





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
হুযায়ফা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফ‘ হিসেবে বর্ণিত: “আল্লাহ সকল স্রষ্টার স্রষ্টা এবং তার সৃষ্টিরও স্রষ্টা।”
এটি ইবন আবী ‘আসেম বর্ণনা করেছেন। - ইবন মানদাহ এটি “কিতাবুত তাওহীদ” এ বর্ণনা করেছেন। - বুখারী “খালকু আফআলিল ইবাদ” কিতাবে এটি বর্ণনা করেছেন।আল্লাহ সকল কারিগর এবং কারিগররা যা তৈরি করেন তারও সৃষ্টি কারক। এতে প্রমাণিত হয় যে, নিশ্চয় বান্দার কর্মসমূহ মাখলুক। আল্লাহ বান্দাদের সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের কর্মসমূহও সৃষ্টি করেছেন।
আবূ রিমসাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেন, আপনার পিঠের উপর যে (মোহরে নবুওয়াত) রয়েছে তা আমাকে দেখান। কারণ, আমি একজন ডাক্তার। তিনি বললেন, ডাক্তার কেবল আল্লাহ, বরং তুমি একজন বন্ধু। আর এর ডাক্তার কেবল তিনিই যিনি তা সৃষ্টি করেছেন।”
এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।আবূ রিমসাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু ছিলেন একজন ডাক্তার। তিনি মোহরে নবুওয়তকে প্রকাশ্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুই কাঁধের মাঝখানে ফুলা দেখতে পান। তখন সে ভাবল, এটি একটি ফোঁড়া যা রোগের কারণে সৃষ্টি হয়েছে। তিনি তার চিকিৎসা করার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রস্তাব দিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করলেন। তিনি বললেন, আল্লাহই ডাক্তার। অর্থাৎ, রোগ থেকে শিফা দানকারী ঔষধ দ্বারা সত্যিকার চিকিৎসক কেবল আল্লাহ। “বরং তুমি একজন হিতাকাঙ্খী মানুষ” তুমি অসুস্থ মানুষের সাথে দয়া ও মেহেরবানী কর। আর এ কথা এ জন্য বললেন যে, সত্যিকার ডাক্তার হলো যিনি রোগ ও রোগের ঔষধ সম্পর্কে জ্ঞানী এবং সুস্থতা ও আরোগ্য দানে সক্ষম। আর তা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কেউ করতে পারে না।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু থেকে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত, জান্নাত ও জাহান্নাম বিতর্ক করল। জাহান্নাম বলল, আমাকে অহংকারী ও প্রতাপশালীদের দ্বারা প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। আর জান্নাত বলল, আমার কি হলো যে, আমার মধ্যে দূর্বল, অবহেলিত ও মূল্যহীন লোক ব্যতীত কেউ প্রবেশ করবে না? আল্লাহ জান্নাতকে বলবেন, তুমি আমার রহমত তোমার দ্বারা আমাদের বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা দয়া করব। আর জাহান্নামকে বলবেন, তুমি আমার আযাব। আমাদের বান্দাদের থেকে যাকে ইচ্ছা তোমার দ্বারা আমি আযাব দিব। তোমাদের প্রত্যেককেই পূর্ণ করা হবে, তবে জাহান্নাম আল্লাহ তা‘আলার পা না রাখা পর্যন্ত পূর্ণ হবে না। তখন সে বলবে যথেষ্ট, যথেষ্ট, যথেষ্ট। এ মুহূত্যেই সে পূর্ণ হবে। এবং তার এক অংশ অপর অংশে ডুকে পড়বে। আল্লাহ তার মাখলুক থেকে কারো ওপর যুলুম করবেন না। আর জান্নাতের জন্য আল্লাহ তা‘আলা নতুন মাখলুক তৈরি করবেন।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।জাহান্নাম জান্নাতের ওপর বড়াই করে যে, সে সীমালঙ্ঘনকারী, অহংকারী ও অপরাধীদের থেকে আল্লাহর প্রতিশোধ নেওয়ার স্থান, যারা আল্লাহর নাফরমানি ও তার রাসূলকে অস্বীকার করেছে। আর জান্নাত এ কারণে অভিযোগ করল যে, তার মধ্যে যারা প্রবেশ করবে সাধারণত তারা হবে দূর্বল, গরীব ও মিসকীন, বরং তারা হবে বিনয়ী এবং আল্লাহর জন্য অনুগত। এ কথা জান্নাত ও জাহান্নাম বাস্তবেই বলেছে। আল্লাহ তাদেরকে অনুভতি, পরিপক্ক জ্ঞান, বিবেক ও বাক শক্তি দিয়েছেন। আল্লাহর নিকট কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। আল্লাহ জান্নাতকে বললেন, তুমি আমার রহমত তোমার দ্বারা আমাদের বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা দয়া করব। আর জাহান্নামকে বলবেন, নিশ্চয় তুমি আমার আযাব। আমাদের বান্দাদের থেকে যাকে ইচ্ছা তোমার দ্বারা আমি তাকে আযাব দেব। এটিই হলো তাদের উভয়ের মাঝে আল্লাহর ফায়সালা। অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা জান্নাতকে সৃষ্টি করেছেন তার বান্দাদের থেকে যাকে চান ও যাকে তার জন্য যোগ্য বানাবেন এবং যার প্রতি অনুগ্রহ করবেন সেখানে তাকে প্রবেশ করিয়ে দয়া করেন। আর জাহান্নাম বানিয়েছেন, তার জন্য যে তার অবাধ্য হয়, তার সাথে ও তার রাসূলদের সাথে কুফুরী করে, তাদের জাহান্নাম দ্বারা শাস্তি প্রদান করবেন। এগুলো সবই তার রাজত্ব তিনি তাতে যেভাবে চান ক্ষমতা প্রয়োগ করেন। তিনি কি করেন সে সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করার কেউ নেই, তবে তাদেরকে জিজ্ঞাসার করা হবে। জাহান্নামে কেবল সেই প্রবেশ করবে যে স্বীয় কর্ম দ্বারা নিজের ওপর তা অবধারিত করে নিয়েছে। অতঃপর তিনি বলেন, তোমাদের প্রত্যেকের জন্য রয়েছে ভরাট। এটি তাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া যে, তারা উভয়ে আপন আপন অধিবাসী দ্বারা পরিপূর্ণ হবে। জাহান্নাম থেকে এ বিষয়ে স্পষ্ট দাবি এসেছে। যেমন, আল্লাহ বলেন, যেদিন আমরা জাহান্নামকে বলবো, তুমি কি পরিপূর্ণ? আর সে বলবে, আরও বেশি আছে কি? আল্লাহ তা‘আলা শপথ করেছেন যে, জাহান্নামকে তিনি মানুষ ও জিন্ন দ্বারা পরিপূর্ণ করবেন। জান্নাত ও জাহান্নাম হলো হিসাবের পর বনী আদম ও জিন্নদের আবাসস্থল। যে ব্যক্তি ঈমান আনল, এক আল্লাহর ইবাদত করল এবং তার রাসূলের অনুসরণ করল, তার ঠিকানা হবে জান্নাতে। আর যে কুফুরী করল, অহংকার করল এবং নাফরমানি করল, তার ঠিকানা জাহান্নাম। তিনি বলেন, “তবে জাহান্নাম আল্লাহ তা‘আলার পা না রাখা পর্যন্ত পূর্ণ হবে না। তখন সে বলবে যথেষ্ট, যথেষ্ট, যথেষ্ট। তখন সে পূর্ণ হবে। আর একটি অংশ অপর অংশের মধ্যে ডুকে পড়বে। আল্লাহ তার মাখলুক থেকে কারো ওপর জুলুম করবেন না।” সুতরাং জাহান্নাম আল্লাহ তা‘আলার পা না রাখা পর্যন্ত পরিপূর্ণ হবে না। তখন একটি অংশ অপর অংশের সাথে মিশে যাবে এবং একত্র হবে। যারা তাতে রয়েছে তাদের ওপর সে সংকীর্ণ হবে। এভাবে সে পরিপূর্ণ হবে, তোমার রব কারো ওপর অবিচার করবেন না। কোনো প্রকার বিকৃতি ও অর্থ শূন্য করা ছাড়া এবং ধরণ ও তুলনা বর্ণনা ছাড়া আল্লাহর জন্য পা সাব্যস্ত করা ওয়াজিব। অতঃপর তিনি বলেন, “আর জান্নাতের জন্য আল্লাহ তা‘আলা নতুন মাখলুক আবিষ্কার করবেন।” তবে জান্নাত যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তা‘আলা নতুন মাখলুক সৃষ্টি না করবেন ততক্ষণ পর্যন্ত ভরবে না। আর তাদের দ্বারা তা পূর্ণ করা হবে।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, আদম ও মূসা আলাইহিমাস সালাম বিতর্ক করেন। মূসা আলাইহিস সালাম আদম আলাইহিস সালামকে বললেন, হে আদম! আপনি আমাদের পিতা। আপনি আমাদের হতাশ করেছেন এবং আপনার ভুলের মাশুলস্বরূপ আমাদেরকে জান্নাত থেকে বহিস্কার করেছেন। আদম আলাইহিস সালাম তাঁকে বলেন, হে মূসা! আল্লাহ তোমাকে তাঁর প্রত্যক্ষ কালামের জন্য মনোনীত করেছেন এবং তিনি স্বহস্তে তোমাকে তাওরাত কিতাব লিখে দিয়েছেন। তুমি কি আমাকে এমন একটি ব্যাপারে দোষারোপ করছো, যা আল্লাহ তা‘আলা আমাকে সৃষ্টি করার চল্লিশ বছর পূর্বে আমার জন্য নির্ধারিত করেছেন? অতএব, আদম আলাইহিস সালাম বিতর্কে মূসা আলাইহিস সালামের ওপর বিজয়ী হলেন।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।আদম আলাইহিস সালাম মূসা আলাইহিস সালামের সাথে বিতর্ক করেন। অর্থাৎ প্রত্যকেই অপরের সামনে নিজ নিজ দলীল উপস্থাপন করেন। হতে পারে এটি মূসা আলাইহিস সালামের মৃত্যুর পর অথবা স্বপ্নে। কারণ, নবীদের স্বপ্ন ওহী। এ ধরনের বিষয়ে মেনে নেওয়া ওয়াজিব। তার হাকীকতের ওপর অবতগত হওয়া আমাদের জন্য সম্ভব নয়। মূসা আলাইহিস সালাম তাকে বললেন, “হে আদম! আপনি আমাদের পিতা। আপনি আমাদের হতাশ করেছেন এবং আপনার ভুলের মাশুলস্বরূপ আমাদেরকে জান্নাত থেকে বহিস্কার করেছেন।” অর্থাৎ আমাদের হতভাগা ও গুনাহগার হওয়ার জন্য দায়ী তোমার সেই পাপ, যার কারণে তোমাকে জান্নাত থেকে বের করা হলো। অতঃপর আমরা নিজেরাই শয়তানের কু-মন্ত্রণার মুখোমুখি হলাম। তখন আদম আলাইহিস সালাম তাকে বললেন, “হে মূসা! আল্লাহ তোমাকে তাঁর প্রত্যক্ষ কালামের জন্য মনোনীত করেছেন” অর্থাৎ আল্লাহ তোমাকে বাচাই করেছেন তোমাকে তার কথা শুনিয়েছেন। অন্যান রাসূল থেকে এটি মূসা আলাইহিস সালামের আলাদা বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ তা‘আলা কোনো মাধ্যম ছাড়া তার সাথে কথা বলেছেন। বরং তাকে তার কথা সরাসরি শুনিয়েছেন। “এবং তিনি স্বহস্তে তোমাকে তাওরাত কিতাব লিখে দিয়েছেন।” অর্থাৎ তোমার জন্য তাওরাত নিজ হাতে লিখেছেন। কোনো প্রকার বিকৃতি ও তুলনা করা ছাড়া এর প্রতি ঈমান আনা আমাদের ওপর ওয়াজিব। “তুমি কি আমাকে এমন একটি ব্যাপারে দোষারোপ করছ, যা আল্লাহ তা‘আলা আমাকে সৃষ্টি করার চল্লিশ বছর পূর্বে আমার জন্য নির্ধারিত করেছেন?” আপনি কীভাবে এমন একটি বিষয়ের ওপর আমাকে দোষারোপ করছেন যা আল্লাহ তা‘আলা লৌহে মাহফুযে এবং তাওরাতের সহীফা ও তখতীতে আমাকে সৃষ্টির চল্লিশ বছর পূর্বেই লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। “অতএব, আদাম আলাইহিস সালাম বিতর্কে মূসা আলাইহিস সালামের উপর বিজয়ী হলেন।” অর্থাৎ দলীলের মাধ্যমে বিজয়ী হলেন। আদম আলাইহিস সালাম মূসা আলাইহিস সালামের সাথে বিতর্কে বিজয়ী হলেন। কারণ, আদম আলাইহিস সালাম সম্পর্কে আল্লাহ পূর্বেই জানতেন যে, সে জান্নাত থেকে বহিষ্কৃত হবেন এবং যমীনে অবতরণ করবেন। সুতরাং তার জন্য কীভাবে সম্ভব যে, তার সম্পর্কে আল্লাহর জ্ঞানের বাইরে যাওয়া। সুতরাং আদম আলাইহিস সালামের দলীল স্পষ্ট। তার বিষয়ে যে ফায়সালা নির্ধারিত তা পরিবর্তন ও প্রতিহত করা অসম্ভব। বরং তা এমন একটি সিদ্ধান্ত যা মহা প্রজ্ঞাবান ও মহান কুদরতের অধিকারী যিনি তিনিই লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। সুতরাং তা প্রতিহত করা বা সংঘটিত হওয়ার পর ফিরিয়ে দেওয়া সবই অসম্ভব। তার সামনে তা মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। এতদসত্ত্বেও ভাগ্য কখনো অসংঘটিত কোনো বিষয়ের দলীল নয়। কারণ, মানুষ ভালো কর্ম করা ও মন্দ কর্ম ছাড়ার ব্যাপারে আদিষ্ট। সে কোনো কিছু সংঘটিত না হওয়া পর্যন্ত জানেনা যে, তার ভাগ্যে কি আছে। যখন ভাগ্য বাস্তবায়িত হবে এবং কোনো ক্রমেই তা ঠেকাতে পারবে না তখন তাকে অবশ্যই ভাগ্যের সামনে মাথানত করতে হবে। আর সে বলবে, আল্লাহ ভাগ্য নির্ধারণ করেছে তিনি যা চান তাই করেন। আর সে স্বীয় গুনাহ থেকে ক্ষমা চাইবে আল্লাহর কাছে; তাওবা করবে। সুতরাং এ কথা স্পষ্ট যে, মূসা আলাইহিস সালাম তার প্রজন্মকে নিয়ে বিপদে পড়ার জন্য আদম আলাইহিস সালাম কারণ হওয়াতে তাকে দোষরোপ করার ইচ্ছা করলে আদম আদম আলাইহিস সালাম তার ওপর বিজয়ী হন। আদম আলাইহি ওয়াল্লাম মূসা আলাইহি ওয়াল্লাম প্রমাণ দ্বারা বুঝিয়ে দেন যে, এ বিপদ আগেই নির্ধারিত ছিল যা বাস্তবায়িত হওয়া আবশ্যিক। চায় এ সব বিপদসমূহ বান্দার কৃত কর্মের কারণে হোক বা অন্য কোনো কারণে হোক। বান্দার ওপর ওয়াজিব হলো ধৈর্য ধারণ করা ও কবুল করা। আর এ কারণে অপরাধীর দোষী সাব্যস্ত হওয়া ও শাস্তি ভোগ করা রহিত হবে না।
জাবের ইবন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমার কাছে এক লোক থেকে হাদীস পৌঁছল যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন। আমি একটি উট ক্রয় করি। তারপর তার ওপর আরোহণ করে তার দিকে এক মাসের যাত্রা শুরু করি এবং সিরিয়ায় তার নিকট গমণ করি। সেখানে দেখি আব্দুল্লাহ ইবন উনাইস। আমি দারোয়ানকে বললাম তুমি তাকে বলো দরজায় জাবের । তখন সে বলল, ইবন আব্দুল্লাহ? বললাম হ্যাঁ। তার পর সে কাপড় মাড়াতে মাড়াতে দ্রূত বের হলো এবং আমাকে জড়িয়ে ধরল। আমিও তাকে জড়িয়ে ধরলাম। আমি বললাম আমার নিকট তোমার পক্ষ থেকে কিসাস বিষয়ে একটি হাদীস পৌঁছেছে যা তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছ। তাই আমি আশঙ্কা করলাম না জানি তা শোনার পূর্বে তুমি বা আমি মারা যাই। তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: কিয়ামাতের দিন মানুষ বা বললেন বান্দাদের বিবস্ত্র, খাতনাবিহীন ও খালি হাতে একত্র করা হবে। তিনি বলেন আমরা বললাম খালি হাত কি? তিনি বললেন: তাদের হাতে কোন সম্পদ থাকবে না। অঃপর তাদের এমন আওয়াজে আহ্বান করা হবে, যারা দূরে তারা এমনই শুনতে পাবে যেমন যারা কাছে তারা শুনতে পায়। আমি বাদশাহ, আমি প্রতিদান দাতা। কোন জাহান্নামীর জন্য কোন জান্নাতীর নিকট পাওনা থাকা অবস্থায় তার থেকে বদলা আদায় করিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত জাহান্নামে প্রবেশ করা উচিত হবে না। অনুরূপভাবে জান্নাতীদের কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না তার নিকট জাহান্নামীদের কোনো পাওনা থাকাবস্থায় যতক্ষণ না আমি তার থেকে বদলা নিব। এমনকি একটি থাপ্পড় পর্যন্ত। তিনি বলেন, আমরা বললাম কীভাবে? আমরাতো সেদিন অবশ্যই আল্লাহর দরবারে বিবস্ত্র, খাতনাবিহীন ও খালি হাত উপস্থিত হবো। তিনি বললেন, নেক আমল ও মন্দ আমল দ্বারা।
এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।জাবের ইবন আব্দুল্লাহ আনসারী সংবাদ দেন যে, তিনি জানতে পারছেন যে, আব্দুল্লাহ ইবন উনাইস রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একটি হাদীস শুনেছেন যেটি তিনি শুনেননি। তাই তিনি একটি উট ক্রয় করলেন। তারপর তার ওপর তার সামানা রাখলেন এবং তার ওপর আরোহণ করে তার দিকে এক মাসের যাত্রা শুরু করেন। তারপর সিরিয়ায় গমন করে আব্দুল্লাহ ইবন উনাসের নিকট প্রবেশ করেন। তিনি দারোয়ানকে বললেন, তুমি তাকে বলো দরজায় জাবের। তখন আব্দুল্লাহ ইবন উনাইস বলল, ইবন আব্দুল্লাহ? জাবের বলল হ্যাঁ। তারপর সে কাপড় মাড়াতে মাড়াতে খুব দ্রূত বের হলো এবং দু্ই জন মু‘আনাকা করল। তখন জাবের তাকে বলল,আমি জানতে পারলাম যে, তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কিসাস বিষয়ে একটি হাদীস শুনেছ। তাই আমি আশঙ্কা করলাম যে, না জানি তা শোনার পূর্বে তুমি বা আমি মারা যাই। তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, কিয়ামাতের দিন মানুষ বা বললেন বান্দাদের বিবস্ত্র, খাতনাবিহীন ও খালি হাতে একত্র করা হবে। তিনি বলেন, আমরা বললাম খালি হাত কি? তিনি বললেন: তাদের হাতে কোন সম্পদ থাকবে না। অর্থাৎ কিয়ামতের দিন আল্লাহ মানুষকে তাদের হিসাবের জন্য এবং তাদের কৃত কর্মের প্রতিদান দেয়ার জন্য এক জায়গায় একত্র করবেন। তখন তারা হবেন লেংটা, খাতনাবিহীন যেমনটি তাদের মাতাগণ তাদের প্রশব করেন। তাদের হাতে তখন দুনিয়ার কোন কিছুই থাকবে না। অঃপর তিনি বলেন, “তিনি তাদের আওয়াজ দ্বারা আহ্বান করবেন”। বস্তুত আওয়াজ ছাড়া আহ্বান হয় না। আর মানুষ আওয়াজ ছাড়া আহ্বান চিনতে পারে না। তারপর আওয়াজের কথা উল্লেখ করা এখানে আহ্বানকে শক্তিশালী করার জন্য। এটি অত্যন্ত স্পষ্ট ও পরিষ্কার যে, আল্লাহ তা‘আলা কথা বলবেন যা আল্লাহ থেকে শোনা যাবে। আর তার জন্য রয়েছে আওয়াজ। তবে তার আওয়াজ মাখলুকের আওয়াজের সদৃশ নয়। এ কারণেই তিনি বলেছেন, আওয়াজটি যারা দূরে তারা এমনই শুনতে পাবে যেমন যারা কাছে তারা শুনতে পায়। এ সিফাতটি আল্লাহর আওয়াজের সাথে খাস। আর মাখলুকের আওয়াজ দুর্বল ও শক্তিশালী হওয়ার বিবেচনায় কেবল যারা কাছে তারা শুনতে পায়। একে প্রমাণকারী নস অনেক রয়েছে। আল্লাহ তা‘আলার বাণী: “আর তিনি তাদের দুইজনকে আহ্ববান করেন আমি কি তোমাদের দুইজনকে নিষেধ করিনি।” আর তার বাণী: আর আমরা তাকে তূর পাহাড়ের ডান দিক থেকে আহ্বান করি এবং তাকে আলাপচারিতার জন্য কাছে নিয়ে আসি। তার বাণী: আর যখন তোমার রব মূসাকে আহ্বান করল। তুমি যালেম সম্প্রদায়ের নিকট যাও। তারপর তিনি বলেন, আমি বাদশাহ, আমি তোমাদের আমলের হিসাব গ্রহণকারী এবং প্রতিদান দাতা। অর্থাৎ যে আহ্বান হাসরের মাঠে অবস্থানকারীগণ শুনবেন তা দূর থেকে শোনা যাবে যেমনটি শোনা যাবে কাছ থেকে। এ বলে আহ্বান করবেন, “আমি বাদশাহ আমিই প্রতিদান দাতা।” বস্তুত আল্লাহ তা‘আলাই হলেন বাদশাহ যার হাতে আসমানসমূহ ও যমীনের এবং তাদের মধ্যে যা রয়েছে তাদের সবকিছুর ক্ষমতা। আর তিনি তার বান্দাদেরকে তাদের আমলের বিনিময় দানকারী। যে ব্যক্তি ভালো আমল করবে তাকে তার আমলের চেয়ে উত্তম বিনিময় দান করবেন আর যে ব্যক্তি মন্দ আমল করবে তাকে উপযুক্ত বিনিময় দান করবেন। তারপর আল্লাহ বলবেন, কোন জাহান্নামীকে জাহান্নাতে প্রবেশ করানো উচিত হবে না অথচ সে কোন জান্নাতীর নিকট পাওনাদার। যতক্ষণ না তার থেকে তার বদলা নেওয়া হবে। অনুরূপভাবে কোনো জান্নাতীর জান্নাতে প্রবেশ করা উচিত হবে না অথচ তার নিকট কোনো জাহান্নামীর হক রয়েছে। এমনকি একটি থাপ্পড় পর্যন্ত। অর্থাৎ আল্লাহ তার বান্দাদের মাঝে ইনসাফের সাথে ফায়সালা করবেন। তাই তিনি যালেম থেকে মাযলুমের হক আদায় করবেন। তাই কোন জাহান্নামী জাহান্নামে প্রবেশ করবে না অথচ তার জন্য কোন জান্নাতীর নিকট হক রয়েছে। যতক্ষণ না তাতে তার অধিকার গ্রহণ করার ক্ষমতা দেওয়া হবে। এটি হলো পরিপূর্ণ ইনসাফ। কারণ, কাফির ও যালিম তারা দুইজন জাহান্নামে যাওয়া সত্বেও তাদের কোন প্রকার যুলুম করা হবে না। যদি কোন জান্নাতীর নিকট তাদের কোন পাওনা থাকে তারা তা গ্রহণ করবে। অনুরূপ অবস্থা হবে জান্নাতীদের ক্ষেত্রেও। সাহাবীগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করল, মানুষকে কীভাবে তাদের পাওনা পরিশোধ করবে অথচ তাদের সাথে দুনিয়ার কোন ধন-সম্পদ নেই। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, নেক আমলসমূহ ও মন্দ আমলসমূহ দ্বারা। অর্থাৎ সেদিন অধিকার আদায় করা সংঘটিত হবে এভাবে যে, মাযলুম ব্যক্তি যালেম ব্যক্তির নেকীসমূহ নিয়ে নিবে। যখন যালিম ব্যক্তির নেকীসমূহ শেষ হয়ে যাবে তখন মাযলুম ব্যক্তির বদীসমূহ নেওয়া হবে এবং তা যালিম ব্যক্তি বদীর ওপর রাখা হবে। অতঃপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। যেমনটি হাদীসে এসেছে।
উম্মে শারীক রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম টিকটিকি মারতে আদেশ দিয়েছেন এবং বলেছেন যে, “এটি ইবরাহীমের অগ্নিকুণ্ডে ফুঁ দিয়েছিল।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম টিকটিকি মারতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি সংবাদ দেন যে, এটি ইবরাহীম আলাইহিস সালামের উপর প্রজ্জলিত আগুনে ফুঁ দিয়েছিল যাতে তার উত্তাপ আরও বৃদ্ধি পায়। বিষয়টি তাওহীদ ও ইখলাস পন্থীদের প্রতি টিকটিকির চরম বিদ্বেষের বিষয়টি স্পষ্ট করে।
উসাইদ ইবনে আবূ উসাইদ তাবেয়ী, এমন এক মহিলা থেকে বর্ণনা করেন, যিনি নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বায়আতকারিণী মহিলাদের একজন ছিলেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সব সৎকর্ম করতে ও তাতে তাঁর অবাধ্যতা না করতে আমাদের কাছে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন, সে সবের মধ্যে এটিও ছিল যে, (শোকাহত হয়ে) আমরা চেহারা খামচাব না, ধ্বংস ও সর্বনাশ কামনা করব না, বুকের কাপড় ছিঁড়ব না এবং মাথার চুল আলুথালু করব না।’
এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারী সাহাবীদের বাই‘আত গ্রহণ করানোর সময় তারা যাতে তার অবাধ্য না হয় সে ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করতেন। তা থেকে কতক হলো, কেউ যেন চেহারা না খামচায়, চেহারায় আঘাত না করে এবং মুখের ওপর প্রহার না করে, নিষিদ্ধ নিয়াহার মাধ্যমে আওয়াজ বড় না করে, কেউ যেন কাপড় না ছিঁড়ে এবং মুসিবতের সময় মাথার চুল আলুথালু না করে এবং না ছিঁড়ে।
‘উমার ইবনুল খত্তাব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত: একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট কতকগুলো বন্দী আসে। বন্দীদের মধ্যে একজন স্ত্রীলোক ছিল। তার স্তন ছিল দুধে পূর্ণ। সে বন্দীদের মধ্যে কোন শিশু পেলে তাকে কোলে তুলে নিত এবং দুধ পান করাত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বললেনঃ “তোমরা কি মনে কর এ স্ত্রীলোকটি তার সন্তানকে আগুনে ফেলে দিতে পারে?” আমরা বললামঃ ফেলার ক্ষমতা রাখলেও সে কখনো ফেলবে না। তারপর তিনি বললেনঃ “এ স্ত্রীলোকটি তার সন্তানের উপর যতটা দয়ালু, আল্লাহ তাঁর বান্দার উপর তার চেয়েও অনেক বেশি দয়ালু”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হাওয়াজিন থেকে কিছু বন্দী আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে একজন মহিলাও ছিলেন যিনি তার বাচ্চা ছেলেকে খুঁজছিলেন। যখন সে একটি ছেলে সন্তান পেল, তখন সে তাকে নিয়ে বুকের দুধ খাওয়ালো। কারণ তার স্তনে জমে থাকা দুধের জন্য কষ্ট হচ্ছিল। সে তার ছেলেকে বন্দীদের মধ্যে পেল, তাই সে তাকে নিয়ে গেল, পেটের কাছে জড়িয়ে ধরল এবং বুকের দুধ খাওয়াল। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের বললেন: তোমরা কি মনে করো এই মহিলা তার ছেলেকে আগুনে ছুঁড়ে ফেলবে? আমরা বললাম: কখনোই ইচ্ছাকৃতভাবে সে তা করবে না। তিনি বললেন: আল্লাহ তাঁর মুসলিম বান্দাদের প্রতি এই মহিলার সন্তানের প্রতি যতটা দয়ালু তার চেয়েও বেশি দয়ালু।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “একবার জনৈক ব্যক্তি পথ দিয়ে চলছিল। তার খুব পিপাসা পেল, তাই সে একটি কূপ পেয়ে তাতে নেমে পানি পান করল। অতঃপর বের হয়ে দেখল যে, একটি কুকুর হাঁপাচ্ছে, পিপাসায় কাদা চাটছে। লোকটি বলল, ‘পিপাসায় আমি যেখানে পৌঁছেছিলাম, কুকুরটিও সেখানে গিয়ে পৌঁছেছে।’ অতঃপর সে কূপে নামল এবং তার মোজায় পানি ভরে মুখে দিয়ে ধরে উপরে উঠল ও কুকুরকে পান করাল। আল্লাহ তা‘আলা তার আমলকে কবুল করলেন ও তাকে ক্ষমা করলেন।” সাহাবীগণ বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! চতুষ্পদ জন্তুর ক্ষেত্রেও কি আমাদের সাওয়াব হবে?’ তিনি বললেন, “প্রত্যেক সতেজ জীবের প্রতি দয়া প্রদর্শনে নেকী রয়েছে।” অন্য এক বর্ণনায় আছে যে, “আল্লাহ তাআলা তার আমলকে কবুল করলেন, তাকে ক্ষমা করলেন ও তাকে জান্নাতে প্রবেশ করালেন।” অপর এক বর্ণনায় আছে, “একবার একটি কুকুর কোনো এক কূপের পাশে চক্কর দিচ্ছিল, এমতাবস্থায় যে পিপাসা তাকে মেরে ফেলার উপক্রম করছিল। ইত্যবসরে বনী ইসরাঈলের বেশ্যাদের এক বেশ্যা তাকে দেখল। ফলে সে নিজের চামড়ার মোজা খুলে তার জন্যে পানি তুলল ও তাকে পান করাল। ফলে এর বিনিময়ে তাকে ক্ষমা করা হল।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন। - মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।জনৈক ব্যক্তি মুসাফির অবস্থায় রাস্তায় চলছিল, তাকে পিপাসায় পেল ফলে সে কূপে নেমে সেখান থেকে পান করল এবং তার পিপাসাও শেষ হল। যখন সে বের হল দেখল একটি কুকুর পিপাসার কারণে কাঁদা মাটি খাচ্ছে, যেন সে মাটির পানি চুষে পিপাসা মিটাতে পারে, বস্তুত কঠিন পিপাসায় এরূপ করছিল। লোকটি ভাবল, আল্লাহর কসম আমাকে যেরূপ পিপাসা স্পর্শ করেছিল, কুকুরটিকেও সেরূপ পিপাসা স্পর্শ করেছে। অতঃপর সে কূপে নেমে তার মোজায় পানি ভরে মুখ দিয়ে ধরল, আর দুই হাত দ্বারা উপরে উঠতে থাকল, উপরে উঠে কুকুরকে পান করাল। যখন সে কুকুরকে পান করাল আল্লাহ তা‘আলা তার আমল কবুল করলেন ও তাকে ক্ষমা করলেন এবং তার কারণে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করালেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সাহাবীদের এ হাদীস বর্ণনা করলেন, তখন তারা জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! চতুষ্পদ জন্তুতেও কি আমাদের সওয়াব হবে? ’অর্থাৎ তাও কি সাওয়াবের কারণ হবে? তিনি বললেন, “প্রত্যেক সতেজ জীবের কারণে নেকী রয়েছে।” অর্থাৎ তাকে পান করানোতে। কারণ, জীব পানির মুখাপেক্ষী, পানি না হলে শুকিয়ে যাবে ও জীব-জন্তু ধ্বংস হবে। অপর বর্ণনায় আছে, বনী ইসরাঈলের এক বেশ্যা নারী একটি কুপের পাশে একটি কুকুরকে পিপাসায় ঘোরাফেরা করতে দেখল। কিন্তু পানি পর্যন্ত পৌঁছা তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। তাই সে নিজের মোজা খুলে পানি দ্বারা পূর্ণ করল ও কুকুরকে পান করালো। এ আমলের কারণে আল্লাহ তা‘আলা তাকে ক্ষমা করলেন।