





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মরফূ‘ হিসেবে বর্ণিত, “আল্লাহ রহমতকে একশ ভাগ করেছেন। তার মধ্যে নিরানব্বই ভাগ তিনি নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন। আর পৃথিবীতে একভাগ অবতীর্ণ করেছেন। ঐ এক ভাগের কারণেই মখলুকেরা একে অন্যের ওপর দয়া করে। এমনকি জন্তু তার বাচ্চার উপর থেকে স্বীয় পা তুলে নেয় তাকে কষ্ট দিবে আশঙ্কায়।” অন্য এক বর্ণনায় আছে, “নিশ্চয় আল্লাহর একশটি রহমত আছে, যার মধ্য থেকে মাত্র একটি রহমত তিনি জিন, মানব, পশু ও কীটপতঙ্গের মধ্যে অবতীর্ণ করেছেন। ঐ এক ভাগের কারণেই তারা একে অপরকে মায়া করে, তার কারণেই একে অন্যকে দয়া করে এবং তার কারণেই হিংস্র জন্তু তার সন্তানকে মায়া করে থাকে। বাকী নিরানব্বইটি রহমত আল্লাহ আখেরাতের জন্য রেখে দিয়েছেন, যার দ্বারা তিনি কিয়ামতের দিন আপন বান্দাদের ওপর রহম করবেন।” সালমান ফারসী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলার একশটি রহমত আছে, যার মধ্য থেকে মাত্র একটির কারণে মাখলুকেরা একে অন্যের প্রতি দয়া প্রদর্শন করে। আর নিরানব্বইটি (রহমত) কিয়ামতের দিনের জন্য রয়েছে।” অন্য এক বর্ণনায় আছে, “আল্লাহ তা‘আলা আসমান যমীন সৃষ্টি করার দিন একশটি রহমত সৃষ্টি করলেন। প্রতিটি রহমত আসমান ও যমীনের মধ্যস্থলের পর্দার ন্যায় (বিশাল)। অতঃপর তিনি তার মধ্য থেকে একটি রহমত পৃথিবীতে অবতীর্ণ করলেন। ঐ একটির কারণেই মা তার সন্তানকে মায়া করে এবং হিংস্র প্রাণী ও পাখীরা একে অন্যের ওপর দয়া করে থাকে। অতঃপর যখন কিয়ামতের দিন হবে, তখন আল্লাহ ঐ সংখ্যা এই রহমত দ্বারা পূর্ণ করবেন।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। - মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।আল্লাহ তা‘আলা রহমতকে একশ ভাগ করেছেন। অতঃপর পৃথিবীতে একভাগ অবতীর্ণ করেছেন, আর নিরানব্বই ভাগ কিয়ামতের দিনের জন্যে রেখে দিয়েছেন। এই একটি রহমতের কারণে সকল মাখলুক যেমন, জিন, মানব, পশু ও কীটপতঙ্গ একে অন্যের ওপর দয়া করে থাকে। এমনকি ঘোড়া –যা হালকা ওজন ও অধিক নড়াচড়ায় প্রসিদ্ধ- সেও নিজের সন্তানকে কষ্ট থেকে বাঁচানোর ব্যাপারে তৎপর থাকে; ফলে তার বাচ্চার উপর থেকে স্বীয় পা তুলে নেয় তাকে কষ্ট দিবে ভয়ে। ঐ একটির কারণেই হিংস্র জন্তু তার সন্তানকে মায়া করে থাকে এবং নিরানব্বইটি রহমত আল্লাহ তা‘আলা পশ্চাতে রেখে দিয়েছেন, যাতে কিয়ামতের দিন তাঁর বান্দাকে এর দ্বারা দয়া করতে পারেন। দ্বিতীয় হাদীস: আল্লাহ তা‘আলা আসমান যমীন সৃষ্টি করার দিন একশটি রহমত সৃষ্টি করলেন। প্রতিটি রহমত আসমান ও যমীনের মধ্যস্থলের আবরণ বরাবর (বিশাল)। অতঃপর তিনি একটি রহমত পৃথিবীতে অবতীর্ণ করলেন। ঐ একটির কারণেই মা তার সন্তানকে মায়া করে এবং হিংস্র প্রাণী ও পাখীরা একে অন্যের ওপর দয়া করে থাকে। অতঃপর যখন কিয়ামতের দিন হবে, তখন আল্লাহ রব্বুল আলামীন এই নিরানব্বইটি রহমত দ্বারা সংখ্যা পূর্ণ করবেন। যদি আল্লাহর একটি রহমতের কারণেই আল্লাহর এত নিয়ামত কষ্টে ভরা এ দুনিয়ায় হাসিল হয়, তাহলে পরকালের স্থায়ী ও প্রতিদানের জগতে একশ রহমতের ব্যাপারটা কেমন হতে পারে।
মু‘আয ইবন জাবাল রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি কোন এক ভ্রমণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। একদিন যেতে যেতে আমি তার নিকটবর্তী হলাম। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল এমন একটি কাজ সম্পর্কে আমাকে জানিয়ে দিন যা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে এবং জাহান্নাম হতে দূরে রাখবে। তিনি বললেন: “তুমি তো আমাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশ্ন করেছো। তবে সেই ব্যক্তির জন্য এ ব্যাপারটা অতি সহজ যে ব্যক্তির জন্য আল্লাহ তা’আলা তা সহজ করে দেন। তুমি আল্লাহ তা’আলারই ইবাদাত করবে, কোন কিছুকে তাঁর সাথে শরীক করবে না, নামায প্রতিষ্ঠা করবে, যাকাত দিবে, রামাযানের রোযা রাখবে এবং বাইতুল্লাহর হাজ্জ করবে”। তিনি আরো বললেনঃ “আমি কি তোমাকে কল্যাণের দরজাসমূহ সম্পর্কে বলে দিব না? রোযা হলো ঢালস্বরূপ, দান-খাইরাত গুনাহসমূহ বিলীন করে দেয়, যেমনিভাবে পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয় এবং কোন ব্যক্তির মধ্যরাতের নামায আদায় করা”। তারপর তিনি এই আয়াতটি তিলাওয়াত করেন: {تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ} থেকে {يَعْمَلُونَ} পর্যন্ত। [অর্থ: “তাদের দেহপাশ বিছানা থেকে আলাদা হয়ে যায় এবং তারা তাদের প্রভুকে ডাকে আশায় ও ভয়ে এবং আমি তাদেরকে যে রিযক দান করেছি তা থেকে তারা ব্যয় করে। কেউই জানে না তাদের জন্য নয়নপ্রীতিকর কি লুকিয়ে রাখা হয়েছে তাদের কৃতকর্মের পুরস্কারস্বরূপ"। (সূরা আস-সিজদা ১৬, ১৭) তিনি আবার বলেনঃ “আমি কি সমস্ত কাজের মূল, স্তম্ভ ও সর্বোচ্চ শিখর সম্পর্কে তোমাকে অবহিত করবো না”? আমি বললাম, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বললেনঃ “সকল কাজের মূল হলো ইসলাম, স্তম্ভ হলো নামায এবং সর্বোচ্চ শিখর হলো জিহাদ”। তিনি আরো বললেন? “আমি কি এসব কিছুর সার সম্পর্কে তোমাকে বলব না”? আমি বললাম, হ্যাঁ, হে আল্লাহর নবী! তিনি তার জিহ্বা ধরে বললেনঃ “এটা সংযত রাখ”। আমি প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর নবী! আমরা যে কথাবার্তা বলি এগুলো সম্পর্কেও কি পাকড়াও করা (জবাবদিহি) হবে? তিনি বললেনঃ “হে মু’আয! তোমার মা তোমাকে হারিয়ে ফেলুক! মানুষকে শুধুমাত্র জিহবার উপার্জনের কারণেই অধঃমুখে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে”।
এটি তিরমিযী, ইবনে মাজাহ ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মুআয রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, আমি এক সফরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম এবং একদিন হাঁটতে হাঁটতে তাঁর সান্নিধ্য পেলাম, তখন আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন কিছু বলুন যা আমাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে রাখবে। তিনি বললেন: তুমি আমাকে আত্মার পক্ষে আঞ্জাম দেওয়া বড় কঠিন আমল (কর্ম) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছো তবে এটি তার জন্য সহজ স্বাভাবিক যার জন্য আল্লাহ তা সহজ করে দেন। ইসলামের ফরযগুলো আদায় করুন: প্রথমটি: তোমরা একমাত্র আল্লাহর ইবাদত কর এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক করো না। দ্বিতীয়: তুমি দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ সালাতগুলো তার শর্ত রোকন ও ওয়াজিব সমূহ সহ আদায় করবে: ফজর, জোহর, আসর, মাগরিব ও এশা। তৃতীয়: ফরয যাকাত প্রদান করবে। এটি শরীয়তে নির্ধারিত পরিমাণ প্রত্যেক সম্পদে ওয়াজিব একটি অর্থ সম্পর্কিত ইবাদত, যা তার প্রাপ্যদের দেওয়া হয়। চতুর্থ: রমজানের রোজা, যা ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ইবাদতের নিয়তে পানাহার ও অন্যান্য জিনিস থেকে বিরত থাকা। পঞ্চম: তুমি আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করার জন্য মক্কার উদ্দেশ্যে কা‘বা গৃহের হজ করবে। অতঃপর তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আমি কি তোমাকে সেই পথের সাথে পরিচয় করিয়ে দেব না যা কল্যাণের দরজায় নিয়ে যায়? আর তা হলো সেই ফরযগুলোর সাথে নফল সালাতসমূহ আদায় করা: প্রথমত: নফল সিয়াম, যা প্রবৃত্তিকে ভেঙ্গে এবং শক্তিকে দুর্বল করে পাপে পতিত হতে বাধা দেয়। দ্বিতীয়ত: নফল দান করা, যা কৃত পাপকে নিঃশেষ ও দূর করে দেয় এবং এর প্রভাব মুছে ফেলে। তৃতীয়ত: রাতের শেষ তৃতীয়াংশে তাহাজ্জুদের সালাত। তারপর তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তা‘আলার বাণী পাঠ করলেন: {تتجافى جنوبهم} অর্থাৎ, তারা নিজেদেরকে {عن المضاجع} বিশ্রামের স্থানগুলো থেকে দূরে রাখে। {يدعون ربهم خوفا وطمعا } তারা ভয় ও আশায় তাদের রবকে ডাকেন সালাত, যিকির, তিলাওয়াত ও দোয়ার মাধ্যমে। {ومما رزقناهم ينفقون، فلا تعلم نفس ما أخفي لهم من قرة أعين} এবং আমি তাদের যা দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে, সুতরাং কোন নফস জানে না তাদের জন্য চোখ জুড়ানো কী জিনিস লুকিয়ে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, কিয়ামতের দিন এবং জান্নাতে তাদের চোখকে যা আনন্দিত করবে, {جزاء بما كانوا يعملون} তারা যা করত তার প্রতিদান স্বরূপ। অতঃপর তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আমি কি তোমাকে দ্বীনের মৌলিক বিষয়, তার স্তম্ভ যার উপর তা নির্ভর করে এবং তার কুঁজ (উঁচু ঝাণ্ডা) সম্পর্কে অবহিত করব না? মুআয রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: দীনের প্রধান বিষয় হল: ইসলাম, যা হলো দুটি সাক্ষ্য। আর এই দু’টির মাধ্যমে মানুষের সাথে দীনের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। আর তার স্তম্ভ হল সালাত, সালাত ছাড়া ইসলাম নেই, যেভাবে স্তম্ভ ছাড়া ঘর হতে পারে না, কাজেই যে সালাত আদায় করল তার দীন মজবুত ও উন্নত হল। আর আল্লাহর বাণীকে উঁচু করার জন্য দীনের শত্রুদের সাথে লড়াই করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় ও জিহাদের মাধ্যমে তার কুঁজ (উঁচু মর্যাদা) এবং তার উচ্চতা সাব্যস্ত হয়। অতঃপর তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আমি কি তোমাকে পূর্বে উল্লেখ করা বিষয়ের নির্ভুলতা এবং পরিপূর্ণতা সম্পর্কে অবহিত করব না? ফলে তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের জিহ্বা ধরে বললেন: এটিকে বিরত রাখ এবং যা তোমার প্রয়োজন নেই সে বিষয়ে কথা বল না। মুয়াজ বললেন: আমরা যা বলি তার প্রত্যেক বিষয়ে আমাদের রব কি আমাদেরকে জবাবদিহি করবেন এবং শাস্তি দেবেন? তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তোমার মা তোমাকে হারিয়ে ফেলুক! এর দ্বারা যা বোঝানো হয়েছে তা তার জন্য বদ-দো‘আ নয়, বরং যে বিষয়ে তার মনোযোগ দেওয়া উচিত ছিল এবং যে বিষয়টি তার জানা জরুরি ছিল সে বিষয়ে তাকে সতর্ক করার জন্য এটি আরবদের একটি কথা। তারপর তিনি বললেন: মুখের ফসল কুফর, মিথ্যারোপ, গালমন্দ, দোষচর্চা, গীবত, পরনিন্দা, অপবাদ ইত্যাদি ছাড়া আর কিসে তাদেরকে মুখের উপর ভর করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে?
আবূ হুরায়রাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “হে লোক সকল, আল্লাহ তা’আলা পবিত্র, তিনি পবিত্র ও হালাল বস্তু ছাড়া গ্রহণ করেন না। আর আল্লাহ তা’আলা তার প্রেরিত রাসূলদের যে হুকুম দিয়েছেন মুমিনদেরকেও সে হুকুম দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا، إِنِّي بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ} “হে রাসূলগণ! তোমরা পবিত্র ও হালাল জিনিস আহার কর এবং ভাল কাজ কর। আমি তোমাদের কৃতকর্ম সম্বন্ধে জ্ঞাত।" (সূরা আল মু’মিনূন ২৩ঃ ৫১) তিনি (আল্লাহ) আরো বলেছেন, {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ} “তোমরা যারা ঈমান এনেছো শোনা আমি তোমাদের যে সব পবিত্র জিনিস রিযক হিসেবে দিয়েছি তা খাও”— (সূরা আল বাকারাহ ২ঃ ১৭২)। অতঃপর তিনি এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন, যে দূর-দূরান্ত পর্যন্ত দীর্ঘ সফর করে। ফলে সে ধুলি ধূসরিত রুক্ষ কেশধারী হয়ে পড়ে। অতঃপর সে আকাশের দিকে হাত তুলে বলে, “হে আমার প্রতিপালক! অথচ তার খাদ্য হারাম, পানীয় হারাম, পরিধেয় বস্ত্র হারাম এবং আহার্যও হারাম। কাজেই এমন ব্যক্তির দু’আ কী করে কবুল করা হবে?”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেননবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বলেছেন যে আল্লাহ পবিত্র, মুক্ত, সমস্ত ত্রুটি এবং দোষের ঊর্ধ্বে এবং পরিপূর্ণতার গুণে বিশেষিত, তিনি পবিত্র আমল, কথা ও বিশ্বাস ছাড়া কিছুই গ্রহণ করেন না; আর তা হল একমাত্র আল্লাহ্র জন্য খালিস এবং নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশনা মোতাবেক আমল। এই আমল ছাড়া আল্লাহ্র সান্নিধ্য লাভ করা সম্ভব নয়। মুমিনের জন্য পবিত্র আমল হাসিল হওয়ার সবচেয়ে বড় উপায় হল তার পবিত্র খাদ্য এবং তা যেন হালাল হয়। আর এইভাবে তার আমল বিশুদ্ধ হবে। এই কারণে আল্লাহ তা‘আলা রাসূলদেরকে যে পবিত্র খাবার খাওয়া ও নেক আমল করার নির্দেশ দিয়েছেন মুমিনদেরকেও তার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: {يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا، إِنِّي بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ} “হে রাসূলগণ! তোমরা পবিত্র বস্তু থেকে আহার কর এবং সৎকর্ম কর, নিশ্চয়ই তোমরা যা কর আমি তা জানি”। এবং তিনি বললেনঃ {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ} “হে ঈমানদারগণ, আমরা তোমাদেরকে যে উত্তম জিনিস দিয়েছি তা থেকে খাও”। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হারাম জিনিস খাওয়ার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন যা আমলকে নষ্ট করে এবং তা কবূল হওয়া থেকে বিরত রাখে, কবূল করার যত উপায় গ্রহণ করা হোক না কেনো। তার মধ্যে হল: প্রথমত: আনুগত্যের উদ্দেশ্যে ভ্রমণ দীর্ঘায়িত করা যেমন হজ, জিহাদ, আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখা ইত্যাদি। দ্বিতীয়তঃ চিরুনি না করার কারণে এলোমেলো চুল হয়ে যাওয়া এবং ময়লার (মাটির) কারণে তার রং ও তার কাপড়ের রংপরিবর্তিত হওয়া, অধিকন্তু সে অসহায়। তৃতীয়ত: তিনি দোয়া করতে দু'হাত আকাশে উত্তোলন করেন। চতুর্থত: সে আল্লাহর নামসমূহের উসিলায় প্রার্থনা করে এবং এই বলে অনুনয় করে: হে রব, হে রব! দোয়া কবূলের এই কারণগুলো থাকা সত্ত্বেও তার দোয়া শোনা হয়নি; কারণ তার খাবার, পানীয়, পোশাক সবই হারাম এবং হারাম খাবার খাওয়ানো হয়েছে তাকে, তাই এই বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন কারো ডাকে সাড়া দেওয়া অসম্ভব। আর কিভাবেই তার দোয়া কবূল করা হবে?
মিকদাদ ইবনু ‘আমর কিনদী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত: তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন,আপনার কি মত বলুন, কোন কাফিরের সঙ্গে আমার যদি (যুদ্ধক্ষেত্রে) সাক্ষাৎ হয় এবং আমরা পরস্পর লড়াই করি আর সে যদি তলোয়ারের আঘাতে আমার একখানা হাত কেটে ফেলে এবং তারপর আমার থেকে বাঁচার জন্য গাছের আড়ালে গিয়ে বলে ‘‘আমি আল্লাহর উদ্দেশে ইসলাম গ্রহণ করলাম’’ এ কথা বলার পরেও কি আমি তাকে হত্যা করব? তখন রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “তাকে হত্যা করবে না”। এরপর তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সে তো আমার একখানা হাত কাটার পর এ কথা বলছে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় বললেন, না, তুমি তাকে হত্যা করবে না। কেননা, তুমি তাকে হত্যা করলে হত্যা করার পূর্বে তোমার যে মর্যাদা ছিল সে সেই মর্যাদা লাভ করবে, আর ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেয়ার আগে তার যে স্তর ছিল তুমি সেই স্তরে পৌঁছে যাবে”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমিকদাদ ইবন আল-আসওয়াদ রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, যদি তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে একজন কাফেরের সাথে সাক্ষাত করেন এবং তারা তরবারি নিয়ে লড়াই করেন, অবশেষে কাফের তার একটি হাতকে আঘাত করে তরবারি দিয়ে তা কেটে ফেলল, অতঃপর কাফের তার কাছ থেকে পালিয়ে গিয়ে একটি গাছে আশ্রয় নিল এবং বলল: لا إله إلا الله আমার হাত কেটে ফেলার পর কি আমার জন্য তাকে হত্যা করা জায়েজ হবে? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তাকে হত্যা করো না। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, সে তো আমার একটি হাত কেটে ফেলেছে, তবু আমি তাকে হত্যা করব না? তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তাকে হত্যা করো না, কারণ তার রক্ত হারাম হয়ে গেছে। যদি তার ইসলাম গ্রহণের পর তাকে হত্যা কর, তাহলে ইসলাম গ্রহণের কারণে সে তোমার জায়গায় নিষ্পাপ রক্তের অধিকারী আর কিসাস হিসাবে তাকে হত্যা করলে তার জায়গায় তুমি হালাল রক্তের অধিকারী।
উসামা ইবনে যায়দ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে জুহাইনা গোত্রের এক শাখা হুরাকার দিকে পাঠালেন।অতঃপর আমরা সকাল সকাল পানির ঝর্নার নিকট তাদের ওপর আক্রমণ করলাম।(যুদ্ধ চলাকালীন) আমি ও একজন আনসারী তাদের এক ব্যক্তির পিছনে ধাওয়া করলাম। যখন আমরা তাকে ঘিরে ফেললাম, তখন সে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলল। আনসারী থেমে গেলেন, কিন্তু আমি তাকে আমার বল্লম দিয়ে গেঁথে দিলাম।এমনকি শেষ পর্যন্ত তাকে হত্যা করে ফেললাম। অতঃপর যখন আমরা মদীনা পৌঁছলাম, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এ খবর পৌঁছল। তিনি বললেন, ‘‘হে উসামা! তার ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলার পরেও কি তুমি তাকে হত্যা করেছ?’’ আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! সে প্রাণ বাঁচানোর জন্য এরূপ করেছে।’ পুনরায় তিনি বললেন, ‘‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলার পরও তুমি তাকে খুন করেছ?’’ তিনি আমার সামনে এ কথা বারবার বলতে থাকলেন। এমনকি আমি আকাঙ্ক্ষা করলাম যে, যদি আজকের পূর্বে আমি ইসলাম গ্রহণ না করতাম (অর্থাৎ এখন আমি মুসলিম হতাম)। অন্য এক বর্ণনায় আছে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘সে কি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলেছে এবং তুমি তাকে হত্যা করেছ?’’ আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! সে কেবলমাত্র অস্ত্রের ভয়ে এই (কলেমা) বলেছে।’ তিনি বললেন, ‘‘তুমি কি তার অন্তর চিরে দেখেছিলে যে, সে এ (কলেমা) অন্তর থেকে বলেছিল কি না?’’ অতঃপর একথা পুনঃ পুনঃ বলতে থাকলেন। এমনকি আমি আকাঙ্ক্ষা করলাম যে, যদি আমি আজ মুসলিম হতাম।জুনদুব ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিম মুজাহিদীনের একটি দল এক মুশরিক সম্প্রদায়ের দিকে পাঠালেন। তাদের পরস্পরের মধ্যে মুকাবেলা হল। মুশরিকদের মধ্যে একটি লোক ছিল সে যখন কোনো মুসলিমকে হত্যা করার ইচ্ছা করত, তখন সুযোগ পেয়ে তাঁকে হত্যা করে দিত। (এ অবস্থা দেখে) একজন মুসলিম (তাকে খুন করার জন্য) তার অমনোযোগিতার সুযোগ গ্রহণ করলেন। আমরা পরস্পরের মধ্যে বলাবলি করছিলাম যে, উনি হলেন উসামা ইবনে যায়দ। (অতঃপর যখন সুযোগ পেয়ে) উসামা তরবারি উত্তোলন করলেন, তখন সে বলল, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’। কিন্তু তিনি তাকে হত্যা করে দিলেন। অতঃপর (মুসলিমদের যুদ্ধে জয়ী হওয়ার সংবাদ নিয়ে) সুসংবাদবাহী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এল। তিনি তাকে (যুদ্ধের ব্যাপারে) জিজ্ঞাসা করলেন। সে তাঁকে (সমস্ত) সংবাদ দিল। এমনকি শেষ পর্যন্ত সে ঐ ব্যক্তিরও খবর অবহিত করল। তিনি উসামাকে ডেকে জিজ্ঞাসা করে বললেন, ‘‘তুমি কেন তাকে হত্যা করেছ?’’ উসামা বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! সে মুসলিমদেরকে খুবই কষ্ট দিয়েছে এবং অমুক অমুককে হত্যাও করেছে।’ উসামা কিছু লোকের নামও নিলেন। ‘(এ দেখে) আমি তার উপর হামলা করলাম। অতঃপর সে যখন তরবারি দেখল, তখন বলল, ‘‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।’’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘তুমি তাকে হত্যা করে দিয়েছ?’’ তিনি বললেন, ‘জী হ্যাঁ।’ তিনি বললেন, ‘‘কিয়ামতের দিন যখন ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ আসবে, তখন তুমি কী করবে?’’ উসামা বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! আপনি আমার জন্য (আল্লাহর কাছে) ক্ষমা প্রার্থনা করুন।’ তিনি বললেন, ‘‘কিয়ামতের দিন যখন ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ আসবে, তখন তুমি কী করবে?’’ (তিনি বারংবার একথা বলতে থাকলেন এবং) এর চেয়ে বেশী কিছু বললেন না, ‘‘কিয়ামতের দিন যখন ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ আসবে, তখন তুমি কী করবে?’’
এটি মুসলিম তার দুই রেওয়ায়েতে বর্ণনা করেছেন। - মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসামা ইবন যায়েদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে এক যুদ্ধে জুহাইনা গোত্রের এক শাখা হুরাকার দিকে পাঠালেন। যখন তারা জুহাইনা গোত্রে পৌঁছলেন এবং তাদেরকে ঘেরাও করে ফেললেন তখন মুশরিকদের এক ব্যক্তি পলায়ন করলে উসামা ও একজন আনসারী তার পিছনে ধাওয়া করল। যখন তারা তাকে ধরে ফেলল, তখন সে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলল। যখন সে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলল আনসারী তাকে ছেড়ে দিল, কিন্তু উসামা তাকে তার বল্লম দিয়ে হত্যা করে ফেলল। অতঃপর যখন তারা মদীনা পৌঁছলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এ খবর পৌঁছলে তিনি উসামাকে বললেন, “সে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলার পরেও কি তুমি তাকে হত্যা করেছ?” তিনি বললেন, হ্যাঁ হে আল্লাহর রাসূল। সে প্রাণ বাঁচানোর জন্য এরূপ করেছে।’ পুনরায় তিনি বললেন, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলার পরও কি তুমি তাকে খুন করেছ?” তিনি বললেন, হ্যাঁ হে আল্লাহর রাসূল। সে প্রাণ বাঁচানোর জন্য এরূপ করেছে।’ সে মুসলিমদের কষ্ট দিয়েছে, সে অমুক অমুক ব্যক্তিকে হত্যা করেছে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি তার বক্ষ কেন বিদীর্ণ করনি, যেন তা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস কর ও নিশ্চিত হতে পার? কিয়ামতের দিন যখন সে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ নিয়ে আসবে, তখন তুমি কী করবে? কে তোমার জন্যে সুপারিশ করবে, কে তোমার পক্ষে কথা বলবে, কে তোমার পক্ষ নিয়ে ঝগড়া করবে যখন তাওহীদের কালেমা নিয়ে আসা হবে? আর তোমাকে বলা হবে, ‘তুমি কীভাবে তাকে হত্যা করলে যে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলল। ’উসামা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহ বললেন, এমনকি আমি আকাঙ্ক্ষা করলাম যে, যদি আজকের পূর্বে আমি ইসলাম গ্রহণ না করতাম। কারণ, যদি তিনি কাফির হতেন অতঃপর ইসলাম গ্রহণ করতেন তাহলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিতেন; আজ মুসলিম অবস্থায় এ কাজটি করে ফেললেন।
আবূ বারযাহ আল-আসলামী রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “কিয়ামতের দিন বান্দার দু’পা সরবে না, যতক্ষণ না তাকে প্রশ্ন করা হবে; তার আয়ু সম্পর্কে, সে তা কিসে শেষ করেছে? তার ইলম (বিদ্যা) সম্পর্কে, সে অনুযায়ী কী আমল করেছে? তার মাল সম্পর্কে, কী উপায়ে তা উপার্জন করেছে এবং তা কোন্ পথে ব্যয় করেছে? আর তার দেহ সম্পর্কে, কোন কাজে সে তা নষ্ট করেছে?”
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।এ হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন যে, কিয়ামতের দিন হিসাব নিকাশ দেওয়ার প্রাক্কালে কয়েকটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা না করা পর্যন্ত কোন মানুষ জান্নাতের দিকে বা জাহান্নামের দিকে যেতে পারবে না। প্রথম: তার আয়ু সম্পর্কে, সে তা কিসে শেষ করেছে? দ্বিতীয়: তার ইলম (বিদ্যা) সম্পর্কে, সে কী তা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে অর্জন করেছে? সে কী তদানুযায়ী আমল করেছে? সে কী ইলমের উপযুক্ত ব্যক্তিদের কাছে তা পৌঁছে দিয়েছে? তৃতীয়: তার মাল সম্পর্কে, কোথা থেকে তা উপার্জন করেছে? হালাল উৎস থেকে না কি হারাম উৎস থেকে? এবং তা কোন্ পথে ব্যয় করেছে? তা কী আল্লাহর সন্তুষ্টির কাজে ব্যয় করেছে, নাকি আল্লাহর অসন্তুষ্টির কাজে ব্যয় করেছে? চতুর্থ: তার দেহ, দেহের শক্তি, সুস্থতা এবং যৌবন সম্পর্কে, সে কিসে তা নষ্ট ও তা ব্যবহার করেছে?
আবূ হুরাইরাহ্ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের দিন বলেছেন, “নিশ্চয়ই আমি ঐ লোকের হাতে পতাকা তুলে দিবো, যে লোক আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে ভালবাসে। তার হাতেই আল্লাহ তা’আলা বিজয় দেবেন”। উমর ইবনুল খাত্তাব বলেন, শুধু ঐ দিনটি ব্যতীত আমি কখনো নেতৃত্ব লাভের আশা করিনি। এ প্রত্যাশা নিয়ে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গেলাম, হয়ত এ কাজের জন্য আমাকে ডাকা হতে পারে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী ইবনু আবূ তালিবকে ডেকে তার হাতে পতাকা দিলেন এবং বললেনঃ “অগ্রসর হও, এদিক-ওদিক দৃষ্টি দিও না যতক্ষণ আল্লাহ তোমাকে বিজয় দেন”। অতঃপর ’আলী সামান্য অগ্রসর হয়ে থামলেন, এদিক-সেদিক দেখেননি। এরপর চিৎকার করে বললেনঃ হে আল্লাহর রসূল! কোন কথার উপর আমি লোকদের বিরুদ্ধে লড়াই করব। তিনি বললেনঃ “তাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাও যে পর্যন্ত না তারা সাক্ষ্য প্রদান করে যে,لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ (আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃতপক্ষে আর কোন ইলাহ নেই আর নিঃসন্দেহে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রসূল।) যখনই তারা এ সাক্ষ্য প্রদান করবে তখনই তারা তাদের প্রাণ ও ধন-মাল তোমার হাত হতে মুক্ত করে ফেলবে। তবে কোন প্রাপ্য অধিকারের প্রশ্নে মুক্ত হবে না। আর তাদের হিসাব আল্লাহর নিকট”।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেননবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরের দিন মদিনার নিকটবর্তী শহর খায়বারের ইহুদীদের উপর মুসলিমদের বিজয়ের কথা সাহাবীদের জানিয়ে দিলেন। এটি একজন ব্যক্তির হাতে হবে যাকে তিনি ঝান্ডা দিবেন। এটি একটি পতাকা যা সেনাবাহিনী নিজের প্রতীক হিসাবে ব্যবহার করেন। এই ব্যক্তির একটি বৈশিষ্ট্য হল যে, সে আল্লাহ ও তার রাসূলকে ভালবাসে এবং আল্লাহ ও তার রাসূল তাকে ভালবাসেন। ওমর ইবনুল খাত্তাব বলেন, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের মহব্বতের যে কথা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন সেটি লাভের ইচ্ছায় সেই দিন ব্যতীত কখনো তিনি ক্ষমতা পছন্দ করেননি এবং এটি উদ্দেশ্য হোক তাও তিনি চাননি। তাকে আমন্ত্রণ করা হবে এই আশায় এবং পতাকা গ্রহণ করার আগ্রহ ও আকাঙ্ক্ষা থেকে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখানোর জন্য নিজের শরীর প্রসারিত করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী ইবনু আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে আমন্ত্রণ জানিয়ে তাকে পতাকা তুলে দিলেন এবং সৈন্য বাহিনী নিয়ে এগুতে বললেন এবং বললেন যে, শত্রুদের সাথে মুখোমুখি হওয়ার পর এই দুর্গের ওপর বিজয় ও জয়ী না হওয়া পর্যন্ত কোনো বিশ্রাম নিবে না, যুদ্ধ বন্ধ করবে না এবং কোনো চুক্তিতে আবদ্ধ হবে না। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু চললেন, তারপর থেমে গেলেন, তবে ঘুরে দাঁড়াননি; যেন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশের বরখেলাফ না হয়। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু স্বীয় আওয়াজ উঁচু করে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, কীসের ওপর মানুষের সাথে যুদ্ধ করব? তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে পর্যন্ত না তারা সাক্ষ্য দেয় যেلَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ- আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, যদি তারা সাড়া দেয় এবং ইসলামে প্রবেশ করে; তবে তারা তাদের রক্ত এবং তাদের সম্পদ তোমার কাছ থেকে নিরাপদ করে নিল এবং তা তোমার জন্য হারাম হল, তবে তার হক ব্যতীত, অর্থাৎ যদি তারা এমন কোন অপরাধ বা ক্ষতি করে থাকে যার জন্য তারা ইসলামের বিধান অনুযায়ী হত্যার উপযুক্ত হয় তখন সেটা কার্যকর হবে। আর তাদের হিসাব আল্লাহর ওপর।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফূ হিসেবে বর্ণিত, ‘আল্লাহ যখন সৃষ্টিজগত তৈরি সম্পন্ন করলেন, তখন একটি কিতাবে লিখে রাখলেন, যা তাঁরই কাছে ‘আরশের উপর রয়েছে, “অবশ্যই আমার রহমত আমার গযবের জয়ী হবে।” এক বর্ণনায় এসেছে: “আমার রহমত আমার ক্রোধের ওপর জয়ী হয়েছে।” আরেক বর্ণনায় এসেছে: “আমার রহমত আমার গযবকে এগিয়ে গেছে।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।আল্লাহ তা‘আলা যখন সৃষ্টিজগত তৈরি সম্পন্ন করলেন, তখন তিনি ‘আরশের উপর তাঁর কাছে একটি কিতাবে লিখে রাখলেন: অবশ্যই আমার রহমত আমার গযব অপেক্ষা অধিক এবং বিজয়ী।
নু‘মান ইবনু বাশীর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “পারস্পরিক দয়া, ভালোবাসা ও সহানুভূতি প্রদর্শনের ক্ষেত্রে মুমিনদের উদাহরণ একটি দেহের মতো। যখন শরীরের একটি অঙ্গ রোগাক্রান্ত হয়, তখন শরীরের সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অনিদ্রা এবং জ্বরে অংশ নেয়।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে বর্ণনা করেছেন, কল্যাণ কামনা, দয়া, সাহায্য-সহযোগিতা এবং কষ্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে এক মুমিনের সাথে অন্য মুমিনের সম্পর্ক একটি দেহের ন্যায়। যখন শরীরের একটি অঙ্গ রোগাক্রান্ত হয়, তখন শরীরের সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গও অনিদ্রা এবং জ্বরে ভোগে।