





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
আল-বারা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত: নবী সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসার সাহাবীদের সম্পর্কে বলেছেন: “তাদেরকে কেবল মু’মিনরাই ভালোবাসে এবং তাদের প্রতি কেবল মুনাফিকেই বিদ্বেষ রাখে। যে ব্যক্তি তাদেরকে ভালোবাসবে, আল্লাহও তাকে ভালোবাসবেন। আর যে ব্যক্তি তাদের প্রতি বিদ্বেষ রাখবে, আল্লাহও তার প্রতি বিদ্বেষ রাখবেন।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে সংবাদ দিয়েছেন যে, মদীনাবাসী আনসারদের ভালোবাসা পরিপূর্ণ ঈমানের আলামত। এর কারণ তারা ইসলাম, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সহযোগিতায়, মুসলিমদেরকে আশ্রয় প্রদানে এবং তাদের জান ও মাল আল্লাহর পথে ব্যয়ে অগ্রগামী ছিলেন। তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা মুনাফিকের আলামত। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন , যে ব্যক্তি আনসার সাহাবীদেরকে ভালোবাসবে, আল্লাহও তাকে ভালোবাসবেন। আর যে ব্যক্তি তাদের প্রতি বিদ্বেষ রাখবে, আল্লাহও তার প্রতি বিদ্বেষ রাখবেন।
আবূ হুরায়রাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা সব ব্যাপারে নিকটবর্তী ও মধ্যমপন্থা অবলম্বন করো। জেনে রাখো, তোমাদের কেউ আমলের দ্বারা নাজাত লাভ করতে পারবে না। সাহাবীগণ বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনিও না? তিনি বলেন, আমিও না, তবে আল্লাহ যদি স্বীয় রহমত ও অনুগ্রহ দ্বারা আমাকে আবৃত করে নিয়েছেন”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সীমালঙ্ঘন ও ত্রুটি করা ছাড়া যতটুকু সম্ভব সাহাবীদের আমল ও তাকওয়া অর্জন করতে এবং আল্লাহর প্রতি ইখলাস ও সুন্নাহ অনুসরণ করে তাদের আমলের বিশুদ্ধতার নিয়ত করতে উৎসহ প্রদান করেছেন, যাতে তাদের আমল গ্রহণ করা হয় এবং তা তাদের উপর রহমত নাযিল হওয়ার কারণ হয়। তারপর তাদের বললেন যে, তোমাদের কাউকে শুধু তার আমল নাজাত দিবে না, বরং আল্লাহর রহমত আবশ্যক। তারা বললেন, আপনিও না হে আল্লাহর রাসূল, আপনার এতো আমলও আপনাকে মুক্তি দিবে না? তিনি বললেন, আমিও না, তবে আল্লাহ আমাকে তার রহমতের অনুগ্রহে ঢেকে নিয়েছেন।
আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমার পূর্বে আল্লাহ তা’আলা যে নবীকেই কোন উম্মতের মধ্যে পাঠিয়েছেন, তাদের মধ্যে তাঁর জন্য একদল অনুসারী ও সাহাবা ছিল। তারা তাঁর সুন্নাতকে গ্রহণ করত এবং তাঁর নির্দেশের অনুসরণ করত। অতঃপর তাদের পরবর্তিতে কতগুলো মন্দ লোক স্থলাভিষিক্ত হয়। তারা মুখে যা বলে নিজেরা তা করে না। আর যা করে তার জন্য তাদেরকে নির্দেশ করা হয়নি। অতএব যে ব্যক্তি তাদের হাত (শক্তি) দ্বারা মুকাবিলা করবে, সে মু’মিন। যে ব্যাক্তি জিহ্বা (মুখ) দ্বারা মুকাবিলা করবে সে মু’মিন এবং যে ব্যাক্তি অন্তর দ্বারা মুকাবিলা করবে সেও মু’মিন এরপর আর সরিষার দানা পরিমাণও ঈমানের স্তর নেই”।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেননবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, তাঁর পূর্বে প্রেরিত প্রতিটি নবীর উম্মতের মধ্যে এমন বিশিষ্ট অনুসারী, সাহায্যকারী এবং নিবেদিতপ্রাণ মুজাহিদ ছিলেন যারা তাঁর পরে খিলাফতের যোগ্য ছিলেন, যারা তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ করতেন এবং তাঁর আদেশ মানতেন। তারপর সেই নেককার পূর্বসূরিদের পরে এমন লোক আসে যাদের মধ্যে কোন কল্যাণ নেই। তারা যা বলে তা করে না এবং তারা তাই করে যা তাদের আদেশ করা হয়নি। কাজেই যে তাদের বিরুদ্ধে হাত দিয়ে জিহাদ করে সে মুমিন, যে জিহ্বা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করে সে মুমিন এবং যে অন্তর দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করে সে মুমিন এবং এর বাইরে সরিষা দানার পরিমাণও ঈমান নেই।
জাবির ইবনু আব্দিল্লাহ রদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমাকে এমন পাঁচটি বিষয় দান করা হয়েছে, যা আমার পূর্বে কাউকে দেওয়া হয়নি। আমাকে এমন প্রভাব দিয়ে সাহায্য করা হয়েছে যে, একমাস দূরত্বেও তা প্রতিফলিত হয়; সমস্ত যমীন আমার জন্য পবিত্র ও সালাত আদায়ের উপযোগী করা হয়েছে। কাজেই আমার উম্মতের যে কোন লোক ওয়াক্ত হলেই সালাত আদায় করতে পারবে; আমার জন্য গানীমাতের মাল হালাল করে দেওয়া হয়েছে, যা আমার পূর্বে আর কারো জন্য হালাল করা হয়নি; আমাকে শাফা‘আতের অধিকার দেয়া হয়েছে; সমস্ত নবী প্রেরিত হতেন কেবল তাঁদের সম্প্রদায়ের জন্য, আর আমাকে প্রেরণ করা হয়েছে সমগ্র মানব জাতির জন্য”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, আল্লাহ তাঁকে পাঁচটি গুণ দিয়েছেন যা তার পূর্বের কোন নবীকে দেওয়া হয়নি: প্রথমত: আমাকে ভয় দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে যা আমার শত্রুদের হৃদয়ে নিক্ষেপ করা হয়, যদিও আমার এবং তাদের মধ্যে এক মাসের দূরত্ব থাকে। দ্বিতীয়ত: পৃথিবীকে আমাদের জন্য মসজিদে পরিণত করা হয়েছে যাতে আমরা যেখানেই থাকি সালাত আদায় করতে পারি এবং পবিত্র বস্তুতে পরিণত করা হয়েছে যাতে পানি ব্যবহারের সুযোগ না থাকা অবস্থায় মাটি দিয়ে পবিত্রতা হাসিল করতে পারি। তৃতীয়ত: আমাদের জন্য যুদ্ধের গনীমতকে হালাল করা হয়েছে, যা মুসলিমগণ কাফেরদের সাথে যুদ্ধের সময় গ্রহণ করেন। চতুর্থত: কিয়ামতের দিন পরিস্থিতির ভয়াবহতা থেকে মানুষকে মুক্তি দেওয়ার জন্য আমাকে সবচেয়ে বড় সুপারিশ প্রদান করা হয়েছে। পঞ্চমত: আমি সমস্ত সৃষ্টি: তাদের মানুষ এবং তাদের জিনদের কাছে প্রেরিত হয়েছি, তার পূর্ববর্তী নবীগণের বিপরীতে, যারা কেবল তাদের সম্প্রদায়ের জন্য প্রেরিত হতেন।
হারিস ইবনু ওয়াহাব খুযাঈ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, “আমি কি তোমাদেরকে জান্নাতী লোকদের পরিচয় বলব না? তারা দুর্বল এবং অসহায়; কিন্তু তাঁরা যদি কোন ব্যাপারে আল্লাহর নামে কসম করে বসেন, তাহলে তা পূরণ করে দেন। আমি কি তোমাদেরকে জাহান্নামী লোকদের পরিচয় বলব না? তারা রূঢ় স্বভাব, অধিক মোটা এবং অহংকারী তারাই জাহান্নামী”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম জান্নাতী ও জাহান্নামীদের কিছু বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা দিয়েছেন। অধিকাংশ জান্নাতী হল: “তারা দুর্বল এবং অসহায়” অর্থাৎ আল্লাহ তাআলার জন্য বিনয়ী অবনত নিজের নফসকে লাঞ্ছিতকারী, যদিও কিছু লোক তাকে দূর্বল জানে এবং নগণ্য জ্ঞান করেন। আল্লাহর জন্য অবনত এই ব্যক্তি যদি আল্লাহর অনুগ্রহের আগ্রহী হয়ে কসম করেন, আল্লাহ তাকে অবশ্যই সত্য প্রমাণিত করবেন এবং সে যার উপর কসম করেছে সেটি তার জন্য বাস্তবায়িত করবেন এবং তার দোয়া ও আহ্বানে সাড়া দিবেন। অধিকাংশ জাহান্নামী হল: প্রত্যেক “রূঢ় স্বভাবের” কঠিন মোটা খুব ঝগড়াটে, অথবা এত অশ্লীল যে কোন কল্যাণের জন্য নত হয় না, “দাম্ভিক” অর্থাৎ অহংকারী, খুব খাদক, মোটা শরীরের অধিকারী, চলনে অভিমানী, খারাপ চরিত্রের অধিকারী “গর্বকারী” সত্যকে প্রত্যাখ্যানকারী এবং অন্যকে ছোট জ্ঞানকারী।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহ থেকে মারফু‘ সূত্রে বর্ণিত, “নিশ্চয় আল্লাহর পথে মুজাহিদদের জন্য আল্লাহ তা‘আলা জান্নাতে একশটি মর্যাদার স্তর প্রস্তুত রেখেছেন। দু’টি স্তরের ব্যবধান আসমান ও যমীনের দূরত্বের ন্যায়।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন যে, নিশ্চয় আল্লাহর পথে মুজাহিদদের জন্য আল্লাহ তা‘আলা জান্নাতে একশটি মর্যাদার স্তর প্রস্তুত রেখেছেন। দু’টি স্তরের ব্যবধান আসমান ও যমীনের দূরত্বের ন্যায়।
আবূ হুরাইরাহ রদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ্ ঘোষণা করেন: আমি সে রকমই, যে রকম বান্দা আমার প্রতি ধারণা রাখে। আমি বান্দার সঙ্গে থাকি যখন সে আমাকে স্মরণ করে। যদি সে মনে মনে আমাকে স্মরণ করে; আমিও তাকে নিজে স্মরণ করি। আর যদি সে জন-সমাবেশে আমাকে স্মরণ করে, তবে আমিও তাদের চেয়ে উত্তম সমাবেশে তাকে স্মরণ করি। যদি সে আমার দিকে এক বিঘত এগিয়ে আসে, তবে আমি তার দিকে এক হাত এগিয়ে যাই, যদি সে আমার দিকে এক হাত অগ্রসর হয়; আমি তার দিকে দু’ হাত এগিয়ে যাই। আর সে যদি আমার দিকে হেঁটে আসে, আমি তার দিকে দৌড়ে যাই”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন যে, আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: আমি আমার বান্দার ধারনার মতই; আমার সম্পর্কে আমার বান্দা আশা ও ক্ষমার যে ধারনা পোষণ করে আমি তার সাথে সেই মোতাবেক আচরণ করি। সে আমার থেকে যে কল্যাণ অথবা অন্য কিছুর আশা করে আমি তার সাথে সেই মোতাবেক আমল করি। যখন সে আমাকে স্মরণ করে আমি তাকে সমর্থন, হিফাজত, হিদায়াত, তাওফিক ও রহমত দিয়ে তার সাথেই থাকি। সে যদি নির্জনে একাকি তার নফসের ভেতর তাসবীহ, তাহলীল অথবা অন্য কিছুর মাধ্যমে আমাকে স্মরণ করে; আমিও তাকে আমার নফসে স্মরণ করি। সে যদি আমাকে জমাতে স্মরণ করে; আমিও তাকে তাদের চেয়ে বড় ও ভালো জামাতে স্মরণ করি। আর যে এক বিঘত আল্লাহর নৈকট্য হাসিল করবে, আল্লাহ তাকে বৃদ্ধি করবেন এবং তার নিকট এক হাত এগিয়ে যাবেন। যদি সে এক হাত তার নিকটবর্তী হয়, তিনি এক বাহু তার নিকটবর্তী হন। যদি সে আল্লাহর দিকে হেঁটে আসে, তিনি তার নিকট দৌঁড়ে যান। কাজেই বান্দা যখন আল্লাহর আনুগত্য এবং তার প্রতি মনোনিবেশ করে তার রবের নিকটবর্তী হবে, তখন তার আমলের অনুরূপ প্রতিদান হিসাবে তাকে তার নৈকট্য বৃদ্ধি করবেন। যখনই মুমিনের দাসত্য তার রবের প্রতি পরিপূর্ণ হবে আল্লাহ তার নিকটবর্তী হবেন, বস্তুত বান্দার আমল ও মেহনতের চেয়ে আল্লাহর দান ও সাওয়াব অনেক বেশী হবে। সারকথা হল আমলের উপর আল্লাহর প্রতিদান পরিমাণ ও সংখ্যায় প্রাধান্য পাবে। অতএব মুমিন ধারনা সুন্দর করে, সৎকর্ম করে, অগ্রগামী হয়। আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করার আগ পর্যন্ত নেক আম বৃদ্ধি করে।
তালহা ইবনু উবাইদুল্লাহ রদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: নাজদবাসীদের মধ্য হতে এলোমেলো কেশ নিয়ে এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসলেন। আমরা তার ফিসফিস শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। কিন্তু আমরা বুঝতে পারছিলাম না যে তিনি কী বলছেন, এমনকি তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একেবারে কাছে চলে আসলেন। তিনি তখন ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তরে বললেন: “দিন-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা।” তখন তিনি বললেন: এছাড়া কি আর কোন সালাত আমার উপরে আবশ্যক? রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: না, তবে তুমি নফল সালাত আদায় করতে পারো। আর রমাযান মাসের সিয়াম পালন করবে।” তিনি বললেন: এছাড়া কি আর কোন সিয়াম আমার উপরে আবশ্যক? রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “না। তবে চাইলে নফল সিয়াম পালন করতে পারো।” এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে যাকাতের কথা বর্ণনা করলেন। তিনি বললেন: এছাড়া কি আর কোন অতিরিক্ত সাদাকা আমার উপরে আবশ্যক? রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: না। তবে তুমি নফল সাদাকা আদায় করতে পারো। অতঃপর লোকটি এ কথা বলতে বলতে চলে গেল: আল্লাহর কসম, এর উপর আমি কোন কিছু বৃদ্ধিও করবো না এবং কমও করবো না। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “লোকটি যদি সত্য বলে থাকে, তাহলে সফল হয়ে গেল।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনাজদীদের মধ্য হতে অগোছালো চুল বিশিষ্ট এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসলেন, তার কণ্ঠ উঁচু ছিল, তবে তার কথা বোঝা যাচ্ছিল না, এক পর্যায়ে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটবর্তী হলেন এবং ইসলামের ফরয বিধানসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত দিয়ে শুরু করলেন এবং তাকে বললেন: প্রতি দিন-রাত মিলিয়ে তার উপরে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয। তখন তিনি বললেন: এ পাঁচ ওয়াক্ত বাদে কী অন্য কোন সালাত আমার উপর আবশ্যক হবে? তখন রসূল বললেন: না, তবে যদি তুমি নফল সালাতগুলি আদায় কর, তা করতে পারো। তারপরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: আল্লাহ যেসব বিধান তোমার উপর ফরয করেছেন, তার মধ্যে রয়েছে রমাদান মাসের সিয়াম পালন। তখন লোকটি বললেন: রমাদানের সিয়াম ব্যতীত আমার উপর আর কোন অতিরিক্ত সিয়াম আবশ্যক হবে? তিনি বললেন: না, তবে নফল সিয়াম পালন করতে পারবে। তারপরে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উদ্দেশ্যে যাকাতের কথা বললেন। তখন লোকটি জিজ্ঞাসা করলেন: ফরয যাকাত আদায় করার পর আমার উপর কী আর কোন সাদাকা আবশ্যক হবে? তিনি বললেন: না, তবে নফল দান-সাদাকা করতে পারো। এ ফরযসমূহের বর্ণনা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে লোকটি শুনে পিছনে ঘুরে চলে গেলেন এবং আল্লাহ তা‘আলার নামে কসম করলেন যে, কোন বাড়তি-কমতি না করেই তিনি এগুলোকে অবশ্যই পালন করবেন। এর পরপর আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: যদি লোকটির কসম করার বিষয়টি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে সে সফল বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে দিনগুলোতে সূর্য উদিত হয়ে থাকে, তাদের মধ্যে সর্বত্তম হচ্ছে জুমু‘আর দিন। এদিনে আদামকে সৃষ্টি করা হয়েছিল, এ দিনে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছিল, এ দিনেই তাকে সেখান থেকে বের করা হয়েছিল। আর জুমু‘আর দিন ছাড়া কিয়ামত কায়েম হবে না।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেননবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, যে সমস্ত দিনে সূর্য ওঠে তার মধ্যে জুমু‘আহর দিন উত্তম। জুমু‘আহর দিনের বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে: আল্লাহ তা‘আলা এদিনে আদাম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করেছেন, এ দিনেই তাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়েছিলেন, এ দিনেই তাকে সেখান থেকে বের করা হয়েছিল এবং পৃথিবীতে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল আর জুমু‘আর দিনেই কিয়ামাত অনুষ্টিত হবে।