





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
আনাস ইবন মালিক ও জাবির ইবন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে বর্ণনা করেন। যখন তিনি খাবার খেতেন তার তিনটি আঙ্গুলই চাটতেন। তাদের একজন বলেন, তিনি বলেছেন, “যখন তোমাদের কারো লোকমা পড়ে যায়, তার ময়লা দূর করে সেটা খেয়ে নিবে, শয়তানের জন্য ত্যাগ করবে না। আর তিনি খাবারের পাত্র চেটে খাওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, “কারণ তোমরা জান না তোমাদের কোন খাবারে বরকত আছে।” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয় শয়তান মানুষের প্রত্যেকটা বস্তুতেই অংশ গ্রহণ করে, এমন কি তার খাবারেও অংশ গ্রহণ করে। যখন তোমাদের কারো লোকমা পড়ে যায়, সে যেন তা নিয়ে তার ময়লা দূর করে এবং খেয়ে নেয়,আর শয়তানের জন্য ছেড়ে দিবে না। আর যখন খাবার থেকে অবসর হবে, তখন তার আঙ্গুলগুলো চেটে নিবে, কারণ সে জানে না তার কোন খাবারে বরকত আছে।”
এটি মুসলিম তার দুই রেওয়ায়েতে বর্ণনা করেছেন।হাদীসটিতে শয়তান থেকে সতর্ক করা হয়েছে এবং সাবধান করা হয়েছে যে, মানুষের প্রত্যেক ক্রিয়াকর্মে সে লেগে থাকে, তাই তার ব্যাপারে সতর্ক থাকা ও তাকে বেঁচে থাকা জরুরি এবং সে যা সৌন্দর্যমণ্ডিত করে পেশ করে তার দ্বারা ধোকা না খাওয়া। আর মানুষ যে খাবার খেতে বসে, তাতে বরকত থাকে, তবে সে বলতে পারে না বরকতটা কোথায়, তার ভক্ষিত খাবারে, নাকি আঙ্গুলে লেগে থাকা খাবারে, নাকি থালায় লেগে থাকা খাবারে, নাকি পড়ে যাওয়া লোকমার ভেতরে। তাই বরকত হাসিল করার জন্যে এসব খাবারে গুরুত্বারোপ করা জরুরী। বরকতের মূল হচ্ছে বৃদ্ধি হওয়া, বস্তুতে কল্যাণ থাকা ও তার দ্বারা উপকৃত হওয়া। এখানে উদ্দেশ্য হচ্ছে, যার দ্বারা পেট ভরে এবং তার পরিণতি নিরাপদ হয়, আর আল্লাহর ইবাদাতের জন্যে সহায়ক ও শক্তিবর্ধক হয়। এ ক্ষেত্রে ডাক্তাররা একটি উপকারিতার কথা উল্লেখ করেছেন, সেটা হচ্ছে খাবারের সময় আঙ্গুলে এমন কিছু জমা হয়, যা হজমের জন্যে সহায়ক।
উসামা ইবন যায়েদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমরা কোন ভূখণ্ডে প্লেগ বা মহামারী ছড়িয়ে পড়তে শুনবে, তখন সেখানে প্রবেশ করো না। আর তা ছড়িয়ে পড়েছে এমন ভূখণ্ডে তোমরা যদি থাক, তাহলে সেখান থেকে বের হয়ো না।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।যখন কোনো এলাকায় মহামারী দেখা দেয়, আর তাতে কোনো লোক প্রবেশ না করে থাকে, তাহলে তার ও তার সাথীদের সুস্থতা সংরক্ষণের স্বার্থে তার জন্য সেখানে প্রবেশ করা বৈধ হবে না। আর যদি কোনো এলাকায় মহামারী দেখা দেয়, আর সে সেখানে রয়েছে, তাহলে তার জন্য সে এলাকা থেকে বের হওয়া বৈধ হবে না। তার দায়িত্ব হলো আল্লাহর নির্ধারিত তাকদীরের ওপর ধৈর্য ধারণ করা, যাতে তার জন্য সাওয়াব লিপিবদ্ধ করা হয়।
ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুল কায়স গোত্রের আশাজ (ক্ষত বিশিষ্ট দলপতিকে) বললেন, “তোমাদের দু’টো বিশেষ গুণ রয়েছে, যা আল্লাহ পছন্দ করেন – ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা”।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেননবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আব্দুল কায়েস গোত্রের আহত ও প্রধান আল-মুনযির ইবনু আইয রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলেন: তোমার দুটি গুণ আছে যা আল্লাহ পছন্দ করেন: বুদ্ধিমত্তা, বিবেচনা, গাম্ভীর্যতা এবং তাড়াহুড়ো না করা।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত, “কিয়ামতের দিন প্রত্যেক হকদারকে অবশ্যই হক বুঝিয়ে দেওয়া হবে। এমনকি শিংবিহীন ছাগলের জন্যে শিংযুক্ত ছাগল থেকে বদলা গ্রহণ করা হবে।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।কিয়ামতের দিন নির্যাতিত ব্যক্তি তার ওপর অত্যাচারকারী থেকে প্রতিশোধ নিবে। এমনকি শিংবিহীন ছাগল শিংযুক্ত ছাগল থেকে বদলা নিবে। তোমার রব কারো ওপর যুলুম করেন না।
আবূ মূসা আশ‘আরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সফরে ছিলাম। আমরা যখন উপত্যকায় এগুচ্ছি তখন ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ও আল্লাহু আকবার’ বলছিলাম, আর আমাদের শব্দ উঁচু হয়ে গেল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “হে লোকেরা, তোমরা নিজেদের উপর করুণা কর। কেননা, তোমরা কোনো বধির ও অনুপস্থিতকে ডাকছ না। তিনি তোমাদের সঙ্গেই রয়েছেন। তিনি সর্বশ্রোতা ও নিকটবর্তী।
মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম), তবে শব্দ সহীহ বুখারীর।আবু মুসা আশ‘আরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর হাদীস। একবার তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে একটি সফরে ছিলেন। তারা উচ্চ আওয়াজে তাকবীর ও তাহলীল বলতে লাগলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা নিজেদের প্রতি কোমল হও। অর্থাৎ নফসের ওপর সহজ কর, আওয়াজ উঁচু করতে গিয়ে নিজেকে কষ্ট দিও না। কারণ, তোমরা বধির ও গায়েবকে ডাকছ না। তোমরা ডাকছ সর্বশ্রোতা, দো‘আ কবুলকারী ও নিকবর্তীকে। আর তিনি হলেন আল্লাহ তা‘আলা, অতএব তাসবীহ, তাহমীদ ও তাকবীর বলার সময় আওয়াজ উঁচু করে নফসকে কষ্ট দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা শোনেন, দেখেন ও নিকতবর্তী, যদিও তিনি আসমানসমূহের উপরে, তবে সবকিছুকেই তিনি বেষ্টন করে আছেন। আর তার বাণীতে: “সামী, বাসীর ও কারীব” সিফাতগুলো আল্লাহর জন্যে অতিশায়নের অর্থ প্রদান করে। কারণ, এ সিফাতগুলো পরিপূর্ণভাবে তার জন্যেই প্রযোজ্য, কোনো শব্দই তার শ্রবণকে এড়াতে পারে না, যত গোপনই হোক। গভীর অন্ধকারে কালো পাথরের উপর পিপড়ার হাটার শব্দ এবং তার চেয়ে গোপন শব্দও তিনি শোনেন। অনুরূপভাবে কোনো পর্দা তার দৃষ্টিকে আড়াল করতে পারে না। তিনি তোমাদের গুঞ্জন ও নিঃশ্বাসের শব্দ শোনেন এবং যাই তোমরা উচ্চারণ কর তিনি শোনেন। তিনি তোমাদের নড়াচড়াকে দেখেন। তিনি তোমাদের সাথে এবং আহ্বানকারীর অতি নিকটে আছেন। তিনি সমস্ত মাখলুক সম্পর্কে অবগত এবং তাদের বেষ্টন করে আছেন বলে তাদের সাথেই আছেন। সমস্ত মাখলুক তার হাতের মুঠোয়, এতদসত্ত্বেও তিনি সকল মাখলুকের উপরে আরশে আছেন। তার সমস্ত মাখলুকে যাই ঘটুক তার নিকট কোনো গোপন গোপন থাকে না। শোনা, দেখা ও নৈকট্য আল্লাহর সিফাত। এ সিফাতগুলো তার সাথে যেভাবে থাকা উচিৎ সেভাবেই আছে। কোনো প্রকার ধরন, দৃষ্টান্ত, বিকৃতি ও অপব্যাখ্যা ছাড়াই এগুলো তার জন্যে সাব্যস্ত।
আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত, “আল্লাহ যখন কোনো জাতিকে শাস্তি দিতে চান, তখন শাস্তি তাদেরকেও স্পর্শ করে যারা তাদের ভেতর থাকে (অথচ তাদের মতাবলম্বী নয়)। অতঃপর তাদের সবাইকে আমল হিসেবে উত্থিত করা হবে।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিচ্ছেন যে, আল্লাহ তা‘আলা যখন কোনো জাতিকে তাদের খারাপ আমলের দরুন শাস্তি দিতে চান “তখন তাদের ভেতর যারাই থাকে তাদেরকেও শাস্তি স্পর্শ করে।” অর্থাৎ যারা তাদের সাথে রয়েছে, যদিও তাদের মতাবলম্বী নয়। এভাবে আল্লাহ ফিতনা প্রকাশ পেলে ও প্রকাশ্যে পাপ হলে সবাইকে ধ্বংস করেন। “অতঃপর তাদেরকে তাদের আমল হিসেবে উত্থিত করা হবে।” অর্থাৎ তাদের প্রত্যেককে তাদের আমল হিসেবে উত্থিত করা হবে। যদি ভালো হয় তার পরিণতি ভালো, আর যদি খারাপ হয় তাহলে তার পরিণতি খারাপ হবে। আর এই শাস্তি ভালো লোকদের পবিত্রতার কারণ হবে, আর পাপীদের জন্যে হবে শাস্তিস্বরূপ। বস্তুত তাদেরকে তাদের আমল হিসেবে উঠানোই হবে ইনসাফ। কারণ, আখিরাতে নেক আমলেরই প্রতিদান দেওয়া হবে, আর দুনিয়াতে তাদেরকে যত মুসীবতই স্পর্শ করুক, সেটা তাদের কৃত পাপের কাফফারা হবে। আর দুনিয়াতে যালিমদের উপর প্রেরিত শাস্তি, তাদেরকেও পাকড়াও করবে যারা তাদের সাথে আছে, কিন্তু তাদের খারাপের প্রতিবাদ করে নি, এটা হবে তাদের পাপীদের সাথে একাত্বতা ঘোষণার শাস্ত স্বরূপ। অতঃপর তাদের প্রত্যেককে কিয়ামতের দিন উঠানো হবে এবং সবাইকে তাদের আমল অনুপাতে প্রতিদান দেওয়া হবে।
মুয়ায বিন জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক দিন সকালে ফজরের সালাতে আমাদের থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আড়ালে থাকলেন। এক পর্যায়ে আমরা সূর্যের চোখ দেখার উপক্রম হলাম। ইত্যবসরে তিনি দ্রুত এলেন এবং সালাতের আযান দেওয়া হল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাত পড়লেন এবং সংক্ষিপ্ত করলেন। সালাম ফিরিয়ে আমাদেরকে ডেকে বললেন, “তোমরা তোমাদের স্থানে যেভাবে আছো সেভাবেই থাকো।” অতঃপর আমাদের দিকে মুখ ফিরালেন এবং বললেন, “যে বিষয় ভোরে আমাকে তোমাদের থেকে আটকে রেখেছিল সে সম্পর্কে বলছি। আমি রাতে ঘুম থেকে উঠেছি। অতঃপর অযু করে সালাত পড়েছি, যতটুকু আমার তাওফিকে ছিল। আমি সালাতে তন্দ্রাচ্ছন্ন হলাম এবং আমার নিকট খুব কঠিন মনে হল। ইত্যবসরে আমি আমার রবকে সবচেয়ে উত্তম আকৃতিতে দেখতে পেলাম। তিনি বললেন, হে মুহাম্মাদ! আমি বললাম, আমি উপস্থিত হে আমার রব। তিনি বললেন, উর্ধ্বজগতের ফেরেশতারা কী নিয়ে বিতর্ক করছে? আমি বললাম, জানি না, হে আমার রব। তিনি এ কথা তিনবার বললেন। তিনি বলেন, অত:পর আমি তাকে দেখলাম তিনি তাঁর হাতের তালু আমার দুই কাধের মাঝখানে রেখেছেন। আমি বুকের মধ্যে তার আঙ্গুলের শীতলতা অনুভব করেছি। ফলে আমার সামনে সব কিছুই উন্মুক্ত হল এবং আমি জানলাম। তারপর তিনি বললেন, হে মুহাম্মাদ, আমি বললাম, হাযির আছি হে আমার রব। তিনি বললেন, উর্ধ্বজগতের ফেরেশতারা কী নিয়ে বিতর্ক করছে? আমি বললাম, কাফফারার ক্ষেত্রে। তিনি বললেন, কাফফারা কী? আমি বললাম, জামাতের দিকে পায়ে হেঁটে যাওয়া এবং সালাতের পর মসজিদে বসে থাকা। আর কষ্টের সময় ভালো করে অযু করা। তিনি বলেন, অতঃপর কিসের ব্যাপারে? আমি বললাম, খাদ্য দান করা ও নরম কথা বলা এবং মানুষ যখন রাতে ঘুমিয়ে থাকে তখন সালাত পড়া। তিনি বলেন, চাও। আমি বললাম, “হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট ভালো কাজ করা, খারাপ কাজ ত্যাগ করা ও মিসকিনদের ভালোবাসা প্রার্থনা করছি। আমি আপনার ক্ষমা ও রহম প্রার্থনা করছি। আর যদি কোনো কওমকে ফেতনায় ফেলতে চান, আমাকে ফিতনা ছাড়াই মৃত্যু দান করুন এবং আপনার ভালোবাসা, যারা আপনাকে ভালোবাসে তাদের ভালোবাসা এবং এমন আমলের তাওফিক প্রার্থনা করছি, যা আপনার ভালোবাসার দিকে নিয়ে যায়।” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, এটাই সত্য, তোমরা এটা পড় ও ভালো করে শিখে নাও।
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মুয়ায বিন জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু সংবাদ দিচ্ছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক দিন ফজরের সালাতের জন্য তাদের কাছে আসতে দেরি করেন, প্রায় সূর্য উদিত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তিনি তাদের কাছে দ্রুত আসলেন এবং ইকামত দিতে বললেন। অতঃপর তাদের সাথে সালাত পড়লেন ও হালকা করলেন। যখন তিনি সালাত শেষ করলেন, তাদেরকে তাদের কাতারে নিজ নিজ জায়গায় থাকতে নির্দেশ দিলেন। অতঃপর তাদেরকে ফজর সালাতে দেরি করার কারণ বর্ণনা করলেন যে, তিনি রাতে উঠেছেন ও অযু করেছেন, অতঃপর আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী সালাত পড়েছেন। এক সময় তিনি সালাতেই ঘুমিয়ে যান। ইত্যবসরে তার রবকে সব চেয়ে সুন্দর আকৃতিতে দেখতে পান। তার রব তাকে প্রশ্ন করেন, নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতারা কোন বিষয়ে কথাবার্তা বলছে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বলেন, আমি জানি না। এরূপ প্রশ্ন ও উত্তর তিনবার ঘটেছে। অতঃপর রব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দু’কাধের উপর নিজের হাত রাখেন। এমন কি তিনি আল্লাহর আঙ্গুলের শীতলতা বুকে অনুভব করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার রবের যেরূপ বিশেষণ বর্ণনা করেছেন সেটাই হক ও সত্য। বস্তুত আল্লাহ নিজেকে যেভাবে বিশেষিত করেছেন কোনো সাদৃশ্য পেশ করা ছাড়া সেভাবেই ঈমান আনা ও তার প্রতি বিশ্বাস করা ওয়াজিব। আর যার কাছে এগুলো থেকে কোনো কিছু কঠিন ও অস্পষ্ট মনে হবে তার উচিত সেই বিজ্ঞ লোকদের মত বলা, যাদের প্রশংসা করেছেন এবং তাদের ব্যাপারে বলেছেন যে, তারা অস্পষ্ট অর্থবোধক শব্দের ক্ষেত্রে বলে, “সব কিছুই আমাদের রবের পক্ষ থেকে আমরা তার প্রতি ঈমান এনেছি।” (সূরা আল-ইমরান, আয়াত:৭) যে ব্যাপারে ইলম নেই সে ব্যাপারে কিছু বলতে চেষ্টা না করাই শ্রেয়। কারণ এরূপ হলে তার উপর ধ্বংসের আশঙ্কা রয়েছে। অতএব মুমিনরা যখনই এ জাতীয় কোনো কথা শোনে, তখন তারা বলে, এটা হচ্ছে আল্লাহ ও তার রাসূলের সংবাদ এবং আল্লাহ ও তার রাসূল সত্যই বলেছেন। ফলে তাদের ঈমান ও আনুগত্য বেড়ে যায়। আর রব যখন স্বীয় হাত তার কাঁধের উপর রেখেছেন তখন তার সামনে সব খুলে গেছে এবং তিনি উত্তর জেনে গেছেন। তাই তিনি বলেছেন, তারা কথা বলছিল, আলোচনা করছিল ও বিতর্ক করছিল পাপ মোচন করা সম্পর্কে। আর তাদের বিতর্ক করার অর্থ হচ্ছে, এই আমলগুলো তারা জোড়ালোভাবে সমর্থন করেন এবং এগুলো নিয়ে আসমানে ওঠে যান। অথবা তার ফজিলত ও মর্যাদার ব্যাপারে কথা বলছিলেন। আর সেই স্বভাবগুলো হচ্ছে, জামাতের সালাতে হেঁটে চলা, সালাত শেষে যিকির, তিলাওয়াত, ইলম শিখা ও তা শিখানোর উদ্দেশে মসজিদে বসে থাকা। অযু পূর্ণ করা এবং যখন নফস অযু করতে চায় না, যেমন কঠিন শীতের সময়, তখন শরীয়তের নির্দেশিত জায়গায় পানি পৌঁছানো। অতঃপর রব তাকে বলেন, কোন বিষয়ে নৈকট্যশীল ফেরেশতারা বিতর্ক করছিল? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, মানুষদের খাবার খাওয়ানো, মানুষদের সাথে সুন্দর কথা বলা এবং রাতে যখন মানুষেরা ঘুমিয়ে থাকে তখন সালাত আদায় করা। অতঃপর রব তাকে বললেন, তোমার মন যা চায়, তা আমার নিকট প্রার্থনা কর। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার নিকট প্রার্থনা করলেন, তাকে যেন প্রত্যেক ভালো কাজ করা ও খারাপ ত্যাগ করার তাওফিক দেওয়া হয় এবং তার নিকট যেন মিসকিন ও ফকিরদের প্রিয় করে দেওয়া হয় এবং তাকে যেন ক্ষমা ও রহম করা হয়। আল্লাহ যখন কোনো কওমকে ফিতনায় নিমজ্জিত ও গোমরাহ করতে চান, তখন তাকে যেন বিনা ফিতনা ও গোমরাহ করা ছাড়াই মৃত্যু দেন এবং তাকে যেন তার ভালোবাসা এবং যারা তাকে ভালোবাসে তাদের ভালোবাসা এবং এমন আমল করার তাওফিক দান করেন, যা তাকে আল্লাহর নৈকট্যে পৌঁছে দিবে। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার সাথীদের সংবাদ দিলেন যে, এই স্বপ্ন সত্য এবং তাদেরকে এটা নিয়ে আলোচনা করতে এবং তার অর্থ ও বিধান ভালো করে শিখতে নির্দেশ দিলেন।
আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, “আল্লাহ তা‘আলা জান্নাতে যখন আদমের আকৃতি তৈরি করেছেন, সেখানে তাকে যত দিন রাখার তিনি রাখলেন। ইত্যবসের ইবলিস তাকে ঘুরে দেখতে লাগল এটি কী? যখন তার পেট দেখল, তখন সে বুঝতে পারল তাকে এমনভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে যে, সে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।আল্লাহ তা‘আলা যখন জান্নাতে আদমকে সৃষ্টি করলেন এবং তাকে আকৃতি দিলেন, তাকে একটি সময় পর্যন্ত রূহ সঞ্চার করা ছাড়াই সেখানে রেখে দিয়ে ছিলেন, ইবলিস তখন তার পাশ দিয়ে ঘুরতে লাগল এবং তাকে দেখতে লাগল, যেন জানতে পারে এটা কী? যখন তার ভেতরটা খালি দেখল এবং তার পেটও দেখল, তখন সে বুঝতে পারল সে তো দুর্বল মাখলুক, নিজের থেকে ওয়াসওয়াসা দূর করতে পারবে না অথবা বুঝতে পেরেছে যে, সে পেটের দিক থেকে পাপে লিপ্ত হবে। কারণ, তাকে গাছ থেকে তৈরি খাবার দেওয়া হয়েছে অথবা সে আগ থেকেই জানত যে, পেট ওয়ালা সৃষ্টি দুর্বলই হলো। অনেকের নিকট হাদীসের ভাষা «في الجنة» দুর্বোধ্য ঠেকেছে, অথচ বর্ণিত আছে আল্লাহ তা‘আলা তাকে যমীন থেকে সৃষ্টি করেছেন। তার উত্তরে বলা হয়েছে যে, তাকে কয়েক ধাপ পর্যন্ত এভাবেই রাখা হয়েছে, এভাবে থেকেই তার আকৃতি রূহ গ্রহণ করার উপযুক্ত হয়েছে। অতঃপর তাকে জান্নাতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং সেখানেই তার ভেতর রূহ সঞ্চার করা হয়েছে।
নাওয়াস ইবনে সামআন রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সকালে দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করলেন। তাতে তিনি স্বর নিম্ন ও উচ্চ করলেন যে, আমরা তাকে সামনের কয়েকটি খেজুর গাছের মধ্যেই ভাবলাম। আমরা যখন তাঁর নিকট গেলাম, তিনি আমাদের মধ্যে তার (উদ্বিগ্নতার) আলামত দেখতে পেলেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমাদের কি হয়েছে?’’ আমরা বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! আপনি আজ সকালে দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে স্বর নিম্ন ও উচ্চ করলেন, যার ফলে আমরা ধারণা করে বসি যে, সে যেন খেজুর বাগানের মধ্যেই রয়েছে।’ তিনি বললেন, ‘দাজ্জাল ছাড়া তোমাদের ব্যাপারে অন্য জিনিসকে আমার আরও বেশী ভয় হয়। আমি তোমাদের মাঝে থাকাকালে দাজ্জাল যদি বের হয়, তাহলে আমি স্বয়ং তোমাদের পক্ষ থেকে তাকে প্রতিরোধ করব। আর যদি সে বের হয় এবং আমি তোমাদের মাঝে না থাকি, তাহলে [তোমরা] প্রত্যেক ব্যক্তি নিজকে রক্ষা করবে। আর আল্লাহ স্বয়ং প্রতিটি মুসলমানের জন্য [আমার] প্রতিনিধিত্ব করবেন। দাজ্জাল হবে যুবক, তার মাথার কেশরাশি হবে খুব বেশি কোঁচকানো। তার একটি চোখ [আঙ্গুরের ন্যায়] ফোলা থাকবে। যেন সে আব্দুল উয্যা ইবনে ক্বাত্বানের মত দেখতে হবে। সুতরাং তোমাদের যে কেউ তাকে পাবে, সে যেন তার সামনে সূরা কাহ্ফের শুরুর [দশ পর্যন্ত] আয়াতগুলি পড়ে। সে শাম ও ইরাকের মধ্যবর্তী স্থানে আবির্ভূত হবে। আর তার ডাইনে-বামে [এদিকে ওদিকে] ফিতনা ছড়াবে। হে আল্লাহর বান্দারা। [ঐ সময়] তোমরা অবিচল থাকবে।’ আমরা বললাম, ‘পৃথিবীতে তার অবস্থান কতদিন থাকবে?’ তিনি বললেন, ‘চল্লিশ দিন। একটি দিন এক বছরের সমান দীর্ঘ হবে। একটি দিন হবে এক মাসের সমান লম্বা। একটা দিন এক সপ্তাহের সমান হবে এবং বাকি দিনগুলি প্রায় তোমাদের দিনগুলির সম পরিমাণ হবে।’ আমরা বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! যেদিনটি এক বছরের সমান লম্বা হবে, তাতে আমাদের একদিনের [পাঁচ ওয়াক্তের] নামাযই কি যথেষ্ট হবে?’ তিনি বললেন, ‘‘তোমরা [দিন রাতের ২৪ ঘণ্টা হিসাবে] অনুমান করে নামায আদায় করতে থাকবে।’ আমরা জিজ্ঞাসা করলাম, ভূপৃষ্ঠে তার দ্রুত গতির অবস্থা কিরূপ হবে? তিনি বললেন, তীব্র বায়ু তাড়িত মেঘের ন্যায় [দ্রুত বেগে ভ্রমণ করে অশান্তি ও বিপর্যয় ছড়াবে।] সুতরাং সে কিছু লোকের নিকট আসবে ও তাদেরকে তার দিকে আহ্বান জানাবে এবং তারা তার প্রতি ঈমান আনবে ও তার আদেশ পালন করবে। সে আকাশকে বৃষ্টি বর্ষণ করতে আদেশ করবে, আকাশ আদেশক্রমে বৃষ্টি বর্ষণ করবে। আর জমিনকে [গাছ-পালা] উদ্গত করার নির্দেশ দেবে। জমিন তার নির্দেশক্রমে তাই উদ্গত করবে। সুতরাং [সে সব গাছ-পালা ভক্ষণ করে] সন্ধ্যায় তাদের গবাদি পশুদের কুঁজ [ও ঝুঁটি] অধিক উঁচু হবে ও তাদের পালানে অধিক পরিমাণে দুধ ভরে থাকবে। উদর পূর্ণ আহার জনিত তাদের পেট টান হয়ে থাকবে। অতঃপর দাজ্জাল [অন্য] লোকের নিকট যাবে ও তার দিকে [আসার জন্য] তাদেরকে আহ্বান জানাবে। তারা কিন্তু তার ডাকে সাড়া দেবে না। ফলে সে তাদের নিকট থেকে ফিরে যাবে। সে সময় তারা চরম দুর্ভিক্ষে আক্রান্ত হয়ে পড়বে ও সর্বস্বান্ত হবে। তারপর সে কোন প্রাচীন ধ্বংসস্তূপের নিকট দিয়ে অতিক্রম করার সময় সেটাকে সম্বোধন করে বলবে, ‘তুই তোর গচ্ছিত রত্নভাণ্ডার বের করে দে।’ তখন সেখানকার গুপ্ত রত্নভাণ্ডার মৌমাছিদের নিজ রাণী মৌমাছির অনুসরণ করার মতো [মাটি থেকে বেরিয়ে] তার পিছন ধরবে। তারপর এক পূর্ণ যুবককে ডেকে তাকে অস্ত্রাঘাতে দ্বিখণ্ডিত করে তীর নিক্ষেপের লক্ষ্যমাত্রার দূরত্বে নিক্ষেপ করে দেবে। তারপর তাকে ডাক দেবে। আর সে উজ্জ্বল সহাস্য-বদনে তার দিকে [অক্ষত শরীরে] এগিয়ে আসবে। দাজ্জাল এরূপ কর্ম-কাণ্ডে মগ্ন থাকবে। ইত্যবসরে মহান আল্লাহ তা'আলা মসীহ বিন মারয়্যাম আলাইহিস সালাম-কে পৃথিবীতে পাঠাবেন। তিনি দামেস্কের পূর্বে অবস্থিত শেবত মিনারের নিকট অর্স ও জাফরান মিশ্রিত রঙের দুই বস্ত্র পরিহিত অবস্থায় দু’জন ফিরিশ্তার ডানাতে হাত রেখে অবতরণ করবেন। তিনি যখন মাথা নিচু করবেন, তখন মাথা থেকে বিন্দু বিন্দু পানি ঝরবে এবং যখন মাথা উঁচু করবেন, তখনও মতির আকারে তা গড়িয়ে পড়বে। যে কাফেরই তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাসের নাগালে আসবে, সে সঙ্গে সঙ্গে প্রাণ হারাবে। তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাস তাঁর দৃষ্টি যত দূর যাবে, তত দূর পৌঁছবে। অতঃপর তিনি দাজ্জালের সন্ধান চালাবেন। শেষ পর্যন্ত [জেরুজালেমের] ‘লুদ’ প্রবেশ দ্বারে তাকে ধরে ফেলবেন এবং অনতিবিলম্বে তাকে হত্যা করে দেবেন। তারপর ঈসা আলাইহিস সালাম এমন এক জনগোষ্ঠীর নিকট আসবেন, যাদেরকে আল্লাহ তা'আলা দাজ্জালের চক্রান্ত ও ফিতনা থেকে মুক্ত রেখেছেন। তিনি তাদের চেহারায় হাত বোলাবেন [বিপদমুক্ত করবেন] এবং জান্নাতে তাদের মর্যাদাসমূহ সম্পর্কে তাদেরকে জানাবেন। এসব কাজে তিনি ব্যস্ত থাকবেন এমন সময় আল্লাহ তা'আলা তাঁর নিকট অহি পাঠাবেন যে, ‘‘আমি আমার কিছু বান্দার আবির্ভাব ঘটিয়েছি, তাদের বিরুদ্ধে কারো লড়ার ক্ষমতা নেই। সুতরাং তুমি আমার প্রিয় বান্দাদের নিয়ে ‘ত্বূর’ পর্বতে আশ্রয় নাও।’ আল্লাহ তা'আলা য়্যা’জুজ-মা’জুজ জাতিকে পাঠাবেন। তারা প্রত্যেক উচ্চস্থান থেকে দ্রুত বেগে ছুটে যাবে। তাদের প্রথম দলটি ত্বাবারী হ্রদ পার হবার সময় তার সম্পূর্ণ পানি এমনভাবে পান করে ফেলবে যে, তাদের সর্বশেষ দলটি সেখান দিয়ে পার হবার সময় বলবে, এখানে এক সময় পানি ছিল। আল্লাহর নবী ঈসা আলাইহিস সালাম ও তাঁর সাথীরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়বেন। এমনকি শেষ পর্যন্ত তাঁদের কাছে একটি গরুর মাথা, বর্তমানে তোমাদের একশ’টি স্বর্ণমুদ্রা অপেক্ষা অধিক উত্তম হবে। সুতরাং আল্লাহর নবী ঈসা আলাইহিস সালাম এবং তাঁর সঙ্গীগণ আল্লাহর কাছে দু'আ করবেন। ফলে আল্লাহ তা'আলা তাদের [য়্যা’জূজ-মা’জূজ জাতির] ঘাড়সমূহে এক প্রকার কীট সৃষ্টি করে দেবেন। যার শিকারে পরিণত হয়ে তারা এক সঙ্গে সবাই মারা যাবে। তারপর আল্লাহ তা'আলার নবী ঈসা আলাইহিস সালাম ও তাঁর সাথীগণ নিচে নেমে আসবেন। তারপর [এমন অবস্থা ঘটবে যে,] সেই অঞ্চল তাদের মৃতদেহ ও দুর্গন্ধে ভরে থাকবে; এক বিঘত জায়গাও তা থেকে খালি থাকবে না। সুতরাং ঈসা আলাইহিস সালাম ও তাঁর সঙ্গীরা আল্লাহর কাছে দু'আ করবেন। ফলে তিনি বুখতী উটের ঘাড়ের ন্যায় বৃহদকায় এক প্রকার পাখি পাঠাবেন। তারা উক্ত লাশগুলিকে তুলে নিয়ে গিয়ে আল্লাহ যেখানে চাইবেন সেখানে নিয়ে গিয়ে নিক্ষেপ করবে। তারপর আল্লাহ তা'আলা এমন প্রবল বৃষ্টি বর্ষণ করবেন যে, কোন ঘর ও শিবির বাদ পড়বে না। সুতরাং সমস্ত জমিন ধুয়ে মসৃণ পাথরের ন্যায় অথবা স্বচ্ছ কাঁচের ন্যায় পরিষ্কার হয়ে যাবে। তারপর জমিনকে আদেশ করা হবে যে, ‘তুমি আপন ফল-মূল যথারীতি উৎপন্ন কর ও নিজ বরকত পুনরায় ফিরিয়ে আন।’ সুতরাং [বরকতের এত ছড়াছড়ি হবে যে,] একদল লোক একটি মাত্র ডালিম ফল ভক্ষণ করে পরিতৃপ্ত হবে এবং তার খোসার নীচে ছায়া অবলম্বন করবে। পশুর দুধে এত প্রাচুর্য প্রদান করা হবে যে, একটি মাত্র দুগ্ধবতী উটনী একটি সম্প্রদায়ের জন্য যথেষ্ট হবে। একটি দুগ্ধবতী গাভী একটি গোত্রের জন্য যথেষ্ট হবে। আর একটি দুগ্ধবতী ছাগী কয়েকটি পরিবারের জন্য যথেষ্ট হবে। তারা ঐ অবস্থায় থাকবে, এমন সময় আল্লাহ তা'আলা এক প্রকার পবিত্র বাতাস পাঠাবেন, যা তাদের বগলের নীচে দিয়ে প্রবাহিত হবে। ফলে প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জীবন হরণ করবে। তারপর স্রেফ দুর্বৃত্ত ও অসৎ মানুষজন বেঁচে থাকবে, যারা এই ধরার বুকে গাধার ন্যায় প্রকাশ্যে লোকচক্ষুর সামনে ব্যভিচারে লিপ্ত হবে। সুতরাং এদের উপরেই সংঘটিত হবে মহাপ্রলয় [কিয়ামত]।’
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।কিয়ামাতের বড় আলামাতসমূহের মধ্যে রয়েছে দাজ্জালের আবির্ভাব। আর দাজ্জাল হলো যার কথা হাদীসে আলোচনা করা হয়েছে। এটি গাইবী বিষয়সমূহের একটি বিষয় তার প্রতি ঈমান আনা এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে সংবাদ দিয়েছেন সেভাবে তার প্রতি বিশ্বাস করা ওয়াজিব। তার গুণাগুণ পুরোপুরি আলোচনা করা হয়েছে যাতে কোন মুসলিমের নিকট তার বিষয়টি অস্পষ্ট না থাকে। মানুষকে পরীক্ষা করার জন্য আল্লাহ তাকে ব্যক্তিক্রমধর্মী ও অলৌকিক ক্ষমতা প্রদান করেছেন। মক্কা ও মদীনা ছাড়া যমীনের সব জায়গায় সে বিচরণ করবে। আল্লাহর নবী ঈসা আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতে তার পরিসমাপ্তি হবে। তারপর ইয়াজুজ মাজুজু প্রকাশ পাবে। তারা যমীনকে ফিতনা ফাসাদ দ্বারা ভরে ফেলবে। তাদের প্রকাশ পাওয়াও কিয়ামাতের আলামত। আল্লাহর নবী ঈসা আলাইহিস সালাম এবং মু’মিনগণ আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করবে যাতে আল্লাহ তাদেরকে তাদের থেকে মুক্তি দেন। এ সব বড় বড় ঘটনা ও বিপর্যয় যমীনে ঘটার পর কিয়ামত হবে। তখন আল্লাহ তার মু‘মিন বান্দাদের রুহ নিয়ে যাবেন এবং কিয়ামত নিকৃষ্ট মাখলুকের ওপর সংঘটিত হবে।