





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
আবু সাঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: “তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কোন অন্যায় কাজ দেখতে পাবে, সে যেন উক্ত অন্যায়কে তার হাত দিয়ে পরিবর্তন করে। যদি সে তা করতে সক্ষম না হয়, তবে সে যেন তার জিহ্বা (ভাষা) দ্বারা তা পরিবর্তন করে। যদি সে তাতেও সক্ষম না হয়, তবে সে যেন তার অন্তর দিয়ে [চেষ্টা করে এবং ঘৃণা করে]। আর এটিই হচ্ছে ঈমানের সর্বনিম্ন স্তর।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেননবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাধ্যানুসারে অন্যায় কাজকে প্রতিহত ও পরিবর্তন করতে আদেশ করেছেন। আর অন্যায় কাজ হচ্ছে এমন প্রতিটি কাজ যা থেকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল নিষেধ করেছেন। সুতরাং যখন কেউ কোন অন্যায় কাজ দেখবে, তার জন্য আবশ্যক হবে যে, সে তার হাত দিয়ে তা পরিবর্তন করবে, যদি তার ক্ষমতা থাকে। যদি সে তা করতে সক্ষম না হয়, তাহলে সে তার জিহ্বা (কথা) দিয়ে তা পরিবর্তন করবে, এভাবে যে, সে উক্ত অন্যায় কাজে জড়িত ব্যক্তির কাছে ঐ অন্যায় কাজটির ক্ষতিকর দিকসমূহ বর্ণনা করবে। আর উক্ত অন্যায় কাজের বিপরীতে তাকে কল্যাণকর কাজের পথ দেখাবে। যদি সে এ স্তরেও অক্ষম হয়ে থাকে, তবে সে তা প্রতিহত ও পরিবর্তন করবে তার অন্তর দিয়ে। আর সেটি এভাবে যে, সে এ অন্যায় কাজকে ঘৃণা করবে এবং মনে দৃঢ় প্রত্যয়ী হবে যে, যদি তার সামর্থ থাকত, তবে সে অবশ্যই তা প্রতিহত ও পরিবর্তন করত। অন্যায়কে প্রতিহত করার ক্ষেত্রে ঈমানের সবচেয়ে নিম্নতম স্তর হচ্ছে অন্তরের মাধ্যমে প্রতিবাদ বা পরিবর্তন করা।
আব্দুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: একজন লোক বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা জাহিলী যুগে যা করেছি তার জন্য কি আমাদেরকে পাকড়াও করা হবে? তিনি বললেন: “যে ইসলামে ভালো কর্ম করবে, সে জাহিলী যুগে যা করেছে তার জন্যে তাকে পাকড়াও করা হবে না। আর যে ইসলামে অন্যায় কাজ করবে, তাকে প্রথম ও শেষের (অপরাধের) জন্যে পাকড়াও করা হবে।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এখানে ইসলামে প্রবেশ করার ফযীলত বর্ণনা করেছেন। যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করে তা সুন্দরভাবে পালন করে এবং সে এক্ষেত্রে একনিষ্ঠ ও সত্যবাদী হয়ে থাকে, তাহলে তার ইসলামপূর্ব পাপের ব্যাপারে হিসেব নেওয়া হবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলামে প্রবেশ করার পরেও মুনাফিক হয়ে অথবা দীন ত্যাগ করে মুরতাদ হওয়ার মত অন্যায় করবে, সেক্ষেত্রে তার কুফুরী ও ইসলামী জীবনের সব পাপের ব্যাপারে হিসেব নেওয়া হবে।
জাবির রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত: এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে জিজ্ঞাসা করলেন: আপনি কী মনে করেন , যদি আমি ফরয সালাতসমূহ আদায় করি, রমাদানের সিয়াম পালন করি, হালালগুলোকে হালাল মানি এবং হারামসমূহকে হারাম মনে করি, আর এর থেকে বেশি কিছু পালন না করি, তবুও কি আমি জান্নাতে যেতে পারব? তিনি উত্তর দিলেন: “হ্যাঁ।” তখন প্রশ্নকারী বললেন: আল্লাহর কসম! আমি এগুলোর থেকে বেশি কিছুই করব না।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেননবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বর্ণনা করছেন, যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সালাত আদায় করবে, এর অতিরিক্ত কোন নফল সালাত আদায় না করে থাকে, রমাদানে সিয়াম পালন করে এবং কোন নফল সিয়াম না করে থাকে, আর হালালসমূহকে হালাল মনে করে ও তা পালন করে এবং হারামসমূহকে হারাম মনে করে আর তা থেকে দূরে থাকে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
আবূ মালিক আল-আশ‘আরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক। “الحمد لله” ‘আলহামদু লিল্লা ‘ মিযান-দাঁড়িপাল্লা পরিপূর্ণ করে দেয় এবং “سبحان الله والحمد لله” ‘সুবহানাল্লাহি ওয়ালহামদু লিল্লাহ’ কালেমা আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থানকে পরিপূর্ণ করে দেয়। আর সালাত হচ্ছে নূর, সদাকাহ হচ্ছে দলিল এবং সবর হচ্ছে আলো। আর আল-কুরআন তোমার পক্ষে অথবা বিপক্ষে প্রমাণ স্বরূপ। সকল মানুষই ভোর করে নিজেকে বিক্রি করে দেয়। অতঃপর সে তাকে মুক্ত করে অথবা তাকে ধ্বংস করে।"
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনএখানে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, অযু ও গোসলের মাধ্যমে বাহ্যিক পবিত্রতা অর্জন করা যায়, আর এটি সালাত আদায়ের একটি শর্ত। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা: “الحمد لله” ‘আলহামুদ লিল্লাহ’ মিযানকে পরিপূর্ণ করে দেয়”, এটি হচ্ছে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার প্রশংসা এবং তাঁকে পূর্ণতার গুণে গুণান্বিত করা, যা কিয়ামাতের দিনে ওযন করা হবে এবং তাতে আমলের পাল্লা (মিযান) পূর্ণ হয়ে যাবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা: “سبحان الله والحمد لله” ‘সুবহানাল্লাহি ওয়ালহামদু লিল্লাহ’: এটি হচ্ছে: আল্লাহকে সকল ধরণের অপূর্ণতার গুণ থেকে মুক্ত ঘোষণা করা এবং তাঁর মর্যাদার সাথে সামঞ্জস্যশীল এমন পূর্ণতার গুণাবলী তাঁর জন্য সাব্যস্ত করা এবং সেই সাথে তাঁর ভালোবাসা ও সম্মান অন্তরে ধারণ করা, যা আসমান জমিনকে পূর্ণ করে দেয়। “সালাত হচ্ছে নূর”: বান্দার অন্তরের, চেহারার, কবরের এবং তার হাশরের নূর। “সাদাকাহ হচ্ছে বুরহান (দলিল)”: তথা মুমিনের ঈমানের সত্যতার দলিল। আর এটি এমন মুনাফিক থেকে পৃথককারী যে সাদকাহর প্রতিশ্রুত প্রতিদানকে স্বীকার না করায়, তা থেকে (নিজেকে) বিরত রাখে। আর “সবর হচ্ছে আলো”: এটি হচ্ছে নিজেকে উৎকণ্ঠা-অস্থিরতা ও রাগ থেকে সংবরণ করা। এটি সূর্যের ন্যায় এমন আলো যার সাথে উষ্ণতা ও দহন ক্ষমতা রয়েছে; কেননা এটি একটি কঠিন বিষয় এবং এটি নিজের সাথে এবং আকাংখিত বিষয়ের সাথে প্রতিনিয়ত লড়াই করার নাম। সুতরাং সবরকারী ব্যক্তি সঠিক পথে আলোকিত, হিদায়াতপ্রাপ্ত ও স্থায়ীত্ব লাভ করে থাকে। সবর হচ্ছে আল্লাহর আনুগত্যের উপরে টিকে থাকা, পাপ থেকে বেঁচে থাকা এবং দুনিয়াতে বিভিন্ন প্রকার বালা মুসিবত ও কষ্টকর বিষয়ে ধৈর্যধারণ করা। “আর আল-কুরআন তোমার পক্ষে দলিল”: এটি অর্জিত হবে কুরআন তিলাওয়াত করা এবং সে অনুযায়ী আমল করার মাধ্যমে। অথবা “তোমার বিপক্ষে দলিল”: কুরআন অনুযায়ী আমল না করলে অথবা কুরআন তিলাওয়াত পরিত্যাগ করলে। তারপরে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, প্রতিটি মানুষ প্রচেষ্টা রত থাকে, তারা ছড়িয়ে পড়ে, তারা ঘুম থেকে জাগ্রত হয় আর তারপরে তাদের বাড়ি থেকে বিভিন্ন কাজের উদ্দেশ্যে তারা বের হয়ে পড়ে। সুতরাং তাদের মধ্যে অনেকে রয়েছে যারা আল্লাহর আনুগত্যের উপরে দৃঢ়পদ থাকে। ফলে তারা নিজেকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করে নেয়। অপরপক্ষে অনেকে রয়েছে, যারা এখান থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে এবং পাপের মধ্যে নিপতিত হয়। ফলে তারা জাহান্নামে প্রবেশ করার মাধ্যমে নিজেকে ধ্বংস করে ফেলে।
মু‘আয ইবনু জাবাল রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিছনে ‘উফাইর নামক গাধার উপরে ছিলাম। তখন তিনি বললেন: “হে মু‘আয! তুমি কী বান্দার উপরে আল্লাহর হক (অধিকার) এবং আল্লাহর উপরে বান্দাহর হক সম্পর্কে জান?” আমি বললাম: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সবচেয়ে ভালো জানেন। তিনি বললেন: “বান্দার উপরে আল্লাহর হক হচ্ছে, তারা তাঁরই ইবাদাত করবে আর কোন কিছুকে আল্লাহর সাথে শিরক করবে না। আর পক্ষান্তরে আল্লাহর উপরে বান্দার হক হচ্ছে, যে ব্যক্তি তাঁর সাথে শিরক করবে না, তিনি তাকে আযাব দিবেন না।” আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি কী মানুষদেরকে এটার সুসংবাদ দিব না? তিনি বললেন: “তুমি তাদেরকে সুসংবাদ দিও না, তাতে তারা (শুধু এটার উপরে) নির্ভর করে বসে থাকবে।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এখানে বান্দার উপরে আল্লাহর হক এবং আল্লাহর উপরে বান্দার হকের বর্ণনা করেছেন। আর বান্দার উপরে আল্লাহর হক হচ্ছে: তারা শুধুমাত্র আল্লাহরই ইবাদাত করবে এবং তার সাথে কোন বস্তুকে শরীক করবে না। আর আল্লাহর উপরে বান্দার হক হচ্ছে, তাওহীদপন্থীদের মধ্যে যারা তাঁর সাথে শিরক করবে না তিনি তাদেরকে শাস্তি দিবেন না। তারপরে মু‘আয বলেছেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি কী মানুষকে এ সুসংবাদ দিব না, যাতে তারা খুশি হতে পারে এবং এর ফযিলতে সন্তুষ্ট হতে পারে? তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নিষেধ করলেন, এ আশঙ্কায়, যেন তারা শুধু এটার উপরেই নির্ভর না করে।
জাবির রদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! দুটি আবশ্যককারী বিষয় কী কী? তিনি বললেন: “যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক না করে মারা যাবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেননবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এক ব্যক্তি দুটি বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন: প্রথমটি হচ্ছে: যা জান্নাতে প্রবেশ করাকে আবশ্যক করে, আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে: যা জাহান্নামে প্রবেশ করাকে আবশ্যক করে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম জবাব দিলেন: যে গুণটি জান্নাতকে আবশ্যক করে, তা হচ্ছে: মানুষ মারা যাবে একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা এবং আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক না করা অবস্থায়। আর যে দোষ জাহান্নামকে আবশ্যক করে, তা হচ্ছে: একজন মানুষ এমন অবস্থায় মারা যাবে যে, সে আল্লাহর সাথে কোন কিছু কে শরীক করবে। ফলে সে আল্লাহর উলূহিয়্যাত, রুবুবিয়্যাত, সুন্দর নামসমূহ ও গুণাবলীর ক্ষেত্রে আল্লাহর সাথে সমকক্ষ ও সাদৃশ্য নির্ধারণ করবে।
সুফিয়ান ইবন আব্দুল্লাহ আল সাকাফী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আপনি আমাকে ইসলাম সমন্ধে এমন কথা বলে দিন, আপনার পরে যেনো তা আমাকে আর কারো কাছে জিজ্ঞেস করতে না হয়। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «قُلْ: آمَنْتُ بِاللهِ، ثُمَّ اسْتَقِمْ». “তুমি বলো, আমি আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি। তারপর এর ওপরই প্রতিষ্ঠিত থাকো।”
এটি মুসলিম ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।সাহাবী সুফ্ইয়ান ইবন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইসলামের এমন একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থবোধক কথা শিক্ষা দিতে বলেছেন, যা তিনি আঁকড়ে ধরবেন এবং তাঁকে ব্যতীত অন্য কাউকে আর জিজ্ঞেস করবেন না। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: তুমি বলো: আমি আল্লাহরই একত্ব কে স্বীকার করলাম। তাঁর প্রতি ঈমান আনলাম যে, অবশ্য তিনিই একমাত্র আমার রব, ইলাহ, আমার সৃষ্টা ও প্রকৃত মাবূদ, তাঁর কোন শরীক নেই। অতঃপর আল্লাহর ফরযকৃত বিধান আদায় এবং হারামকৃত জিনিস থেকে বিরত থাকবে, তাঁর আনুগত্য স্বীকার করবে এবং এর উপর অবিচল থাকবে।
আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ আমার উম্মাতের মধ্য হতে একজনকে কিয়ামাতের দিন সমগ্র সৃষ্টিজগতের সামনে উপস্থিত করবেন। তারপরে তার সামনে নিরানব্বইটি খাতা উপস্থাপন করবেন, প্রতিটি খাতা দৃষ্টির শেষ সীমা পর্যন্ত বিস্তৃত। তারপরে তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করবেন: তুমি এ থেকে কোন একটিও কী অস্বীকার করবে? আমার সংরক্ষক ফিরিশতাগণ কী তোমার সাথে কোন জুলুম করেছে? ঐ ব্যক্তি বলবে: না, হে আমার রব! তখন আল্লাহ তা‘আলা জিজ্ঞাসা করবেন: তোমার কাছে কোন ওযর আছে? সে বলবে: না, হে আমার রব! তখন আল্লাহ বলবেন: আমাদের নিকটে তোমার একটি বিশেষ ভালো কাজ রয়েছে, সুতরাং তোমার উপরে আজকে একটুও জুলুম করা হবে না। তারপরে তিনি একটি কার্ড বের করবেন, যাতে থাকবে: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন প্রকৃত মাবূদ নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।” অতপর বলা হবে: তোমার ওযন তথা পরিমাপকের কাছে উপস্থিত হও! তখন সে ব্যক্তি বলবে: এত বড় বড় খাতার সামনে এ কার্ডটি কী করতে পারবে? তখন তাকে বলা হবে: আজকে তোমার উপরে জুলুম করা হবে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তারপরে ঐ কার্ডটি এক পাল্লাতে রাখা হবে এবং ঐ সমস্ত খাতা আরেকটি পাল্লায় রাখা হবে। তখন সমস্ত খাতা হালকা হয়ে যাবে আর উক্ত কার্ডটি ভারী হয়ে যাবে। কারণ আল্লাহর নামের থেকে কোন কিছু ভারী হতে পারে না।”
এটি তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন , আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নবীর উম্মাতের মধ্য হতে এক ব্যক্তিকে বাছাই করে সমগ্র সৃষ্টির সামনে তাকে হিসাবের জন্য ডেকে নিবেন। তারপরে তার সামনে নিরানব্বইটি খাতা খুলবেন। এ খাতাগুলো হচ্ছে: দুনিয়াতে করা তার মন্দ কাজসমূহ। আর প্রতিটি খাতাই দৃষ্টির শেষ সীমা পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। তারপরে আল্লাহ তা‘আলা এ লোকটিকে উদ্দেশ্য করে জিজ্ঞাসা করবেন: তুমি এ খাতাগুলোতে লেখা কোন অপরাধ অস্বীকার করতে পারবে? তোমার উপরে কী আমার সংরক্ষণকারী ও লিপিকার ফিরিশতারা কোন জুলুম করেছে? লোকটি তখন বলবে: হে আমার রব, না। তখন আল্লাহ তা‘আলা বলবেন: তোমার দুনিয়াতে এসব কাজ করার পেছনে এমন কোন ওযর আছে, যা দ্বারা ওযর পেশ করা যায়? যেমন: ভুলে যাওয়া, ভুল করা অথবা অজ্ঞতা। তখন সে বলবে: হে আমার রব, না। আমার এমন কোন ওযর নেই। তখন আল্লাহ তা‘আলা বলবেন: হ্যাঁ, নিশ্চয় আমাদের কাছে তোমার একটি ভালো কাজ সংরক্ষিত আছে। আর আজকে তোমার উপরে জুলুম করা হবে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তখন আল্লাহ তা‘আলা একটি কার্ড বের করবেন, যেখানে লেখা থাকবে: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন প্রকৃত মাবূদ নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।” তখন আল্লাহ তা‘আলা ঐ ব্যক্তিকে বলবেন: তোমার মীযানের কাছে উপস্থিত হও। তখন লোকটি আশ্চর্য হয়ে বলবে: হে আমার রব! এতগুলো খাতার তুলনায় এ কার্ডটির ওযন আর কতটুকু হবে? তখন আল্লাহ তা‘আলা বলবেন: তোমার উপরে কখনোই জুলুম করা হবে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তারপরে মীযানের একটি পাল্লায় তার খাতাসমূহ রাখা হবে। আর কার্ডটি অপর পাল্লায় রাখা হবে। তখন যে পাল্লাতে উক্ত খাতাসমূহ থাকবে তা হালকা হয়ে যাবে। আর যে পাল্লাতে উক্ত কার্ডটি রাখা হবে, সেটি ভারী হয়ে যাবে। তখন আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেবেন।
আবু হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করে বলেছেন: “যখন আল্লাহ তা‘আলা জান্নাত ও জাহান্নাম সৃষ্টি করলেন, তখন তিনি জিবরীল ‘আলাইহিস সালামকে জান্নাতে প্রেরণ করে বললেন: তুমি জান্নাতের দিকে তাকাও এবং এর অধিবাসীদের জন্য আমি যা প্রস্তুত করে রেখেছি তাও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ কর। জিবরীল জান্নাত দেখে ফিরে আসলেন। তারপরে বললেন: আপনার ইজ্জতের কসম! যে কোন ব্যক্তি এটা সম্পর্কে শোনা মাত্রই সেখানে প্রবেশ করবে। তারপরে আল্লাহ জান্নাতের চারপাশে কষ্টকর বিষয় দ্বারা ঢেকে দেওয়ার জন্য আদেশ করলেন। তারপর বললেন: তুমি আবার তা দেখে এসো এবং তার অধিবাসীদের জন্য যা প্রস্তুত রেখেছি, তা পর্যবেক্ষণ কর। তারপর জিবরীল জান্নাতের দিকে নজর দিলেন, তখন সেখানে সব কষ্টকর বিষয়গুলো দেখে বললেন: আপনার ইজ্জতের কসম! আমি ভয় পাচ্ছি যে, সেখানে কেউই প্রবেশ করতে পারবে না। তারপর আল্লাহ তা‘আলা বললেন: যাও জাহান্নাম দেখে এসো এবং সেখানে আমি তার অধিবাসীদের জন্য যা প্রস্তুত করে রেখেছি, তা পর্যবেক্ষণ কর। তখন তিনি সেখানে তাকালেন আর দেখতে পেলেন যে, তার এক অংশ অন্য অংশের উপরে আছড়ে পড়ছে। তিনি ফিরে এসে বললেন: আপনার ইজ্জতের কসম! এখানে কেউ প্রবেশ করবে না। তখন আল্লাহ তা‘আলা তার চারপাশে প্রবৃত্তির লালসা বা কামনা-বাসনা দ্বারা ঢেকে দেওয়ার আদেশ দিলেন। তারপরে তাকে বললেন: যাও, এবার দেখে এসো। তিনি সেখানে তাকানো মাত্র দেখলেন তার চারপাশে সব কামনা-বাসনার বস্তুগুলো দ্বারা আবৃত রয়েছে। তখন তিনি ফিরে এসে বললেন: আমি ভয় পাচ্ছি যে, যেই সেখান থেকে বাঁচার চেষ্টা করুক না কেন, সে তাতে প্রবেশ করবেই।”
এটি আবূ দাউদ, তিরমিযী ও নাসায়ী বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, আল্লাহ তা‘আলা যখন জান্নাত ও জাহান্নাম সৃষ্টি করলেন, তখন তিনি জিবরীল ‘আলাইহিস সালামকে বললেন: তুমি জান্নাতের দিকে যাও আর তাতে দৃষ্টিপাত কর। তখন জিবরীল সেখানে গেলেন, তার ভিতরে পর্যবেক্ষণ করলেন এবং ফিরে এলেন। তারপরে জিবরীল বললেন: হে আমার রব! আপনার ইজ্জতের কসম! যে কোন ব্যক্তি সেখানে থাকা নি‘আমাত, সম্মান-মর্যাদা ও কল্যাণের ব্যাপারে শুনবে, সে অবশ্যই সেখানে প্রবেশ করতে চাইবে এবং এর জন্য আমল করবে। তারপরে আল্লাহ তা‘আলা জান্নাতকে মানুষের কাছে কষ্টকর ও কঠিন বিষয় দ্বারা ঢেকে দিলেন, যেমন: আদেশসমূহ পালন করা ও নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকা। সুতরাং যে ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করতে ইচ্ছা করবে, তাকে উক্ত কষ্টকর বিষয়সমূহ পাড়ি দিতে হবে। জান্নাতকে কষ্টকর বিষয় দ্বারা ঢেকে দেওয়ার পরে আল্লাহ তা‘আলা বললেন: হে জিবরীল! তুমি যাও আর জান্নাত দেখে এসো। সুতরাং জিবরীল সেখানে যেয়ে তা দেখলেন, তারপরে এসে বললেন: হে আমার রব! আপনার ইজ্জতের কসম! আমার ভয় হচ্ছে যে, জান্নাতের পথে এত কষ্ট ও কাঠিন্যতা থাকার কারণে সেখানে কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। আল্লাহ যখন জাহান্নাম সৃষ্টি করলেন, তখন বললেন: হে জিবরীল! তুমি যাও আর তা দেখে এসো। তখন তিনি যেয়ে তা প্রত্যক্ষ করলেন। তারপরে এসে জিবরীল বললেন: হে আমার রব! আপনার ইজ্জতের কসম! যে কোন ব্যক্তি জাহান্নামের কষ্ট, শাস্তি ও সংকটের কথা শুনবে, সে অবশ্যই সেখানে প্রবেশ করাকে অপছন্দ করবে এবং সেখানে প্রবেশ করানোর উপকরণ ও কারণসমূহ থেকে দূরে অবস্থান করবে। তারপর আল্লাহ তা‘আলা জাহান্নামকে দুনিয়াবী কামনা-বাসনা, লালসা দ্বারা আবৃত করে দিলেন, এবং এগুলো তার প্রবেশের পথে রেখে দিলেন। তারপর জিবরীলকে বললেন: হে জিবরীল! যাও আর দেখে এসো। তখন জিবরীল সেখানে গেলেন এবং প্রত্যক্ষ করলেন এবং ফিরে এসে বললেন: হে আমার রব! আপনার ইজ্জতের কসম! আমি ভীত, শঙ্কিত ও আতঙ্কিত যে, এখান থেকে কেউই নিষ্কৃতি পাবে না; যেহেতু এর চারপাশে লালসা ও কামনা-বাসনা রয়েছে।