





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
‘আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, আমি যখন তোমাদের নিকট আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোন হাদীস বর্ণনা করি, তখন আমার এমন অবস্থা হয় যে, তাঁর উপর মিথ্যারোপ করার চেয়ে আকাশ হতে পড়ে ধ্বংস হয়ে যাওয়া আমার নিকট বেশি পছন্দনীয় এবং আমরা নিজেরা যখন আলোচনা করি তখন কথা হল এই যে, যুদ্ধ ছল-চাতুরী মাত্র। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: “শেষ যুগে একদল যুবকের আবির্ভাব ঘটবে যারা হবে স্বল্পবুদ্ধি সম্পন্ন। তারা মুখে খুব ভাল কথা বলবে। তারা ইসলাম হতে বেরিয়ে যাবে যেভাবে তীর ধনুক হতে বেরিয়ে যায়। তাদের ঈমান গলদেশ পেরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করবে না। যেখানেই এদের সঙ্গে তোমাদের দেখা মিলবে, এদেরকে তোমরা হত্যা করে ফেলবে। যারা তাদের হত্যা করবে তাদের এই হত্যার পুরস্কার আছে কিয়ামতের দিন”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমআমীরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: যদি তোমরা আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা বলতে শুনো, তাহলে আমি কোন উপনাম ব্যবহার করব না, ইঙ্গিতও করব না এবং গোপনও করব না। বরং, আমি খোলামেলা কথা বলব। আমার কাছে আকাশ থেকে পড়ে যাওয়া আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে মিথ্যা বলার চেয়ে সহজ এবং হালকা। আর যদি আমি নিজের এবং জনগণের মধ্যে কথা বলি, তাহলে যুদ্ধ হলো প্রতারণা। আমি হয়তো একটা উপনাম ব্যবহার করতে পারি, অথবা ইঙ্গিত দিতে পারি, অথবা লুকিয়ে রাখতে পারি। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: শেষ যুগে অল্প বয়স ও দুর্বল বিবেকের যুবকরা আসবে, যারা কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত করবে এবং ঘন ঘন তা পাঠ করবে। তারা ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে এবং তার সীমানা লঙ্ঘন করবে যেমন তীর তার লক্ষ্যবস্তু থেকে বেরিয়ে যায়। তাদের ঈমান তাদের গলার বাইরে যাবে না। সুতরাং যেখানেই তাদের পাও, হত্যা করো, কারণ তাদের হত্যা করা কিয়ামতের দিন তাদের হত্যাকারীর জন্য সাওয়াব (পুরস্কার) হবে।
আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ তা’আলা তিনটি কাজ পছন্দ করেন এবং তিনটি কাজ অপছন্দ করেন। তোমাদের জন্য তিনি যা পছন্দ করেন, তা হল: ১. তোমরা তারই ইবাদাত করবে, ২. তার সঙ্গে কিছুই শরীক করবে না এবং ৩. তোমরা সম্মিলিতভাবে আল্লাহর রজ্জু মজবুতভাবে ধারণ করবে ও পরস্পর বিচ্ছিন্ন হবে না। আর যে সকল বিষয় তিনি তোমাদের জন্য অপছন্দ করেন: ১. নিরর্থক কথাবার্তা বলা, ২. অধিক প্রশ্ন করা এবং ৩. সম্পদ বিনষ্ট করা”।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেননবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের তিনটি গুণ পছন্দ করেন এবং তিনটি গুণ অপছন্দ করেন, তিনি তাদের থেকে পছন্দ করেন: আল্লাহকে একক বলে বিশ্বাস করবে এবং তাঁর সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না এবং আল্লাহর অঙ্গীকার, কুরআন ও তাঁর নবীর সুন্নাহকে একসাথে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরবে এবং মুসলিম সম্প্রদায় থেকে বিচ্ছিন্ন হবে না। আর তিনি তাদের জন্য অপছন্দ করেন: তাদের সাথে সম্পর্কিত নয় এমন বিষয় নিয়ে অলস ও বেশী কথা বলা, যা ঘটেনি তা নিয়ে জিজ্ঞাসা করা, অথবা লোকেদের কাছে তাদের অর্থ এবং তাদের হাতে যা আছে এবং তার যা প্রয়োজন দেখা দেয়নি তা প্রার্থনা করা, অর্থ অপচয় করা এবং বৈধ উদ্দেশ্য ব্যতীত অন্য উপায়ে ব্যয় করা এবং তা ধ্বংসের সম্মুখীন করা।
আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনাবসানের পর আবূ বাকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু-কে বললেন, ‘চলুন, আমরা উম্মে আইমানের সাথে সাক্ষাৎ করতে যাই, যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতে যেতেন।’ সুতরাং যখন তাঁরা উম্মে আইমানের কাছে পৌঁছলেন, তখন তিনি কেঁদে ফেললেন। অতঃপর তাঁরা তাঁকে বললেন, ‘তুমি কাঁদছ কেন? তুমি কি জানো না যে, আল্লাহর কাছে যা রয়েছে, তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য (দুনিয়া থেকে) অধিক উত্তম? তিনি উত্তর দিলেন, ‘আমি এ জন্য কান্না করছি না যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য আল্লাহর নিকট যা রয়েছে, তা অধিকতর উত্তম সে কথা আমি জানি না। কিন্তু আমি এজন্য কাঁদছি যে, আসমান হতে ওহী আসা বন্ধ হয়ে গেল।’ উম্মে আইমান (তাঁর এ দুঃখজনক কথা দ্বারা) ঐ দুইজনকে কাঁদতে বাধ্য করলেন। ফলে তাঁরাও তাঁর সাথে কাঁদতে লাগলেন।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।ছোট বড় সব বিষয়ে সাহাবীগণ রাসূলের অনুসরনের ওপর অধিক আগ্রহী ছিলেন। এমনকি তারা তার চলা ফেরা উঠবস শয়ন এবং প্রতিটি কর্ম যা তারা জেনেছেন যে, তিনি করেছেন। এ হাদীসটি এটিকেই প্রমাণ করে। এখানে আবূ বকর এবং উমার রাদিয়াল্লাহুমার একটি ঘটনা আলোচনা করা হয়। তারা দুইজন একজন মহিলাকে দেখতে যান যে মহিলাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখতে যেতেন। তারা দুইজন এ জন্য দেখতে গেলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখতে গিয়েছিলেন। যখন তাঁরা নিকট বসলেন তখন তিনি কেঁদে ফেললেন। অতঃপর তাঁরা তাঁকে বললেন, ‘তুমি কাঁদছ কেন? তুমি কি জানো না যে, আল্লাহর কাছে যা রয়েছে, তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য (দুনিয়া থেকে) অধিক উত্তম? তখন সে বলল, ‘আমি এ জন্য কান্না করছি না। কিন্তু আমি এজন্য কাঁদছি যে, আসমান হতে ওহী আসা বন্ধ হয়ে গেল।’ কারণ, আল্লাহর রাসূল যখন মারা গেল তখন অহী বন্ধ হয়ে গেল। রাসূলুল্লাহর পর আর কোন অহী নেই। এ কারণেই আল্লাহ তা‘আলা তার মৃত্যুর পূর্বে তার শরী‘আতকে পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, আজকের দিন আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পরিপূর্ণ করেছি। আর আমি তোমাদের ওপর নে‘আমতসমূহকে পূর্ণতা দান করেছি। আর তোমাদের জন্য ইসলামকে মনোনীত করেছি। [সূরা মায়েদাহ, আয়াত: ৩] তারপর তারা দু’জন কাঁদতে আরম্ভ করল। কারণ, সে তাদের এমন একটি বিষয় স্মরণ করিয়ে দিল যা তারা ভূলে গিয়েছিলেন।
ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত, “একদা নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিব্রাঈলকে বললেন, ‘আপনি যতটা আমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তার চেয়ে বেশী সাক্ষাৎ করতে কিসে আপনাকে বাঁধা দেয়?’ ফলে এ আয়াত অবতীর্ণ হল, “(জিব্রাঈল বললেন,) আমরা তোমার প্রতিপালকের আদেশ ব্যাতিরেকে অবতরণ করি না। যা আমাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে এবং উভয়ের মধ্যস্থলে রয়েছে সে সকলই তাঁর মালিকানাধীন।” [সূরা মারয়্যাম, আয়াত: ৬৪]
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।হাদীসটি রাসূলের স্বীয় ভাই জিবরীলের প্রতি তার আগ্রহ বর্ণনা করছে। কারণ, সে আল্লাহর পক্ষ থেকে তার কাছে আসত। একবার সে চল্লিশ দিন পর্যন্ত দেরী করে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন হে জিবরীল! আমাদের সাথে সাক্ষাৎ করতে তোমাকে কিসে বাঁধা দেয় ? অর্থাৎ তোমার প্রতি প্রচণ্ড আগ্রহী না হতে তুমি আস নি। তখন জিবরীল বললেন, আমিও তোমার প্রতি আগ্রহী, তবে আমি আদিষ্ট। আল্লাহ জিবরীলকে ওহী করলেন, তুমি মুহাম্মাদকে বল: “আমরা তোমার প্রতিপালকের আদেশ ব্যাতিরেকে অবতরণ করি না।” অর্থাৎ, আল্লাহ বলেন, হে জিবরীল তুমি বল, আমি দীর্ঘ সময় পর তোমার কাছে কেবল আল্লাহর আদেশেই তার হিকমত অনুযায়ী অবতীর্ণ হয়ে থাকি। “তার জন্য রয়েছে যা আমাদের সম্মুখে” আখিরাতের বিষয়গুলো আমাদের সামনে। “ও পশ্চাতে” দুনিয়াবী বিষয়সমূহ। আর পূর্ণাঙ্গ আয়াতের অর্থ হচ্ছে : “এবং যা উভয়ের মধ্যস্থলে রয়েছে” অর্থাৎ, বর্তমান থেকে কিয়ামত পর্যন্ত যা হবে। অর্থাৎ তার সবটুকুর ইলম তার রয়েছে। আর তোমার ভুলে যান না অর্থাৎ তোমাকে ওহী প্রেরণে দেরী করে তিনি তোমাকে ত্যাগ করেন না। মোট কথা এ হাদীসটি প্রমাণ করে যে, মানুষের জন্য উচিত হলো সে যেন ভালো লোকদের সাথে থাকে এবং সে যেন তাদের যিয়ারত করে ও তারাও যেন তার যিয়ারত করে। কারণ, এতে রয়েছে কল্যাণ।
আবূ সা‘ঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত, “আখেরী যামানায় তোমাদের খলীফাগণের মধ্যে একজন খলীফা এমন হবেন, যিনি হাত ভর্তি দান করবেন; গণনা করবেন না।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার সংবাদ দিচ্ছেন যে, শেষ যামানায় খলীফাতুল মুসলিমীন এমন হবেন যে, প্রচুর সম্পদ এবং গণীমতের মাল হস্তগত হওয়ার কারণে উদারতার সঙ্গে অগণিত ও হিসাব ছাড়া সম্পদ ব্যয় করবেন।
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণনা করেন যে, উয়াইনাহ ইবনে হিসন এলেন এবং তাঁর ভাতিজা হুর ইবনে কাইসের কাছে অবস্থান করলেন। এই (হুর্র) উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু-এর খেলাফত কালে ঐ লোকগুলির মধ্যে একজন ছিলেন যাদেরকে তিনি তাঁর নিকটে রাখতেন। আর কুরআন বিশারদগণ বয়স্ক হন অথবা যুবক দল তাঁরা উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু-এর সভাষদ ও পরামর্শদাতা ছিলেন। উয়াইনাহ তাঁর ভাতিজাকে বললেন, ‘হে আমার ভ্রাতুষ্পুত্র! এই খলীফার কাছে তোমার বিশেষ সম্মান রয়েছে। তাই তুমি আমার জন্যে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার অনুমতি চাও।’ ফলে তিনি অনুমতি চাইলেন। সুতরাং উমার তাকে অনুমতি দিলেন। অতঃপর যখন উয়াইনাহ ভিতরে প্রবেশ করলেন, তখন উমার (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু)কে বললেন, ‘হে ইবনে খাত্তাব! আল্লাহর কসম! আপনি আমাদেরকে পর্যাপ্ত দান দেন না এবং আমাদের মধ্যে ন্যায় বিচার করেন না!’ (এ কথা শুনে) উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু রাগান্বিত হলেন। এমনকি তাকে মারতে উদ্যত হলেন। তখন হুর্র তাঁকে বললেন, ‘হে আমীরুল মু’মেনীন! আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নবীকে বলেন, “তুমি ক্ষমাশীলতার পথ অবলম্বন কর। ভাল কাজের আদেশ প্রদান কর এবং মূর্খদিগকে পরিহার করে চল।” (সূরা আল আ’রাফ, আয়াত: ১৯৮) আর এ একজন মূর্খ।’ আল্লাহর কসম! যখন তিনি (হুর্র) এই আয়াত পাঠ করলেন, তখন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু একটুকুও আগে বাড়লেন না। আর তিনি আল্লাহর কিতাবের কাছে (অর্থাৎ, তাঁর নির্দেশ শুনে) তৎক্ষণাত থেমে যেতেন।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।বিশিষ্ট সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা আমীরুল মু‘মিনীন উমার উবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু ‘আনুহর ঘটনা আমাদের বর্ণনা করেন। উয়াইনাহ ইবন হিসন যিনি তার সম্প্রদায়ের বয়স্কদের একজন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর নিকট আসেন। তিনি প্রথমেই কটু বাক্য,গাল মন্দ ও অশালীন কথা বলেন। তারপর এ বলে তাকে ভৎসণা করেন যে, তুমি আমাদের বেশি বেশি দান করো না এবং আমাদের মাঝে ইনসাফ করো না। তার কথায় তিনি এতো বেশি ক্ষুব্ধ হলেন যেন তিনি তাকে মারার উপক্রম। কিন্তু কতক ক্বারী যাদের মধ্যে রয়েছেন উয়াইনাহর ভাই হুর ইবন কায়েস তারা খলীফাকে সম্বোধন করে বললেন, হে আমীরুল মু‘মীনিন, আল্লাহ তা‘আলা তার নবীকে বলেছেন, “তুমি ক্ষমাশীলতার পথ অবলম্বন কর। ভাল কাজের আদেশ প্রদান কর এবং মূর্খদিগকে পরিহার করে চল।” (সূরা আল আ’রাফ, আয়াত: ১৯৮) আর এতো মূর্খদের একজন।’ তখন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু একটুকুও আগে বাড়লেন না। কারণ, তিনি আল্লাহর কিতাবের কাছে (অর্থাৎ, তাঁর নির্দেশ শুনে) সঙ্গে-সঙ্গে থেমে যেতেন। তার কানের সামনে আয়াতটির তিলাওয়াত শোনে তিনি সাথে সাথে থেমে গেলেন তাকে কোন প্রকার মারধর করলেন না। আল্লাহর কিতাবের সামনে এটিই ছিল সাহাবীগনের শিষ্টাচার। তারা তার আগে কখনো বাড়তেন না। যদি তাদের বলা হতো এটি আল্লাহর বাণী তাহলো তারা যে অবস্থায় থাকতেন সে অবস্থায় থেমে যেতেন।
আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, তিনি বলেন, কয়েকটি লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, ‘আমাদের সঙ্গে কিছু শিক্ষিত মানুষ পাঠিয়ে দিন, যারা আমাদেরকে কুরআন ও সুন্নাহর শিক্ষা দেবেন।’ সুতরাং তিনি সত্তর জন আনসারীকে পাঠিয়ে দিলেন--যাঁদেরকে ‘কুররা’ (কুরআনের হাফেয) বলা হত। ‘হারাম’ নামক আমার মামাও তাঁদের অন্যতম। তাঁরা রাতে কুরআন পড়তেন, আপোষে কুরআন অধ্যয়ন করতেন এবং শিক্ষা অর্জন করতেন। আর দিনে তাঁরা পানি এনে মসজিদে রাখতেন। কাঠ সংগ্রহ করে তা বিক্রি করতেন এবং তা দিয়ে আহলে সুফ্ফা (মসজিদে নববীতে অবস্থানরত তৎকালীন ইসলামী ছাত্রবৃন্দ) ও গরীবদের জন্য খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদেরকে প্রেরণ করলেন। পথিমধ্যে তারা তাঁদেরকে আটকে তাঁদের গন্তব্য-স্থলে পৌঁছনোর পূর্বেই হত্যা করে দিল। শাহাদত প্রাক্কালে তাঁরা এই দো‘আ করলেন, “হে আল্লাহ! তুমি আমাদের নবীকে এই সংবাদ পৌঁছে দাও যে, আমরা তোমার সাক্ষাৎ লাভ করেছি, অতঃপর তোমার প্রতি আমরা সন্তুষ্ট হয়েছি এবং তুমিও আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছ।” আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু এর মামা ‘হারাম’-এর পশ্চাৎ দিক থেকে একটি লোক এসে বল্লমের খোঁচা মেরে (শরীর ফুঁড়ে) পার করে দিল। হারাম বলে উঠলেন, ‘কা‘বার প্রভুর কসম! আমি সফল হলাম!’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (উপস্থিত সাহাবীদের সম্বোধন করে) বললেন, “নিঃসন্দেহে তোমাদের ভাইদেরকে শহীদ করে দেওয়া হয়েছে এবং তারা এ বলে দো‘আ করেছে, ‘হে আল্লাহ! তুমি আমাদের নবীকে এই সংবাদ পৌঁছে দাও যে, আমরা তোমার সাক্ষাৎ লাভ করেছি, অতঃপর তোমার প্রতি আমরা সন্তুষ্ট হয়েছি এবং তুমিও আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছ।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।হাদীসের ব্যাখ্যা: আরব জাতির একদল লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে দাবি করল যে, তারা ইসলাম গ্রহণ করেছে এবং নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে কিছু লোক চাইল যারা তাদেরকে কুরআন শিক্ষা দিবেন। ফলে তিনি সত্তরজন লোক দিয়ে তাদের সাহায্য করলেন, যাদেরকে কুররা তথা ক্বারী বলা হতো। যেহেতু তারা অধিক পরিমাণে কুরআন তিলাওয়াত ও হিফয করত। তারা যদিও অধিক পরিমাণে কুরআন পড়ত ও মুখস্ত করত তথাপিও তাদের এ কাজ জীবিকা নির্বাহে বাঁধা দিতো না। এ কারণেই আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, তারা দিনের বেলায় পানি এনে মসজিদে রাখতেন এবং কাঠ সংগ্রহ করে তা বিক্রি করে বিক্রয় লব্ধ অর্থে সুফফা বাসীগণ এবং নি:স্ব ফকীরদের জন্যে আহার্য সামগ্রী ক্রয় করতেন। অর্থাৎ তারা দিনের বেলায় অযু বা পান করা বা অন্য কোনো কাজে ব্যবহারের জন্য পানি এনে মসজিদে রাখতেন। “এবং কাঠ সংগ্রহ করে তা বিক্রি করে বিক্রয় লব্ধ অর্থে সুফফা বাসীগণ এবং নি:স্ব ফকীরদের জন্যে খাদ্য-সামগ্রী ক্রয় করতেন” অর্থাৎ কাষ্ঠ সংগ্রহ করে তা বিক্রি করে বিক্রয় লব্ধ অর্থ দিয়ে খাদ্য ক্রয় করতেন আর তা গরিব-মিসকিনদের জন্য দান করতেন। গরীবদের মধ্যে ছিলেন সুফফার অধিবাসীগণ। আহলে সুফফা বলা হয় সেসব ভিন দেশী গরিব অসহায় লোকদেরকে যারা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের মসজিদে আশ্রয় গ্রহণ করেছিলেন। মসজিদের শেষপ্রান্তে তাদের জন্য শামিয়ানা (ছাপরা) ছিলো যা মসজিদের অংশ থেকে আলাদা ছিলো। এতে ছায়াদার চালা ছিলো এবং তারা সেখানে রাত্রিযাপন করতেন। অত:পর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সঙ্গে ক্বারীদেরকে প্রেরণ করেছিলেন। যখন তারা বি’রে মা‘ঊনাতে পৌঁছল - আর তা হলো তাদের গন্তব্যস্থলে পৌঁছার পূর্বের স্থান যা আবূ বারা ইবন মুলা‘ইব আল-আসিননাহ মানযিল নামে পরিচিত- তখন ‘আমির ইবন তুফাইল ও তার সঙ্গীগণ একত্রে রাস্তায় তাদের উপর আক্রমণ করলো এবং তাদেরকে হত্যা করলো। তখন তারা বললেন, “হে আল্লাহ! আমাদের পক্ষ থেকে আমাদের নবীর কাছে সংবাদ পৌঁছিয়ে দিন যে আমরা আপনার সান্নিধ্যে পৌঁছে গিয়েছি এবং আপনার প্রতি সন্তুষ্ট রয়েছি আর আপনিও আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট রয়েছেন।” অন্য বর্ণনায় এসেছে, “কে আছো! আমাদের পক্ষ থেকে আমাদের জাতির কাছে সংবাদ পৌঁছে দিবে যে, আমরা আমাদের রবের সান্নিধ্যে পৌঁছে গেছি। তিনি আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট আছেন আর আমরাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট রয়েছি।” ফলে জিবরীল আলাইহিস সালাম নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে সংবাদ পৌঁছে দিলেন যে, তারা তাদের রবের সান্নিধ্যে পৌঁছে গেছেন। তিনি তাদের প্রতি সন্তুষ্ট আছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট রয়েছেন। বুখারীর বর্ণনায় এভাবেই এসেছে। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবীগণকে লক্ষ্য করে বললেন, “তোমাদের ভাইগণ নিহত হয়েছেন। আর অন্তিম মূহুর্তে তারা বলেছেন, হে আল্লাহ আমাদের নবীকে সংবাদ পৌঁছিয়ে দিন যে, আমরা আপনার সান্নিধ্যে পৌঁছে গিয়েছি এ অবস্থায় যে, আমরা আপনার প্রতি সন্তুষ্ট আর আপনিও আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট।” মূলকথা হলো, আল্লাহ তা‘আলা তাদের আনুগত্যের কারণে তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং আল্লাহ তাদেরকে যেভাবে সম্মানিত করেছেন ও কল্যাণদান করেছেন তাতে তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। আল্লাহর পক্ষ থেকে সন্তুষ্টির অর্থ হলো তাঁর পক্ষ থেকে কল্যাণ, ইহসান ও রহমত দান করা।
যায়েদ ইবন আরকাম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা এমন এক সফরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বের হলাম, যাতে লোকজন সংকটে পড়েছিল। তখন আব্দুল্লাহ ইবন উবাই তার সাথীদের বলল, “আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের জন্য তোমরা ব্যয় করবে না, যতক্ষণ না তারা তাঁর থেকে সরে পড়ে এবং সে আরও বলল, “আমরা মদিনায় প্রত্যাবর্তন করলে সেখান থেকে প্রভাবশালী লোকেরা দুর্বল লোকদের বহিষ্কৃত করবেই।” যায়েদ ইবন আরকাম বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে এ সম্পর্কে তাঁকে খবর দিলাম। তখন তিনি আব্দুল্লাহ ইবন উবাইকে ডেকে পাঠালেন। সে জোরালো কসম করে বলল, এ কথা সে বলেনি। তখন লোকেরা বলল, যায়েদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মিথ্যা বলেছে। তাদের এ কথায় আমি খুব মনকষ্ট পেলাম। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ আমার সততা সম্পর্কে এ আয়াত নাযিল করলেন, “যখন মুনাফিকগণ আপনার কাছে আসে।” (সূরা আল-মুনাফিকূন, আয়াত: ১) এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের ডাকলেন, যেন তিনি তাদের কৃতকর্মের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন; কিন্তু তারা এ থেকে বিমুখ রয়ে গেলো।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।যায়েদ ইবন আরকাম রাদিয়াল্লাহু আনহু উল্লেখ করেন যে, তিনি এক সফরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলেন। তাঁর সাথে মুসলিম ও মুনাফিক উভয় ধরনের লোক ছিলো। তাতে খাদ্য ও পানীয়ের প্রচণ্ড অভাবে লোকজনের মধ্যে কঠিন সংকট দেখা দেয়। তখন কুফুরী ও মুনাফিকীর সর্দার আব্দুল্লাহ ইবন উবাই ইবন সালূল বলল, “আল্লাহর রাসূলের সাহাবীদের জন্য তোমরা ব্যয় করবে না, যতক্ষণ না তারা তাঁর থেকে সরে পড়ে।” (সূরা আল-মুনাফিকূন, আয়াত: ৭) অর্থাৎ তোমরা তাদের ব্যয়ভারের জন্য কিছুই দান করবে না, যতক্ষণ না তারা ভীষণ ক্ষুধায় পতিত হয়ে পরস্পর বিছিন্ন হয়ে যায় এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গ ত্যাগ করে। সে আরও বলল, “আমরা মদিনায় প্রত্যাবর্তন করলে সেখান থেকে প্রভাবশালী লোকেরা দুর্বল লোকদের বহিষ্কৃত করবেই।” (সূরা আল-মুনাফিকূন, আয়াত: ৮) প্রভাবশালী ও সম্মানিত বলতে সে নিজে ও তার গোত্রকে বুঝিয়েছে। আর দুর্বল দ্বারা রাসূ্ল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বুঝিয়েছে। তার এ কথা যায়েদ ইবন আরকাম রাদিয়াল্লাহু আনহু শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে তাঁকে এ খবর দিলেন যে, আব্দুল্লাহ ইবন উবাই ইবন সালূল এ ধরনের কথা বলেছে এবং তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তার থেকে সাবধান হতে বললেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে লোক পাঠিয়ে তাকে ডেকে আনলেন। সে জোরালো কসম করে বলল, এই কথা সে বলেনি। আর এ ধরনের বলাই হলো মুনাফিকদের চিরাচরিত অভ্যাস। তারা জেনে শুনে মিথ্যা শপথ করে। আবার কসম করে বলে যে, সে একথা বলেনি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুনাফিকদের প্রকাশ্য কথা মেনে নিতেন এবং তাদের গোপনীয় ব্যাপার আল্লাহর কাছে সোপর্দ করতেন। যখন যায়েদ ইবন আরকাম রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে এ সংবাদ পৌঁছল তখন বিষয়টি তার জন্য অনেক কঠিন হয়ে দাঁড়ালো। কেননা লোকটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এ ব্যাপারে শপথ করে বলেছিলো এবং তার শপথ অত্যন্ত জোরালো ছিলো। ফলে লোকেরা বলতে লাগল, যায়েদ ইবন আরকাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মিথ্যা বলেছেন। অর্থাৎ যায়েদ ইবন আরকাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মিথ্যা সংবাদ দিয়েছেন। তাদের এ কথায় তিনি খুব মনকষ্ট পেলেন। অবশেষে আল্লাহ তার সত্যতা প্রমাণে এই আয়াত নাযিল করলেন, “যখন মুনাফিকগণ আপনার কাছে আসে।” (সূরা আল-মুনাফিকূন, আয়াত: ১) অর্থাৎ সূরা আল-মুনাফিকূন নাযিল করেন। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুনাফিকদেরকে বিশেষ করে তাদের সর্দার আব্দুল্লাহ ইবন উবাইকে ডাকলেন। যাতে তিনি তাদের কৃতকর্মের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন; কিন্তু তারা নিজেদের অহংকার বশত এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তা‘আলার কাছে তাদের জন্য ইসতিগফার করবেন, -এটাকে তুচ্ছ তাছিল্য মনে করে তারা মুখ ফিরিয়ে নিলো।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আমি মনে করি না যে, অমুক ও অমুক আমাদের দীন সম্পর্কে কিছু জানে।” এ হাদীসের একজন বর্ণনাকারী লাইস ইবন সা‘দ বলেন, এ দু’ব্যক্তি মুনাফিক ছিলো।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা সংবাদ দেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দু’ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন যে, তারা ইসলাম সম্পর্কে কিছু জানে না। কেননা তারা বাহ্যিকভাবে ইসলাম প্রকাশ করলেও গোপনে কুফুরী পোষণ করত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদিও লোক দু’টির অবর্তমানে তাদের দোষ উল্লেখ করেছেন; কিন্তু তা গীবতের অন্তর্ভুক্ত নয় যা চর্চার করা নিষেধ; বরং তা জরুরি ছিলো, যাতে যারা তাদের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে অবগত নয়, তারা তাদের বাহ্যিক অবস্থা দেখে ধোঁকায় পতিত না হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী “আমি মনে করি না” এখানে ধারণা ইয়াকীনের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরা তাওবায় আল্লাহর পক্ষ থেকে অহীর মাধ্যমে উক্ত মুনাফিকদ্বয় সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, আমরা ‘সূরা বারাআতকে (সূরা আত-তাওবাকে) আল-ফাদিহাহ’ বা অপমানকারী নামে অভিহিত করতাম। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা আরো বলেন, এ সূরায় নাযিল হতে থাকলো যে, আর তাদের মধ্য থেকে, আর তাদের মধ্য থেকে, এতে আমরাও ভয় পাচ্ছিলাম (না জানি আমাদেরকেও এদের কারও অন্তর্ভুক্ত করে দেয়)।