





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
আব্দুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ রদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত: আমাকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদীস বর্ণনা করেছেন আর তিনি হচ্ছেন সত্যবাদী এবং সত্যবাদী হিসেবে প্রত্যায়িত: “নিশ্চয় তোমাদের যে কোন ব্যক্তি তার মায়ের পেটে চল্লিশ দিন ও চল্লিশ রাত অবস্থান করে, তারপরে একটি জমাট রক্ত হিসেবে অনুরূপ অবস্থান করে, তারপরে একটি গোশতের টুকরা হিসেবে অনুরূপ অবস্থান করতে থাকে। তারপরে আল্লাহ সেখানে ফেরেশতা পাঠান। তাকে চারটি বিষয়ের আদেশ করা হয় এবং সে তা লিপিবদ্ধ করে দেন: ব্যক্তির রিযিক, তার জীবন, তার কর্মকাণ্ড এবং সে সৌভাগ্যবান নাকি হতভাগ্য। তারপরে তার মধ্যে রূহ ফুঁকে দেওয়া হয়। সুতরাং তোমাদের কেউ জান্নাতের আমল করতে থাকবে, এমনকি তার মধ্যে এবং জান্নাতের মধ্যে মাত্র এক গজ দূরত্ব থাকবে, তখন তার দিকে লিপিবদ্ধ (তাকদীর) এগিয়ে আসবে আর সে জাহান্নামীদের ন্যায় আমল করতে থাকবে, ফলশ্রুতিতে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। আবার তোমাদের কেউ জাহান্নামীদের ন্যায় আমল করতে থাকবে, এমনকি তার মধ্যে এবং জাহান্নামের মধ্যে মাত্র এক গজ দূরত্ব থাকবে, তখন তার দিকে লিপিবদ্ধ (তাকদীর) এগিয়ে আসবে আর সে জান্নাতীদের ন্যায় আমল করতে থাকবে, ফলশ্রুতিতে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমইবনু মাস‘ঊদ রদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেছেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর তিনি তার বর্ণনার ব্যাপারে সত্যবাদী এবং তিনি সত্যবাদী হিসেবে প্রত্যায়িত, যেহেতু আল্লাহ তা‘আলা তাকে সত্যায়ন করেছেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: নিশ্চয় তোমাদের যে কোন ব্যক্তির সৃষ্টির ধরন হলো: যখন কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীর কাছে গমন করে, তখন স্ত্রীর গর্ভে পৃথক হওয়া বীর্য চল্লিশ দিন পর্যন্ত নুত্বফা হিসেবে (নিষিক্ত অবস্থায় থাকে। এরপরে তা ‘আলাক্বায় পরিণত হয়, আর তা হল- জমাট রক্তপিণ্ড। আর এ অবস্থায় দ্বিতীয় চল্লিশ দিন অতিবাহিত হয়। তারপর তা চিবানো যাওয়া পরিমাণ মাংসের টুকরাতে পরিণত হয়। আর এ অবস্থায় তৃতীয় চল্লিশ দিন অতিবাহিত হয়। তারপরে আল্লাহ তা‘আলা তার প্রতি ফেরেশতা প্রেরণ করেন, তৃতীয় চল্লিশ দিন পার হওয়ার পরে উক্ত ফেরেশতা তার মধ্যে রূহ ফুঁকে দেন। এবং ফেরেশতাকে চারটি বিষয় লিখার আদেশ দেওয়া হয়: তা হচ্ছে- তার রিযিক, উক্ত ব্যক্তি তার গোটা জীবনে কী পরিমাণ নি‘আমাত ভোগ করবে। এবং তার সময়কাল, তথা- দুনিয়াতে তার অবস্থান কাল। তার আমল: সে কী হবে? দুর্ভাগা নাকি সৌভাগ্যবান। তারপরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কসম করেছেন যে, একজন ব্যক্তি জান্নাতীদের আমলই করতে থাকে। তার্গেআমললো মানুষের বাহ্যিক দৃষ্টিতে নেক আমলই হয়। এমনকি তার ও জান্নাতের মধ্যে মাত্র একগজ দূরত্ব বাকী থাকে, অর্থ্যাৎ: জান্নাতে প্রবেশ করা ও তার মধ্যে মাত্র এতটুকু দূরত্ব থাকে, যেভাবে কোন ভুমিতে প্রবেশের সময় একগজ পরিমাণ দূরত্ব বাকী থাকে। তখন তার ভাগ্য-লিখন ও তার জন্য নির্ধারিত বিষয় তার দিকে অগ্রসর হয়, এ সময়ে সে জাহান্নামীদের ন্যায় আমল করে, আর এটিই তার শেষ অবস্থা হয়, এ কারণে সে জাহান্নামে প্রবেশ করে। কেননা আমল কবূল হওয়ার জন্য তার উপরে সুদৃঢ় থাকা এবং (অবস্থার) পরিবর্তন না করা শর্ত। অপরপক্ষে মানুষের মধ্যে এমন একদল মানুষ রয়েছে, যারা জাহান্নামীদের মত আমল করে সেখানে প্রবেশের কাছাকছি চলে যায়, এমনকি তার মধ্যে এবং জাহান্নামের মধ্যে মাত্র একগজ যমীন পরিমাণ দূরত্ব বাকী থাকে। তখন তার ভাগ্য-লিখন ও তার জন্য নির্ধারিত বিষয় তার দিকে অগ্রসর হয়, তখন সে জান্নাতীদের মত আমল করতে থাকে এবং জান্নাতে প্রবেশ করে।
ত্বাঊস (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনেক সাহাবীর সাক্ষাৎ পেয়েছি, যারা বলতেন: প্রতিটি বস্তু তাকদীর অনুযায়ীই হয়। তিনি আরো বলেছেন: আমি আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার রদিয়াল্লাহু ‘আনহুমাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “প্রতিটি বিষয় তাকদীর অনুসারেই হয়, এমনকি অপারগতা এবং যোগ্যতা। অথবা (তিনি বলেছেন:) যোগ্যতা এবং অপারগতা।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেননবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন যে, প্রতিটি জিনিস তাকদীর অনুসারেই ঘটবে। এমনকি অপারগতা (العجز), তা হচ্ছে: পছন্দনীয় কাজ ত্যাগ করা, তা বিলম্বে আদায় করা এবং নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ার পরে আদায় করা, হোক তা দুনিয়াবী অথবা আখিরাতের কোন কাজ। আর যোগ্যতা (الْكَيْسُ) হচ্ছে: দুনিয়া হোক বা আখিরাতের যে কোন কাজে তৎপরাতা ও দক্ষতা। নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা অপারগতা, যোগ্যতা এবং প্রতিটি বস্তুকে নির্ধারণ করে রেখেছেন, কোন বস্তু শুধুমাত্রে আল্লাহর জ্ঞান ও ইচ্ছা অনুসারেই অস্তিত্বে আসতে পারে।
মাত্বার ইবনু ‘উকামিস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ তা‘আলা যখন কোন ভুমিতে কারো মৃত্যুর ফয়সালা করেন, তখন সেখানে তার প্রয়োজন সৃষ্টি করেন।”
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন, আল্লাহ তা‘আলা যখন কোন বান্দার মৃত্যু কোন স্থানে নির্ধারণ ও ফয়সালা করেন, যেখানে সে উপস্থিত নাই। সেখানে এমন প্রয়োজন তৈরী করেন, যার কারণে সে সেখানে আগমন করে। তারপর তাতে তার রূহ কবজ করা হয়।
আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: একদা আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে মসজিদে বসা ছিলাম, এক ব্যক্তি উটের পিঠে সওয়ার হয়ে সেখানে এসে তার উটকে মসজিদে বসিয়ে বাঁধলেন। তারপর সাহাবীদেরকে বললেন: “তোমাদের মধ্যে মুহাম্মাদ কে?” নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন তাদের মধ্যেই হেলান দেওয়া অবস্থাতে ছিলেন, আমরা বললাম: হেলান দেওয়া এই সাদা ব্যক্তিটি। তখন সে বলল: হে আব্দুল মুত্তালিবের সন্তান! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন: “আমি তোমার জবাব দিয়েছি।” তখন সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে উদ্দেশ্য করে বলল: আমি আপনাকে কিছু বিষয় কঠিনভাবে জিজ্ঞাসা করছি, হয়ত তা আপনাকে কষ্ট দেবে, তবে আপনি আমার ব্যাপারে আপনার অন্তরে কোন কষ্ট নেবেন না। তখন তিনি বললেন: “তুমি জিজ্ঞাসা কর যা জানতে চাও।” তখন সে বলল: আমি আপনার রব এবং আপনার পূর্ববর্তীদের রবের কসম করে জিজ্ঞাসা করছি, আল্লাহ কী আপনাকে সমগ্র মানব জাতীর কাছে প্রেরণ করেছেন? তিনি বললেন: “আল্লাহুম্মা (হে আল্লাহ!), অবশ্যই।” তারপর সে বলল: আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, আল্লাহ কী আপনাকে আদেশ করেছেন যে, আমরা রাতে-দিনে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করব? তিনি বললেন: “আল্লাহুম্মা (হে আল্লাহ!), অবশ্যই।” তারপর সে বলল: আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, আল্লাহ কী আপনাকে আদেশ করেছেন যে, আমরা বছরের এই মাসে সিয়াম পালন করব? তিনি বললেন: “আল্লাহুম্মা (হে আল্লাহ!), অবশ্যই।” তারপর সে বলল: আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, আল্লাহ কী আপনাকে আদেশ করেছেন যে, আপনি আমাদের ধনী ব্যক্তিদের থেকে এই সদাকাহ (যাকাত) গ্রহণ করে তা আমাদের দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করে দিবেন? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “আল্লাহুম্মা (হে আল্লাহ!), অবশ্যই।” তারপর লোকটি বলল: আপনি যা নিয়ে আগমন করেছেন তার উপরে আমি ঈমান আনলাম আর আমি হচ্ছি আমার পিছনে থাকা কওমের প্রতিনিধি, এবং আমি বনু সা‘দ ইবনু বকরের ভাই দ্বিমাম ইবনু ছা‘লাবাহ।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমআনাস ইবনু মালিক রদিয়াল্লাহু ‘আনহু বর্ণনা করছেন, সাহাবীগণ একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে মসজিদে বসে ছিলেন, তখন উটের পিঠে করে একজন ব্যক্তি তার কাছে এসে উটকে বসিয়ে তা বেঁধে রাখল। তারপর সে জিজ্ঞাসা করল: তোমাদের মধ্যে মুহাম্মাদ কে? সবার মাঝে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন হেলান দেওয়া অবস্থায় ছিলেন। আমরা বললাম: এই সাদা পোষাক পরিহিত হেলান দেওয়া ব্যক্তি। তখন লোকটি বলল: হে আব্দুল মুত্তালিবের সন্তান! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন: আমি তোমার কথা শুনেছি, তুমি প্রশ্ন কর, আমি উত্তর দেব। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে উদ্দেশ্য করে লোকটি বলল: আমি আপনাকে কঠোর ভাষায় জিজ্ঞাসা করছি, তাই আপনি আমার ওপর অসন্তুষ্ট হবেন না। তথা: আমার উপরে রাগ করবেন না এবং আমার ব্যাপারে সংকীর্ণ মনোভাব পোষণ করবেন না। তিনি বললেন: তুমি যা ইচ্ছা জিজ্ঞাসা কর। তখন সে বলল: আমি আপনাকে আপনার রব ও আপনার আগে গত হওয়া ব্যক্তিদের রবের কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, আল্লাহ কী আপনাকে মানুষের কাছে প্রেরণ করেছেন? তখন তিনি তার সত্যতা নিশ্চিত করে বললেন: “হে আল্লাহ!১ হ্যাঁ। তখন লোকটি বলল: আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিচ্ছি, তথা: আল্লাহর নামে আপনাকে জিজ্ঞাসা করছি, আল্লাহ কী আপনাকে আদেশ করেছেন যে, আমরা যেন দিনে-রাতে পাঁচবার সালাত আদায় করি? এগুলো হচ্ছে ফরয সালাতসমূহ। তিনি বললেন: “হে আল্লাহ! হ্যাঁ।” তখন লোকটি বলল: আমি আপনাকে কসম দিচ্ছি, আল্লাহ কী আপনাকে আদেশ করেছেন যে, আমরা বছরের এ মাস তথা রমাদান মাসে সিয়াম পালন করব? তিনি বললেন: “হে আল্লাহ ! হ্যাঁ।” তখন লোকটি বলল: আমি আপনাকে কসম দিচ্ছি, আল্লাহ কী আপনাকে আদেশ করেছেন যে, আপনি আমাদের ধনী ব্যক্তিদের কাছ থেকে সদাকা গ্রহণ করে আমাদের দরিদ্রদের মাঝে তা বণ্টন করে দেবেন? আর তা হল: যাকাত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “হে আল্লাহ ! হ্যাঁ।” তরাপর দ্বিমাম ইসলাম গ্রহণ করেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সংবাদ দিলেন যে, তিনি অচিরেই তার জাতিকে ইসলামের দিকে আহবান জানাবেন। আর এরপরে তিনি তার নিজের পরিচয় প্রদান করে বললেন: তিনি হচ্ছেন বনু সা‘দ ইবনু বাকরের অন্তর্ভুক্ত দ্বিমাম ইবনু ছা‘লাবাহ।
যিয়াদ ইবনু লাবীদ রদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বিষয় উল্লেখ করে বললেন: “সেটা হচ্ছে ইলম উঠে যাওয়ার সময়।” আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! ইলম কিভাবে উঠে যাবে? অথচ আমরা কুরআন পড়ছি, আমাদের সন্তানদেরকে তা পড়াচ্ছি এবং আমাদের সন্তানরাও তাদের সন্তানদেরকে কিয়ামত পর্যন্ত তা পড়াতে থাকবে। তিনি বললেন: “হে যিয়াদ! তোমার মা তোমাকে হারাক ! যদিও আমি তোমাকে মদীনার সবচেয়ে বড় ফকীহ মনে করতাম। এসব ইহুদী ও নাসারারাও কি তাওরাত-ইনজীল পড়ে না? কিন্তু তারা এই দুটি কিতাবে যা আছে সে অনুযায়ী কোন আমলই করে না।”
এটি ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহবীদের মাঝে বসে ছিলেন, তখন তিনি বললেন: এটা এমন সময় যখন মানুষের কাছ থেকে ইলম উঠে যাবে ও ছিনিয়ে নেওয়া হবে। তখন যিয়াদ ইবনু লাবীদ আল-আনসারী রদিয়াল্লাহু ‘আনহু অবাক হয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন: তিনি বললেন: কিভাবে ইলম উঠে যাবে আর আমাদের থেকে তা বিনষ্ট হবে? আমরা কুরআন পড়েছি এবং হিফয করেছি; আল্লাহর কসম! আমরা অবশ্যই তার তিলাওয়াত করব, আমাদের স্ত্রী, সন্তান ও সন্তানের সন্তানদেরকে তা পড়াব, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবাক হয়ে বললেন: তোমার মা তোমাকে হারাক, হে যিয়াদ! তোমাকে আমি তো মদীনাবাসীদের মধ্যে আলিম হিসেবে গণ্য করতাম। তারপরে তাকে উদ্দেশ্য করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যাখ্যা করে বললেন: ইলম হারিয়ে যাওয়ার অর্থ কুরআন হারিয়ে যাওয়া নয়; বরং ইলম হারিয়ে যাওয়ার অর্থ হচ্ছে ইলম অনুযায়ী আমল হারিয়ে যাওয়া। এই যে তাওরাত ও ইনজিল ইহুদী ও নাসারাদের হাতেই রয়েছে, এ সত্ত্বেও তা তাদেরকে উপকৃত করে না আর তারাও এর উদ্দেশ্য হতে কোন ফায়েদা গ্রহণ করে না; তথা: তাদের জ্ঞান অনুযায়ী আমল করা।
ইবনু ‘আব্বাস রদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বয়স যখন চল্লিশ বছর, তখন তার উপরে কুরআন অবতীর্ণ হয়। তারপরে তিনি মক্কাতে তের বছর অবস্থান করেন, তারপর তাকে হিজরতের আদেশ করা হলে তিনি মদীনাতে হিজরত করেন, সেখানে দশ বছর অবস্থান করেন এবং মৃত্যুবরণ করেন।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমইবনু ‘আব্বাস রদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সংবাদ দিচ্ছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপরে যখন অহী নাযিল ও তাকে নবী হিসেবে প্রেরণ করা হয়, তখন তার বয়স চল্লিশ বছর। তারপর অহী নাযিলের পর তিনি মক্কাতে তের বছর অবস্থান করেন, তারপরে তাকে মদীনা হিজরতের আদেশ দেওয়া হয় আর তিনি সেখানে দশ বছর বসবাস করেন। তারপরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুবরণ করেন, তখন তার বয়স ছিল তেষট্টি বছর।
কাতাদাহ রহিমাহুল্লাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: আমাদেরকে আনাস ইবনু মালিক রদিয়াল্লাহু আনহু হাদীস বর্ণনা করেছেন, একব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহর নবী! কিভাবে কাফির ব্যক্তিকে তার মুখের উপরে ভর করে হাশরের ময়দানে নিয়ে আসা হবে? তিনি বললেন: “যিনি তাকে দুনিয়াতে দুই পায়ে ভর করে হাটাচ্ছেন, তিনি কি তাকে কিয়ামাতের দিনে মুখের উপরে ভর করিয়ে হাটাতে সক্ষম নন?” কাতাদাহ বলেন: অবশ্যই, আমাদের রবের ইযযতের কসম! (তিনি তাতে সক্ষম)।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: কিয়ামাতের দিনে কাফির ব্যক্তিকে তার চেহারার উপরে ভর করে কিভাবে হাশরে নিয়ে আসা হবে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: যিনি তাকে দুনিয়াতে দুই পায়ের উপরে ভর করে হাটাচ্ছেন, তিনি কি তাকে কিয়ামাতের দিনে মুখের উপরে ভর করিয়ে হাটাতে সক্ষম নন? আল্লাহ সকল বস্তুর উপরে ক্ষমতাবান।
আবু হুরাইরা রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার চাচাকে বলেছিলেন: “আপনি বলুন: لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ তথা: আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য মাবূদ নেই, তাহলে আমি আপনার জন্য কিয়ামাতের দিন সাক্ষ্য দেব।” তিনি বলেছিলেন: যদি কুরাইশরা আমাকে এ কথা বলে তিরস্কার না করত, তাকে একাজ করতে ভয় তাড়িত করেছে, তাহলে আমি তোমার চোখকে শীতল করতাম। তখন আল্লাহ তা‘আলা নাযিল করলেন: إِنَّكَ لا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَكِنَّ اللهَ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ যার অর্থ: “নিশ্চয় তুমি যাকে চাও, তাকে হিদায়াত দিতে পারবে না, বরং আল্লাহ যাকে খুশি হিদায়াত দেন।” [সূরা আল-কাসাস: ৫৬]।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেননবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় চাচা আবু তালিবের মৃত্যু শয্যায় তার কাছ থেকে প্রত্যাশা করেছিলেন যেন সে ‘আল্লাহ ছাড়া কোন প্রকৃত মাবূদ নেই’ একথাটি উচ্চারণ করেন। যাতে করে তিনি তার জন্য কিয়ামাতের দিনে সুপারিশ করতে পারেন এবং তার ইসলাম গ্রহণের সাক্ষ্য দিতে পারেন। আবু তালিব তা বলতে অস্বীকার করেছিল, এ ভয়ে যে, কুরাইশরা তাকে গালি-গালাজ করবে একথা বলে- সে দূর্বল হওয়ার কারণে ও মৃত্যুর ভয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছিল। তারপরে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন: যদি এমনটি না হত, তবে আমি তোমার অন্তরকে খুশি করে দিতে পারতাম শাহাদাত উচ্চারণের মাধ্যমে এবং তোমার সন্তুষ্ট হওয়া পর্যন্ত তোমার আকাঙ্খাকে পূরণ করে দিতাম! তখন আল্লাহ তা‘আলা এ আয়াতটি নাযিল করলেন, যা স্পষ্ট করে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলামের তাওফিক প্রাপ্তির ক্ষেত্রে হিদায়াত প্রদানের মালিক নন, বরং একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই যাকে ইচ্ছা হিদায়াতের তাওফীক দেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সৃষ্টিজগতকে পথ দেখানো, বর্ণনা করা, পরামর্শ প্রদান এবং সরল-সুদৃঢ় পথের দিকে আহবানের মাধ্যমে হিদায়াতের পথ দেখান।
আনাস বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত: নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম খোঁজ নিয়ে সাবিত ইবনু কায়েস-কে তাঁর মাজলিসে অনুপস্থিত পেলেন। তখন এক সাহাবী বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার কাছে তার সংবাদ নিয়ে আসবো। তিনি তাঁর কাছে এসে তাকে তার ঘরে অবনত মস্তকে বসা পেলেন। তিনি বললেন, তোমার কী অবস্থা? তিনি বললেন, অত্যন্ত খারাপ। সাবিত তার গলার স্বর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গলার স্বর থেকে উঁচু করত, ফলে তার আমল নষ্ট হয়ে গেছে। সে জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত।তারপর ঐ ব্যক্তি ফিরে এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জানালেন সাবিত এসব কথা বলেছে। ফলে দ্বিতীয়বার সে মহা সুসংবাদ নিয়ে হাযির হলেন, তিনি বললেন, “তুমি তাঁর কাছে যাও এবং তাকে বল, তুমি জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত নও, বরং তুমি জান্নাতীদের অন্তর্ভুক্ত”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাবিত ইবনু কায়েসকে অনুপস্থিত দেখে তার সম্পর্কে জানতে চাইলেন। এক ব্যক্তি বললেন, আমি তাঁর সংবাদ ও অনুপ্রস্থিত হওয়ার কারণ বের করব। তিনি তাঁর কাছে গেলেন এবং তাঁকে মাথা ঝুকানো চিন্তিত অবস্থায় পেলেন। তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কী অবস্থা? সাবিত তাকে তার খারাপ অবস্থার সংবাদ দিলেন, কারণ সে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আওয়াজের ওপর নিজের আওয়াজ উঁচু করতেন, অথচ যে এরূপ করবে আল্লাহ তার আমল বাতিল হওয়ার সতর্ক বার্তা দিয়েছেন, এবং সে জাহান্নামী! লোকটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ফিরে এলেন এবং তাঁকে তা জানালেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সাবিতের নিকট ফিরে গিয়ে সুসংবাদ দিতে বললেন, জাহান্নামী নয়, বরং সে জান্নাতী। কারণ, তার আওয়াজ স্বভাবগতভাবে উঁচু ছিল, অধিকন্তু সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আনসারীদের খতীব (মুখপাত্র) ছিলেন।