





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু কর্তৃক মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত, “যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করল, সে তো আল্লাহর আনুগত্য করল এবং যে আমার অবাধ্যতা করল, সে তো আল্লাহর অবাধ্যতা করল। আর যে ব্যক্তি নেতার আনুগত্য করবে, সে তো আমার আনুগত্য করল এবং যে নেতার অবাধ্যতা করবে, সে তো আমার অবাধ্যতা করল।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্ট করেছেন যে, তার আনুগত্য করা আল্লাহর আনুগত্যের অংশ। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য ও তার উম্মতের জন্য যে শরী‘আত প্রবর্তন করেছেন তিনি তো শুধু সে নির্দেশই প্রদান করেন। সুতরং তিনি যখন কোনো কিছুর নির্দেশ দেন, তখন সেটা আল্লাহর শরী‘আত হয়ে যায়। অতএব যে তার আনুগত্য করল সে তো আল্লাহরই আনুগত্য করল। আর যে তাকে অমান্য করল, সে তো আল্লাহকেই অমান্য করল। আবার যে ব্যক্তি শাসকের অানুগত্য করল, সে তো রাসূলেরই আনুগত্য করল, আর যে শাসকের অবাধ্যতা করল, সে তো রাসূলেরই অবাধ্যতা করল। কারণ, একাধিক হাদীসে শাসকের কথা মানার জন্য রাসূলই নির্দেশ দিয়েছেন। তবে যদি পাপের নির্দেশ প্রদান করে সেটা ভিন্ন কথা।
আওফ ইবন মালেক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত, “তোমাদের সর্বোৎকৃষ্ট শাসকবৃন্দ তারা, যাদেরকে তোমরা ভালোবাস এবং তারাও তোমাদেরকে ভালোবাসে, তোমরা তাদের জন্য দো‘আ কর এবং তারাও তোমাদের জন্য দো‘আ করে। আর তোমাদের নিকৃষ্টতম শাসকবৃন্দ তারা, যাদেরকে তোমরা ঘৃণা কর এবং তারাও তোমাদেরকে ঘৃণা করে, তোমরা তাদেরকে অভিশাপ প্রদান কর, তারাও তোমাদেরকে অভিশাপ প্রদান করে”। (বর্ণনাকারী) বলেন, আমরা বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করব না?’ তিনি বললেন, “না, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তোমাদের মধ্যে সালাত প্রতিষ্ঠা করবে। না, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তোমাদের মধ্যে সালাত প্রতিষ্ঠা করবে।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।এ হাদীসটি প্রমাণ করে মুসলিম শাসকদের কতক আছে ভালো আবার কতক আছে খারাপ ও কম দীনদারী সম্পন্ন। তা সত্বেও যতক্ষণ তারা ইসলামী বিধি-বিধান কায়েম করার ওপর অটল থাকবে, তন্মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সালাত, ততক্ষণ তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা যাবে না।
ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মুখ দিয়ে একটি গাধা গেল, যার মুখে দাগ লাগানো ছিল। তিনি বললেন, যে লোক এটিকে দাগ লাগিয়েছে, আল্লাহ তাকে লানত করুন।” মুসলিমের আরেক বর্ণনায় এসেছে, “রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীব-জন্তুর মুখে প্রহার ও দাগ লাগানতে নিষেধ করেছেন।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।এ হাদীসে তার প্রতি কঠোর সাবধান বাণী উচ্চারণ করা হয়েছে যে, প্রাণির মুখে দাগ লাগায় ও মুখে প্রহার করে। আলিমগণ এ ধরণের কাজকে কবীরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত বলেছেন। তারা নিষেধাজ্ঞার কারণ বর্ণনায় বলেছেন, মুখ-মণ্ডল হচ্ছে যাবতীয় সৌন্দর্যের কেন্দ্র সূক্ষ্ম জায়গা। তার অঙ্গগুলো দ্বারা মানুষ অধিক অনুভূতি গ্রহণ করে, সুতরাং মুখে প্রহর সেটা বিনষ্ট ও হ্রাস করে দিতে পারে, কখনো চেহারা বিকৃত করে দিতে পারে, আর এতে বিকৃতিা খুব খারাপ। কারণ এটা প্রকাশ্য ও স্পষ্ট জায়গা যা ঢাকা সম্ভব নয়, আর তাতে আঘাত করলে ক্ষত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী।
’আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি সেনাবাহিনী প্রেরণ করেন এবং আনসারদের এক ব্যক্তিকে তার সেনাপতি নিযুক্ত করে তিনি তাদেরকে তাঁর (সেনাপতির) আনুগত্য করার নির্দেশ দেন। (কোন কারণে) আমীর রাগান্বিত হয়ে যান। তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তোমাদেরকে আমার আনুগত্য করতে নির্দেশ দেননি? তাঁরা বললেন, অবশ্যই। তিনি বললেন, তাহলে তোমরা কিছু কাঠ সংগ্রহ করে আনো। তাঁরা কাঠ সংগ্রহ করলেন। তিনি বললেন, এগুলোতে আগুন লাগিয়ে দাও। তাঁরা ওতে আগুন লাগালেন। তখন তিনি বললেন, এবার তোমরা সকলে এ আগুনে প্রবেশ কর। তারা আগুনে প্রবেশ করতে সংকল্প করে ফেললেন। কিন্তু তাদের কয়েকজন অন্যদের বাধা দিয়ে বলতে লাগলেন, আগুন থেকেই তো আমরা পালিয়ে গিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আশ্রয় নিয়েছিলাম। এভাবে ইতস্তত করতে করতে আগুন নিভে গেল এবং তার ক্রোধও ঠান্ডা হল। এরপর এ সংবাদ নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পৌঁছলে তিনি বললেন, “যদি তারা আগুনে ঝাঁপ দিত,তাহলে কিয়ামতের দিন পর্যন্ত আর এ আগুন থেকে বের হতে পারত না। আনুগত্য (করতে হবে) কেবল সৎ কাজের”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি ছোট বাহিনী (সারিয়া) পাঠালেন এবং একজন আনসারী সাহাবীকে তাদের নেতা (আমির) নিযুক্ত করলেন। তিনি সাহাবীদেরকে সেই নেতার আনুগত্য করতে নির্দেশ দেন। সেই নেতা কোনো কারণে রাগ করে বললেন: তোমরা কি শুনোনি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদেরকে আমাকে মান্য করার নির্দেশ দিয়েছেন? তারা বললো: হ্যাঁ (অবশ্যই)। তিনি বললেন: তবে আমি তোমাদের আদেশ দিলাম যে তোমরা কাঠ সংগ্রহ করবে এবং আগুন জ্বালাবে, তারপর তাতে প্রবেশ করবে। অতঃপর তারা কাঠ সংগ্রহ করল এবং আগুন জ্বালালো। কিন্তু যখন তারা তাতে প্রবেশ করতে চাইল, তখন তারা একে অপরের দিকে তাকাতে লাগল (অর্থাৎ দ্বিধায় পড়ে গেল) তারা বলল: আমরা তো নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অনুসরণ করেছি কেবল আগুন (জাহান্নাম) থেকে বাঁচার জন্য। তাহলে কি আমরা এখন তাতে প্রবেশ করব? আর যখন তারা এমন ভাবছিল, তখন আগুনের শিখা নিভে গেল এবং আমীরের (নেতার) রাগ প্রশমিত হয়ে গেল। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ কথা শুনে বললেন: যদি তারা তাকে মান্য করে সেই আগুনে প্রবেশ করত যা তারা জ্বালিয়েছিল, তবে তারা তাতে শাস্তি পেত এবং দুনিয়ার মেয়াদ পর্যন্ত তা থেকে বের হতে পারত না। কারণ কোনো ব্যক্তির আনুগত্য নেই, যদি তা হয় স্রষ্টার অবাধ্যতা; আনুগত্য শুধু সৎ কাজে, পাপে নয়।
হুযায়ফা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: "শীঘ্রই এমন শাসক আসবে যারা মিথ্যা বলবে এবং অন্যায় করবে। যে তাদের মিথ্যাকে সত্য বলবে এবং তাদের অন্যায় কাজে সাহায্য করবে সে আমার দলভুক্ত নয় এবং আমিও তার দলভুক্ত নই এবং সে আমার কাছে কূপের ধারে আসবে না। আর যে তাদের মিথ্যাকে সত্য বলবে না এবং তাদের অন্যায় কাজে সাহায্য করবে না সে আমার দলভুক্ত এবং আমিও তার দলভুক্ত এবং সে আমার কাছে কূপের ধারে আসবে।"
এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, তাঁর মৃত্যুর পর এমন শাসক আসবে যারা কথায় মিথ্যা বলবে এবং যা করবে না তা বলবে এবং শাসনে তারা অন্যায়কারী হবে। সুতরাং যে কেউ তাদের কাছে যাবে এবং তাদের মিথ্যাকে সত্য বলবে, অথবা অন্যায় কাজ করে অথবা কথার মাধ্যমে তাদের সাহায্য করবে যেমন তাদের নৈকট্য লাভের চেষ্টা করে এবং তাদের কাছে যা আছে তার আশা করে তাদের স্বার্থে ফতোয়া জারি করা; তাহলে আমি তার থেকে বিচ্ছিন্ন এবং সে আমার দলের নয় আর আমিও তার দলের নই এবং কিয়ামতের দিন হাউজে কাউসারে আমার কাছে আসবে না। আর যে ব্যক্তি তাদের কাছে যাবে না এবং তাদের মিথ্যাচারকে সত্য বলবে না এবং তাদের অন্যায় কাজে তাদের সাহায্য করবে না, সে আমার দলের আর আমিও তার দলের আর সে কিয়ামতের দিন আমার কাছে হাউজে কাউসারে আসবে।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আন্হা থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত, “যখন আল্লাহ কোন শাসকের মঙ্গল চান, তখন তিনি তার জন্য সত্যনিষ্ঠ (শুভাকাঙ্খী) একজন মন্ত্রী নিযুক্ত ক’রে দেন। শাসক (কোন কথা) ভুলে গেলে সে তাকে তা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং স্মরণ থাকলে তারা তাকে সাহায্য করে। আর যখন আল্লাহ তার অন্য কিছু (অমঙ্গল) চান, তখন তার জন্য মন্দ মন্ত্রী নিযুক্ত ক’রে দেন। শাসক বিস্মৃত হলে সে তাকে স্মরণ করিয়ে দেয় না এবং স্মরণ থাকলে তারা তাকে সাহায্য করে না।”
এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন আল্লাহ আমীরের ভালো চান। এখানে এরাদা (অর্থাৎ চাওয়া) দ্বারা উদ্দেশ্য ইরাদায়ে কাওনী. কাদারী (অর্থাৎ পার্থিব স্বার্থ সংশ্লিষ্ট তাকদীর)। এ কারণেই তাতে—এই চাওয়াতে— ভালো ও মন্দ একাধিক বিষয় রয়েছে। কারণ, আল্লাহ কখনো এই এরাদাকে মহব্বত করে এবং কখনো তাকে ঘৃণা করেন। ফলে এই ইরাদাহ ব্যাপকতার কারণে ইরাদায়ে শর‘ঈয়াহ যাকে আল্লাহ মহব্বত করেন তাকও সামিল করে। আর এ কল্যাণকে এ বলে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে, আমীরের জন্য একজন সত্যবাদী ওযীরের তাওফীক দেওয়া যাতে দুনিয়া আখিরাত উভয় জাহানে তার কল্যাণ হয়। এমনিভাবে এর ব্যখ্যা জান্নাত দ্বারাও করা হয়ে থাকে। তার বাণী: “সত্যবাদী মন্ত্রী নিয়োজিত করেন” আল্লাহ তা‘আলা তার কথা, কাজে, প্রকাশ্যে ও গোপনে একজন সত্যবাদী মন্ত্রী নিযুক্ত করেন। এখানে তাকে সততার দিকে নিসবত করা হয়েছে। কারণ, সাথী হওয়া ইত্যাদি ক্ষেত্রে সততাই মূল। “যদি আমীর ভুলে যায়”—ভুলে যাওয়া মানুষের স্বভাব—অর্থাৎ, যদি আমীর প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো ভুলে যায় অথবা শর‘ঈ কোন বিধানের বিষয়ে অজ্ঞ থাকে অথবা কোন অত্যাচারিত লোকের ফায়সালা অথবা জন কল্যাণকর কোন বিষয় ভুলে গেছে তা এ সৎ মন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেয় এবং তাকে দিক নির্দেশনা দেয়। আর যদি আমীরের স্মরণ থাকে, তবে সে তাকে কথা, কাজ বা মতামত দিয়ে সাহায্য করে। আর যদি তার সাথে অন্য কিছু অর্থাৎ অমঙ্গল ইচ্ছা করেন, এভাবে ব্যক্ত করা দ্বারা খারাপ কর্ম থেকে বিরত থাকার প্রতি ইশারা করা হয়েছে। কারণ, যখন সে খারাপ কর্ম ঘৃণিত বা মন্দ হওয়ার কারণে তার নাম নেওয়া থেকেই বিরত থাকে, তাহলে খারাপ কর্ম থেকে বিরত থাকা আরও অধিক শ্রেয়। আর এখানে ইসম ইশারাহ যালিকা যা দূরের অর্থ বুঝায় নিয়ে আসা দ্বারা, ভালো কর্ম মহান, তার মর্যাদা উচ্চ হওয়া এবং তা তালাশ করা ও লাভ করতে স্বচেষ্ট হওয়ার প্রতি উৎসাহ প্রদানের ইশারা করা হয়েছে। ফলাফল হল, “তার জন্য অসৎ মন্ত্রী নিয়োগ করা হয়”। অর্থাৎ, কথা কর্মে উল্লেখিত গুণের বিপরীত। যদি সে ভুলে যায় তখন সে প্রয়োজনীয় বিষয় ছেড়ে দেয়। সে তা তাকে স্মরণ করিয়ে দেয় না। কারণ, তার অন্তরে নূর নেই যা তাকে তার ওপর উঠাবে। আর যদি স্মরণ থাকে তাকে সাহায্য করে না। বরং তার স্বভাব ও কর্ম খারাপ হওয়ার কারণে তাকে তা থেকে দূরে সরানোর চেষ্টা করে।
আবূ সা‘ঈদ ও আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘আল্লাহ যখনই কোন নবী প্রেরণ করেন এবং কোন খলীফা নির্বাচিত করেন, তখনই তাঁর জন্য দু’জন সঙ্গী নিযুক্ত করে দেন। একজন সঙ্গী তাঁকে ভাল কাজের নির্দেশ দেয় এবং তার প্রতি উৎসাহিত করে। আর দ্বিতীয়জন সঙ্গী তাঁকে মন্দ কাজের নির্দেশ দেয় এবং তার প্রতি উৎসাহিত করে। আর রক্ষা পান কেবলমাত্র তিনিই, যাকে আল্লাহ রক্ষা করেন।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।নবী ‘আলাইহিস সালাম বলেছেন যে, আল্লাহ যাকেই নবী হিসাবে প্রেরন করেন এবং খলীফা হিসাবে নিযুক্ত করেন, তার জন্য দু’জন করে (একান্ত) সঙ্গী থাকে। একজন ভালো সঙ্গী যে তাকে ভালো কাজের নির্দেশ দেয় এবং তাকে তৎপ্রতি অনুপ্রাণিত করে। আর একজন খারাপ সঙ্গী যে তাকে মন্দ কাজের পরামর্শ দেয় এবং তৎপ্রতি উৎসাহিত করে। অকল্যাণকর সঙ্গী থেকে সেই নিষ্পাপ থাকে যাকে আল্লাহ রক্ষা করেন।
আবূ ওয়ায়েল শাকীক ইবনে সালামা-রাহিমাহুল্লাহ- হতে বর্ণিত তিনি বলেন, ইবনে মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু প্রত্যেক বৃহস্পতিবারে আমাদেরকে নসীহত শুনাতেন। একটি লোক তাঁকে নিবেদন করল, ‘হে আবূ আব্দুর রহমান! আমার বাসনা এই যে, আপনি আমাদেরকে যদি প্রত্যেক দিন নসীহত শুনাতেন (তো ভাল হত)।’ তিনি বললেন, ‘স্মরণে রাখবে, আমাকে এতে বাধা দিচ্ছে এই যে, আমি তোমাদেরকে বিরক্ত করতে অপছন্দ করি। আমি নসীহতের ব্যাপারে তোমাদের প্রতি ঠিক ঐভাবে লক্ষ্য রাখছি, যেভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বিরক্ত হবার আশংকায় উক্ত বিষয়ে আমাদের প্রতি লক্ষ্য রাখতেন।’
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।শাকীক ইবনে সালামা-রাহিমাহুল্লাহ- বলেন, ইবনে মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু প্রত্যেক বৃহস্পতিবারে আমাদেরকে নসীহত শুনাতেন। একটি লোক তাঁকে নিবেদন করল, আমরা পছন্দ করি যে, আপনি আমাদেরকে প্রত্যেক দিন নসীহত শুনান। তিনি বললেন, আমাকে এতে যে বিষয়টি বারণ করছে, তা হলো আমি তোমাদেরকে বিরক্তি ও সংকোচে ফেলতে অপছন্দ করি। আমি নসীহতের ব্যাপারে তোমাদের প্রতি ঠিক ঐভাবে লক্ষ্য রাখছি, যেভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বিরক্ত হবার আশংকায় উক্ত বিষয়ে আমাদের প্রতি লক্ষ্য রাখতেন।’ কারণ, বিরক্তির সময় নসীহত করা দ্বারা কোন উপকার হয় না।
সুহাইব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের পূর্ববর্তী যামানায় এক বাদশাহ ছিল। তার ছিল এক যাদুকর। বার্ধক্যে পৌছে সে বাদশাহকে বলল, আমি তো বৃদ্ধ হয়ে পড়েছি, সুতরাং একজন যুবককে আপনি আমার কাছে প্রেরণ করুন, যাকে আমি যাদুবিদ্যা শিক্ষা দিব। অতঃপর যাদুবিদ্যা শিক্ষা দেয়ার জন্য বাদশাহ তার কাছে এক যুবককে প্রেরণ করল। বালকের যাত্রা পথে ছিল এক ধর্মযাজক। যুবক তার কাছে বসল এবং তার কথা শুনল। তার কথা যুবকের পছন্দ হলো। তারপর যুবক যাদুকরের কাছে যাত্রাকালে সর্বদাই ধর্মযাজকের কাছে যেত এবং তার নিকট বসত। তারপর সে যখন যাদুকরের কাছে যেত তখন সে তাকে মারধর করত। ফলে যাদুকরের ব্যাপারে সে ধর্মযাজকের কাছে অভিযোগ করল। তখন ধর্মযাজক বলল, তোমার যদি যাদুকরের ব্যাপারে ভয় হয় তবে বলবে, আমার পরিবারের লোকেরা আমাকে আসতে দেয়নি। আর যদি তুমি তোমার গৃহকর্তার ব্যাপারে আশঙ্কাবোধ কর তবে তুমি বলবে, যাদুকর আমাকে বিলম্বে ছুটি দিয়েছে। এমনিভাবে চলতে থাকাবস্থায় একদিন হঠাৎ সে একটি ভয়ানক হিংস্র প্রাণীর সম্মুখীন হলো, যা লোকেদের পথ আটকিয়ে রেখেছিল। এ অবস্থা দেখে সে বলল, আজই জানতে পারব, যাদুকর উত্তম না ধর্মযাজক উত্তম। অতঃপর একটি পাথর হাতে নিয়ে সে বলল, হে আল্লাহ! যদি যাদুকরের চাইতে ধর্মযাজক আপনার কাছে পছন্দনীয় হয়, তবে এ পাথরাঘাতে এ হিংস্র প্রাণীটি নিঃশেষ করে দিন, যেন লোকজন চলাচল করতে পারে। অতঃপর সে সেটার প্রতি পাথর ছুড়ে দিল এবং সেটাকে মেরে ফেলল। ফলে লোকজন আবার যাতায়াত শুরু করল। এরপর সে ধর্মযাজকের কাছে এসে তাকে সম্পূর্ণ ঘটনা বলল। ধর্মযাজক বলল, বৎস! আজ তুমি আমার থেকেও শ্রেষ্ঠ। তোমার মর্যাদা এ পর্যন্ত পৌছেছে যা আমি দেখতে পাচ্ছি। তবে শীঘ্রই তুমি পরীক্ষার সম্মুখীন হবে। যদি পরীক্ষার মুখোমুখি হও তবে আমার কথা গোপন রাখবে। এদিকে যুবক আল্লাহর হুকুমে জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে আরোগ্য দান করতে লাগল এবং লোকেদের সমুদয় রোগ-ব্যাধির নিরাময় করতে লাগল। বাদশাহর পরিষদবর্গের এক লোক অন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তার সংবাদ সে শুনতে পেয়ে বহু হাদিয়া ও উপটৌকন নিয়ে তার নিকট আসলো এবং তাকে বলল, তুমি যদি আমাকে আরোগ্য দান করতে পার তবে এসব মাল আমি তোমাকে দিয়ে দিব। এ কথা শুনে যুবক বলল, আমি তো কাউকে আরোগ্য দান করতে পারি না। আরোগ্য তো দেন আল্লাহ তা’আলা। তুমি যদি আল্লাহর উপর ঈমান আনো তবে আমি আল্লাহর কাছে দুআ করব, আল্লাহ তোমাকে আরোগ্য দান করবেন। তারপর সে আল্লাহর উপর ঈমান আনলো। আল্লাহ তা’আলা তাকে রোগ মুক্ত করে দিলেন। এরপর সে বাদশাহর কাছে এসে অন্যান্য দিনের ন্যায় এবারও বসল। বাদশাহ তাকে প্রশ্ন করল, কে তোমার দৃষ্টি শক্তি ফিরিয়ে দিয়েছে? সে বলল, আমার পালনকর্তা। এ কথা শুনে বাদশাহ তাকে আবার প্রশ্ন করল, আমি ছাড়া তোমার অন্য কোন পালনকর্তাও আছে কি? সে বলল, আমার ও আপনার সকলের প্রতিপালকই মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীন। অতঃপর বাদশাহ্ তাকে পাকড়াও করে অবিরতভাবে শাস্তি দিতে লাগল, অবশেষে সে ঐ বালকের অনুসন্ধান দিল, অতঃপর বালককে নিয়ে আসা হলো। বাদশাহ তাকে বলল, হে প্রিয় বৎস! তোমার যাদু এ পর্যায়ে পৌছে গেছে যে, তুমি অন্ধ ও কুষ্ঠ রোগীকেও নিরাময় করতে পার। বালক বলল, আমি কাউকে নিরাময় করতে পারি না। নিরাময় করেন আল্লাহ। ফলে বাদশাহ তাকে শাস্তি দিতে লাগল, অবশেষে সে ধর্মযাজকের (দরবেশের) কথা বলে দিল। এরপর ধর্মযাজককে ধরে আনা হলো এবং তাকে বলা হলো তুমি তোমার দীন থেকে ফিরে এসো। সে অস্বীকার করল, ফলে তার মাথার তালুতে করাত রেখে সেটাকে টুকরো টুকরো করে ফেলা হলো। এতে তার মাথাও দ্বিখণ্ডিত হয়ে গেল। অবশেষে ঐ যুবকটিকে আনা হলো এবং তাকেও বলা হলো তুমি তোমার দীন থেকে ফিরে এসো। সেও অস্বীকার করল। অতঃপর বাদশাহ তাকে তার কিছু সহচরের হাতে তাকে অর্পণ করে বলল, তোমরা তাকে অমুক পাহাড়ে নিয়ে যাও এবং তাকে সহ পাহাড়ে আরোহণ করো। পর্বত শৃঙ্গে পৌছার পর সে যদি তার ধর্ম থেকে ফিরে আসে তবে ভাল। নতুবা তাকে সেখান থেকে ছুড়ে মারবে। তারপর তারা তাকে নিয়ে গেল এবং তাকে সহ পর্বতে আরোহণ করল। তখন সে দুআ করে বলল, হে আল্লাহ! তোমার যেভাবে ইচ্ছা আমাকে তাদের ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করো। তৎক্ষণাৎ তাদেরকে সহ পাহাড় কেঁপে উঠল। ফলে তারা পাহাড় হতে গড়িয়ে পড়ল। আর সে হেঁটে হেঁটে বাদশাহর কাছে চলে এলো। এ দেখে বাদশাহ্ তাকে প্রশ্ন করল, তোমার সাথীরা কোথায়? সে বলল, আল্লাহ আমাকে তাদের চক্রান্ত হতে সংরক্ষণ করেছেন। আবারো বাদশাহ্ তাকে তার কতিপয় সহচরের হাতে সমর্পণ করে বলল, তোমরা তাকে নিয়ে নাও এবং নৌকায় উঠিয়ে তাকে মাঝ সমুদ্রে নিয়ে যাও। অতঃপর সে যদি তার দীন (ধর্ম) হতে ফিরে আসে তবে ভাল, নতুবা তোমরা তাকে সমুদ্রে ফেলে দাও। তারা তাকে সমুদ্রে নিয়ে গেল। এবারও সে দু’আ করে বলল, হে আল্লাহ! তোমার যেভাবে ইচ্ছা তুমি আমাকে তাদের চক্রান্ত থেকে রক্ষা করো। তৎক্ষণাৎ নৌকাটি তাদেরসহ উল্টে গেল। ফলে তারা সকলেই পানিতে ডুবে গেল। আর যুবক হেঁটে হেঁটে বাদশাহর কাছে চলে এলো। এ দেখে বাদশাহ্ তাকে আবার প্রশ্ন করল, তোমার সঙ্গীগণ কোথায়? সে বলল, আল্লাহ আমাকে তাদের ষড়যন্ত্র হতে রক্ষা করেছেন। অতঃপর সে বাদশাহকে বলল, তুমি আমাকে হত্যা করতে পারবে না যে পর্যন্ত না তুমি আমার নির্দেশিত পদ্ধতি অবলম্বন করবে। বাদশাহ বলল, সে আবার কি? যুবক বলল, একটি ময়দানে তুমি লোকেদেরকে জমায়েত করে। অতঃপর একটি কাঠের শুলীতে আমাকে উঠিয়ে আমার তীরদানী হতে একটি তীর নিয়ে সেটাকে ধনুকের মাঝে রাখে। এরপর بِاسْمِ اللَّهِ رَبِّ الْغُلاَمِ "বালকের প্রভুর নামে" বলে আমার দিকে তীর নিক্ষেপ কর। এ যদি কর তবে তুমি আমাকে মেরে ফেলতে পারবে। তার কথা অনুসারে বাদশাহ লোকেদেরকে এক মাঠে জমায়েত করল এবং তাকে একটি কাষ্ঠের শূলীতে চড়ালো। অতঃপর তার তীরদানী হতে একটি তীর নিয়ে সেটাকে ধনুকের মাঝে রেখে بِاسْمِ اللَّهِ رَبِّ الْغُلاَمِ "বালকের প্রভুর নামে" বলে তার দিকে তা নিক্ষেপ করল। তীর তার কানের নিম্নাংশে গিয়ে বিধল। অতঃপর সে তীরবিদ্ধ স্থানে নিজের হাত রাখল এবং সাথে সাথে প্রাণত্যাগ করল। এ দৃশ্য দেখে রাজ্যের লোকজন বলে উঠল, آمَنَّا بِرَبِّ الْغُلاَمِ آمَنَّا بِرَبِّ الْغُلاَمِ آمَنَّا بِرَبِّ الْغُلاَمِ আমরা এ যুবকের পালনকর্তার উপর ঈমান আনলাম। এ সংবাদ বাদশাহকে জানানো হলো এবং তাকে বলা হলো, লক্ষ্য করেছেন কি? আপনি যে পরিস্থিতি হতে আশঙ্কা করছিলেন, আল্লাহর শপথ! সে আশঙ্কাজনক পরিস্থিতিই আপনার মাথার উপর চেপে বসেছে। সকল মানুষই যুবকের পালনকর্তার উপর ঈমান এনেছে। এ দেখে বাদশাহ সকল রাস্তার মাথায় গর্ত খননের নির্দেশ দিল। গর্ত খনন করা হলো এবং ওগুলোতে অগ্নি প্রজ্জ্বলিত করা হলো। অতঃপর বাদশাহ আদেশ করল যে, যে লোক তার ধর্মমত বর্জন না করবে তাকে ওগুলোতে নিপতিত করবে। কিংবা সে বলল, তাকে বলবে, যেন সে অগ্নিতে প্রবেশ করে। লোকেরা তাই করল। পরিশেষে এক মহিলা একটি শিশু নিয়ে অগ্নিগহবরে পতিত হবার ব্যাপারে ইতস্তত করছিল। এ দেখে দুধের শিশু তাকে (মাকে) বলল, ওহে আম্মাজান! সবর করুন, আপনি তো সত্য দীনের (ধর্মের) উপর প্রতিষ্ঠিত আছেন"।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেননবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, আমাদের পূর্ববর্তী জাতিগুলোর মধ্যে একজন বাদশাহ ছিলেন এবং তাঁর একজন জাদুকর ছিলেন। যখন জাদুকর বৃদ্ধ হল, সে রাজাকে বলল: আমি বৃদ্ধ হয়েগেছি, তাই আমার কাছে একজন যুবক পাঠাও আমি তাকে জাদু শেখাব। তাই রাজা শিক্ষা দেওয়ার জন্য একজন যুবককে তার কাছে পাঠালেন, যুবকটি যখন জাদুকরের কাছে যেত, তখন তার পথে একজন সন্ন্যাসীর অবস্থান ছিল। সে একবার তার কাছে বসল এবং তার কথাগুলো শুনল। তার কথাগুলো তার খুব পছন্দ হল। যখন সে জাদুকরের নিকট আসত, তখন সে সন্ন্যাসীর পাশ দিয়ে যেত এবং তার পাশে বসত। যখন জাদুকরের কাছে আসত, সে তাকে দেরি করে আসার জন্য মারধর করত। তাই সে সন্ন্যাসীর কাছে এই বিষয়ে অভিযোগ করল। তিনি বললেন: যখন তুমি জাদুকরকে ভয় পাবে, তখন বলো: আমার পরিবার আমাকে আটকে রেখেছিল। আর যখন তুমি তোমার পরিবারকে ভয় পাবে, তখন বলো: জাদুকর আমাকে আটকে রেখেছিল। সে যখন এই অবস্থায় ছিল, তখন সে একটি বিশাল জন্তুর মুখোমুখি হল যা মানুষকে চলাচল করতে বাধা দিচ্ছিল। তখন সে বলল: আজ আমি জানবো জাদুকর ভালো না সন্ন্যাসী ভালো? তাই সে একটি পাথর নিল এবং বলল: হে আল্লাহ, যদি তোমার কাছে যাদুকরের কাজের চেয়ে সন্ন্যাসীর কাজ বেশি প্রিয় হয়, তাহলে এই জন্তুটিকে হত্যা করো যাতে মানুষ চলাচল করতে পারে। তাই সে পাথরটি ছুঁড়ে মারল আর তাকে হত্যা করে ফেলল। আর লোকেরা চলাচল করতে লাগল। সে সন্ন্যাসীর কাছে এসে তাকে খবরটি বলল, সন্ন্যাসী তাকে বললেন: হে আমার বৎস, আজ তুমি আমার চেয়ে উত্তম। আমি যা দেখছি তা হল তোমার বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে এবং তোমাকে পরীক্ষা করা হবে। যদি তোমার পরীক্ষা করা হয়, তাহলে আমাকে নির্দেশ করো না। ছেলেটি আল্লাহর ইচ্ছায় অন্ধ ও কুষ্ঠরোগীদের সুস্থ এবং সকল রোগের চিকিৎসা করতে আরম্ভ করল। রাজার এক সঙ্গী, যে তার দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছিল, এই কথা শুনল এবং অনেক উপহার নিয়ে তার কাছে এলো। সে ছেলেটিকে বলল: যদি তুমি আমাকে সুস্থ করো, তাহলে এই সব উপহার তোমার। তিনি বললেন: আমি কাউকে আরোগ্য করি না, কেবল আল্লাহই আরোগ্য দান করেন। যদি তুমি আল্লাহর প্রতি ঈমান আন, আমি আল্লাহর নিকট দোআ করব এবং তিনি তোমাকে সুস্থ করে তুলবেন। তাই সে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনল এবং আল্লাহ তাকে সুস্থ করে তুললেন। তারপর সে রাজার কাছে এসে তার পাশে বসল যেমন সে আগে বসত। রাজা তাকে বললেন: কে তোমার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছে? সে বলল: আমার রব, রাজা বলল: আমি ছাড়া কি তোমার অন্য কোন রব আছে? তিনি বললেন: আমার এবং আপনার রব হলেন আল্লাহ। তাই সে তাকে গ্রেফতার করল এবং ছেলেটির সন্ধান না দেওয়া পর্যন্ত তাকে নির্যাতন করতে লাগল। তারপর ছেলেটিকে আনা হল এবং রাজা তাকে বললেন: হে আমার বৎস, তোমার যাদু এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তুমি অন্ধ এবং কুষ্ঠরোগীকে সুস্থ করতে পারো এবং তুমি আরও করো আরও করো। তিনি বললেন: আমি কাউকে আরোগ্য দেই না, কেবল আল্লাহই আরোগ্য দান করেন। তাই সে তাকে গ্রেফতার করল এবং যতক্ষণ না সে সন্ন্যাসীকে নির্দেশ করল ততক্ষণ পর্যন্ত তাকে নির্যাতন করতে থাকল। সন্ন্যাসীকে আনা হল এবং বলা হল: তোমার দীন থেকে ফিরে যাও। সে অস্বীকৃতি জানালো, তাই সে একটি করাত ডেকে এনে তার মাথার মাঝখানে রাখলো এবং তাকে দুভাগ করে ফেললো। তারপর বাদশাহর সঙ্গীকে আনা হল এবং তাকে বলা হল: তোমার ধর্ম থেকে ফিরে যাও। সে অস্বীকৃতি জানালো, তাই করাতটি তার মাথার মাঝখানে রেখে তাকে দুই ভাগ করে ফেললো। তারপর ছেলেটিকে আনা হল এবং তাকে তার ধর্ম ত্যাগ করতে বলা হল, কিন্তু সে তা প্রত্যাখ্যান করল, তাই সে তাকে তার সঙ্গীদের মধ্য থেকে তিন থেকে দশজনের হাতে তুলে দিল। তিনি বললেন: তাকে অমুক অমুক পাহাড়ে নিয়ে যাও এবং তার সাথে পাহাড়ে আরোহণ করো। যখন তুমি চূড়ায় পৌঁছাবে, যদি সে তার ধর্ম ত্যাগ করে ভালো, তা না হলে তাকে ফেলে দেবে। তাই তারা তাকে নিয়ে গেল এবং তার সাথে পাহাড়ে আরোহণ করল। ছেলেটি বলল: اللهم اكفنيهم بما شئت “হে আল্লাহ, তুমি যেভাবে চাও, আমাকে তাদের হাত থেকে রক্ষা করো”। পাহাড়টি তাদেরকে নিয়ে কেঁপে উঠল এবং প্রচণ্ডভাবে নড়ল, তাই তারা পড়ে গেল। তারপর সে হেঁটে রাজার কাছে এলো। বাদশাহ তাকে বললেন: তোমার সঙ্গীদের কী হয়েছে? সে বলল: আল্লাহ আমাকে তাদের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। সে তাকে তার একদল সঙ্গীর হাতে তুলে দিয়ে বলল: তাকে নিয়ে যাও এবং একটি ছোট জাহাজে তুলে সমুদ্রের মাঝখানে নিয়ে যাও। যদি সে তার ধর্ম ত্যাগ করে, তাহলে ঠিক আছে। নইলে তাকে সমুদ্রে ফেলে দাও। তাই তারা তাকে ধরে নিয়ে গেল, আর সে বলল: اللهم اكفنيهم بما شئت “হে আল্লাহ, তুমি যেভাবে চাও, আমাকে তাদের হাত থেকে রক্ষা করো”। তারপর জাহাজটি উল্টে গেল এবং তারা ডুবে গেল, আর সে হেঁটে রাজার কাছে এলো। বাদশাহ তাকে বললেন: তোমার সঙ্গীদের কী হয়েছে? সে বলল: আল্লাহ আমাকে তাদের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। ছেলেটি রাজাকে বলল: তুমি আমাকে হত্যা করতে পারবে না যতক্ষণ না তুমি আমার আদেশ পালন করো। সে বলল: এটা কী? তিনি বললেন: লোকদের একটি প্রকাশ্য স্থানে জড়ো করো এবং আমাকে একটি গাছের চূড়ায় ক্রুশে চড়াবে। তারপর আমার তূণ থেকে একটা তীর নিয়ে ধনুকের হাতলে তীরটা রাখো। তারপর বলো: ছেলেটির রব আল্লাহর নামে, তারপর আমাকে নিক্ষেপ করো। যদি তুমি এটা করো, তাহলে তুমি আমাকে মেরে ফেলতে পারবে। তাই সে লোকদের এক জায়গায় জড়ো করে তাকে গাছের গুঁড়িতে ক্রুশে দিল। তারপর সে তার তূণ থেকে একটি তীর বের করে ধনুকের মাঝখানে তীরটি রাখল। তারপর সে বলল: ছেলেটির রব আল্লাহর নামে, তারপর সে তাকে নিক্ষেপ করল। তীরটি তার চোখ এবং কানের মাঝখানে তার মাথার খুলিতে বিদ্ধ হল। সে তার হাত তার কপালে রাখল যেখানে তীরটি ছিল এবং সে মারা গেল। তখন লোকেরা বলল: আমরা ছেলেটির রবের প্রতি ঈমান আনলাম; আমরা ছেলেটির রবের প্রতি ঈমান আনলাম; আমরা ছেলেটির রবের প্রতি ঈমান আনলাম। তারপর বাদশাহকে আনা হল এবং জিজ্ঞাসা করা হল: তুমি যা আশঙ্কা করতে তা কি দেখেছ? আল্লাহর কসম, তুমি যা আশঙ্কা করেছিলে তাই তোমার সাথে ঘটেছে, অর্থাৎ মানুষ সবাই ছেলেটির অনুসরণ করবে এবং তার রবের (প্রতিপালকের) প্রতি ঈমান আনবে। তাই তিনি রাস্তার প্রবেশপথগুলিতে মাটিতে খুড়ে বড় আয়তাকার ফাটল খনন করার নির্দেশ দিলেন এবং সেখানে আগুন জ্বালানো হল। তিনি বললেন: যে ব্যক্তি তার ধর্ম ত্যাগ না করে, তাকে তাতে নিক্ষেপ করো। তাপর তারা রাজার আদেশ অনুসারে কাজ করল, এ অবস্থায় একজন মহিলা তার ছোট ছেলেকে নিয়ে এলো এবং সে থেমে গেল এবং স্বীয় স্থানেই দাড়িয়ে গেল। আর সে আগুনে প্রবেশ করতে চাইলো না। তখন তার বাচ্চাটি তাকে বলল: হে মা, ধৈর্য ধরো, কারণ তুমি সঠিক পথে আছো।