





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি হাসান ও হুসাইনকে ভালোবাসবে সে যেনো আমাকে ভালোবাসল। আর যে তাদেরকে অপছন্দ করবে সে যেনো আমাকে অপছন্দ করল।”
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দৈহিত্রদ্বয় হাসান ও হুসাইনকে ভালোবাসবে সে যেনো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালোবাসল। আর যে তাদেরকে অপছন্দ করবে সে যেনো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অপছন্দ করল। এটি তাদের সুউচ্চ মর্যাদার দলীল।
উমার আল-জাম‘ঈ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফ‘ হিসেবে বর্ণিত: যখন আল্লাহ কোন বান্দার সাথে ভালো ইচ্ছা করেন তখন তার মৃত্যুর পূর্বে তার দ্বারা তা করিয়ে নেন। উপস্থিতদের এক লোক তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, করিয়ে নেওয়ার কি অর্থ? তিনি বললেন, মৃত্যুর পূর্বে আল্লাহ তাকে নেক আমলা করার তৌফিক দেন। তারপর নেক-্আমলের উপর তাকে দুনিয়া থেকে তুলে নেন।
এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।যখন আল্লাহ তার কোন বান্দার সাথে ভালোর ইচ্ছা করেন, মারা যাওয়ার আগে আল্লাহ তাকে ভালো আমল করার তাওফীক দেন। ফলে তার ভালো পরিণতি হাসিল হবে এবং সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মদীনার ইয়াহুদীদের থেকে দুইজন বৃদ্ধা আমার নিকট প্রবেশ করল। তারা আমাকে বলল, কবরবাসীদেরকে কবরে শাস্তি দেওয়া হয়। আমি তাদের কথাকে প্রত্যাখ্যান করলাম। তাদের বিশ্বাস করাকে ভালো মনে করলাম না। তারা চলে গেলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট প্রবেশ করলে আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! দুইজন বৃদ্ধা এবং তারা যা বলল তা উল্লেখ করলাম। তখন তিনি বললেন, তারা সত্য বলেছে, তাদেরকে এমন শাস্তি দেওয়া হয় যা সব চতুষ্পদ জন্তু শুনতে পায়। তারপর প্রতি সালাতে কবরের শাস্তি থেকে তিনি আশ্রয় চাইতেন।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার নিকট মদীনার ইয়াহুদীদের থেকে দুইজন বৃদ্ধা প্রবেশ করল। তারা তাকে বলল, কবরবাসীদেরকে কবরে শাস্তি দেওয়া হয়। তিনি তাদের কথাকে প্রত্যাখ্যান করলেন। তাদের বিশ্বাস করতে সম্মত হলেন না। ইয়াহুদীদের মিথ্যাচার স্পষ্ট হওয়া, দীনের বিষয়ে তাদের মিথ্যাচার এবং আল্লাহর কিতাবে তাদের বিকৃতি করার কারণে তার অন্তর তাদের কথা পছন্দ করেনি। তাই আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার নিকট থেকে তারা চলে গেল এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট প্রবেশ করল। সে ইয়াহুদী দুই মহিলা যা বলল, সে বিষয়ে তাকে অবহিত করল। তখন তিনি বললেন, তারা সত্য বলেছে। অবশ্যই মৃতদেরকে কবরে শাস্তি দেওয়া হয় যা সব চতুষ্পদ জন্তু শুনতে পায়। তারপর আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা জানান যে, রাসূলু সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়াসাল্লাম এর পর থেকে প্রতি সালাতে কবরের শাস্তি থেকে আশ্রয় চাইতেন।
আবূ সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শোনার সাক্ষ্য দিচ্ছি না। তবে যাযেদ ইবন সাবেত আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার গাধার ওপর বনী নাজ্জারের বাগানে ছিলেন আমরাও তার সাথে ছিলাম। হঠাৎ গাধাটি তাকে দৌড় দিল যে, তাকে ফেলে দেওয়ার উপক্রম হলো। কারণ সেখানে ছয়টি বা পাঁচটি বা চারটি কবর ছিল। সে বলল, জারীরী এমনই বলতেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কবরসমূহের বাসীন্দাদের কে চিনে? এক লোক বলল, আমি। তিনি বললেন, তারা কবে মারা গেছে? সে বলল, তারা শির্কের যুগে মারা গেছে। তখন তিনি বললেন, নিশ্চয় এ উম্মতকে কবলে শাস্তি দেওয়া হয়। যদি তোমরা ভয়ে দাফন করবে না এ আশঙ্ক না করতাম তাহলে আমি আল্লাহর নিকট দো‘আ করতাম যাতে তিনি তোমাদের কবরের শাস্তি শোনায় যা আমি শুনি। তারপর তিনি আমাদের দিকে মুখ ফিরালেন এবং বললেন, তোমরা আল্লাহর নিকট কবরের শাস্তি থেকে আশ্রয় চাও। তারা বলল, আমরা আল্লাহর নিকট কবরের আযাব থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। বলল, তোমারা আল্লাহর নিকট জাহেরী ও বাতেনী ফিতনা থেকে আশ্রয় চাও। তারা বলল, আমরা আল্লাহ নিকট প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য ফিতনা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। তোমরা আল্লাহর নিকট দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় চাও। তারা বলল, আমরা আল্লাহর নিকট দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।যায়েদ ইবন সাবেত রাদিয়াল্লাহু বর্ণনা করেন, একদা তারা রাসূলুল্লাহর সাথে আনসারীদের একটি গোত্র যাকে বনী নাজ্জার বলা হতো তাদের বাগানে ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার গাঁধার ওপর সাওয়ার ছিলেন। হঠাৎ তার গাঁধাটি রাস্তা থেকে সরে গেল এবং দৌড় দিল। সে তাকে তার পিঠ থেকে ফেলে দেওয়ার উপক্রম হলো। আর সেখানে দেখা গেল ছয়টি বা পাঁচটি বা চারটি কবর। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, কবরসমূহের বাসীন্দাদের কে চিনে? এক লোক বলল, আমি তাদেরকে চিনি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি যদি তাদের চিনে থাকো তবে বলে দেখি তারা কবে মারা গেছে? সে বলল, তারা শির্কের যুগে মারা গেছে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, নিশ্চয় এ উম্মতকে কবরে পরীক্ষা করা হয়। অতঃপর তাদের পুরষ্কৃত বা শাস্তি প্রদান করা হয়। যদি তোমরা ভয়ে মৃতেদের দাফন করবে না এ আশঙ্ক না করতাম তাহলে আমি আল্লাহর নিকট দো‘আ করতাম যাতে তিনি তোমাদের কবরের শাস্তি শোনায় যা আমি শুনি। কারণ, যদি তোমরা তা শুনতে পাও তবে তোমরা মৃতদের চিৎকারের আওয়াজে তোমার অন্তর প্রকম্পিত হওয়ার ভয়ে অথবা আত্মীয়দের মধ্যে অপমান হওয়ার ভয় তোমরা দাফন করা ছেড়ে দিতে। তারপর তিনি আমাদের দিকে মুখ ফিরালেন এবং বললেন, তোমরা আল্লাহর নিকট চাও যাতে তিনি তোমাদের থেকে কবরের আযাব দূর করে দেয়। তারা বলল, আমরা আল্লাহকে মজবুত করে পাকড়াও করলাম এবং তার নিকট আশ্রয় চাইলাম যাতে কবরের আযাব আমাদের ঘ্রাস না করে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমারা আল্লাহর নিকট কামনা কর যে, তিনি যেন জাহেরী ও বাতেনী ফিতনাকে তোমাদের থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। তারা বলল, আমরা আল্লাহ নিকট প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই। তারপর তিনি বললেন, তোমরা আল্লাহর নিকট চাও যে, তিনি যেন তোমাদের থেকে মাসীহে দাজ্জালের ফিতনাকে প্রতিহত করেন। কারণ, এটি এমন একটি বড় ফিতনা যা কুফরের দিকে নিয়ে যায়। যে কুফর মানুষকে চির জাহান্নামী করে দেয়। তখন তারা বলল, আমরা আল্লাহর নিকট দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই।
আব্দুল্লাহ ইবন ‘উমার রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের কেউ মারা গেলে অবশ্যই তার সামনে সকাল ও সন্ধ্যায় তার অবস্থান স্থল উপস্থাপন করা হয়। যদি সে জান্নাতী হয়, তবে (অবস্থান স্থল) জান্নাতীদের মধ্যে দেখানো হয়। আর সে জাহান্নামী হলে, তাকে জাহান্নামীদের (অবস্থান স্থল দেখানো হয়) আর তাকে বলা হয়, এ হচ্ছে তোমার অবস্থান স্থল, ক্বিয়ামাত দিবসে আল্লাহ্ তোমাকে পুনরুত্থিত করা অবধি”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন কোন বান্দা মারা যায়, তখন দিনের শুরুতে এবং শেষে তাকে জান্নাত বা জাহান্নামে তার স্থান এবং বিশেষ আবাসস্থল দেখানো হয়। যদি সে জান্নাতীদের একজন হয়, তাহলে তার স্থান জান্নাতে এবং যদি সে জাহান্নামী হয়, তাহলে তার স্থান জাহান্নামে। আর তাকে বলা হবে: এটিই তোমার আসন যেখানে তুমি কিয়ামতের দিন পুনরুত্থিত হবে; এটি মুমিনের জন্য সান্ত্বনা এবং কাফিরের জন্য আযাব।
উসামা ইবন যায়েদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদীনার কোন একটি পাথর নির্মিত গৃহের উপর আরোহণ করে বললেন, আমি যা দেখি তোমরা কি তা দেখতে পাচ্ছ? (তিনি বললেন) বৃষ্টি বিন্দু পতিত হওয়ার মত আমি তোমাদের গৃহসমূহের মাঝে ফিতনা পতিত হতে দেখতে পাচ্ছি।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদীনার কোন একটি পাথর নির্মিত গৃহের উপর থেকে তাকিয়ে তার সাহাবীদের বললেন, আমি যা দেখি তোমরা কি তা দেখতে পাচ্ছ? (তিনি বললেন) বৃষ্টি বিন্দু পতিত হওয়ার মত আমি তোমাদের গৃহসমূহের মাঝে ফিতনা সংঘটিত হতে দেখতে পাচ্ছি। এটি মদীনায় সংঘটিত যুদ্ধ, বিদ্রোহ ও ফিতনার প্রতি ইঙ্গিত। যেমন, উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর ফিতনা, হাররার ঘটনা ইত্যাদি।
সাহল ইবন সা‘দ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমাকে প্রেরণ করা হয়েছে কিয়ামতের সাথে এ রকম, এ কথা বলে তিনি আঙ্গুল দু'টিকে প্রসারিত করে ইশারা করেন।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়ার সংবাদ দিয়েছেন। কেননা তাঁর প্রেরণের সময় ও কিয়ামতের দিন অত্যন্ত নিকটবর্তী যেমন তাঁর দু’টি আঙ্গুল পরস্পর নিকটবর্তী। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দু'টি আঙ্গুল প্রসারিত করে অন্যসব আঙ্গুলের থেকে এদু’টিকে পৃথক করেছেন। অন্য হাদীসে তাঁর উক্ত আঙ্গুলদ্বয় সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তা ছিলো তর্জনী (শাহাদত অঙ্গুলী) ও মধ্যমা। তর্জনী অঙ্গুলী হলো মধ্যমা ও বৃদ্ধাঙ্গুলীর মধ্যকার অঙ্গুলী। আপনি যখন এ অঙ্গুলীদ্বয়ের দূরত্ব তুলনা করবেন তখন দেখবেন এ দু’টি আঙ্গুল পাশাপাশি এবং তাদের দূরত্ব অত্যন্ত কম। তর্জনী ও মধ্যমা অঙ্গুলীদ্বয়ের মধ্যকার দূরত্ব এক নখ বা অর্ধনখ পরিমাণ। তর্জনী অঙ্গুলীকে আরবীতে সাব্বাবা বলার কারণ হলো মানুষ যখন কাউকে গালি দেয় তখন এ অঙ্গুলী দ্বারা ইশারা করে। এ অঙ্গুলীকে সাব্বাহা তথা (তাসবীহ পাঠকারী) অঙ্গুলীও বলা হয়। কেননা মহান আল্লাহর সম্মানে যখন তাঁর দিকে ইশারা করে তখন এ অঙ্গুলী দ্বারা আকাশ পানে ইশারা করে। মূলকথা হলো দুনিয়ার বয়স শেষপ্রান্তে এসে গেছে, তা আর বেশি অবশিষ্ট নেই।
তামীম আদ-দারী রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: “এ বিষয়টি (দীন ইসলাম ) অবশ্যই যেখানে রাত ও দিন পৌঁছে সেখানেই পৌঁছে যাবে। এ দীনকে প্রবেশ করানো ছাড়া গ্রাম ও শহরের কোন ঘরকে আল্লাহ ছাড়বেন না। সম্মানীকে সম্মানের সাথে অথবা অসম্মানীকে অসম্মানের সাথে এ দীনকে প্রতিটি ঘরে পৌঁছাবেন। এমন সম্মান যার দ্বারা আল্লাহ ইসলামকে সম্মানীত করবেন এবং এমন অসম্মান যার দ্বারা আল্লাহ কুফরকে অসম্মান করবেন। তামীম আদ-দারী বলতেন: এটি আমি আমার পরিবারের মধ্যে উপলব্ধি করেছি। তাদের মধ্যে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছে তারা কল্যাণ, ইজ্জত ও সম্মান লাভ করেছে আর তাদের মধ্যে যারা কাফির ছিল, তারা বে ইজ্জতী, অপমান ও জিযিয়া বা করের আওতায় পড়েছে।”
এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, এ দীন (ইসলাম) অচিরেই পৃথিবীর প্রতিটি অংশে পরিব্যপ্ত হয়ে যাবে। সুতরাং রাত-দিন হয়, এমন প্রতিটি স্থানেই এ দীন পৌঁছে যাবে। শহর কিংবা গ্রাম, বেদুঈনের ঝুপড়ি কিংবা মরুভুমি এমন কোন স্থান আল্লাহ বাকী রাখবেন না, যেখানে তিনি এ দীনকে প্রবেশ করাবেন না। যে ব্যক্তি এ দীন কবুল করবে এবং এর উপরে ঈমান আনবে, সে ব্যক্তি ইসলামের সম্মানে সম্মানিত হবে। আর যে তা প্রত্যাখ্যান করবে আর কুফুরী করবে, সে অপমানিত ও লাঞ্ছিত হবে। এরপরে সাহাবী তামীম আদ-দারী রদিয়াল্লাহু আনহু বলছেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে সংবাদ দিয়েছেন, তা তিনি বিশেষভাবে তার বাড়ীতেই দেখতে পেয়েছেন। তাদের মধ্য হতে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছিল তারা কল্যাণ, সম্মান ও ইজ্জত পেয়েছিল আর তাদের মধ্য হতে যারা কুফুরী করেছিল, তারা লাঞ্ছনা ও অপমানের শিকার হয়েছিল আর এর সাথে আরো ছিল তাদের মাল হতে কিছুটা মুসলিমদের হাতে সমর্পণ করা (জিযিয়া হিসেবে)।
‘আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: আমি জিজ্ঞাসা করলাম: হে আল্লাহর রাসূল! ইবনু জুদ‘আন জাহিলী যুগে রক্ত সম্পর্ককে ঠিক রাখত ও মিসকীনদেরকে খাবার দিত। এগুলো কি তার কোন উপকারে আসবে? তিনি বললেন: “এটা তার কোন উপকারেই আসবে না, যেহেতু সে কোনদিনই বলেনি: “হে আমার রব, বিচার দিনে আমার ভুল-ত্রুটিগুলো ক্ষমা করে দিবেন।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেননবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আব্দুল্লাহ ইবনু জুদ‘আন সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন, আর সে ছিল ইসলাম-পূর্ব যুগে কুরাইশদের অন্যতম নেতা। তার অন্যতম ভালো কাজ ছিল: সে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখত, মিসকীনদেরকে খাবার দিত, এরকম আরো অন্যান্য কাজ যেগুলো করার জন্য ইসলাম উৎসাহিত করেছে। তবে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবহিত করছেন যে, এসব আখিরাতে তার কোন কাজে আসবে না। এর কারণ হচ্ছে: সে আল্লাহর সাথে কুফুরী করেছে এবং সে কোনদিন বলেনি যে, হে আমার রব! বিচারের দিনে আমার ভুল-ত্রুটিগুলো ক্ষমা করে দিবেন।