





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
ইমরান ইবনু হুসাইন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমার উম্মাতের সর্বশ্রেষ্ঠ যুগ আমার যুগ। অতঃপর তৎপরবর্তী যুগ। অতঃপর তৎপরবর্তী যুগ।” (বর্ণনাকারী) ‘ইমরান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, তিনি তাঁর যুগের পর দু’যুগ অথবা তিন যুগ বলেছেন তা আমার স্মরণ নেই। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “অতঃপর এমন লোকের আগমন ঘটবে যাদের বিশ্বাস ভঙ্গের কারণে তাদেরকে কেউ বিশ্বাস করবে না, যারা সাক্ষ্য প্রদানে আগ্রহী হবে; অথচ তাদের নিকট সাক্ষ্য চাওয়া হবে না, তারা মান্নত করবে; কিন্তু তা পূরণ করবে না, তারা হবে চর্বিওয়ালা মোটাসোটা।(১)”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানিয়েছেন যে, একই যুগে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম স্তর হল সেই স্তর যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ রয়েছেন। এরপর তাদের পরবর্তী স্তর হল সেই মুমিনগণ যারা সাহাবীদের দেখেছেন কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেননি। এরপর তাদের পরবর্তী স্তর হল তাবেঈনদের অনুসারীগণ। বর্ণনাকারী সাহাবী চতুর্থ শতাব্দীর লোকদের উল্লেখ করতে দ্বিধা করেছেন। তারপর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তাদের পরে এমন কিছু লোক আসবে যারা বিশ্বাসঘাতকতা করবে এবং মানুষ তাদের উপর আস্থা রাখবে না। তাদের সাক্ষ্য চাওয়ার আগেই তারা সাক্ষ্য দেবে এমনকি । তারা প্রতিশ্রুতি দেবে কিন্তু তা পূরণ করবে না। তারা খাদ্য ও পানীয়ে অতিরিক্ত মাত্রায় ভোগ-বিলাসে মত্ত হবে, এমনকি তাদের মধ্যে মেদবহুলতা প্রকাশ পাবে।"
আবু সা‘লাবাহ আল-খুশানী জুরসুম ইবনু নাশির রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা কতিপয় বিষয় ফরয করেছেন। তোমরা সেটাকে বিনষ্ট কর না, এবং কতক সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন, তোমরা সেটা লঙ্ঘন কর না এবং কতক বস্তু হারাম করেছেন তোমরা তাতে লিপ্ত হয়ো না, এবং তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করে কিছু বস্তু হতে ইচ্ছাকৃত চুপ থেকেছেন, তোমরা তা অনুসন্ধান কর না”।
এটি দারাকুতনী তার সুনানে এবং অন্যরা বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ কিছু জিনিসকে ফরয এবং কর্তব্য হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, তোমরা সেগুলোকে অবশ্যই মেনে চলবে। সেগুলো পরিত্যাগ করে বা শিথিলতা প্রদর্শন করে তাতে কোন প্রকার অবহেলা করবে না। তিনি তোমাদের জন্য এমন বাধা ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন যা তোমাদেরকে এমন কাজ থেকে বিরত রাখবে যা তিনি পছন্দ করেন না, তাই শরীয়ত যা আদেশ করেছে তার উপর কোন কিছু বৃদ্ধি করো না। আর কিছু জিনিস হারাম করেছে, সেগুলোতে লিপ্ত হয়ো না বা সেগুলোর কাছে যেয়ো না। এগুলো ছাড়া তাঁর বান্দাদের প্রতি করুণা বশত যা ছেড়ে দিয়েছেন এবং যার সম্পর্কে নীরবতা অবলম্বন করেছেন, সেগুলো তাদের আসল অবস্থায়ই জায়েয থাকবে, সেগুলো সন্ধান করো না।
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাতি এবং তাঁর প্রিয়জন আবু মুহাম্মদ আল-হাসান ইবনে আলী ইবনে আবি তালিব - এর সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূলের কাছ থেকে মুখস্থ করেছি: “যে বিষয়ে তোমার সন্দেহ হয়, তা ছেড়ে দাও আর যাতে কোন সন্দেহ নেই তা গ্রহণ কর।”
এটি তিরমিযী ও নাসায়ী বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সেই সমস্ত কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন যেগুলো সম্পর্কে আমরা সন্দেহযুক্ত, হারাম বা হালাল কোনটিই পরিষ্কার নয়—এবং আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন এমন জিনিস গ্রহণ করতে যা সম্পর্কে কোনো সন্দেহ নেই, যা ভালো এবং হালাল হওয়া নিশ্চিত।
আবূ ইয়ালা শাদ্দাদ ইবনু আওস রদিয়াল্লাহু ‘আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রতিটি বস্তুর প্রতি দয়া করাকে ফরয করে দিয়েছেন। সুতরাং তোমরা যখন হত্যা করবে,তখন সুন্দরভাবে হত্যা করো এবং যখন জবাই করবে, তখন ভালোভাবে জবাই করো। তোমাদের প্রত্যেকে যেন নিজ ছুরি ধারাল করে নেয় এবং যবেহকৃত পশুকে আরাম দেয়।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেননবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, আল্লাহ তা‘আলা প্রত্যেক বস্তুর প্রতি ইহসান করা আমাদের উপর ফরয করে দিয়েছেন। আর ইহসান হলো: ইবাদাতের সময় তার উপর আল্লাহর নিবিড় পর্যবেক্ষণ উপলব্দি করা এবং সৃষ্টিজীবের প্রতি কল্যাণ সাধন ও কষ্ট প্রতিহত করা। হত্যা ও জবাইয়ের সময় ইহসান করা এরই অন্তর্ভুক্ত। কিসাসের হত্যার সময় ইহসান: হত্যার জন্য সবচেয়ে সহজ, অতিশয় হালকা ও দ্রুত উপায়ে জান বের হওয়ার পদ্ধতি গ্রহণ করা। জবাই করার সময়ে ইহসান: ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে পশুর প্রতি সদয় হওয়া, যে পশুকে জবাই করা হবে তার সামনে এমনভাবে অস্ত্র ধার না করা, যা উক্ত পশু দেখতে পায় এবং অন্য পশুর সম্মুখেও কোন পশু জবাই করা অনুচিত যা উক্ত পশু দেখতে পায়।
আবূ মালিক হারিস ইবনু আসিম আল-আশ‘আরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক। “الحمد لله” ‘আলহামদু লিল্লা ‘ দাঁড়িপাল্লা পরিপূর্ণ করে দেয় এবং “سبحان الله والحمد لله” ‘সুবহানাল্লাহি ওয়ালহামদু লিল্লাহ’ কালেমা আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থানকে পরিপূর্ণ করে দেয়। আর সালাত হচ্ছে নূর, সদাকাহ হচ্ছে দলীল এবং সবর হচ্ছে আলো। আর আল-কুরআন তোমার পক্ষে অথবা বিপক্ষে প্রমাণ স্বরূপ। সকল মানুষই ভোর করে নিজেকে বিক্রি করে দেয়। অতঃপর সে তাকে মুক্ত করে অথবা তাকে ধ্বংস করে।"
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনএখানে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, অযু ও গোসলের মাধ্যমে বাহ্যিক পবিত্রতা অর্জন করা যায়, আর এটি সালাত আদায়ের একটি শর্ত। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা: “الحمد لله” ‘আলহামুদ লিল্লাহ’ মিযানকে পরিপূর্ণ করে দেয়”, এটি হচ্ছে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার প্রশংসা এবং তাঁকে পূর্ণতার গুণে গুণান্বিত করা, যা কিয়ামাতের দিনে ওযন করা হবে এবং তাতে আমলের পাল্লা (মিযান) পূর্ণ হয়ে যাবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা: “سبحان الله والحمد لله” ‘সুবহানাল্লাহি ওয়ালহামদু লিল্লাহ’: এটি হচ্ছে: আল্লাহকে সকল ধরণের অপূর্ণতার গুণ থেকে মুক্ত ঘোষণা করা এবং তাঁর মর্যাদার সাথে সামঞ্জস্যশীল এমন পূর্ণতার গুণাবলী তাঁর জন্য সাব্যস্ত করা এবং সেই সাথে তাঁর ভালোবাসা ও সম্মান অন্তরে ধারণ করা, যা আসমান জমিনকে পূর্ণ করে দেয়। “সালাত হচ্ছে নূর”: বান্দার অন্তরের, চেহারার, কবরের এবং তার হাশরের নূর। “সাদাকাহ হচ্ছে বুরহান (দলিল)”: তথা মুমিনের ঈমানের সত্যতার দলিল। আর এটি এমন মুনাফিক থেকে পৃথককারী যে সাদকাহর প্রতিশ্রুত প্রতিদানকে স্বীকার না করায়, তা থেকে (নিজেকে) বিরত রাখে। আর “সবর হচ্ছে আলো”: এটি হচ্ছে নিজেকে উৎকণ্ঠা-অস্থিরতা ও রাগ থেকে সংবরণ করা। এটি সূর্যের ন্যায় এমন আলো যার সাথে উষ্ণতা ও দহন ক্ষমতা রয়েছে; কেননা এটি একটি কঠিন বিষয় এবং এটি নিজের সাথে এবং আকাংখিত বিষয়ের সাথে প্রতিনিয়ত লড়াই করার নাম। সুতরাং সবরকারী ব্যক্তি সঠিক পথে আলোকিত, হিদায়াতপ্রাপ্ত ও স্থায়ীত্ব লাভ করে থাকে। সবর হচ্ছে আল্লাহর আনুগত্যের উপরে টিকে থাকা, পাপ থেকে বেঁচে থাকা এবং দুনিয়াতে বিভিন্ন প্রকার বালা মুসিবত ও কষ্টকর বিষয়ে ধৈর্যধারণ করা। “আর আল-কুরআন তোমার পক্ষে দলিল”: এটি অর্জিত হবে কুরআন তিলাওয়াত করা এবং সে অনুযায়ী আমল করার মাধ্যমে। অথবা “তোমার বিপক্ষে দলিল”: কুরআন অনুযায়ী আমল না করলে অথবা কুরআন তিলাওয়াত পরিত্যাগ করলে। তারপরে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, প্রতিটি মানুষ প্রচেষ্টা রত থাকে, তারা ছড়িয়ে পড়ে, তারা ঘুম থেকে জাগ্রত হয় আর তারপরে তাদের বাড়ি থেকে বিভিন্ন কাজের উদ্দেশ্যে তারা বের হয়ে পড়ে। সুতরাং তাদের মধ্যে অনেকে রয়েছে যারা আল্লাহর আনুগত্যের উপরে দৃঢ়পদ থাকে। ফলে তারা নিজেকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করে নেয়। অপরপক্ষে অনেকে রয়েছে, যারা এখান থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে এবং পাপের মধ্যে নিপতিত হয়। ফলে তারা জাহান্নামে প্রবেশ করার মাধ্যমে নিজেকে ধ্বংস করে ফেলে।
আবূ সায়ীদ সা‘দ ইবনু মালিক ইবনু সিনান আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “নিজের ও অন্যের ক্ষতি করা যাবে না।”
এটি ইবন মাজাহ, দারাকুতনী ও অন্যান্যরা মুসনাদরূপে বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ হাদীসে বর্ণনা করেছেন যে, নিজের ও অন্যের থেকে সকল প্রকারের ক্ষতি দূর করা অত্যাবশ্যক। সুতরাং কারো পক্ষে নিজের নফসের বা অন্যের ক্ষতি করা সমভাবে জায়েয নেই। ক্ষতির পরিবর্তে ক্ষতি করা জায়েয নেই; যেহেতু ক্ষতি দ্বারা ক্ষতি দূর করা যায় না। কোন সীমালঙ্ঘন না করে শুধু কিসাসের মাধ্যমে ক্ষতি প্রতিহত করা যায়।
ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যদি মানুষকে কেবল তাদের দাবী অনুযায়ী দিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে অবশ্যই কতক লোক অন্যের সম্পদ এবং তাদের জীবনও দাবী করবে। তবে দাবীদারের দায়িত্ব প্রমাণ পেশ করা আর যে অস্বীকারীর করবে তার দায়িত্ব শপথ করা”।
এটি বাইহাকী ও অন্যান্যরা এভাবে বর্ণনা করেছেন এবং এর অংশবিশেষ সহীহ বুখারী ও মুসলিমে রয়েছে।নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেন যে, যদি মানুষকে কেবল তাদের দাবির ভিত্তিতে প্রমাণ ছাড়াই দাবি করা জিনিস দেওয়া হয়, তবে লোকেরা জনগণের সম্পদ ও রক্ত দাবি করবে, কিন্তু দাবিদারকে অবশ্যই যা দাবি করছেন তার পক্ষে প্রমাণ ও দলিল উপস্থিত করতে হবে। যদি তার কাছে প্রমাণ না থাকে, তাহলে যার উপর দাবি করা হয়েছে তার সামনে দাবিটি উপস্থাপন করা হবে, যদি সে তা অস্বীকার করে তবে তাকে শপথ করতে হবে এবং সে খালাস পেয়ে যাবেন।
আবূ বুরদাহ তার পিতা আবূ মূসা আল-আশআরী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে (অর্থাৎ, আবু মূসা আশ'আরীকে) ইয়ামানে পাঠিয়েছিলেন। তিনি রাসূলকে এমন কিছু পানীয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন যেগুলো সেখানে তৈরি করা হতো। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ‘সেগুলো কী?’ তিনি বললেন: ‘বিত্‘ (البِتْعُ) এবং (المِزْرُ) মিযর।’ তখন আবু বুরদাকে জিজ্ঞাসা করা হলো: ‘বিত্‘ (البِتْعُ) কী?’ তিনি বললেন: ‘এটি মধুর নাবীয।’ আর ‘মিযর’ (المِزْرُ) হলো: ‘জবের (শস্য) নাবীয।’ তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “প্রত্যেক নেশাজাতীয় বস্তু হারাম”। সহীহ বুখারী। ইমাম মুসলিমও এটি বর্ণনা করেছেন এবং তার শব্দ হলো: আবূ মূসা বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে এবং মুআযকে ইয়ামানে প্রেরণ করেছিলেন। আমি বললাম: ‘হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের দেশে এমন কিছু পানীয় তৈরি হয়, যার নাম মিযর, যা জবের থেকে তৈরি, আর এমন আরেকটি পানীয় আছে যার নাম বিত‘, যা মধু থেকে তৈরি।’ তখন তিনি বললেন: “প্রত্যেক নেশাজাতীয় বস্তু হারাম”। “মুসলিমের অন্য এক বর্ণনা অনুযায়ী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “যে কোনো বস্তু যা সালাত থেকে নেশার কারণে বাধা দেয়, সেটি হারাম”। তারই আরেকটি বর্ণনায় বলা হয়েছে, আবূ মূসা বলেন, “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যিনি সংক্ষেপে পুরো অর্থপূর্ণ কথাগুলো বলতে পারতেন, বলেছেন: প্রত্যেক নেশাযুক্ত জিনিস যা সালাত হতে গাফিল করে তা (পান করতে) বারণ করছি”।
ইমাম বুখারী ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনআবু মূসা আশ'আরী রাদিয়াল্লাহু আনহু জানিয়েছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে ইয়ামানে পাঠিয়েছিলেন। সে এমন কিছু পানীয় সম্পর্কে নবীকে জিজ্ঞাসা করেছিল যা সেখানে তৈরি হত: তা কি হারাম? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন সেই পানীয়গুলো সম্পর্কে জানতে চাইলেন। অতঃপর আবু মূসা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: বিত‘ হলো মধুর নাবীয, আর মিযর হলো যবের নাবীয। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যিনি সংক্ষিপ্তভাবে বহু অর্থবোধক বাক্য বলতে পারতেন, বললেন: “প্রত্যেক নেশাজাতীয় বস্তু হারাম”।
আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: “যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ্জ পালন করলো এবং অশালীন কথা-কর্ম ও গুনাহ থেকে বিরত রইল, সে এমনভাবে (নিষ্পাপ অবস্থায়) ফিরে যাবে, যেন তার মা তাকে ঐদিনে প্রসব করেছে।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে বর্ণনা করেছেন , যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে হজ্জ করে এবং ‘রাফাছ’ (অশ্লীল কাজ) না করে, আর তা হলো: সহবাস করা, সহবাস উদ্দিপক কাজ যেমন: চুম্বন করা এবং সহবাসপূর্ব ঘনিষ্ট কার্যকলাপ। আবার কখনও কখনও ‘রাফাছ’ শব্দটি অশ্লীল কথাবার্তা অর্থেও ব্যবহৃত হয়। আর সে আল্লাহর অবাধ্যতা ও মন্দ কাজ পরিত্যাগপূর্বক পাপাচার থেকে দূরে থাকে। ফাসেকী কাজের মধ্যে রয়েছে: ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজ করা। সে হজ্জ থেকে ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়ে ফিরে যাবে, ঠিক যেমনভাবে বাচ্চা পাপ থেকে মুক্ত অবস্থায় জন্ম গ্রহণ করে।