





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
আব্দুল্লাহ ইবন ‘আমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বলেন আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কোনো এক সফরে ছিলাম। অতঃপর (বিশ্রামের জন্য) কোনো এক স্থানে অবতরণ করলাম। আমাদের কিছু লোক তার তাঁবু ঠিক করছিল, কিছু লোক তীরন্দাজিতে প্রতিযোগিতা করছিল ও কিছু লোক তাদের জন্তু নিয়ে ব্যস্ত ছিল। ইতোমধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘোষক ঘোষণা করল: “সালাতের জন্য জমায়েত হও।” সুতরাং আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট সমবেত হলাম। তিনি বললেন, “আমার পূর্বে প্রত্যেক নবীর জন্য জরুরী ছিল তার উম্মতকে এমন কর্মসমূহের নির্দেশ দেওয়া, যা তিনি তাদের জন্য ভালো হিসেবে জানেন এবং এমন কর্মসমূহ থেকে হুশিয়ার করা, যা তিনি তাদের জন্য মন্দ হিসেবে জানেন। আর তোমাদের এ উম্মত এমন, যাদের প্রথমাংশে নিরাপত্তা রাখা হয়েছে এবং তাদের শেষাংশে রয়েছে পরীক্ষা (ফিতনা-ফ্যাসাদ) এবং এমন ব্যাপার সকল, যা তোমরা অপছন্দ করবে। এমন ফিতনা প্রকাশ পাবে যে, একটি অন্যটি হালকা করে দিবে (অর্থাৎ পরের ফিতনাটি আগের ফিতনা অপেক্ষা গুরুতর হবে)। ফিতনা এসে যাবে, তখন মুমিন বলবে, এটাই আমার ধ্বংসের কারণ হবে। অতঃপর তা দূরীভূত হবে। আবার ফিতনা এসে যাবে, তখন মুমিন বলবে, ‘এটাই (আমার ধ্বংসের কারণে)। অতএব, যে জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও জান্নাতে প্রবেশ করতে পছন্দ করে, তার মৃত্যু যেন এমন অবস্থায় আসে যে, সে আল্লাহ ও শেষ দিবসের ওপর ঈমান রাখে এবং লোকদের সাথে সেই ব্যবহার প্রদর্শন করে, যা সে তাদের থেকে নিজের জন্য প্রদর্শন পছন্দ করে। আর যে ব্যক্তি রাষ্ট্রপ্রধানের নিকট বাই‘আত করল, সে নিজের হাতের চুক্তি ও অন্তরের ফল (একনিষ্ঠতা) তাকে দিয়ে দিল, অতএব যথাসম্ভব তার আনুগত্য করবে। অতঃপর দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তি যদি তার (বাই‘আতকৃত রাষ্ট্রপ্রধানের) সাথে ঝগড়া করতে আসে, তাহলে তোমরা তার গর্দান উড়িয়ে দিবে।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।এ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, যেমনিভাবে নবীদের ওপর মানুষের জন্য যা কল্যাণ তা বর্ণনা করা, মানুষকে তার প্রতি পথ দেখানো এবং যা অকল্যাণ তা বর্ণনা করা ও তা থেকে সতর্ক করা ওয়াজিব, তেমনিভাবে দা‘ঈদের ওপরও তা ওয়াজিব। এ হাদীসে আরও বলা হয়েছে যে, এ উম্মতের প্রথম যুগের লোকগণ প্রচুর কল্যাণ এবং পরীক্ষা থেকে নিরাপত্তা প্রাপ্ত হয়েছিলেন। কিন্তু এ উম্মতের শেষাংশের লোকেরা এমন অকল্যাণ ও পরীক্ষার সম্মূখীন হবে যে, পরবর্তী ফিতনা পূর্ববর্তী ফিতনাকে হালকা করে দিবে। আর তার থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় হচ্ছে, তাওহীদ ও সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরা, মানুষের সাথে সদাচারণ করা, শাসকের বাই‘আতকে রক্ষা করা, তার বিরুদ্ধে অস্ত্র না ধরা এবং যে মুসলিমদের জামা‘আতে বিভক্তি সৃষ্টি করতে চায় তার সাথে যুদ্ধ করা।
‘আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস‘ঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যারা (মৃত ব্যক্তির জন্য শোক প্রকাশে) গালে চপেটাঘাত করে, জামার বুক ছিড়ে এবং জাহিলিয়তের প্রথায় চিৎকার করে , তারা আমাদের দলভুক্ত নয়”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রাক-ইসলামী (জাহেলি) যুগের লোকদের কিছু কর্ম থেকে নিষেধ ও সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন: আমাদের দল ভুক্ত নয়: প্রথমটি: যে গালে আঘাত করে, গালকে বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন; কারণ এটিই বেশী হয়। অন্যথায় মুখের বাকি অংশে আঘাত করাও নিষেধের অন্তর্ভুক্ত। দ্বিতীয়টি: চরম অস্থিরতার কারণে জামার মাথা প্রবেশ করানোর জায়গা থেকে ছিড়ে ফেলা। তৃতীয়টি: প্রাক-ইসলামী যুগের লোকদের মত চিৎকার করা, যেমন হায়, ধ্বংস, বিলাপ, ডাকা এবং অন্যান্য কথাবার্তা।
সামুরা বিন জুনদুব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মরফূ হিসেবে বর্ণিত, “জাহান্নামীদের কারো পায়ের গোড়ালী পর্যন্ত আগুনে স্পর্শ করবে। করো হাটু পর্যন্ত আগুনে স্পর্শ করবে। আবার কারো কোমর পর্যন্ত আবার কারো কণ্ঠ পর্যন্ত আগুন স্পর্শ করবে।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।এ হাদীসটি কিয়ামত দিবস ও জাহান্নামের আযাবের ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্ক করেছে। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বর্ণনা করেছেন, কিয়ামতের দিন কারো পায়ের গোড়ালী পর্যন্ত, কারো হাটু পর্যন্ত, কারো কোমর পর্যন্ত আবার কারো কণ্ঠণালী পর্যন্ত আগুন গ্রাস করবে। সুতরাং লোকেরা দুনিয়াতে তাদের আমল অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন আযাবে পতিত হবে। আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা কামনা করছি।
আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি বলতে শুনেছিঃ “বারকতময় আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ হে আদম সন্তান! যতক্ষণ আমাকে তুমি ডাকতে থাকবে এবং আমার কাছে (ক্ষমা পাওয়ার) আশায় থাকবে, তোমার গুনাহ যত অধিক হোক, তোমাকে আমি ক্ষমা করব, এতে কোন পরওয়া করব না। হে আদম সন্তান! তোমার গুনাহর পরিমাণ যদি আসমানের কিনারা বা মেঘমালা পর্যন্তও পৌছে যায়, তারপর তুমি আমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব, এতে আমি পরওয়া করব না। হে আদম সন্তান! তুমি যদি সম্পূর্ণ পৃথিবী পরিমাণ গুনাহ নিয়েও আমার নিকট আস এবং আমার সঙ্গে কাউকে অংশীদার না করে থাক, তাহলে তোমার কাছে আমিও পৃথিবী পূর্ণ ক্ষমা নিয়ে হাযির হব।
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন, মহান আল্লাহ হাদীসে কুদসীতে বলেছেন: হে আদম সন্তান, যতক্ষণ তুমি আমাকে ডাকবে এবং আমার রহমতের আশা করবে এবং নিরাশ হবে না; আমি পরোয়া করা ছাড়াই তোমার পাপকে ঢেকে দিব এবং মুছে দিব, যদিও এই পাপ ও অবাধ্যতা বড় গুনাহ হয়। হে আদম সন্তান: তোমার পাপ যদি এত বেশি হয় যে, আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যবর্তী স্থানকে এমনভাবে পূর্ণ করে নেয় যে তার দিগন্ত পর্যন্ত পৌঁছে যায় এবং তার পার্শ্বকে ছুঁয়ে যায়, তাপর তুমি আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর; আমি তোমার সবগুনাহ মুছে দিব ও তোমাকে ক্ষমা করে দিব, তার আধিক্যের পরোয়া করব না। হে আদম সন্তান: তুমি যদি মৃত্যুর পর আমার কাছে পৃথিবীর সমান পাপ ও অবাধ্যতা নিয়ে আস আর তুমি যদি আমার সাথে শরীক না করা অবস্থায় মারা গিয়ে থাক, তাহলে আমি এই পাপ এবং অবাধ্যতাকে পৃথিবীর সমান ক্ষমা নিয়ে মোকাবিলা করব; কারণ আমি সুপ্রশস্ত ক্ষমাশীল এবং আমি শিরক ব্যতীত সকল গুনাহ মাফ করি।
জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মরফূ‘ হিসেবে বর্ণিত, প্রতিটি বান্দাকে যার ওপর সে মারা যায় তার ওপর উঠানো হবে।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।কিয়ামতের দিন প্রত্যেক বান্দাকে ঐ অবস্থায় উঠানো হবে, যে অবস্থায় সে মারা গেছে।
আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “শক্তিশালী মুমিন দুর্বল মুমিন অপেক্ষা আল্লাহর কাছে অধিকতর উত্তম ও পছন্দনীয়। তবে তাদের প্রত্যেকের মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে। সুতরাং যা তোমাকে উপকৃত করবে, তার প্রতি তুমি আগ্রহী হও। এবং আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা কর। তুমি কখনো অক্ষম হয়ো না। যদি তোমার কাছে কোন বিপদ আপতিত হয়। তাহলে এ কথা বলবে না: যদি আমি এমন এমন করতাম, তাহলে এমনটি হত না। বরং এ কথা বলবে:قَدَرُ اللهِ وَمَا شَاءَ فَعَلَ، ‘আল্লাহ তা’আলা যা নির্দিষ্ট করেছেন এবং যা চেয়েছেন তাই করেছেন।” কেননা لَوْ (যদি) বলা শয়তানের কাজকে খুলে দেয়।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেননবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে বর্ণনা করেছেন, মুমিন সকলেই (অন্যদের তুলনায়) উত্তম। তবে ঈমান, দৃঢ়তা, সম্পদ ও অন্যান্য শক্তির বিবেচনায় শক্তিশালী মুমিন দুর্বল মুমিন অপেক্ষায় মহান আল্লাহর কাছে অধিকতর উত্তম ও পছন্দনীয়। অতপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুমিনদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতের যেসব বিষয়ে কল্যাণ রয়েছে, সেগুলো অর্জনের উপায়-উপকরণ সংগ্রহ করতে অসিয়ত করেছেন। অবশ্যই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার উপর নির্ভরশীল হয়ে, তাঁর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করে এবং তার উপর তাওয়াক্কুল করে তা অর্জন করতে হবে। অতপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম অক্ষমতা, অলসতা করতে এবং উভয় জগতের কল্যাণকর কাজে ধীরগতি হতে নিষেধ করেছেন। অতএব, মুমিন যখন কোন কাজে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে, তাঁর কাছে কল্যাণ কামনা করে সর্বশক্তি ব্যয় করে, উপায়-উপকরণ গ্রহণ করে, তখন সে শুধু আল্লাহর উপরই কাজটি ন্যস্ত করে এবং তার জেনে রাখা উচিত যে, মহান আল্লাহ বান্দার জন্যে যা নির্ধারণ করেন, তাতেই রয়েছে কল্যাণ। এরপরেও যদি কোন মুসিবত আপতিত হয়, তাহলে এ কথা বলবে না: ‘যদি আমি এমন করতাম, তাহলে এমন এমন হত।’ ‘কেননা আল্লাহর নির্ধারিত তাকদীরের উপরে আপত্তি করতে এবং যা কিছু তোমার থেকে ছুটে গেছে সে ব্যাপারে আফসোস বাড়াতে لَوْ (যদি) বলা শয়তানের কাজকে খুলে দেয়।’ বরং সে যেন আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পনকারী এবং তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে বলে: ‘আল্লাহ তা’আলা যা নির্দিষ্ট করেছেন এবং যা চেয়েছেন তাই করেছেন। সুতরাং যা কিছু সংঘটিত হয়েছে, তা আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী হয়েছে। তিনি যা চান তা-ই করেন। তাঁর ফয়সালার কেউ বিরোধী নেই এবং তাঁর রায়কে কেউ প্রশ্নবিদ্ধ ও প্রতিবাদ করতে পারে না।
আবু হুরায়রাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন বলবেন, ‘হে আদম সন্তান! আমি অসুস্থ ছিলাম, তুমি আমাকে দেখাশুনা করনি।’ সে বলবে, ‘হে আমার রব! কিভাবে আমি আপনাকে দেখাশুনা করব, আপনি তো সৃষ্টিকুলের রব?’ তিনি বলবেন, ‘তুমি কি জানতে না যে, আমার অমুক বান্দা অসুস্থ হয়েছিল? অথচ তুমি তাকে দেখাশুনা করনি। তুমি কি জানতে না যে, তুমি যদি তাকে দেখাশুনা করতে, তাহলে অবশ্যই তুমি আমাকে তার কাছে পেতে? হে আদম সন্তান! আমি তোমার কাছে খাবার চেয়েছিলাম, তুমি আমাকে খাওয়াওনি।’ সে বলবে, ‘হে আমার রব! আমি আপনাকে কিভাবে খাওয়াব, আপনি তো সৃষ্টিকুলের রব?’ আল্লাহ বলবেন, ‘তোমার কি জানা ছিল না যে, আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে খাবার চেয়েছিল, কিন্তু তাকে তুমি খাবার দাওনি? তোমার কি জানা ছিল না যে, যদি তাকে খাওয়াতে, তাহলে অবশ্যই তা আমার কাছে পেতে? হে আদম সন্তান! তোমার কাছে আমি পানি পান করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তুমি আমাকে পানি পান করাওনি।’ বান্দা বলবে, ‘হে আমার রব! আপনাকে কিরূপে পানি পান করাবো, আপনি তো সকল সৃষ্টির রব?’ তিনি বলবেন, ‘আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে পানি চেয়েছিল, তুমি তাকে পানি পান করাওনি। তুমি কি জানতে না যে, যদি তাকে পানি পান করাতে, তাহলে তা অবশ্যই আমার কাছে পেতে?’’।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।আবু হুরায়রাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন বলবেন, ‘হে আদম সন্তান! আমি অসুস্থ ছিলাম, তুমি আমাকে দেখাশুনা করনি।’ সে বলবে, ‘হে আমার রব! কিভাবে আমি আপনাকে দেখাশুনা করব, আপনি তো সৃষ্টিকুলের রব?’ অর্থাৎ, আপনি আমার মুখাপেক্ষি নন যে, আমি আপনার দেখাশুনা করব। তিনি বলবেন, ‘তুমি কি জানতে না যে, আমার অমুক বান্দা অসুস্থ ছিল? তুমি তার দেখাশুনা করনি। তুমি কি জানতে না যে, তুমি যদি তার দেখাশুনা করতে, তাহলে অবশ্যই তুমি আমাকে তার কাছে পেতে? আল্লাহ তা‘আলার কথা-‘আমি অসুস্থ ছিলাম, তুমি আমার দেখাশুনা করনি।’- বলাতে এ প্রশ্ন করার কোনো অবকাশ নেই যে, আল্লাহ তা‘আলার জন্য অসুস্থ হওয়া তো অসম্ভব। কারণ, অসুস্থ হওয়া অক্ষমতার লক্ষণ, যা থেকে আল্লাহ তা‘আলা সম্পূর্ণ পবিত্র। (তাহলে তিনি কিভাবে অসুস্থ হলেন?) কারণ, এখানে ‘আল্লাহর অসুস্থ হওয়া’ কথা দ্বারা আল্লাহর স্বয়ং অসুস্থ হওয়া উদ্দেশ্য নয় বরং এখানে উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর বিশেষ কোনো নেক বান্দা ও আল্লাহর ওলীর অসুস্থ হওয়া। এ কারণেই তিনি বলেন,‘তুমি আমাকে তার কাছে পেতে’ এ কথা বলেননি যে, তা তুমি আমার মধ্যে দেখতে পেতে। যেমনটি বলেছেন তিনি খাদ্য ও পানীয়ের ব্যাপারে। বরং তিনি এখানে বলেছেন, তুমি আমাকে তার পাশে পেতে। এ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, রোগীরা আল্লাহর নৈকট্যে অবস্থান করতে থাকে। এ কারণেই আলেমগণ বলেছেন, রোগীদের দু‘আ কবুল যোগ্য, যখন সে কারো জন্য দু‘আ করে কিংবা বদ দু‘আ করে। তার কথা: ‘আমি তোমার কাছে খাবার চেয়েছিলাম, তুমি আমাকে খাবার দাওনি।’ আমরা জানি যে, আল্লাহ তা‘আলা তার নিজের জন্য খাদ্য চাননি। কারণ, তিনি বলেছেন, “তিনি খাবার খাওয়ান, তাকে কারো খাওয়াতে হয় না”। [সূরা আল-আন‘আম:আয়াত ১৪] সুতরাং তিনি এ সব কিছু থেকে অমুখাপেক্ষী। তিনি খাদ্য ও পানীয়ের প্রতি মুখাপেক্ষী নন। কিন্তু আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে এক বান্দা ক্ষুধার্ত হয়, লোকটি জেনেও তাকে খাবার খাওয়ায়নি। আল্লাহ বলেন: যদি তাকে খাবার দিতে, তাহলে অবশ্যই তা আমার কাছে পেতে? অর্থাৎ তার সাওয়াব দশ থেকে সাতশত গুণ এমনকি অগণিত অসংখ্য গুণ সাওয়াব আমার কাছে বর্ধিত আকারে জমাকৃত পেতে। তার বাণী, “হে আদম সন্তান! তোমার কাছে আমি পানীয় চেয়েছিলাম, কিন্তু তুমি আমাকে পান করাওনি”। বান্দা বলবে, ‘হে আমার রব! আপনাকে কিরূপে পানি পান করাবো, আপনি তো সৃষ্টিকুলের রব? অর্থাৎ আপনি খাদ্য ও পানীয়ের প্রতি মুখাপেক্ষী নন। তিনি বলবেন, আমার অমুক বান্দা পিপাসার্ত হয়ে তোমার কাছে পানীয় চেয়েছিল, তুমি তাকে পান করাওনি, তুমি কি জানতে না যে, যদি তুমি তাকে পান করাতে, তার সাওয়াব তুমি আমার কাছে পেতে। অর্থাৎ, যে তোমার কাছে পানি চেয়েছিল, তুমি যদি তাকে পানি পান করাতে তাহলে তার সাওয়াব ও বিনিময় আল্লাহর নিকট দশগুণ থেকে নিয়ে সাতশত গুণ পর্যন্ত এমনকি আরো বহুগুণ বর্ধিত আকারে সংরক্ষিত পেতে।
আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ সূত্রে বর্ণিত, “আল্লাহ এমন কোনো নবী প্রেরণ করেন নি যিনি তার জাতিকে কানা মিথ্যুকটি সম্পর্কে সাবধান করেন নি। সাবধান এই মিথ্যুকটি তো কানা (দাজ্জাল)। আর তোমাদের রব তো অন্ধ নন। তার (দাজ্জালের) দু'চোখের মাঝখানে কা-ফি-র (শব্দ) লেখা থাকবে।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।আল্লাহ যত নবী প্রেরণ করেছেন সে সকল নবী তার জাতিকে কানা মিথ্যুক মাসীহ দাজ্জাল সম্পর্কে সাবধান ও সতর্ক করেছেন; কেননা তারা দাজ্জালের আবির্ভাব ও তার ভয়ংকর ফিতনা সম্পর্কে জানতেন এবং তাদের জাতিকে তার (দাজ্জালের) কিছু পরিচয়ও বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসে উল্লেখ আছে যে, এই মিথ্যুকটি কানা (দাজ্জাল)। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা‘আলা এ ধরনের দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত। দাজ্জালের আরেকটি আলামত হলো তার দুচোখের মাঝখানে কা-ফা-রা লেখা থাকবে।
হুযায়ফা ও আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “বরকতময় মহান আল্লাহ (কিয়ামতের দিন) সকল মানুষকে একত্রিত করবেন। অতঃপর মুমিনগণ উঠে দাঁড়াবে; এমনকি জান্নাতও তাদের নিকটবর্তী করা হবে। (যার কারণে তাদের জান্নাতে যাওয়ার ইচ্ছা প্রবল হয়ে যাবে)। সুতরাং তারা আদম (সালাওয়াতুল্লাহি আলাইহি সালাম)র নিকট আসবে। অতঃপর বলবে, ‘হে আমাদের পিতা! আমাদের জন্য (আল্লাহর কাছে) জান্নাত খুলে দেওয়ার আবেদন করুন।’ তিনি বলবেন, ‘(তোমরা কি জান না যে,) একমাত্র তোমাদের পিতার ভুলই তোমাদেরকে জান্নাত থেকে বহিষ্কার করেছে? সুতরাং আমি এর যোগ্য নই। তোমরা আমার ছেলে ইবরাহীম খলীলুল্লাহর নিকট যাও।” নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “অতঃপর তারা ইবরাহীমের নিকট যাবে।” ইবরাহীম বলবেন, ‘আমি এর উপযুক্ত নই। আমি আল্লাহর খলীল (বন্ধু) ছিলাম বটে, কিন্তু আমি এত উচ্চ মর্যাদার অধিকারী নই। (অতএব) তোমরা মূসার নিকট যাও, যার সঙ্গে আল্লাহ সরাসরি কথা বলেছেন।’ ফলে তারা মূসার নিকট যাবে। কিন্তু তিনি বলবেন, ‘আমি এর যোগ্য নই। তোমরা আল্লাহর কালেমা ও তাঁর রূহ ঈসার নিকট যাও।’ কিন্তু ঈসাও বলবেন, ‘আমি এর উপযুক্ত নই।’ অতঃপর তারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসবে। সুতরাং তিনি দাঁড়াবেন। অতঃপর তাঁকে (দরজা খোলার) অনুমতি দেওয়া হবে। আর আমানত ও আত্মীয়তার বন্ধনকে ছেড়ে দেওয়া হবে। সুতরাং উভয়ে পুল সিরাতের দু’দিকে ডানে ও বামে দাঁড়িয়ে যাবে। অতঃপর তোমাদের প্রথম দল বিদ্যুৎ গতিতে পুল পার হয়ে যাবে। আমি (আবূ হুরায়রা) বললাম, ‘আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক! বিদ্যুৎ গতিতে পার হওয়ার অর্থ কী?’ তিনি বললেন, “তুমি কি দেখ নি যে, বিদ্যুৎ কীভাবে চোখের পলকে যায় ও আসে?” অতঃপর (দ্বিতীয় দল) বাতাসের গতিতে (পার হবে)। তারপর (পরবর্তী দল) পাখী উড়ার মতো এবং মানুষের দৌঁড়ের মতো গতিতে। তাদেরকে তাদের নিজ নিজ আমল পার করাবে। আর তোমাদের নবী পুলসিরাতের উপর দাঁড়িয়ে থাকবেন। তিনি বলবেন, “হে প্রভু! বাঁচাও, বাঁচাও!” শেষ পর্যন্ত বান্দাদের আমলসমূহ অক্ষম হয়ে পড়বে। এমনকি কোনো কোনো ব্যক্তি পাছা হেচড়াতে হেচড়াতে পার হবে। আর সিরাতের দুই পাশে ঝুলন্ত আঁকড়া থাকবে, যাকে ধরার জন্য সে আদিষ্ট হবে তাকে ধরে নিবে। অতঃপর (কিছু লোক) জখম হলেও বেঁচে যাবে। আর কিছু লোককে মুখ থুবড়ে জাহান্নামে ফেলা হবে। সেই সত্ত্বার কসম, যার হাতে আবূ হুরায়রার প্রাণ আছে! নিশ্চয় জাহান্নামের গভীরতা সত্তর বছরের (দূরত্বের) পথ।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।মহান আল্লাহ (কিয়ামতের দিন) সকল মানুষকে হিসাব ও সাওয়াব প্রদানের জন্যে একত্রিত করবেন। অতঃপর মুমিনগণ উঠে দাঁড়াবে; এমনকি জান্নাতও তাদের নিকটবর্তী করা হবে, তবে তাদের জন্য তা উন্মুক্ত করা হবে না। কিয়ামতের দিন অবস্থান দীর্ঘ হওয়ার কারণ, তারা আদম (সালাওয়াতুল্লাহি আলাইহি সালাম)র নিকট আসবে এবং তার কাছে চাইবে যে, সে যেন আল্লাহর কাছে জান্নাতকে খুলে দেওয়ার আবেদন করেন।’ তখন তিনি তাদের উত্তর দেবেন, আমি এর জন্য উপযুক্ত নই। তার সেই গুনাহের কারণে যে গুনাহ তাদের সবাইকে জান্নাত থেকে বের হওয়ার কারণ হয়েছিল। তখন তিনি তাদের ইব্রাহীম খলীলুল্লাহর নিকট পাঠাবেন। কারণ, তিনি আল্লাহর বন্ধু আর বন্ধুত্ব হলো মহব্বাতের সবোর্চ্চ স্তর। তখন তারা ইবরাহীমের নিকট যাবেন। তিনিও বলবেন, ‘আমি এত বড় মর্যাদার অধিকারী নই। (অতএব) তোমরা মূসার নিকট যাও, যার সঙ্গে আল্লাহ কোন মাধ্যম ছাড়া সরাসরি কথা বলেছেন।’ ফলে তারা মূসার নিকট যাবে। কিন্তু তিনি তাদের বলবেন, ‘আমি এর যোগ্য নই। তোমরা ঈসার নিকট যাও।’ কারণ, আল্লাহ তাকে তার বাক্য দ্বারা সৃষ্টি করেছেন। তিনি তাদের বলবেন, ‘আমি এর উপযুক্ত নই।’ অতঃপর তারা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসবেন। তারা তার কাছে কামনা করবে যে, তিনি যেন তাদের মাঝে ফায়সালা করেন এবং তাদের জন্য জান্নাতকে খুলে দেন। তিনি তাদের আবেদনে সাড়া দিবেন। অনুমতি চাইবেন তাকে অনুমতি দেওয়া হবে। আর আমানত ও আত্মীয়তার বন্ধন উপস্থিত হবে। তারা উভয়ে পুলসিরাতের দু’দিকে ডানে ও বামে দাঁড়িয়ে যাবে। আর এই সিরাত হচ্ছে জাহান্নামের উপর বিছানো একটি পুল। মানুষ তাদের আমল অনুযায়ী তার উপর দিয়ে অতিক্রম করবে। যে ব্যক্তি দুনিয়াতে নেক আমলের প্রতি অগ্রগামী ছিল সে পুলসিরাতের উপর দিয়ে দ্রুত অতিক্রম করবে। অনুরুপভাবে বিপরীত হবে। তাদের থেকে কতক মুক্তি পাবে আর কতক জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। আর দূরত্বের কারণে সত্তর বছরের পূর্বে কেউ জাহান্নামের গভীরতায় পৌঁছতে পারবে না। নাঊযুবিল্লাহ!