





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
যুবাইর ইবন আদী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, আমরা আনাস ইবন মালেক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর নিকটে এলাম এবং তাঁর কাছে হাজ্জাজের অত্যাচারের অভিযোগ করলাম। তিনি বললেন, ‘তোমরা ধৈর্য ধারণ কর। কারণ, এখন যে যুগ আসবে তার পরবর্তী যুগ ওর চেয়ে খারাপ হবে, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের প্রভুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে।’ (আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন,) ‘এ কথা আমি তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে শুনেছি।’
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।যুবাইর ইবন আদী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু এক দল লোক নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খাদেম আনাস ইবন মালেক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর নিকটে আসলেন এবং তাঁর কাছে উমাইয়্যাহ খলিফাদের একজন গভর্নর হাজ্জাজ ইবন ইউসূফ আস-সাকাফীর অভিযোগ করলেন। আর তিনি (হাজ্জাজ) ছিলেন আত্যাচার ও রক্তপাতে প্রসিদ্ধ। তিনি ছিলেন প্রভাবশালী ও একগুয়ে। অতঃপর আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তাদেরকে রাষ্ট্রীয় গভর্নরের অবিচারের ওপর ধৈর্য ধারণ করার পরামর্শ দিলেন। এরপর তাদের জানালেন যে, এখন যে যুগ আসবে তার পরবর্তী যুগ এর চেয়ে খারাপ হবে, যতক্ষণ না তারা তাদের প্রভূর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে।’ আর এ কথা আনাছ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে শুনেছেন। খারাপ বলতে পুরোপুরি খারাপ বুঝানো হয় নি। বরং কখনো খারাপ হতে পারে আবার কখনও ভালো হতে পারে।
ওয়ায়িল হাযরামী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালামাহ্ ইবনু ইয়াযীদ আল জু’ফী রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ মর্মে প্রশ্ন করলেন, “হে আল্লাহর নবী! যদি আমাদের উপর এমন শাসকের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় যে, তারা তাদের হক তো আমাদের কাছে দাবী করে কিন্তু আমাদের হক তারা দেয়না। এমতাবস্থায় আপনি আমাদেরকে কী করতে বলেন? তিনি তার উত্তর এড়িয়ে গেলেন। তিনি আবার তাকে প্রশ্ন করলেন। আবার তিনি এড়িয়ে গেলেন। এভাবে প্রশ্নকারী দ্বিতীয় বা তৃতীয়বারও একই প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি করলেন। তখন আশ’আস ইবনু কায়স তাকে (সালামাকে) টেনে নিলেন এবং বললেন: “তোমরা শুনবে এবং মানবে। কেননা তাদের উপর আরোপিত দায়িত্বের বোঝা তাদের উপর বর্তাবে আর তোমাদের উপর আরোপিত দায়িত্বের বোঝা তোমাদের উপর বর্তাবে”।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনরাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সেই সব আমিরদের (নেতাদের) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যারা জনগণের কাছ থেকে তাদের অধিকার দাবি করে, যেমন শ্রবণ ও আনুগত্য করা আর জনগণের প্রাপ্য অধিকার, যেমন ন্যায়বিচার প্রদান, গণিমত প্রদান, অভিযোগের প্রতিকার এবং প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করাকে অস্বীকার করে। আপনি আমাদেরকে তাদের সাথে কী করতে আদেশ করেন? নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন; যেন তিনি এসব প্রশ্ন অপছন্দ করলেন, কিন্তু প্রশ্নকারী তাকে দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার জিজ্ঞেস করলেন, ফলে আশআস ইবনু কায়িস রাদিয়াল্লাহু আনহু চুপ করানোর জন্য তাকে টেনে নিয়ে গেলেন। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে উত্তর দিলেন: তোমরা তাদের কথা শুনবে, তাদের নির্দেশের আনুগত্য করবে, কারণ তাদেরকে ইনসাফ প্রদান করা এবং প্রজাদের অধিকার দেওয়ার যে দায়িত্ব অর্পন ও সোপর্দ করা হয়েছে তার জন্য তারা দায়ী আর তোমাদেরকে আনুগত্য করা, হক প্রদান করা ও মুসিবতের ওপর ধৈর্যধারন করার যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তার জন্য তোমরা দায়ী।
আদী বিন আমীরাহ আল-কিনদী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মরফূ‘ হিসেবে বর্ণিত, আমরা তোমাদের মধ্যে যাকে কোনো কাজে নিয়োগ করি, সে আমাদের কাছে একটি সুই অথবা তার চেয়ে বেশি কিছু লুকালে, তা খিয়ানত হবে। কিয়ামতের দিন সে তা নিয়ে হাযির হবে।” এ কথা শুনে আনসারদের একজন কৃষ্ণকায় মানুষ উঠে দাঁড়ালো, যেন আমি তাকে এখন দেখছি। সে বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যে কাজের দায়িত্ব আমার ওপর অর্পণ করেছিলেন তা আমার কাছ থেকে ফিরিয়ে নেন।’ তিনি বললেন, “তোমার কি হয়েছে?” সে বলল, ‘আমি আপনাকে এ রকম কথা বলতে শুনলাম।’ তিনি বললেন, “আমি এখনো বলছি যে, যাকে আমরা কোনো কাজে নিযুক্ত করি, সে যেন অল্প-বেশি যা কিছুই হোক আমার কাছে নিয়ে আসে। অতঃপর তা হতে যা দেওয়া হয়, তা গ্রহণ করবে এবং যা নিষেধ করা হয়, তা থেকে বিরত থাকবে।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।আমরা তোমাদের মধ্যে যাকে যাকাত, গণীমত ও অন্যান্য সম্পদ জমা করার কাজে নিযুক্ত করি, অতঃপর সে তা থেকে একটি সূঁচ অথবা তার চেয়ে কম কিছু লুকালো তা খিয়ানত হবে। কিয়ামতের দিন সে তা নিয়ে হাযির হবে। এ কথা শুনে আনসারদের মধ্যে একজন মানুষ দাঁড়িয়ে তার ওপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক প্রদত্ত দায়িত্ব তার কাছ থেকে ফিরিয়ে নিতে অনুমতি চাইলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, তোমার কি হয়েছে? সে বলল, ‘আমি আপনাকে এ রকম কথা বলতে শুনলাম।’ তিনি বললেন, “আমি এখনো বলছি যে, যাকে আমরা কোনো কাজে নিযুক্ত করি, সে যেন অল্প-বেশি যাই হোক আমার কাছে নিয়ে আসে। অতঃপর তা থেকে তাকে যা দেওয়া হবে, তাই সে গ্রহণ করবে এবং যা থেকে তাকে বিরত রাখা হবে, তা থেকে বিরত থাকবে।”
আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয়ই দ্বীন সহজ। দ্বীন নিয়ে যে বাড়াবাড়ি করে দ্বীন তার উপর জয়ী হয়। কাজেই তোমরা আমলে সঠিক ও মধ্যপন্থা অবলম্বন কর এবং আমলে অবহেলা করো না ,(নেকীর) আশান্বিত থাক এবং সকাল-সন্ধ্যায় ও রাতের কিছু অংশে (’ইবাদাতের মাধ্যমে) সাহায্য চাও”।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।মহানবী সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্ট করেছেন যে ইসলাম ধর্ম তার সমস্ত বিষয়ে সহজ এবং সহজতার উপর ভিত্তি করে আর যখন অক্ষমতা প্রকাশ পায় এবং প্রয়োজন দেখা দেয় তখন সুবিধা (প্রয়োজনীয় শিথিলতা) নিশ্চিত করা হয়। কারণ সাধ্যের সবটুকু খরচ করে ধর্মীয় কাজ আঞ্জাম দেওয়া এবং সহজতা গ্রহণ না করার পরিণাম অক্ষম হওয়া এবং তার সমস্ত বা আংশিক আমল ছেড়ে দেওয়া হয়। তারপর তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম অতিরঞ্জন ছাড়াই মধ্যপন্থার আহ্বান জানান। কাজেই বান্দাকে যা করতে আদেশ করা হয়েছে তাতে সে ত্রুটি করবে না এবং যে কাজ করতে সামর্থ্য রাখে না তার বোঝা বহন করবে না। যদি সে সম্পূর্ণরূপে কাজটি করতে অক্ষম হন; তাহলে যতটা সম্ভব তার কাছাকাছি আমল করবে। তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবিরাম আমল করার ওপর সুসংবাদ প্রদান করেছেন যদিও তা কম হয় বা যদিও সে সম্পূর্ণরূপে আমল করতে প্রকৃতই অক্ষম হয় আর এ অক্ষমতা তার নিজের পক্ষ থেকে না হলে সাওয়াব হ্রাস করা হয় না। যেহেতু এই পৃথিবী প্রকৃতপক্ষে সফরের স্থান এবং পরকালে যাওয়ার একটি বাহন বিশেষ, তাই তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনটি উদ্দীপক সময়ে অবিরাম ইবাদত বজায় রেখে সাহায্য তলব করার নির্দেশ দিয়েছেন: প্রথম: ভোর বেলা চলা: দিনের শুরুতে যাত্রা করা; ফজরের সালাত এবং সূর্যোদয়ের মধ্যে। দ্বিতীয়: অপরাহ্ন: দুপুরের পর যাত্রা করা। তৃতীয়: রাতে যাত্রা: রাতের সমস্ত বা আংশিক অংশে চলা। যেহেতু রাতের আমল দিনের আমলের চেয়ে বেশি কঠিন, তাই তিনি وشيءٍ من الدلجة বলে এর কিছু অংশের আদেশ দিয়েছেন।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত: “সুখে-দুঃখে, হর্ষে-বিষাদে এবং তোমার ওপর অন্যদেরকে প্রাধান্য দেওয়ার সময়ও তোমার ওপর কর্তব্য হচ্ছে, (শাসকের) কথা শোনা ও আনুগত্য করা।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।এ হাদীসটি প্রমাণ করে যে, একজন মুসলিমের ওপর ওয়াজিব হলো, সর্বাবস্থায় শাসকদের কথা শোনা ও আনুগত্য করা, যদি কোনো খারাপ কর্মের নির্দেশ না দেওয়া হয় অথবা অসাধ্য কোনো কর্ম চাপিয়ে না দেওয়া হয়। যদিও তাতে কখনো কখনো তার কষ্ট হয় বা নিজের কোনো কোনো অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে হয়। ব্যক্তি স্বার্থের ওপর জন স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়ার লক্ষ্যে।
ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের শোনা ও আনুগত্য করার ওপর বাই‘আত করতাম, তখন তিনি বলতেন, “যতটুকু তোমরা পার”।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু জানাচ্ছেন যে, যখন তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতে বাই‘আত করতেন, তখন তিনি তাদের শুনতে ও মানতে নির্দেশ দিতেন। মানাকে তিনি সক্ষমতার সাথে শর্তারোপ করতেন। যখন কোনো মুসলিমকে কোনো শাসক তার সক্ষমতার বাহিরে কোনো কাজ করার নির্দেশ দেয়, তখন তার আনুগত্য করা জরুরি নয়। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা কাউকে তার সাধ্যের বাইরের কোনো দায়িত্ব দেন না।
ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত, “মুসলিমের জন্য (তার শাসকদের) কথা শোনা ও মানা ফরয, সে যা পছন্দ করে বা যা পছন্দ করে না উভয় ক্ষেত্রে যতক্ষণ না পাপকাজের নির্দেশ দেয়, যখন পাপ কাজের আদেশ দেয়, তখন তার কথা শোনা ও মানা ফরয নয়।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।হাদীসটির মধ্যে শাসকবর্গ যে সব আদেশ দিয়ে থাকেন তা শোনা এবং আনুগত্য করা যে ওয়াজিব তা স্পষ্ট করা হয়েছে। চাই তার নির্দেশ পছন্দ হোক বা না হোক। তবে যদি কোনো অন্যায় করার জন্য আদেশ দেয়। তখন শুধু এ অন্যায়ের ক্ষেত্রে শোনা বা মানা চলবে না।
আবূ বকরাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, “যে ব্যক্তি বাদশাহকে অপমান করল, আল্লাহ তাকে অপমান করবেন।”
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।এ হাদীসটিতে বাদশার আদেশসমূহকে হালকাভাবে দেখা নিষিদ্ধ হওয়া বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। কারণ, তার ওপর বর্তাবে দুনিয়া ও আখিরাতে আল্লাহর অপমান করার মতো কঠিন হুমকী। আর শাস্তি সাধারণত আমলের ধরণ অনুযায়ী হয়ে থাকে।
আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “(শাসকদের) কথা শোনো এবং (তাদের) আনুগত্য কর; যদিও তোমাদের ওপর কোনো নিগ্রো ক্রীতদাসকে (শাসক) নিযুক্ত করা হয়; তার মাথা যেন কিশমিশ।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।তোমরা শাসকদের কথা শোন এবং মেনে নাও, এমনকি যদি তোমাদের ওপর বংশীয়ভাবে, শাখাগতভাবে বা সৃষ্টিগতভাবে কোনো নিগ্রো ক্রীতদাসকে তোমাদের শাসক নিযুক্ত করা হয়; তার মাথা যেন কিশমিশ। কারণ, নিগ্রোদের চুল আরবদের চুলের মতো নয়। নিগ্রোদের মাথায় এমন রিং হয় যা দেখতে যেন কিশমিশ। ‘বংশীয়ভাবে বা শাখাগতভাবে কোনো নিগ্রো দাসকে’ যদি তোমাদের ওপর শাসক নিযুক্ত করা হয়’ এ কথাটি অাধিক্য প্রকাশার্থে নিয়ে আসা হয়েছে। ‘যদিও শাসক বানানো হয়’ কথাটি রাষ্ট্রপ্রধানের প্রতিনিধি, অনুরূপ স্বয়ং রাষ্ট্রপ্রধান উভয়কেই শামিল করে। সুতরাং যদি কোনো বাদশাহ মানুষের ওপর বিজয়ী হোন ও ক্ষমতাধর হয়ে যান, কিন্তু তিনি আরব নন বরং তিনি নিগ্রো দাস হন, তখনও আমাদের ওপর ওয়াজিব হলো তার আনুগত্য করা ও তার কথা শোনা। হাদীসটি আল্লাহর নাফরমানী ছাড়া বাকী সব বিষয়ে শাসকের আনুগত্য করা জরুরি হওয়ার প্রমাণ। কারণ, তাদের আনুগত্য করার মধ্যে কল্যাণ, নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা, শৃঙ্খলা নিহিত। আর যে সব কাজে তাদের আনুগত্য করা জরুরি সে সব কাজে যখন শাসকদের অবাধ্য হবে, তখন বিশৃঙ্খলা দেখা দিবে। প্রত্যেকে তার নিজ নিজ মতামতের ওপর খুশি থাকবে, নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিবে, যাবতীয় কার্যক্রম ব্যাহত হবে এবং মারামারি হানাহানি প্রকট হবে। এ কারণেই আমাদের ওপর ওয়াজিব হলো আমরা যেন আমাদের শাসকদের আনুগত্য করি; যতক্ষণ না তারা আমাদেরকে আল্লাহর নাফরমানি করার আদেশ না দেন। যখন তারা আমাদেরকে আল্লাহর নাফরমানির আদেশ দিবেন, তখন তাদের ও আমাদের রবতো আল্লাহ। হুকুমতো কেবল তাঁরই। এ ক্ষেত্রে আমরা তাদের আনুগত্য করবো না। বরং আমরা তাদের বলবো, তোমাদের ওপর ওয়াজিব হলো আল্লাহর নাফরমানি করা থেকে বিরত থাকা। সুতরাং তোমরা কীভাবে আমাদেরকে আল্লাহর নাফরমানী করার আদেশ প্রদান কর? আমরা তোমাদের সে কথা শুনবো না এবং আনুগত্য করবো না। অতঃপর মনে রাখতে হবে যে, শাসকগণ যে সব বিষয়ে আদেশ করেন তা তিন ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। প্রথম প্রকার: এমন আদেশ দেন যা পালন করার আদেশ আল্লাহ দিয়েছেন। যেমন মসজিদে জামাতে সালাত প্রতিষ্ঠা করা, ভালো কাজ করা এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ ইত্যাদি। এ ধরনের নির্দেশ পালন করা দুই দিক থেকে ওয়াজিব। প্রথমত: এতো মৌলিক দায়িত্ব, আর দ্বিতীয়ত: শাসকগণ এ ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছেন। দ্বিতীয় প্রকার: শাসকগণ আমাদেরকে আল্লাহর নাফরমানি করার আদেশ দেন। এ ধরনের বিষয়ে তাদের আনুগত্য করা বৈধ নয় সে যত বড় ক্ষমতার অধিকারী হোক না কেন। যেমন, তোমাদের আদেশ দিল তোমরা জামাতে সালাত আদায় করো না, তোমরা তোমাদের দাঁড়ি মুণ্ডন কর, কাপড় টাখনুর নিচে পরিধান কর, মুসলিমদের ধন-সম্পদ হনন করে ও তাদেরকে মার-ধরের মাধ্যমে তাদের ওপর নির্যাতন চালাও ইত্যাদি। এ ধরনের আদেশ মানা যাবে না। এ ধরনের আদেশের ক্ষেত্রে তাদের আনুগত্য করা বৈধ হবে না। বরং আমাদের ওপর ওয়াজিব হলো আমরা তাদের বোঝাবো এবং তাদের বলবো, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, এ ধরনের কর্ম বৈধ নয়। তোমাদের জন্য বৈধ নয় যে,তোমরা আল্লাহর বান্দাদের আল্লাহর নাফরমানি করার আদেশ দিবে। তৃতীয় প্রকার: এমন বিষয়ে আদেশ বা নিষেধ করবে যাতে সরাসরি আল্লাহ ও তার রাসূলের কোনো নির্দেশনা নেই এবং সরাসরি কোনো নিষেধও নেই। এ ক্ষেত্রে আমাদের ওপর ওয়াজিব হলো আমরা যেন তাদের আনুগত্য করি। যেমন, বিভিন্ন নিয়ম কানুন যা শরী‘আতের পরিপন্থী নয়। এ ক্ষেত্রে আমাদের ওপর ওয়াজিব হলো আমরা যেন তাদের আনুগত্য করি এবং এসব নিয়ম কানুন মেনে চলি। মানুষ যদি উল্লিখিত প্রকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়, তাহলে তারা অবশ্যই নিরাপত্তা,স্থিতিশীলতা, আরাম ও শান্তি পাবে। আর তারা তাদের শাসকদের ভালোবাসবে এবং শাসকরাও তাদেরকে ভালোবাসবে।