





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
বারা ইবন আযেব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে একজন আনসারী সাহাবীর জানাযায় বের হলাম। আমরা কবর পর্যন্ত পৌঁছলাম এখনো কবর খোদা হয়নি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসলেন আমরাও তার আশপাশে বসলাম যেন আমাদের মাথার ওপর পাখি। তার হাতে একটি লাঠি ছিল যা দ্বারা তিনি মাটি খুড়তে ছিলেন। তারপর তিনি মাথা উঠালেন এবং দুইবার বা তিনবার বললেন, তোমরা আল্লাহর নিকট জাহান্নামের আযাব থেকে আশ্রয় কামনা কর। অন্য একটি বর্ণনায় বৃদ্ধি করা হয়, যখন তাকে বলা হয়, হে অমুক তোমার রব কে, তোমার দীন কি এবং তোমার নবী কি? তখন তাদের খড়মের আওয়াজ সে শুনতে পায় যখন তারা বাড়ি ফিরে যায়। হান্নাদ বলল, তিনি বলেন, দুইজন ফিরিশতা তার কাছে আসবে। তখন তারা দুইজন তাকে বসাবে এবং তাকে বলবে তোমার রব কে? সে বলবে, আমার রব আল্লাহ। তারা দুইজন বলবে, তোমার দীন কি? সে বলবে, আমার দীন ইসলাম। তারা বলবে এ লোকটি কে যাকে তোমাদের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে? সে উত্তর দেবে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তারা বলবে, তুমি কীভাবে জানতে পারলে? সে বলবে আল্লাহর কিতাব পড়েছি, তার প্রতি বিশ্বাস করছি এবং ঈমান এনেছি। জারীরের হাদীসে বৃদ্ধি করা হয়েছে যে, এটিই আল্লাহ তা‘আলার বাণী: “যারা ঈমান আনে আল্লাহ তাদের অটুট রাখেন”। [সূরা ইব্রাহীম, আয়াত: ২৭] অতঃপর তারা অভিন্নভাবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আসমান থেকে একজন আহ্বানকারী আহ্বান করে বলেন, আমার বান্দা সত্য বলছে, তার জন্য জান্নাতের বিছানা বিছাও, তার জন্য জান্নাতের দিকে দরজা খুলে দাও এবং তাকে জান্নাতের পোশাক পরিধান করাও। তখন জান্নাতের সুঘ্রাণ ও সুবাতাস সে পেতে থাকবে। তিনি বলেন, তার জন্য তাতে তার চোখের দৃষ্টি পরিমাণ প্রসস্ত করা হবে। তিনি বলেন, তারপর তিনি কাফিরের মৃত্যুর আলোচনা করেন। তার দেহে তার রূহ প্রেরণ করা হবে। দুইজন ফিরিশতা এসে তাকে বসাবে এবং তারা দুইজন তাকে জিজ্ঞাসা করবে তোমার রব কে? সে বলবে হা হা আমি জানিনা। তারা জিজ্ঞাসা করবে তোমার দীন কি? সে বলবে হা হা আমি জানিনা। তারা জিজ্ঞাসা করবে এ লোকটি কে যাকে তোমার নিকট প্রেরণ করা হয়েছে? সে বলবে হা হা আমি জানিনা। তখন একজন আহ্বানকারী আসমান থেকে আহ্বান করে বলবে, লোকটি মিথ্যা বলেছিল, তাকে জাহান্নামের বিছানা বিছিয়ে দাও, জাহান্নামের পোশাক পরিয়ে দাও এবং জাহান্নামের দিকে দরজা খুলে দাও। তিনি বলেন, ফলে তার গরম ও বিষাক্ত বাতাস নিকট আসতে থাকবে। তিনি বলেন, “এবং তার ওপর তার কবরকে সংকীর্ণ করা হবে, ফলে তার হাড়গুলো একটি অপরটির ভেতর ঢুকে যাবে”। জারীরের বর্ণনা বৃদ্ধি করেছেন যে, “তারপর তার জন্য একজন অন্ধ বোবা ফিরিশতা নিয়োজিত করা হবে। তার সাথে থাকবে একটি মাথা বাঁকা লোহার লাঠি। তা দিয়ে যদি পাহাড়ে আঘাত করা হয় তবে তা মাটি হয়ে যাবে”। তিনি বলেন, “তারপর তা দ্বারা তাকে আঘাত করা হবে জীন আর ইনসান ছাড়া পশ্চিম ও পুবের মাঝে যা কিছু আছে সবাই তা শুনতে পাবে। তারপর সে মাটি হয়ে যাবে”। তিনি বলেন, “অতঃপর তার মধ্যেআবার রূহ প্রেরণ করা হবে”।
এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।বারা ইবন আযেব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে একজন আনসারী সাহাবীর জানাযায় বের হলেন। দাফন করার পূর্বে তারা কবর পর্যন্ত পৌঁছলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসলেন তারাও তার আশপাশে চুপচাপ বসলেন রাসূলের ভয়ে কেউ কথা বললেন না। তার হাতে একটি লাঠি ছিল যা দ্বারা তিনি মাটিতে আঘাত করতে ছিলেন, যেমনটি একজন চিন্তিত মানুষ করে থাকে। তারপর তিনি মাথা উঠালেন এবং দুইবার বা তিনবার বললেন, তোমরা আল্লাহর নিকট জাহান্নামের আগুন থেকে আশ্রয় কামনা কর। তারপর তিনি তাদের সংবাদ দেন যে, মৃত ব্যক্তি তাকে বিদাই জানাতে আসা লোকদের জুতার আওয়ায শুনতে পান যখন তারা বাড়িতে ফিরে যায়। আর তখন তার কাছে দুইজন ফিরিশতা আসেন এবং তারা তাকে বসান এবং তাকে বলেন তোমার রব কে? সে বলে, আমার রব আল্লাহ। তারা দুইজন বলে, তোমার দীন কি? সে বলে, আমার দীন ইসলাম। তারা বলে এ লোকটি কে যাকে তোমাদের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে? সে উত্তর দেয় তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তারপা তারা বলে, তুমি কীভাবে জানতে পারলে? সে বলে আল্লাহর কিতাব পড়েছি, তার প্রতি বিশ্বাস করছি এবং ঈমান এনেছি। মুখ থেকে উল্লেখিত উত্তর বের হওয়াই হলো তাসবীত বা অটুট থাকা যার বর্ণনা আল্লাহর বাণীতে এসেছে: আল্লাহ বলেন, “যারা ঈমান আনে আল্লাহ তাদের প্রতিষ্ঠিত কথা দ্বারা অটুট রাখেন”। [সূরা ইব্রাহীম, আয়াত: ২৭] অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “আসমান থেকে একজন আহ্বানকারী আহ্বান করে বলেন, আমার বান্দা যা বলেছে তা সত্য বলছে, কারণ, দুনিয়াতে সে এ বিশ্বাসের ওপর ছিল। তাই সে সম্মানের অধিকারী। তোমরা তার জন্য জান্নাতের বিছানাসমূহ থেকে বিছানা বিছিয়ে দাও, তাকে জান্নাতের পোশাক পরিধান করাও এবং তার জন্য জান্নাতের দিকে দরজা খুলে দাও। তখন তার জন্য খুলে দেওয়া হবে আর জান্নাতের সুঘ্রাণ ও সুবাতাস সে পেতে থাকবে। আর তার জন্য কবরকে তার চোখের দৃষ্টির দূরত্ব পরিমাণ প্রসস্ত করা হবে। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাফিরের মৃত্যুর অবস্থা ও কঠিন হওয়ার বিষয়টি আলোচনা করেন। দাফন করার পর তার দেহে তার রূহ প্রেরণ করা হবে। আর দুইজন ফিরিশতা এসে তাকে বসাবে এবং তারা দুইজন তাকে জিজ্ঞাসা করবে তোমার রব কে? সে হয়রান হয়ে বলবে হা হা আমি জানিনা। তারা জিজ্ঞাসা করবে তোমার দীন কি? সে বলবে হা হা আমি জানিনা। তারা জিজ্ঞাসা করবে এ লোকটি কে যাকে তোমাদের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে, তিনি কি নবী বা নবী নয়? সে বলবে হা হা আমি জানিনা। তখন একজন আহ্বানকারী আসমান থেকে আহ্বান করে বলবে, কাফের লোকটি ঈমান না আনা এবং অস্বীকার করার কারণে এ সব মিথ্যাচার করছিল। কারণ, আল্লাহর দীন এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নুবুওয়াত যমীনে পশ্চিম ও পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। তাই তোমরা তাকে জাহান্নামের বিছানাসমূহ থেকে বিছানা বিছিয়ে দাও, তাকে জাহান্নামীদের পোশাক পরিয়ে দাও এবং জাহান্নামের দিকে দরজা খুলে দাও। তখন জাহান্নামের তাপ তার গায়ে লাগবে। তারপর তার ওপর কবর চাপা দেওয়া হবে ফলে একপাশের হাঁড় অপর হাড়ের মধ্যে প্রবেশ করবে এবং আপন অবস্থা থেকে সরে যাবে। তারপর তার জন্য একজন অন্ধ বোবা ফিরিশতা নিয়োজিত করা হবে, সে তার সাথে কথা বলবে না। তার সাথে থাকবে লোহাড় একটি বড় হাতুড়ি। তা দিয়ে যদি পাহাড়ে আঘাত করা হয় তবে তা মাটি হয়ে যাবে। তারপর তা দ্বারা তাকে আঘাত করা হবে জীন আর ইনসান ছাড়া পশ্চিম ও পুবের মাঝে যা কিছু আছে সবাই তা শুনতে পাবে। তারপর সে মাটি হয়ে যাবে। অতঃপর তার মধ্যে রূহ ফিরিয়ে দেওয়া হবে যেন আযাব আস্বাদ করে আর তার কবরে শাস্তি চিরকাল চলতে থাকবে।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ তা‘আলা যে ব্যক্তিকে তার দুই চোয়ালের মধ্যস্থিত অঙ্গ (জিহ্বা) ও দু’পায়ের মাঝখানের অঙ্গ (লজ্জাস্থান)এর ক্ষতি থেকে মুক্ত রাখবেন, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।”
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।যে ব্যক্তিকে আল্লাহ এমন কথা হতে রক্ষা করলেন যা বললে আল্লাহ ক্ষুব্ধ হন অনুরূপভাবে তাকে ব্যভিচার থেকেও রক্ষা করলেন সে নাজাত পেল এবং জান্নাতে প্রবেশ করল।
মা‘কিল ইবন ইয়াসার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত, “হানাহানির সময় ইবাদত করা আমার দিকে হিজরত করার সমতুল্য।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।হাদীসের অর্থ: অত্যধিক ফিতনা-ফাসাদ, বিশৃঙ্খলা ও মারামারি-হানাহানির সময় ইবাদতে মশগুল থাকার ফযিলত হলো মক্কা বিজয়ের পূর্বে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে হিজরত করার সমতুল্য। কেননা তার এ কাজটি মুহাজিরের হিজরতের মতোই। যেহেতু মুহাজির দীন পালনে যখন বাঁধাগ্রস্ত হয়েছিল তখন সে তার দীন রক্ষার্থে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সংস্পর্শ আঁকড়িয়ে ধরতে হিজরত করেছিল। তদ্রুপ ফিতনার সময় আল্লাহর ইবাদতে নিমগ্ন ব্যক্তি লোকজন থেকে পালায়ন করে তার দীনসহ তার রবের ইবাদত আঁকড়ে ধরতে হিজরত করল। সে প্রকৃতপক্ষে তার রবের দিকে হিজরত করল এবং সৃষ্টিকুলের সবার থেকে পলায়ন করল।
ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথাগুলো বলতেন। যার অর্থ: হে আল্লাহ! আমি নিজকে তোমার নিকট সমর্পণ করলাম, তোমার প্রতি ঈমান আনলাম, তোমারই উপর ভরসা করলাম। হে আল্লাহ! তোমারই দিকে প্রত্যাবর্তন করলাম, তোমারই ক্ষমতায় (দুশমনের বিরুদ্ধে) বিবাদ করলাম। হে আল্লাহ! তোমারই দিকে প্রত্যাবর্তন করলাম, তোমারই ক্ষমতায় (শত্রুর বিরুদ্ধে) বিবাদ করলাম। হে আল্লাহ! তোমার ইয্যতের অসীলায় আমি আশ্রয় চাচ্ছি---তুমি ছাড়া কেউ (সত্য) উপাস্য নেই---তুমি আমাকে পথভ্রষ্ট করো না। তুমি সেই চিরঞ্জীব, যে কখনো মরবে না এবং জিন ও মানবজাতি মৃত্যুবরণ করবে।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।ইবনে আব্বাস হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন: “হে আল্লাহ! আমি নিজকে তোমার নিকট সমর্পণ করলাম”। অর্থাৎ বাহ্যিক আনুগত্য কেবল তোমার জন্য তুমি ছাড়া আর কারো জন্য নয়। “আর তোমার প্রতি ঈমান আনলাম”। অর্থাৎ অন্তরের বিশ্বাস। “আর তোমারই উপর ভরসা করলাম”। অর্থাৎ যাবতীয় বিষয়সমূহ পরিকল্পনার জন্য তোমার ওপর ছেড়ে দিলাম। কারণ, আমি তার উপকার ও ক্ষতি কোন কিছুরই মালিক নই। “হে আল্লাহ! তোমারই দিকে প্রত্যাবর্তন করলাম”। অর্থাৎ গুনাহ থেকে ভালো কাজের দিকে এবং গাফেলতী থেকে যিকিরের দিকে ফিরে এলাম। “তোমারই সাহায্যে তোমার দুশমনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলাম”। হে আল্লাহ! তোমার ইয্যতের অসীলায় আমি আশ্রয় চাচ্ছি---অর্থাৎ তোমার প্রাধান্যতা দ্বারা। কারণ, যাবতীয় ইজ্জত কেবল আল্লাহরই। তুমি ছাড়া কেউ (সত্য) উপাস্য নেই---অর্থাৎ তুমি ছাড়া সত্যিকার উপাস্য আর কেই নেই। আপনি ছাড়া আর কারো কাছে কোন কিছু চাওয়ার নেই। আর আপনি ছাড়া আর কারো কাছে আশ্রয় চাওয়ার নেই। তুমি আমাকে পথভ্রষ্ট করো না। অর্থাৎ, তুমি আমাকে হিদায়াত দেওয়া এবং বাহ্যিক ও বাতেনীভাবে তোমার হুকুম ও ফায়সালার ওপর আনগত্য করার পর আমাকে পথভ্রষ্ট করা থেকে আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই। আর তোমার দরবারে ফিরে আসা, তোমার দুশমনদের সাথে বিবাদ করা এবং যাবতীয় বিষয়ে তোমার ইজ্জত ও সাহায্যের প্রতি আশ্রয় নেওয়ার পর তুমি আমাকে গোমরাহ করা থেকে আমি তোমার নিকট আশ্রয় কামনা করছি। তুমি সেই চিরঞ্জীব, যে কখনো মরবে না এবং জিন ও মানবজাতি সবাই মৃত্যুবরণ করবে।
আবূ জুরাই আল-হুজাইমী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মারফূ‘ সনদে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লাম-এর নিকট এসে বললাম ‘আলাইকাস সালাম ইয়া রাসূলাল্লাহ’, তিনি বললেন, তুমি ‘আলাইকাস সালাম’ বলো না; কারণ, ‘আলাইকাস সালাম’ মৃতদের সম্ভাষণ।
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন।এক লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে ‘আলাইকাস সালাম ইয়া রাসূলাল্লাহ’ বলে সালাম দিলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম তাকে এ পদ্ধতিতে সালাম দিতে নিষেধ করেন। এ ধরনের সালামকে অপছন্দ করার কারণে তিনি তার সালামের উত্তর দেননি এবং তিনি বলেন, “এ ধরণের সম্ভাষণ মৃতদের সম্ভাষণ”। তারপর তিনি সালামের বিশুদ্ধ পদ্ধতি তাকে জানিয়ে দেন। যেমনটি অপর একটি হাদীসে এসেছে—তুমি বল, “আস্সালামু আলাইকা”। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালামের বাণী ‘আলাইকাস সালাম’ মৃতদের সম্ভাষণ এ কথার অর্থ এ নয় যে, কবর যিয়ারত করার সময় এ দো‘আ পড়বে। কারণ, কবর যিয়ারতের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম থেকে প্রমাণিত দো‘আ হলো—“আস্সালামু আলাইকুম আহলা দারি কাওমিন মু’মিনীন”। তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ ওয়াসাল্লাম এ কথা দ্বারা এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন যে, জাহিলিয়্যাতের যুগের লোকদের অভ্যাস ছিল তারা মৃতদের সম্ভাষণ জানাতে এ ধরনের কথা বলত।
আবূ সা‘ঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘আমি কেমন করে হাসিখুশি করব, অথচ শিঙ্গা ওয়ালা (ইস্রাফীল তো ফুৎকার দেওয়ার জন্য) শিঙ্গা মুখে ধরে আছেন। আর তিনি কান লাগিয়ে আছেন যে, তাঁকে কখন ফুৎকার দেওয়ার আদেশ দেওয়া হবে এবং তিনি ফুৎকার দেবেন।’’ অতঃপর এ কথা যেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীদের জন্য ভারী বোধ হল। সুতরাং তিনি তাঁদেরকে বললেন, ‘‘তোমরা বল, ‘হাসবুনাল্লাহু অনি‘মাল অকীল।’ অর্থাৎ আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং উত্তম সাহায্যকারী।’’
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি কীভাবে আরাম করতে পারি, অথচ শিঙ্গাওয়ালা মুখে শিঙ্গা নিয়ে অধীর আগ্রহে কান পেতে শিঙ্গায় ফুৎকার দেওয়ার নির্দেশ শোনার অপেক্ষায় আছেন, কখন ফুঁ দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হবে, আর অমনি তিনি ফুঁ দিবেন।বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের নিকট ভীতিকর ও কঠিন মনে হলো। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেন: তোমরা বল যে, আমাদের জন্য আল্লাহ তা'আলাই যথেষ্ট এবং তিনিই উত্তম কর্মবিধানকারী। অর্থাৎ তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট।
আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাতের জন্য দণ্ডায়মান হতেন, তখন তাশাহহুদ ও সালাম ফিরার মধ্যখানে এই দু'আ পড়তেন। অর্থাৎ, “হে আল্লাহ! তুমি আমাকে মার্জনা কর, যে অপরাধ আমি পূর্বে করেছি এবং যা পরে করেছি, যা গোপনে করেছি এবং যা প্রকাশ্যে করেছি, যা অতিরিক্ত করেছি এবং যা তুমি আমার চাইতে অধিক জান। তুমি আদি, তুমিই অন্ত। তুমি ব্যতীত কেউ সত্য উপাস্য নেই।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাতের জন্য দণ্ডায়মান হতেন, তখন তাশাহহুদ ও সালাম ফিরার মধ্যখানে এই দু'আ পড়তেন। অর্থাৎ, “হে আল্লাহ! তুমি আমাকে মার্জনা কর, যে অপরাধ আমি পূর্বে করেছি এবং যে আমল আমি পরে করেছি। আমার থেকে যত প্রকার বাড়াবাড়ি হয়েছে। আর আমি যা গোপনে করেছি এবং যা প্রকাশ্যে করেছি। আর যা আমি অতিরিক্ত করেছি অর্থাৎ সীমালঙ্গন করেছি। এটি গুনাহের বিভিন্ন প্রকার উল্লেখ করার মাধ্যমে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে মুবালাগাহ করা। আর যা তুমি আমার চাইতে অধিক জান। অর্থাৎ সে সব গুনাহ মাফ কর যার সংখ্যা ও হুকুম আমি জানি না। তুমিই পিছেকারী। অর্থাৎ সাহায্য না করে কতক বান্দাকে পশ্চাতে ঠেলে দেন। আর তুমিই অগ্রগামীকারী, অর্থাৎ কতক বান্দাকে সম্মানের মর্তবায় উন্নীত করেন। আর তুমি অন্ত তার জন্যে যাকে তুমি উচ্চতা থেকে নিচে নামাতে চাও। তুমি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। অর্থাৎ, তুমি ছাড়া সত্যিকার কোন ইলাহ নেই।
আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “জান্নাত ও জাহান্নামের তর্ক হলো। জাহান্নাম বলল, ‘আমার মধ্যে প্রবেশ করবে উদ্ধত ও অহংকারী লোকেরা।’ আর জান্নাত বলল, ‘দুর্বল ও দরিদ্র ব্যক্তিরা আমার ভিতরে প্রবেশ করবে।’ অতঃপর তিনি জাহান্নামকে বলেন, তুমি আমার শাস্তি, তোমার দ্বারা আমি যাকে ইচ্ছা শাস্তি দিব। আর জান্নাতকে বলেন, “তুমি আমার রহমত, তোমার দ্বারা আমি যার প্রতি ইচ্ছা অনুগ্রহ করব।”
তার অর্থ মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সংবাদ দেন যে, “জান্নাত ও জাহান্নাম উভয়ে তাদের রবের সামনে তর্কে জড়িয়ে পড়ল। অর্থাৎ জান্নাত ও জাহান্নাম প্রত্যেকে নিজ নিজ শ্রেষ্ঠত্বের দলীল তুলে ধরল এবং প্রত্যেকে অপরের উপর নিজের ফযীলত দাবী করল। ঘটনাটি গাইবী বিষয়সমূহের একটি যার ওপর ঈমান আনা আমাদের ওপর ওয়াজিব, যদিও আমাদের বাহ্যিক জ্ঞান তা অসম্ভব মনে করে। জান্নাত জাহান্নামের বিপক্ষে দলীল পেশ করে বলল, ‘দুর্বল ও দরিদ্র ব্যক্তিরা আমার ভিতরে প্রবেশ করবে।’ তারা সাধারণত হকের প্রতি নমনীয় হয় এবং হকের আনুগত্য করে। আর জাহান্নাম জান্নাতের বিপক্ষে দলীল তুলে ধরে বলল, ‘আমার মধ্যে প্রবেশ করবে উদ্ধত যারা কঠোর ও কঠিন অন্তরের অধিকারী এবং অহংকারী লোকেরা যারা ক্ষমতা ও মর্যাদার অধিকারী, যারা মানুষকে তুচ্ছ জ্ঞান করে এবং হককে প্রত্যাখ্যান করে। সুতরাং যারা সৈরাচার ও অহংকারী তারাই হবে জাহান্নামী। নাঊযু বিল্লাহ। কারণ, তারা অধিকাংশ সময় হকের প্রতি আনুগত্যশীল হয় না। তারপর আল্লাহ উভয়ের মধ্যে মীমাংসা করে দেন। তিনি জাহান্নামকে বলেন, তুমি আমার শাস্তি, তোমার দ্বারা আমি যাকে ইচ্ছা শাস্তি দিব। এবং তোমার দ্বারা যার থেকে ইচ্ছা প্রতিশোধ নেব। আর জান্নাতকে বলেন, “তুমি আমার রহমত, তোমার দ্বারা আমি যার প্রতি ইচ্ছা অনুগ্রহ করব।” অর্থাৎ, জান্নাত এমন একটি ঘর যা আল্লাহর রহমত হতে আবিষ্কার হয়েছে। এখানে রহমত দ্বারা ঐ রহমত উদ্দেশ্য নয় যা আল্লাহর সিফাত। কারণ, যে রহমতটি আল্লাহর সিফাত তা তার সাথেই খাস তার থেকে পৃথক হয় না। কিন্তু এখানে যে রহমতের কথা বলা হচ্ছে তা হলো মাখলুক। তুমি আমার রহমত এ কথার অর্থ হলো আমি তোমাকে আমার রহমতের ফলস্বরূপ সৃষ্টি করেছি। তোমার দ্বারা আমি যাকে চাই দয়া করব। সুতরাং জান্নাতীরা হলো আল্লাহর রহমতের পরিবার আর জাহান্নামীরা হলো আল্লাহর আযাবের পরিবার।
সাহাল ইবন সা‘দ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “জান্নাতীগণ (তাদের উপরস্থ) খাসকামরার লোকগণকে এমনভাবে দেখবে, যেভাবে তোমরা আকাশের তারকা দেখে থাক।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।জান্নাতীদের মর্যাদা ও অবস্থান তাদের স্তর অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের হবে। এমনকি উচ্চ মর্যাদার অধিকারী যারা তাদেরকে তাদের নিচের স্তরের লোকেরা নক্ষত্রের মতো দেখতে পাবে।