





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
জাবির রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা উপরে উঠলে বলতাম, আল্লাহু আকবর। আর নিচে নামলে বলতাম সুবহানাল্লাহ। ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেনাদল যখন ‘সানায়া’ এর উপর উঠতেন তখন তাঁরা সকলে তাকবীর দিতেন। আর তা হতে নামতেন তখন তাসবীহ পাঠ করতেন।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন।উপরে উঠার সময় তাকবীর বলার কারণ হলো, মানুষের কাছে উপরে উঠা ও সম্মান-মর্যাদায় উঁচু হওয়া পছন্দনীয় ব্যাপার। আর এতে রয়েছে অহংকারের অনুভূতি। তাই সে উপরে উঠার সময় নিজেকে বড় মনে করতে পারে। সুতরাং সে যখন আল্লাহু আকবর বলবে তখন নিজেকে ছোট ও তুচ্ছ মনে করবে। কেননা সমস্ত বড়ত্ব ও অহংকার একমাত্র মহান আল্লাহ তা‘আলার। তাই কেউ উপরে উঠলে আল্লাহর যিকিরের মাধ্যমে তাঁর বড়ত্ব ও মহত্ব প্রকাশ করবে। আর এতে প্রমাণিত হয় যে, তিনি সব কিছু থেকে বড় ও মহান। এ কারণে তাঁর শুকরিয়া আদায় করতে তাঁর তাকবীর বলা। ফলে আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহে ব্যক্তির মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন। অন্যদিকে উপর থেকে নিচে নামার সময় তাসবীহ তথা সুবহানাল্লাহ বলতে হয়; কেননা নিম্নস্থান সংকীর্ণ ও বিপদের জায়গা। সুতরাং নিচে নামার সময় তাসবীহ বলা হয়; কেননা তাসবীহ হলো বিপদাপদ থেকে মুক্তির অন্যতম উপায়। যেমন ইউনূস আলাইহিস সালামের ঘটনা। তিনি যখন মাছের পেটে গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিলেন তখন মহান আল্লাহর তাসবীহ পড়েছিলেন। ফলে আল্লাহ তাকে সে বিপদ থেকে রক্ষা করেছিলেন। তাছাড়া নিম্নগামীতা হলো অবনতি, নিচুতা ও হীনতা। তাই বান্দা যখন বলে সুবহানাল্লাহ অর্থাৎ আমি যাবতীয় নিচুতা ও হীনতা থেকে আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি। কেননা আল্লাহ সবকিছুর উর্ধ্বে, সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী। এমনিভাবে বিমানে উপরে উঠার সময় বলবে আল্লাহু আকবর এবং অবতরণ করার সময় বলবে সুবহানাল্লাহ। যেহেতেু মাটি থেকে উপরে উঠা নামা আর বায়ুতে উপরে উঠা নামার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। আল্লাহই অধিক জ্ঞাত।
আলী ইবন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, “কোনো মুসলিম যদি অপর কোনো মুসলিম রোগীকে সকাল বেলায় দেখতে যায় তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত তার জন্য সত্তর হাজার ফিরিশতা দো‘আ করতে থাকেন। আর যদি সন্ধ্যার সময় কোনো মুসলিম রোগীকে দেখতে যায় তবে তার জন্য সকাল পর্যন্ত সত্তর হাজার ফিরিশতা দো‘আ করতে থাকেন। আর তার জন্য জান্নাতে একটি ফলের বাগান হবে।”
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।হাদীসের অর্থ হলো, কোনো মুসলিম যদি তার কোনো অসুস্থ মুসলিম ভাইকে দেখতে যায় তাহলে সে যতক্ষণ সেখানে থাকবে ততক্ষণ সে জান্নাতের ফলের বাগানে থাকবে। আল্লাহর অনুগ্রহ অনেক প্রশস্ত ও ব্যাপক। এ হাদীসটিতে রোগীর সেবা করার ফযীলত বর্ণনা করা হয়েছে। সে সকাল বেলায় রোগীর সেবা করলে তার জন্য অনুরূপ প্রতিদান আবার সন্ধ্যা বেলায় রোগীর সেবা করলেও তার জন্য রয়েছে অনুরূপ সাওয়াব।
আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ইলমের দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করা যায়, কোনো লোক যদি দুনিয়াবী স্বার্থ লাভের জন্য তা শিক্ষা করে, তবে সে কিয়ামতের দিন জান্নাতের সুগন্ধি পাবে না”।
এটি আবূ দাউদ, ইবন মাজাহ ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যাখ্যা করেছেন যে, যে ব্যক্তি দুনিয়ার সম্পদ অথবা মর্যাদার মতো কিছু অংশ এবং ভোগ-বিলাস অর্জন করার উদ্দেশ্যে শরয়ী ইলম শিখে যা সাধারণত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন উদ্দেশ্যেই শেখা হয় সে কিয়ামতের দিন জান্নাতের ঘ্রাণ পাবে না।
আবূ সা‘ঈদ খুদরী ও আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তারা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ যখন বলে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই আর আল্লাহ মহান। তখন তার রব তার এ কথা সত্যায়ন করে বলেন, হ্যাঁ, আমি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই আর আমি মহান। সে যখন বলে, একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই। তখন আল্লাহ বলেন, একমাত্র আমি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, আমার কোনো শরীক নেই। যখন সে বলে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, যাবতীয় রাজত্ব তারই আর তারই সব প্রশংসা। তখন আল্লাহ বলেন, আমি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, রাজত্ব আমারই আর আমারই সব প্রশংসা। যখন সে বলে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, কারো সামর্থ্য নেই, কারো শক্তি নেই আল্লাহ ছাড়া। তখন আল্লাহ বলেন, আমি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই আমি ছাড়া, কারো সামর্থ্য নেই কারো শক্তি নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলতেন, কেউ যদি তার রোগশয্যায় এই কথাগুলো বলে এরপর সে মারা যায় তবে জাহান্নামের আগুন তাকে গ্রাস করবে না।
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ও আবু সা‘ঈদ খুদুরী‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করে বলেন, বান্দা যখন আল্লাহ তা‘আলাকে ডাকে তখন তিনি তার কথা সত্যায়ন করেন। সে যখন বলে, (الله أكبر لا إله إلا الله) আল্লাহ মহান, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই। তখন তার রব তার এ কথা সত্যায়ন করে বলেন, (لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا، وَأَنَا أَكْبَرُ) হ্যাঁ, আমি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই আর আমি মহান। সে যখন বলে, (الله أكبر ولا حول ولا قوة إلا بالله) আল্লাহ মহান, তিনি ছাড়া, কারো সামর্থ্য নেই, কারো শক্তি নেই। এভাবে তিনি তার কথার সত্যয়ন করেন। যে ব্যক্তি বলবে: (لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ) আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, কারো সামর্থ্য নেই, কারো শক্তি নেই আল্লাহ ছাড়া। অতঃপর সে অবশিষ্ট যিকিরসহ মারা যাবে, তবে জাহান্নামের আগুন তাকে গ্রাস করবে না। অর্থাৎ এ কালেমাগুলো মানুষের জন্য জাহান্নামের আগুন হারামকারী হওয়ার অন্যতম কারণ। অতএব মানুষের উচিৎ এসব যিকির মুখস্ত করা এবং মৃত্যুকালীন সময় বেশি বেশি পরিমাণে উচ্চারণ করা যাতে তার শেষ পরিণাম উত্তম হয়। ইনশাআল্লাহ।
সুহাইল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের কেউ যখন ঘুমানোর ইচ্ছা করত তখন আবূ সালেহ আমাদের নির্দেশ দিতেন যে, সে যেন তার ডান কাতের উপর শয়ন করে। অতঃপর এ দো‘আ পাঠ করে, «اللهم ربَّ السماواتِ وربَّ الأرض وربَّ العرش العظيم، ربَّنا وربِّ كلِّ شيء، فالقَ الحَبِّ والنَّوى، ومُنْزِلَ التوراة والإنجيل والفُرقان، أعوذ بك من شرِّ كل شيء أنت آخذٌ بناصيتِه، اللهم أنت الأولُ فليس قبلك شيء، وأنت الآخرُ فليس بعدك شيء، وأنت الظاهرُ فليس فوقك شيء، وأنت الباطن فليس دونك شيء، اقضِ عنَّا الدِّينَ، وأغنِنا من الفقر» “হে আল্লাহ! হে সপ্ত আকাশের রব্ব, যমীনের রব্ব, মহান ‘আরশের রব্ব, আমাদের রব্ব ও প্রত্যেক বস্তুর রব্ব, হে শস্য-বীজ ও আঁটি বিদীর্ণকারী, হে তাওরাত, ইঞ্জীল ও কুরআন নাযিলকারী, আমি প্রত্যেক এমন বস্তুর অনিষ্ট থেকে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি, যার (মাথার) অগ্রভাগ আপনি ধরে রেখেছেন (নিয়ন্ত্রণ করছেন)। হে আল্লাহ! আপনিই প্রথম, আপনার পূর্বে কিছুই ছিল না, আপনি সর্বশেষ, আপনার পরে কোনো কিছু থাকবে না, আপনি সব কিছুর উপরে, আপনার উপরে কিছুই নেই; আপনি সর্ব নিকটে, আপনার চেয়ে নিকটবর্তী কিছু নেই, আপনি আমাদের সমস্ত ঋণ পরিশোধ করে দিন এবং আমাদেরকে অভাবগ্রস্ততা থেকে অভাবমুক্ত করুন। এটি আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করা হতো।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।তার সাহাবীদের কেউ ঘুমাতে গেলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিতেন যে, সে যেন বিছানার ওপর প্রথমে তার ডান পাশকে রাখে। অতঃপর সে বলে, «اللهم ربَّ السماواتِ وربَّ الأرض وربَّ العرش العظيم، ربَّنا وربِّ كلِّ شيء» অর্থ “হে আল্লাহ! হে সপ্ত আকাশের রব, যমীনের রব, মহান ‘আরশের রব, আমাদের রব ও প্রত্যেক বস্তুর রব।” অর্থাৎ,আসমানসমূহ ও যমীনের রব, উভয়টির শ্রষ্টা মালিক এবং উভয়টির পরিচালক। আর আরশে আযীমের রব, তার স্রষ্ট্রা ও মালিক। সমস্ত মানুষের স্রষ্টা তাদের মালিক ও পরিচালক এবং সমস্ত কিছুর রব। «فالقَ الحَبِّ والنَّوى» “হে শস্য-বীজ ও আঁটি বিদীর্ণকারী” অর্থাৎ হে ঐ সত্ত্বা যে এ দু’টিকে বিদীর্ণ করেন এবং তাদের থেকে ফসল ও খেজুর উৎপাদন করেন। এ দু’টিকে বিশেভাবে উল্লেখ করেছেন তাদের গুরুত্বের কারণে বা আরব দেশে এগুলো বেশি পাওয়া যায় সে কারণে। «ومُنْزِلَ التوراة والإنجيل والفُرقان» “হে তাওরাত, ইঞ্জীল ও কুরআন নাযিলকারী।” হে মুসা আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর তাওরাত এবং ঈসা আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর ইঞ্জিল এবং মুহাম্মাদ সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর কুরআন নাযিল কারী সত্ত্বা। «أعوذ بك من شرِّ كل شيء أنت آخذٌ بناصيتِه» “আমি প্রত্যেক এমন বস্তুর অনিষ্ট থেকে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি, যার (মাথার) অগ্রভাগ আপনি ধরে রেখেছেন (নিয়ন্ত্রণ করছেন)।” অর্থাৎ, প্রতিটি সৃষ্ট বস্তুর অনিষ্টতা থেকে আমি আপনার নিকট আশ্রয় ও সুরক্ষা কামনা করছি। কারণ, সবকিছু আপনার নিয়ন্ত্রণে ও আপনার করায়ত্বে ও আওতায়। «اللهم أنت الأولُ فليس قبلك شيء، وأنت الآخرُ فليس بعدك شيء، وأنت الظاهرُ فليس فوقك شيء، وأنت الباطن فليس دونك شيء» “হে আল্লাহ! আপনিই প্রথম, আপনার পূর্বে কিছুই ছিল না, আপনি সর্বশেষ, আপনার পরে কোনো কিছু থাকবে না, আপনি সবকিছুর উপরে, আপনার উপরে কিছুই নেই; আপনি সর্বনিকটে, আপনার চেয়ে নিকটবর্তী কিছু নেই।” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ চারটি নামের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন। প্রথমটি প্রমাণ করে যে, আল্লাহ ছাড়া সবকিছু ক্ষণস্থায়ী সবকিছু একসময় ছিল না পরবর্তীতে তা অস্থিত্বে এসেছে। দীনি ও দুনিয়াবী সব ধরনের নেয়ামতের মধ্যে একজন বান্দার জন্য তার রবের অনুগ্রহ কি তা জানা থাকা ওয়াজিব। কারণ, তাদের কারণ ও ফলাফল আল্লাহর থেকেই সংঘটিত। আর الآخر নামটি প্রমাণ করে তিনিই সর্বশেষ। অর্থাৎ তিনিই একমাত্র অবশিষ্ট থাকবেন তিনি ছাড়া বাকী সবকিছু শেষ হয়ে যাবে। আর তিনি এমন অমুখাপেক্ষী সত্ত্বা, যার দিকে ফিরে যায় সকল মাখলুক আনুগত্য, আগ্রহ, ভয় ও সকল চাওয়া-পাওয়া নিয়ে। আর الظاهر নামটি প্রমাণ করে, আল্লাহ সবকিছুর উপর। এটি তার গুনের মহত্ব এবং তার সত্ত্বা ও গুনের মহত্বের সামনে সবকিছু নগণ্য হওয়াকে প্রমাণ করে। এবং সব মাখলুকের ওপর তার সত্যিকার মহত্ব ও উচ্চতা প্রমাণ করে। আর الباطن নামটি প্রমাণ করে, তিনি সর্ব নিকটে। তিনি যাবতীয় গোপনীয় বিষয়, অন্তরের অবস্থা এবং সব বস্তুর সুক্ষ্ম বিষয়গুলোও জানেন। যেমনটি প্রমাণ তার নিকট হওয়া ও কাছে হওয়ার পরিপূর্ণতাকে। যাহের ও বাতিন এ দু’টি নামের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। কারণ, যাবতীয় গুণেই আল্লাহর মতো কোনো কিছুই নেই। তিনি তার উচ্চ আসনে থেকেও নিকটে, আবার নিকটে থেকেও উচ্চাসনে। «اقضِ عنَّا الدِّينَ، وأغنِنا من الفقر» “আপনি আমাদের সমস্ত ঋণ পরিশোধ করে দিন এবং আমাদেরকে অভাবগ্রস্ততা থেকে অভাবমুক্ত করুন।” অতঃপর আল্লাহর নিকট কামনা করেন যে, তিনি যেন তার ঋণ পরিশোধ করে দেন এবং তাকে দরিদ্রতাকে থেকে মুক্ত করেন।
উসামাহ ইবন যাইদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তাঁর নাতিকে মুমূর্ষু অবস্থায় পেশ করা হল। (তাকে দেখে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের চক্ষুদ্বয় অশ্রুতে ভরে গেল। সা‘দ বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! এটা কী?’ তিনি বললেন, “এটা হচ্ছে রহমত (দয়া); যা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের অন্তরে রেখেছেন। আর আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে দয়ালুদের প্রতিই দয়া করেন।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।উসামাহ ইবন যাইদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু যাকে রাসূলের প্রিয়জন বলে ভূষিত করা হতো, তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, রাসূলের কোনো এক মেয়ে তার কাছে একজন দূত (সংবাদ বাহক) প্রেরণ করল, যে এসে রাসূলকে বলবে, তার (আপনার মেয়ের) ছেলে মারা যাওয়ার উপক্রম হয়েছে, সে চাচ্ছে রাসূল সেখানে উপস্থিত হোক। সে কথা মতো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট সংবাদ পৌঁছাল, তিনি তাকে বললেন: “তুমি তাকে বল, সে যেন ধৈর্য ধারণ করে, আর সাওয়াবের আশা করে। কারণ, যা আল্লাহ নিয়ে যান এবং যা তিনি দান করেন সবই তার। আর প্রতিটি বস্তুর তার নিকট একটি নির্ধারিত সময় রয়েছে।” যে লোকটিকে রাসূলের মেয়ে তার নিকট প্রেরণ করেছিল, তাকে রাসূল নির্দেশ দিলেন যে, সে তার মেয়েকে (মুমূর্ষু ছেলেটির মাকে) এ বাক্যগুলো বলতে বলবে। এখানে রাসূলের বাণী: “যা কিছু আল্লাহ নিয়ে যান এবং যা কিছু আল্লাহ দেন সবই তার” একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণী। যখন সবকিছুই আল্লাহর জন্য তখন যদি তার থেকে তিনি কোনো কিছু নিয়ে যান সেটা আল্লাহরই মালিকানা। আর যখন কোনো কিছু তোমাকে দান করেন সেটাও তার মালিকানা। তাহলে তুমি কেন রাগ করবে যখন তোমার থেকে তিনি কিছু নেবেন যার মালিক তিনিই? এ কারণেই সুন্নাত হলো মানুষকে যখন কোনো মুসীবত স্পর্শ করবে তখন সে বলবে, (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজে‘উন) “নিশ্চয় আমরা আল্লাহর জন্য আর আল্লাহর দিকেই আমরা প্রত্যাবর্তনকারী।” আমরা আল্লাহর মালিকানায় তিনি যা চান আমাদের তাই করেন। অনুরূপভাবে আমরা যা ভালোবাসি তা যদি তিনি আমাদের হাত থেকে নিয়ে নেন, তবে তাও তার। তিনি যা নেন এবং যা দেন সবই তার। এমনকি যা তোমাকে দিল, তুমি তার মালিক নও, তা আল্লাহরই। এ কারণেই তোমাকে আল্লাহ যা দান করেছেন, তাতে তুমি আল্লাহ তা‘আলা যেভাবে ব্যয় করার নির্দেশ দিয়েছেন তার বাইরে তুমি ব্যয় করতে পারবে না। এতে প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ আমাদের যা দান করেন তার মালিকানা আল্লাহরই। রাসূলের বাণী: ‘নির্ধারিত সময়’। অর্থাৎ যখন তুমি এ কথা বিশ্বাস করবে যে, আল্লাহ যা নিয়েছেন এবং যা দিয়েছেন সবকিছুই তার জন্যে তখন তুমি সন্তুষ্ট হবে। আর এ শেষ বাক্যটি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, মানুষ নির্ধারিত ও লিখিত কোনো কিছুকে আগ-পিছ করতে পারে না, যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, (যখন তাদের মৃত্যু এসে যায় তারা এক মুহুর্তও আগ পিছ করতে পারে না।) [সূরা ইউনুস, আয়াত: ৪৯] সুতরাং চিৎকার-চেঁচামেচি ও অধৈর্য হওয়াতে কোনো উপকার নেই। কারণ যদি তুমি চিৎকার-চেঁচামেচি কিংবা অসন্তুষ্ট হও এতে তোমার ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হবে না। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দূতকে যা নির্দেশ দিয়েছেন সে রাসূলের মেয়ের নিকট তা পৌঁছে দিল, কিন্তু সে তাকে পাঠিয়ে দিল তাকে সশরীরে উপস্থিত হওয়ার অনুরোধ করে। ফলে রাসূলুল্লাহ নিজে ও তার কতক সাহাবী তার বাড়ীর দিকে রওয়ানা দিলেন। তিনি তার নিকট পৌঁছলে বাচ্চাটিকে তার কাছে তুলে ধরেন, তখন বাচ্চাটি কাঁপছিল এবং তার শ্বাস উঠা-নামা করছিল। এ দেখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাঁদলেন ও তার দুই চোখ অশ্রুতে ভরে গেল, তখন সা‘দ ইবন উবাদাহ -যিনি খাযরাজ গোত্রের সরদার এবং তার সাথেই ছিলেন, তিনি বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! এ কী?’ সে ধারণা করছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধৈর্য হয়ে কাঁদছেন। তখন তিনি বললেন, “এটা রহমত (দয়া); অর্থাৎ বাচ্চাটির প্রতি করুণা করে কাঁদছি, অধৈর্য হয়ে নয়। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আর আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে দয়ালুদের প্রতিই দয়া করেন। এ হাদীসটি প্রমাণ করে যে, মুসীবতগ্রস্ত ব্যক্তির প্রতি দয়াপরবশ হয়ে ক্রন্দন করা বৈধ।
আবূ হুরায়রা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “এক ব্যক্তি রাস্তা দিয়ে চলার সময় রাস্তায় একটি কাঁটাযুক্ত ডাল দেখতে পেয়ে তা সরিয়ে ফেলল। আল্লাহ তা’আলা তার এ কাজ সাদরে কবুল করে তার গুনাহ মাফ করে দিলেন”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, এক ব্যক্তি যখন হেঁটে যাচ্ছিল, তখন সে রাস্তার ধারে একটি কাঁটাযুক্ত গাছের ডালের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল, যা মুসলিমদের কষ্ট দিচ্ছিল। সে এটি দূর করে রাস্তা থেকে সরিয়ে দিল, তাই আল্লাহ তাকে কৃতজ্ঞতা জানালেন এবং তাকে ক্ষমা করলেন।
আব্দুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা জমি-জায়গা, বাড়ি-বাগান ও শিল্প-ব্যবসায়ে বিভোর হয়ে পড়ো না। তাহলে তোমরা দুনিয়ার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়বে”।
এটি তিরিমিযী ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম অতিমাত্রায় খামার, বাগান এবং কৃষি নিষিদ্ধ করেছেন। কারণ এটি দুনিয়ার প্রতি আকাঙ্ক্ষা এবং আখেরাত বিমুখ হওয়ার অন্যতম কারণ।
আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বললেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়েকটি রেখা টানলেন এবং বললেন, এটা মানুষ আর এটা তার আয়ু। মানুষ যখন এ অবস্থায় থাকে হঠাৎ নিকটবর্তী রেখা (মৃত্যু) এসে যায়। আব্দুল্লাহ ইবন মাস‘ঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি চতুর্ভুজ আঁকলেন এবং এর মাঝখানে একটি রেখা টানলেন, যা চতুর্ভুজ অতিক্রম করে গেল। তারপর দু’পাশ দিয়ে মাঝের রেখার সাথে ভেতরের দিকে কয়েকটা ছোট ছোট রেখা মিলালেন এবং বললেন, এ মাঝামাঝি রেখাটা হলো মানুষ। আর এ চতুর্ভুজটি হলো তার আয়ু, যা তাকে ঘিরে রেখেছে। আর বাইরের দিকে অতিক্রান্ত রেখাটি হলো তার আশা। আর এ ছোট রেখাগুলো বাধা-বিপত্তি। যদি এর একটি থেকে সে রেহাই পেয়ে যায়, তবে অন্যটি তাকে দংশন করে। আর যদি অন্যটি থেকেও রেহাই পেয়ে যায় তবে আরেকটি তাকে দংশন করে।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।উপরোক্ত হাদীসদ্বয়ে মানুষের আশা-আকাঙ্খা, তার আয়ু, আপতিত বিপদাপদ এবং মৃত্যুর উপমা দেওয়া হয়েছে। যা একটির পর অন্যটি আপতিত হয়। এ সবের থেকে রক্ষা পেলেও আয়ু শেষ হয়ে গেলে মৃত্যু থেকে রক্ষা পাবে না। মৃত্যু আসবেই। হাদীসে বর্ণিত দাগগুলো হলো মানুষের ওপর আপতিত বিপদসমূহ। সে সেসব বিপদের একটি থেকে রেহাই পেলে আরেকটি এসে আপতিত হয়। আবার সবগুলো থেকে রেহাই পেলেও, সে কোনো রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত না হলেও বা তার ধন-সম্পদ কোনো কিছুই হারানো না গেলেও হঠাৎ তার কাছে মৃত্যু এসে উপস্থিত হবে। মূলকথা হলো কেউ কোনো কারণে মারা না গেলেও আয়ু শেষ হওয়ার কারণে মারা যাবেই। সুতরাং মানুষ যখন এ অবস্থায় থাকে হঠাৎ নিকটবর্তী রেখা তথা মৃত্যু এসে যায়। এ হাদীসে মানুষকে অল্প আশা-আকাঙ্খা করতে ও হঠাৎ মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি নিতে উৎসাহিত করা হয়েছে। আর এখানে বিপদ ও ধ্বংসের তীব্রতা বুঝাতে এসব কাজগুলোকে বিষাক্ত দংশন হিসেবে ব্যক্ত করা হয়েছে।