





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
আবদুল্লাহ ইবন ‘আমর ইবনুল ‘আস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে মারফু‘ সনদে বর্ণিত, “একা (সফররত) যাত্রী একটি শয়তান এবং দু’জন যাত্রী দু’টি শয়তান। আর তিনজন যাত্রী একটি কাফেলা।”
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন। - এটি মালেক বর্ণনা করেছেন।যে সব জায়গায় জনসাধারণের আনাগোনা না থাকে সে সব জায়গায় একা ভ্রমণ করা বা কেবল দুইজন লোক ভ্রমণ করার বিষয়ে হাদীসে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে এবং দলবদ্ধ হয়ে একসাথে ভ্রমণ করার প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। একজনের সফরের বিষয়টি স্পষ্ট; যাতে দলবদ্ধ সফরে থাকলে পথে কোনো বিপদ হলে বা সে মারা গেলে অপরের কাছ থেকে সহযোগিতা নেওয়া যায় এবং যাতে শয়তানের ষড়যন্ত্রে সে আক্রান্ত না হয়। আর দুই জন হলেও সফর করতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে; কেননা একজন আক্রান্ত হলে অপর জন একা হয়ে যাবে। বর্তমানে দ্রুতগামী গাড়িতে অন্যান্য যাত্রীদের সাথে ভ্রমণ করাকে একা ভ্রমণ করা হিসাবে গণ্য করা হবে না এবং এভাবে একজন একজন যাত্রীকে শয়তান বলা যাবে না; কারণ এ সব যাত্রীরা দলবদ্ধভাবে সফরকারী একটি কাফেলার মতোই। যেমন, মক্কা থেকে রিয়াদ বা জেদ্দা থেকে মক্কা ভ্রমণ করা। কিন্তু যে সব জনবিচ্ছিন্ন পথে মানুষের যাতায়াত নেই, সে সব পথে ভ্রমণ করা একার ভ্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তা এ হাদীসের আওতাভুক্ত বলে গণ্য হবে।
সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "তিনজন ব্যক্তির সাথে আল্লাহ কিয়ামতের দিন কথা বলবেন না এবং তাদেরকে পবিত্রও করবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি: একজন বৃদ্ধ কেশবিশিষ্ট ব্যভিচারী, একজন দরিদ্র অহংকারী ব্যক্তি এবং একজন ব্যক্তি যাকে আল্লাহ পণ্যদ্রব্য দান করেছেন, সে শপথ ছাড়া বিক্রি করে না এবং শপথ ছাড়া ক্রয় করে না।"
ইমাম তাবারানী এটি বর্ণনা করেছেননবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের তিন ধরণের লোক সম্পর্কে বলেছেন: কিয়ামতের দিন তারা তিনটি শাস্তির মাধ্যমে আল্লাহর শাস্তির যোগ্য হবে, যদি তারা তওবা না করে অথবা তাদের শাস্তি ক্ষমা না করা হয়: প্রথমত: কিয়ামতের দিন আল্লাহ নিজের ক্রোধের তীব্রতার কারণে তাদের সাথে কথা বলবেন না, বরং তিনি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন, অথবা তিনি তাদের সাথে এমনভাবে কথা বলবেন যা তাদের সন্তুষ্ট করবে না এবং তাদের প্রতি তাঁর অসন্তুষ্টি প্রকাশ করবে। দ্বিতীয়ত: তিনি তাদের পবিত্র করবেন না, তাদের প্রশংসা করবেন না এবং তাদের পাপ থেকে পবিত্রও করবেন না। তৃতীয়ত: আখেরাতে তাদের জন্য কঠোর ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থাকবে। এই তিন শ্রেণী হল: প্রথম শ্রেণী: একজন বৃদ্ধ ব্যক্তি যে ব্যভিচার করে। দ্বিতীয়ত: দরিদ্র ব্যক্তি যার কোন সম্পদ নেই, তবুও সে মানুষের প্রতি অহংকারী। তৃতীয়ত: যে ব্যক্তি ক্রয়-বিক্রয়ের সময় প্রায়শই আল্লাহর নামে শপথ করে, যার ফলে আল্লাহর নাম অবমাননা করে এবং তা অর্থ উপার্জনের উপায় হিসেবে ব্যবহার করে।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু মারফু হিসেবে বলেন, “যখন তোমরা সবুজ-শ্যামল ঘাসে ভরা যমীনে সফর করবে, তখন উটকে তার যমীনের অংশ দাও (অর্থাৎ, কিছুক্ষণ চরতে দাও)। আর যখন তোমরা ঘাস-পানি বিহীন যমীনে সফর করবে, তখন তাকে দ্রুত চালনা কর এবং তার দুর্বল হওয়ার পূর্বেই গন্তব্যে পৌঁছে যাও। আর যখন তোমরা রাতে বিশ্রামের জন্য কোনো স্থানে অবতরণ করবে, তখন প্রধান সড়ক থেকে দূরে থাকবে। কারণ, রাতে তা (হিংস্র) জন্তুদের রাস্তা এবং (বিষাক্ত) পোকামাকড়ের আশ্রয়স্থল হয়ে যায়।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।হাদীসটিতে জীব জন্তুর হক ও মানুষের স্বার্থ রক্ষার শিক্ষা রয়েছে। যেমন, রাসূলুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসাফিরদের কয়েকটি আদাব শিক্ষা দিয়েছেন। মুসাফির যখন চতুষ্পদ জন্তু, উট, গাধা ও ঘোড়ায় চড়ে সফর করবে, তখন তার কর্তব্য হলো, খাবার ও চলার ক্ষেত্রে তার সুবিধার প্রতি লক্ষ্য রাখা। কারণ, তাকে সেটা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। যখন সে ফসলি মৌসুম ও পর্যাপ্ত ঘাসের দিনে সফর করবে, তখন তার দায়িত্ব হলো, ধীরে চলা এবং পথ চলতে তাড়াহুড়া না করা, যাতে বাহন তার খাদ্যের হক উসুল করতে পারে। আর যদি অমৌসুম ও ঘাসের স্বল্পতার সময় ভ্রমণ করে, তখন তার দায়িত্ব হলো তার সাধ্যের ভেতর দ্রুত চলা, যাতে তাকে কষ্ট না করতে হয়। অনুরূপভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসাফিরদের আদেশ দিচ্ছেন যে, যখন তারা রাতে আরাম ও ঘুমানোর জন্য অবতরণ করবে, তারা সেটা রাস্তায় করবে না। কারণ, তা মুসাফিরদের জীবজন্তুর চলাচলের পথ, তারা তাতে যাতায়াত করে। অতএব, তাদেরকে তাদের রাস্তায় চলাচল করতে বাধা দিবে না, যা তাদের কষ্টের কারণ হয়। অধিকন্তু সেটা বিষাক্ত পোকা মাকড় ও হিংস্র জীব জন্তুর আশ্রয়স্থল, তারা সুবিধার জন্যেই রাতে রাস্তা দিয়ে চলাচল করে, আরেকটি কারণ হচ্ছে যে সব খাদ্য রাস্তায় পড়ে যায় সেগুলো তারা উঠিয়ে খায়।
আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা রাতে সফর কর। কেননা রাতে যমীনকে গুটিয়ে দেওয়া হয়।”
এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের উম্মতকে রাতে ভ্রমণ করার পরামর্শ দিচ্ছেন এবং তিনি সংবাদ দিচ্ছেন যে, যখন মুসাফির রাতে ভ্রমণ করে তখন তার জন্য যমীনকে গুটিয়ে দেওয়া হয়, ফলে সে দিনে যা পারে না রাতে তা ভ্রমণ করতে পারে। কারণ, বাহন যদি দিনে শক্তি সঞ্চয় করে ও বিশ্রাম নেয়, তাহলে সে রাতে খুব হাটতে পারে এবং তার হাটার মাত্রা বেড়ে যায়। অনুরূপভাবে গরম না থাকার কারণে মানুষ রাতে অধিক হাটতে পারে। অনুরূপভাবে গাড়ীও দিনের তুলনায় রাতে গরম কম হয়।
আবূ কাতাদাহ আল-আনসারী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সফরে থাকতেন এবং রাতে বিশ্রামের জন্য কোথাও অবতরণ করতেন, তখন তিনি ডান পার্শ্বে শয়ন করতেন। আর তিনি ফজরের কিছুক্ষণ পূর্বে বিশ্রাম নিলে তার হাতটা খাড়া করে হাতের কব্জির উপর মাথা রেখে আরাম করতেন।’
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অভ্যাস ছিল তিনি সফরে ঘুমানো বা আরাম করার জন্য যদি রাতের প্রথমাংশে অবতরণ করতেন, তখন তিনি তার ডান পার্শ্বকে যমীনের উপর রাখতেন। আর যদি ফজরের নিকটতম সময়ে কোথাও অবতরণ করতেন তখন তিনি হেলান দিতেন। তিনি তার হাত দাড় করিয়ে তার উপর হেলান দিতেন। কারণ, তিনি রাতের প্রথমাংশে ডান পার্শ্বে ঘুমাতেন যেন দেহকে তার ঘুমের পূর্ণ অংশ দিতে পারেন। আর ফজরের নিকটবর্তী সময়ে তিনি হাত খাড়া করে তার উপর ঘুমাতেন যাতে ঘুম গভীর না হয়, তাহলে ফজরের সালাত তার ছুটে যাবে।
জাবির ইবন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে পিছনে চলতেন। তিনি দুর্বলকে চলতে সাহায্য করতেন, তাকে বাহনের পিছনে বসিয়ে নিতেন এবং তার জন্য দো‘আ করতেন।
এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন।অর্থ: সফরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সব মানুষের পিছনে থাকতেন, যাতে তিনি অবলোকন করতে পারেন মানুষের অবস্থা, তাদের মধ্যে যাদের সাহায্য প্রয়োজন তাদের সাহায্য করার জন্যে, যেমন অক্ষম এবং যার বাহন নেই তাকে তিনি বাহনে উঠিয়ে নিতেন। আর তিনি দুর্বলকে হাটাতেন, তাকে পিছনে বহন করতেন ও তার জন্যে দো‘আ করতেন।
জাবের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে বর্ণিত। তিনি জিহাদে যাওয়ার ইচ্ছা করলেন, ফলে তিনি বললেন, “হে মুহাজির ও আনসারের দল! তোমাদের ভাইদের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে, যাদের কোনো মাল নেই, স্বগোত্রীয় লোকও নেই। সুতরাং তোমাদের প্রত্যেকে যেন দুই অথবা তিনজনকে সঙ্গে নিয়ে নেয়। কারণ, আমাদের কারো এমন কোনো সাওয়ারী নেই, যে কাউকে সাওয়ারীর পিঠে চড়াবে, তবে পালাক্রমে ছাড়া।” জাবের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, সুতরাং আমি দু’জন অথবা তিনজনকে সাথে নিলাম এবং তাদের মতোই আমার উটে পালাক্রমে চড়তাম।
এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন।অর্থ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবীদের নির্দেশ দেন, তারা যেন পালাক্রমে দুইজন এবং তিনজন করে একটি উটের উপর আরোহণ করে। যাতে প্রত্যেক ব্যক্তিই সমান হয়ে যায়।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ শয্যা গ্রহণ করবে, তখন সে যেন নিজ লুঙ্গির একাংশ দ্বারা তার বিছানাটা ঝেড়ে নেয়। কারণ, সে জানে না যে, তার অনুপস্থিতিতে কী কী জিনিস সেখানে এসেছে। তারপর এই দু‘আ পড়বে। অর্থাৎ, হে আমার রব! আমি তোমারই নামে আমার পার্শ্ব রাখলাম এবং তোমারই নামে তা উঠাব। অতএব যদি তুমি আমার আত্মাকে আবদ্ধ করে নাও, তাহলে তার প্রতি করুণা করো। আর যদি তা ছেড়ে দাও, তাহলে তাকে ঐ জিনিস দ্বারা হিফাযত কর, যার দ্বারা তুমি তোমার নেক বান্দাদের করে থাক।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।এ হাদীসটি অর্থ ঘুমের যিকিরসমূহকে কেন্দ্র করে। আর ঘুমের মুহুর্তটা এমন একটি মুহূর্ত যে মুহুর্তে মানুষ তার রুহকে স্বীয় রবের নিকট সোপর্দ করে। তারপর থেকে সে কোনো কল্যাণ ধরতে ও অনিষ্ট প্রতিহত করতে পারে না। ফলে সে তার আত্মাকে রক্ষার জন্য তার স্রষ্টার হাতে ছেড়ে দেয় এবং আল্লাহর জন্য পরিপূর্ণভাবে সোপর্দ করে। আলেমগণ বলেন: ঘুমোতে যাওয়া ও ঘুম থেকে উঠার সময় যিকির ও দো‘আ করার হিকমত হলো যাতে তার আমলসমূহের সমাপ্তি এবং তার কর্মসমূহের শুরু আল্লাহর আনুগত্যের ওপর হয়। এই পবিত্র হাদীসটিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেন যে, ঘুমের সময় একজন বান্দার জন্যে কিছু কর্ম করা ও কিছু বাণী উচ্চারণ করা সুন্নাত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের করনীয় কর্মগুলোর দিক নির্দেশনা দিয়েছেন এতে। যেমন তিনি বলেন, “যখন তোমাদের কেউ শয্যা গ্রহণ করবে, তখন সে যেন বিছানাটা ঝেড়ে নেয়।” কারণ, আরবদের অভ্যাস ছিল, তারা বিছানা আপন অবস্থায় রেখে যেত। তার চলে যাওয়ার পর হতে পারে কষ্টদায়ক পোকা মাকড় প্রবেশ করতে পারে অথবা ধুলাবালির ইত্যিাদির কারণে ময়লাযুক্ত হতে পারে। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমানোর আগে বিছানা ঝেড়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঝেড়ে নেওয়া ও পরিষ্কার করার বস্ত্রের বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “নিজ লুঙ্গির একাংশ দ্বারা তার বিছানাটা ঝেড়ে নিবে।” ইযার হলো, শরীরের নিচের অংশের পরিধেয়। এখানে উদ্দেশ্য কাপড়ের ভেতরের সাইটের একাংশ। কারণ, এভাবে ঝাড়তে সুবিধা, এবং তাতে উপরের অংশে ময়লা প্রভৃতি না লাগে। আর সতরও সুরক্ষা হয়। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঝাড়া ও পরিষ্কার করার কারণ সম্পর্কে বলেন, “কারণ, সে জানে না যে, তার অনুপস্থিতিতে কী কী জিনিস সেখানে এসেছে।” এতে প্রমাণিত হয়, শরীরের নিরাপত্তার প্রতি শরী‘আত কতই না আগ্রহী। কারণ, দেহের প্রতিষ্ঠার দ্বারাই দীনের প্রতিষ্ঠা। এভাবে কারণ সহ ঘুমের সময় করণীয় সুন্নাতের বর্ণনা দিলেন। দ্বিতীয়ত: মুখে বলার সুন্নাত। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, " ثم يقول: باسمك ربي " “হে আমার রব! আমি তোমারই নামে।” অর্থাৎ মহান আল্লাহর নামে আমি এ ক্ষণস্থায়ী দেহকে বিছানার উপর রাখলাম। এ থেকে প্রমাণিত হয় একজন মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো সব সময় সে তার রবের যিকিরের ওপর থাকবে। অতঃপর বলবে, “আমার পার্শ্ব রাখলাম” অর্থাৎ, এ দেহকে তোমার যিকির ছাড়া রাখবো না এবং উঠাবোও না। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “অতএব, যদি তুমি আমার আত্মাকে আবদ্ধ করে নাও, তাহলে তার প্রতি করুণা কর।” এতে মৃত্যুর প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে। রাসূলুল্লাহর বাণী: "وإن أرسلتها" “আর যদি তা ছেড়ে দাও” জীবিত করার প্রতি ইঙ্গিত। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: " فاحفظها بما تحفظ به عبادك الصالحين» “তাহলে তাকে ঐ জিনিস দ্বারা হিফাযত কর, যার দ্বারা তুমি তোমার নেক বান্দাদের করে থাক।” অর্থাৎ তুমি আমার আত্মা ও রূহকে ঐ জিনিস দ্বারা হিফাযত কর যে জিনিস দ্বারা তুমি তোমার নেক বান্দাদের হিফাযত কর। আর তা হলো সব ধরনের গোনাহ, অন্যায় ও ধ্বংসাত্মক কর্ম থেকে হিফাযত করা। যেমন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: " احفظ الله يحفظك" “তুমি আল্লাহকে হিফাযত কর, আল্লাহ তোমাকে হিফাযত করবেন।” এটি হলো সাধারণ হিফাযত। এ কারণেই তা কেবল সালেহীনদের সাথে খাস করেছেন। কারণ, নেক আমল ছাড়া রবের হিফাযত লাভ করা কারো জন্যই সম্ভব নয়। সুতরাং যারা সীমালঙ্ঘন করে ও পাপ করে তারা আল্লাহর বিশেষ হিফাযত লাভ করবে না। আল্লাহর বিশেষ হিফাযত কেবল তার ওলীগণ পাবে না। তবে সাধারণেরা আল্লাহর সাধারণ হিফাযতের কিছু অংশ পাবে।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, “তোমরা আল্লাহর নিকট মুসিবতের কাঠিন্য, অনিষ্টের স্পর্শ, খারাপ তাকদীর ও শত্রুর উপহাস থেকে পানাহ চাও।” অপর বর্ণনায় (বর্ণনাকারী) সুফিয়ান বলেছেন: আমার সন্দেহ হচ্ছে, হয়তো আমি একটি কথা বাড়িয়ে বলেছি।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।এই হাদীসটি জাওয়ামিউল কালিম। কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চারটি বস্তু থেকে পানাহ চেয়েছেন। বান্দা যদি সেগুলো থেকে নিরাপদ থাকে, তার জন্যে দুনিয়া ও আখিরাত নিরাপদ হয়ে যায়। এটাই স্পষ্ট সফলতা ও বড় প্রাপ্তি। আর অল্প শব্দে অনেক অর্থ অন্তর্ভুক্তকারী বাক্যকে জাওয়ামিউল কালিম বলা হয়। আমরা দেখছি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চারটি বস্তু হতে পানাহ চেয়েছেন, যেমন “মুসীবতের কাঠিন্য থেকে” অর্থাৎ মুসিবতের কাঠিন্য ও তাতে পিষ্ট হওয়া থেকে। এরূপ অবস্থা থেকে আল্লাহর নিকট পানাহ চাই। কারণ, মুসীবত যখন কঠিন আকার ধারণ করে, তখন আল্লাহর তাকদীরের ওপর নফস থেকে বিতৃষ্ণা ও অসন্তুষ্টি প্রকাশ পেতে পারে, তাহলেই তো বান্দা দুনিয়া ও আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। “অনিষ্টের স্পর্শ থেকে” অর্থাৎ অনিষ্টের সাথে জড়িয়ে যাওয়া, এখানকার অনিষ্ট যদিও ব্যাপক, তবে সবার আগে তার ভেতর অন্তর্ভুক্ত হয় আখিরাতের অনিষ্ট। কারণ, তার অনিষ্টের পশ্চাতে স্বস্তি নেই, দুনিয়ার অনিষ্টের বিপরীত, কারণ এতে তুমি এক দিন খুশি হবে, অপর দিন দুঃখিত হবে এটাই স্বাভাবিক। “খারাপ তাকদীর” অর্থাৎ যা নির্ধারণ করা হয়েছে সেটা বান্দার ওপর অবশ্যই পতিত হবে, যদিও তার জন্যে সেটা সুখকর নয়। এটা যেমন দুনিয়াবী জিনিসকে অন্তর্ভুক্ত করে, যথা সম্পদ, সন্তান, সুস্থতা ও স্ত্রী, অনুরূপভাবে পরকালের বিষয় ও শেষ পরিণতিকেও শামিল করে। আর এখানে কাযা/তাকদীর দ্বারা উদ্দেশ্য মানুষ। কারণ, আল্লাহর নির্ধারণ ও ফয়সালা পুরোটাই কল্যাণকর। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আর খারাপের সম্পর্ক আপনার সাথে নেই।” “শত্রুর উপহাস” এটা একটা মানসিক স্বভাব যে, মানুষ তার শত্রুর অনিষ্ট দেখে খুশি হয়। আর মুসলিমদের প্রকৃত শত্রু হচ্ছে কাফিররা। কারণ, তারাই মুসলিমদের পারস্পরিক ঝগড়া, মারামারি ও অবনতি দেখে খুশি হয়। এই হাদীসের প্রথম উদ্দেশ্য দীনি শত্রু, তবে দ্বিতীয় পর্যায়ে দুনিয়ার শত্রুঅন্তর্ভুক্ত। তবে একজন দাঈর টার্গেট হবে উন্নত, সে প্রথম দীনি শত্রুকে উদ্দেশ্য করবে এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে মুসলিম শত্রুকে টার্গেট করবে। আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি মুসলিমদের অবস্থা সংশোধন করে দিন।