





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
উম্মে সাবেত কাবশাহ বিনতে সাবেত, হাসসান ইবনে সাবেতের ভগিনী (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট এলেন এবং একটি ঝুলন্ত মশকের মুখ থেকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পানি পান করলেন। সুতরাং আমি উঠে তার মুখটা কেটে নিলাম।
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।কাবশাহ বিনতে সাবেত রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট এলেন এবং একটি ঝুলন্ত মশকের মুখ থেকে দাঁড়িয়ে পানি পান করলেন; কেননা তখন এভাবে দাঁড়িয়ে পান করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় ছিল না। তিনি বলেন, তখন আমি উঠে ঐ অংশটা কেটে নিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে স্থান দিয়ে পান করেছেন সে স্থানটা সংরক্ষণ করে বরকত নেওয়ার জন্য এবং সে স্থানকে যাবতীয় অপমান থেকে রক্ষা করার জন্য।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে মরফূ‘ হিসেবে বর্ণিত, “একটি বাহিনী কা‘বা ঘরের উপর আক্রমণ করার উদ্দেশ্যে বের হবে। অতঃপর যখন তারা সমতল মরুপ্রান্তরে (বাইদা) পৌঁছবে তখন তাদের প্রথম থেকে শেষ ব্যক্তি পর্যন্ত সকলকে যমীনে ধসিয়ে দেওয়া হবে। তিনি (আয়েশা) বলেন যে, আমি (এ কথা শুনে) বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! কেমন করে তাদের প্রথম থেকে শেষ ব্যক্তি পর্যন্ত সকলকে ধসিয়ে দেওয়া হবে? অথচ তাদের মধ্যে তাদের বাজারের ব্যবসায়ী এবং এমন লোক থাকবে, যারা তাদের (আক্রমণকারীদের) অন্তর্ভুক্ত নয়। তিনি বললেন, তাদের প্রথম থেকে শেষ ব্যক্তি পর্যন্ত সকলকে ধসিয়ে দেওয়া হবে। তারপর তাদেরকে তাদের নিয়ত অনুযায়ী পুনরুত্থিত করা হবে।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানালেন যে, এমন একটি বিরাট বাহিনীর কথা যারা আল্লাহর সম্মানিত ঘরের উপর আক্রমণ করার উদ্দেশ্যে বের হবে। অতঃপর যখন তারা সমতল মরুপ্রান্তরে (বাইদা) পৌঁছবে তখন আল্লাহ তাদের সকলকেই যমীনে ধসিয়ে দিবেন। তিনি (আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ঐ সকল লোকদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন যারা বেচা-কেনার উদ্দেশ্যে আসবে, কা‘বা ঘরের উপর আক্রমন করা যাদের ইচ্ছা নেই এবং তাদের মধ্যে এমন লোকও থাকবে যারা না জেনে তাদের অনুসরণ করবে। তিনি তাকে জানালেন, তাদেরসহ ধসিয়ে দেওয়া হবে। কেননা তারা তাদেরই সাথে। তারপর তাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে এবং তাদেরকে তাদের নিয়ত অনুযায়ী আমলনামা দেওয়া হবে। সুতরাং প্রত্যেকে তার নিয়ত অনুযায়ী ভালো-মন্দ ফল পাবে।
রিফা‘আহ ইবন রাফে‘ আয-যুরাকী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট জিবরীল এসে বললেন, ‘বদর যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারীদেরকে আপনাদের মধ্যে কিরূপ গণ্য করেন?’ তিনি বললেন, “সর্বশ্রেষ্ঠ মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করি” অথবা অনুরূপ কোনো বাক্যই তিনি বললেন। (জিবরীল) বললেন, ‘বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ফিরিশতাগণও অনুরূপ।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।বিশিষ্ট সাহাবী রিফা‘আহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু আমাদের অবহিত করেন যে, জিবরীল আলাইহিস সালাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে তাকে বললেন, বদর যুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের মর্যাদা কী? যে যুদ্ধে আল্লাহ তা‘আলা তার নবীকে এবং তার সাথে থাকা মুমিনদেরকে পুরোপুরি সাহায্য করেছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তারা আমাদের নিকট সর্বোত্তম মুসলিম। এ কথার উত্তরে জিবরীল আলাইহিস সালাম বললেন, এ যুদ্ধে ফিরিশতাদের থেকে যারা উপস্থিত হয়েছে এবং যুদ্ধ করেছে তারাও সর্বোত্তম।
আবূ হুরায়রা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় জমি হল মসজিদ আর আল্লাহর কাছে সবচেয়ে ঘৃণ্য জমি হল বাজার।"
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেননবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় স্থান হলো মসজিদ। কারণ এগুলো আনুগত্যের ঘর এবং এগুলোর ভিত্তি তাকওয়ার উপর। আর আল্লাহর কাছে সবচেয়ে ঘৃণ্য জমি হলো এর বাজার। কারণ এটি প্রায়শই ধোকা, প্রতারণা, সুদ, মিথ্যা শপথ, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ হওয়ার জায়গা।
আলী ইবন রাবী‘আহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আলী ইবন আবূ তালিব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর নিকট হাযির ছিলাম। যখন তার নিকট আরোহণ করার উদ্দেশ্যে বাহন আনা হলো এবং যখন তিনি বাহনের পাদানীতে স্বীয় পা রাখলেন তখন ‘বিসমিল্লাহ’ বললেন। অতঃপর যখন তার পিঠে স্থির হয়ে সোজাভাবে বসলেন তখন বললেন, ‘আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী সাখ্খারা লানা হা-যা অমা কুন্না লাহু মুকরিনীন। অইন্না ইলা রাব্বিনা লামুনকালিবূন।’ অতঃপর তিনবার ‘আলহামদুলিল্লাহ’ পড়লেন। তিনবার ‘আল্লাহু আকবার’ পড়লেন। অতঃপর পড়লেন, ‘সুবহানাকা ইন্নী যালামতু নাফ্সী ফাগফিরলী, ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুয্ যুনূবা ইল্লা আনতা।’ অতঃপর তিনি হাসলেন। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, ‘হে আমীরুল মু’মিনীন! আপনি হাসলেন কেন?’ তিনি বললেন, ‘আমি নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখলাম, তিনি তাই করলেন, যা আমি করলাম। অতঃপর তিনি হাসলেন। আমি প্রশ্ন করলাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আপনি হাসলেন কেন?’ তিনি বললেন, “তোমার মহান রব্ব তাঁর সেই বান্দার প্রতি আশ্চার্যান্বিত হন, যখন সে বলে, ‘ইগফিরলী যুনূবী’ (অর্থাৎ আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দাও।) সে জানে যে, আমি (আল্লাহ) ছাড়া পাপরাশি আর কেউ ক্ষমা করতে পারে না।”
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।আলী ইবন রাবী‘আহ থেকে বর্ণিত, আর তিনি বিশিষ্ট তাবে‘ঈগণের একজন ছিলেন। তিনি বলেন, আমি আলী ইবন আবূ তালিব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর নিকট হাযির ছিলাম। তখন তার আরোহণের উদ্দেশ্যে তাঁর নিকট তার বাহনটি নিয়ে আসা হলো। অভিধানে দাব্বাহ শব্দের অর্থ, যে সব জন্তু যমীনের উপরে বিচরণ করে। তারপর পরিভাষায় চতুষ্পদ জন্তুর ক্ষেত্রে এ শব্দটি ব্যবহার নির্ধারিত। যখন তিনি বাহনের পাদানীতে স্বীয় পা রাখলেন তখন (‘বিসমিল্লাহ’) বললেন। অর্থাৎ আল্লাহর নামে আরোহণ করলাম। অতঃপর যখন তার পিঠে স্থির হয়ে সোজাভাবে বসলেন তখন বললেন, ‘(আলহামদু লিল্লাহ।) অর্থাৎ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এ মহান নি‘আমতের ওপর। আর তা হলো, অপরিচিত পলায়নকারী জন্তুকে আমাদের অনুগত করে দেওয়া। আর তার খারাবী থেকে নিরাপদে আরোহণ করার ক্ষেত্রে তাকে আমাদের অনুগত করা। যেমনটি স্পষ্ট করলেন তার কথা দ্বারা (যিনি আমাদের জন্য এ আরোহণকে অনুগত করলেন) যাকে অনুগত করার কোনো ক্ষমতা আমাদের ছিল না। (অবশ্যই আমরা আমাদের রবের দিকে ফিরে যাবো।) অতঃপর অর্থাৎ তাকে যে নি‘আমত দান করেছে তার ওপর প্রশংসার পর তিনি তিনবার (‘আলহামদুলিল্লাহ’) পড়লেন। অর্থাৎ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এমন প্রশংসা যা কোনো কিছুর সাথে সম্পৃক্ত নয়। একাধিকবার বলার মধ্যে আল্লাহ যে মহান তার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। আর বান্দা আল্লাহর যথাযথ সম্মান করতে সক্ষম নয়। তবে তার সক্ষমতা অনুযায়ী তার আনুগত্য করার প্রতি বান্দা নির্দেশিত। অতঃপর তিনবার ‘(আল্লাহু আকবার’) পড়লেন। এখানে বার বার বলা অধিক গুরুত্ব বোঝানোর জন্য। (তারপর বলল, ‘সুবহানাকা) অর্থাৎ আমি তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। (ইন্নী যালামতু নাফ্সী) অর্থাৎ, আমি আমার নিজের ওপর যুলুম করছি। তোমার হক পালন না করার কারণে এবং এত বড় মহান নি‘আমতের শুকরিয়া আদায়ের ক্ষেত্রে দুর্বলতা প্রত্যক্ষ করার কারণে। চাই তা অলসতার কারণে হোক বা অন্য যে কোন কারণেই হোক। (ফাগফিরলী) অর্থাৎ আমার গুনাহগুলোকে গোপন করুন, তার ওপর শাস্তি দেওয়ার জন্য পাকড়াও না করার মাধ্যমে। (ইন্নাহু লা য়্যাগফিরুয্ যুনূবা ইল্লা আন্তা) এতে আল্লাহর অনেক নি‘আমত প্রাপ্তি সত্ত্বেও নিজের ত্রুটি স্বীকার করার প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে। (অতঃপর তিনি হাসলেন।) (তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো) ইবন রাবি‘আ তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হে আমীরুল মুমিনীন! আপনি হাসলেন কেন?)’যেহেতু এমন কোনো আশ্চর্য বিষয় প্রকাশ পায় নি যাতে হাসি সৃষ্টি করে। তাই তিনি তার কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। প্রশ্ন করার আগে তিনি তাকে সম্বোধন করলেন, যেমনটি কাউকে সম্বোধন করার শিষ্টাচার। (তিনি বললেন, ‘আমি নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখলাম, তিনি তাই করলেন, যা আমি করলাম।) তথা আরোহণ করলেন এবং বিভিন্ন জায়গায় যিকির করলেন। (অতঃপর তিনি হাসলেন। আমি প্রশ্ন করলাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আপনি হাসলেন কেন?) (তিনি বললেন, “তোমার মহান প্রতিপালক আশ্চর্যান্বিত হন), আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর যখন ঐ কথাটি স্মরণ হলো, তখন তিনি তার অধিক শুকরীয়া জ্ঞাপনকে ওয়াজিব করলেন। ফলে তিনি তাকে সুসংবাদ দিলেন এবং হাসলেন। তার হাসি শুধু অনুকরণ ছিল না। কারণ, হাসি সাধারণত ইচ্ছাকৃত করা যায় না। যদিও কখনো সময় হাসির ভান করা যায়। (সেই বান্দার প্রতি) এটা সম্মান সূচক সম্পর্ক। (যখন সে জেনে বলে, ‘ইগফিরলী যুনূবী’ অর্থাৎ, আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দাও।) অর্থাৎ সে তা জেনে বলে, অমনোযোগী হয়ে নয় (আমি আল্লাহ ছাড়া পাপরাশি আর কেউ মাফ করতে পারে না।)
আবূ হুরায়রা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের সম্ভ্রমহানি বা অন্য কোন বিষয়ে যুলুমের জন্য দায়ী থাকে, সে যেন আজই তার কাছ হতে মাফ করিয়ে নেয়, সে দিন আসার পূর্বে যে দিন তার কোন দীনার বা দিরহাম থাকবে না। সে দিন তার কোন সৎকর্ম থাকলে তার যুলুমের পরিমাণ তা তার নিকট হতে নেয়া হবে আর তার কোন সৎকর্ম না থাকলে তার প্রতিপক্ষের পাপ হতে নিয়ে তা তার উপর চাপিয়ে দেয়া হবে”।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে তার মুসলিম ভাইয়ের সম্মান, অর্থ বা রক্তে অন্যায় করেছে এমন প্রত্যেককে জীবিত থাকা অবস্থায় যাকে জুলুম করেছে তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার নির্দেশ দিয়েছেন, কেয়ামতের দিন আসার আগে, যখন যার প্রতি অন্যায় করেছে নিজের মুক্তিপণ হিসেবে তাকে এক দিনার সোনা বা এক দিরহাম রূপা দেওয়া কোন কাজে আসবে না। কারণ সেদিন প্রতিশোধ নেওয়া হবে ভালো ও মন্দ আমলের মাধ্যমে, যেমন নির্যাতিত ব্যক্তি অত্যাচারীর সৎকর্ম থেকে তার উপর যতটুকু অন্যায় করা হয়েছে তার পরিমাণ নেকি গ্রহণ করবে; যদি অত্যাচারীর কোন ভালো কাজ না থাকে, তাহলে নির্যাতিত ব্যক্তির মন্দ কাজগুলো তার উপর চাপিয়ে দেওয়া হয় তার উপর যতটুকু অবিচার করা হয়েছে তার অনুপাতে।
উম্মুল মুমেনীন ‘আয়িশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, “মানুষকে হাশরের মাঠে উঠানো হবে নগ্ন পদ, নগ্ন দেহ ও খাতনাবিহীন অবস্থায়”। ’আয়িশাহ বলেন, আমি তখন বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! তখন তাহলে পুরুষ ও নারীগণ একে অপরের দিকে তাকাবে। তিনি বললেন: “হে আয়েশা, একে অপরের দিকে দেখার চেয়ে তখনকার অবস্থা হবে অতীব ভয়াবহ”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিয়ামতের দিন কী ঘটবে তার কিছু বর্ণনা দিয়েছেন এবং মানুষকে কবর থেকে উঠানোর পর বিচারের জন্য একত্রিত করা হবে এবং তাদের অবস্থা হবে এই যে তারা জুতা ছাড়াই খালি পায়ে থাকবে এবং তাদের দেহ থাকবে পোশাক বা আবরণ ছাড়াই নগ্ন, খৎনাবিহীন যেমনটি তাদের মায়েরা তাদের জন্মের দিন প্রসব করেছিল। মুমিনদের মা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা এই কথা শুনে অবাক হয়ে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, পুরুষ ও মহিলা একে অপরের দিকে তাকাবে না?! নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ব্যাখ্যা করলেন যে, মৃত্যু থেকে পুনরুত্থানের পরের পরিস্থিতি এবং হাশরের ময়দানে এমন ভয়াবহতা রয়েছে যা মানুষের চিন্তা ও দৃষ্টিকে গোপনাঙ্গের দিকে তাকানোর ক্ষমতাকে ছিনিয়ে নেবে।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মরফূ হিসেবে বর্ণিত, “দু’ব্যক্তি বিষয়ে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা হাসবেন। যারা একে অপরকে হত্যা করে উভয়েই জান্নাতে প্রবেশ করবে। একজন আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে শহীদ হন। অতঃপর আল্লাহ হত্যাকারীর তাওবা কবুল করেন। ফলে সে ইসলাম গ্রহণ করে তারপর শহীদ হয়।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।“দু’ব্যক্তি বিষয়ে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা হাসবেন। যারা একে অপরকে হত্যা করে উভয়েই জান্নাতে প্রবেশ করবে। মুসলিম ব্যক্তি আল্লাহর বাণীকে সমুন্নত করার জন্য আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করতে গিয়ে কোনো কাফির কর্তৃক নিহত হয়ে জান্নাতে প্রবেশ করে। অতঃপর আল্লাহ তাআলা হত্যাকারীর তাওবা কবুল করেন। ফলে সে মুসলিম হয়ে সেও আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে শহীদ হয়।
আবদুল্লাহ্ ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে মারফূ হিসেবে বর্ণিত, “যেদিন সকল মানুষ জগতসমূহের রবের সামনে দন্ডায়মান হবে” এমনকি সেদিন কেউ কেউ তার ঘামের মধ্যে কানের লতা পর্যন্ত ডুবে যাবে।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।যেদিন সব মানুষ সৃষ্টিকূলের রবের সামনে দাঁড়াবে যাতে তিনি তাদের প্রতিদান দেন, সেদিন কতিপয় ব্যক্তির কানের লতি পর্যন্ত ঘাম পৌঁছে যাবে।