





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
আবূ হুরায়রা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “আল্লাহ তা’আলা যদি কোন বান্দাকে পছন্দ করেন তখন জিবরীলকে ডাক দেন এবং বলেন, নিশ্চয়ই আমি অমুক লোককে পছন্দ করি, তুমিও তাকে পছন্দ কর। তিনি বলেন, তখন জিবরীল তাকে পছন্দ করেন। অতঃপর তিনি আকাশমণ্ডলীতে ঘোষণা দিয়ে বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ অমুক লোককে পছন্দ করেন, সুতরাং আপনারাও তাকে পছন্দ করুন। তখন আকাশবাসীরা তাকে পছন্দ করে। তিনি বলেন, এরপর দুনিয়াতে তাকে নন্দিত, সমাদৃত করা হয়। আর আল্লাহ যদি কোন লোকের উপর রাগ করেন তখন জিবরীলকে ডাক দেন এবং বলেন, আমি অমুক বান্দার উপর রাগ করেছি, তুমিও তার প্রতি নারাজ হও। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, তখন জিবরীল তার উপর রাগাম্বিত হন। তারপর তিনি আকাশবাসীদেরকে ডাক দিয়ে বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা অমুকের উপর রাগান্বিত। কাজেই আপনারাও তার উপর ক্রোধাম্বিত হোন। তিনি বলেন, তখন লোকেরা তার উপর দুশমনি পোষণ করে। তারপর তার জন্য পৃথিবীতে শত্রু বানিয়ে দেয়া হয়”।
সহীহ মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, যদি আল্লাহ তাঁর মুমিন বান্দাকে ভালোবাসেন, যে তাঁর আদেশ পালন করে এবং তাঁর নিষেধগুলি এড়িয়ে চলে, তাহলে জিব্রাইলকে ডেকে বলেন, আল্লাহ অমুককে ভালোবাসেন, তাই তাকে ভালোবাসুন। ফলে ফেরেশতাদের সরদার জিব্রাইল আলাইহিস সালাম তাকে ভালোবাসেন। আর জিব্রাইল আসমানের ফেরেশতাদের ডেকে বলেন: তোমার রব অমুককে ভালোবাসেন, তাই তোমরাও তাকে ভালোবাসো। এভাবে আসমানবাসীরা তাকে ভালোবাসেন। তারপর মুমিনদের হৃদয়ে তার প্রতি ভালোবাসা, ঝোঁক এবং তার প্রতি সন্তুষ্টির মাধ্যমে গ্রহণযোগ্যতা স্থাপন করা হয়। যদি আল্লাহ কোন বান্দাকে অপছন্দ করেন, তাহলে তিনি জিব্রাইলকে ডেকে বলেন: আমি অমুককে অপছন্দ করি, তাই তুমিও তাকে অপছন্দ কর। এভাবে জিব্রাইল তাকে অপছন্দ করেন, তারপর জিব্রাইল আসমানবাসীদের ডেকে বলেন: তোমার রব অমুককে অপছন্দ করেন, অতএব তোমরাও তাকে অপছন্দ কর। ফলে তারা তাকে অপছন্দ করে। তারপর তার প্রতি অসন্তুষ্টি ও ঘৃণা মুমিনদের হৃদয়ে স্থাপন করা হয়।
আনাস বিন মালিক ও আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার রব থেকে বর্ণনা করেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, “বান্দা যখন আমার দিকে এক বিঘত এগিয়ে আসে, আমি তার দিকে একহাত এগিয়ে যাই, আর সে যখন আমার দিকে এক হাত এগিয়ে আসে, আমি তার দিকে দুই হাত এগিয়ে যাই, আর যদি সে আমার দিকে হেঁটে আসে, আমি তার দিকে যাই দৌঁড়ে।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন। - মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।যে ব্যক্তি সামান্য ইবাদতের মাধ্যমেও আল্লাহর নৈকট্য হাসিল করতে চাইবে, আল্লাহ তাকে বহুগুণ সাওয়াব ও সম্মান দিয়ে ভূষিত করবেন। যখন সে ইবাদত বৃদ্ধি করবে আল্লাহ তার সাওয়াবও বৃদ্ধি করবেন এবং তাকে দ্রুত রহমত ও ফযীলত দান করবেন। শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমীয়াসহ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের যেসব আলেম আল্লাহর সিফাতসমূহ বাহ্যিক অর্থে সাব্যস্ত করেন, তাদের একদল মনে করেন এটি সিফাত প্রমাণকারী হাদীস নয়। আরেক দল আলেম এই হাদীস থেকে আল্লাহর দৌঁড়ে যাওয়া সিফাত সাব্যস্ত করেছেন। তবে এর প্রকৃতি ও ধরণ নিয়ে ঘাটাঘাটি করা যাবে না।
মুহাম্মাদ ইবন যায়েদ হতে বর্ণিত, কতিপয় লোক তাঁর দাদা আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমার নিকট নিবেদন করল যে, ‘আমরা আমাদের শাসকদের নিকট যাই এবং তাদেরকে ঐ সব কথা বলি, যার বিপরীত বলি তাদের নিকট থেকে বাইরে আসার পর। (সে সম্বন্ধে আপনার অভিমত কী?)’ তিনি উত্তর দিলেন, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানায় এরূপ আচরণকে আমরা ‘মুনাফিককী’ আচরণ বলে গণ্য করতাম।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।আব্দুল্লাহ ইবন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, কতিপয় লোক তার নিকট এসে বলল, ‘আমরা আমাদের শাসকদের নিকট যাই এবং তাদেরকে বিভিন্ন কথা বলি। কিন্তু যখন আমরা তাদের নিকট থেকে বের হই, তখন আমরা তার বিপরীত কথা বলি। (সে সম্বন্ধে আপনার অভিমত কী?)’ তিনি উত্তর দিলেন, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানায় এরূপ আচরণকে আমরা ‘মুনাফিককী’ আচরণ বলে গণ্য করতাম।” কারণ, তারা কথা বলেছে মিথ্যা বলেছে। আর খিয়ানত করেছে নসীহত করেনি। সুতরাং যারা রাজা, বাদশাহ, আমীর, উযীর ও সরদারদের নিকট প্রবেশ করবে তাদের ওপর ওয়াজিব হলো তারা যেন কোন বিষয়ের বাস্তবতা সম্পর্কে কথা বলে।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভ পছন্দ করে, আল্লাহও তার সাক্ষাৎ পছন্দ করেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভ অপছন্দ করে, আল্লাহও তার সাক্ষাৎ অপছন্দ করেন।” এ কথা শুনে আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! তার মানে কি মরণকে অপছন্দ করা? আমরা তো সকলেই মরণকে অপছন্দ করি।’ তিনি বললেন, “ব্যাপারটি এরূপ নয়। প্রকৃত ব্যাপার এই যে, (মৃত্যুর সময়) মু’মিনকে যখন আল্লাহর করুণা, তাঁর সন্তুষ্টি তথা জান্নাতের সুসংবাদ শুনানো হয়, তখন সে আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভকেই পছন্দ করে, আর আল্লাহও তার সাক্ষাৎ পছন্দ করেন। আর কাফেরের (অন্তিমকালে) যখন তাকে আল্লাহর আযাব ও তাঁর অসন্তুষ্টির সংবাদ দেওয়া হয়, তখন সে আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভ অপছন্দ করে। আর আল্লাহও তার সাক্ষাৎ অপছন্দ করেন।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাৎ পছন্দ করে, আল্লাহও তার সাক্ষাৎ পছন্দ করেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাৎ অপছন্দ করে, আল্লাহও তার সাক্ষাৎ অপছন্দ করেন।” এ কথা শুনে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমার সবাইতো মরণকে অপছন্দ করি? তিনি বললেন, “ব্যাপারটি এরূপ নয়।” রাসূল জানিয়ে দেন যে, যখন কোনো বান্দা আল্লাহর সাক্ষাৎ পছন্দ করে, আল্লাহও তার সাক্ষাৎ পছন্দ করেন। একজন মু’মিন বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ তা‘আলা মু’মিনদের জন্য জান্নাতে অনেক সাওয়াব ও বিনিময় এবং অসংখ্য নে‘আমত তৈরি করে রেখেছেন। ফলে সে তাই পছন্দ করে। আর দুনিয়ার দাম তার কাছে কমে যায়, দুনিয়াকে সে গুরুত্ব দেয় না। কারণ, সে অচিরেই এর চেয়ে উত্তম স্থানে স্থানান্তরিত হবে। ফলে সে আল্লাহর সাক্ষাৎকে পছন্দ করবে। বিশেষ করে মৃত্যুর সময় যখন তাকে আল্লাহর রহমত ও সন্তুষ্টির সু-সংবাদ দেওয়া হবে, তখন সে নিশ্চিতভাবে আল্লাহর সাক্ষাৎকে পছন্দ করবে এবং তার প্রতি আগ্রহী হবে, তখন আল্লাহও তার সাক্ষাৎকে পছন্দ করবেন। আর কাফিরকে যখন আল্লাহর আযাব ও অসন্তুষ্টির সংবাদ দেওয়া হবে, তখন সে আল্লাহর সাক্ষাৎকে অপছন্দ করবে, আর আল্লাহও তার সাক্ষাৎ অপছন্দ করবেন। এ কারণেই মৃত্যুপথ যাত্রীর অবস্থা বর্ণনার হাদীসে এসেছে, কাফিরের রূহকে যখন আল্লাহর অসন্তুষ্টি ও ক্ষোভের সংবাদ দেওয়া হবে, তখন সে দেহের মধ্যে ছুটাছুটি করে এবং বের হতে অস্বীকার করে। এ কারণেই কাফিরের দেহ থেকে রুহকে এমনভাবে বের করা হয় যেমনিভাবে ভিজা শিক থেকে চুল বের করে আনা হয়। অর্থাৎ তার রূহটি দেহ থেকে বের হওয়াকে অপছন্দ করে। কারণ, তাকে আযাবের সংবাদ দেওয়া হয়। এ কারণেই আল্লাহ তা‘আলা বলেন, “আর যদি তুমি দেখতে, যখন যালিমরা মৃত্যু কষ্টে থাকে, এমতাবস্থায় ফিরিশতারা তাদের হাত প্রসারিত করে আছে (তারা বলে), ‘তোমাদের জান বের কর।” তারা তাদের জান দিতে চায় না, জানও বের হতে চায় না। কিন্তু ফিরিশতাগণ বলেন, তোমরা তোমাদের জানকে বের করে আন, যখন তাকে মৃত্যুর সংবাদ দেওয়া হয়, তখন রূহ তার দেহের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। তখন ফিরিশতাগণ ভিজা পশমের ভেতর থেকে যেভাবে লোহার গরম শিক বের করা হয়, সেভাবে তাকে বের করে আনে, ফলে সে বের হয়। নাঊযুবিল্লাহ।
উক্ত বর্ণনাকারী থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “(শামের) সাইহান ও জাইহান, (ইরাকের) ফুরাত এবং (মিসরের) নীল প্রত্যেক নদীই জান্নাতের নদ-নদীসমূহের অন্যতম।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।পৃথিবীতে বিদ্যমান সাইহান, জাইহান, ফুরাত ও নীল নদীকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম জান্নাতের নদী বলে আখ্যায়িত করেছেন। ফলে কোনো কোনো আহলে ইলম বলেন, বাস্তবেই এগুলো জান্নাতের নদী; কিন্তু এগুলো যেহেতু দুনিয়াতে অবতরণ করলো তখন এগুলোর ওপর দুনিয়ার নদীসমূহের বৈশিষ্ট্য প্রাধান্য পেল। ফলে এগুলো দুনিয়ার নদী হয়ে গেছে।
আনাস ইবন মালেক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে একবার জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেলো। লোকজন বললো, হে আল্লাহর রাসূল! জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে। অতএব, আপনি আমাদের জন্য মূল্য বেঁধে দিন। তিনি বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ মূল্য নিয়ন্ত্রণকারী, সংকোচনকারী, সম্প্রসারণকারী এবং রিযিক দানকারী। আমি আমার রবের সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাত করতে চাই যে, কেউ যেন আমার বিরুদ্ধে রক্তের ও সম্পদের কোনরূোপ অভিযোগ উত্থাপন করতে না পারে।
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে একবার জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেলো। তখন লোকজন তার কাছে আবেদন করলো, তিনি যেন তাদের জন্য পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করে দেন। তখন তাদেরকে বলেন, “নিশ্চয় আল্লাহ মূল্য নিয়ন্ত্রণকারী, সংকোচনকারী, সম্প্রসারণকারী এবং রিযিক দানকারী।” অর্থাৎ, আল্লাহ তা‘আলাই জিনিষপত্রের দাম বাড়ান এবং কমান। আর তিনিই যাকে চান তার ওপর রিযিক প্রশস্ত করেন এবং যাকে চান তার ওপর রিযিক সংকীর্ণ করেন। যে ব্যক্তি দাম নির্ধারণ করতে চাইল সে যেন, আল্লাহর মুখোমুখি হল এবং তার সাথে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিরোধ করল। আর দাম বাড়া বা কমার কারণে আল্লাহ তাদের জন্য যা ভালো মনে করেছেন সে অধিকার থেকে তার বান্দাদের বিরত রাখল। তারপর তিনি বললেন, “আমি আমার রবের সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাত করতে চাই যে, কেউ যেন আমার বিরুদ্ধে রক্তের ও সম্পদের কোনোরূপ অভিযোগ উত্থাপন করতে না পারে।” এতে বুঝা যায় যে, তাদের সম্পদে যুলুমের আশঙ্কাই তাকে মূল্য নির্ধারণ থেকে নিষেধ করেছেন। যদি তিনি মূল্য নির্ধারণ করেন তা হবে সম্পদের মালিকের অনুমতি ছাড়া যা যুলুম। কিন্তু যদি বিক্রেতাগণ একমত হয়ে তাদের নিকট যা মাল আছে তার দাম বাড়িয়ে দেয় তখন ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে এবং সর্ব সাধারণের উপকার লাভ এবং ক্ষতি প্রতিহত করার সামগ্রিক মূলনীতির ভিত্তিতে দায়িত্বশীলের জন্য ইনসাফ ভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ করা জরুরি। আর যদি তাদের থেকে এ ধরনের কোন সিন্ডিকেট পাওয়া না যায়, চাহিদা বেশি এবং বাজারে জিনিসপত্র কম হওয়ার কারণে কোনো প্রকার ষড়যন্ত্র ছাড়া দাম বেড়ে যায়, তখন দায়িত্বশীলদের জন্য মূল্য নির্ধারণ করা বৈধ নয়। বরং তখন জনগণকে আপন অবস্থায় ছেড়ে দেবে যাতে তারা একে অপরের মাধ্যমে রিযিক লাভ করতে পারে। সুতরাং স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মূল্য বৃদ্ধি করা ব্যবসায়ীদের জন্য বৈধ নয় এবং দাম নির্ধারণ করাও বৈধ নয়। এর ওপরই হাদীসটি প্রয়োগ করা হবে।
ইয়া‘লা ইবন উমাইয়্যা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক লোককে খোলা জায়গায় লুঙ্গি ছাড়া গোসল করতে দেখে তিনি মিম্বারে আরোহণ করেন। তারপর তিনি আল্লাহর প্রশংসা এবং গুণাগুণ বর্ণনা করেন। তারপর তিনি বলেন, “অবশ্যই আল্লাহ আয্যা ওয়াজাল্লা লজ্জাশীল ও গোপনকারী। তিনি লজ্জা ও গোপন করাকে পছন্দ করেন। তোমাদের কেউ যখন গোসল করবে সে যেন ঢেকে নেয়।”
এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক লোককে খোলা জায়গায় উলঙ্গ অবস্থায় গোসল করতে দেখেছেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে আরোহণ করেন। তিনি আল্লাহর প্রশংসা এবং গুণাগুণ বর্ণনা করেন। তারপর তিনি বলেন, “অবশ্যই আল্লাহ আয্যা ওয়াজাল্লা লজ্জাশীল ও গোপনকারী। তিনি লজ্জা ও গোপন করাকে পছন্দ করেন। তোমাদের কেউ যখন গোসল করবে সে যেন গোপনীয়তা রক্ষা করে।” অর্থাৎ, আল্লাহর নামসমূহ হতে একটি নাম হলো, লজ্জাশীল ও গোপনকারী। তাই তিনি লজ্জা ও গোপন করাকে পছন্দ করেন। সুতরাং একজন মুসলিমের জন্য উচিৎ হবে না যে, যখন মানুষের সামনে গোসল করবে তখন সতর খুলবে। বরং তার সতর ডেকে রাখা ওয়াজিব। আল্লাহর লজ্জ আল্লাহর শান মোতাবেক একটি গুণ, তবে সেটা মাখলুকের লজ্জার মতো নয়, যার ধরণ হলো দোষী সাব্যস্ত বা দুর্নামের চেহারা পাল্টে যাওয়া ও ভয়ে ভীত হওয়া। বরং তার লজ্জার অর্থ হচ্ছে তার ব্যাপক রহমত, দয়া ও পরিপূর্ণ অনুগ্রহ এবং তার ক্ষমা ও সহনশীলতার সাথে যা মানানসই নয় সেটা ছেড়ে দেওয়া।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, “আল্লাহ তা‘আলা বলেন, “যখন বান্দা আমার দিকে এক বিঘত অগ্রসর হয়, তখন আমি তার দিকে এক হাত অগ্রসর হই। যখন সে আমার দিকে এক হাত অগ্রসর হয় তখন আমি তার দিকে এক বাহু অগ্রসর হই। আর যখন সে আমার দিকে এক বাহু অগ্রসর হয় তখন আমি তার দিকে আরো দ্রুত অগ্রসর হই।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।যখন কোন বান্দা রবের দিকে এক বিঘাত পরিমাণ অগ্রসর হয়, রব তার দিকে এক বাহুপরিমাণ অগ্রসর হয়। আর যখন কোন বান্দা রবের দিকে অধিক অগ্রসর হয়, তখন রব সে যতটুকু অগ্রসর হয়েছে তার চেয়ে আরও বেশি অগ্রসর হন। যখন বান্দা তার রবের দিকে আসে আল্লাহ তার দিকে তার চেয়েও দ্রুত আসে। এখানে অগ্রসর হওয়া ও আসা আল্লাহর দু’টি সিফাত যা আল্লাহ আয্যা ওজাল্লার জন্য সাব্যস্ত। আমরা উভয় সিফাতের প্রতি কোনো প্রকার ধরন ও দৃষ্টান্ত এবং কোনো প্রকার বিকৃতি ও অকার্যকর করা ছাড়া ঈমান আনবো।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্যে, যার শ্রুতি সকল শব্দকে বেষ্টন করে নিয়েছে। খাওলা তার স্বামীর ব্যাপারে অভিযোগ করতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসেছিল, তার কথাগুলো আমার নিকটও অস্পষ্ট ছিল। ইত্যবসরে আল্লাহ তা‘আলা নাযিল করলেন, “নিশ্চয় আল্লাহ সে নারীর কথা শুনেছেন, যে তার স্বামীর ব্যাপারে তোমার সাথে বাদানুবাদ করছিল, আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করছি। আল্লাহ তোমাদের কথোপকথন শোনেন।” [সূরা মুজাদালাহ, আয়াত: ১]
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন। - এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।খাওলা বিনত সালাবাহ আউস ইবন সামেতের সাথে বিবাহে আবদ্ধ ছিল। একদা আউস তাকে বলে: তুমি আমার ওপর আমার মায়ের পিঠের মতো। অর্থাৎ তুমি আমার ওপর হারাম। ফলে সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট গেল এবং তাকে ঘটনাটি বলল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: “তুমি তার ওপর হারাম হয়ে গেছ।” তখন সে নিচু আওয়াজে বলছিল, যা আয়েশা কাছে থাকা সত্ত্বেও শুনতে পাচ্ছিল না। আমার বয়স শেষ হওয়ার পর আমার সাথে মুজাহারা করল? আল্লাহর নিকট বাচ্চাদের অবস্থার অভিযোগ করছি, যদি তাদেরকে আমার সাথে রাখি, তারা ক্ষুধায় থাকবে, আর যদি তার নিকট রেখে দিই তাহলে তারা ধ্বংস হবে। এটাই তার বাদানুবাদ ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে, যা আল্লাহ তাআলা নিম্নের বাণীতে উল্লেখ করেছেন: “নিশ্চয় আল্লাহ সে নারীর কথা শুনেছেন, যে তার স্বামীর ব্যাপারে তোমার সাথে বাদানুবাদ করছিল, আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করছি। আল্লাহ তোমাদের কথোপকথন শোনেন।” অর্থাৎ ঘিরে ও বেস্টন করে নিয়েছে, যত গোপনই হোক তার থেকে কোনো কিছু ছুটে না। খাওলা তার স্বামীর অভিযোগ করতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসেছিল, তার কথাগুলো আমার নিকটও স্পষ্ট হচ্ছিল না, ইত্যবসরে আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেন, “নিশ্চয় আল্লাহ সে নারীর কথা শুনেছেন, যে তার স্বামীর ব্যাপারে তোমার সাথে বাদানুবাদ করছিল, আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করছি। আল্লাহ তোমাদের কথোপকথন শোনেন।” [সূরা মুজাদালাহ, আয়াত: ১] অর্থাৎ খাওলা যখন তার স্বামীর অভিযোগ জানাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসেছিল, তখন সে খুব আস্তে আওয়াজে তার সাথে কথা বলছিল, কাছে থাকা সত্ত্বেও আয়েশা যা শুনতে পাচ্ছিল না, তবুও সাত আসমানের উপর থেকে আল্লাহ তা‘আলা তার কথা শুনেছেন এবং উল্লিখিত আয়াতগুলো নাযিল করেছেন। আল্লাহ যে শুনেন একটি তার সবচেয়ে স্পষ্ট দলীল। এটি ইসলামের একটি জরুরী বিষয়, যা গোমরাহ ব্যতীত কেউ অস্বীকার করতে পারে না। আর আয়েশার এই কথা প্রমাণ করে যে, সাহাবীগণ কুরআন ও হাদীসের বাহ্যিক অর্থই বুঝতেন, শোনামাত্র যে দিকে মাথা ধাবিত হয়। আর আল্লাহও তাদের থেকে এবং তাদের ব্যতীত অন্যান্য লোকদের থেকে এবং তার রাসূল থেকেও এটাই চেয়েছেন, যদি এভাবে তাদের ঈমান আনা ও বিশ্বাস করা ভুল হত, তাহলে অবশ্যই তাদেরকে এই বিশ্বাসের ওপর রাখা হত না, অবশ্যই তাদের সামনে সত্য স্পষ্ট করা হত। অথচ তাদের কারো থেকেই সহীহ ও দুর্বল কোনোভাবেই এমন দলীল বর্ণিত হয় নি, যা প্রমাণ করে এগুলোর বাহ্যিক অর্থ উদ্দেশ্য নয়, যদিও তার অনেক প্রয়োজন ছিল।