





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে মাওকূফ হিসেবে বর্ণিত: “কুরসী দুই পায়ের স্থান আর আরশ, তার পরিমাণ নির্ধারণে কেউ সক্ষম নয়।”
ইবন খুযাইমাহ এটি ‘আত-তাওহীদ’ নামী কিতাবে বর্ণনা করেছেন। - এটি আব্দুল্লাহ ইবন আহমাদ “আস-সুন্নাহ” কিতাবে বর্ণনা করেছেন।“কুরসী দুই পায়ের স্থান” অর্থাৎ আল্লাহ তার নিজের সাথে যে কুরসীর সম্বোধন করেছেন তা হলো তার দুই পায়ের স্থান। ইবন আব্বাস কুরসীর এই যে অর্থ উল্লেখ করেছেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের নিকট এটিই প্রসিদ্ধ। আর তার থেকে এ অর্থই বিশুদ্ধভাবে বর্ণিত হয়েছে। আর কুরসীর অর্থ ইলম বলে যে বর্ণনা তার থেকে বর্ণিত তা বিশুদ্ধভাবে সংরক্ষিত নয়। অনুরূপভাবে হাসান থেকে কুরসীর অর্থ আরশ বলে যে বর্ণনা বর্ণিত তা দূর্বল। তার থেকে বর্ণনাটি সহীহভাবে পৌঁছে নি। আর তার বাণী: «والعَرْش لا يَقْدِرُ أحدٌ قَدْرَه» “আরশের পরিমাণ নির্ধারণে কেউ সক্ষম নয়।” অর্থাৎ যে আরশের উপর আল্লাহ আসন গ্রহণ করেছেন তা মহান মাখলুক। তার দৈর্ঘ ও প্রশস্তার পরিমাণ কত তা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া কেউ জানে না।
আব্দুল্লাহ ইবন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফ‘ হিসেবে বর্ণিত, একজন ইয়াহূদী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওায়াসাল্লামের নিকট এসে বলল, হে মুহাম্মাদ, আল্লাহ আসমানসমূহকে এক আঙ্গুলের ওপর ধরে রাখবেন, যমীনসমূহকে এক আঙ্গুলের ওপর ধরে রাখবেন, পাহাড়সমূহকে এক আঙ্গুলের ওপর ধরে রাখবেন, গাছ-পালাকে এক আঙ্গুলের ওপর ধরে রাখবেন এবং সমগ্র মাখলুককে আঙ্গুলের ওপর ধরে রাখবেন। তারপর তিনি বলবেন, আমি বাদশাহ। “ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেঁসে দিলেন যে, তার মাড়ির দাঁতগুলো বেড়িয়ে গেলো।” তারপর তিনি তিলাওয়াত করলেন, {তারা আল্লাহকে যথাযথ সম্মান পদর্শন করে নি।}
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।এ হাদীসটি আল্লাহর বড়ত্বের প্রমাণ, যেমন আসমানসমূহকে আল্লাহ নিজের মহান হাতের আঙ্গুলসমূহ থেকে একটি আঙ্গুলের উপর রাখবেন। আর মানুষের নিকট বড় ও মহান হিসেবে পরিচিত কয়েকটি মাখলুক গণনা করেছেন এবং জানিয়ে দিয়েছেন যে, এর প্রত্যেক প্রকারকে আল্লাহ তা‘আলা একটি আঙ্গুলে রাখবেন। যদি আল্লাহ তা‘আলা চান তাহলে আসমানসমূহ, যমীন এবং তাদের মাঝে যা কিছু আছে সবই তিনি তার আঙ্গুলসমূহ থেকে এক আঙ্গুলের ওপর রাখতে পারেন। এটি নবীদের থেকে প্রাপ্ত বিশেষ জ্ঞান যা নবীগণ আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহীর মাধ্যমে অর্জন করেছেন। এ কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়াহূদীর কথাকে সত্যায়ন করেছেন বরং তাতে তিনি বিস্মিত এবং খুশি হয়েছেন। এ কারণে তার সত্যায়নে তিনি হেঁসে দিলেন যাতে তার দাঁতগুলোও প্রকাশ পেল। যেমনটি আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু অন্য বর্ণনায় বলেছেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ আয়াত তিলাওয়াত করেন, {وَمَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ وَالْأَرْضُ جَمِيعًا قَبْضَتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَالسَّمَاوَاتُ مَطْوِيَّاتٌ بِيَمِينِهِ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ} “আর তারা আল্লাহকে যথাযোগ্য মর্যাদা দেয় নি। অথচ কিয়ামতের দিন গোটা পৃথিবীই থাকবে তাঁর মুষ্টিতে এবং আকাশসমূহ তাঁর ডান হাতে ভাঁজ করা থাকবে। তিনি পবিত্র, তারা যাদেরকে শরীক করে তিনি তাদের ঊর্ধ্বে।” [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৬৬] ইয়াহূদী যা বলেছে তার সত্যায়ন ও সাব্যস্ত করে আয়াতটি তিনি তিলাওয়াত করেছেন। আয়াতটিতে আল্লাহর দু’টি হাত সাব্যস্ত করা হয়েছে। আর যারা আল্লাহর সিফাত আঙ্গুলকে অর্থহীন (তা‘তীল) করে তার আঙ্গুলকে অস্বীকার করে তাদের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করতে নেই। তারা মনে করে আল্লাহর জন্যে আঙ্গুল সাব্যস্ত করলে তাকে মাখলুকের সাথে তুলনা করা হয়, অথচ সে জানে না এ ধরনের সিফাত সাব্যস্ত করলে মাখলুকের সাথে তার তুলনা আবশ্যক হয় না। যেমন, আমরা আল্লাহর জন্য হায়াত, কুদরত, শক্তি, শ্রবণ ও দর্শন সাব্যস্ত করি, অথচ তা আল্লাহকে মাখলুকের সাথে তুলনা করাকে প্রমাণ করে না। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা বলেন, {ليس كمثله شيء وهو السميع البصير} “তাঁর মতো কিছু নেই আর তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা।” [সূরা আশ-শুরা, আয়াত: ১১]
আবূ হুরাইরাহ রদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: যে আমার কোনো অলীর সাথে শত্রুতা করবে, আমি তার সাথে যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছি। আর আমি বান্দার উপর যা ফরয করেছি তার চেয়ে প্রিয় কোনো জিনিস নেই যার দ্বারা আমার নৈকট্য অর্জন করবে। আর বান্দা নফল ইবাদত দ্বারা আমার নৈকট্য অর্জন করতে থাকে, এক সময় আমি তাকে মহব্বত করি। আর আমি যখন তাকে মহব্বত করি, আমি তার কানে পরিণত হই, যার দ্বারা সে শ্রবণ করে এবং তার চোখে পরিণত হই, যার দ্বারা সে দেখে এবং তার হাতে পরিণত হই যার দ্বারা সে স্পর্শ করে এবং তার পায়ে পরিণত হই, যার দ্বারা সে হাঁটে, আর যদি সে আমার নিকট প্রশ্ন করে, আমি অবশ্যই তাকে দিব, আর যদি আমার নিকট পানাহ চায়, আমি অবশ্যই তাকে পানাহ দিব, আমি যা করতে চাই সেটা করতে কোনো দ্বিধা করি না, যেরূপ দ্বিধা করি মুমিনের নফসকে গ্রহণ করতে। সে মৃত্যুকে অপছন্দ করে আর আমি তাকে কষ্ট দিতে অপছন্দ করি।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ তাআলার বাণী বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহ বলেছেন: যে ব্যক্তি আমার কোনো অলীকে কষ্ট দেয়, তাকে রাগান্বিত করে বা তার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, আমি তাকে সতর্ক করছি এবং তার সাথে শত্রুতা ঘোষণা করছি। অলী হলো সেই মুমিন ব্যক্তি, যে তাকওয়া অবলম্বন করে। বান্দার ঈমান ও তাকওয়ার পরিমাণ অনুযায়ী সে আল্লাহর অলী হয় বা তাঁর বন্ধুত্ব লাভ করে। মুসলিম তার রবের নিকটবর্তী হওয়ার জন্য ফরয ইবাদতগুলো পালন করা এবং হারাম কাজগুলো ত্যাগ করার চেয়ে বেশি প্রিয় কোনো আমল নেই। মুসলিম ফরয ইবাদতের পাশাপাশি নফল ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নিকটবর্তী হতে থাকে, এমনকি এর মাধ্যমে সে আল্লাহর ভালোবাসা লাভ করে। যখন আল্লাহ কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন তিনি তার চারটি অঙ্গকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন: তিনি তার কানকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন, যাতে সে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টিজনক কথা শোনে। তিনি তার চোখকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন, যাতে সে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টিজনক জিনিস দেখে। তিনি তার হাতকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন, যাতে সে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টিজনক কাজ করে। তিনি তার পা কে সঠিক পথে পরিচালিত করেন, যাতে সে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হাঁটে এবং ভালো কাজের দিকে অগ্রসর হয়। এছাড়াও, যদি সে আল্লাহর কাছে কিছু চায়, তবে আল্লাহ তাকে তা দান করেন। তার দুআ কবুল হয়। আর যদি সে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে এবং তাঁর কাছে সুরক্ষা চায়, তবে আল্লাহ তাকে আশ্রয় দেন এবং যা সে ভয় করে তা থেকে তাকে রক্ষা করেন। এরপর আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আমি কোনো কাজ করতে ততটা দ্বিধান্বিত হই না, মুমিনের প্রাণ কব্জ করতে আমি যতটা দ্বিধান্বিত হই, তার প্রতি দয়াবশত :।" কারণ মুমিন মৃত্যুকে অপছন্দ করে, যাতে ব্যথা রয়েছে। আর আল্লাহ মুমিনের কষ্টকে অপছন্দ করেন।
আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “মানুষের মাঝে দুটি স্বভাব রয়েছে, যে দুটি তাদের ভেতর একধরনের(ছোট) কুফর বলে গণ্য: বংশের বদনাম করা এবং মৃতের জন্য বিলাপ করা”।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেননবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষদের ভেতর থাকা জাহিলি চরিত্র ও কাফিরদের দু’টি স্বভাব সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছেন। আর তা হলো: প্রথমটি: মানুষের বংশে কুৎসা রটনা করা এবং তাদের হেয়ো করা ও তাদের ওপর অহংকার করা। দ্বিতীয়টি: তাকদীরের ওপর অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে মুসিবতের সময় উচ্চ স্বরে আওয়াজ করা, অথবা কঠিন বিপদে কাপড় ছিড়ে ফেলা।
ইমরান ইবন হুসাইন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত: নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির হাতে পিতলের বালা দেখে জিজ্ঞেস করেন, এই বালাটা কী? সে বললো, এটা অবসন্নতা জনিত রোগের জন্য ধারণ করেছি। তিনি বললেন, “এটা খুলে ফেলো, কারণ তা তোমার অবসন্নতাই বৃদ্ধি করবে। যদি তুমি মারা যাও আর এটি তোমার কাছে রয়েছে, তবে তুমি কখনো সফল হবে না”।
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।ইমরান ইবন হুসাইন রাদিয়াল্লাহ ‘আনহু শির্কের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা ও মানুষকে তা থেকে মুক্ত করার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অবস্থান তুলে ধরেন। তার অবস্থান হলো, তিনি এক ব্যক্তিকে হলুদ বর্ণের পিতল দ্বারা নির্মিত একটি বালা পরিহিত দেখতে পেলেন। তারপর তিনি তাকে জিজ্ঞেস করেন, কোন জিনিসটি তাকে তা পরিধান করতে উদ্বুদ্ধ করল। তখন লোকটি বলল, সে তা পরিধান করছে যাতে ব্যথা থেকে রক্ষা পায়। তখন তিনি তাকে তাড়াতাড়ি তা ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। আর তাকে সংবাদ দিলেন যে, তা কোন উপকার করে না বরং তা তোমার ক্ষতি করে। বরং যে ব্যথার কারণে তা পরিধান করছে তা তার ব্যথা আরও বৃদ্ধিই করবে। এর চেয়ে আরও বড় বিষয় হলো, যদি তার মৃত্যু পর্যন্ত তার ওপর তা দীর্ঘায়িত হয়, সে আখিরাতে সফলতা থেকে বঞ্চিত হবে।
আবূ হুরাইরাহ্ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘তোমরা কি জান, নিঃস্ব কে?’’ তাঁরা বললেন, ‘আমাদের মধ্যে নিঃস্ব ঐ ব্যক্তি, যার কাছে কোন দিরহাম এবং কোন মাল-সম্পদ নেই।’ তিনি বললেন, ‘‘আমার উম্মতের মধ্যে (আসল) নিঃস্ব তো সেই ব্যক্তি , যে কিয়ামতের দিন সালাত, সিয়াম ও যাকাত (এর নেকি) নিয়ে উপস্থিত হবে। (কিন্তু এর সাথে সাথে) সে এ অবস্থায় আসবে যে, সে কাউকে (দুনিয়াতে) গালি দিয়েছে, কারো প্রতি অপবাদ আরোপ করেছে, কারো (অবৈধরূপে) মাল ভক্ষণ করেছে, কারো রক্তপাত করেছে এবং কাউকে মেরেছে। অতঃপর এ (অত্যাচারিত)কে তার নেকী থেকে দেওয়া হবে, ওকে তার নেকী দেওয়া হবে। পরিশেষে যদি তার নেকীরাশি অন্যান্যদের দাবী পূরণ করার পূর্বেই শেষ হয়ে যায়, তখন তাদের পাপরাশি নিয়ে তার উপর চাপিয়ে দেয়া হবে। অতঃপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।’’
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেননবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমরা কি জানো কে নিঃস্ব? তারা বললঃ আমাদের মধ্যে নিঃস্ব সেই ব্যক্তি যার কাছে কোন টাকা-পয়সা ও মাল-সম্পদ নেই।, তিনি বললেনঃ কিয়ামতের দিন আমার উম্মতের মধ্য থেকে সেই ব্যক্তি নিঃস্ব যে সালাত, সিয়াম ও যাকাত এর নেক আমল নিয়ে হাজির হবে, সে এমন অবস্থায় হাজির হবে যে, একে গাল-মন্দ করেছে; একে তার সম্মানে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে; এই ব্যক্তির অর্থ গ্রাস করেছে এবং তা অস্বীকার করেছে; এই ব্যক্তির রক্তপাত করেছে এবং তার উপর জুলুম করেছে: এবং তাকে আঘাত করেছে এবং তাকে লাঞ্ছিত করেছে; কাজেই তার নেকি থেকে মাজলূমদের দেওয়া হবে; যদি তার ওপর যেসব অধিকার ও প্রাপ্য রয়েছে তা পরিশোধ করার আগেই তার নেকি শেষ হয়ে যায়, তাহলে মাজলুমদের পাপ নিয়ে জালিমের আমলনামায় রাখা হবে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে, কারণ তার কোনো নেকি অবশিষ্ট নেই।
আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “সোনা-রূপার অধিকারী যেসব লোক এ হক (যাকাত) আদায় করে না, কিয়ামতের দিন তার ঐ সোনা-রূপা দিয়ে তার জন্য আগুনের অনেক পাত তৈরি করা হবে, অতঃপর তা জাহান্নামের আগুনে গরম করা হবে। অতঃপর তা দিয়ে কপাল, পার্শ্বদেশ ও পিঠে দাগ দেয়া হবে। যখনই ঠাণ্ডা হয়ে আসবে পুনরায় তা উত্তপ্ত করা হবে। এরূপ করা হবে এমন একদিন যার পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। আর তার এরূপ শাস্তি লোকদের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকবে। অতঃপর তাদের কেউ পথ দেখবে জান্নাতের আর কেউ জাহান্নামের দিকে”। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রসূল! উটের (মালিকের) কী অবস্থা হবে? তিনি বললেন, “যে উটের মালিক তার উটের হক আদায় করবে না তার উটের হকগুলোর মধ্যে পানি পানের তারিখে তার দুধ দোহন করে অন্যদেরকে দান করাও একটি হক, যখন কিয়ামতের দিন আসবে তাকে এক সমতল ময়দানে উপুড় করে ফেলা হবে। অতঃপর তার উটগুলো মোটাতাজা হয়ে আসবে। এর বাচ্চাগুলোও এদের অনুসরণ করবে। এগুলো আপন আপন খুর দ্বারা তাকে পায়ে মাড়াতে থাকবে এবং মুখ দ্বারা কামড়াতে থাকবে। এভাবে যখন একটি পশু তাকে অতিক্রম করবে অপরটি অগ্রসর হবে। সারাদিন তাকে এরূপ শাস্তি দেয়া হবে। এ দিনের পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। অতঃপর বান্দাদের বিচার শেষ হবে। তাদের কেউ জান্নাতের দিকে আর কেউ জাহান্নামের দিকে পথ ধরবে”। অতঃপর জিজ্ঞেস করা হলো- হে আল্লাহর রসূল! গরু-ছাগলের (মালিকদের) কী অবস্থা হবে? উত্তরে তিনি বললেন, “যেসব গরু ছাগলের মালিক এর হক আদায় করবে না কিয়ামতের দিন তাকে এক সমতল ভূমিতে উপুড় করে ফেলে রাখা হবে। আর তার সে সব গরু ছাগল তাকে শিং দিয়ে আঘাত করতে থাকবে এবং খুর দিয়ে মাড়াতে থাকবে। সেদিন তার একটি গরু বা ছাগলের শিং বাকা বা শিং ভাঙ্গা থাকবে না এবং তাকে মাড়ানোর ব্যাপারে একটিও অনুপস্থিত দেখতে পাবে না। যখন এদের প্রথমটি অতিক্রম করবে দ্বিতীয়টা এর পিছে পিছে এসে যাবে। সারাদিন তাকে এভাবে পিষা হবে। এ দিনের পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। অতঃপর বান্দাদের বিচার শেষ হবে এবং তাদের কেউ জান্নাতের দিকে আর কেউ জাহান্নামের দিকে পথ ধরবে’। অতঃপর জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রসূল! ঘোড়ার (মালিকের) কী অবস্থা হবে? তিনি (উত্তরে) বললেন, “ঘোড়া তিন প্রকারের- যে ঘোড়া তার মালিকের জন্য গুনাহের কারণ হয়, যে ঘোড়া তার মালিকের পক্ষে আবরণ স্বরূপ এবং যে ঘোড়া মালিকের জন্য সাওয়াবের কারণ স্বরূপ। বস্তুতঃ সে ঘোড়াই তার মালিকের জন্য বোঝা বা গুনাহের কারণ হবে, যা সে লোক দেখানোর জন্য অহংকার প্রকাশের জন্য এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে শত্রুতা করার উদ্দেশে পোষে। আর যে ব্যক্তি তার ঘোড়াকে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের জন্য পোষে এবং এর পিঠে সওয়ার হওয়া এবং খাবার ও ঘাস দেয়ার ব্যাপারে আল্লাহর হক ভুলে না, এ ঘোড়া তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখার জন্য আবরণ হবে। আর যে ব্যক্তি মুসলিমদের সাহায্যের জন্য আল্লাহর রাস্তায় ঘোড়া পোষে এবং কোন চারণভূমি বা ঘাসের বাগানে লালন পালন করতে দেয় তার এ ঘোড়া তার জন্য সাওয়াবের কারণ হবে। তার ঘোড়া চারণভূমি অথবা বাগানে যা কিছু খাবে তার সমপরিমাণ তার জন্য সাওয়াব লেখা হবে। এমনকি এর গোবর ও প্রস্রাবে সাওয়াব লেখা হবে। আর যদি তা রশি ছিড়ে একটি বা দুটি মাঠেও বিচরণ করে তাহলে তার পদচিহ্ন ও গোবরের সমপরিমাণ নেকী তার জন্য লেখা হবে। এছাড়া মালিক যদি কোন নদীর তীরে নিয়ে যায়- আর সে নদী থেকে পানি পান করে অথচ তাকে পানি পান করানোর ইচ্ছা মালিকের ছিল না তথাপি পানির পরিমাণ তার ’আমলনামায় সাওয়াব লেখা হবে”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়েক প্রকার সম্পদ এবং যে তার যাকাত দিবে না কিয়ামতের দিন তার শাস্তির কথা উল্লেখ করেছেন। তন্মধ্যে হল: প্রথমটি: সোনা ও রূপা এবং অনুরূপ সম্পদ ও ব্যবসায়িক পণ্য, যার মধ্যে যাকাত ওয়াজিব ছিল কিন্তু তার যাকাত প্রদান করা হয়নি, তাই কিয়ামতের দিন তা গলিয়ে পাতের সুরুতে ঢেলে দেওয়া হবে এবং জাহান্নামের আগুনে তা প্রজ্জলিত করা হবে এবং তার দ্বারা তার মালিককে শাস্তি দেওয়া হবে; তা দিয়ে তার কপাল, পার্শ্বদেশ ও পিঠ সেকা দেওয়া হবে; যখনই তা ঠান্ডা হবে তখনই তা পোড়ানো হবে এবং শাস্তির এই অবস্থার ওপর কিয়ামতের দিন জুড়ে থাকবে যার সময়কাল পঞ্চাশ হাজার বছর, যতক্ষণ না আল্লাহ সৃষ্টির মধ্যে বিচার করবেন। তারপর তারা জান্নাতবাসী হবে অথবা জাহান্নামবাসী হবে। দ্বিতীয়টি: উটের মালিক যে তার উটের ফরয যাকাত ও হক আদায় করে না, তার একটি হক হল হাজির দরিদ্রদের তার দুধ পান করানো, এই উটগুলি সংখ্যায় অনেক বেশি এবং মোটাতাজা করে আনা হবে এবং তাদের মালিককে কিয়ামতের দিন তাদের জন্য প্রশস্ত, সমতল প্রসারিত ভূমিতে ফেলে লম্বা করে শুইয়ে দেওয়া হবে; তাদের পায়ে মাড়াবে এবং দাঁত দিয়ে কামড় দেবে, যখনই তারা এর উপর দিয়ে যাবে তাদের মধ্যে শেষেরটি প্রথমটি পাবে। তাদের মধ্যে তাঁর কাছে ফিরে এসেছে, এবং তিনি এই আযাবের মধ্যে থাকবেন কেয়ামতের দিন, যা পঞ্চাশ হাজার বছর দীর্ঘ, যতক্ষণ না আল্লাহ সৃষ্টির মধ্যে বিচার করেন এবং তিনি জান্নাতবাসীদের মধ্যে থাকবেন নাকি জাহান্নামীদের মধ্যে থাকবেন। তৃতীয়: গরু ও ভেড়ার -দুম্বা ও ছাগলের- মালিক যে তাদের ফরজ জাকাত প্রদান করে না, সেগুলো আরো বেশী সংখ্যায় আনা হবে যা কোনো অঙ্গ ছাড়া থাকবে না এবং সেগুলোর জন্য তাদের মালিককে একটি প্রশস্ত, সমতল প্রসারিত ভূমিতে ছড়িয়ে লম্বা করে ফেলে রাখা হবে; তাতে বাঁকা শিং, শিং বিহীন এবং ভাঙ্গা শিংওয়ালা থাকবে না, বরং সেগুলো সবচেয়ে নিখুঁত বৈশিষ্ট্যের ওপর হবে, এগুলো তাকে নিজের শিং দিয়ে আঘাত করবে, পায়ে দিয়ে মাড়াবে; যখনই তার ওপর দিয়ে শেষটি অতিক্রম করবে প্রথমটি আবার ফিরিয়ে আনা হবে। এই আযাবের অবস্থা পঞ্চাশ হাজার বছর দীর্ঘ কেয়ামতের দিন জুড়ে চলতে থাকবে, যতক্ষণ না আল্লাহ সৃষ্টির মধ্যে বিচার করবেন, তারপর তারা জান্নাতী বা জাহান্নামী হবে। চতুর্থ: ঘোড়ার মালিকেরা তিন প্রকার: প্রথম: ঘোড়া তার মালিকের জন্য বোঝা। যিনি এটিকে লোক দেখানো, অহংকার এবং ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য পোষেণ। দ্বিতীয়: ঘোড়া তার মালিকের জন্য আবরণ স্বরূপ। যিনি এটিকে আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য পোষেণ, তারপর তার সাথে সদয় আচরণ করেন, তাকে পশুখাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজন সরবরাহ করেন। আরেকটি সেবা হল মাদির ওপর নরকে চড়ানো। তৃতীয়: ঘোড়া তার মালিকের জন্য সাওয়াবের কারণ। যিনি এটি মুসলিমদের জন্য আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের উদ্দেশ্যে পোষেণ। এটি যখন চরানোর জন্য তৃণভূমি ও চারণগাহে থাকে তখন এটি এমন কিছু খায় না যার সংখ্যা অনুসারে তার জন্য তা নেক আমল হিসাবে লিপিবদ্ধ করা হয় না। তার গোবর ও প্রস্রাবের সংখ্যা অনুপাতেও তার জন্য নেক আমল লিপিবদ্ধ করা হয়। আর সে তার রশির দৈর্ঘ্য অতিক্রম করে না এবং এমন চলন চলে না এবং এমন দৌড়ঝাঁপ করে না যার পদ চিহ্নের আলামত ও গোবরের সখ্যা অনুসারে তার জন্য নেক আমল লিপিবদ্ধ করা হয় না। এর মালিক এমন নদীর পাশ দিয়ে যায় নি যেখান থেকে সে পান করেছে এবং তাকে এমন পান করায়নি যার সংখ্যা অনুসারে তার জন্য আল্লাহ সাওয়াব লিপিবদ্ধ করেনি। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গাধা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল, সেটি কী ঘোড়ার মতই? তিনি বললেন, দুর্লভ উদাহরণ বিশিষ্ট এই আয়াতটি ছাড়া তার ব্যাপারে বিশেষ কোনো বিধান নাযিল হয়নি। এটি সকল প্রকার আনুগত্য ও পাপকে শামিল করে। আর তা হল আল্লাহর বাণী: {فمن يعمل مثقال ذرة خيرًا يره، ومن يعمل مثقال ذرة شرًا يره}. [الزلزلة: 8] [যে ব্যক্তি অণু পরিমাণ একটি ভাল কাজ করবে সে তার শুভ প্রতিফল পাবে আর যে এক অণু পরিমাণ মন্দ কাজ করবে সে তার মন্দ ফল ভোগ করবে।] অর্থাৎ যে গাধা পোষে আনুগত্য আঞ্জাম দিবে সে তার সাওয়াব দেখতে পাবে; যদি পাপ করে তাহলে তার শাস্তিও দেখতে পাবে। এটি প্রত্যেক আমলকে শামিল করে।
আদী ইবনু হাতিম রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের প্রত্যেকের সঙ্গে তার রব অতি সত্বর কথা বলবেন। তার ও আল্লাহর মাঝখানে কোন অনুবাদক থাকবে না। এরপর সে তাকাবে ডান দিকে, তখন তার আগের ’আমল ব্যতীত সে আর কিছু দেখবে না। আবার তাকাবে বাম দিকে, তখনো আগের ’আমল ব্যতীত আর কিছু সে দেখবে না। আর সামনে তাকাবে তখন সে (জাহান্নামের) আগুন ব্যতীত আর কিছুই দেখতে পাবে না। কাজেই আগুন থেকে ভয় কর এক টুকরো খেজুরের বিনিময়ে হলেও”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিচ্ছেন যে, প্রত্যেক মুমিন কেয়ামতের দিন আল্লাহর সামনে একাকী দাঁড়াবে এবং মহান আল্লাহ তার সাথে কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই কথা বলবেন এবং তাদের মধ্যে অনুবাদ করার জন্য কোনো অনুবাদক থাকবে না। ফলে সে তীব্র ভয়ে ডানে বামে তাকাবে একটা পথ খুঁজে পাওয়ার আশায় যেই পথ ধরলে সামনে থাকা আগুন থেকে তার নাজাত মিলবে। কাজেই যখন সে তার ডান দিকে তাকাবে তখন পূর্বে প্রেরণ করা নেক আমল ছাড়া কিছুই দেখবে না। আর যখন সে তার বাম দিকে তাকাবে তখন তার পূর্বে প্রেরণ করা খারাপ আমল ছাড়া কিছুই দেখবে না। আবার যখন সে তার সামনে তাকাবে তখন আগুন ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাবে না এবং সে তা বাদ দিয়ে ভিন্ন পথ গ্রহণ করতে পারবে না, কারণ তাকে অবশ্যই (পুল) সিরাতের উপর দিয়ে অতিক্রম করতে হবে। অতঃপর তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তোমরা তোমাদের ও জাহান্নামের মধ্যে দান-খয়রাত ও সৎকাজের সুরক্ষা গ্রহণ কর, যদিও তা অর্ধ খেজুরের মত সামান্য কিছুর দ্বারা হয়।
‘উকবা ইবন ‘আমের আল জুহানী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট (বাইআত করার উদ্দেশ্যে) (১০ জনের) একটি দল উপস্থিত হলেন। তিনি নয়জনের নিকট থেকে বাইয়াত নিলেন। আর মাত্র একজন লোকের নিকট হতে বাইআত নিলেন না। সকলে বললেন: ’হে আল্লাহর রাসূল! আপনি নয় জনের বাইআত গ্রহণ করলেন; কিন্তু এর করলেন না কেন?’ উত্তরে তিনি বললেন: “ওর দেহে কবচ-তাবীয রয়েছে তাই।” অতঃপর সে নিজ হাতে তা ছিঁড়ে ফেলল। সুতরাং তার নিকট থেকেও বাইআত নিলেন এবং বললেন: “যে ব্যক্তি কবচ-তাবীয লটকালো, সে শিরক করল।”
এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।একদল লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এলেন। তাদের সংখ্যা ছিল দশ জন। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের মধ্যে নয় জনের সাথে ইসলাম ও অনুসরণের উপর বাইয়াত (শপথ) নিলেন, কিন্তু দশম ব্যক্তির সাথে বাইয়াত নিলেন না। যখন তাঁকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করা হলো, তখন তিনি বললেন: তার গলায় তাবীয রয়েছে। তাবীয হলো সেই জিনিস যা চোখের দৃষ্টি বা ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য পুঁতি বা অন্যান্য জিনিস দিয়ে তৈরি করা হয় এবং গলায় বা শরীরের অন্য কোনো স্থানে বেঁধে রাখা হয়। তারপর সেই ব্যক্তি তার হাত তাবীযের স্থানে নিল এবং তা কেটে ফেলে দিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথে বাইয়াত নিলেন এবং তাবীয সম্পর্কে সতর্ক করে এর বিধান ব্যাখ্যা করে বললেন: "যে ব্যক্তি তাবীয ঝুলিয়ে রাখে, সে শির্ক করে।"