





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “দু’জনের খাবার তিনজনের জন্যে যথেষ্ট ও তিনজনের খাবার চারজনের জন্যে যথেষ্ট।” মুসলিমের অন্য এক বর্ণনায় জাবের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “একজনের খাবার দু’জনের জন্যে যথেষ্ট, দু’জনের খাবার চারজনের জন্যে যথেষ্ট এবং চারজনের খাবার আটজনের জন্য যথেষ্ট।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। - মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।হাদীসটিতে খাবারের ক্ষেত্রে সহানুভূতি দেখাতে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। আর এটাও বুঝানো হয়েছে যে, খাবার যদি কমও হয় তবুও তার দ্বারা যথেষ্ট হওয়ার মত উদ্দেশ্য হাসিল হবে এবং তাতে এমন বরকত হবে, যা উপস্থিত সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করবে। অন্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে এটি একটি বিশেষ উৎসাহ প্রদান। অর্থাৎ তুমি যদি তোমার খাবার নিয়ে বস, যা তোমার হিসেবে তোমার জন্যেই যথেষ্ট হবে, ইত্যবসরে অপর একজন এসে পড়লে, তার ব্যাপারে কার্পণ্য কর না এবং বলবে না যে এটা আমার একার খাবার বরং তার থেকে তাকেও দাও; যাতে করে উভয়ের জন্যেই তা যথেষ্ট হয়।
উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই শব্দগুলো দ্বারা দো‘আ করতেন, “হে আল্লাহ, তোমার নিকট আমি জাহান্নামের ফিতনা, জাহান্নামের শাস্তি এবং সম্পদ ও দারিদ্রতার ফিতনা থেকে সুরক্ষা চাই।”
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন।আল্লাহর মনোনীত নবী চারটি বস্তু হতে পানাহ চাচ্ছেন, তার বাণী: “হে আল্লাহ! তোমার নিকট আমি জাহান্নামের ফিতনা থেকে সুরক্ষা চাই।” অর্থাৎ এমন ফিতনা থেকে যা জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়, (যেন একই বাক্য দ্বিরুক্ত না হয়।) আবার জাহান্নামের ফিতনা দ্বারা জাহান্নামের দারোগার ধমকের সুরে প্রশ্নও হতে পারে। আর সে দিকেই ইশারা করেছেন আল্লাহ তা‘আলা নিম্নের বাণীতে, “যখনই তাতে একটি দল নিক্ষেপ করা হবে, তখন তার দারোগা বলবে তোমার নিকট কী সতর্ককারী আসে নি।” আর তার বাণী: “জাহান্নামের আযাব থেকে” অর্থ আমি জাহান্নামী হওয়া থেকে তোমার নিাকট পানাহ চাচ্ছি। জাহান্নামী কাফিররাই হবে, কারণ তাওহীদবাদী মুমিনগণকে সংশোধন করা হবে, আগুন দিয়ে পবিত্র করা হবে, কিন্তু আগুনের দ্বারা শাস্তি দেওয়া হবে না। “কবরের আযাব থেকে” এখানে কবর দ্বারা উদ্দেশ্য বারযাখের জগত, যেখানে মুত্যুর পর মৃতদের রাখা হয়। তবে অধিকাংশ লোককে যেহেতু কবর দেওয়া হয়, তাই কবর বলা হয়েছে অথবা মৃত ব্যক্তির অংশগুলো যেখানে স্থির হয় সেটাই তার কবর। আর কবরের ফিতনা দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে মুনকার ও নাকীরের প্রশ্নের উত্তর দিতে অপারগ হওয়া। আর “সম্পদের ফিতনা থেকে” অর্থাৎ অহমিকা, সীমালঙ্ঘন এবং হারাম পথে সম্পদ উপার্জন ও হারাম পথে সম্পদ ব্যয় এবং ধন-সম্পদ ও মর্যাদার কারণে সৃষ্ট অহংকার থেকে পানাহ চাই। “দারিদ্রতার ফিতনা থেকে” অর্থাৎ ধনীদেরকে হিংসা করা, তাদের সম্পদের প্রতি লোভ করা এবং তাদের সামনে নীচু হওয়া থেকে পানাহ চাই, যা ব্যক্তির সম্মান ও ধর্মকে বিনষ্ট করে এবং আল্লাহর বণ্টনে সন্তুষ্ট না হওয়ার প্রমাণ, যার পরিণতি ভালো নয়। আর চতুর্থ বস্তু “সম্পদের ফিতনা” নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পদের ফিতনা থেকে পানাহ চেয়েছেন। অর্থাৎ অবৈধভাবে সম্পদ সংগ্রহ করা, সম্পদের প্রতি অনুচিত মহব্বত ও ওয়াজিব খরচ ও হক থেকে বিরত থাকা থেকে পানাহ চেয়েছেন। আর দারিদ্রতার ফিতনা দ্বারা ধৈর্যহীনতা ও পরহেযগারী না থাকা বুঝায়। কারণ, অভাবের কারণে ব্যক্তি এমন জায়গায় উপনীত হয়, যেখানে যাওয়া তার রুচি ও ধর্মের পরিপন্থী। এবং তার কারণে হারামে লিপ্ত হলেও কোনো পরোয়া করে না।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি সফরে যাব ইচ্ছা করেছি, আমাকে উপদেশ দিন।’ তিনি বললেন, “তুমি আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো এবং প্রত্যেক উঁচু স্থানে ‘আল্লাহু আকবার’ পড়ো।” যখন লোকটা ফিরে যেতে লাগল, তখন তিনি বললেন, “হে আল্লাহ! তুমি তার পথের দূরত্ব গুটিয়ে দিয়ো এবং তার সফর সহজ করে দিয়ো।”
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।এক ব্যক্তি সফরে যাবার ইচ্ছা করল, তখন সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে উপদেশ দিন।’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন ও প্রত্যেক উঁচু স্থানে ‘আল্লাহু আকবার’ তথা আল্লাহর তাকবীর বলার উপদেশ দিলেন। যখন লোকটি ফিরে যেতে লাগল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্যে দো‘আ করলেন, যেন তার কর্ম সহজ করা হয়, তার যানবাহন সুন্দর করা হয়, যা দিয়ে সে আরামে গন্তব্যে পৌঁছবে এবং কষ্টদায়ক বস্তু দূর করে তার সফর যেন সহজ করা হয়।
আবূ মূসা আশ’আরী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা ক্ষুধার্তকে খাদ্য খাওয়াও, রোগীর শুশ্রুষা কর এবং বন্দীকে মুক্ত কর”।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বর্ণনা করেছেন যে, একজন মুসলিমের ওপর তার অপর মুসলিম ভাইয়ের হক হলো—ক্ষুধার্তকে আহার করানো, অসুস্থকে দেখতে যাওয়া এবং বন্দিকে মুক্ত করা।
আবূ উমামাহ্ আল-বাহিলী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, দু’জন লোকের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ -এর নিকট আলোচনা করা হল। তাদের একজন আবিদ (সাধক) এবং অন্যজন আলিম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “তোমাদের সাধারণ ব্যক্তির উপর আমার যতখানি মর্যাদা, ঠিক তেমনি একজন আলিমের মর্যাদা একজন আবিদের উপর”। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “নিশ্চয়ই আল্লাহ, তার ফেরেশতাগণ এবং আসমান-যমীনের অধিবাসীরা, এমনকি গর্তের পিপড়া এবং পানির মাছ পর্যন্ত সেই ব্যক্তির জন্য দু’আ করে যে মানুষকে কল্যাণকর ইলম শিক্ষা দেয়”।
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে দু'জন ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা হল, যাদের একজন ছিলেন ইবাদতকারী এবং অন্যজন ছিলেন আলেম। তাদের মধ্যে কে শ্রেষ্ঠ? তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: যে ইসলামী ইলমের প্রয়োজনীয়তা জেনেও ইবাদতে নিজেকে নিয়োজিত করেন, তার উপর ইসলামী ইলমের আলিম ও শিক্ষাদানকারীর শ্রেষ্ঠত্ব সর্বনিম্ন সাহাবীর উপর রাসুল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শ্রেষ্ঠত্ব এবং সম্মানের মতো। তারপর, তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কারণ ব্যাখ্যা করলেন, যা হল, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা, আরশ বহনকারী তাঁর ফেরেশতাগণ এবং আসমানবাসী অন্যান্য ফেরেশতাগণ এবং পৃথিবীর মানুষ, জিন এবং সমস্ত প্রাণী, এমনকি পৃথিবীর অভ্যন্তরে বসবাসকারী পিঁপড়া, এমনকি সমুদ্রের তিমি এবং মাছ; যেন স্থল ও সমুদ্রের প্রাণী অন্তর্ভুক্ত হয়, এই সমস্তই মানুষের ধর্মীয় ইলমের শিক্ষকের জন্য কল্যাণের দোআ করেন, যে ইলমে মানুষের মুক্তি এবং সাফল্য নিহিত।
হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই ঘুমাতে চাইতেন, তখনই তিনি তাঁর মাথার নীচে হাত রাখতেন এবং বলতেন: "হে আল্লাহ, যেদিন আপনি আপনার বান্দাদের একত্রিত করবেন অথবা পুনরুত্থিত করবেন, সেদিন আপনার শাস্তি থেকে আমাকে রক্ষা করুন।"
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ঘুমাতে যেতেন, তখন তিনি তাঁর ডান হাত বালিশের উপর রাখতেন এবং তার ডান গালটি হাতের উপর রাখতেন এবং বলতেন: "হে আল্লাহ," আমার রব, "আমাকে রক্ষা করুন" এবং "আপনার শাস্তি" এবং আযাব থেকে আমাকে হিফাজত করুন " যেদিন আপনি আপনার বান্দাদের একত্রিত করবেন বা পুনরুত্থিত করবেন" বিচারের দিন, পুনরুত্থানের দিন।
উবাই ইবন কা‘ব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, যখন রাতের এক-তৃতীয়াংশ পার হয়ে যেত, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে দাঁড়াতেন এবং বলতেন, “হে লোক সকল! আল্লাহকে স্মরণ কর। কম্পনকারী (প্রথম ফুৎকার) এবং তার সহগামী (দ্বিতীয় ফুৎকার) চলে এসেছে, আর মৃত্যু তার ভয়াবহতা নিয়ে হাজির, মৃত্যু তার ভয়াবহতা নিয়ে হাযির।” আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার উপর বেশি বেশি দুরূদ পড়ি। অতএব, আমি আপনার প্রতি দরূদ পড়ার জন্য (দো‘আর) কতটা সময় নির্দিষ্ট করব?’ তিনি বললেন, “তুমি যতটা ইচ্ছা কর।” আমি বললাম, ‘এক-চতুর্থাংশ?’ তিনি সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “যতটা চাও। যদি তুমি বেশি কর, তবে তা তোমার জন্য উত্তম হবে।” আমি বললাম, ‘অর্ধেক (সময়)?’ তিনি বললেন, “তুমি যা চাও; যদি বেশি কর, তাহলে তা ভাল হবে।” আমি বললাম, ‘দুই-তৃতীয়াংশ?’ তিনি বললেন, “তুমি যা চাও (তাই কর)। যদি বেশি কর, তবে তা তোমার জন্য উত্তম।” আমি বললাম, ‘আমি আমার (দো‘আর) সম্পূর্ণ সময় দুরূদের জন্য নির্দিষ্ট করব!’ তিনি বললেন, “তাহলে তো (এ কাজ) তোমার দশ্চিন্তা (দূর করার) জন্য যথেষ্ট হবে এবং তোমার পাপকে মোচন করা হবে।”
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।হাদীসের শুরুতে আলোচনা করা হয় যে, রাতের এক-তৃতীয়াংশ হলে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুম থেকে উঠে দাঁড়াতেন এবং তিনি তার উম্মতকে অলসতা থেকে সতর্ক করতেন এবং আল্লাহর পরিপূর্ণ রহমতে যে সব আমল দ্বারা তাঁর সন্তুষ্টি লাভ হয়, তার ওপর উৎসাহ প্রদান করে বলতেন, “হে লোকসকল! আল্লাহকে স্মরণ কর। জবানের দ্বারা ও অন্তরের দ্বারা; যাতে তিনি তার উম্মতকে যিকির বা আল্লাহর স্মরনের কারণে বেশি নেক আমল করা ও অন্যান্য কাজ ছাড়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন। হাদীসটিতে আরো রয়েছে যে, একজন প্রার্থনাকারীর কিছু এমন দো‘আ আছে যা সে তার নিজের জন্য করে। এমতাবস্থায় সে এ কাজ করতে পারে যে, তার যাবতীয় দো‘আর এক-তৃতীয়াংশ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর সালাত পেশ করায় ব্যয় করবে, কিংবা অর্ধেকাংশ বা পুরো অংশ জুড়েই সে তা করবে অর্থাৎ পুরো সময়েই কেবল রাসূলের ওপর সালাত পাঠ করার মাধ্যমেই দো‘আর কাজ সম্পন্ন করবে। যেমন, নিজের জন্য দো‘আ করার পরিবর্তে রাসূলুল্লাহর ওপর দুরূদ পাঠ করল। রাসূলুল্লাহ থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, “যে ব্যক্তি তার ওপর একবার সালাত পড়বে আল্লাহ তার ওপর দশবার সালাত পাঠ করেন।” হাদীসটি ইমাম মুসলিম স্বীয় সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। (১/৩০৬, হাদীস নং ৪০৮) এটা থেকে বুঝা যায় যে, কেবল রাসূলের ওপর সালাত পেশ করার সাওয়াবই তার জন্য যথেষ্ট হবে। এ কারণেই তিনি বলেন, তাহলে তো এ কাজ অর্থাৎ দরূদ পড়া তোমার দুশ্চিন্তার জন্য যথেষ্ট হবে এবং তোমার পাপও মোচন করা হবে। অর্থাৎ তুমিতো আল্লাহর কাছে ক্ষতির কারণ দূর করতে চাইছ, যা তোমার দুশ্চিন্তা বাড়ায় এবং তোমাকে গুনাহে বাধ্য করে। কিন্তু যখন তুমি দো‘আর পরিবর্তে দুরূদ পড়লে তখন তোমার আসল উদ্দেশ্য হাসিল হয়ে গেল। হাদীসটির উদ্দেশ্য এও হতে পারে যে, দো‘আর মধ্যে রাসূলকে তার ওপর দরূদ পাঠের মাধ্যমে শরীক করবে। ফলে যেন সে বলল, যখনই আমি আমার জন্য দো‘আ করব, আপনার ওপরও দুরূদ পাঠ করব। এ কথা প্রমাণ করে না যে, দো‘আ বাদ দিয়ে শুধু পুরো সময় রাসূলের ওপর সালাত পেশ করায় সীমাবদ্ধ থাকবে। বরং দুটোই করবে; এর মাধ্যমে সব হাদীসের ওপর আমল করা সম্ভব হবে।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আবূ বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর একজন ক্রীতদাস ছিল, চুক্তি অনুযায়ী সে তার কাছে ধার্যকৃত কর আদায় করত। আর আবূ বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তার সেই আদায়কৃত অর্থ ভক্ষণ করতেন। (অবশ্য প্রত্যহ সে অর্থ হালাল কি না, তা জিজ্ঞাসা করে নিতেন।) একদিনের ঘটনা: ঐ ক্রীতদাস কোনো একটা জিনিস এনে তাঁর খিদমতে হাযির করল। আর তিনি (সেদিন ভুলে কিছু জিজ্ঞাসা না করে) তা থেকে কিছু খেয়ে ফেললেন। দাসটি বলল, ‘আপনি কি জানেন, এটা কী জিনিস (যা আপনি ভক্ষণ করলেন)?’ আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন, ‘তা কী?’ দাসটি বলল, ‘আমি জাহেলী যুগে একজন মানুষের ভাগ্য গণনা করেছিলাম। অথচ আমার ভাগ্য গণনা করার মতো ভালো জ্ঞান ছিল না। আসলে আমি তাকে ধোঁকা দিয়েছিলাম। সে আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আমাকে (পারিশ্রমিক স্বরূপ) এই জিনিস দিলো, যা আপনি ভক্ষণ করলেন।’ এ কথা শুনে আবূ বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু নিজের হাত স্বীয় মুখের ভিতরে প্রবেশ করালেন এবং পেটের মধ্যে যা কিছু ছিল বমি করে বের করে দিলেন!
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তার এ গোলামটিকে নির্ধারিত পরিমাণ কর আদায়ের নিয়ম নির্ধারণ করে দেন; যা সে প্রতিদিন তাঁর নিকট নিয়ে আসত। একদিনের ঘটনা: ঐ ক্রীতদাস কোনো একটা জিনিস এনে তাঁর খিদমতে হাযির করল। আর তিনি তা থেকে ভক্ষণ করলেন। তারপর সে বলল, আপনি কি জানেন? তা কী? আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন, ‘তা কী?’ দাসটি বলল, ‘আমি জাহেলী যুগে একজন মানুষের ভাগ্য গণনা করেছিলাম। অথচ আমার ভাগ্য গণনা করার মতো ভালো জ্ঞান ছিল না। আসলে আমি লোকটিকে ধোঁকা দিয়েছিলাম। সে আমার সঙ্গে সক্ষাৎ করে আমাকে (পারিশ্রমিক স্বরূপ) এই জিনিস দিলো। গণনা করে বিনিময় গ্রহণ করা হারাম। চাই ভাগ্য গণনা করতে জানুক বা নাই জানুক। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম গণকের উপার্জন থেকে নিষেধ করেছেন। (সহীহ বুখারী ৩/৮৪, হাদীস নং ২২৩৭) এবং (সহীহ মুসলিম ৩ /১১৯৮, হাদীস নং ১৫৬৭) আবূ মাসঊদ আল-আনসারীর হাদীস থেকে। সুতরাং যখন সে আবু বকরকে এ কথা বলল, আবূ বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু নিজের হাত স্বীয় মুখের ভিতরে প্রবেশ করালেন এবং পেটের মধ্যে যা কিছু ছিল বমি করে বের করে দিলেন, যাতে তার পেট হারাম দ্বারা না ভরে। এ মাল হারাম; কারণ হারামের বিনিময় দ্বারা তা উপার্জিত। আর হারাম কর্মের ওপর বিনিময় গ্রহণ করাও হারাম।
আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ‘আদবা নামক একটি উষ্ট্রী ছিল। কোনো উষ্ট্রী তার আগে যেতে পারতো না। একদিন এক বেদুইন একটি জওয়ান উটে চড়ে আসল এবং ‘আদবা এর আগে চলে গেল। এতে মুসলিমগণের মনে কষ্ট হলো। এমনকি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামও তা বুঝতে পারলেন। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর বিধান এই যে, দুনিয়ার সব কিছুরই উত্থানের পর পতন রয়েছে।
তার মতই এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ‘আদবা নামক উষ্ট্রীর কথা বলা হয়েছে। সাহাবীরা মনে করতেন যে, কোনো উষ্ট্রী তার আগে যেতে পারে না বা এর সাথে প্রতিযোগিতায় কাছাকাছিও যেতে পারে না। কিন্তু একদিন এক বেদুইন একটি জওয়ান উটে চড়ে এসে ‘আদবার আগে চলে যায়। এতে যেন সাহাবীগণ মনে কষ্ট পেলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের অন্তরের কষ্ট বুঝতে পারলেন। ফলে তিনি বললেন, “আল্লাহর বিধান এই যে, দুনিয়ার সব কিছুরই উত্থানের পর পতন রয়েছে।” অতঃএব, দুনিয়ার সব কিছুরই উন্নতির পরে অবনতি অবধারিত। আর উত্থানের সাথে যদি অন্তরের উত্থান তথা অহংকার ও নিজেকে বড় মনে করা হয় তাহলে দ্রুত অবনতি অনিবার্য। কেননা এ অবনতি তার অহংকারের শাস্তিস্বরূপ। আর যদি অহংকার যুক্ত নাও হয় তবুও প্রত্যেক জিনিসের সর্বশেষ উন্নতিও উত্থানের পরে তা আবার স্বস্থানে ফিরে আসে এবং ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেতে থাকে। উক্ত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীতে “দুনিয়ার সব কিছুরই” বলা হয়েছে। এতে প্রমাণিত যে, আখিরাতের কোনো ব্যাপারে উন্নতি হলে তার অবনতি বা পতন হয় না। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে আল্লাহ তাদেরকে মর্যাদায় সমুন্নত করবেন।” [সূরা আল-মুজাদালাহ, আয়াত: ১১] সুতরাং যতক্ষণ তারা ইলম ও ঈমানের গুণে গুণান্বিত থাকবে আল্লাহ তাদেরকে অধঃপতিত করবেন না। কেননা তাদেরকে পতন করা আল্লাহর বিধান নয়; বরং তিনি তাদের আলোচনা উচ্চ মার্গে নিয়ে যান এবং আখিরাতে তাদের মর্যাদা সমুন্নত রাখবেন।