





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
সা‘ঈদ ইব্নু জুবায়র হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইব্নু ‘আব্বাসকে বললাম, নাওফ আল-বাকালী দাবী করে যে, মূসা [যিনি খাযির এর সাক্ষাৎ লাভ করেছিলেন তিনি] বানী ইসরাঈলের মূসা নন বরং তিনি অন্য এক মূসা? (একথা শুনে) তিনি বললেন, আল্লাহর দুশমন মিথ্যা বলেছে। উবাঈ ইব্নু কা’ব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, নবী মূসা একদা বানী ইসরাঈলদের মধ্যে বক্তিতা দিতে দাঁড়ালেন। তখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়, সবচেয়ে জ্ঞানী কে? তিনি বললেন, ‘আমি সবচেয়ে জ্ঞানী।’ মহান আল্লাহ্ তাঁকে তিরস্কার করলেন। কেননা তিনি ‘ইলমকে আল্লাহর দিকে সোপর্দ করেন নি। অতঃপর আল্লাহ্ তাঁর নিকট এ ওয়াহী প্রেরণ করলেন, দুই সমুদ্রের সঙ্গমস্থলে আমার বান্দাদের মধ্যে এক বান্দা রয়েছে, যে তোমার চেয়ে অধিক জ্ঞানী। তিনি বলেন, ‘হে আমার রব! কীভাবে তার সাক্ষাৎ পাব?’ তখন তাঁকে বলা হল, থলের মধ্যে একটি মাছ নিয়ে নাও। অতঃপর যেখানে সেটি হারিয়ে ফেলবে সেখানেই তাকে পাবে। অতঃপর তিনি যুবক ইউশা ‘ইব্নু নূনকে সাথে নিয়ে যাত্রা করলেন। তাঁরা থলের মধ্যে একটি মাছ নিলেন। পথিমধ্যে তাঁরা একটি বড় পাথরের নিকট এসে মাথা রেখে শুয়ে পড়লেন। তারপর মাছটি থলে হতে বেরিয়ে গেল এবং সুড়ঙ্গের মত পথ করে সমুদ্রে চলে গেল। এ ব্যাপারটি মূসা ও তাঁর খাদিম-এর জন্য ছিল আশ্চর্যের বিষয়। অতঃপর তাঁরা তাদের বাকী দিন ও রাতভর চলতে থাকলেন। পরে ভোরবেলা মূসা তাঁর খাদিমকে বললেন, ‘আমাদের নাশতা নিয়ে এস, আমরা আমাদের এ সফরে খুবই ক্লান্ত অনুভব করছি। আর মূসাকে যে স্থানের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল, সে স্থান অতিক্রম করার পূর্বে তিনি ক্লান্তি অনুভব করেন নি। তারপর তাঁর সাথী তাঁকে বলল, ‘আপনি কি লক্ষ্য করেছেন, আমরা যখন পাথরের পাশে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম, তখন আমি মাছের কথা ভুলে গিয়েছিলাম?’ মূসা বললেন, ‘আমরা তো সেই স্থানটিরই খোঁজ করছিলাম।’ অতঃপর তাঁরা তাঁদের পদচিহ্ন ধরে ফিরে চললেন। তাঁরা সেই পাথরের নিকট পৌঁছে দেখতে পেলেন, এক ব্যক্তি কাপড় মুড়ি দিয়ে আছেন। অথবা তার কাপড় গায়ে জড়িয়ে আছেন। মূসা তাঁকে সালাম দিলেন। তখন খাযির বললেন, এ দেশে সালাম কোথা হতে আসল! তিনি বললেন, ‘আমি মূসা।’ খাযির প্রশ্ন করলেন, ‘বানী ইসরাঈলের মূসা?’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ। তিনি আরো বললেন, “সত্য পথের যে জ্ঞান আপনাকে দান করা হয়েছে, তা থেকে শিক্ষা নেয়ার জন্য আমি কি আপনাকে অনুসরণ করতে পারি?’ খাযির বললেন, “তুমি কিছুতেই আমার সাথে ধৈর্য ধরে থাকতে পারবে না। হে মূসা! আল্লাহর ‘ইলমের মধ্যে আমি এমন এক ‘ইলম নিয়ে আছি যা তিনি কেবল আমাকেই শিখিয়েছেন, যা তুমি জান না। আর তুমি এমন ‘ইলমের অধিকারী, যা আল্লাহ তোমাকেই শিখিয়েছেন, তা আমি জানি না।” ‘মূসা বললেন, “আল্লাহ্ চাইলে আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন এবং আমি আপনার আদেশ অমান্য করব না। অতঃপর তাঁরা দু’জন সমুদ্র তীর দিয়ে চলতে লাগলেন, তাঁদের কোন নৌকা ছিল না। ইতোমধ্যে তাঁদের নিকট দিয়ে একটি নৌকা যাচ্ছিল। তাঁরা নৌকাওয়ালাদের সাথে তাদের তুলে নেয়ার কথা বললেন। তারা খাযিরকে চিনতে পারল এবং ভাড়া ব্যতিরেকে তাঁদের নৌকায় তুলে নিল। তখন একটি চড়ুই পাখি এসে নৌকার এক প্রান্তে বসে একবার কি দু’বার সমুদ্রে তার ঠোঁট ডুবাল। খাযির বললেন, ‘হে মূসা! আমার এবং তোমার জ্ঞান (সব মিলেও) আল্লাহর জ্ঞানের তুলনায় চড়ুই পাখির ঠোঁটে যতটুকু পানি এসেছে তার চেয়েও কম।’ অতঃপর খাযির নৌকার তক্তাগুলোর মধ্য থেকে একটি খুলে ফেললেন। মূসা বললেন, এরা আমাদের বিনা ভাড়ায় আরোহণ করিয়েছে, আর আপনি আরোহীদের ডুবিয়ে দেয়ার জন্য নৌকাটি ছিদ্র করে দিলেন?’ খাযির বললেন, “আমি কি বলিনি যে, তুমি আমার সঙ্গে কিছুতেই ধৈর্য ধরে থাকতে পারবে না?” মূসা বললেন, ‘আমার ত্রুটির জন্য আমাকে অপরাধী করবেন না এবং আমার ব্যাপারে অধিক কঠোর হবেন না।’ প্রথমটি ছিল মূসার ভুলের কারণে। অতঃপর তাঁরা দু’জন (নৌকা থেকে নেমে) চলতে লাগলেন। (পথে) একটি বালক অন্যান্য বালকের সাথে খেলা করছিল। খাযির তার মাথার উপর দিক দিয়ে ধরলেন এবং হাত দিয়ে তার মাথা ছিন্ন করে ফেললেন। মূসা বললেন, ‘আপনি হত্যার অপরাধ ছাড়াই একটি নিষ্পাপ জীবন নাশ করলেন ?’ খাযির বললেন “আমি কি তোমাকে বলিনি যে, তুমি আমার সঙ্গে কখনো ধৈর্য ধরতে পারবে না?” ইব্ন ‘উয়ায়নাহ বলেন, এটা ছিল পূর্বের চেয়ে অধিক জোরালো বাক্য। “তারপর আবারো চলতে লাগলেন; চলতে চলতে তারা এক গ্রামের অধিবাসীদের নিকট পৌঁছে তাদের নিকট খাদ্য চাইলেন কিন্তু তারা তাঁদের মেহমানদারী করতে অস্বীকার করল। অতঃপর সেখানে তাঁরা ধ্বসে যাওয়ার উপক্রম এমন একটি প্রাচীর দেখতে পেলেন। খাযির তাঁর হাত দিয়ে সেটি দাঁড় করে দিলেন। মূসা বললেন, “আপনি ইচ্ছে করলে এর জন্য মজুরী নিতে পারতেন। তিনি বললেন, ‘এখানেই তোমার আর আমার মধ্যে সম্পর্কের অবসান।” নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তা‘আলা মূসার উপর রহম করুন। আমাদের কতই না মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হতো যদি তিনি সবর করতেন, তাহলে আমাদের নিকট তাঁদের আরো ঘটনাবলী বর্ণনা করা হতো।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।সা‘ঈদ ইব্নু জুবায়র বলেন, তাকে ইব্নু ‘আব্বাস সংবাদ দেন যে, এক লোক যাকে নাওফ আল-বাকালী বলে নাম করণ করা হয়। সে দাবী করে, যে মূসা খাযির এর সাক্ষাৎ লাভ করেছিল সে বানী ইসরাঈলের মূসা নন বরং তিনি অন্য এক মূসা? (একথা শুনে ইবন আব্বাস বললেন, আল্লাহর দুশমন মিথ্যা বলেছে। এ কথাটি তার থেকে হুমকি ও ভিতিস্বরূপ প্রকাশ পেয়েছে। নাওফ সম্পর্কে অপবাদ দেওয়ার জন্য নয়। কারণ, ইবন আব্বাস কথাটি রাগের অবস্থায় বলেছিলেন। আর রাগের সময়ের শব্দ অধিকাংশ সময় বাস্তবতা বিবর্জিত হয়ে থাকে। আর তাকে মিথ্যুক সাব্যস্ত করার কারণ হলো সে অবাস্তব কথা বলেছে। এ দ্বারা তার ইচ্ছাকৃত মিথ্যা বলাকে সাব্যস্ত করে না। তারপর তিনি নাওফের অসত্য বলার ওপর দলিল দেন যে, উবাঈ ইব্নু কা’ব তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মূসা একদা বানী ইসরাঈলদের মধ্যে বক্তিতা দিতে দাঁড়ালেন। তখন এক লোক তাকে জিজ্ঞেস করল, সবচেয়ে জ্ঞানী কে? তিনি বললেন, ‘আমি সবচেয়ে জ্ঞানী।’এটি মূসা আলাইহিস সালাস তার বিশ্বাস অনুযায়ী বলেছেন। তাই আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে তিরস্কার করলেন। কেননা তিনি ‘ইলমকে আল্লাহর দিকে সোপর্দ করেন নি। এ কথা বলেননি যে, আল্লাহই ভালো জানেন। অতঃপর আল্লাহ্ তাঁর নিকট এ ওয়াহী প্রেরণ করলেন, দুই সমুদ্রের সঙ্গমস্থলে আমার বান্দাদের মধ্যে এক বান্দা রয়েছে, যাকে খাজির বলে নামককরণ করা হয়। সে তোমার চেয়ে অধিক জ্ঞানী। তিনি বলেন, ‘হে আমার রব! কীভাবে তার সাক্ষাৎ পাব?’ তখন তিনি তাঁকে বললেন, থলের মধ্যে একটি মাছ নিয়ে নাও। অতঃপর যেখানে তুমি মাছটি হারিয়ে ফেলবে সেখানেই তাকে পাবে। অতঃপর মূসা তার একজন খাদেম যার নাম ইউশা ‘ইব্নু নূনকে সাথে নিয়ে যাত্রা আরম্ভ রলেন। আল্লাহর আদেশ অনুযায়ী তাঁরা থলের মধ্যে একটি মাছ নিলেন। পথিমধ্যে তাঁরা যখন সমূদ্রের তীরে একটি বড় পাথরের নিকট এসে পৌঁছলেন, তারা দুইজন তাদের মাথা যমীনে রেখে শুইলেন এবং তারা ঘুমিয়ে পড়লেন। এ সময় মাছটি থলে হতে বেরিয়ে গেল এবং সুড়ঙ্গের মত পথ করে সমুদ্রে চলে গেল। আল্লাহ তা‘আলা মাছের যাওয়া পথে পানি প্রবাহিত হওয়াকে বন্ধ করে দিলেন। ফলে তা একটি সুড়ঙ্গের মতো হয়ে গেল। মাছটি জীবিত হওয়া এবং পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে সেখানে রাস্তা হয়ে যাওয়া ইত্যাদি ব্যাপারটি মূসা ও তাঁর খাদিম-এর জন্য ছিল আশ্চর্যের বিষয়। অতঃপর তাঁরা তাদের বাকী দিন ও রাতভর চলতে থাকলেন। তারপর যখন ভোর হলো তখন মূসা তাঁর খাদিমকে বললেন, ‘আমাদের নাশতা নিয়ে এস, আমরা আমাদের এ সফরে খুবই ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। আর মূসাকে যে স্থানের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল, সে স্থান অতিক্রম করার পূর্বে কোন ক্লান্তি অনুভব করেন নি। স্থানটি অতিক্রম করার পর তাঁর ক্ষুধা পেল এবং ক্লান্তি অনুভব হল। তারপর তাঁর খাদেম তাঁকে বলল, আমরা যখন পাথরের পাশে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম, তখন আমি মাছটি হারিয়ে ফেলছি। মূসা বললেন, ‘আমরা তো সেই স্থানটিরই খোঁজ করছিলাম।’ কারণ, এটিই হলো খাজিরকে পাওয়ার আলামত। অতঃপর তাঁরা যে রাস্তা দিয়ে এসেছিল সে রাস্তা দিয়ে ফিরে যেতে আরম্ভ করল এবং তারা তাদের পদচিহ্ন অনুসরণ করে চলতে আরম্ভ করলেন। তাঁরা সেই পাথরের নিকট পৌঁছে দেখতে পেলেন, এক ব্যক্তির পুরো শরীর কাপড় দিয়ে ঢাকা। মূসা তাঁকে সালাম দিলেন। তখন খাযির বললেন, এ দেশে সালাম কোথা হতে আসল! অর্থাৎ আমার এ যমীনে কি সালাম আছে? এটি আশ্চর্যজনক প্রশ্ন। এতে প্রমাণিত হয়, ঐ যমীনের অধিবাসীগণ তখনকার সময়ে মুসলিম ছিল না। তারপর মূসা খাযিরকে বললেন, ‘আমি মূসা।’ খাযির তাকে প্রশ্ন করলেন, ‘তুমি কি সে মূসা যাকে বানী ইসরাঈলের নিকট পাঠানো হয়েছে?’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ। এতে প্রমাণিত হয় যে, নবীগণ এবং অন্য কেউ গায়েব জানেন না। তবে তারা ততটুকু জানেন যতটুকু তাদেরকে আল্লাহ জানান। কারণ, খাযির যদি সব গাইবি বিষয় জানতো তাহলে জিজ্ঞাসা করার পূর্বে মূসাকে চিনতো। এটিই হলো প্রমান্য স্থান যে কারণে ইবন আব্বাস হাদীসটি উল্লেখ করেন। তারপর মূসা তাকে আরো বললেন, “আমি কি আপনার অনুসরণ করব যাতে আপনাকে আল্লাহ যে ইলম দান করেছেন তা থেকে আমাকে শেখান। তার নবী হওয়া এবং শরী‘আত প্রণেতা হওয়া অন্যের থেকে শিক্ষা করার পরিপন্থী নয়। যতক্ষণ পর্যন্ত তা দীনের অধ্যায়সমূহে শর্ত না হয়। কারণ, রাসূলের জন্য উচিত হলো, তাকে যাদের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে তাদের থেকে এবং সে দীনের মূলনীতি ও শাখাসমূহ বিষয়ে অধিক জ্ঞানী হওয়া যে দীন নিয়ে তাকে প্রেরণ করা হয়েছে সে বিষয়ে অধিক জ্ঞানী হওয়া। সবকিছু থেকে অধিক জ্ঞানী হওয়া জরুরি নয়। খাযির উত্তর দিলেন, “তুমি কিছুতেই আমার সাথে ধৈর্য ধরে থাকতে পারবে না। কারণ, আমি এমন কিছু কাজ করি, তার বাহ্যিক দিক মন্দ আর ভিতরের ইলম আয়ত্ব করা যায় না। তারপর সে বলল, হে মূসা! আল্লাহর ‘ইলমের মধ্যে আমি এমন এক ‘ইলম নিয়ে আছি যা তিনি কেবল আমাকেই শিখিয়েছেন, যা তুমি জান না। আর তুমি এমন ‘ইলমের অধিকারী, যা আল্লাহ তোমাকেই শিখিয়েছেন, তা আমি জানি না।” তখন ‘মূসা তাকে বললেন, “আল্লাহ্ চাইলে আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন, আমি আপনার ওপর কোন আপত্তি করব না। আর আমি আপনার কোন আদেশ অমান্য করব না। অতঃপর তাঁরা দু’জন সমুদ্র তীর দিয়ে চলতে লাগলেন, তাঁদের দু্ইজনের জন্য কোন নৌকা ছিল না। ইতোমধ্যে তাঁদের নিকট দিয়ে একটি নৌকা যাচ্ছিল। তাঁরা নৌকাওয়ালাদের সাথে তাদের তুলে নেয়ার কথা বললেন। নৌকাওয়ালা খাযিরকে চিনতে পারল এবং ভাড়া ব্যতিরেকে তাঁদের দুইজনকে নৌকায় তুলে নিল। তখন একটি চড়ুই পাখি এসে নৌকার এক প্রান্তে বসে একবার কি দু’বার সমুদ্রে তার ঠোঁট ডুবাল। খাযির বললেন, ‘হে মূসা! আমার এবং তোমার জ্ঞান (সব মিলেও) আল্লাহর জ্ঞানের তুলনায় চড়ুই পাখির ঠোঁটে যতটুকু পানি এসেছে তার চেয়েও কম।’ অতঃপর খাযির নৌকার তক্তাগুলোর মধ্য থেকে একটি কুড়াল দ্বারা খুলে ফেললেন। মূসা বললেন, এরা আমাদের বিনা ভাড়ায় আরোহণ করিয়েছে, আর আপনি আরোহীদের ডুবিয়ে দেয়ার জন্য নৌকাটি ছিদ্র করে দিলেন?’ খাযির তাকে ইতিপূর্বে যা বলেছিল তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বললেন, “আমি কি বলিনি যে, তুমি আমার সঙ্গে কিছুতেই ধৈর্য ধরে থাকতে পারবে না?” মূসা বললেন, ‘আমার ত্রুটির জন্য আমাকে অপরাধী করবেন না এবং আমার ব্যাপারে অধিক কঠোর হবেন না।’ কারণ, তাহলে তা আপনার অনুসরণ করাকে কঠিন করে দেবে। সুতরাং প্রথম মাসআলা ছিল মূসা থেকে ভূলে। অতঃপর তাঁরা দু’জন (নৌকা থেকে নেমে) চলতে লাগলেন। (পথে) একটি বালককে পেলেন যে অন্যান্য বালকের সাথে খেলা করছিল। খাযির তার মাথার উপর দিক দিয়ে ধরলেন এবং হাত দিয়ে তার মাথা ছিন্ন করে ফেললেন। মূসা বললেন, ‘আপনি একটি পবিত্র জীবনকে হত্যা করে ফেললেন। তাকেতো আমরা এমন কোন অপরাধ করতে দেখলাম না যাতে তাকে হত্যা করা যায়। অথবা কাউকে হত্যা করছে তার বদলায় তাকে হত্যা করা যায়? খাযির মূসাকে বললেন “আমি কি তোমাকে বলিনি যে, তুমি আমার সঙ্গে কখনো ধৈর্য ধরতে পারবে না?” এবার সে ‘লাকা’ শব্দ বাড়িয়েছেন যা দ্বারা সে ভৎসনার মাত্রা বাড়িয়ে দিলেন। এ কারণে হাদীসটির একজন বর্ণনাকরী সুফিয়ান ইব্ন ‘উয়ায়নাহ বলেন, এটা ছিল পূর্বের চেয়ে অধিক জোরালো। এ বারে ‘তোমার জন্য’ কথাটি বাড়ানোর দ্বারা তার ওপর তিনি প্রমাণ পেশ করেন। “তারপর আবারো চলতে লাগলেন; চলতে চলতে তারা এক গ্রামের অধিবাসীদের নিকট পৌঁছে তাদের নিকট খাদ্য চাইলেন কিন্তু তারা তাঁদের মেহমানদারী করতে অস্বীকার করল। ফলে ঐ গ্রামে কোন মেহমানদারি ও আশ্রয় তারা পেল না। অতঃপর সেখানে তাঁরা ধ্বসে যাওয়ার উপক্রম এমন একটি প্রাচীর দেখতে পেলেন। খাযির তাঁর হাত দিয়ে সেটি দাঁড় করে দিলেন। মূসা খাযিরকে বললেন, “আপনি ইচ্ছে করলে এর জন্য মজুরী নিতে পারতেন। তাহলে তা আমাদের সফরে সহায়ক হত। তখন খাযির মূসা আলাইহিস সালামকে বললেন, এই তৃতীয় প্রশ্ন আপনার আর আমার মধ্যে পৃথক হওয়ার কারণ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তা‘আলা মূসার উপর রহম করুন। আমরা আশা ও পছন্দ করেছি যদি তিনি সবর করতেন, তাহলে আমাদের নিকট তাঁদের মাঝে সংঘটিত ইলম ও হিকমাতের আরো অনেক ঘটনাবলী বর্ণনা করা হতো।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর গোলাম আবূ ইউনুস ইবন জুবাইর বলেন, আমি আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহুকে এ আয়াত: “নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দেন যে, যেন তোমরা আমানতসমূহ তাদের পাওনাদারের কাছে পৌছে দাও”। [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৫৮] থেকে আল্লাহর বাণী “সর্বশ্রোতা ও সর্ব দ্রষ্টা”। [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৫৮] পর্যন্ত পড়তে শুনেছি। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তার বৃদ্ধা আঙ্গুল তার কানের উপর এবং সাথেরটি তার চোখের উপর রাখতে আমি দেখেছি। আবূ হুরায়রা বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি, তিনি তা পড়তেন এবং তার দুই আঙ্গুলকে রাখতেন।
এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন।আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু এ আয়াত: “নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দেন যে, যেন তোমরা আমানতসমূহ তাদের পাওনাদারের কাছে পৌছে দাও”। [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৫৮] থেকে আল্লাহর বাণী “সর্বশ্রোতা ও সর্ব দ্রষ্টা”। [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৫৮] পর্যন্ত তিলাওয়াত করেন। আর তিনি উল্লেখ করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ আয়াতটি পড়তে দেখেছেন এবং আল্লাহর জন্য শ্রবণ ও দর্শণ উভয় গুণ সাব্যস্ত করা এবং বিকৃতকারীতের অপব্যাখ্যাকে প্রতিহত করার লক্ষ্যে তার পঞ্চম মোটা আঙ্গুলটি কানের উপর এবং পাশের আঙ্গুলটিকে চোখের উপর রাখেন। এতে আল্লাহকে মাখলুকের সাথে তুলনা করা হয় নি। কারণ, আল্লাহ বলেন, ‘তার মতো কোনো কিছু নেই, তিনি সর্বশ্রোত ও সর্ব দ্রষ্টা’। হাদীসের প্রতি ঈমান উল্লিখিত বিষয়গুলোকে দাবি করে।
আবূ সুলায়মান খালেদ ইবন ওয়ালীদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, তিনি বলেন, “মৌতাহ যুদ্ধে আমার হাতে নয়খানা তরবারি ভেঙ্গেছে। কেবল একটি ইয়ামানী ক্ষুদ্র তরবারি আমার হাতে অবশিষ্ট ছিল।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।খালিদ ইবন ওয়ালিদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু আল্লাহর তলোয়ার, ইসলামের অশ্বারোহী, ময়দানের বাঘ এবং মুজাহিদদের নেতা। জাহিলিয়্যাতের যুগে তিনি কুরাইশদের নেতা ছিলেন। মক্কা বিজয়ের পূর্বে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। উহুদের যুদ্ধে তিনি কুরাইশের মুশরিকদের দলে ছিলেন। অতঃপর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। হাদীসটি আল্লাহর কুদরাতের পূর্ণতার প্রমাণ বহন করে। যাবতীয় বিষয়ের নিয়ন্ত্রণ আল্লাহর হাতেই। তিনি যাকে চান গোমরাহ করেন আর যাকে চান হিদায়েত দেন। হাদীসটিতে খালিদ ইবন ওয়ালিদ মৌতার যুদ্ধে তার তরবারী ভেঙ্গে যাওয়ার বিষয়টি সংবাদ দেন। এটি তার বীরত্ব ও সাহসিকতার প্রমাণ।
আবূ মাসঊদ বাদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একদা আমার একটি গোলামকে চাবুক মারছিলাম। ইত্যবসরে পিছন থেকে এই শব্দ শুনতে পেলাম ‘জেনে রেখো, হে আবূ মাসঊদ!’ কিন্তু ক্রোধান্বিত অবস্থায় শব্দটা বুঝতে পারলাম না। যখন সেই (শব্দকারী) আমার নিকটবর্তী হল, তখন সহসা দেখলাম যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তিনি বলছিলেন, ‘জেনে রেখো আবূ মাসঊদ! ওর উপর তোমার যতটা ক্ষমতা আছে, তোমার উপর আল্লাহ তাআলা আরো বেশি ক্ষমতাবান।’ তখন আমি বললাম, ‘এরপর থেকে আমি আর কখনো কোন গোলামকে মারধর করব না।’ এক বর্ণনায় আছে, তাঁর ভয়ে আমার হাত থেকে চাবুকটি পড়ে গেল। অপর বর্ণনায় আছে: আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে ওকে স্বাধীন করে দিলাম।’ তিনি বললেন, “শোন! তুমি যদি তা না করতে, তাহলে জাহান্নামের আগুন তোমাকে অবশ্যই দগ্ধ অথবা স্পর্শ করত।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।আবূ মাসঊদ বাদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তার গোলামকে চাবুক দ্বারা পিঠাতে ছিলেন। হটাৎ তিনি একটি আওয়াজ শুনতে পেলেন যা তাকে পিছন থেকে ধমকাচ্ছিল। কিন্তু আওয়াজকারীর আওয়াজ বুঝতে পারছিল না। তারপর যখন তার নিকট পৌঁছলো তখন তিনি জানতে পারলেন এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আওয়াজ। তখন তিনি এ বলে আল্লাহর কুদরত স্মরণ করিয়ে দিলেন। ‘জেনে রেখো আবূ মাসঊদ! ওর উপর তোমার যতটা ক্ষমতা আছে, তোমার উপর আল্লাহ তাআলা আরো বেশি ক্ষমতাবান।’ যখন তিনি রাসূলের কথা এবং দুর্বলের ওপর সীমালঙ্গন করা থেকে তাকে সতর্ক করার বিষয় শুনতে পারলেন রাসূলের ভয়ে তার হাত থেকে চাবুকটি পড়ে গেল। আর সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রতিশ্রুতি দিল যে, এর পর আর কখনো অধিনস্থদের ওপর সীমালঙ্গন করবে না। রাসূলুল্লাহ থেকে ধমকি ও সর্তকতাসহ যা শুনেছেন তা শোনার পর তার নিকট মারার অনুশোচনা হিসেবে তাকে আযাদ করা ছাড়া আর কোন বিকল্প তার নিকট ছিল না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তুমি যদি তাকে আযাদ না করতে, তাহলে তোমার মন্দ কর্মের কারণে জাহান্নামের আগুন তোমাকে অবশ্যই স্পর্শ করত।”
আব্দুল্লাহ ইবন জা‘ফর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম জা‘ফর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর পরিবারকে (তার শহীদ হওয়ার পরে সে শোকের ব্যাথা ভুলতে) তিনদিন সময় দিয়েছিলেন। অতঃপর তিনি তাদের কাছে গেলেন এবং বললেন, “আজকের পরে তোমরা আমার ভাইয়ের জন্য কাঁদবে না।” অতঃপর তিনি বললেন, “আমার ভাইয়ের সন্তানদেরকে ডাকো।” ফলে আমাদেরকে ডেকে আনা হলো, যেনো আমরা মুরগীর ছানার মতো হয়ে পড়ছিলাম (চিন্তা ও শোকে বিহ্বল হওয়ায়)। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, একজন নাপিতকে ডাকো। অতঃপর তিনি তাকে নির্দেশ দিলেন। ফলে সে আমাদের মাথা মুণ্ডন করে দিয়েছিল।
এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।হাদীসের অর্থ: “নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম জা‘ফরের পরিবারকে তিনদিন সময় দিয়েছিলেন।” মুতার যুদ্ধে জা‘ফর ইবন আবূ তালিব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু শহীদ হওয়ার পরে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার পরিবারের কাছে তিনদিন পরে গিয়েছিলেন। তিনি তাদেরকে তিনদিন অবকাশ দেওয়ার কারণ হলো যাতে তাদের অন্তর ভালো হয় এবং চিন্তা ও শোক দূর হয়। অতঃপর তিনি বললেন, “আজকের পরে তোমরা আমার ভাইয়ের জন্য কাঁদবে না।” অর্থাৎ তিনি তিনদিনের পরে কাঁদতে নিষেধ করেছেন। কেননা কোনো কিছুর প্রথম আঘাত ও শোকের ব্যপ্তি দীর্ঘায়িত হতে পারে না এবং সারাজীবন চলতে পারে না। এখানে নিষেধাজ্ঞা মাকরূহ তানযিহী অর্থে। কেননা তিনদিনের অধিক কাঁদা বৈধ; যদি না ক্রন্দনের সাথে হারামের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। অতঃপর তিনি বললেন, “আমার ভাইয়ের সন্তানদেরকে ডাকো।” তারা হলেন, মুহাম্মাদ, আব্দুল্লাহ ও ‘আওফ। “ফলে আমাদেরকে ডেকে আনা হলো, যেনো আমরা পাখির ছানার মতো হয়ে পড়েছিলাম।” আল-ফারখ অর্থ পাখির ছানা। তাদের পিতা হারানোর বেদনা ও চিন্তায় তারা এমন হয়েছিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “একজন নাপিত ডাকো। তিনি তাকে নির্দেশ দিলেন, ফলে নাপিত আমাদের মাথা মুণ্ডন করে দিল।” অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের মাথা মুণ্ডন করতে আদেশ দিয়েছেন, ফলে তাদের মাথা মুণ্ডন করা হয়েছিল। যেহেতু তাদের মাতা আসমা বিনত উমাইস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা তার স্বামীর শাহাদাতে বিষন্ন থাকায় তাদের মাথার চুল আঁচড়িয়ে দিতে পারতেন না। তাই নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের প্রতি সদয় হয়েছিলেন, যাতে তাদের মাথা ময়লা ও উকুন থেকে মুক্ত থাকে। অতঃপর মাথার চুল মুণ্ডন করায় তা তাদের মায়ের জন্য উপকার, কল্যাণ ও একটু আরামের কারণ হলো। কেননা তিনি আপতিত বিপদের কারণে তার সন্তানদের ঠিকমতো দেখাশোনা করতে পারছিলেন না। সর্তকতা: উল্লেখ্য যে, বিপদাপদে মাথা মুণ্ডন করা জায়েয নেই। এ সম্পর্কে হাদীসে এসেছে, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেসব নারীকে লা‘নত দিয়েছেন যারা (বিপদে) চিৎকার করে কাদেঁ, মাথা মুণ্ডন করে এবং যারা জামা-কাপড় ছিড়েঁ ফেলে।” হাদীসে উল্লিখিত আল-হালিকাহ অর্থ বিপদে যে মাথা মুণ্ডন করে। আশ-শাকাহ অর্থ যে বিপদে পতিত হলে জামা-কাপড় ছিড়েঁ ফেলে। আস-সালিকাহ অর্থ যে বিপদের সময় উচ্চস্বরে চিৎকার করে কাঁদে। তবে হাদীসে উল্লিখিত জা‘ফর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর মৃত্যুর পরে তার সন্তানদের মাথা মুণ্ডনের দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাদের মা তাদের মাথার চুলের দেখাশোনা করতে না পারায় তাদের মাথায় উকুন হওয়ার সম্ভাবনা ছিল বলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের মাথা মুণ্ডন করার আদেশ দিয়েছিলেন। এখানে বিপদের কারণে মাথা মুণ্ডানো হয় নি। দেখুন, ‘আওনুল মা‘বূদ শারহি সুনানি আবী দাঊদ (১১/১৬৪); শারহু রিয়াদিস সালিহীন, ইবন ‘উসাইমীন (৬/৩৮২); শারহু সুনানি আবী দাঊদ লিল ‘আব্বাদ, ইলেকট্রনিক কপি।
নু’মান বিন বাশীর —রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা— কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে —রাওয়াহাহ রাদিয়াল্লাহু— ‘আনহু (একবার) অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাঁর বোন কান্না করতে লাগলেন এবং বলতে লাগলেন, ‘ও (আমার) পাহাড় গো! ও আমার এই গো! ও আমার ওই গো!’ এভাবে তাঁর একাধিক গুণ বর্ণনা করতে লাগলেন। সুতরাং যখন তিনি জ্ঞান ফিরে পেলেন, তখন বললেন, ‘তুমি যা কিছু বলেছ, সে সম্পর্কে আমাকে প্রশ্ন করা হচ্ছিল যে, তুমি ঐরূপ ছিলে নাকি?’ (বুখারী)
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।নু’মান বিন বাশীর— রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা— সংবাদ দেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহাহ— রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু— (একবার) অসুস্থ হলেন এবং তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলেন। যখন তাঁর বোন তাকে এ অবস্থায় দেখল সে মনে করেছিল তিনি মারা গেছেন। তাই সে কান্না করতে লাগল এবং বলতে লাগল, ‘ও (আমার) পাহাড় গো! অর্থাৎ তিনি তার জন্যে পাহাড়ের মতো ছিলেন। কোন বিপদের সময় তিনি তার কাছে ফিরে যেতেন এবং তার মাধ্যমে নিরাপত্তা লাভ করতেন। আর তিনি ছিলেন একটি খুটির ন্যায় তার যাবতীয় কর্মে তার কাছে গিয়ে ভরসা পেতেন। এ ছাড়াও সে তার বিভিন্ন গুন এবং চরিত্রগুলো তুলে ধরে জাহিলিয়াতের পদ্ধতিতে আলোচনা করা শুরু করছেন। সুতরাং যখন তিনি জ্ঞান ফিরে পেলেন, তখন তিনি তার সাথে সংঘটিত বিষয়গুলো তাকে জানালেন, বললেন, তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, তুমি কি পাহড় যে, তোমার নিকট মানুষ আশ্রয় নেয়? তুমি কি অমুক অমুক যেমনটি তারা তোমার গুণাগুন করছে। বেহুশ অবস্থায় যতগুলি গুন তিনি আলোচনা করেছেন, সবগুলোই তিনি তাকে জানিয়ে দেন। আর এটি ছিল তিরস্কার ও ভৎসনা এবং কঠোর হুমকি স্বরুপ। অপর একটি বর্ণনা এসেছে তিনি যখন মারা যান তার জন্য কোন কান্নাকাটি করা হয়নি। এ থেকে তিনি উপদেশ গ্রহণ করেন।
ইয়ায ইবন হিমার আল মুজাশি‘ঈ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় ভাষণে বলেন, মনে রাখো, আমার রব আমাকে নির্দেশ দেন যে, আমি যেন তোমাদের শিখাই যা তোমরা জানো না। আজকের এই দিনে তিনি আমাকে যা শিক্ষা দিয়েছেন, তা হচ্ছে: যে সব মাল আমি কোন বান্দাকে দিয়েছি তা হালাল। আমি আমার সব বান্দাদের মুসলিম হিসেবে সৃষ্টি করেছি। শয়তান তাদের কাছে এসে তাদেরকে দীন থেকে বিচ্যুত করেছে এবং আমি তাদের জন্য যা হালাল করি তা সে তাদের জন্য হারাম করে দেয় এবং সে তাদের নির্দেশ দেয় যাতে তারা আমার সাথে শির্ক করে যার ওপর কোন দলীল প্রেরণ করা হয়নি। আল্লাহ যমীনবাসীর দিকে তাকালে কেবল আহলে কিতাবের কতক অনুসারী ছাড়া আরব আজম সবার ওপর তিনি ক্ষুব্ধ হন। তিনি বলেন, আমি তোমাকে প্রেরণ করেছি যাতে তোমাকে এবং তোমাকে যাদের কাছে পাঠিয়েছি তাদেরকে পরীক্ষা করি। আমি তোমার ওপর কিতাব নাযিল করেছি যা পানি মুছে ফেলতে পারবে না। তা তুমি জাগ্রত ও ঘুমন্ত উভয় অবস্থায় পাঠ করবে। আল্লাহ আমাকে নির্দেশ দেন আমি যেন কুরাইশকে জ্বালিয়ে দেই। তখন আমি বললাম, হে রব, তখন তারা আমার মাথা ফাটিয়ে রুটির মতো টুকরা করে ফেলবে। তিনি বললেন, তোমাকে যেভাবে বের করেছে তুমি তাদের সেভাবে বের করে দাও। তুমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর আমি তোমার সাহায্য করব। তুমি খরচ করো তোমার ওপর খরচ করা হবে। তুমি তাদের বিরুদ্ধে সৈন্য দল পাঠাও আমি তার মতো পাঁচটি দল পাঠাবো। যারা তোমার আনুগত্য করে তাদের নিয়ে যারা তোমার নাফরমানি করে তাদের সাথে যুদ্ধ কর। তিনি বললেন: জান্নাতি তিন শ্রেণির লোক। ইনসাফগার, দানশীল ও সৎ কর্মকারী বাদশাহ। প্রতিটি আত্মীয় ও মুসলিমের প্রতি দয়ালু দিলদার। আর পরিবার ওয়ালা কারো কাছে চায় না। আর জাহান্নামী হলো পাঁচ শ্রেণির লোক। দৃর্বল যার কোন জ্ঞান বুদ্ধি নেই। তোমাদের অনুসারীগণ যারা স্ত্রীও চায় না এবং সম্পদও চায় না। খিয়ানতকারী যার লোভী হওয়া স্পষ্ট যখনই সুযোগ পায় সে খিয়ানত করে। আর এমন লোক যে এমন কোন সকাল বা বিকাল নাই কিন্তু সে তোমার মাল ও আহল বিষয়ে ধোকা দেয় না। আরও উল্লেখ করেন কৃপণ, মিথ্যুক এবং অশ্লীল ভাষা ব্যবহারকারী ব্যক্তিকে।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় সাহাবীগণের মধ্যে ভাষণ দেন। তিনি তাদের জানিয়ে দেন যে, আল্লাহ তাকে নির্দেশ দিয়েছেন আজকের দিনে যা তিনি তাকে শিখিয়েছেন তা যেন তাদেরকে তিনি শিখিয়ে দেন, যা তারা জানে না। অর্থাৎ তাকে তার রব যা শিখিয়েছেন তা হতে একটি হলো, “যে সব মাল আমি কোন বান্দাকে দিয়েছি তা হালাল।” অর্থাৎ, আল্লাহ বলেন, আমি আমার বান্দাদের থেকে যাকে কোন মাল দিয়েছে তা তার জন্য হালাল। এ দ্বারা উদ্দেশ্য, তারা তাদের নিজেদের ওপর বিভিন্ন ধরনের জন্তুকে যে হারাম করেছিল তা অস্বীকার করা। আর তা তাদের হারাম করার কারণে হারাম হয়নি। যে কোন মাল কোন বান্দা যখন তার মালিক হয়, তা তার জন্য তা হালাল। যতক্ষণ না তার সাথে অন্যের অধিকার সম্পৃক্ত না হয় অথবা বিশেষ কোন প্রমাণ বর্ণিত না হয় যা তাকে হালাল হওয়ার ব্যাপকতা থেকে বের করে দেয়। তারপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন, “আমি আমার সব বান্দাদের মুসলিম হিসেবে সৃষ্টি করেছি।” বান্দাদের সবাইকে আমি মুসলিম করে সৃষ্টি করেছি। কেউ কেউ বলেন, গুনাহ থেকে পবিত্র। কেউ কেউ বলেন, সঠিক পথের অনুসারী, হিদায়াত কবুলের যোগ্য করে। কেউ কেউ বলেন, এ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো রুহ জগতে যখন তাদের থেকে প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেন এবং তিনি বলেন আমি কি তোমাদের রব নই। তারা বলল, হ্যাঁ। আল্লাহর বাণী: শয়তান তাদের কাছে এসে তাদেরকে দীন থেকে বিচ্যুত করে এবং আমি তাদের জন্য যা হালাল করি তা সে তাদের জন্য হারাম করে দেয় এবং সে তাদের নির্দেশ দেয় যাতে তারা আমার সাথে শির্ক করে যার ওপর কোন দলীল প্রেরণ করা হয়নি। অর্থাৎ, তাদের নিকট শয়তানগুলো আসলো এবং তাদের কু-মন্ত্রণা দিল এবং নিয়ে গেল বাতিলের দিকে এবং তারা যার ওপর ছিল তা থেকে তাদের দূরে সরিয়ে দিল। আর আল্লাহ তাদের জন্য যা হালাল করেছিল তা তাদের ওপর হারাম করে দিল। আর যাদের ইবাদত করার নির্দেশ আল্লাহ তাদের দেননি এবং তাদের ইবাদতের হকদার হওয়ার ওপর কোন দলীল দাঁড়া করাননি তাদের ইবাদাতের মাধ্যমে আল্লাহর সাথে শির্ক করার আদেশ দিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: আল্লাহ যমীনবাসীর দিকে তাকালেন কেবল আহলে কিতাব থেকে কতক অনুসারী ছাড়া আরব আজম সবার ওপর তিনি ক্ষুব্ধ হলেন। অর্থাৎ আল্লাহ যমীনবাসীর দিকে রাসূলকে প্রেরণ করার পূর্বে তাকান। তখন তাদের তিনি শির্ক ও গোমরাহীর ওপর একাট্টা দেখতে পান। তিনি তাদের ওপর ক্ষুব্ধ হলেন কেবল আহলে কিতাবীদের অবশিষ্ট কতক লোক ছাড়া। তারা কোন প্রকার বিকৃতি ছাড়া তাদের হক দীনের ওপর মজবুতভাবে অটল ছিল। আর অধিকাংশ আহলে কিতাবী বিকৃতির ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। আল্লাহ সুবহানাহুর বাণী: “আমি তোমাকে প্রেরণ করেছি যাতে তোমাকে এবং তোমাকে যাদের কাছে পাঠিয়েছি তাদেরকে পরীক্ষা করি।” অর্থাৎ আমি তোমাকে মানুষের নিকট প্রেরণ করেছি যাতে আমি তোমাকে তাবলীগে রিসালাত, আল্লাহর রাস্তায় যথাযথ জিহাদ করা, আল্লাহর জন্য ধৈয্য ধারণ ইত্যাদির যে আদেশ দিয়েছে তা বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে তোমার থেকে যা প্রকাশ পায় তা দ্বারা তোমাকে পরীক্ষা করতে পারি। আর আমি তোমার দ্বারা পরীক্ষা করব তাদেরকে যাদের নিকট তোমাকে পাঠিয়েছি। তাদের মধ্যে কতক এমন হবে যারা ঈমানকে প্রকাশ করবে এবং তার আনুগত্য করার ব্যাপারে খালেস হবে। আর তাদের থেকে কিছু হবে যারা পিছনে পড়ে থাকবে এবং দুশমনি ও কুফরী প্রকাশ করবে। আর তাদের মধ্যে কতক থাকবে যারা মুনাফেকী করবে। উদ্দেশ্য হলো এসব তিনি পরীক্ষা করবেন যাতে বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়ে যায়। কারণ আল্লাহ বান্দাদের কেবল তার ওপর শাস্তি দেবেন যা তাদের থেকে বাস্তবায়িত হয়েছে। বাস্তবায়ন হওয়ার পূর্বে যা জানতেন তার ওপর তাদের শাস্তি দেবেন না। অন্যথায় আল্লাহ সমস্ত কিছু সংঘটিত হওয়ার পূর্বেই জানেন। আমি তোমার ওপর কিতাব নাযিল করেছি যা পানিতে ধুইতে পারে না। অর্থাৎ আমি তোমার ওপর কিতাব নাযিল করেছি। আর তা মানুষের অন্তরে সংরক্ষিত। চলে যাওয়া কোন সম্ভাবনা তাতে নাই। বরং যুগ যুগ ধরে তা অবশিষ্ট থাকবে। তার বাণী: তা তুমি জাগ্রত ও ঘুমন্ত উভয় অবস্থায় সংরক্ষণ করবে। এর অর্থ, তোমার ঘুম ও জাগ্রত থাকা উভয় অবস্থায় তা তোমার জন্য সংরক্ষিত থাকবে। কেউ কেউ বলেছেন, তুমি তা সহজে ও আরামে পড়বে। সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: “আল্লাহ আমাকে নির্দেশ দেন আমি যেন কুরাইশকে জ্বালিয়ে দেই”। অর্থাৎ আল্লাহ আমাকে নির্দেশ দেন যে, আমি যেন কুরাইশ কাফিরদের ধ্বংস করি এবং তাদের হত্যা করি। “তখন আমি বললাম, হে রব, তখন তারা আমার মাথা ফাটিয়ে রুটির মতো টুকরা করে ফেলবে।” অর্থাৎ, তারা আমার মাথা ফাটাবে যেভাবে রুটি টুকরা করা হয়ে থাকে। তিনি বললেন, তোমাকে যেভাবে বের করেছে তুমি তাদের সেভাবে বের করে দাও। অর্থাৎ আল্লাহ তার নবীকে বললেন, কুরাইশের কাফেরদের সেভাবে বের কর যেভাবে তারা তোমাকে বের করেছে, যাতে তা পুরিপুরি প্রতিদান হয়ে যায়। যদিও দুই বের করার মধ্যে স্পষ্ট প্রার্থক্য রয়েছে। কারণ, তাকে বের করা ছিল বাতিলের ভিত্তিতে আর তাদের বের করা হবে হকের ভিত্তিতে। “তুমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর আমি তোমার সাহায্য করব।” অর্থাৎ তুমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর আমি তোমাকে সাহায্য ও সহযোগীতা করব। তুমি খরচ করো তোমার ওপর খরচ করা হবে। অর্থাৎ তোমার সাধ্য অনুযায়ী তুমি আল্লাহর রাস্তায় খরচ কর, তার বিনিময়ে দুনিয়া ও আখিরাতে আমি তোমাকে বদলা দেব। তুমি তাদের বিরুদ্ধে সৈন্য দল পাঠাও আমি তার মতো পাঁচটি দল পাঠাবো। অর্থাৎ যখন তুমি কাফিরদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য একটি সৈন্যদল পাঠাবে ফিরিশতাদের থেকে তার মতো পাঁচটি সৈন্যদল পাঠাবো যারা মুসলিমদের সাহায্য করবে। যেমনটি করেছিল বদরের যুদ্ধে। আর যারা তোমার আনুগত্য করে তাদের নিয়ে যারা তোমার নাফরমানি করে তাদের সাথে যুদ্ধ কর। অর্থাৎ মুসলিমদের থেকে যারা তোমার আনুগত্য করছে তাদের নিয়ে যে সব কাফির তোমার নাফরমানি করছে তাদের সাথে যুদ্ধ কর। তিনি বলেন, জান্নাতী হলো তিন শ্রেণির লোক। ইনসাফগার, দানশীল ও সৎ কর্মকারী বাদশাহ। প্রতিটি আত্মীয় ও মুসলিমের প্রতি দয়ালু দিলদার ব্যক্তি। আর পরিবার ওয়ালা যে কারো কাছে চায় না। অর্থাৎ জান্নাতী হলো তিন শ্রেণির লোক। এক ব্যক্তি যিনি বিচারক, ক্ষমতাশীল ও বিজয়ী তা সত্বেও সে মানুষের মাঝে ইনসাফ করে তাদের প্রতি জুলম করে না এবং তাদের প্রতি দয়া করেন। তার জন্য কল্যাণের যাবতীয় উপকরণসমূহ প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং নেক কাজের সব দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়েছে। আর এক ব্যক্তি হলো যে ছোট ও বড়দের প্রতি দয়ালু। সব আত্মীয়ের প্রতি বিশেষ করে এবং সমস্ত মুসলিমের প্রতি ব্যাপকহারে দয়ালু। আর এক ব্যক্তি যার আওলাদ ও পরিবারের সদস্য বেশি তা সত্বেও সে হারাম থেকে বেঁচে থাকে, মানুষের নিকট হাত পাতা থেকে বিরত থাকে। তার নিজের ও পরিবারের ব্যাপারে আল্লাহর ওপরই ভরসা করেন। পরিবারে প্রতি মহব্বত এবং তাদের রিযিকের ভয় মানুষের কাছে হাত পাতার মাধ্যমে আল্লাহর ওপর ভরসা করা ছেড়ে দেওয়ার প্রতি কোন কিছু তাকে উৎসাহিত করতে পারে না। হারাম মাল উপার্জন করা এবং তার করনীয় আমল এবং ইলম হাসিল করা থেকে তাকে কোন কিছু বিরত রাখে না। আর জাহান্নামী হলো পাঁচ শ্রেণির লোক। দৃর্বল যার কোন জ্ঞান বুদ্ধি নেই। তোমাদের অনুসারীগণ যারা স্ত্রীও চায় না এবং সম্পদও চায় না। খিয়ানতকারী যার লোভী হওয়া স্পষ্ট যখনই সুযোগ পায় সে খিয়ানত করে। আর এমন লোক যে এমন কোন সকাল বা বিকাল নাই কিন্তু সে তোমার মাল ও আহল বিষয়ে তোমাকে ধোঁকা দেয় না। আরও উল্লেখ করেন কৃপণ, মিথ্যুক এবং অশ্লীল ভাষা ব্যবহারকারী ব্যক্তিকে। অর্থাৎ পাঁচ শ্রেণির লোক জাহান্নামী। তাদের প্রথম শ্রেণি হলো, দুর্বল লোক যার কোন বুদ্ধি-জ্ঞান নেই। অর্থাৎ উচিত নয় এমন কাজ থেকে বারণকারী যার বিবেক নেই। “তোমাদের ভেতর অনুগতরা যারা পরিবার ও সন্তান চায় না”। অর্থাৎ খাদেম যারা স্ত্রী চায় না। তারা হালাল থেকে বিরত থাকে এবং হারামে লিপ্ত হয়। আর তারা কামাই করা এবং উত্তমা উপার্জন করার মাধ্যমে হালাল সম্পদ অনুসন্ধান করে না। দ্বিতীয় হলো, খিয়ানতকারী যার লোভী হওয়া স্পষ্ট যদিও সামান্য বিষয় হয় সে খিয়ানত করে। যাতে লোভ করা সম্ভব এমন কোন বস্তু তার কাছে গোপন নয়। সে যখনই সুযোগ পায় তার অনুসন্ধান করতে এবং তার সম্পর্কে অবগত হতে সে চেষ্টা করে। তারপর যখনই সে সুযোগ পায় তখনই সে খিয়ানত করে। এটি খিয়ানাতের সাথে গুনান্বিত করার ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন করা। তৃতীয় ব্যক্তি: ধোঁকাবাজ। চতুর্থ: মিথ্যুক বা কৃপণ। পঞ্চম: দুশ্চিরিত্রবান ও অশ্লিল ব্যক্তি।
ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দোয়ায় বলতেন, “হে রব! আমাকে সাহায্য করো এবং আমার বিরুদ্ধে কাউকে সাহায্য করো না, আমাকে সহযোগিতা করো এবং আমার বিরুদ্ধে কাউকে সহযোগিতা করো না, আমার জন্য কৌশল এঁটো, আমার বিরুদ্ধে কৌশল এঁটো না,আমাকে হেদায়াত দান করো, আমার জন্য হেদায়াতের পথ সহজতর করো এবং যে ব্যক্তি আমার উপর অত্যাচার ও সীমা লংঘন করে তার বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করো। হে রব! আমাকে তোমার জন্য কৃতজ্ঞ বান্দা বানাও, তোমার জন্য অনেক যিকিরকারী, তোমাকে অধিক ভয়কারী, তোমার অধিক আনুগত্যকারী, তোমার নিকট অনুনয়-বিনয়কারী ও তোমার দিকে প্রত্যাবর্তনকারী বানাও। হে আমার রব! আমার তওবা কবুল করো, আমার সমস্ত গুনাহ ধুয়ে-মুছে ফেলো, আমার দো‘য়া কবুল করো, আমার অন্তরকে হেদায়াত দান করো, আমার যবানকে সোজা রাখো, আমার যুক্তি-প্রমাণ বহাল করো এবং আমার মনের সমস্ত হিংসা-বিদ্বেষ দূরীভূত করো”।
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দো‘আয় বলতেন, “হে আমার রব, তুমি আমাকে সাহার্য কর”। অর্থাৎ, তুমি আমাকে তোমার যিকির, শুকর এবং তোমার সুন্দর ইবাদাতের তাওফীক দান কর। “এবং আমার বিরুদ্ধে কাউকে সাহায্য করো না”। অর্থাৎ আমার ওপর মানব ও জিন শয়তান থেকে এমন কাউকে বিজয়ী করো না যে আমাকে তোমার আনুগত্য করা থেকে ফিরিয়ে রাখে। “আমাকে সহযোগিতা করো এবং আমার বিরুদ্ধে কাউকে সহযোগিতা করো না”। অর্থাৎ আমাকে তুমি কাফিরদের বিরুদ্ধে সাহায্য কর। তাদেরকে তুমি আমার বিরুদ্ধে বিজয়ী করো না। অথবা তুমি আমাকে আমার নাফসের বিরুদ্ধে সাহায্য কর। কারণ, সে আমার বড় দুশমণ। আর নফসে আম্মারাহকে আমার বিরুদ্ধে সাহায্য করো না যাতে আমি প্রবৃত্তির অনুসরণ করি এবং হিদায়াতের পথকে ছেড়ে দেই। “আমার জন্য কৌশল এঁটো, আমার বিরুদ্ধে কৌশল এঁটো না”। অর্থাৎ তুমি আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী আমাদের দুশমনদের জন্য কৌশল অবলম্বন কর এবং তা দ্বারা তাদের এমনভাবে পাকড়াও কর যাতে তারা বুঝতে না পারে। আর তা তুমি আমার বিরুদ্ধে করো না। কৌষল (মাকর) আল্লাহর কর্মগত সিফাত। তবে তিনি সব-সময় মাকর দ্বারা গুণান্বিত হন না। যখন তা প্রশংসার স্থানে হয় তখন তিনি তা দ্বারা গুনান্বিত হন। যেমন, কাফিরদের বিপক্ষে কৌশল এবং যারা মুমিনদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে তাদের বিরুদ্ধে কৌশল ইত্যাদি। আবার আল্লাহর থেকে কৌষল করার সিফাতকে না করা যাবে না। কারণ, আল্লাহ নিজে তা নিজের জন্য সাব্যস্ত করেছেন। আমরা তার সাথে তা যেভাবে প্রযোজ্য সেভাবে সাব্যস্ত করব। “আমাকে হেদায়াত দান করো, আমার জন্য হেদায়াতের পথ সহজতর করো”। অর্থাৎ, তুমি ভালো কাজের প্রতি আমাকে পথ দেখাও। আর হিদায়াতের অনুসরণ এবং সঠিক পথসমূহকে আমার জন্য সহজ করো যাতে আমার জন্য আনুগত্য (ইবাদত) করা কঠিন না হয় এবং ইবাদত থেকে বিমুখ না হই। “আর যে ব্যক্তি আমার উপর অত্যাচার ও সীমা লংঘন করে তার বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করো”। অর্থাৎ, যে আমার ওপর জুলুম করে এবং আমার ওপর সীমা লঙ্ঘন করে তার ওপর আমাকে সাহায্য কর। “হে রব! আমাকে তোমার জন্য কৃতজ্ঞ বান্দা বানাও”। অর্থাৎ, নি‘আমাতসমূহের ওপর। আর তোমার জন্য অনেক যিকিরকারী বানাও। সার্বক্ষণিক। তোমাকে অধিক ভয়কারী। সচ্ছল ও অসচ্ছল অবস্থায়। তোমার অধিক আনুগত্যকারী। অর্থাৎ অনুকরণ ও অনুসরণ। তোমার নিকট অনুনয়-বিনয়কারী ও তোমার দিকে প্রত্যাবর্তনকারী বানাও। হে আমার রব! আমার তওবা কবুল করো, তাওবা হলো গুনাহ থেকে ফিরে আনুগত্যতায় লিপ্ত হওয়া। “হে রব আমার তাওবাহ কবুল করো”। অর্থাৎ তাওবাকে সব শর্ত ও আদব পালন করার মাধ্যমে তা সহীহ সাব্যস্ত কর। কারণ, এরূপ তাওবাহ কবুল হওয়া থেকে বঞ্চিত হয় না। আমার সমস্ত গুনাহ ধুয়ে-মুছে ফেলো। আমার গুনাহসমূহ মিটিয়ে দাও। আমার দো‘য়া কবুল করো। আমার দলীলকে সাব্যস্ত কর। অর্থাৎ দুনিয়াতে তোমার দুশমনদের ওপর। অথবা দুনিয়াতে এবং ফিরিশতাদের জাওয়াব দেওয়ার সময় আমার কথা ও আমার বিশ্বাসকে অটুট রাখো। “আমার অন্তরকে হেদায়াত দান করো, আমার যবানকে সোজা রাখো”। অর্থাৎ আমার জবানকে সোজা ও সঠিক করে দাও যাতে আমি সত্য ছাড়া কথা না বলি, হক ছাড়া কথা না বলি। আমার যুক্তি-প্রমাণ বহাল করো এবং আমার মনের সমস্ত হিংসা-বিদ্বেষ দূরীভূত করো। মনের ধোঁকা, খিয়ানত, হিংসা, বিদ্বেষ ইত্যাদি যা মানুষের অন্তরে সৃষ্টি হয় এবং যে সব খারাপ চরিত্র অন্তরে বসবাস করে তা সব দূর করে দাও।
আব্দুল্লাহ ইবন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, আল্লাহর তা‘আলা তার সৃষ্টিকে অন্ধকারে সৃষ্টি করেছেন। তারপর তার নূর থেকে তাদের ওপর নিক্ষেপ করলেন। যে তার সে নূর থেকে পেল, সে হিদায়াত প্রাপ্ত হলো আর যে পেল না গোমরাহ হলো। এ কারণেই আমি বলি, আল্লাহর ইলমের ওপর কলম শুকিয়ে গিয়েছে।
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।এ হাদীসটি বর্ণনা করে যে, আল্লাহ তা‘আলা তার সৃষ্টিকে অন্ধকারে সৃষ্টি করেছেন। তারপর তার নূরকে তাদের ওপর নিক্ষেপ করলেন। যে তার সে নূর থেকে পেল, সে তার জান্নাতের পথের হিদায়াত প্রাপ্ত হলো আর নুর যাকে ছাপিয়ে গেল এবং তাকে ছাড়িয়ে গেল ও তার পর্যন্ত পৌঁছলো না সে সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত ও গোমরাহ হলো। কারণ, হেদায়েত লাভ করা এবং গোমরাহ হওয়া উভয়টি আল্লাহর ইলম এবং আযলের ফায়সালা অনুযায়ী হবে। কোন পরিবর্তন ও পরিবর্ধন হবে না। একেই কলম শুকিয়ে যাওয়া বলে ব্যাখ্যা করা হয়।