





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
রুয়াইফা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “হে রুওয়াফা, হতে পারে তোমার হায়াত দীর্ঘ হবে। তুমি মানুষকে জানিয়ে দাও যে, যে তার দাঁড়িতে গিরা লাগায় অথবা গলায় পুঁথি জুলায় অথবা গোবর অথবা হাঁড় দ্বারায় পবিত্রতা অর্জন করে অবশ্যই মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার থেকে মুক্ত”।
এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানিয়ে দেন যে, এ সাহাবী দীর্ঘ জীবন লাভ করবেন। এমনকি সে এমন লোকদের দেখতে পাবে যারা রাসূলের আদর্শ দাঁড়ি লম্বা ও সম্মান করার বিপরীতে তা নিয়ে এমনভাবে তামাশা করবে যাতে রয়েছে অনারব, বিলাসী ও কুরুচিপূর্ণ লোকের সাদৃশ্য। অথবা তারা বিভিন্ন শিরকী উপকরণ ব্যবহারের মাধ্যমে তাওহীদের বিরোধিতা করবে, যেমন তারা গলায় মালা ঝুলাবে অথবা তাদের জন্তুগুলোকে পরাবে যাতে তাদেরকে ক্ষতি থেকে বাঁচাতে পারে। অথবা এ সব লোক এমন কর্ম করবে যা করতে তাদেরকে তাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। যেমন তারা জন্তুর গোবর বা হাড্ডি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করবে। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবীকে অসিয়ত করেন যে, সে যেন উম্মতকে জানিয়ে দেয় যে, যারা এ ধরনের কোন কর্ম করবে নবী তার থেকে মুক্ত।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “ফিরিশতাদেরকে আলো থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। জিন্ন জাতিকে সৃষ্টি করা হয়েছে অগ্নিশিখা থেকে। আর আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে সেই বস্তু থেকে, যা তোমাদেরকে বর্ণনা করা হয়েছে।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সৃষ্টির সূচনা সম্পর্কে সংবাদ দেন। তিনি উল্লেখ করেন, ফিরিশতাদেরকে নূর বা আলো থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। এ কারণেই তারা কখনোই আল্লাহর অবাধ্য হন না এবং তাঁর ইবাদাত থেকে বিচ্যুত হন না। আর জিন্ন সম্পর্কে তিনি বলেন, জিন্ন জাতিকে সৃষ্টি করা হয়েছে অগ্নিশিখা থেকে। এ কারণেই তাদের অধিকাংশই অসংলগ্ন, অনর্থক ও সীমালঙ্ঘনপূর্ণ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত। আর আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে সেই বস্তু থেকে, যা তোমাদেরকে বর্ণনা করা হয়েছে। অর্থাৎ কাদা মাটি থেকে, মাটি থেকে, শুষ্ক ঠনঠনে মাটি যা পোড়া মাটির ন্যায় তা থেকে। কারণ, মাটি কাদাতে রূপান্তরিত হয়। অতঃপর ঠনঠনে হয়। অতঃপর তা থেকে আদম আলাইহিস সালাত ও সালামকে সৃষ্টি করা হয়েছে। রিযাদুস সালেহীনের ব্যাখ্যা (৬/৬৬১)।
আবূ উমামা আল-বাহিলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন) “আমার মহান রব আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি আমার উম্মতের সত্তর হাজার লোককে বিনা হিসাব ও বিনা আযাবে জান্নাতে দাখিল করবেন এবং প্রতি হাজারের সাথে থাকবে আরও সত্তর হাজার করে এবং আরো থাকবে আমার মহান রবের তিন মুঠো পরিমাণ।”
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সংবাদ দেন যে, নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা তাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি তার উম্মাতের সত্তর হাজার লোককে বিনা হিসাবে এবং বিনা শাস্তিতে জান্নাতে দাখিল করবেন। আর প্রতি হাজারের সাথে আরও সত্তর হাজার লোককে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আর আল্লাহ স্বীয় হাত দ্বারা তিন মুঠো পরিমাণ লোককে ধরবেন এবং তাদের জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।
ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে মারফূ হিসেবে বর্ণিত, “নিশ্চয় আত্মীয়তা সম্পর্ক এমন একটি সম্পর্ক যা রহমানের কোমরকে আঁকড়ে ধরে থাকে। যে ব্যক্তি তার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখেন তিনি তার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখেন আর যে তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে তিনি তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেন।”
এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।নিশ্চয় আত্মীয়তার সম্পর্কের আল্লাহর সাথে একটি বন্ধন রয়েছে। বস্তুত এ নামটিই নেওয়া হয়েছে রহমান নাম থেকে। এ হাদীসটি সামগ্রিকভাবে সিফাতের হাদীসসমূহের একটি হাদীস যেগুলো সম্পর্কে ইমামগণ স্পষ্ট করেছেন যে, এগুলো যেভাবে বর্ণিত সেভাবেই রাখা হবে। আর যারা এ ধরনের হাদীসের দাবিকে অস্বীকার করেছেন তারা তাদের প্রতিবাদ করেছেন। আর الحُجزة শব্দটি ঐ সব সিফাতগুলোর একটি যে গুলোতে কোনো প্রকার বিকৃতি করা, অর্থহীন করা, ধরণ বর্ণনা ও তুলনা করা ছাড়া ঈমান আনা ওয়াজিব। সুতরাং, আমরা এ কথা বিশ্বাস করব যে, আত্মীয়তা হলো এমন একটি সম্পর্ক যা মজবুত করে ধরতে হবে। আর যে ব্যক্তি তার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখেন আল্লাহ তা‘আলা তার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখেন আর যে তার সাথে সম্পর্ক ছিহ্ন করে এবং আত্মীয়ের সাথে সম্পর্ক বজায় না রাখে তিনি তার সাথে সম্পর্ক ছিহ্ন করেন। আর যার সাথে আল্লাহ সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করল সে অবশ্যই আল্লাহর শত্রু বিতাড়িত শয়তানের সাথে বঞ্চিতদের অন্তর্ভুক্ত। যদি সমস্ত মাখলুক তার সাথে সম্পর্ক রাখার ইচ্ছা করে বা তার কোনো উপকার করতে চায়, তা তার কোনো উপকারে আসবে না।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ সকল কিছুকে সৃষ্টি করলেন। অতঃপর যখন তিনি সৃষ্টি কাজ শেষ করলেন, তখন আত্মীয়তার সম্পর্ক (রেহেম) উঠে দাঁড়ালো এবং রহমানের কোমর আঁকড়ে ধরল। তখন তিনি বললেন, তুমি থামো, সে (রেহেম) বলল, এটা হচ্ছে আপনার নিকট বিচ্ছিন্নতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনাকারীর স্থান।’ তিনি (আল্লাহ) বললেন, ‘তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তোমার সাথে যে সু-সম্পর্ক রাখবে, আমিও তার সাথে সু-সম্পর্ক রাখব। আর যে তোমার থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করবে, আমিও তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করব?’ সে (রেহেম/ রক্ত সম্পর্ক) বলল, ‘অবশ্যই হে আমার রব।’ আল্লাহ বললেন, ‘তাহলে এ মর্যাদা তোমাকে দেওয়া হলো।” অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “তোমরা চাইলে (এ আয়াতটি) পড়ে নাও; «قال: فإذا قال ذلك قال الشيطانُ: حُفِظَ منِّي سائرَ اليوم» ‘ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে সম্ভবতঃ তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং তোমাদের আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে। ওরা তো তারা, যাদেরকে আল্লাহ অভিশপ্ত করে বধির ও দৃষ্টিশক্তিহীন করেন।” [সূরা মুহাম্মাদ, আয়াত: ২২-২৩] সহীহ বুখারীর অপর বর্ণনায় বর্ণিত, তখন আল্লাহ বলেন, “যে তোমার সাথে সু-সম্পর্ক রাখে আমি তার সাথে সু-সম্পর্ক রাখবো আর যে তোমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে আমি তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করব।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।তার বাণী: «خَلَقَ اللهُ الخلقَ، فلمَّا فرغَ منه» “আল্লাহ সকল কিছুকে সৃষ্টি করলেন। অতঃপর যখন তিনি সৃষ্টির কাজ শেষ করলেন।” অর্থাৎ মাখলুক সৃষ্টি করার কর্ম সমাপ্ত করলেন। এ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, সৃষ্টির কাজটি কোনো একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংঘটিত হয়েছে, যদিও আল্লাহর কুদরতের নির্দিষ্ট কোনো সীমারেখা নেই এবং একটি অবস্থা (কাজ) তাকে অপর অবস্থা (কাজ) থেকে বিরত রাখতে পারে না। কিন্তু তার হিকমতের দাবি হচ্ছে তিনি কোনো কর্ম কোনো একটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে করেন। এ ঘটনা একটি প্রমাণ যে, তার কর্মসমূহ তার চাওয়ার সাথে সম্পৃক্ত। যখন তিনি কোনো কিছু করতে চান তখন তিনি তা করেন। আর তার বাণী: «لما فرغ» “যখন তিনি শেষ করলেন।” তার অর্থ এ নয় যে, তিনি সমস্ত জিনিসের সৃষ্টি কর্ম শেষ করে ফেলেছেন। বরং তার সৃষ্টি পর্যায়ক্রমে একটির পর একটি পাওয়া যেতেই থাকবে। কিন্তু তার ইলম, নির্ধারণ ও লিখন আগেই সম্পন্ন হয়েছে, আর সেটাই তার চাওয়া অনুযায়ী দুনিয়াতে বাস্তবায়ন হবে। সুতরাং তাই বাস্তবায়ন হবে যা তার ইলম, নির্ধারণ ও লিখন মোতাবেক আছে এবং তিনি চাচ্ছেন। তার বাণী: «قامت الرَّحِمُ فأخذت بحَقْو الرَّحمن، فقال له: مَه» “তখন আত্মীয়তার সম্পর্ক উঠে দাঁড়ালো এবং রহমানের কোমর আঁকড়ে ধরল। তখন তিনি তাকে বললেন, তুমি থামো।” হাদীসটির বাহ্যিক শব্দ থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, দাঁড়ানো, কথা বলা ইত্যাদি আত্মীয়তার কর্ম। যদিও আত্মীয়তা এমন একটি বস্তু যা মানুষের সাথে স্থাপিত এবং অদৃশ্য সত্ত্বা। কিন্তু আল্লাহর কুদরত মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি দ্বারা মাপা যায় না; (তাই রেহেমের দাঁড়ানোও অনুমাণ করা যাবে না)। এ হাদীসটি মুলতঃ সিফাত সংবলিত হাদীসসমূহের একটি হাদীস। যে হাদীসগুলো সম্পর্কে ইমামগণ এ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, তা যেভাবে বর্ণিত সেভাবেই রাখা হবে এবং যারা এসব হাদীসের দাবিকে মানে না তারা তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। আর হাদীসটির বাহ্যিক অর্থ এ কথা প্রমাণ করে না যে, চামড়া, কাতান ও সূতা দ্বারা নির্মিত মানুষ যে সব পোশাক পরিধান করে থাকে আল্লাহর জন্যও সে সব পোশাক-লুঙ্গি, চাদর ইত্যাদি রয়েছে। কারণ, আল্লাহ বলেন, (ليس كمثله شيء وهو السميع البصير). “তার মতো কোনো কিছু নেই তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা।” আর তার বাণী: «قالت: هذا مقامُ العائذِ بك من القَطِيعة» “সে বলল, ‘এটা হচ্ছে আপনার নিকট বিচ্ছিন্নতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনাকারীর স্থান।’’ এটি মহান স্থান। আর এই স্থান থেকে আশ্রয় প্রার্থণাকারী মহা উসীলার মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করে। হাদীসটি আত্মীয়তা সম্পর্কের মহত্ত্ব ও তা ছিন্ন করার ভয়াবহতা প্রমাণ করে। ছিন্ন করার মানে হলো সম্পর্ক না রাখা। আর সম্পর্ক রাখার অর্থ হলো, আত্মীয়দের প্রতি দয়া করা, তাদের ভালোবাসা, তাদের সহযোগিতা করা, তাদের থেকে কষ্টকে প্রতিহত করা, দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের উপকার হয় এমন কিছু অর্জনের প্রতি আগ্রহী থাকা। তার বাণী: «قال: ألَا تَرْضَيْنَ أنْ أصِلَ مَن وصلكِ، وأقطعَ مَن قطعكِ، قالت: بلى يا ربِّ، قال: فذاك» “তিনি (আল্লাহ) বললেন, ‘তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তোমার সাথে যে সু-সম্পর্ক রাখবে, আমিও তার সাথে সু-সম্পর্ক রাখব। আর যে তোমার থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করবে, আমিও তার থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করব?’ সে (রেহেম/ রক্ত সম্পর্ক) বলল, ‘অবশ্যই হে আমার রব।’’ যে তার আত্মীয়ের প্রতি দয়া করবে আল্লাহ তার প্রতি দয়া করবেন। আর যার প্রতি আল্লাহ দয়া করবেন তাকে দুনিয়াও আখিরাতের যাবতীয় কল্যাণ ও সৌভাগ্য দান করবেন। অবশ্যই তার প্রতিদান হবে তার রবের সাথে জান্নাতুল ফিরদাউসে অবস্থান করা। কারণ, সম্পর্ক (রেহেম) জান্নাত ছাড়া কোথাও পূর্ণতা লাভ করবে না। জান্নাতে সে তার রবের চেহারার দিক তাকাবে। পক্ষান্তরে যে তার আত্মীয়ের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে সে অবশ্যই বিচ্ছিন্ন। আল্লাহর শত্রু বিতাড়িত শয়তানের সাথেই তার অবস্থান।
আবূ সাঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত, পুলসিরাত জাহান্নামের দু’ তীরের মাঝে স্থাপন করা হবে। তাতে থাকবে সাদান বৃক্ষের কাঁটা সদৃশ কাঁটাসমূহ। লোকজন তার উপর দিয়ে অতিক্রম করবে। কতক মুসলিম নিরাপদে তার উপর দিয়ে অতিক্রম করবে, কতক কাঁটার আঁচড় খেয়ে, কতক কাঁটায় বিদ্ধ হয়ে থাকার পর নাজাত পাবে এবং কতক মুখ থুবড়ে জাহান্নামের তলদেশে নিক্ষিপ্ত হবে। যখন আল্লাহ বান্দার মাঝে বিচার ফায়সালা শেষ করবেন, তখন মু’মিনগণ কতক মানুষ অনুপস্থিত দেখবেন যারা দুনিয়াতে তাদের সালাতের সাথে সালাত, যাকাতের সাথে যাকাত, সাওমের সাথে সাওম, হজের সাথে হজ এবং যুদ্ধের সাথে যুদ্ধ করত। তখন তারা বলবেন, হে আমাদের রব তোমার কতক বান্দা যারা দুনিয়াতে আমাদের মতো সালাত, যাকাত আদায় করত, হজ করত এবং যুদ্ধ করত আমরা তাদেরকে দেখতে পাচ্ছি না। তখন তিনি বলবেন, তোমরা জাহান্নামে যাও তাদের থেকে যাকে দেখতে পাবে তাকে বের করে নিয়ে আসো। তিনি বললেন, তারা তাদের দেখতে পাবে যে, তাদের আমল অনুযায়ী তাদেরকে আগুন গ্রাস করছে। কাউকে আগুন তার পা পর্যন্ত, কাউকে পায়ের অর্ধ নলা পর্যন্ত, কাউকে হাঁটু পর্যন্ত, কাউকে তার দুই স্তন পর্যন্ত, কাউকে তার মাঝা পর্যন্ত আবার কাউকে তার গলা পর্যন্ত গ্রাস করছে তবে তাদের চেহারা ডেকে ফেলে নি। তারপর তারা তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করবে এবং হায়াতের পানিতে নিক্ষেপ করবে। জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! হায়াতের পানি কি? বললেন, জান্নাতীদের গোসলের পানি, ফলে তারা উদ্ভিদের মতো উৎপন্ন হবে।” আর একবার তিনি বলেন, তারা পুনর্জন্ম লাভ করবে, যেমনিভাবে বন্যার খড়কুটোয় উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়। অতঃপর নবীগণ যারা ইখলাসের সাথে এ কথার সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্যিকার ইলাহ নেই তাদের বিষয়ে সুপারিশ করবেন এবং তাদেরকে তা থেকে বের করে আনবেন। তিনি বললেন, “তার মধ্যে যারা আছেন তাদের ওপর আল্লাহ স্বীয় রহমত আবর্তিত হবে। ফলে যাদের অন্তরে একটি শস্য দানা পরিমাণ ঈমান আছে, তাকে কখনো জাহান্নামে রাখা হবে না। তাকে অবশ্যই জাহান্নাম থেকে বের করা হবে।”
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।কিয়ামতের দিন জাহান্নামের মাঝখানে আল্লাহ তা‘আলা পুলসিরাত স্থাপন করবেন। আর পুল সিরাতের উপর থাকবে শক্ত কাঁটা। তারপর লোকদের তার উপর দিয়ে অতিক্রম করতে বলা হবে। তাদের মধ্যে কতক মুক্তি পাবে এবং নিরাপদে পার হবে। তাদেরকে জাহান্নাম পাবে না। আর কতক আঘাত পাবে অতঃপর নিরাপদে পার পাবে এবং মুক্তি পাবে। আর কতক জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। আল্লাহ যখন তার বান্দাদের হিসাব সম্পন্ন করবেন এবং যারা জান্নাতী তাদের জান্নাতে প্রবেশ করাবেন এবং যারা জাহান্নামী তাদের জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন। তখন জান্নাতী মু’মিনগণ কতক মানুষ দুনিয়াতে যারা তাদের সাথে সালাত, যাকাত, সাওম, হজ পালন করত এবং জিহাদ করত, তাদের দেখতে পাবে না। তখন তারা আল্লাহকে বলবেন, হে আমাদের রব! ঐ সব লোকদের জান্নাতে আমাদের সাথে দেখছি না, অথচ তারা দুনিয়াতে আমাদের সাথে সালাত, যাকাত, হজ ও যুদ্ধ করত। তখন আল্লাহ তাদের বলবেন, তোমরা জাহান্নামে যাও তাদের থেকে কাউকে যদি দেখতে পাও, তবে তাকে বের করে নিয়ে আসো। তখন তারা তাদের পাবেন, তাদের আমল অনুযায়ী আগুন তাদেরকে গ্রাস করছে। কাউকে আগুন তার পা পর্যন্ত, কাউকে পায়ের অর্ধ নলা পর্যন্ত, কাউকে হাঁটু পর্যন্ত, কাউকে তার মাঝামাঝি পর্যন্ত, কাউকে তার দুই স্তন পর্যন্ত, আবার কাউকে তার গলা পর্যন্ত গ্রাস করেছে তবে আগুন তাদের চেহারা পর্যন্ত পৌঁছে নি। তারা তাদের ব্যাপারে সুপারিশ করবেন এবং তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করবেন। তারপর হায়াতের পানিতে নিক্ষেপ করবে। আর তা হলো এমন পানি যে তার মধ্যে ডুবে সে জীবিত হয়ে যায়। তখন তারা পানি প্রবাহিত হওয়ার ড্রেনের মধ্যে যেভাবে উদ্ভিদ জন্মায় সেভাবে জন্ম লাভ করবে। অতঃপর যারা ইখলাসের সাথে এ কথা সাক্ষ্য দিত যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই তাদের সবার ব্যাপারে সুপারিশ করবেন এবং তাদেরকে জাহান্নাম থেকে তারা বের করে আনবেন। তারপর স্বীয় রহমত দ্বারা আল্লাহ জাহান্নামীদের প্রতি করুনা করবেন। তখন যাদের অন্তরে দানা পরিমাণ ঈমান আছে জাহান্নাম থেকে বের করা ছাড়া ছাড়বেন না।
আবূ সাঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত, আমাদের রব স্বীয় নলা/পায়ের গোছা উন্মুক্ত করবেন। তখন প্রত্যেক মুমিন নারী ও পুরুষ তাকে সেজদা করবে। তবে তারা বাকী থাকবে যারা দুনিয়াতে লোক দেখানো ও সুনামের জন্য সাজদাহ করত। তারা সাজদাহ করতে চেষ্টা করবে কিন্তু তাদের পিঠ একটি কাটের তখতের মতো হয়ে ফিরে আসবে।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।আল্লাহ তা‘আলা তার সম্মানিত নলা/পায়ের গোছাকে উম্মুক্ত করবেন। তখন প্রত্যেক মুমিন পুরুষ ও নারী তাকে সাজদাহ করবে। কিন্তু মুনাফিক যারা দুনিয়াতে লোক দেখানোর জন্য সাজদাহ করত, তাদের সাজদাহ থেকে বিরত রাখা হবে। তাদের পিটকে একটি কাট বানিয়ে দেওয়া হবে, ফলে তারা মাথা ঝুকাতে এবং সেজদা করতে পারবে না। কারণ, দুনিয়াতে তারা সত্যিকার অর্থে আল্লাহর জন্য সাজদাহ করত না। বরং তারা প্রার্থিব উদ্দেশ্যে সাজদাহ করত। আল্লাহর নলা বা পায়ের গোছাকে তার কঠোরতা বা মুসিবত ইত্যাদি দ্বারা ব্যাখ্যা করা বৈধ হবে না। বরং কোনো প্রকার ধরন ও দৃষ্টান্ত এবং কোনো প্রকার বিকৃতি ও অকার্যকর করা ছাড়া আল্লাহর জন্য সিফাত সাব্যস্ত করা ওয়াজিব।
আবদুল্লাহ ইবন ‘আমর ইবনুল ‘আস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি যখন মসজিদে প্রবেশ করতেন, তখন বলতেন, «أعوذ بالله العظيم، وبوجهه الكريم، وسلطانه القديم، من الشيطان الرَّجِيم» “আমি মহান আল্লাহর কাছে তাঁর সম্মানিত চেহারা ও প্রাচীন ক্ষমতার উসীলায় বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি”। তিনি বলেন: এরূপই কি? আমি বললাম হ্যাঁ। তিনি বলেন, যখন এ দো‘আটি বলে তখন শয়তান বলে সারা দিনের জন্যে সে আমার থেকে নিরাপত্তা লাভ করল।
আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেননবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মসজিদে প্রবেশ করতেন, তখন বলতেন: (أعوذ بالله العظيم) আমি আল্লাহ এবং তাঁর সিফাতসমূহের আশ্রয় ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি। (وبوجهه الكريم) অর্থ হলো বদান্যশীল ও দানকারী গুণে গুণান্বিত তাঁর চেহারার (وسلطانه) সুলতান হলো তাঁর সৃষ্টির মধ্যে যার ইচ্ছা তার উপর তাঁর আধিপত্য, ক্ষমতা এবং প্রভাব বিস্তৃত। (القديم) অনন্ত চিরন্তন। (من الشيطان الرجيم) রাজীম হলো আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত ও বহিষ্কৃত, অর্থাৎ: হে আল্লাহ, আমাকে শয়তানের কুমন্ত্রণা, তার ফিতনা, তার পরিকল্পনা, তার বিপদ, তার প্রবঞ্চনা এবং তার গোমরাহী থেকে রক্ষা করুন, কারণ সেই হল গোমরাহীর কারণ এবং পথভ্রষ্টতা ও মূর্খতার প্রতি উদ্দীপক। আব্দুল্লাহ ইবন আমরকে বলা হল: "أقط؟" অর্থাৎ: নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি শুধু এটুকুই বলেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। যখন মসজিদে প্রবেশকারী এই দোয়া করে; তখন শয়তান বলে: এই প্রবেশকারী ব্যক্তি দিনরাত সারাক্ষণ আমার থেকে নিজেকে রক্ষা করে নিল।
মুগীরা ইবন শু‘বা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফ‘ হিসেবে বর্ণিত, সা‘দ ইবন উবাদাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, যদি আমি আমার স্ত্রীর সাথে কোনো অপরিচিত পুরুষকে দেখতাম তাহলে আমি তাকে ধারালো তলোয়ার দ্বারা হত্যা করতাম। কথাটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পৌঁছল। তিনি বললেন, তোমরা সা‘আদের ঈর্ষা দেখে আশ্চর্য হয়েছ? আল্লাহর কসম আমি তার চেয়েও অধিক ঈর্ষান্বিত। আর আল্লাহ তা‘আলা আমার চেয়েও অধিক ঈর্ষান্বিত। আল্লাহর ঈর্ষার কারণেই প্রকাশ্য ও গোপন যাবতীয় অশ্লীলতাকে নিষিদ্ধ করেছেন। কোন মানুষ আল্লাহর চেয়েও অধিক ঈর্ষার অধিকারী নয়। আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনাকারীর চেয়ে অধিক প্রিয় আর কোনো মানুষ নেই। এ কারণেই আল্লাহ তা‘আলা সু-সংবাদদাতা ও ভয় প্রদর্শনকারী রাসূলদের প্রেরণ করেছেন। আল্লাহর প্রশংসাকারীর চেয়ে অধিক কোনো প্রিয় মানুষ নেই। এ কারণেই আল্লাহ তা‘আলা (প্রশংসাকারীদের জন্যে) জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।সা‘দ ইবন উবাদাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, যদি আমি আমার স্ত্রীর সাথে কোনো অপরিচিত পুরুষকে দেখতাম, তাহলে আমি তাকে তলোয়ারের ধারালো দিক দ্বারাই আঘাত করতাম পাশ দ্বারা নয়। অর্থাৎ কোনো প্রকার অবকাশ ছাড়াই তাকে আমি হত্যা করতাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কথাটিকে সমর্থন করলেন এবং তিনি সংবাদ দিলেন যে, তিনি সা‘দ থেকেও অধিক আত্মমর্যাদার অধিকারী এবং আল্লাহ তার চেয়েও অধিক আত্মমর্যাদার অধিকারী। আর আল্লাহর আত্মমর্যাদা তার সিফাতসমূহের একটি সিফাত যা তার সাথে খাস। তবে তার আত্মমর্যাদা মাখলুকের আত্মমর্যাদার মতো নয়। বরং এটি এমন একটি সিফাত যা তার আযমতের সাথে উপযুক্ত। যেমনটি ক্রোধ, খুশি ইত্যাদি তার বিশেষ বৈশিষ্ট্য তাতে মাখলুকের কোনো দখল নেই। আর অভিধানে ‘সাখছ’ শব্দটির অর্থ, প্রকাশ পাওয়া, উঁচা হওয়া ইত্যাদি। আল্লাহ তা‘আলা সবকিছু থেকে উঁচু, মহান ও বড়। সুতরাং, আহলুস সুন্নাহ যারা আল্লাহ ও রাসূলের কথা অনুসরণ করেন তাদের মূলনীতি অনুসারে শব্দটি আল্লাহর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করাতে কোনো অসুবিধা নেই। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এ কারণেই প্রকাশ্য ও গোপন যাবতীয় অশ্লীলতাকে আল্লাহ নিষিদ্ধ করেছেন। আল্লাহর আত্মমর্যাদার প্রভাবে তিনি তার বান্দাদের অশ্লীলতা নিকটে যেতেও নিষেধ করেছেন। আর অশ্লীলতার সংজ্ঞা হলো, পবিত্র আত্মা ও সুস্থ মস্তিস্ক যাকে অশ্লীল মনে করে এবং ঘৃণা করে, তাই অশ্লীল। যেমন, ব্যভিচার। আর ‘জাহির’ শব্দটি আমরা যেসব কর্ম প্রকাশ্যে করি এবং আমাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যা করে, যদিও গোপনে করেই সব কিছুকেই অন্তর্ভুক্ত করে। আর ‘বাতিন’ শব্দটি যা গোপনে করা হয় এবং অন্তরে যার উদ্রেক হয় সেসবকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর তার বাণী: «ولا أحد أحب إليه العذر من الله، ومن أجل ذلك بعث المرسلين مبشرين ومنذرين» “কোনো মানুষ আল্লাহর চেয়েও অধিক আত্ম মর্যাদার অধিকারী নয়। আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনাকারীর চেয়ে অধিক প্রিয় আর কোনো মানুষ নেই। এ কারণেই আল্লাহ তা‘আলা সু-সংবাদদাতা ও ভয় প্রদর্শনকারী রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন।” অর্থাৎ, আল্লাহ তা‘আলা তার মাখলুকদের শাস্তি প্রদানের পূর্বে তাদের ভয় দেখানো ও সু-সংবাদ দেওয়ার জন্য সু-সংবাদ দাতা ও ভয় প্রদর্শনকারী মুরসালীনকে প্রেরণ করেছেন। যেমন, আল্লাহর বাণীর: {رُّسُلاً مُّبَشِّرِينَ وَمُنذِرِينَ لِئَلاَّ يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى اللهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ}. “আর (পাঠিয়েছি) রাসূলগণকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে, যাতে আল্লাহর বিপক্ষে রাসূলদের পর মানুষের জন্য কোনো অজুহাত না থাকে।” আর তার বাণী: «ولا أحد أحب إليه المِدحة من الله، ومن أجل ذلك وعد الله الجنة» “আল্লাহর নিকট প্রশংসাকারীর চেয়ে অধিক প্রিয় কোনো মানুষ নেই।” এ কারণেই আল্লাহ তা‘আলা তাদের জন্যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।” এটি তার সামগ্রিক পরিপূর্ণতার কারণে। তিনি তাদের বান্দাদের থেকে এ জিনিসটি পছন্দ করেন যে, তারা যেন তার প্রশংসা করে এবং তার দয়া ও অনুগ্রহের ওপর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। এ কারণেই যত নে‘আমত তারা ভোগ করে প্রতিটি নে‘আমতই তাদের ওপর তার অনুগ্রহ। যখন তারা নি‘আমতের ওপর প্রশংসা করে তখন তিনি তাদের প্রতি খুশি হন। আর তারা যতই তার প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুক না কেন কখনই তার উপযুক্ত প্রশংসা ও শুকরিয়া আদায় করতে পারবে না। এ কারণেই তিনি নিজেই তার প্রশংসা করেছেন। তিনি জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যাতে তা মানুষ বেশি বেশি কামনা করে এবং তার বান্দাগণ যেন অধিক পরিমাণে তার প্রশংসা ও শুকরিয়া আদায় করে। আর তা লাভের জন্য যথা সম্ভব চেষ্টা করে। কারণ, জান্নাত হলো সকল পুরষ্কারের সমাপ্তি।