





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ». “যে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যারোপ করলো, সে যেন জাহান্নামকেই তার ঠিকানা নির্ধারণ করে নেয়।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন যে, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর উপর কথা বা কাজের মাধ্যমে মিথ্যারোপ করলো, সে যেন আখিরাতে জাহান্নামকেই তার ঠিকানা নির্ধারিত করে নেয়। এটি তার কর্মের প্রতিদান।
আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “শেষ যুগে আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু লোকের আবির্ভাব ঘটবে যারা তোমাদের এমন হাদীস শোনাবে যা তোমরা কিংবা তোমাদের পূর্বপুরুষরা কেউ শোনেনি। অতএব তোমরা সাবধান থাকবে এবং তাদেরও সাবধান রাখবে।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেননবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন, আমার উম্মতের শেষ জমানায় কিছু লোকের আবির্ভাব ঘটবে যারা মিথ্যা রচনা করবে এবং তারা এমন কথা বলবে যা তাদের পূর্বে কেউ বলেনি। তারা মিথ্যা ও বানোয়াট হাদীস সম্পর্কে সংবাদ দিবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন যে, আমরা তাদের থেকে দূরে থাকবো এবং তাদের সাথে বসবো না এবং তাদের হাদীস শুনবো না, যেন সেই বানানো হাদীস অন্তরে বদ্ধমূল না হয়ে যায়, যা থেকে মুক্ত হওয়া কঠিন হয়ে যাবে।
আব্দুল্লাহ বিন ‘আমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট যা কিছু শুনতাম তা মনে রাখার স্বার্থে লিখে রাখতাম। কুরাইশরা আমাকে (সবকিছু লিখতে) নিষেধ করলেন এবং বললেন, তুমি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে শোনা সবকিছুকেই লিখে রাখো? অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন মানুষ, রাগ ও শান্ত উভয় অবস্থায় কথা বলে থাকেন। সুতরাং আমি লেখা থেকে বিরত থাকলাম। আমি এটা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উল্লেখ করলাম। তিনি তাঁর আঙ্গুল দিয়ে তাঁর মুখের দিকে ইশারা করে বললেনঃ “তুমি লিখে রাখো, সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ, এ মুখ থেকে সত্য ব্যতীত অন্য কিছু বের হয় না”।
আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেনআব্দুল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট যা কিছু শুনতাম তা লিখে রাখতাম যেন লিখার সাহায্যে তা মুখস্থ করতে পারি। কুরাইশদের কিছু লোক আমাকে নিষেধ করলেন এবং বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন মানুষ রাগ ও শান্ত উভয় অবস্থায় কথা বলে থাকেন, কখনো তিনি ভুল করতে পারেন। সুতরাং আমি লেখা থেকে বিরত থাকলাম। তারপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কুরাইশরা যা বলেছে তার সংবাদ দিলাম। তিনি আঙ্গুল দিয়ে তাঁর মুখের দিকে ইশারা করে বললেনঃ তুমি লিখে রাখো, সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ, এ মুখ থেকে রাগ ও শান্ত সর্বাবস্থায় সত্য ব্যতীত অন্য কিছু বের হয় না। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে বলেছেন: (তিনি প্রবৃত্তি থেকে বলেন না*, তা তো কেবলই অহী যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়) [আন-নাজম ৩-৪]।
ওয়াছেলা ইবনুল আছকা‘ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফূ‘ সনদে বর্ণিত, “নিশ্চয় সবচেয়ে বড় মিথ্যাসমূহের অন্যতম হলো, কোনো ব্যক্তি কর্তৃক এমন কাউকে পিতা বলে দাবী করা যিনি তার পিতা নয়। অথবা আপন চক্ষু দিয়ে (স্বপ্নে) এমন কিছু দেখার দাবি করা যা দেখতে পায়নি। অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর এমন কথা বলার দাবি করা যা তিনি বলেন নি।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।মহান আল্লাহর ওপর সবচেয়ে কঠোর মিথ্যাচার হলো, কোনো ব্যক্তি নিজে তার আসল পিতাকে বাদ দিয়ে অপর কাউকে পিতা হওয়ার দাবি করলো বা অন্য কেউ তাকে অপরের সন্তান বললো আর সে উক্ত কথা স্বীকার করে নিল। এটি একটি বড় ধরনের মিথ্যাচার। আল্লাহর নিকট নিকৃষ্ট ও কঠোর মিথ্যাচারের আরেকটি হলো, কোনো ব্যক্তি কর্তৃক স্বপ্নে এমন কিছু দেখার দাবি করা যা সে মোটেও দেখেনি। আল্লাহর নিকট নিকৃষ্ট ও কঠোর মিথ্যাচারের আরেকটি হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি এমন কোনো কথা, কর্ম ও সমর্থনকে সম্পর্কযুক্ত করা যা তার থেকে পাওয়া যায়নি।
আবূ আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ ইবনু ’উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «بُنِيَ الإِسْلاَمُ عَلَى خَمْسٍ: شَهَادَةِ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَإِقَامِ الصَّلاَةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَالحَجِّ، وَصَوْمِ رَمَضَانَ» “ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি। -এ কথার সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো মাবূদ নেই এবং নিশ্চয় মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল। সালাত কায়েম করা, যাকাত দেয়া, হজ করা এবং রমযানের সাওম পালন করা।”
ইমাম বুখারী ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেননবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলামকে সুদৃঢ় পাঁচটি ভিত্তির উপর তুলনা করেছেন, যা উক্ত ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে আছে। ইসলামের অন্যান্য বিধানগুলো যেন উক্ত ভিত্তির পরিপূরক ও পূর্ণতাদানকারী। এসব রুকনের প্রথমটি হলো: দুটি সাক্ষ্য: আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো মাবূদ নেই এবং নিশ্চয় মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল -এ কথার সাক্ষ্য দান করা। এ দুটি কালিমার সাক্ষ্য দেওয়া মূলত একটি রুকন। একাংশ আরেক অংশ থেকে আলাদা হয় না। আল্লাহর তাওহীদের-একত্বের স্বীকৃতি ও তিনি একমাত্র ইবাদতের উপযুক্ত ।এ স্বীকৃতি সহকারে বান্দাহ এ কালিমা তার মুখে উচ্চারণ করবে, এর দাবি অনুযায়ী আমল করবে এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াতের উপর ঈমান আনায়ন ও তাঁর আনুসরণ করবে । দ্বিতীয় রুকন: সালাত কায়েম করা। আর তা হলো দিনে রাতে পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সালাত তার শর্তাবলি, রুকন ও ওয়াজিবসমূহ সহকারে আদায় করা। সেগুলো হলো: ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব ও ইশা। তৃতীয় রুকন: ফরয যাকাত দেয়া। এটি মূলত ধন-সম্পদের উপর ফরযকৃতএকটি ইবাদত।শরী‘আহ নির্দিষ্ট নিসাব পরিমাণ সম্পদ কারো কাছে থাকলে,যাকাত পাওয়ার হকদারদেরকে প্রদান করা ফরয করেছে। চতুর্থ রুকন: হজ করা। তা হলো আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে হজের কার্যাবলি পালনের জন্যে মক্কায় গমন করা। পঞ্চম রুকন: রমযানের সাওম পালন করা। আর তা হলো ইবাদতের নিয়তে রমযান মাসে ফজরের শুরু থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খাদ্য, পানীয় ও অন্যান্য সাওম ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ থেকে বিরত থাকা।
আবূ আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যিনি ’সত্যবাদী’ এবং ’সত্যবাদী বলে স্বীকৃত’ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, “তোমাদের প্রত্যেকের সৃষ্টি হলো এমন বীর্য থেকে যাকে মায়ের পেটে চল্লিশ দিন একত্রিত রাখা হয়। তারপর তেমনি সময়ে আলাক-রক্তপিন্ড হয়, তারপর তেমনি সময়ে মাংসপিন্ডে পরিণত হয়। তারপর আল্লাহ্ তার কাছে ফেরেশতা প্রেরণ করেন। এই ফেরেশতাকে চারটি বিষয় সম্পর্কে লেখার হুকুম দেয়া হয়। যার ফলে ফেরেশেতা তার রিযক, ’আমল, আয়ু এবং দুর্ভাগা কিংবা ভাগ্যবান হওয়া সম্পর্কে লিখে দেয়। তারপর তার মধ্যে প্রাণ ফুঁকে দেয়া হয়। এজন্যই তোমাদের কেউ জান্নাতীদের ’আমল করে এতটুকু এগিয়ে যায় যে, তার ও জান্নাতের মাঝে কেবল এক গজের দূরত্ব থাকতেই তার ওপর লিখিত তাক্দীর প্রবল হয়ে যায়। তখন সে জাহান্নামীদের ’আমল করে। শেষে সে জাহান্নামে প্রবেশ করে। আবার তোমাদের কেউ জাহান্নামীদের মত ’আমল করে এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, তার ও জাহান্নামের মাঝে মাত্র এক গজের দূরত্ব থাকতে তার উপর তাকদীরের লেখা প্রবল হয়, ফলে সে জান্নাতীদের মত ’আমল করে, শেষে জান্নাতেই প্রবেশ করে”।
ইমাম বুখারী ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনইবনু মাস‘ঊদ রদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেছেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর তিনি তার বর্ণনার ব্যাপারে সত্যবাদী এবং তিনি সত্যবাদী হিসেবে প্রত্যায়িত, যেহেতু আল্লাহ তা‘আলা তাকে সত্যায়ন করেছেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: নিশ্চয় তোমাদের যে কোন ব্যক্তির সৃষ্টির ধরন হলো: যখন কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীর কাছে গমন করে, তখন স্ত্রীর গর্ভে পৃথক হওয়া বীর্য চল্লিশ দিন পর্যন্ত নুত্বফা হিসেবে (নিষিক্ত অবস্থায় থাকে। এরপরে তা ‘আলাক্বায় পরিণত হয়, আর তা হল- জমাট রক্তপিণ্ড। আর এ অবস্থায় দ্বিতীয় চল্লিশ দিন অতিবাহিত হয়। তারপর তা চিবানো যাওয়া পরিমাণ মাংসের টুকরাতে পরিণত হয়। আর এ অবস্থায় তৃতীয় চল্লিশ দিন অতিবাহিত হয়। তারপরে আল্লাহ তা‘আলা তার প্রতি ফেরেশতা প্রেরণ করেন, তৃতীয় চল্লিশ দিন পার হওয়ার পরে উক্ত ফেরেশতা তার মধ্যে রূহ ফুঁকে দেন। এবং ফেরেশতাকে চারটি বিষয় লিখার আদেশ দেওয়া হয়: তা হচ্ছে- তার রিযিক, উক্ত ব্যক্তি তার গোটা জীবনে কী পরিমাণ নি‘আমাত ভোগ করবে। এবং তার সময়কাল, তথা- দুনিয়াতে তার অবস্থান কাল। তার আমল: সে কী হবে? দুর্ভাগা নাকি সৌভাগ্যবান। তারপরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কসম করেছেন যে, একজন ব্যক্তি জান্নাতীদের আমলই করতে থাকে। তার্গেআমললো মানুষের বাহ্যিক দৃষ্টিতে নেক আমলই হয়। এমনকি তার ও জান্নাতের মধ্যে মাত্র একগজ দূরত্ব বাকী থাকে, অর্থ্যাৎ: জান্নাতে প্রবেশ করা ও তার মধ্যে মাত্র এতটুকু দূরত্ব থাকে, যেভাবে কোন ভুমিতে প্রবেশের সময় একগজ পরিমাণ দূরত্ব বাকী থাকে। তখন তার ভাগ্য-লিখন ও তার জন্য নির্ধারিত বিষয় তার দিকে অগ্রসর হয়, এ সময়ে সে জাহান্নামীদের ন্যায় আমল করে, আর এটিই তার শেষ অবস্থা হয়, এ কারণে সে জাহান্নামে প্রবেশ করে। কেননা আমল কবূল হওয়ার জন্য তার উপরে সুদৃঢ় থাকা এবং (অবস্থার) পরিবর্তন না করা শর্ত। অপরপক্ষে মানুষের মধ্যে এমন একদল মানুষ রয়েছে, যারা জাহান্নামীদের মত আমল করে সেখানে প্রবেশের কাছাকছি চলে যায়, এমনকি তার মধ্যে এবং জাহান্নামের মধ্যে মাত্র একগজ যমীন পরিমাণ দূরত্ব বাকী থাকে। তখন তার ভাগ্য-লিখন ও তার জন্য নির্ধারিত বিষয় তার দিকে অগ্রসর হয়, তখন সে জান্নাতীদের মত আমল করতে থাকে এবং জান্নাতে প্রবেশ করে।
উম্মুল মুমেনীন ‘আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “কেউ আমাদের এ শরী‘আতে নাই এমন কিছুর অনুপ্রবেশ ঘটালে তা প্রত্যাখ্যাত।” মুসলিমের অপর বর্ণনায় রয়েছে: “যে এমন আমল করল যার উপর আমাদের হুকুম নেই তা প্রত্যাখ্যাত”।
ইমাম বুখারী ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেননবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে বর্ণনা করেছেন, যে ব্যক্তি দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু আবিষ্কার করলো, অথবা এমন কোনো আমল করলো যার দলীল কুরআন ও হাদীসে নেই, তবে সেসব আমল আবিস্কারকারীর দিকে প্রত্যাখ্যাত হবে এবং আল্লাহর কাছে অগ্রহণযোগ্য।
আবূ হুরায়রা আব্দুর রহমান ইবনু সাখর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: আমি যা থেকে তোমাদেরকে নিষেধ করেছি, তোমরা তা থেকে বেঁচে থাক। আর যা করতে আদেশ করেছি তা তোমরা সাধ্যানুসারে বাস্তবায়ন কর। কেননা, তোমাদের আগে যারা ছিল, তাদের অধিক প্রশ্ন এবং তাদের নবীদের সঙ্গে মতবিরোধ তাদেরকে ধ্বংস করেছে।
ইমাম বুখারী ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনআল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, যদি তিনি আমাদের কোন কিছু থেকে নিষেধ করেন, তাহলে আমাদের অবশ্যই তা পরিহার করতে হবে এবং যদি তিনি আমাদের কোন কিছু করার নির্দেশ দেন, তাহলে আমাদের অবশ্যই তা যথাসাধ্য পালন করতে হবে। তারপর তিনি আমাদের সতর্ক করে দিয়েছেন যে আমরা পূর্ববর্তী কতক জাতির মতো না হই, যখন তারা তাদের নবীদের অবাধ্য হয়ে অনেক প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেছিল, তাই আল্লাহ তা‘আলা তাদের বিভিন্ন ধরণের ধ্বংস ও অনিষ্টের দ্বারা শাস্তি দিয়েছেন। আমাদের তাদের মতো হওয়া উচিত নয় যাতে আমরা তাদের মতো ধ্বংস না হই, যেমন তারা ধ্বংস হয়েছিল।
আবূ হুরায়রাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা পবিত্র, তিনি পবিত্রতা ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করেন না। আর আল্লাহ তা’আলা তার প্রেরিত রাসূলদের যে হুকুম দিয়েছেন মুমিনদেরকেও সেই একই হুকুম দিয়েছেন। তিনি বলেন, يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا، إِنِّي بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ} “হে রাসূলগণ! তোমরা পবিত্র ও হালাল জিনিস আহার কর এবং ভাল কাজ কর। আমি তোমাদের কৃতকর্ম সম্বন্ধে জ্ঞাত।" (আল মু’মিনূন, আয়াত:৫১) তিনি আরো বলেন, {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ} “তোমরা যারা ঈমান এনেছো শোনা আমি তোমাদের যে সব পবিত্র জিনিস রিযিক হিসেবে দিয়েছি তা খাও”— (আল বাকারাহ, আয়াত:১৭২)। অতঃপর তিনি এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন, যে দূর-দূরান্ত পর্যন্ত দীর্ঘ সফর করে। ফলে সে ধুলি ধূসরিত রুক্ষ কেশধারী হয়ে পড়ে। অতঃপর সে আকাশের দিকে দুই হাত তুলে বলে, “হে আমার প্রতিপালক! “হে আমার প্রতিপালক! অথচ তার খাদ্য হারাম, পানীয় হারাম, পরিধেয় বস্ত্র হারাম এবং আহার্যও হারাম। কাজেই এমন ব্যক্তির ডাকে কী করে সাড়া দেয়া হবে?”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেননবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বলেছেন যে আল্লাহ পবিত্র, মুক্ত, সমস্ত ত্রুটি এবং দোষের ঊর্ধ্বে এবং পরিপূর্ণতার গুণে বিশেষিত, তিনি পবিত্র আমল, কথা ও বিশ্বাস ছাড়া কিছুই গ্রহণ করেন না; আর তা হল একমাত্র আল্লাহ্র জন্য খালিস এবং নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশনা মোতাবেক আমল। এই আমল ছাড়া আল্লাহ্র সান্নিধ্য লাভ করা সম্ভব নয়। মুমিনের জন্য পবিত্র আমল হাসিল হওয়ার সবচেয়ে বড় উপায় হল তার পবিত্র খাদ্য এবং তা যেন হালাল হয়। আর এইভাবে তার আমল বিশুদ্ধ হবে। এই কারণে আল্লাহ তা‘আলা রাসূলদেরকে যে পবিত্র খাবার খাওয়া ও নেক আমল করার নির্দেশ দিয়েছেন মুমিনদেরকেও তার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: {يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا، إِنِّي بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ} “হে রাসূলগণ! তোমরা পবিত্র বস্তু থেকে আহার কর এবং সৎকর্ম কর, নিশ্চয়ই তোমরা যা কর আমি তা জানি”। এবং তিনি বললেনঃ {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ} “হে ঈমানদারগণ, আমরা তোমাদেরকে যে উত্তম জিনিস দিয়েছি তা থেকে খাও”। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হারাম জিনিস খাওয়ার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন যা আমলকে নষ্ট করে এবং তা কবূল হওয়া থেকে বিরত রাখে, কবূল করার যত উপায় গ্রহণ করা হোক না কেনো। তার মধ্যে হল: প্রথমত: আনুগত্যের উদ্দেশ্যে ভ্রমণ দীর্ঘায়িত করা যেমন হজ, জিহাদ, আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখা ইত্যাদি। দ্বিতীয়তঃ চিরুনি না করার কারণে এলোমেলো চুল হয়ে যাওয়া এবং ময়লার (মাটির) কারণে তার রং ও তার কাপড়ের রংপরিবর্তিত হওয়া, অধিকন্তু সে অসহায়। তৃতীয়ত: তিনি দোয়া করতে দু'হাত আকাশে উত্তোলন করেন। চতুর্থত: সে আল্লাহর নামসমূহের উসিলায় প্রার্থনা করে এবং এই বলে অনুনয় করে: হে রব, হে রব! দোয়া কবূলের এই কারণগুলো থাকা সত্ত্বেও তার দোয়া শোনা হয়নি; কারণ তার খাবার, পানীয়, পোশাক সবই হারাম এবং হারাম খাবার খাওয়ানো হয়েছে তাকে, তাই এই বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন কারো ডাকে সাড়া দেওয়া অসম্ভব। আর কিভাবেই তার দোয়া কবূল করা হবে?