





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “অন্ধকার রাতের টুকরোর মত ফিতনাসমূহ আসার পূর্বে নেকীর কাজ দ্রুত ক’রে ফেল। মানুষ সে সময়ে সকালে মু’মিন থাকবে এবং সন্ধ্যায় কাফের হয়ে যাবে অথবা সন্ধ্যায় মু’মিন থাকবে ও সকালে কাফের হয়ে যাবে। তখন সে তার নিজের দ্বীনকে দুনিয়ার সম্পদের বিনিময়ে বিক্রয় করবে।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেননবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুমিন ব্যক্তিকে কোন উযর উপস্থিত হওয়া অথবা আমলে বাধাদান করে আঁধারে ঢাকা রাতের অংশের ন্যায় এমন বৃহৎ ফিতনা ও সন্দেহের পরিস্থিতি তৈরী হওয়ায় অন্য কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ার আগেই সৎ আমলের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া এবং বেশী বেশী করার প্রতি উৎসাহ প্রদান করেছেন। (সন্দেহের) যে পরিস্থিতিতে হক বাতিলের সাথে মিশ্রিত হয়ে যাবে, তখন মানুষের জন্যে এ দুটির মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়বে, এর মধ্যে কঠিনতম ব্যাপারটি হচ্ছে মানুষের বিপথগামী হয়ে পড়া, এমনকি কোন ব্যক্তি সকালে মুমিন থাকলেও সন্ধ্যায় সে কাফির হয়ে যাবে, আবার কেউ সন্ধ্যায় মুমিন থাকবে অথচ সকালে কাফির হয়ে যাবে এবং দুনিয়ার অস্থায়ী ধন-সম্পদের বিনিময়ে সে তার দীনকে পরিত্যাগ করেবে।
যায়নাব বিনতে জাহাশ রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত। একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় তাঁর নিকট আসলেন এবং বলতে লাগলেন: “লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ"। (আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন মাবূদ নেই) আরবের লোকেদের জন্য সেই অনিষ্টের কারণে ধ্বংস অনিবার্য যা নিকটবর্তী হয়েছে। আজ ইয়াজুজ ও মাজুজের প্রাচীর এ পরিমাণ খুলে গেছে”। এ কথা বলার সময় তিনি তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলির অগ্রভাগকে তার সঙ্গের শাহাদাত আঙ্গুলির অগ্রভাগের সঙ্গে মিলিয়ে গোলাকার করে ছিদ্রের পরিমাণ দেখান। যায়নাব বিনতে জাহাশ বলেন, তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে পুণ্যবান লোকজন থাকা সত্ত্বেও কি আমরা ধ্বংস হয়ে যাব? তিনি বললেন, “হ্যাঁ যখন পাপকাজ অতি মাত্রায় বেড়ে যাবে”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়নাব বিনতে জাহাশের নিকট ভীত ও সন্ত্রস্ত অবস্থায় প্রবেশ করলেন। আর কোনো খারাপ ঘটনা অতিশীঘ্র সংঘটিত হবে তার সংবাদ স্বরূপ লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলছিলেন, যার থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাওয়া ছাড়া মুক্তির কোনো উপায় নেই। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আরবের লোকেদের জন্য সেই অনিষ্টের কারণে ধ্বংস অনিবার্য যা নিকটবর্তী হয়েছে। আজ ইয়াজুজ ও মাজুজের প্রাচীর, যেটি যুল কারনাইন নির্মাণ করেছেন, এ পরিমাণ খুলে গেছে। এ কথা বলার সময় তিনি তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলির অগ্রভাগকে তার সঙ্গের শাহাদাত আঙ্গুলির অগ্রভাগের সঙ্গে মিলিয়ে গোলাকার বৃত্ত তৈরি করলেন। যায়নাব রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন: আমাদের মধ্যে সৎ ঈমানদার থাকাবস্থায় আল্লাহ কীভাবে আমাদের উপর ধ্বংস চাপিয়ে দিতে পারেন? নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ যদি অনৈতিকতা, অশ্লীলতা, পাপ, ব্যভিচার, মদ প্রভূতি বৃদ্ধি পায়, তাহলে সবাই ধ্বংস হয়ে যাবে।
আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: বিপদাপদ মু’মিন পুরুষ ও নারীর নিজের জান, সন্তান-সন্ততি ও সম্পদে লেগেই থাকে, যতক্ষণা সে তার ওপর পাপ না থাকাবস্থায় আল্লাহর সাক্ষাত করেন।
এটি তিরিমিযী ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিচ্ছেন: মুমিন পুরুষ ও নারীর উপর থেকে বিপদাপদ ও পরীক্ষা বিচ্ছিন্ন হবে না, তার নিজের জীবনে যেমন, শরীরে সুস্থতা-অসুস্থতা; তার সন্তানদের মধ্যে অসুস্থতা, মৃত্যু, অবাধ্যতা ইত্যাদি এবং তার সম্পদের ক্ষেত্রে যেমন, দারিদ্র্যতা, ব্যবসায় মন্দা, চুরি, কষ্টের জীবন এবং জীবিকা নির্বাহে সংকীর্ণতা। যতক্ষণ না আল্লাহ এই বিপদাপদের মাধ্যমে তার পাপ ও অপকর্মের প্রায়শ্চিত্ত করাবেন, যাতে তিনি যখন আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করবেন তখন তিনি যে সমস্ত পাপ এবং অপকর্ম করেছেন তা থেকে শুদ্ধ হয়ে যান।
আল্লাহ তা‘আলার বাণী: “তোমরা জেনে শোনে আল্লাহর জন্য শরীক সাব্যস্ত করো না”। ইবন আব্বাস আয়াত বিষয়ে বলেন, আল-আনদাদ: অর্থ হলো শির্ক। আর শির্ক হলো গভীর অন্ধকার রাতে কালো পাথরের ওপর পিপড়ার গুণগুণ শব্দ থেকেও সুক্ষ্ম। আর তা হলো তোমার বলা : আল্লাহর কসম এবং তোমার জীবনের কসম হে অমুক এবং আমার জীবনের কসম। এবং তোমার বলা: যদি এ কুকুর না হতো তাহলে আমাদের কাছে ডাকাত আসতো। যদি ঘরের মধ্যে হাঁস না হতো তা হলে ডাকাত আসতো। কোনো ব্যক্তির কথা তার সাথীকে উদ্দেশ্যে করে, আল্লাহ যা চেয়েছেন এবং তুমি যা চেয়েছো। এবং কোন ব্যক্তির কথা : যদি আল্লাহ না হতো এবং অমুক না হতো। তাতে (অর্থাৎ এসব কথায়) তুমি অমুককে সাব্যস্ত করো না। এগুলো সবই হলো তার সাথে শির্ক।
এটি ইবন আবী হাতিম বর্ণনা করেছেন।আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তোমরা জেনে শুনে আল্লাহর জন্য শরীক সাব্যস্ত করো না। তিনি মানুষকে আল্লাহর জন্য এমন দৃষ্টান্ত এবং নজীর স্থাপন করতে নিষেধ করেছেন যাদের জন্য তারা তাদের ইবাদতের কিছু অংশ সমর্পন করবে। অথচ তারা জানে নিশ্চয় এক আল্লাহই হলেন স্রষ্টা, রিযিকদাতা। আর এ সব শরীক অক্ষম ও মুখাপেক্ষী তার জন্য কোন বিষয়ে কোন ক্ষমতা নেই। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু আনদাদকে শরীকসমূহ দ্বারা সংজ্ঞায়িত করেন। আর তাদেরকে শরীক সাব্যস্ত করার বিভিন্ন দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন। শির্ক অন্ধকার রাতে কালো মশ্রিণ পাথরের ওপর পিপড়ার চলার শব্দ থেকেও অধিক গোপন। তারপর তিনি এর ওপর আরও বিভিন্ন দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন। যেমন, তুমি গাইরুল্লাহর নামে সপথ করলে, এর চেয়েও বড় অন্যায় হলো তুমি গাইরুল্লাহকে আল্লাহর সমান সাব্যস্ত করলে। তুমি বললে, আল্লাহর কসম এবং আমার জীবনের কসম। অথবা তুমি কারণের দিকে দেখলে কিন্তু কারণের মালিকের দিকে দেখলে না এবং বিষয়কে আল্লাহর দিকে ফেরালে না। যেমন তুমি বললে, যদি এ কুকুর আমাদের পাহারা না দিত, তাহলে আমাদের ঘরে ডাকাত আসত। অথবা সে বলে, ঘরের মধ্যে হাঁস যদি আমাদের সতর্ক না করত, যদি কোন অপরিচিত লোক প্রবেশ করত, তাহলে ডাকাত আসত। আর শির্কের আরও দৃষ্টান্ত হলো, কোন লোক তার সাথীকে বলল, আল্লাহ যা চাইল এবং তুমি যা চাইলে। এবং কোন মানুষ বলল, যদি আল্লাহ এবং অমুক না হতো। তুমি এসব কথায় অমুককে সাব্যস্ত করো না। তারপর তিনি গুরুত্ব দিয়ে বলেন যে, এ গুলো সবই ছোট শির্ক। তবে এ সব কথা যে বলে, সে যদি এ কথা বিশ্বাস করে যে, লোকটি, বা হাঁসটি, বা কুকুরটিই আল্লাহ ছাড়াই সত্বাগতভাবে প্রভাব সৃষ্টিকারী বা ক্ষমতাশীল তাহলে তা হবে বড় শির্ক।
হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, لَا تَقُولُوا: مَا شَاءَ اللهُ وَشَاءَ فُلَانٌ، وَلَكِنْ قُولُوا: مَا شَاءَ اللهُ ثُمَّ شَاءَ فُلَانٌ ‘তোমরা বলো না যে, আল্লাহ যা চান এবং অমুক লোক যা চায়। বরং তোমরা বলো, আল্লাহ যা চান, অতঃপর অমুক যা চায়।’
সুনানে আবূ দাউদ, নাসায়ীর সুনানুল কুবরা ও মুসনাদে আহমদমুসলিমকে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথাবার্তায় এমন কথা বলতে নিষেধ করেছেন: ”আল্লাহ যা চান এবং অমুক লোক যা চায়”। অথবা আল্লাহ ও অমুক যা চান। কারণ আল্লাহর ইচ্ছা ও চাওয়া মুতলাক (সর্ব ব্যাপক), আল্লাহর চাওয়ার সাথে কেউ অংশীদার নেই। উপরিউক্ত বাক্যে হরফে আতফ (অব্যয় সূচক বর্ণ) ওয়াও (واو) এর ব্যবহার অন্য কারো ইচ্ছাকে আল্লাহর ইচ্ছার সাথে অংশীদার ও সমতা বুঝায়। বরং বলতে হবে, আল্লাহ যা চান, অতঃপর অমুক যা চায়। এখানে ওয়াও-এবং (واو) এর পরিবর্তে ছুম্মা-অতপর (ثم) এর ব্যবহার করার ফলে বান্দাহর চাওয়া ও ইচ্ছাকে আল্লাহর ইচ্ছার অধীন করা হয়েছে। কেননা ছুম্মা দ্বারা কোন কিছুকে কারো পশ্চাতে ও কোন কাজের পরে হওয়া বুঝায়(যার ফলে সেখানে কোন অংশীদারিত্ব ও সমতা থাকে না)।
আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর নামে মিথ্যা শপথ করা আমার কাছে আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে সত্য শপথ করার চেয়ে উত্তম।
এটি ইবন আবী শাইবাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি আব্দুর রায্যাক বর্ণনা করেছেন।ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, কোনো একটি মিথ্যা বিষয়ে আল্লাহর নামে কসম খাওয়া আমার কাছে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে সত্য কসম খাওয়ার চেয়ে উত্তম। তিনি আল্লাহর নামে মিথ্যা শপথ করাকে অন্য কারো নামে সত্য শপথ করার উপর প্রধান্য দিয়েছেন। কেননা এখানে আল্লাহর নামে শপথের মাধ্যমে তাওহীদের সাওয়াব পাওয়া যাবে, যদিও এখানে মিথ্যার গুনাহ রয়েছে। অন্য কারো নামে সত্য শপথ করার মধ্যে সত্যবাদীতার কল্যাণ রয়েছে। কিন্তু তাতে রয়েছে শির্কের গুনাহ। তবে তাওহীদের ছাওয়াব সত্যবাদিতার ছাওয়াবের চেয়ে বেশি। আর মিথ্যাবাদিতার গুনাহ শির্কের গুনাহর চেয়ে সহজতর।
আবু সাঈদ আল-খুদরী রদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: যার অর্থ: “তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতি-নীতি অনুসরণ করবে, বিঘতে বিঘতে এবং হাতে হাতে । এমনকি তারা যদি গুইসাপের গর্তেও প্রবেশ করে, তবে তোমরাও সেখানে প্রবেশ করবে।” আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! ইয়াহূদী ও নাসারাদের? তিনি বললেন: তবে আর কারা?”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে জানাচ্ছেন যে, তার পরবর্তী সময়ে তার উম্মাতের কিছু মানুষের অবস্থা কেমন হবে। যেমন: ইহুদী ও খ্রিস্টানদের বিশ্বাস, কাজ, রীতিনীতি এবং ঐতিহ্যের ক্ষেত্রে তারা তাদেরকে অনুসরণ করবে, আর তা হবে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে, প্রতিটি বিঘতে বিঘতে এবং হাতে হাতে , এমনকি যদি তারা গুইসাপের গর্তে প্রবেশ করে তবে এরাও তাদের পিছনে পিছনে সেখানে প্রবেশ করবে।
আবূ হুরায়রা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «مَنْ دَعَا إِلَى هُدًى كَانَ لَهُ مِنَ الْأَجْرِ مِثْلُ أُجُورِ مَنْ تَبِعَهُ، لَا يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْئًا، وَمَنْ دَعَا إِلَى ضَلَالَةٍ كَانَ عَلَيْهِ مِنَ الْإِثْمِ مِثْلُ آثَامِ مَنْ تَبِعَهُ، لَا يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ آثَامِهِمْ شَيْئًا». “যে ব্যক্তি কোনো সৎপথের দিকে আহ্বান করবে, সে তার অনুসরণকারীদের সমান সাওয়াব পাবে। এতে তাদের সাওয়াবসমূহ থেকে কিছুই কম হবে না। আর যে ব্যক্তি কোনো ভ্রষ্টতার দিকে আহ্বান করবে, তার উপর তার অনুসারীদের সমপরিমাণ গুনাহ বর্তাবে। এটা তাদের গুনাহ থেকে কিছুই কম হবে না।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেননবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন, যে ব্যক্তি কথা বা কাজের মাধ্যমে কাউকে কোনো সৎপথের নির্দেশ করে, মানুষকে কল্যাণ ও মঙ্গলের পথে অনুপ্রাণিত করে ও আহ্বান করে, সে তার অনুসরণকারীদের সমান সাওয়াব পাবে। এতে অনুসারীদের সাওয়াবসমূহ থেকে কিছুই কম হবে না। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি মানুষকে বাতিল ও ভ্রষ্টতার দিকে আহ্বান করে, সে দিকের নির্দেশ করে, তার উপর তার অনুসারীদের সমপরিমাণ গুনাহ বর্তাবে। এটা অনুসারীদের গুনাহ থেকে কিছুই কম হবে না।
আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত: তিনি এক লোককে দেখলেন সে যখন সিফাত সম্পর্কীয় একটি হাদীস শুনে তার প্রতি বিরক্ত হয়ে লাপিয়ে উঠেন। তখন তিনি বললেন, এদেরকে কোন জিনিষটি বিভক্ত করল। তার সুস্পষ্ট বিষয়গুলোর সময় নমনীয় থাকে আর অস্পষ্ট বিষয়সমূহের সময় ধ্বংস হয়।
এটি ইবন আবী ‘আসেম বর্ণনা করেছেন। - এটি আব্দুর রায্যাক বর্ণনা করেছেন।সর্ব সাধারণ লোকদের থেকে যারা ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর মজলিসে উপস্থিত হয়, তাদের কতকের ওপর তিনি ক্ষিপ্ত হন। তারা যখন সিফাতের হাদীসসমূহ শোনে ভয় পায় ও বিরক্ত হয়ে কেঁপে ওঠে। ফলে তারা রাসূলুল্লাহ থেকে বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত হাদীস এবং কুরআন থেকে তার অর্থ জানার পরও তার প্রতি তারা ঈমান আনেনি। অথচ তা সত্য কোন মু’মিন তাতে সন্দোহ পোষণ করতে পারে না। আর তাদের কতক তার এমন অর্থ করে যা আল্লাহর উদ্দেশ্য নয়, ফলে তারা এ কারণেই ধ্বংস হয়।