





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
উম্মুল মুমেনিন ’আয়িশাহ্ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা সূত্রে বর্ণিত; তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে অসুস্থতা থেকে আর সুস্থ হয়ে উঠেননি, সে অসুস্থতা অবস্থায় বলেছেন: “ইয়াহুদী ও খৃস্টানদের ওপর আল্লাহর অভিসম্পাত, তারা তাদের নবীদের সমাধিসমূহকে উপাসনালয়ে পরিণত করেছে।’’ আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা বলেন: এরূপ প্রথা যদি না থাকত তবে তাঁর কবরকেও খোলা রাখা হতো। তবে তিনি আশঙ্কা করছিলেন যে, তার কবরকেও মসজিদ (সিজদার স্থান) বানানো হতে পারে।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমউম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সেই অসুস্থতার সময়ে, যাতে তাঁর অবস্থা গুরুতর হয়ে পড়েছিল এবং তিনি ইন্তেকাল করেছিলেন, বলেছেন: আল্লাহ ইহুদি ও নাসারাদের লানত করেছেন এবং তাঁর রহমত থেকে বিতাড়িত করেছেন। কারণ তারা তাদের নবীদের কবরকে মসজিদ বানিয়েছে, যেমন তার উপর ঘর নির্মাণ করা, কবরের কাছে বা কবরের দিকে ফিরে নামাজ পড়া। তারপর তিনি (আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেছেন: যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই নিষেধ ও সতর্কবাণী এবং সাহাবায়ে কেরামের এই আশঙ্কা না থাকত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবরের সাথে ইহুদি ও নাসারাদের মতো আচরণ করা হবে, তাহলে তাঁর কবরকে বিশেষভাবে প্রকাশিত করা হত।
আর আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আলী ইবন আবূ তালেব রাদিয়াল্লাহু আনহু ইয়ামন থেকে একটি চামড়ার পাত্রে একটি স্বর্ণের টুকরা প্রেরণ করেন। স্বর্ণটি তখনো মাটি থেকে আলাদা করা হয়নি। তিনি বলেন, সেটি তিনি চার জনের মধ্যে ভাগ করে দেন। তারা হলেন, উয়াইনাহ ইবন বাদর, আকরা‘ ইবন হাবেস, যায়েদ আল খাইল আর চতুর্থ জন্য হয়ত আলকামাহ বা আমের আত-তুফাইল। তখন তার সাহাবীদের থেকে একজন বলল, তাদের তুলনায় আমরাই বেশি তার হকদার ছিলাম। তিনি বলেন, কথাটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পৌঁছল। তখন তিনি বললেন: “তোমরা কি আমাকে আমানতদার মনে করো না। আমি যিনি আসমানে আছেন তার আমানতদার। সকাল সন্ধ্যা আমার কাছে আকাশের সংবাদ আসে।” তিনি বলেন, তখন দুই চোখ ডাবা, উঁচা ঘাল-চাবা ও কপাল, গণ দাঁড়ি বিশিষ্ট, মুণ্ডানো মাথা এবং উঁচা করে লুঙ্গি পরা এক লোক দাঁড়ালো এবং বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আল্লাহকে ভয় করুন। তিনি বললেন: “তুমি ধ্বংস হও! আল্লাহকে ভয় করার ব্যাপারে আমি জমিনবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে অধিক হকদার নই?” বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর লোকটি চলে গেল। খালেদ ইবন ওয়ালিদ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল আমি কি তার গর্দান উড়িয়ে দেব না? তিনি বললেন: “না। হতে পারে সে সালাত আদায় করে।” তখন খালেদ বললেন, অনেক মুসল্লি এমন আছে যারা এমন কথা বলে যা সে অন্তরে বিশ্বাস করে না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “আমাকে মানুষের অন্তর ছিদ্র করা এবং তাদের পেট ফেঁটে দেখার আদেশ দেওয়া হয়নি।” তারপর তার দিকে দেখলেন সে পিঠ দেখিয়ে চলে যাচ্ছে। তিনি বললেন: “নিশ্চয় এর বংশ থেকে এমন কিছু লোকের আবির্ভাব হবে, যারা মুখে আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করবে, যা তাদের গলদেশ অতিক্রম করবে না, দ্বীন থেকে এমনভাবে বের হবে যেমন তীর ধনুক থেকে বের হয়।” আর আমার ধারণা তিনি বলেছেন: “আমি যদি তাদের পেতাম তাহলে অবশ্যই তাদের সামূদ সম্প্রদায়ের মতো হত্যা করতাম।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমআলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ইয়েমেন থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে প্রক্রিয়াজাত করা চামড়ার মোড়কে কিছু সোনা পাঠিয়েছিলেন, যা সম্পূর্ণরূপে মাটির মিশ্রণ থেকে মুক্ত ছিল না। তিনি বললেন: অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এটি চারজন ব্যক্তির মধ্যে ভাগ করে দিলেন। উয়াইনা বিন বদর আল-ফাযারী, আকরা বিন হাবিস আল-হানযালী, যায়েদ আল-খাইল আন-নাবহানী এবং আলকামা বিন উলাসা আল-আমিরী। তখন তাঁর এক সাহাবি বললেন: আমরাই এ ব্যাপারে তাদের চেয়ে বেশি হকদার ছিলাম, তখন তিনি বললেন: এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পৌঁছালে তিনি বললেন: “তোমরা কি আমাকে বিশ্বাস করো না, অথচ আমি সেই মহান সত্তার বিশ্বস্ত যিনি আসমানে রয়েছেন? আসমানের খবর সকাল-সন্ধ্যা আমার কাছে পৌঁছে।” তিনি বললেন: তখন এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়াল যার চোখ দুটি গভীর কোটরে ডুবে ছিল, তার গালের হাড় উঁচু এবং স্পষ্ট, কপাল উঁচু, দাড়ি ঘন কিন্তু লম্বা নয়, মাথা মুণ্ডিত, এবং তার নিচের শরীর ঢাকার জন্য পরা ইজারটি উপরে উঠানো ছিল। সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহকে ভয় করুন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "ধিক তোমাকে! আমি কি পৃথিবীর মধ্যে আল্লাহকে ভয় করার সবচেয়ে বেশি হকদার নই?!" তিনি বললেন: এরপর সেই ব্যক্তি চলে গেল। খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি কি তার গর্দান উড়িয়ে দেব না? তিনি বললেন: না, সম্ভবত সে নামাজ পড়ে। তখন খালিদ বললেন: কত নামাজি আছে যারা মুখে এমন কথা বলে যা তাদের হৃদয়ে নেই, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "আমাকে মানুষের অন্তর খোঁজার বা তাদের পেট চিরে দেখার আদেশ দেওয়া হয়নি; বরং আমাকে তাদের বাহ্যিক বিষয়গুলোর ভিত্তিতে কাজ নেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে।" তারপর তিনি তার দিকে তাকালেন যখন সে ফিরে যাচ্ছিল, এবং বললেন: এ ব্যক্তি ও তার সঙ্গীদের বা তার গোত্রের মধ্য থেকে এমন একদল লোক বের হবে, যারা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সুন্দর কণ্ঠে আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করবে। তাদের জিহ্বা কুরআন তিলাওয়াতের কারণে সদা সিক্ত থাকবে, কিন্তু কুরআন তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না, ফলে তা তাদের অন্তরে প্রবেশ করে তাদের সংশোধন করবে না। আল্লাহ তা উপরে উঠাবেননা এবং কবুল করবেন না। তারা ইসলাম থেকে এভাবে বের হয়ে যাবে, যেমন তীর লক্ষ্যভেদ করে দ্রুত ও সহজে বেরিয়ে যায়। "আমি মনে করি তিনি বলেছেন: যদি আমি তাদেরকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে তরবারি নিয়ে বিদ্রোহ করতে দেখি, তবে আমি তাদেরকে কঠোরভাবে হত্যা করব, যেমন সামুদ সম্প্রদায়কে হত্যা করা হয়েছিল।"
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ের জান্নাতীকে বলা হবে যে, তুমি কামনা কর। সে কামনা করতে থাকবে এবং আরো কামনা করবে। আল্লাহ তাকে বলবেন: তোমার যা কমন করার তা কি করেছ? সে বলবে, জ্বী! আল্লাহ বলবেন: যা কামনা করেছ তা এবং এর অনুরূপ তোমাকে প্রদান করা হলো।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেননবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, জান্নাতে প্রবেশকারীদের মধ্যে সর্বনিম্ন মর্যাদা ও স্তরের ব্যক্তিকেও বলা হবে: "ইচ্ছা প্রকাশ করো।" তখন সে ইচ্ছা প্রকাশ করবে এবং একের পর এক ইচ্ছা করতে থাকবে, এমনকি তার আর কোনো ইচ্ছাই অবশিষ্ট থাকবে না যা সে প্রকাশ করেনি। তখন তাকে বলা হবে: "তুমি কি সব ইচ্ছা প্রকাশ করেছ?" সে বলবে: "হ্যাঁ।" তখন তাকে বলা হবে: "তোমার সব ইচ্ছা পূরণ করা হবে এবং তার সাথে আরও অনুরূপ দেওয়া হবে।"
আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত: একদা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে গোশ্ত আনা হল এবং তাঁকে সামনের রান পরিবেশন করা হল। তিনি এটা পছন্দ করতেন। তিনি তার থেকে কামড়ে খেলেন। এরপর বললেন, “আমি হব কিয়ামতের দিন মানবকুলের নেতা। তোমাদের কি জানা আছে তা কেন? কিয়ামতের দিন আগের ও পরের সকল মানুষ এমন এক ময়দানে জমায়েত হবে, যেখানে একজন আহবানকারীর আহবান সকলে শুনতে পাবে এবং সকলেই এক সঙ্গে দৃষ্টিগোচর করবে। সূর্য নিকটে এসে যাবে। মানুষ এমনি কষ্ট-ক্লেশের সম্মুখীন হবে যা অসহনীয় ও অসহ্যকর হয়ে পড়বে। তখন লোকেরা বলবে, তোমরা কী বিপদের সম্মুখীন হয়েছ, তা কি দেখতে পাচ্ছ না? তোমরা কি এমন কাউকে খুঁজে বের করবে না, যিনি তোমাদের রবের কাছে তোমাদের জন্য সুপারিশকারী হবেন? কেউ কেউ অন্যদের বলবে যে, আদমের কাছে চল। তখন সকলে তার কাছে এসে তাঁকে বলবে, আপনি আবুল বাশার। আল্লাহ্ তা’আলা আপনাকে নিজ হস্ত দ্বারা সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর রূহ আপনার মধ্যে ফুঁকে দিয়েছেন এবং মালায়িকাহ্কে হুকুম দিলে তাঁরা আপনাকে সিজদা করেন। আপনি আপনার রবের নিকট আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখছেন না যে, আমরা কিসের মধ্যে আছি? আপনি কি দেখছেন না যে, আমরা কী অবস্থায় পৌঁছেছি। তখন আদম (আঃ) বলবেন, আজ আমার রব এত রাগান্বিত হয়েছেন যার আগেও কোনদিন এরূপ রাগান্বিত হননি আর পরেও এরূপ রাগান্বিত হবেন না। তিনি আমাকে একটি গাছের নিকট যেতে নিষেধ করেছিলেন, কিন্তু আমি অমান্য করেছি, নফ্সী, নফ্সী, নফ্সী, (আমি নিজেই সুপারিশ প্রার্থী) তোমরা অন্যের কাছে যাও, তোমরা নূহ (আঃ)-এর কাছে যাও। তখন সকলে নূহ্ (আঃ)-এর কাছে এসে বলবে, হে নূহ্ (আঃ)! নিশ্চয়ই আপনি পৃথিবীর মানুষের প্রতি প্রথম রাসূল। আর আল্লাহ্ তা’আলা আপনাকে পরম কৃতজ্ঞ বান্দা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সুতরাং আপনি আপনার রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখছেন না যে, আমরা কিসের মধ্যে আছি? তিনি বলবেন, আমার রব আজ এত ভীষণ রাগান্বিত যে, আগেও এমন রাগান্বিত হননি আর পরে কখনো এমন রাগান্বিত হবেন না। আমার একটি গ্রহণযোগ্য দু’আ ছিল, যা আমি আমার কওমের ব্যাপারে করে ফেলেছি, (এখন) নফ্সী, নফ্সী, নফ্সী। তোমরা অন্যের কাছে যাও- যাও তোমরা ইব্রাহীম (আঃ)-এর কাছে। তখন তারা ইব্রাহীম (আঃ)-এর কাছে এসে বলবে, হে ইব্রাহীম (আঃ)! আপনি আল্লাহর নবী এবং পৃথিবীর মানুষের মধ্যে আপনি আল্লাহর বন্ধু[3]। আপনি আপনার রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখতে পাচ্ছেন না আমরা কিসের মধ্যে আছি? তিনি তাদের বলবেন, আমার রব আজ ভীষণ রাগান্বিত, যার আগেও কোন দিন এরূপ রাগান্বিত হননি, আর পরেও কোনদিন এরূপ রাগান্বিত হবেন না। আর আমি তো তিনটি মিথ্যা বলে ফেলেছিলাম। রাবী আবূ হাইয়ান তাঁর বর্ণনায় এগুলোর উল্লেখ করেছেন- (এখন) নফসী, নফসী, নফসী, তোমরা অন্যের কাছে যাও- যাও মূসার কাছে। তারা মূসার কাছে এসে বলবে, হে মূসা (আঃ)! আপনি আল্লাহর রাসূল। আল্লাহ্ আপনাকে রিসালাতের সম্মান দিয়েছেন এবং আপনার সঙ্গে কথা বলে সমস্ত মানবকূলের উপর মর্যাদা দান করেছেন। আপনি আপনার রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখতে পাচ্ছেন না আমরা কিসের মধ্যে আছি? তিনি বললেন, আজ আমার রব ভীষণ রাগান্বিত আছেন, এরূপ রাগান্বিত আগেও হননি এবং পরেও এরূপ রাগান্বিত হবেন না। আর আমি তো এক ব্যক্তিকে হত্যা করে ফেলেছিলাম, যাকে হত্যা করার জন্য আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়নি। এখন নফ্সী, নফসী, নফসী। তোমরা অন্যের কাছে যাও- যাও ঈসা (আঃ)-এর কাছে। তখন তারা ঈসা (আঃ)-এর কাছে এসে বলবে, হে ঈসা (আঃ)! আপনি আল্লাহররাসূল এবং কালিমাহ [4], যা তিনি মারইয়াম (আঃ)-এর উপর ঢেলে দিয়েছিলেন। আপনি ’রূহ’[5]। আপনি দোলনায় থেকে মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন। আজ আপনি আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখছেন না, আমরা কিসের মধ্যে আছি? তখন ঈসা (আঃ) বলবেন, আজ আমার রব এত রাগান্বিত যে, এর আগে এরূপ রাগান্বিত হননি এবং এর পরেও এরূপ রাগান্বিত হবেন না। তিনি নিজের কোন গুনাহর কথা বলবেন না। নফসী, নফসী, নফসী, তোমরা অন্য কারও কাছে যাও- যাও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে। তারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলবে, হে মুহাম্মাদ! আপনি আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী। আল্লাহ্ তা’আলা আপনার আগের, পরের সকল গুনাহ্ ক্ষমা করে দিয়েছেন। আপনি আমাদের জন্য আপনার রবের কাছে সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখছেন না আমরা কিসের মধ্যে আছি? তখন আমি আরশের নিচে এসে আমার রবের সামনে সিজদা দিয়ে পড়ব। তারপর আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর প্রশংসা ও গুণগানের এমন সুন্দর নিয়ম আমার সামনে খুলে দিবেন, যা এর পূর্বে অন্য কারও জন্য খোলেননি। এরপর বলা হবে, হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম! তোমার মাথা উঠাও। তুমি যা চাও, তোমাকে দেয়া হবে। তুমি সুপারিশ কর, তোমার সুপারিশ কবূল করা হবে। এরপর আমি আমার মাথা উঠিয়ে বলব, হে আমার রব! আমার উম্মত। হে আমার রব! আমার উম্মত। হে আমার রব! আমার উম্মত। তখন বলা হবে, হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনার উম্মাতের মধ্যে যাদের কোন হিসাব-নিকাশ হবে না, তাদেরকে জান্নাতের দরজাসমূহের ডান পার্শ্বের দরজা দিয়ে প্রবেশ করিয়ে দিন। এ দরজা ব্যতীত অন্যদের সঙ্গে অন্য দরজায় ও তাদের প্রবেশের অধিকার থাকবে। তারপর তিনি বলবেন, যাঁর হাতে আমার প্রাণ, সে সত্তার শপথ! জান্নাতের এক দরজার দুই পার্শ্বের মধ্যবর্তী স্থানের প্রশস্ততা যেমন মক্কা ও হামীরের মধ্যবর্তী দূরত্ব, অথবা মক্কা ও বস্রার মাঝে দূরত্বের সমতুল্য”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের সাথে এক খাবারের দাওয়াতে ছিলেন। তারপর তাকে ভেড়ার পা পরিবেশন করা হল আর সেটাই ছিল তার কাছে সবচেয়ে সুস্বাদু মাংস। তিনি দাঁতের ডগা দিয়ে এটি কামড়ে নিল, তারপর তাদের সাথে কথা বললেন: কিয়ামতের দিন আমি আদম সন্তানের সর্দার; এটি আল্লাহর অনুগ্রহের প্রকাশ স্বরূপ বলেছেন। তারপর তিনি বললেন: তুমি কি জানো এটা কী? তিনি বলেন: কিয়ামতের দিন মানুষকে এক স্তর বিস্তৃত প্রশস্ত সমতল ভূমিতে একত্রিত করা হবে এবং সেখানে যারা থাকবে তারা আহ্বানকারীর কথা শুনবে এবং দৃষ্টিদানকারী তাদের ঘিরে রাখবে কিছুই তাঁর কাছে গোপন থাকবে না। যেহেতু পৃথিবী সমতল, এর উপর এমন কিছু নেই যা দৃষ্টি দানকারীর কাছ থেকে কাউকে আড়াল করতে পারে। দৃষ্টি তাদের ভেদ করবে, অর্থাৎ যদি কেউ কথা বলে, অন্য কেউ তাকে শুনতে পাবে আর দৃষ্টি তাদের দেখবে। সূর্য সৃষ্টির কাছে এক মাইল দূরত্বে আসবে এবং তারা এমন দুঃখ ও যন্ত্রণায় জর্জরিত থাকবে যা তারা বহন করতে বা সহ্য করতে পারবে না, তাই তারা সুপারিশের মাধ্যমে মুক্তি কামনা করবে। অতঃপর আল্লাহ ঈমানদার লোকদের মানবজাতির পিতা আদমের কাছে আসার জন্য ইলহাম করবেন। তারা তাঁর কাছে এসে তাঁর গুণাবলীর কথা উল্লেখ করবেন, যাতে তিনি আল্লাহর কাছে তাদের জন্য সুপারিশ করেন। তারা তাকে বলবে: তুমি আদম, মানবজাতির পিতা। আল্লাহ তোমাকে তাঁর হাতে সৃষ্টি করেছেন, তাঁর ফেরেশতাদের দ্বারা তোমাকে সিজদা করিয়েছেন, তোমাকে সবকিছুর নাম শিক্ষা দিয়েছেন এবং তোমার মধ্যে তাঁর রূহ ফুঁকে দিয়েছেন। তাই সে অজুহাত পেশ করে বলবে: আজ আমার রব এমন এক ক্রোধে রাগান্বিত হন যা তিনি আগে কখনও করেননি এবং পরেও কখনও করবেন না। তারপর তিনি তার পাপের কথা উল্লেখ করবেন, যা হল আল্লাহ তাকে একটি গাছের ফল খেতে নিষেধ করেছেন, তিনি তা খেয়ে ফেলেছেন এবং বললেন: আমার আত্মাই সুপারিশের প্রাপ্তের যোগ্য, আমাকে ছাড়া অন্য কারো কাছে যাও, তোমরা নূহের কাছে যাও। তারা নূহের কাছে আসবে এবং তারা বলবে: তুমিই প্রথম রাসূল যাকে আল্লাহ পৃথিবীবাসীর কাছে পাঠিয়েছেন। আল্লাহ তোমাকে একজন কৃতজ্ঞ বান্দা হিসেবে নাম দিয়েছেন, কিন্তু তিনি ওযর পেশ করবেন: মহান আল্লাহ আজ এমন ক্রোধে ক্রোধান্বিত হয়েছেন যা তিনি আগে কখনও করেননি এবং তারপরেও কখনও এরূপ রাগ করবেন না। আর তার একটি দোয়া ছিল যা তিনি তার জাতির বিরুদ্ধে ব্যাবহার করেছেন। আমার আত্মাই সুপারিশ প্রাপ্তির যোগ্য। তোমরা আমি ছাড়া অন্য কারো কাছে যাও, তোমরা ইব্রাহিমের কাছে যাও। তারা ইব্রাহিমের কাছে এসে বলবে: তুমি পৃথিবীতে আল্লাহর বন্ধু। তোমার রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করো। তুমি কি দেখো না আমরা কী অবস্থায় আছি?! সে তাদের বলবে: আমার রব আজ এমন রাগে ক্ষুব্ধ হয়েছেন যা তিনি আগে কখনও করেননি এবং পরেও এমন রাগে ক্ষুব্ধ হবেন না। আমি তিনটি মিথ্যা বলেছি; তার কথা: আমি অসুস্থ এবং তার কথা: তাদের নেতা এটা করেছে এবং তার স্ত্রী সারাকে লক্ষ্য করে তার কথা: তাকে বলো যে আমি তোমার ভাই, যাতে সে তার অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকে। সত্য কথা হলো, তিনটি শব্দ ছিল কেবল রূপক। কিন্তু যেহেতু তার সুরুত ছিল মিথ্যাবাদীর, তাই সে নিজেকে এত ছোট বোধ করলেন যে, সুপারিশ করার জন্য নিজেকে উপযুক্ত মনে করলেন না। কারণ যে আল্লাহকে সবচেয়ে ভালোভাবে জানে এবং তাঁর সবচেয়ে কাছের, সেই ব্যক্তিই তাঁকে সবচেয়ে বেশি ভয় করে। তিনি বলেন: আমার আত্মাই সুপারিশের যোগ্য। আমাকে বাদ দিয়ে অন্য কারো কাছে যাও, তোমরা মুসার কাছে যাও। তারা মূসার কাছে এসে বলবে: হে মূসা, তুমি আল্লাহর রাসূল। আল্লাহ তোমাকে তাঁর বাণী এবং তাঁর কথার মাধ্যমে মানুষের উপর অনুগ্রহ করেছেন। তোমার রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করো। তুমি কি দেখো না আমরা কী অবস্থায় আছি?! তিনি বলবেন: আমার রব আজ এমন রাগে ক্রোধান্বিত হয়েছেন যা তিনি আগে কখনও করেননি এবং পরেও এমন রাগে ক্রোধান্বিত হবেন না। আমি এমন এক আত্মাকে হত্যা করেছি যাকে হত্যা করার জন্য আমাকে আদেশ করা হয়নি। আমার আত্মাই সুপারিশের যোগ্য। অন্য কারো কাছে যাও, মরিয়মের পুত্র ঈসার কাছে যাও। তারা ঈসার কাছে এসে বলবে: হে ঈসা, তুমি আল্লাহর রাসূল, আর তাঁরই বাণী, যা তিনি মরিয়মের মধ্যে নিক্ষেপ করেছেন এবং তাঁরই এক রূহ, আর তুমি শিশু অবস্থায় দোলনায় থাকা লোকদের সাথে কথা বলেছিলে। তোমার রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করো। তুমি কি দেখো না আমরা কী অবস্থায় আছি? তখন সে বলবে: আমার রব আজ এমন রাগে ক্রোধান্বিত হয়েছেন যা তিনি আগে কখনও করেননি এবং পরে কখনও এমন রাগে ক্রোধান্বিত হবেন না এবং তিনি কোন পাপের কথা উল্লেখ করেননি। আমার আত্মাই সুপারিশের যোগ্য। আমাকে বাদ দিয়ে অন্য কারো কাছে যাও, মুহাম্মদের কাছে যাও। তারা মুহাম্মদের কাছে এসে বলবে: হে মুহাম্মদ, আপনি আল্লাহর রাসূল এবং নবীদের শেষ স্তম্ভ। আল্লাহ আপনার অতীত ও ভবিষ্যতের পাপ ক্ষমা করে দিয়েছেন। আপনার প্রতিপালকের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখতে পাচ্ছেন না আমরা কী অবস্থায় আছি?! তাই আমি এগিয়ে আরশের নীচে এলাম এবং আমি আমার রবের জন্য সাজদায় লুটিয়ে পড়ব। তারপর আল্লাহ আমার জন্য তাঁর প্রশংসা ও দয়ার এমন কিছু খুলে দিবেন যা তিনি আমার পূর্বে কারো জন্য খুলে দেননি। তারপর বলা হবে: হে মুহাম্মদ, মাথা তুলুন, প্রার্থনা করুন, আপনাকে দেওয়া হবে, সুপারিশ করুন, আপনার সুপারিশ মঞ্জুর করা হবে। তাই আমি মাথা তুলব এবং বলব: আমার জাতি, হে রব, আমার জাতি, হে রব, আমার জাতি, তার সুপারিশ কবুল করা হবে। তাকে বলা হবে: হে মুহাম্মদ, তোমার উম্মতের যাদের হিসাব নেই তাদেরকে জান্নাতের ডান দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে দাও এবং তারা অন্যান্য দরজার লোকদের সাথে অংশীদার হবে। তারপর তিনি বললেন: যার হাতে আমার প্রাণ, সেই সত্তার শপথ, জান্নাতের দরজার দুই পাশের দূরত্ব ইয়েমেনের সানা ও মক্কার মধ্যবর্তী দূরত্বের সমান, অথবা সিরিয়ার বুসরা ও মক্কার মধ্যবর্তী দূরত্বের সমান, যা হাওরান শহর।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেসব পুরুষকে অভিসম্পাত করেছেন যারা নারীর অনুরূপ পোশাক পরিধান করে এবং সেসব নারীকে অভিসম্পাত করেছেন যারা পুরুষের অনুরূপ পোশাক পরিধান করে।
হাদীসটি নাসায়ী তার সুনানুল কুবরাতে, ইবনে মাজাহ ভাবার্থে এবং ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের সাথে খাস পোশাকে সাদৃশ্য গ্রহণকারী পুরুষকে আল্লাহর রহমত থেকে বহিষ্কার ও নির্বাসনের দোয়া করেছেন, হোক সেটি চেহারা, রঙ, ভঙ্গি, পোশাক-আশাক, সাজসজ্জা, অথবা অন্য কিছুতে। অথবা একজন মহিলা পুরুষের সাথে খাস পোশাকে পুরুষের অনুকরণ করা, যা একটি মহাপাপ।
আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “সর্বপ্রথম যে দল জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের মুখমণ্ডল হবে পূর্ণিমার রাতের চন্দ্রের মত উজ্জ্বল। অতঃপর যে দল তাদের অনুগামী হবে তাদের মুখমণ্ডল হবে আকাশের সর্বাধিক দীপ্তিমান উজ্জ্বল তারকার ন্যায়। তারা পেশাব করবে না, পায়খানা করবে না। তাদের থুথু ফেলার প্রয়োজন হবে না এবং তাদের নাক হতে শ্লেষ্মও বের হবে না। তাদের চিরুনি হবে স্বর্ণের তৈরি। তাদের ঘাম হবে মিস্কের মত সুগন্ধযুক্ত। তাদের ধনুচি (১) হবে সুগন্ধযুক্ত চন্দন কাষ্ঠের। বড় চক্ষু বিশিষ্ট হুরগণ হবেন তাদের স্ত্রী। তাদের সকলের দেহের গঠন হবে একই। তারা সবাই তাদের আদি পিতা আদম আলাইহিস সালামের আকৃতিতে হবেন। উচ্চতায় তাদের দেহের দৈর্ঘ্য হবে ষাট হাত।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, জান্নাতে প্রবেশকারী প্রথম দলটি হবে যাদের চেহারা পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল হবে। তারপর তাদের পরবর্তী দলটি হবে আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো। তাদের মধ্যে কোনো ত্রুটি থাকবে না, তারা প্রস্রাব বা পায়খানা করবে না, থুতু ফেলবে না বা নাক ঝাড়বে না। তাদের চিরুনি হবে সোনার তৈরি, তাদের ঘাম হবে মিস্কের সুগন্ধযুক্ত, এবং তাদের ধূপদানি থেকে সবচেয়ে সুগন্ধি ধূপের সুবাস বের হবে। তাদের স্ত্রীরা হবে ডাগর চক্ষু বিষিষ্ট হুর, তাদের সৃষ্টি হবে একই রকম, তাদের দৈর্ঘ্য ও আকৃতি হবে তাদের পিতা আদম আলাইহিস সালামের মতো, যার দৈর্ঘ্য আকাশে ষাট হাত।
উবাদাহ ইবন সামেত রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলেছেন: “জান্নাতে একশ’টি স্তর রয়েছে। প্রতি দুই স্তরের মাঝের দূরত্ব হল আসমান ও জমিনের দূরত্বের মত। জান্নাতুল ফিরদাউস হল এর সর্বোচ্চ স্তর। এ থেকেই জান্নাতের চারটি নহর প্রবাহিত হয়। এর উপরে হল আরশ। তোমরা যখন আল্লাহর কাছে (জান্নাত) চাইবে, তখন তাঁর কাছে জান্নাতুল ফিরদাউস চাও।”
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানিয়েছেন যে পরকালের জান্নাতে একশত স্তর ও মর্যাদা রয়েছে, যেখানে প্রতিটি স্তরের মধ্যে দূরত্ব আসমান ও জমিনের মধ্যকার দূরত্বের মতো। এই জান্নাতগুলির মধ্যে সর্বোচ্চ হলো ফিরদাউস, যেখান থেকে জান্নাতের চারটি নহর প্রবাহিত হয় এবং ফিরদাউসের উপরে আরশ অবস্থিত। তাই যখন তোমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করো, তখন ফিরদাউস চাও, কারণ এটি সকল জান্নাতের ঊর্ধ্বে।
মুগীরাহ ইবনু শু‘বাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহর হুকুম অর্থাৎ কিয়ামত আসা পর্যন্ত আমার উম্মাতের এক জামাআত সর্বদাই বিজয়ী থাকবে। আর তাঁরা হলেন (সেই দল যারা প্রতিপক্ষের উপর) প্রভাবশালী।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা মানুষের ওপর বিজয়ী ও প্রাধান্য বিস্তারকারী থাকবে। তারা তাদের বিরোধীদের ওপর বিজয়ী হবে, এবং এই অবস্থা অব্যাহত থাকবে, যতক্ষণ না শেষ সময়ে আল্লাহর নির্দেশে তাদের রূহ কবজ করা হয়, কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার আগে।
ইবনু ‘উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কোন ব্যক্তি যদি তার ভাইকে ‘কাফির’ বলে, তবে সেই কুফরির বিষয়টি তাদের যে কোন একজনের উপর বর্তাবে। যদি সে কাফির হয়, (তাহলে ঠিক আছে) অন্যথায় তা নিজের দিকেই ফিরে আসবে।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সতর্ক করেছেন যেকোনো মুসলিম যেন তার মুসলিম ভাইকে ‘হে কাফের!’ বলে না ডাকে। কারণ এই কুফরির কথার মাধ্যমে তাদের মধ্যে একজন এটির যোগ্য হয়ে যায়। যদি সে সত্যিই তাই হয় (অর্থাৎ কাফের হয়), তাহলে তা সঠিক। আর যদি তা না হয়, তবে এই কথাটি বলার কারণে তা যে বলেছে তার ওপর ফিরে আসে।