমিন বান্দার সাথে তার গোপন মুনাজাত সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে বলেন: কিয়ামতের দিন মুমিনকে তার রবের নিকটবর্তী করা হবে এবং অবস্থানরত সবার আড়াল করে তার উপর পর্দা ঢেলে দেওয়া হবে, যেন তার গোপন কথার উপর কেউ অবগত হতে না পারে এবং তিনি তাকে বললেন: তুমি কি এই পাপ, এই পাপ মনে কর... যেসব পাপ তার রব ও তার মাঝে রয়েছে সেগুলো তাকে স্বীকার করাবেন। সে বলবে: হ্যাঁ, হে রব। অবশেষে যখন মুমিন আতঙ্কিত হবে এবং ভয় পাবে, আল্লাহ তা‘আলা তাকে বলবেন: দুনিয়াতে আমি এগুলো তোমার উপর ঢেকে রেখেছি এবং আজ এগুলো তোমাকে ক্ষমা করে দিব, তারপর তার নেকির আমলনামা তাকে দেওয়া হবে। কিন্তু কাফির ও মুনাফিককে সবার সামনে ডাকা হবে: এরাই তাদের রবের উপর মিথ্যারোপ করেছে, জেনে রেখ, জালিমদের উপর আল্লাহর লানত।