





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
আবূ মূসা আশ‘আরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অভ্যাস ছিল, যখন তার নিকট কোনো প্রয়োজন প্রার্থী আসত, তিনি সাথীদের দিকে মুখ করে বলতেন, “তোমরা সুপারিশ কর তোমাদের সওয়াব দেওয়া হবে, তবে আল্লাহ তাঁর নবীর মুখে তাই ফয়সালা করবেন, যা তিনি পছন্দ করেন।” অপর বর্ণনায় এসেছে “যা তিনি ইচ্ছা করেন”।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।এ হাদীসটি বড় মূলনীতি ও মহান ফায়দার ধারক। আর তা হলো, বান্দার জন্য উচিৎ হচ্ছে কল্যাণকর কর্মে চেষ্টা করা। তাতে তার উদ্দেশ্য ও ফল পুরোপুরি লাভ হোক বা আংশিক হোক বা একেবারেই না হোক। আর সেটা হচ্ছে যেমন, প্রয়োজন প্রার্থীর জন্যে বাদশাহ ও বড়দের নিকট এবং যার সাথে তার প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট তাদের নিকট সুপারিশ করা। কারণ, অনেক মানুষ তার সুপারিশ কবুল হওয়ার নিশ্চয়তা না পেলে চেষ্টা করা থেকে বিরত থাকে। ফলে সে নিজের নফসকে অনেক কল্যাণ ও তার মুসলিম ভাইয়ের ওপর সহানুভুতি প্রকাশ থেকে বঞ্চিত করে। এ কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম সাহাবীগণকে অভাবীদের জন্য তার কাছে সুপারিশ করার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তারা আল্লাহর নিকট সাওয়াব প্রাপ্ত হয়। তিনি বলেন, “তোমরা সুপারিশ কর তোমাদের সাওয়াব দেওয়া হবে।” কারণ, ভালো সুপারিশ আল্লাহর নিকট প্রিয় ও তার সন্তুষ্টি বিধান করে। আল্লাহ বলেন, “যে ব্যক্তি ভালো সুপারিশ করবে, তার জন্য তা থেকে কিছু অংশ মিলবে।” [সূরা নিসা, আয়াত:৮৫] নগদ সাওয়াব লাভের সাথে সাথে সে তার ভাইয়ের প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ করল, ফলে তার সাথে তার একটি সহযোগিতার হাত স্থাপিত হলো। এ ছাড়াও হতে পারে সুপারিশকৃত ব্যক্তি হতে তার উদ্দেশ্য পূর্ণরুপে হাসিল হবে অথবা আংশিক; যা বাস্তবে দেখা যায়। সুতরাং ভালো ও কল্যাণকর কর্মে চেষ্টা করা, যা অর্জন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে আবার না হওয়ারও সম্ভাবনা থাকে, এ তো নগদ নগদ কল্যাণ এবং তাতে নফসকেও কল্যাণকর কাজে অভ্যস্ত করতে সহযোগিতা করা হয়। আর তা হয়ে উঠে এমন সুপারিশের সূত্রপাত; যাতে কবুল হওয়ার নিশ্চয়তা থাকে বা সম্ভাবনা থাকে। রাসূলের বাণী: “আর আল্লাহ তাঁর রাসূলের জবানে তাই চূড়ান্ত করবেন যা তিনি চান।” অর্থাৎ তিনি তাঁর পূর্ব জ্ঞানে সেটা ঘটা, অর্জন হওয়া বা না হওয়া সংক্রান্ত যা চেয়েছেন সেটা অনুযায়ীই তিনি ফয়সালা করবেন। আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে, সুপারিশ করা আর তার সাওয়াব অবশ্যই সে পাবে। চাই সুপারিশকৃত বিষয়টি লাভ হোক বা তা লাভে কোনো বাধা এসে পড়ুক।
ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি যেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নবীদের মধ্যে কোনো এক নবীর ঘটনা বর্ণনা করতে দেখেছি; (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াসসালাম) যাঁকে তাঁর স্বজাতি প্রহার করে রক্তাক্ত করে দিয়েছে। আর তিনি নিজ চেহারা থেকে রক্ত পরিষ্কার করছেন এবং বলছেন, ‘‘হে আল্লাহ! তুমি আমার জাতিকে ক্ষমা করে দাও। কেননা, তারা জানে না।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পূর্বের কোনো একজন নবীর ঘটনা বর্ণনা করেন যে, তার কাওমের লোকেরা তাকে মেরে রক্তাক্ত করল। তখন তিনি তার চেহারা থেকে রক্ত মুছছিলেন আর তাদের জন্য গুনাহ মাফের দো‘আ করছিলেন। এটি ছিল চুড়ান্ত পর্যায়ের ধৈর্য ও সহনশীলতা। তিনি শুধু তাদের জন্য গুনাহ মাফের দো‘আই করেননি, বরং তাদের প্রতি দয়াপরবশ হয়ে, বাস্তবতা সম্পর্কে অজ্ঞ হওয়ার কারণে তাদের পক্ষ থেকে ওযরও পেশ করেন।
আবূ মূসা আশ‘আরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ তা‘আলা যখন কোনো উম্মাতের প্রতি রহমতের ইচ্ছা করেন, তখন তাদের নবীকে তাদের আগেই তুলে নেন এবং তাঁকে তাদের যুগের অগ্রগামী ও পূর্ববর্তী করেন। আর যখন কোন উম্মাতের ধ্বংস সাধনের ইচ্ছা করেন, তখন তাদের নবীর জীবিত অবস্থায় তাদের আযাব দেন এবং এ অবস্থায় তাদের ধ্বংস করেন যে, তিনি (নবী) তা দেখতে পান। অতঃপর তাদের ধ্বংস দেখে তাঁর চোখ শীতল করেন, যেহেতু তারা তাঁকে অস্বীকার করেছে ও তাঁর আদর্শ অমান্য করেছিল।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।হাদীসের অর্থ: আল্লাহ তা‘আলা যখন কোনো জাতির প্রতি রহমতের ইচ্ছা করেন, তখন তিনি তাদের নবীকে তাদের আগেই তুলে নেন এবং নবীর পরে তারা জীবিত থাকে। ফলে তিনি জান্নাতে তাদের অগ্রগামী ও পূর্ববর্তী হন এবং তার উম্মতের জন্য সুপারিশকারী হন। ‘ফারাত্ব’ শব্দের মূল অর্থ হলো যিনি পূর্বাগ্রে থেকে আগত কাফেলার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ব্যবস্থা করেন। অতঃপর শব্দটি পরবর্তীতে আগত লোকদের জন্য সুপারিশকারী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অন্য হাদীসে এসেছে, ‘আনা ফারাত্বুকুম আলাল হাউদ্ব’ আমি তোমাদেরকে পানি পান করনোর জন্য হাউজে আগে থেকেই অপেক্ষা করতে থাকব। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, “তিনি যখন কোনো জাতি ধ্বংস করার ইচ্ছা করেন, তখন তাদের নবীর জীবিত অবস্থায় তাদের আযাব দেন এবং এ অবস্থায় তাদের ধ্বংস করেন যে, তিনি (নবী) তা দেখতে পান।” যেমনটি হয়েছিল নূহ আলাইহি সালামের সাথে তার জাতির ও অন্যান্য নবীদের সাথে। এ হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সালাম এ উম্মতের প্রতি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের রহমতের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি নিজেই রহমতস্বরূপ। আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক। মহান আল্লাহ বলেছেন, “আমি আপনাকে সৃষ্টিকুলের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছি।” (সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ১০৭) তিনি এ উম্মতের জন্য রহমত। আল্লাহ ওয়াদা করেছেন যে, তিনি তার উম্মতের মধ্যে বিদ্যমান থাকা অবস্থায় তাদেরকে আযাব দিবেন না। আল্লাহ বলেছেন, “আর আল্লাহ এমন নন যে, তাদেরকে আযাব দেবেন এ অবস্থায় যে, আপনি তাদের মাঝে বিদ্যমান এবং আল্লাহ তাদেরকে আযাব দানকারী নন এমতাবস্থায় যে, তারা ক্ষমা প্রার্থনা করছে।” (সূরা আল-আনফাল, আয়াত: ৩৩)
আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, হুনাইন যুদ্ধের গনিমতের মাল বন্টনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিছু লোককে প্রাধান্য দিলেন। তিনি আকরা বিন হাবেসকে একশত উঁট দিলেন এবং উয়াইনা বিন হিসনকেও তার অনুরূপ দিলেন। অনুরূপ আরবের আরো কিছু সম্ভ্রান্ত মানুষকেও সেদিন দিলেন এবং গনিমতের সম্পদ বণ্টনে তাদেরকে অন্যদের উপর প্রাধান্য দিলেন। এক লোক তখন বলল, আল্লাহর কসম! এই বন্টনে ইনসাফ করা হয়নি এবং এতে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের কামনা করা হয়নি! ইবনে মাসউদ বলেন, আমি বললাম, আল্লাহর কসম! নিশ্চয় আমি এই সংবাদ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেবো। অতএব আমি তাঁর কাছে এসে কথাটি জানিয়ে দিলাম। ফলে তাঁর চেহারা পরিবর্তিত হয়ে লালবর্ণধারণ করলো। অতঃপর তিনি বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যদি ইনসাফ না করেন, তাহলে আর কে ইনসাফ করবে? অতঃপর তিনি বললেন, আল্লাহ মূসার উপর রহম করুন, তাঁকে এর চেয়ে বেশী কষ্ট দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি ধৈর্য ধারণ করেছেন।অবশেষে আমি মনে মনে বললাম যে, আমি এর পরে কোনো কথা তাঁর কাছে পৌঁছাবো না।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু সংবাদ দিচ্ছেন যে, তারা হুনাইনের যুদ্ধে অর্থাৎ মক্কা বিজয়ের পর তায়েফের যুদ্ধে ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের সাথে যুদ্ধ করেন এবং তাদের থেকে প্রচুর পরিমাণ উট, ছাগল, দিরহাম ও দীনার গণীমত লাভ করেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জি‘রানায় অবতরণ করেন। এটি হলো তায়েফের দিক থেকে হারামের সীমানার শেষ প্রান্তে একটি জায়গা। সেখানে অবতরণ করে এ যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারীদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গণীমতের মাল বন্টন করেন। তিনি আকরা বিন হাবেস এবং উয়াইনা বিন হিসনকে একশটি করে উট প্রদান করেন। এ ছাড়াও ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার উদ্দেশ্যে আরবের সম্ভ্রান্ত কিছু লোককেও গণীমত প্রদান করেন। এ অনুদান ও সম্পদ পাওয়ার কারণে যখন তাদের ইসলাম সুন্দর হলো তখন তাদের পথ ধরে তাদের অনুসারীরাও ইসলাম গ্রহণ করলো। তাতে ইসলামের শক্তি ও সম্মান অর্জিত হলো। আর যারা ঈমানে শক্তিশালী ছিল তাদের নিকট ঈমানের মতো সম্পদ থাকার কারণে অনুদান থেকে তাদের বিরত রাখলেন। বিভিন্ন গোত্রের সরদার ও সম্ভ্রান্ত লোকদের মধ্যে গণীমত বন্টন করা ও কতককে না দেওয়ার বিষয়ে রাসূলের অবস্থা দেখে এক লোক বলল, আল্লাহর কসম! এ বন্টনে ইনসাফ করা হয়নি এবং এতে আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করা হয়নি। ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু এ কথা শুনে দৌঁড়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট গেলেন। সে পূর্বে শপথ করেছিল যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে তাকে বিষয়টি অবহিত করবে। যখন বিষয়টি তাকে জানানো হলো, তিনি কঠিন ক্ষুব্ধ হলেন এবং তাঁর চেহারার রং পরিবর্তন হয়ে খাঁটি লালবর্ণ ধারণ করলো। তারপর তিনি বললেন, আল্লাহ এবং তার রাসূল যদি ইনসাফ না করেন তবে কে ইনসাফ করবে? তার কথাকে প্রত্যাখ্যান করে তিনি একথা বললেন। অতঃপর তিনি বললেন, আল্লাহ মূসার উপর রহম করুন। তাঁকে এর চেয়ে বেশী কষ্ট দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি ধৈর্য ধারণ করেছেন। ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন রাসূলের অবস্থা অবলোকন করেন তখন তিনি মনে মনে বললেন, যখন এসব লোকের থেকে এ ধরণের অপছন্দনীয় কথা শুনবো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তার সংবাদ দেব না। কেননা তিনি এর কারণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চেহারায় প্রচন্ড রাগের আলামত প্রত্যক্ষ করেছিলেন। বিশেষ করে যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং ইসলামের উপর কোনো ক্ষতির আশঙ্কা না থাকবে, তখন এ জাতীয় কথা তাঁকে না শুনানোর প্রতিজ্ঞা করলেন।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফূ‘ সনদে বর্ণিত, “যাকারিয়্যা আলাইহিস সালাম ছিলেন একজন কাঠমিস্ত্রি।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।এ হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জানিয়ে দেন যে, যাকারিয়্যা আলাইহিস সালাম যে কর্মের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতো তা ছিল, কাঠমিস্ত্রির কাজ।
ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, যখন (মরণ রোগে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কষ্ট বেড়ে গেল, তখন তাঁকে (জামা‘আত সহকারে) নামায পড়ার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হল। তিনি বললেন, ‘‘তোমরা আবূ বকরকে নামায পড়াতে বল।’’ আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন, ‘আবূ বকর নরম মনের মানুষ, কুরআন পড়লেই তিনি কান্না সামলাতে পারেন না।’ কিন্তু পুনরায় তিনি বললেন, ‘‘তাকে নামায পড়াতে বল।’’ আয়েশা থেকে অন্য এক বর্ণনায় আছে, তিনি বলেন, আমি বললাম, ‘আবূ বকর যখন আপনার জায়গায় দাঁড়াবেন, তখন তিনি কান্নার কারণে লোকদেরকে (কুরআন) শুনাতে পারবেন না।’
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যথা যখন কঠিন আকার ধারণ করলে যখন তিনি সালাতে লোকদের ইমামতি করতে পারছিলেন না, তখন উপস্থিত লোকদেরকে আদেশ করলেন, তারা যেন আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহুকে ইমামতি করতে বলে। তিনি কুরআন তিলাওয়াতের সময় অনেক কাঁদতেন। তাই আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা এটিকে অযুহাত বানিয়ে তাঁকে সালাতে ইমামতি করা থেকে বিরত রাখতে চাইলেন। কিন্তু অধ্যায়ের হাদীছে এটিই নেই যে, কুরআন তিলাওয়াতই ছিল তার কান্নার প্রধান কারণ। বরং তার কান্নার কারণ ছিল, যা প্রথমে উল্লেখ করা হয়েছে। মানুষ তার পিতাকে কুলক্ষণ মনে করবে ভেবে তিনি অন্তরে যা গোপন করেছেন তার বিপরীত প্রকাশ করেছেন। যেমন, সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে, “তিনি বলেছেন, আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জায়গায় সর্বপ্রথম যিনি দাঁড়াবেন তাকে মানুষ খারাপ ভাববে মনে করেই আমি তার ইমামতি অপছন্দ করেছি। তাই দু’বার অথবা তিনবার তাঁর কথায় আপত্তি করেছি। তিনি বললেন, “আবু বকরই যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে। আর তোমরা ইউসুফের নারীদের মতোই।” এখানে " صواحب يوسف " দ্বারা উদ্দেশ্য অন্তরে যা আছে তার বিপরীত প্রকাশ করার ক্ষেত্রে তারা ইউসুফের নারীদের মতো। এখানে যদিও বহু বচনের শব্দ ব্যবহার করা হলেও তা দ্বারা শুধু আয়েশা উদ্দেশ্য। যেমন, ইউসুফের নারীদের দ্বারা উদ্দেশ্য শুধু জুলাইখা। হাফিয ইবনে হাজার আসকালানী রাহিমাহুল্লাহ এরূপই বলেছেন। জুলাইখা ছিল তৎকালীন মিসরের আজিজের স্ত্রী।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, “ইনি জিবরীল, তোমাকে সালাম পেশ করছেন।” তিনি বললেন, আমিও উত্তরে বললাম, وعليه السلام ورحمة الله وبركاته “তার উপরও সালাম, আল্লাহর রহমত ও বরকত।” সহীহ বুখারী ও মুসলিমের কতক বর্ণনায় এসেছে: «وبركاته» আর কতক বর্ণনায় এ শব্দটি নেই। তবে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর «وبركاته» অতিরিক্ত বর্ণনা গ্রহণযোগ্য।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা আমাদের সংবাদ দেন যে, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, “হে আয়েশা! এই তো জিবরীল, তিনি তোমার ওপর সালাম পাঠ করছেন।” অপর বর্ণনায় এসেছে, তোমার প্রতি সালাম পাঠ করছেন। অর্থাৎ তোমাকে সালাম হাদিয়া দিয়েছেন এবং তোমাকে ইসলামের সম্ভাষণ দ্বারা সম্ভাষিত করেছেন। তিনি বললেন, "وعليه السلام ورحمة الله وبركاته" (তার ওপরও সালাম, আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকত)। এভাবে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা আল্লাহ তা‘আলার বাণী অনুযায়ী তাকে প্রদত্ত সালামের চেয়ে উত্তম বাক্য দ্বারা সালামের উত্তর দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন, ( وإذا حييتم بتحية فحيوا بأحسن منها أو ردوها ) [النساء: 86] “আর যখন তোমাদেরকে সালাম দেওয়া হয়, তখন তোমরা তার চেয়ে উত্তমভাবে সালাম দাও অথবা সেটাই ফেরত দাও”। [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৮৬] অতঃপর সুন্নাত হলো, যখন কোনো ব্যক্তি কারো নিকট সালাম পৌঁছায় সে যেন " وعليه السلام ورحمة الله وبركاته " বলে উত্তর দেয়। কারণ, আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার হাদীসের বাহ্যিক অর্থ তাই প্রমাণ করে। আর যদি বলে, "عليك وعليه السلام أو عليه وعليك السلام ورحمة الله وبركاته" “তোমার ওপর ও তার ওপর সালাম” অথবা বলে, “তার ওপর ও তোমার ওপর সালাম, আল্লাহর রহমত ও বরকত” তাহলে আরো উত্তম। কারণ, যে সালাম পৌঁছালো সে মুহসিন (দায়িত্বের অতিরিক্ত অনুগ্রহকারী)। তাকে তুমি দো‘আর মাধ্যমে প্রতিদান দেবে। যখন কোনো ব্যক্তি বলে, আমার পক্ষ থেকে অমুকের ওপর সালাম পৌঁছে দাও তখন অসিয়ত বাস্তবায়ন করা ওয়াজিব কিনা এ ব্যাপারে আলেমগণ ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তারা বলেন, যদি তুমি তার দায়িত্ব নিয়ে থাক, তোমার ওপর ওয়াজিব হবে। কারণ, আল্লাহ বলেন, ( إن الله يأمركم أن تؤدوا الأمانات إلى أهلها )[ النساء : 58] “নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন হকদারের নিকট আমানত পৌঁছে দাও।” [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৫৮] অতএব, দায়িত্ব নিলে তুমি তা বহন করলে। আর যদি বলে, অমুককে সালাম দেবে, এবং চুপ থাকে অথবা তুমি তাকে বলেছ যদি স্মরণ থাকে, তখন যদি স্মরণ না থাকে তাহলে ওয়াজিব হবে না। আর যদি স্মরণ থাকে তখন সালাম পৌঁছানো জরুরি। কিন্তু উত্তম হলো কাউকে এ ধরনের দায়িত্ব না দেওয়া। কারণ, অনেক সময় তা পালন করা কষ্টকর হয়। উত্তম হলো এ কথা বলা, আমার সম্পর্কে কেউ জিজ্ঞেস করলে তাকে সালাম দিবে। কিন্তু সালাম বহনের দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়ায় কোনো উপকার নেই। কারণ, অনেক সময় লজ্জায় হ্যাঁ বলে, অতঃপর ভুলে যায় অথবা বেশি দেরি হয় ইত্যাদি এ ধরনের অনেক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে এক এমন বান্দাকে---যাকে তিনি ধনৈশবর্য দ্বারা সমৃদ্ধ করেছেন; তাঁর কাছে হাজির করা হল। তিনি (আল্লাহ) তাকে বললেন, ‘তুমি দুনিয়াতে কি আমল করেছ?’ বর্ণনাকারী বলেন, অথচ আল্লাহর কাছে তারা (লোকেরা) কোন কথা গোপন রাখতে পারে না। সে বলল, ‘প্রভু! তুমি আমাকে ধনঐশ্বর্য দিয়েছিলে। আমি জনগণের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য করেছি। আর উদারতা ছিল আমার বিশেষ অভ্যাস, ধনীর সাথে নমনীয় ব্যবহার দেখাতাম এবং গরীবদেরকে (সচ্ছলতা আসা পর্যন্ত) অবকাশ দিতাম।’ মহান আল্লাহ বললেন, ‘আমি তোমার চাইতে এ ব্যাপারে অধিক হকদার। (হে ফেরেশতাবর্গ!) তোমরা আমার (এই) বান্দাকে ক্ষমা করে দাও।’ উক্ববাহ ইবনে আমের ও আবূ মাসঊদ আনসারী (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ‘আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রমুখাৎ এরূপই শুনেছি।’
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।হুযায়ফা-রাদিয়াল্লাহু আনহু-সংবাদ দিচ্ছেন যে, কিয়ামতের দিন আল্লাহর এক বান্দাকে উপস্থিত করা হবে, যাকে তিনি অনেক সম্পদ দিয়েছেন। অতঃপর তার রব তার সম্পদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবেন, তা দ্বারা সে কী আমল করেছে? হুযায়ফা বলেন: “তারা আল্লাহর সামনে কোনো কথা গোপন করবে না।” অর্থাৎ তারা কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা থেকে কোনো কথাই লুকাতে সমর্থ হবে না। যেমন, আল্লাহ তাআলা বলেন, يَوْمَ تَشْهَدُ عَلَيْهِمْ أَلْسِنَتُهُمْ وَأَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُمْ بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ “যে দিন তাদের বিপক্ষে সাক্ষী দিবে তাদের জবান, তাদের হাত ও তাদের পা, যা তারা আমল করত।” (সূরা আন-নুর, আয়াত: ২৪) সে বলবে, হে আমার রব, আপনি আমাকে সম্পদ দিয়েছেন। আর আমি সেটা দিয়ে মানুষের সাথে লেনদেন করতাম।” অর্থাৎ বেচা-কেনা করে ও ঋণ দিয়ে মানুষের সাথে লেনদেন করতাম। আর আমি এ ক্ষেত্রে যে স্বভাবকে আঁকড়ে ধরে ছিলাম, তা হলো: ছাড় দেওয়া ও সহজ করা। অতঃপর সে তার কথার ব্যাখ্যা দিচ্ছে যে, “ধনীর উপর সহজ করতাম।” অর্থাৎ তাকে সুযোগ দিতাম এবং তার থেকে সামান্য ত্রুটি হলে সেটা গ্রহণ করতাম। আর “গরীবকে সময় দিতাম।” অর্থাৎ তার উপর ধৈর্য ধারণ করতাম। তার নিকট চাইতাম না এবং তার সময় বাড়িয়ে দিতাম। আল্লাহ তাআলা বলবেন: “তোমার অপেক্ষা এরূপ করার আমিই বেশী হকদার।” অর্থাৎ তুমি যেহেতু আমার বান্দাদের উপর সহজ করতে এবং আমার স্বভাব গ্রহণ করেছ, তাই তোমার উপর সহজ করা ও তোমাকে ক্ষমা করার ক্ষেত্রে সেই স্বভাবের আমি বেশী হকদার। “তোমরা আমার বান্দাকে ক্ষমা কর।” অর্থাৎ আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন এবং তার গুনাহসমূহ মাফ করবেন। কারণ সেও সহজ করত, ক্ষমা করত ও আল্লাহর বান্দাদের সাথে সুন্দর আচরণ করত। আর অনুগ্রহের বিনিময়ে অনুগ্রহ ছাড়া কিছুই নেই। উকবাহ বিন আমির ও আবূ মাসউদ আল-আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুখ থেকে এরূপই শুনেছি। অর্থাৎ তারা উভয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে কোনো রকম হ্রাস ও বৃদ্ধি ব্যতীত সেরূপই শুনেছেন, যেরূপ হুযায়ফা-রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন।
আবূ মাসউদ উকবাহ ইবনে আমর আনসারী বাদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন সাদকার আয়াত অবতীর্ণ হল, তখন (সাদকা করার জন্য পারিশ্রমিকের বিনিময়ে) আমরা নিজের পিঠে বোঝা বহন করতাম (অর্থাৎ মুটে-মজুরের কাজ করতাম)। অতঃপর এক ব্যক্তি এল এবং প্রচুর জিনিস সাদকাহ করল। মুনাফিকরা বলল, ‘এই ব্যক্তি রিয়াকার (লোককে দেখানোর জন্য দান করছে।)’ আর এক ব্যক্তি এল এবং সে এক সা’ (আড়াই কিলো) জিনিস দান করল। তারা বলল, ‘এ (ক্ষুদ্র) এক সা’ দানের আল্লাহ মুখাপেক্ষী নন।’ অতঃপর এই আয়াত অবতীর্ণ হল, “বিশ্বসীদের মধ্যে স্বতস্ফূর্তভাবে যারা সাদকা দান করে এবং যারা নিজ পরিশ্রম ব্যতিরেকে কিছুই পায় না, তাদেরকে যারা দোষারোপ করে।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।আবূ মাসউদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, যখন সাদকার আয়াত অবতীর্ণ হল, অর্থাৎ সে আয়াত যাতে সাদকা করার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। হাফেয রাহিমাহুল্লাহ বলেন, তিনি আল্লাহর সে বাণী প্রতি ইঙ্গিত করেন যাতে তিনি বলেন, “তাদের সম্পদ থেকে তোমরা সাদকা গ্রহণ করো যা তাদের পবিত্র ও পরিশুদ্ধি করবে”। [সূরা তাওবা, আয়াত: ১০৩] তখন সাহাবীগণ রাসূলের নিকট সাদকা খরচ করার ব্যাপারে প্রতিযোগিতা ও তাড়াহুড়া করা আরম্ভ করল। অতঃপর এক ব্যক্তি প্রচুর জিনিস সাদকার জন্য নিয়ে আসল। আর অপর ব্যক্তি কম সম্পদ নিয়ে আসল। মুনাফেকরা যখন কোন ব্যক্তি বেশি সাদকাহ নিয়ে আসত তখন বলত, ‘এই ব্যক্তি রিয়াকার (লোককে দেখানোর জন্য দান করছে।)’ সে আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করেনি। আর যখন কোন ব্যক্তি কম সাদকা নিয়ে আসত, তখন তারা বলত, আল্লাহ তা‘আলা তার প্রতি অমুখাপেক্ষী। আর এক ব্যক্তি এক সা’ (আড়াই কিলো) জিনিস নিয়ে এলা। তখন তারা বলল, ‘এ (ক্ষুদ্র) এক সা’ দানের প্রতি আল্লাহ মুখাপেক্ষী নন।’ অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন, “বিশ্বসীদের মধ্যে স্বতস্ফূর্তভাবে যারা সাদকা দান করে এবং যারা নিজ পরিশ্রম ব্যতিরেকে কিছুই পায় না, অর্থাৎ, যারা বিনয়ের সাথে সাদকা করেন। তারা তাদেরকে এবং অন্যদের দোষারোপ করেন। আর যারা দোষারোপ করে এবং উপহাস করে, আল্লাহ তাদেরকে উপহাস করেন এবং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” তারা মু’মিনদের সাথে উপহাস করে ফলে আল্লাহ তাদের সাথে উপহাস করেন। নাঊযু বিল্লাহ।