





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
তারিক ইবনু আশইয়াম আল আশজাঈ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “যে ব্যক্তি বলল: আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন মা’বূদ নেই এবং আল্লাহ ছাড়া অন্যান্য যা কিছুর ইবাদত করা হয় তা অস্বীকার করলো, তার জান ও মাল হারাম হয়ে গেলো। আর তার হিসাব নিকাশ আল্লাহর নিকট।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনএ হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন, যে ব্যক্তি মুখে বলল ও সাক্ষ্য দিলো, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন মা’বূদ নেই এবং আল্লাহ ছাড়া অন্যান্য মাবূদকে অস্বীকার করলো, ইসলাম ব্যতীত অন্য সব ধর্ম থেকে নিজেকে মুক্ত ঘোষণা করল, তার জান ও মাল মুসলিমদের জন্যে হারাম। অতএব, আমরা তার বাহ্যিক আমল দেখেই বিচার করব। সুতরাং তার ধন-সম্পদ হরণ করা যাবে না এবং তার রক্তপাতও ঘটানো যাবে না। তবে সে কোন অন্যায় বা অপরাধে জড়িত হলে ভিন্ন কথা। তখন সেসব অপরাধের শাস্তি ইসলামী শরী‘য়াহ নিশ্চিত করবে। আল্লাহ তার হিসাব নিকাশ কিয়ামতের দিন গ্রহণ করবেন। যদি সে সত্যবাদী হয়, তবে সে পুরস্কৃত হবে। আর যদি মুনাফিক হয়, তবে আল্লাহ তাকে শাস্তি দিবেন।
আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “রহমান-আল্লাহ দয়াশীলদের প্রতি দয়া করেন। তোমরা যমীনবাসীদের প্রতি দয়া কর, যিনি আসমানের উপরে তিনি(আল্লাহ) তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।”
এটি আবূ দাউদ, তিরমিযী ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেন , যারা অপরকে দয়া করেন রহমান সব কিছু বেষ্টনকারী তাঁর স্বীয় রহমত দ্বারা তাদের ওপর দয়া করেন, মূলত প্রতিদান স্বীয় আমল অনুযায়ী হবে। তারপর নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম জমিনে যত মানুষ অথবা প্রাণী অথবা পাখী অথবা তা ছাড়া যত প্রকার মাখলূক রয়েছে তাদের সবার ওপর দয়া করার নির্দেশ দিয়েছেন; আর তার প্রতিদান হলো, আল্লাহ তা‘আলা আসমানসমূহের ওপর থেকে তোমাদেরকে দয়া করবেন।
আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কিয়ামতের দিন সবচেয়ে কম শাস্তি প্রাপ্ত লোককে আল্লাহ্ বলবেন, দুনিয়ার মাঝে যত সম্পদ আছে তার তুল্য সম্পদ যদি (আজ) তোমার কাছে থাকত, তাহলে কি তুমি তার বিনিময়ে নিজেকে মুক্ত করার চেষ্টা করতে? সে বলবে, হ্যাঁ। এরপর আল্লাহ্ বলবেন, আমি তোমাকে এর চেয়েও সহজ কাজের হুকুম দিয়েছিলাম, যখন তুমি আদমের পৃষ্ঠদেশে ছিলে। তা এই যে, তুমি আমার সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না। কিন্তু তুমি তা অস্বীকার করলে আর আমার সাথে শরীক করলে”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহ তায়ালা জাহান্নামে প্রবেশের পর সবচেয়ে কম শাস্তি ভোগ করা লোকের উদ্দেশ্যে বলবেন: যদি তোমার জন্য দুনিয়া এবং এর মধ্যে যা কিছু আছে সব হয়ে যায় তা সবই কি তুমি এই আযাব থেকে মুক্তিপণ হিসাবে দিয়ে দিবে? সে বলবে: হ্যাঁ, তখন আল্লাহ বলবেন: আমি তোমার থেকে এর চেয়ে সহজ জিনিস তলব করেছি এবং তার আদেশ দিয়েছি, যখন তুমি আদমের পৃষ্ঠদেশে থাকা অবস্থায় তোমার কাছ থেকে অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছিল যে, তুমি আমার সাথে কাউকে শরীক করবে না। আমি যখন তোমাকে দুনিয়াতে নিয়ে এসেছি, তখন তুমি শিরক ছাড়া আর কিছুই গ্রহণ করলেনা।
‘আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: কতিপয় লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গনক-জ্যোতিষীদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেন: “তারা কিছুই নয়।” তারা বলল: হে আল্লাহর রাসূল! তারা কোন কোন সময় এমন কথা বলে, যা সত্য ও সঠিক হয়ে থাকে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “ঐ কথাটি সত্য যা জিন শয়তান (ঊর্ধ্বজগৎ হতে) ত্বরিত শুনে নেয়। অতঃপর মোরগের করকরানোর মতো শব্দ করে তার বন্ধুর কানে পৌঁছিয়ে দেয়। এরপর সে একশর অধিক মিথ্যা কথা তার সাথে মিলিয়ে দেয়।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সেসব লোকদের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হয়, যারা ভবিষ্যতের গায়েব সম্পর্কে (জ্যোতিষী) সংবাদ দেয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেন: তোমরা তাদের কথাকে পরোয়া করবে না, তাদের কথা গ্রহণ করবে না এবং তাদেরকে গুরুত্ব দিবে না। সাহাবীগণ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! তাদের কোন কোন কথা কখনো কখনো সত্য ও সঠিক হয়ে থাকে। যেমন তারা অমুক মাসে অমুক দিনে সংঘটিত হবে বলে কোন কোন গায়েবের সংবাদ দিয়ে থাকে, যা তাদের সংবাদ অনুযায়ী বাস্তবে সংঘটিত হয়ে থাকে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: জিনরা ঊর্ধ্বজগতে ওৎ পেতে ত্বরিত কোন কোন সংবাদ শুনে নেয়। ফলে তারা তাদের গণক বন্ধুদের সেসব শোনা সংবাদ পৌঁছে দেয়। অতপর গণকরা শয়তানের আকাশ থেকে শোনা কথার সাথে তাদের নিজেদের পক্ষ থেকে শত শত মিথ্যা মিলিয়ে মানুষের কাছে প্রকাশ করে।
আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত: একবার মু‘আয রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিছনে সাওয়ারীতে উপবিষ্ট ছিলেন, তখন তিনি তাঁকে ডাকলেন, হে মু‘আয! তিনি উত্তর দিলেন, আমি হাযির ইয়া রাসূলাল্লাহ্ এবং আপনার আদেশ পালনের জন্য প্রস্তুত। তিনি ডাকলেন, মু‘আয! তিনি উত্তর দিলেন, আমি হাযির ইয়া রাসূলাল্লাহ্ এবং প্রস্তুত। তিনি আবার ডাকলেন, মু‘আয! তিনি উত্তর দিলেন, আমি হাযির ইয়া রাসূলাল্লাহ্ এবং প্রস্তুত। এরূপ তিনবার করলেন। এরপর বললেন, “যে কোনো বান্দা আন্তরিকতার সাথে এ সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো মাবূদ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল, তার জন্য আল্লাহ তা‘আলা জাহান্নাম হারাম করে দিবেন।” মু‘আয রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি কি মানুষকে এ খবর দিবো না, যাতে তারা সুসংবাদ পেতে পারে? তিনি বললেন, তাহলে তারা এর ওপর ভরসা করে বসে থাকবে। মু‘আয রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু (জীবনভর এ হাদীসটি বর্ণনা করেন নি) মৃত্যুর সময় এ হাদীসটি বর্ণনা করে গেছেন, যাতে (ইলম গোপন রাখার) গুনাহ না হয়।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমু‘আয বিন জাবাল রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু একবার নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিছনে তাঁর সাওয়ারীতে আরোহী ছিলেন। তখন তিনি তাঁকে ডেকে বললেন: হে মু‘আয! এভাবে তিনি তাকে তিনবার ডাকলেন। তিনি যে বিষয়টি অচিরেই মু‘আযকে বলবেন, সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় তিনি এরূপ তিনবার করলেন। প্রতিবারই মু‘আয রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু উত্তরে বললেন: আমি হাযির ইয়া রাসূলাল্লাহ্ এবং আপনার আদেশ পালনের জন্য প্রস্তুত। অর্থাৎ হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার ডাকে প্রতিবারই উত্তর দিচ্ছি যথাযত উত্তর এবং আপনার ডাকে সাড়া দিয়ে আমি সৌভাগ্য কামনা করছি। অতপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সংবাদ দিলেন: যে ব্যক্তি আন্তরিকতার সাথে, মিথ্যাবাদী না হয়ে সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবূদ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল- এ অবস্থায় সে মারা গেলে তার জন্য আল্লাহ তা‘আলা জাহান্নাম হারাম করে দিবেন। মু‘আয রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ সংবাদ মানুষের মাঝে প্রচার করতে অনুমতি চাইলেন, যাতে তারা আনন্দিত হয় এবং সুসংবাদপ্রাপ্ত হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশংকা করলেন যে, তাহলে তারা এর ওপর ভরসা করে বসে থাকবে এবং আমল কমিয়ে দিবে। মু‘আয রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু জীবনভর এ হাদীসটি কাউকে বর্ণনা করেন নি। তবে মৃত্যুর সময় এ হাদীসটি বর্ণনা করে গেছেন, যাতে ইলম গোপন রাখার গুনাহ না হয়।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমাদের মহান ও বরকতময় রব প্রতি রাতে যখন তার শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকে পৃথিবীর আসমানে অবতরণ করেন। আর বলেন, কে আমাকে ডাকবে আমি তার ডাকে সাড়া দিবো, কে আমার কাছে চাইবে আমি তাকে দান করব, কে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে আমি তাকে ক্ষমা করব?”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে বর্ণনা করেছেন যে, মহান ও বরকতময় আল্লাহ প্রতি রাতে শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকতে পৃথিবীর আসমানে অবতরণ করেন। তিনি বান্দাহদেরকে তাঁকে ডাকতে উৎসাহিত করেন। যে তাঁকে ডাকে, তিনি তার ডাকে সাড়া দেন। তিনি বান্দাহদেরকে তাঁর কাছে প্রার্থনা করতে অনুপ্রেরণা দেন। যে ব্যক্তি তাঁর কাছে চায়, তিনি তাকে তা দান করেন। যে ব্যক্তি তাঁর কাছে পাপ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করে, তিনি তাকে ক্ষমা করে দেন ও তার তাওবা কবুল করেন। তিনি মুমিন বান্দাহদেরকে ক্ষমা করে থাকেন।
আবূ মারসাদ আল গানাবী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা কবরের উপর বসবে না এবং কবরের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করবে না।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেননবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরের উপর বসতে নিষেধ করেছেন। তাছাড়া তিনি কবরের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করতেও নিষেধ করেছেন। এর ধরন হলো: কবর মুসল্লীর কিবলার দিকে (সম্মুখে) হওয়া। কেননা এগুলো শির্কের মাধ্যম।
উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত: উম্মে সালমা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে তাঁর হাবশায় দেখা ‘মারিয়া’ নামক একটা গির্জার কথা উল্লেখ করলেন। তিনি সেখানে যে সব ছবি দেখেছিলেন, সেগুলোর বর্ণনা দিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “এরা এমন সম্প্রদায় যে, এদের মধ্যে কোন সৎ বান্দা অথবা বলেছেন কোন সৎ লোক মারা গেলে তার কবরের উপর তারা মসজিদ নির্মাণ করত। আর তাতে ঐ সব ব্যাক্তির ছবি তৈরী করে স্থাপন করতো। এরা আল্লাহর কাছে নিকৃষ্ট সৃষ্টি।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমউম্মে সালমা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে তাঁর হাবশায় দেখা ‘মারিয়া’ নামক একটা গির্জার কথা উল্লেখ করলেন। তিনি সেখানে ছবি, সাজ-সজ্জা ও প্রতিমা অঙ্কন দেখেছিলেন, সেগুলো তাকে আর্শ্চয করেছে। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসব চিত্র নির্মানের কারণ বর্ণনা করেন। তিনি বললেন: এরা এমন সম্প্রদায় যাদের তুমি উল্লেখ করলে, এদের মধ্যে কোন সৎ লোক মারা গেলে তার কবরে তারা মসজিদ বানাতো, তাতে তারা সালাত আদায় করতো। আর তাতে ঐ সব ব্যাক্তির প্রতিচ্ছবি স্থাপন করতো। তিনি আরো বর্ণনা করেন, এধরনের কাজ যারা করে তারা আল্লাহর কাছে নিকৃষ্ট সৃষ্টি। কেননা এসব কাজ আল্লাহর সাথে শির্কের দিকে ধাবিত করে।
ইবন `উমার রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «بُنِيَ الإِسْلاَمُ عَلَى خَمْسٍ: شَهَادَةِ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَإِقَامِ الصَّلاَةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَالحَجِّ، وَصَوْمِ رَمَضَانَ» “ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি। -এ কথার সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো মাবূদ নেই এবং নিশ্চয় মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল। সালাত কায়েম করা, যাকাত দেয়া, হজ করা এবং রমযানের সাওম পালন করা।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলামকে সুদৃঢ় পাঁচটি ভিত্তির উপর তুলনা করেছেন, যা উক্ত ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে আছে। ইসলামের অন্যান্য বিধানগুলো যেন উক্ত ভিত্তির পরিপূরক ও পূর্ণতাদানকারী। এসব রুকনের প্রথমটি হলো: দুটি সাক্ষ্য: আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো মাবূদ নেই এবং নিশ্চয় মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল -এ কথার সাক্ষ্য দান করা। এ দুটি কালিমার সাক্ষ্য দেওয়া মূলত একটি রুকন। একাংশ আরেক অংশ থেকে আলাদা হয় না। আল্লাহর তাওহীদের-একত্বের স্বীকৃতি ও তিনি একমাত্র ইবাদতের উপযুক্ত ।এ স্বীকৃতি সহকারে বান্দাহ এ কালিমা তার মুখে উচ্চারণ করবে, এর দাবি অনুযায়ী আমল করবে এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াতের উপর ঈমান আনায়ন ও তাঁর আনুসরণ করবে । দ্বিতীয় রুকন: সালাত কায়েম করা। আর তা হলো দিনে রাতে পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সালাত তার শর্তাবলি, রুকন ও ওয়াজিবসমূহ সহকারে আদায় করা। সেগুলো হলো: ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব ও ইশা। তৃতীয় রুকন: ফরয যাকাত দেয়া। এটি মূলত ধন-সম্পদের উপর ফরযকৃতএকটি ইবাদত।শরী‘আহ নির্দিষ্ট নিসাব পরিমাণ সম্পদ কারো কাছে থাকলে,যাকাত পাওয়ার হকদারদেরকে প্রদান করা ফরয করেছে। চতুর্থ রুকন: হজ করা। তা হলো আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে হজের কার্যাবলি পালনের জন্যে মক্কায় গমন করা। পঞ্চম রুকন: রমযানের সাওম পালন করা। আর তা হলো ইবাদতের নিয়তে রমযান মাসে ফজরের শুরু থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খাদ্য, পানীয় ও অন্যান্য সাওম ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ থেকে বিরত থাকা।