Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way






























Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে সংবাদ দিয়েছেন যে, কিয়ামত ততক্ষণ কায়েম হবেনা, যতক্ষণ না এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তির কবরের পাশে দিয়ে যাওয়ার সময় নিজেকে মৃত ব্যক্তির স্থানে হওয়ার আশা ব্যক্ত করবে। এর কারণ হলো বাতিল শক্তি ও বাতিলপন্থীদের আধিক্যে, ফিতনা-ফ্যাসাদ, পাপাচার ও অন্যায় বৃদ্ধির কারণে তার দ্বীন ও ঈমান চলে যাওয়ার আশঙ্কা করবে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, কোনভাবেই ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামাত কায়েম হবে না, যতক্ষণ না মুসলিম ও ইহুদীরা পরষ্পরে যুদ্ধ করবে। এমনকি মুসলিমদের ভয়ে ইহুদী পাথরের পিছনে পলায়ন করবে; তখন আল্লাহ পাথরকে কথা বলার সক্ষমতা দান করবেন, তখন পাথর মুসলিমদেরকে ডেকে বলবে যে, তার পেছনে একটি ইহুদী লুকিয়ে আছে, যাতে তারা তাকে হত্যা করতে পারে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম শপথ করে বলেছেন যে, মারইয়ামের পুত্র ঈসা ‘আলাইহিস সালামের অবতরণের সময় ঘনিয়ে এসেছে, তিনি মানুষের মাঝে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরী‘আহ অনুযায়ী ন্যায় বিচার করবেন। তিনি ক্রুশ ভেঙ্গে ফেলবেন, যার খৃস্টানরা সম্মান করে থাকে। ঈসা ‘আলাইহিস সালাম শুকর হত্যা করবেন। তাছাড়া ঈসা ‘আলাইহিস সালাম জিযিয়া বা কর রহিত করবেন এবং লোকজন সকলেই ইসলামে প্রবেশ করবে। অধিকন্তু ধন-সম্পদের এরূপ প্রাচুর্য হবে যে, কেউ তা গ্রহণ করবে না। কেননা সবারই প্রচুর ধন-সম্পদ হবে, তাদের কাছে এমন ধন-সম্পদ হবে তাতে সবাই অভাবমুক্ত থাকবে, তাছাড়া বরকত নাযিল হবে এবং ধারাবাহিকভাবে কল্যাণ আসতে থাকবে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে সংবাদ দিয়েছেন যে, সময় কাছাকাছি হয়ে যাওয়া কিয়ামতের আলামত। অর্থাৎ এক বছর অতিবাহিত হওয়া, একমাস অতিবাহিত হওয়ার মত মনে হবে। আর এক মাস অতিবাহিত হওয়া, একসপ্তাহ অতিবাহিত হওয়ার মত মনে হবে। এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলে মনে হবে একদিনের মতো। এক দিন অতিবাহিত হলে মনে হবে একদিন অতিবাহিত হলো। আর ঘন্টাকে খেজুর গাছের পাতা আগুনে পোড়ালে যেভাবে দ্রুত পুড়ে যায়, তেমন মনে হবে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে সংবাদ দিয়েছেন, আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন জমিনকে মুষ্টিতে ধারণ করে একত্রিত করবেন আর আসমানসমূহ কে তাঁর ডান হাতে গুটিয়ে, একটিকে অপরটির উপর ভাঁজ করে দিবেন এবং সেগুলোকে ধ্বংস করে দিবেন। তারপরে বলবেন: আমিই মালিক। কোথায় সব দুনিয়ার মালিকেরা (রাজা-বাদশাহরা)?
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, কিয়ামাতের দিন তার একটি হাউয থাকবে, যার দৈর্ঘ্য এক মাসের সমান দূরত্ব এবং প্রশস্ততাও হবে অনুরূপ। আর তার পানি হবে দুধ থেকেও অধিক সাদা, এর সুবাস হবে অত্যন্ত চমৎকার এবং মিশকের চেয়েও উত্তম। আর এর পানপাত্রের আধিক্যতা আকাশে বিদ্যমান তারকারজির ন্যায়। যে ব্যক্তি উক্ত পানপাত্রে এ হাউয থেকে পানি পান করবে, সে আর পিপাসিত হবে না।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন যে, কিয়ামাতের দিনে তার হাউযের কাছে তিনি উপনীত হবেন, যাতে তিনি তার উম্মাতের মধ্য হতে হাউযের কাছে আসা ব্যক্তিদেরকে দেখতে পান। এমতাবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে থাকা কিছু মানুষকে দূরে নিয়ে যাওয়া হবে। তখন তিনি বলবেন: হে আমার রব! (তারা) আমার লোক এবং আমার উম্মাত। তখন বলা হবে: তুমি কী জান যে, তাদের থেকে তোমার পৃথক হওয়ার পরে কী আমল করেছিল? আল্লাহর কসম! তারা তাৎক্ষণিক তাদের পিছনে ফিরে গিয়েছিল, এবং দীন থেকে মুরতাদ হয়ে গিয়েছিল< সুতরাং তারা তোমার লোকও নয় আবার তারা তোমার উম্মাতও নয়।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কসম করেছেন যে, কিয়ামাত দিবসে তার হাউযের পানপাত্র হবে আসমানে যত নক্ষত্র ও গ্রহ রয়েছে তার থেকেও বেশী। আর এটা এমন রাত, যাতে চাঁদ উদিত হয় না; কেননা চন্দ্রস্নাত রাতে চাঁদের আলোতে ম্লান হওয়ার ফলে তারকাসমূহ খুব একটা প্রস্ফুটিত হয় না। আর যা মেঘমুক্ত রাতের আকাশ; কেননা মেঘাচ্ছন্ন রাতে তারকারাজি দেখার ক্ষেত্রে বাধাপ্রাপ্ত হয়। জান্নাতের পানপাত্রসমূহ, যে ব্যক্তি সেখানে থাকা পানি পান করবে, সে আর কখনো পিপাসিত হবে না। আর এটাই হবে শেষবার যখন সে পিপাসিত হয়ে পান করবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাউযে জান্নাত হতে প্রবাহিত দুটি ধারা মিলিত হবে। আর এর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ হবে সমান। এই হাউযের চারদিক সমান হবে। এর দূরত্ব হবে শামের অন্তর্ভুক্ত বালকা অঞ্চলের আম্মান নামক শহর থেকে শামের অপর প্রান্তের আইলাহ নামে পরিচিত শহর পর্যন্ত। হাউযের পানি হবে দুধ থেকেও সাদা আর তার স্বাদ হবে মধুর স্বাদ থেকেও মিষ্টি।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সংবাদ দিচ্ছেন যে, জাহান্নামের আগুন দুনিয়ার আগুনের সত্তর ভাগের একভাগের সমান। সুতরাং আখিরাতের আগুন দুনিয়ার আগুন থেকে ঊনসত্তর গুণ বেশী উত্তপ্ত হবে। যার প্রতিটি ভাগই দুনিয়ার আগুনের উত্তাপের সমপরিমাণ হবে। তখন জিজ্ঞাসা করা হল: হে আল্লাহর রাসূল! নিশ্চয় দুনিয়ার আগুনই তো যথেষ্ট ছিল তার মধ্যে প্রবেশ করিয়ে আযাব প্রদানের ক্ষেত্রে। তখন তিনি বললেন: জাহান্নামের আগুনকে দুনিয়ার আগুনের চেয়ে ঊনসত্তরগুণ বর্ধিত করা হয়েছে। যার প্রতিটি অংশই উত্তপ্ত হওয়ার ক্ষেত্রে অন্যটির সমান।