





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
মুআবিয়া ইবনে হাকাম সুলামী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি (একবার) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সালাত আদায় করছিলাম। ইত্যবসরে হঠাৎ একজন মুক্তাদীর ছিঁক (হাঁচি) হলে আমি (তার জবাবে) ‘য়্যারহামুকাল্লাহ’ (আল্লাহ তোমাকে রহম করুন) বললাম। তখন অন্য মুক্তাদীরা আমার দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করতে লাগল। আমি বললাম, ‘হায়! হায়! আমার মা আমাকে হারিয়ে ফেলুক! তোমাদের কী হয়েছে যে, তোমরা আমার দিকে তাকিয়ে দেখছো?’ (এ কথা শুনে) তারা তাদের নিজ নিজ হাত দিয়ে নিজ নিজ উরুতে আঘাত করতে লাগল। তাদেরকে যখন দেখলাম যে, তারা আমাকে চুপ করাতে চাচ্ছে; তাই আমি চুপ হয়ে গেলাম। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম যখন সালাত সমাপ্ত করলেন---আমার পিতা-মাতা তাঁর জন্য কুরবান হোক, আমি তাঁর চেয়ে উত্তম শিক্ষাদাতা না আগে দেখেছি আর না এর পরে। আল্লাহর শপথ! তিনি না আমাকে তিরস্কার করলেন, আর না আমাকে মারধর করলেন, আর না আমাকে গালি দিলেন —তখন তিনি বললেন, “এই সালাতে লোকেদের কোন কথা বলা বৈধ নয়। (এতে যা বলতে হয়,) তা হল তাসবীহ, তাকবীর ও কুরআন পাঠ।” অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই ধরনের কোন কথা বললেন। আমি বললাম, ‘ইয়া রালুলুল্লাহ! আমি জাহেলিয়াতের লাগোয়া সময়ের (নও মুসলিম)। আল্লাহ ইসলাম আনয়ন করেছেন। আমাদের মধ্যে কিছু লোক গণকের কাছে (অদৃষ্ট ও ভবিষ্যৎ জানতে) যায়।’ তিনি বললেন, “তুমি তাদের কাছে যাবে না।” আমি বললাম, ‘আমাদের মধ্যে কিছু লোক অশুভ লক্ষণ গ্রহণ ক’রে থাকে।’ তিনি বললেন, “এটা এমন একটি অনুভূতি যা লোকে তাদের অন্তরে উপলব্ধি ক’রে থাকে। সুতরাং এই অনুভূতি তাদেরকে যেন (বাঞ্ছিত কর্ম সম্পাদনে) বাধা না দেয়।” ইবন সাব্বাহ বলেন: “তোমাদেরকে যেন বাঁধা না দেয়”। আমি বললাম আমাদের মধ্যে কিছু লোক দাগ টানে। তিনি বললেন, প্রচীন যুগে একজন নবী ছিলেন, তিনি দাগ টানতেন। সুতরাং যার দাগ টানা সে নবীর দাগ টানার পদ্ধতিরি সাথে মিলবে তার দাগ টানা শুদ্ধ হবে। তিনি বললেন, আমার একজন বাঁদী ছিল, উহুদ পাহাড় ও জাওয়ানিয়ার কাছে ছাগল চরাতো। একদিন আমি জানতে পারলাম যে, নেঁকড়ে আমার ছাগলগুলো থেকে একটি ছাগল নিয়ে গেছে। আমি একজন আদম সন্তান তারা যেমন কষ্ট পায় আমিও কষ্ট পেয়েছি। কিন্তু আমি তাকে একটি চড় মারলাম। তারপর রাসূলুল্লাহর নিকট এসে বিষয়টি তাকে জানালে বিষয়টি আমার কাছে বড় মনে হলো। আমি বললাম হে আল্লাহর রাসূল আমি কি তাকে আযাদ করে দেব না? তিনি বললেন, তুমি তাকে আমার কাছে নিয়ে আসো। আমি তাকে তার কাছে নিয়ে আসলাম। তিনি তাকে বললেন, আল্লাহ কোথায়? সে বলল, আকাশে। আবার বললেন, আমি কে? সে বলল, আপনি আল্লাহর রাসূল। বলল, তাকে তুমি আযাদ করে দাও কারণ, সে মু’মিন।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।মুআবিয়া ইবনে হাকাম সুলামী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কোনো এক জামাতের সালাতের সংঘটিত বিষয় সম্পর্কে সংবাদ দেন। তিনি একজন মুক্তাদীকে (হাঁচি দিয়ে আলহামদু লিল্লাহ বলতে শুনেছেন। তার জবাবে তিনি হাড়াহুড়া করে নিয়ম অনুযায়ী ‘য়্যারহামুকাল্লাহ’ (আল্লাহ তোমাকে রহম করুন) বললেন। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদরে কেউ হাঁচি দেয় সে যেন আলহামদু লিল্লাহ বলে। তারপর তার ভাই বা সাথী যেন বলে, ইয়ার হামুকাল্লাহ। কিন্তু তিনি জানতেন না যে, হাঁচির উত্তর দেওয়া মুস্তাহাব হওয়া সালাতের বাইরে। তখন অন্য মুক্তাদীরা আমার দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করতে লাগল। অর্থাৎ, কোন কথা-বার্তা ছাড়া তার দিকে চোখ দিয়ে ইশারা করা আরম্ভ করল এবং তার দিকে ধমকের দৃষ্টিতে দৃষ্টি দিতে লাগল। কিন্তু তিনি তাদের হুমকির কোন কারণ বুঝতে পারলেন না। তাই তিনি তাদের এ বলা ছাড়া আর কোন পথ দেখলেন না। তিনি বললেন, ‘হায়! হায়! আমার মা আমাকে হারিয়ে ফেলুক! কারণ, আমি ধ্বংস হয়ে গেছি। তোমাদের কী হয়েছে? অর্থাৎ তোমাদের কি অবস্থা? তোমরা কেন আমার দিকে তাকিয়ে দেখছো?’ অর্থাৎ তোমরা কেন আমার দিকে ক্ষুব্ধ হয়ে তাকাচ্ছ? (এ কথা শুনে) তারা তাদের নিজ নিজ হাত দিয়ে নিজ নিজ উরুতে আঘাত করতে লাগল। অর্থাৎ তারা তাদের হাতগুলো উরুতে মেরে তাকে কথা না বলতে আরও বেশি বারণ করতে লাগল। তখন সে বুঝতে পারল যে, তারা তাকে চুপ করাতে চাচ্ছে এবং কথা বলা থেকে বিরত রাখতে চাচ্ছে, ফলে আমি চুপ হয়ে গেলাম। আমি তাদেরকে যখন দেখলাম যে, তারা আমাকে চুপ করাতে চাচ্ছে (তখন তো আমার অত্যন্ত রাগ হয়েছিল); কিন্তু আমি চুপ হয়ে গেলাম। অর্থাৎ, যখন আমি বুঝতে পারলাম যে, তারা আমাকে কথা না বলার নির্দেশ দিচ্ছেন তখন আমি যা করেছি তার খারাবী না জানার কারণে ও তাদের কঠোরভাবে বাঁধা প্রদানে আশ্চর্য হলাম এবং আমি চাইলাম তাদের সাথে বিতর্ক করি। কিন্তু আমি তাদের সম্মানে চুপ হয়ে গেলাম। কারণ, তারা আমার চেয়ে জ্ঞানী। ফলে আমি আমার ক্ষোভ অনুযায়ী আমল করলাম না এবং কারণ সম্পকেও জিজ্ঞাসা করলাম না। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম যখন সালাত সমাপ্ত করলেন অর্থাৎ সালাত থেকে অবসর হলেন এবং সালাত শেষ করলেন।--আমার পিতা-মাতা তাঁর জন্য কুরবান হোক। আমার মাতা-পিতা কুরবান হোক এটি শপথ নয়, এটি শুধু মাতা-পিতার দ্বারা উৎসর্গিত হওয়া। আমি তাঁর চেয়ে উত্তম শিক্ষাদাতা না আগে দেখেছি আর না এর পরে। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ধমক দেননি এবং মন্দ বলেননি। বরং তিনি তাকে শরী‘আতের বিধান এমনভাবে বলেন, যা বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য হয়। আল্লাহর শপথ! তিনি না আমাকে তিরস্কার করলেন। অর্থাৎ, কোন কটু বাক্য বলেননি। আর না আমাকে মারধর করলেন। আমি যে মুখালাফাত করেছি তার ওপর মারধর করে আমাকে আদব শিক্ষা দেননি। আর না আমাকে গালি দিলেন” অর্থাৎ, কথা দ্বারা আমার ওপর কোন কঠোরতা করেননি। বরং তিনি আমার জন্য শরী‘আতের বিধান নম্রভাবে বর্ণনা করেন। তখন তিনি বললেন, “এই সালাতে লোকেদের কোন কথা বলা বৈধ নয়। (এতে যা বলতে হয়,) তা হল তাসবীহ, তাকবীর ও কুরআন পাঠ।” অর্থাৎ, সালাতে মানুষের কথার মতো কথা বলা যাবে না যা পরস্পরের মাঝে সম্বোধক বাচক হয়। ইসলামে প্রথম যুগে এর অবকাশ ছিল তারপর তা রহিত হয়ে গেছে। এখন সালাতে আছে শুধু তাসবীহ, তাকবীর ও কুরআনের তিলাওয়াত। আমি বললাম, ‘ইয়া রালুলুল্লাহ! আমি জাহেলিয়াতের লাগোয়া সময়ের (নও মুসলিম)। অর্থাৎ জাহিলিয়্যাতের যুগের কাছাকাছি। শরী‘আত অবতীর্ণের পূর্বের যুগকে জাহিলিয়্যাতের যুগ বলে। তারা জাহিলিয়্যাত বলে নাম রেখেছেন তাদের অজ্ঞতা, মুর্খতা ও অশ্লিলতা বেশি হওয়ার কারণে। “আল্লাহ ইসলাম আনয়ন করেছেন।” অর্থাৎ, কুফর থেকে ইসলামে পত্যাবর্তন করি। আমি দীনের বিধান কি জানি না। আমাদের মধ্যে কিছু লোক গণকের কাছে (অদৃষ্ট ও ভবিষ্যৎ জানতে) যায়।’ অর্থাৎ, তার সাথীদের মধ্যে কতক গণকের কাছে যায় এবং তাদের কাছে ভবিষ্যতে সংঘটিত হবে এমন গাইবী বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। তিনি বললেন, “তুমি তাদের কাছে যাবে না।” গণকের কাছে যেতে নিষেধ করেছেন কারণ, তারা অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে কথা বলে যাতে কতক কথা সঠিক হয়, ফলে তার কারণে মানুষের মধ্যে ফিতনার আশঙ্কা থাকে। কারণ, তারা শরী‘আতের অনেক বিষয়কে মানুষের জন্য এলোমেলো করে দেয়। গণকের কাছে যাওয়া, তারা যা বলে তা বিশ্বাস করা এবং তাদের যে বিনিময় দেওয়া হয় তা নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কে একাধিক স্পষ্ট বিশুদ্ধ হদীস রয়েছে। সে বলল, ‘আমাদের মধ্যে কিছু লোক অশুভ লক্ষণ গ্রহণ ক’রে থাকে।’ অশুভ লক্ষণ গ্রহণ দেখা, শোনা, স্থান বা সময় দ্বারা হয়ে থাকে। আরবরা অশুভ লক্ষণে বিশ্বাস করার ক্ষেত্রে ছিল প্রসিদ্ধ। ফলে তাদের কেউ যখন ভালো কাজ করার ইচ্ছা করত অতঃপর যখন দেখতো পাখি তাদের রীতি অনুযায়ী ডানে বা বামে গেছে তখন তুমি তাকে দেখবে সে তার ইচ্ছা থেকে ফিরে গেছে। আবার তাদের কতক আছে যখন কোন আওয়ায শোনে বা কাউকে দেখে তাকে অশুভ লক্ষণ বলে গণ্য করে। আর কতক আছে সাওয়াল মাসে বিবাহ করা আবার কেউ আছে বুধবার বা সফর মাসকে কুলক্ষণ মনে করে। মানুষের চিন্তা, চেতনা ও চলার পথে ক্ষতিকর হওয়াতে এগুলোকে ইসলাম বাতিল করেছে। মানুষ এ সবের প্রতি কোন ভ্রক্ষেপ করবে না। আর এটিই হলো আল্লাহর ওপর ভরসা। তিনি বললেন, “এটা এমন একটি অনুভূতি যা লোকে তাদের অন্তরে উপলব্ধি ক’রে থাকে। সুতরাং এই অনুভূতি তাদেরকে যেন (বাঞ্ছিত কর্ম সম্পাদনে) বাধা না দেয়।” অর্থাৎ, অসুভ লক্ষণ হলো এমন একটি বিষয় যা তারা তাদের অন্তরে বাধ্য হয়ে অনুভব করে, এতে তাদের কোন দোষ নেই কারণ এটি তাদের কামাই নয় যার ওপর তাদের পাকড়াও করা হবে। কিন্তু তারা এ কারণে তাদের যাবতীয় বিষয়ে অগ্রসর হওয়া থেকে বিরত থাকবে না। আর বিরত না থাকতে অর্থাৎ কর্ম চালিয়ে যেতে তারা সক্ষম এবং তাদের কামাই। অতএব অশুভ লক্ষণ গ্রহণ করলে তাদের পাকড়াও করা হবে। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের অসুভ লক্ষণ অনুযায়ী আমল করতে এবং তার কারণে তাদের কর্ম থেকে বিরত থাকতে নিষেধ করেছেন। অসুভ লক্ষণ থেকে নিষেধাজ্ঞা একাধিক বিশুদ্ধ হাসীসে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। এখানে অসুভ লক্ষণ দ্বারা উদ্দেশ্য সে অণুযায়ী আমল করা। আর যদি মানুষ তার অন্তরে খারাপ কিছু অনুভব করে কিন্তু তার দাবী অনুযায়ী আমল না করে তাহলে সেটা অশুভ লক্ষণ হবে না। “তিনি বলেন, আমি বললাম আমাদের মধ্যে কিছু লোক দাগ টানে।” আরবদের নিকট দাগ হলো, কোন লোক ভাগ্য গণনাকারীর নিকট আসবে তার সামনে একজন বালক থাকে তখন সে তাকে বালুর মধ্যে অসংখ্য দাগ টানার আদেশ করে। তারপর দুটি করে দাগ মুচে ফেলার নির্দেশ দেয়। অতঃপর তারা লক্ষ্য রাখে এ দাগগুলো থেকে অবশিষ্ট দাগগুলো জোড় নাকি বেজোড়। যদি জোড় হয়, তা হলো সফলতা ও কামিয়াবীর আলামত। আর যদি বেজোড় হয় তবে তা হবে হতাশা ও নৈরাশ্যের আলামত। তিনি বললেন, প্রচীন যুগে একজন নবী ছিলেন, তিনি দাগ টানতেন। বালুতে দাগ টানার মতো এ রকম অসংখ্য দাগ টানতেন। এ সব দাগ টানার মাধ্যমে তিনি যাবতীয় বিষয়গুলো তীক্ষ্মতার মাধ্যমে জানতে পারতেন। বলা হয়ে থাকে তিনি হলেন ইদরীস বা দানইয়াল আলাইহিমাস সালাম। সুতরাং যার দাগ টানা সে নবীর দাগ টানার পদ্ধতির সাথে মিলবে তার দাগ টানা শুদ্ধ হবে। অর্থাৎ যার দাগ ঐ নবীর সাথে মিলবে তা তার জন্য বৈধ। কিন্তু তার দাগের সাথে মিলবে কি মিলবে না তা নিশ্চিতভাবে জানার কোন উপায় জানা নেই। সুতরাং তা বৈধ হবে না। উদ্দেশ্য হলো তা হারাম। কারণ, মিলে যাওয়ার নিশ্চিত ইলম ছাড়া তা হালাল হবে না। আর আমাদের কোন নিশ্চিত জ্ঞান নেই। হতে পারে এটি আমাদের শরী‘আতে রহিত। অথবা হতে পারে দাগ টানা বৈধ হওয়া ঐ নবীর নবুওয়তের আলামত। আর তা বন্ধ হয়ে যাওয়াতে এরূপ করতে আমাদের নিষেধ করা হয়েছে। হাদীসটি রেখা জ্ঞান অনুযায়ী আমল করা হারামের দলিল, তার বৈধতার দলিল নয়। যেমনিভাবে হাদীসটি বালিতে দাগ টানার পদ্ধতিকে বাতিল প্রমাণ করে। কারণ মিল হওয়ার জন্য ইলম জরুরি। আর ইলম দুইভাবে হয়। এক—এ ইলমের পদ্ধতি সম্পর্কে সুস্পষ্ট বিশুদ্ধ নস থাকা। দুই—ঐ নবীর যুগ থেকে আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে চলে আসা আর দুটিই এখানে অনুপুস্থিত। এখানে একটি বিষয় জানা থাকা দরকার যে, নবীগণ কখনো গাইবী জানেন বলে দাবী করেন না এবং তারা মানুষকে এ সংবাদ দেন না যে তারা গায়েব জানেন। তারা যে সব গাইবী বিষয়ে সংবাদ দেন তা আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের প্রতি ওহী মাত্র তারা তা নিজেরা জানেন বলে দাবি করেন না। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, “তিনি গায়েবের আলিম তার গায়েবের ওপর তিনি কাউকে অবগত করান না, তবে রাসূলদের থেকে যার প্রতি তিনি সস্তুষ্টি প্রকাশ করেন, তখন তার সামনে ও পশ্চাতে পাহাড়াদার নিয়োজিত থাকে”। (সূরা জিন:২৬—২৭) কারণ, গাইবী ইলম কেবল আল্লাহর সাথেই খাস। তাই কেউ তার নিজের ব্যাপারে তা দাবি করতে পারে না। যদি কেউ তা দাবি করে তবে সে হবে রবের কতক বৈশিষ্টের দাবীদার। আর এটি তারাই করে যারা এ ধরনের পেশার সাথে যুক্ত। এ দ্বারা তাদের দাবি এসব বিদ্যা নবীই তাদের শিক্ষা দিয়েছেন মিথ্যা প্রমাণিত হল। “তিনি বললেন, আমার একজন বাঁদী ছিল, উহুদ পাহাড় ও জুওয়ানিয়ার সন্নিকটে ছাগল চরাতো। অর্থাৎ, আমার একটি বাঁদি ছিল উহুদ পাহাড়ের নিকটে একটি জায়গায় ছাগল চরাতো। একদিন আমি জানতে পারলাম যে, নেঁকড়ে আমার ছাগলগুলো থেকে একটি ছাগল নিয়ে গেছে। অর্থাৎ জানলো যে, একটি বাঘ তার ছাগলগুলো থেকে একটি ছাগল ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। ছাগল তার কিন্তু বাঁদীর বলার কারণ হলো সে দেখা শোনা করত। “আমি একজন আদম সন্তান তারা যেমন ক্ষুব্ধ হয় আমিও ক্ষুব্ধ হয়েছি।” অর্থাৎ, ছাগলগুলো থেকে একটি ছাগল নেঁকড়ে খেয়ে ফেলাতে আমি তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছি। তাই ক্ষোভের দাবি অনুযায়ী আমি তাকে কঠিন মার দেওয়ার ইচ্ছা করলাম। “কিন্তু আমি তাকে একটি চড় মারলাম” অর্থাৎ আমি তাকে কঠিন মার দিলাম না, তবে তাকে একটি চড় মারার ওপর সীমাবদ্ধ থাকলাম। তারপর রাসূলুল্লাহর নিকট এসে বিষয়টি তাকে জানালে বিষয়টি আমার কাছে বড় মনে হলো। অর্থাৎ তাকে চড় মারার পর রাসূলুল্লাহর নিকট আসল এবং ঘটনাটি বর্ণনা করল। তখন তিনি তার চড় মারাকে বড় করে দেখল। যখন মুআবিয়াহ ইবন হাকাম আস-সুলামী দেখতে পেলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহ ওয়াসাল্লাম তার এ কর্মে প্রভাবিত হলেন এবং কষ্ট পেলেন, তাই তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল আমি কি তাকে আযাদ করে দেব না? অর্থাৎ আমি যে তাকে মারছি তার বিনিময়ে আমি তাকে আযাদ করে দেব? তিনি বললেন, তুমি তাকে আমার কাছে নিয়ে আসো। আমি তাকে তার কাছে নিয়ে আসলাম। তিনি তাকে বললেন, আল্লাহ কোথায়? ইবাদতের হকদার যিনি সিফাতে কামালের সাথে গুনান্বিত তিনি কোথায়? অপর বর্ণনায় বর্ণিত, তোমার রব কোথায়? এ প্রশ্ন দ্বারা সে যে তাওহীদে বিশ্বাসী সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে চাইলেন। তাই তিনি তাকে এমন বিষয় দিয়ে সম্বোধন করলেন যার দ্বারা তার উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়। কারণ, তাওহীদ পন্থীদের আকীদা হলো আল্লাহ আসমানে। সে বলল, আকাশে। আকাশে অর্থ উপর। আল্লাহ তা‘আলা সবকিছুর উপর। তার আরশেরও উপর যে আরশ হলো সমস্ত সৃষ্টির ছাদ। বলল, আমি কে? সে বলল, আপনি আল্লাহর রাসূল। বলল, তাকে তুমি আযাদ করে দাও কারণ, সে মু’মিন। যখন সে আল্লাহ উপরে হওয়া এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রিসালাতের সাক্ষী দিল তিনি তাকে আযাদ করে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। কারণ এতে তার ঈমানের ওপর এবং তার আকীদার বিশুদ্ধতার প্রমাণ রয়েছে।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আমার মৃত্যুর পরে তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তিই উত্তম যে আমার পরিবারের কাছে উত্তম।” বর্ণনাকারী বলেন, আব্দুর রহমান ইবন ‘আউফ চার লাখে একটি বাগান বিক্রয় করে তা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের মধ্যে বণ্টন করে দেন।”
এটি ইবন আবী ‘আসেম বর্ণনা করেছেন। - এটি হাকিম বর্ণনা করেছেন।হে সাহাবীগণ, আমার মৃত্যুর পরে তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তিই উত্তম যে আমার পরিবার পরিজন, সন্তান-সন্তুতি ও আত্মীয়-স্বজনের কাছে উত্তম। সাহাবীগণ নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ অসিয়াত খেয়াল রেখেছেন। তারা তাঁর পরিবার পরিজন ও আত্মীয়-স্বজনকে অত্যন্ত সম্মানের সাথে গ্রহণ করেছেন। যেমন আব্দুর রহমান ইবন ‘আউফ চার লাখে একটি বাগান বিক্রয় করে তা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের মধ্যে বণ্টন করেছেন।
যুবাইর ইবনুল আওয়াম রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, উহুদের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট দুটি বল্লম ছিল। তিনি পাথরে উঠতে চাইলেন কিন্তু পারলেন না। ফলে তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে তার নিচে বসালেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উপর ভর করে পাথরের উপর উঠে সোজা হয়ে দাঁড়ালেন। তারপর তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি তিনি বলেন, তালহার ওপর ওয়াজিব করে দিন।
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।উহুদের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুশমনের আক্রমণ থেকে আত্মরক্ষার জন্য লোহার দুটি পোশাক পরিধান করেন। তারপর তিনি একটি পাথরের দিকে অগ্রসর হয়ে উঠতে চাইলেন কিন্তু পারলেন না। ফলে তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহু এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিচে বসলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উপর ভর করে পাথরের উপর উঠে সোজা হয়ে দাঁড়ালেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তালহার ওপর ওয়াজিব করে দিন। অর্থাৎ, তালহা তার নিজের জন্য এ আমল দ্বারা অথবা আজকের দিন সে যা করেছে তা দ্বারা জান্নাত ওয়াজিব করে নিল এবং সে যা করেছে তার দ্বারা সে জান্নাতের হকদার হয়ে গেল।
জাবের ইবন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, “সা‘আদ আগমন করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন ইনি হলেন আমার মামা অতএব (আমার মামার মতো) কেউ তার মামাকে দেখাক”।
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মজলিশে সা‘আদ ইবন আবী ওয়াক্কাস আগমন করল। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখে বললেন, এ আমার মামা তাকে নিয়ে আমি গর্ব করি। কোন মানুষ যেন তার মামা আমাকে দেখায়। যাতে তখন এ কথা স্পষ্ট হয় যে, আমার মামার মতো আর কারো মামা নেই। সা‘আদ বনু যুহরার একজন ছিলেন। আর রাসূলের মাতা আমিনাহও বনু যুহরার একজন। সাদ আমিনার আত্মীয় আর মায়ের আত্মীয়রা সাধারণত মামা হয়ে থাকে।
আবূ ‘ইয্যা আল-হুযালী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ যখন কোন বান্দাকে কোথাও মৃত্যু দান করতে চান তখন সেখানে তার জন্য কোন প্রয়োজন সৃষ্টি করেন।”
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ আত-ত্বয়ালিসী বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।আল্লাহ তা‘আলা যখন তার কোন বান্দাকে কোনো নির্দিষ্ট ভূমিতে মৃত্যু দান করতে চান অথচ সে সেখানে নেই, তখন সেখানে তার জন্য কোন প্রয়োজন সৃষ্টি করেন। যখন সে তার প্রয়োজন পূরণ করতে সেখানে যায় তখন আল্লাহ তা‘আলা সেখানে তার মৃত্যু দান করেন। মহান আল্লাহ বান্দার জন্য যা নির্ধারণ করেন ও যা কিছু তার তাকদীরে লিপিবদ্ধ করেন তা তাঁর নির্ধারিত লেখা অনুযায়ীই সংঘটিত হবে। আর এটিই হচ্ছে আল্লাহর ফয়সালা ও তাকদীরের ওপর ঈমান।
নাফে‘ ইবন ‘উতবাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোন এক যুদ্ধে আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম। তখন পশ্চিম দিক থেকে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে একদল লোক আসল। তাদের গায়ে ছিল পশমের কাপড়। তারা এক টিলার নিকট এসে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাক্ষাৎ করলো। এ সময় তারা ছিল দণ্ডায়মান এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন উপবিষ্ট। আমার মন তখন আমাকে বলল, তুমি যাও এবং তাদের ও রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাঝে গিয়ে দাঁড়াও, যেন তারা প্রতারণা করে তাকে হত্যা করতে না পারে। পুনরায় আবার আমার মনে আসল, সম্ভবত তিনি তাদের সাথে কোন গোপন আলাপ করছেন। তথাপিও আমি গেলাম এবং তাদের ও রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের মধ্যখানে দাঁড়িয়ে রইলাম। এ সময় আমি তার থেকে চারটি কথা মুখস্থ করলাম এবং এ কথাগুলো আমি হাত দ্বারা গণনা করতে পারি। তিনি বললেন, “তোমরা জাযিরাতুল আরবে যূদ্ধ করবে, আল্লাহ তা বিজিত করে দিবেন। অতপর পারস্যবাসীদের সাথে যুদ্ধ করবে, আল্লাহ তাও বিজিত করে দিবেন। এরপর রোমীয়দের সাথে যুদ্ধ করবে, আল্লাহ তা‘আলা এতেও তোমাদের বিজয়ী করবেন। অবশেষে তোমরা দাজ্জালের সাথে যুদ্ধ করবে। এখানেও আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে বিজয়ী করবেন।” বর্ণনাকারী নাফে‘ (ইবন ‘উতবাহ) বলেন, হে জাবির! আমাদের ধারণা রোম বিজয়ের পর দাজ্জালের আবির্ভাব হবে।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।সাহাবী নাফে‘ ইবন ‘উতবাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু ঘটনা বর্ণনা করেন যে, তিনি এক যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলেন। তখন পশ্চিম দিক থেকে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে একদল লোক আসল। তাদের গায়ে ছিল পশমের কাপড়। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি উচু টিলায় বসা ছিলেন। এসময় তারা ছিল দণ্ডায়মান এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন উপবিষ্ট। তখন নাফে‘ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু মনে মনে বললেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ওসব অপরিচিত মানুষের মাঝে একা রেখে যেওনা। তুমি সেখানে যাও এবং তাদের মাঝে গিয়ে দাঁড়াও, যেন তারা প্রতারণা করে তাঁকে হত্যা করতে না পারে। ফলে কেউ তাদেরকে দেখবে না। পুনরায় তিনি মনে মনে বললেন, সম্ভবত তিনি তাদের সাথে কোন গোপন কথাবার্তা বলছেন যা তিনি কাউকে জানাতে চান না। তথাপিও তিনি সেখানে গেলেন এবং তাদের ও রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের মধ্যখানে দাঁড়িয়ে রইলেন। নাফে‘ বলেন, এ সময় আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের থেকে চারটি কথা মুখস্থ করলাম এবং কথাগুলো আমি হাত দ্বারা গণনা করতে পারি। তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁর পরে মুসলিমরা আরবে কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, আল্লাহ তা বিজিত করে দিবেন। ফলে সকল আরব ইসলামে প্রবেশ করবে। তখন জাযিরাতুল আরব পুরোটাই মুসলিম শাসনের অধীনস্থ হবে। অতপর তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, তারা পারস্যবাসীদের সাথে যুদ্ধ করবে, তারা তাদের উপর বিজয় লাভ করবে। পুরো পারস্য মুসলিমগণ বিজয় করবে। এরপর রোমীয়দের সাথে যুদ্ধ করবে, আল্লাহ তা‘আলা এতেও তাদেরকে বিজয়ী করবেন। অবশেষে তারা দাজ্জালের সাথে যুদ্ধ করবে। এখানে আল্লাহ তা‘আলা দাজ্জালকে পরাজিত করে মুসলিমকে বিজয়ী করবেন।” অতপর বর্ণনাকারী নাফে‘ জাবির ইবন সামুরাহকে বলেন, হে জাবির! আমাদের ধারণা রোম বিজয়ের পর দাজ্জালের আবির্ভাব হবে। উপরোক্ত সমস্ত ভবিষ্যৎবাণী সংঘটিত হয়ে গেছে, শুধু দাজ্জালকে হত্যা করা বাকী আছে। আর কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার পূর্বে তা সংঘটিত হবে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাওলা সাওবান থেকে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত: আমার উম্মতের দুটি জামা‘আত আল্লাহ তাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবেন। এক জামা‘আত যারা হিন্দুস্থানের বিপক্ষে যুদ্ধ করবে আর অপর জামা‘আত যারা ঈসা ইবন মারইয়ামের সাথে থাকবে।
এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতদের থেকে দুটি জামা‘আতকে আল্লাহ তা‘আলা জাহান্নাম থেকে রক্ষা করবেন। এক জামা‘আত যারা হিন্দুস্থানের বিপক্ষে যুদ্ধ করবেন এবং আল্লাহর রাস্তায় কাফিরদের হত্যা করবে। আর অপর জামা‘আত যারা ঈসা আলাইহিস সালামের সাথে থাকবে যখন তিনি শেষ জামানায় দাজ্জালের আবির্ভাবের পর অবতরণ করবেন এবং তিনি তাকে হত্যা করবেন।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, “ঈমানের সত্তর অথবা ষাটের বেশী শাখা রয়েছে। তার মধ্যে সর্বোত্তম (শাখা) ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলা এবং সর্বনিম্ন (শাখা) রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক জিনিস (পাথর কাঁটা ইত্যাদি) দূরীভূত করা। আর লজ্জা ঈমানের একটি শাখা।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।ঈমান শুধু একটি চরিত্র বা এক শাখার নাম নয়; বরং ঈমান হলো অনেক শাখার নাম। সত্তর বা ষাটের অধিক। কিন্তু সবোর্ত্তম শাখা হলো একটি কালেমা। আর তা হলো লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। আর সর্বাধিক সহজ শাখা হলো পথচারীদের জন্যে কষ্টদায়ক প্রত্যেক বস্তুই হটান, হোক সেটি পাথর অথবা কাঁটা ইত্যাদি। আর লজ্জা ঈমানের একটি শাখা।
আবূ হুরাইরাহ্ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে মারফু হিসেবে বর্ণিত, কোনো ব্যক্তির জামা‘আতের সাথে সলাতের সওয়াব, তার নিজের ঘরে ও বাজারে আদায়কৃত সালাতের সওয়াবের চেয়ে পঁচিশ গুণ বাড়িয়ে দেয়া হয়। এর কারণ এই যে, সে যখন উত্তমরূপে উযূ করলো, অতঃপর একমাত্র সালাতের উদ্দেশে মাসজিদে রওয়ানা করল তখন তার প্রতি কদমের বিনিময়ে একটি মর্তবা বৃদ্ধি করা হয় এবং একটি গুনাহ মাফ করা হয়। সালাত আদায়ের পর সে যতক্ষণ নিজ সালাতের স্থানে থাকে, মালাকগণ তার জন্য এ বলে দু‘আ করতে থাকেন - “হে আল্লাহ! আপনি তার উপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তার প্রতি অনুগ্রহ করুন।” আর তোমাদের কেউ যতক্ষণ সালাতের অপেক্ষায় থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত সে সালাতে রত বলে গণ্য হয়”।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দেন যে, নিজ ঘরে বা বাজারে সালাত আদায় করা অপেক্ষা জামা‘আতে সালাত আদায় করার সাওয়াব ও বিনিময় অনেক বেশি। অর্থাৎ একা সালাত, যেমনটি বুঝে আসে তার বিপরীতে জামাতের সালাত উল্লেখ করায়। এ ছাড়াও সাধারণত ঘরে বা বাজারে সালাত আদায় একাই হয়ে থাকে। অধিকের পরিমাণ হলো পঁচিশ গুণ। আর তার বাণী: “এবং উহা” যদি উহা দ্বারা উদ্দেশ্য হয় একা সালাতের ওপর জামা‘আতে আদায় করা সালাতের ফযীলত, তাহলে তা মসজিদের জামা‘আতের সাথে খাস হওয়াকে দাবি করে। আর তার বাণী: ‘অবশ্যই তা’ বিষয়টি হলো যখন কোন ব্যক্তি ওযূ করে এবং ওযূকে সে সুন্দরভাবে করে। অর্থাৎ সুন্নাত ও আদাবসহ ওযূকে পূর্ণ করে। তারপর সে মসজিদের দিকে সালাতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করে। তাকে কেবল সালাতই বের করল। তবে যদি তাকে সালাত ছাড়া অন্য কিছু বের করল বা সালাতের সাথে অন্য কোন উদ্দেশ্য থাকে তাহলে আগত সাওয়াব সে পাবে না। তখন তার প্রতি কদমের বিনিময়ে একটি মর্তবা বৃদ্ধি করা হয় এবং একটি গুনাহ মাফ করা হয়। অর্থাৎ, ছোট গুনাহ যা আল্লাহর হকের সাথে সম্পৃক্ত। সালাত আদায়ের পর সে যতক্ষণ নিজ সালাতের স্থানে থাকে, মালাকগণ তার জন্য রহমাত ও মাগফিরাতের দু‘আ করতে থাকেন। অর্থাৎ যতক্ষণ তাতে বসে থাকে। অথবা এর অর্থ যতক্ষণ সেখানে অবস্থান করে যদিও কাত হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত ওযূ না ভেঙ্গে যায় ততক্ষণ পর্যন্ত মালাকগণ বলে “হে আল্লাহ! আপনি তার উপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তার প্রতি অনুগ্রহ করুন।” আর তোমাদের কেউ যতক্ষণ সালাতের অপেক্ষায় থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত সে সালাতে রত বলে গণ্য হয়। অর্থাৎ, যত সময় তার অপেক্ষা করতে থাকে।