





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের দু’জন সাহাবী অন্ধকার রাতে তাঁর নিকট থেকে বাইরে গমন করেন। আর তাদের সম্মুখভাগে দু’টো প্রদীপের ন্যায় আলো বিদ্যমান ছিল। পরে যখন তারা একে অপর থেকে আলাদা হয়ে গেলেন, তখনও প্রত্যেকের সঙ্গে একটি করে আলো ছিল। যতক্ষণ না তাদের প্রত্যেকে নিজ নিজ গৃহে পৌঁছে গেলেন।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।এ হাদীসটিতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীদের থেকে দুই ব্যক্তির সুস্পষ্ট কারামত পরিলক্ষিত। কোনো কোনো হাদীসের বর্ণনায় এসেছে এ দুইজন লোক হলো, আব্বাদ ইবন বিশর এবং উসাইদ ইবন হুদাইর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা। এ দুই বিশিষ্ট সাহাবী এক গভীর অন্ধকার রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লামের নিকট ছিল। অন্ধকার এতই গভীর ছিল সাধারণত মানুষ এ ধরনের অন্ধাকারে সহজভাবে চলাচল করতে পারে না। আল্লাহ তাদের দুইজনকে এক আশ্চর্য কারামত দ্বারা সম্মানিত করেন। আর তা হলো আল্লাহ তা‘আলা তাদের দু’জনের আগে আগে প্রদীপের ন্যায় এক ধরনের আলো সৃষ্টি করে দেন, যা ছিল বৈদ্যুতিক বাতির মতো। তারা যে পথে চলেন তাদের জন্য সে পথকে তা আলোকিত করে দেয়। তারপর যখন এ দু’জন বিশিষ্ট সাহাবী একে অপর থেকে আলাদা হয়ে গেলেন, তখনও তাদের প্রত্যেকের সঙ্গে আলাদা আলাদা আলো ছিল, যাতে তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ গৃহে সহজে ও নিরাপদে পৌঁছে যেতে পারেন।
আবূ সাঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, “মু’মিন ব্যক্তি ছাড়া আর কারো সাথী হবে না । আর মুত্তাকী ব্যতীত অন্য কেউ যেন তোমার খাবার না খায়।”
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।আবূ সাঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বর্ণিত হাদীস নির্দেশনা দেয় যে, মুসলিমের উপর কর্তব্য হলো সর্বদা সৎলোকদের সাহচর্য গ্রহণ করা। এ হাদীসে মুমিনের সাহচর্য গ্রহণ করতে উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। এর দাবি হচ্ছে কাফির ও মুনাফিকদের সাহচর্য থেকে দূরে থাকা। কেননা তাদের সাথে বন্ধুত্ব দীনের জন্য ক্ষতিকর। এখানে মুমিন বলতে মুমিনদের কতক সংখ্যাকে বুঝানো হয়েছে। এমনিভাবে নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম সৎলোকদের সাহচার্যকে গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, “আর মুত্তাকী ব্যতীত অন্য কেউ যেন তোমার খাবার না খায়।” অর্থাৎ আল্লাহ ভীরু লোক যারা খাদ্য গ্রহণ করে সে শক্তি আল্লাহর ইবাদতে ব্যয় করবে। “আর মুত্তাকী ব্যতীত অন্য কেউ যেন তোমার খাবার না খায়” হাদীসটি সাধারণ দাওয়াত যেমন অলীমা ও অন্যান্য দাওয়াতও অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং দাওয়াতী মেহমান ঈমানদার ও সৎলোক হওয়া বাঞ্ছনীয়।
আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একটি লোক নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে নিবেদন জানাল, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমি সফরে যাব, সুতরাং আমাকে পাথেয় দিন।’ তিনি উত্তরে এই দুআ দিলেন, ‘যাউওয়াদাকাল্লা-হুত্ তাকগুওয়া।’ অর্থাৎ, আল্লাহ তোমাকে তাকওয়ার পাথেয় দান করুন। লোকটি পুনরায় বলল, ‘আমাকে আরো পাথেয় দিন।’ তিনি দুআ দিয়ে বললেন, ‘অগাফারা যামবাকা।’ অর্থাৎ, আল্লাহ তোমার অপরাধ ক্ষমা করুন। লোকটি আবার নিবেদন করল, ‘আমাকে আরো দিন।’ তিনি পুনরায় দুআ দিয়ে বললেন, ‘অয়্যাস্সারা লাকাল খাইরা হাইসুমা কুন্ত্।’ অর্থাৎ, তুমি যেখানেই থাক, আল্লাহ যেন তোমার জন্য কল্যাণ সহজ ক’রে দেন।
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি দারিমী বর্ণনা করেছেনআনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত: এক লোক সফর করার ইচ্ছা করলে পাথেয় চেয়ে নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে অনুমতি চাইল, উত্তরে এমন দু‘আ করলেন, যাতে পাথেয়ের মতোই তার উপকার হয়। তার পাথেয় হবে আল্লাহর আদেশসমূহের বাস্তবায়ন এবং নিষেধসমূহ হতে ফিরে থাকা। লোকটি আরো বেশি কল্যাণ ও বরকতের দো‘আ লাভের আশায় আবারও পাথেয় চাইল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার অন্তরকে খুশি করার জন্য তাকে এ বলে উত্তর দিলেন, আর তোমার গুনাহকে ক্ষমা করুক। লোকটি বেশি কল্যাণ ও বরকতের দো‘আ লাভের আশায় আবারও পাথেয় চাইল। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য একটি সুন্দর দো‘আ যেটি কল্যাণ ও কামিয়াবী উভয়কে একত্র করে তা দ্বারা শেষ করা ছাড়া কোন উপায় ছিল না। তাই সে যে কোন জায়গায় অবতরণ করবে এবং যে কোন সময়ে অবতরণ করবে যাতে উভয় জাহানের কল্যাণকে তার জন্য সহজ করা হয় সে দো‘আ করলেন।
সাবিত রহ. আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণনা করেন। তিনি (আনাস) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে আসলেন। আমি তখন বালকদের সাথে খেলছিলাম। তিনি আমাদের সালাম দিলেন। তারপর তিনি আমাকে একটি প্রয়োজনে পাঠালেন। আমি আমার মায়ের কাছে ফিরতে বিলম্ব করলাম। আমি যখন আমার মায়ের কাছে গেলাম তখন তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাকে কিসে আটকিয়ে ছিলো? (কেন বিলম্ব করলে?) আমি বললাম,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে একটি প্রয়োজনে পাঠিয়েছিলেন। তিনি বললেন, তাঁর প্রয়োজনটি কী ছিলো? আমি বললাম, তা গোপনীয়। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের গোপন তথ্য কখনো কাউকে বলবে না। আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন, আল্লাহর কসম, হে সাবিত! সেই গোপন তথ্য কারও কাছে ব্যক্ত করলে তা তোমাকে অবশ্যই জানাতাম।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।সাবিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের খাদিম আনাস থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি (আনাস) তখন বালকদের সাথে খেলছিলেন, এমতাবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছ দিয়ে গেলেন।তখন আনাস ছোট বালক ছিলেন। তিনি বাচ্চাদেরকে সালাম দিলেন, তারা তখন খেলছিলো। তারপর তিনি আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে ডাকলেন এবং তাকে একটি প্রয়োজনে পাঠালেন। ফলে তার মায়ের কাছে ফিরতে বিলম্ব হলো। তিনি যখন তার মায়ের কাছে গেলেন তখন তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমাকে কিসে বিলম্ব করিয়েছে? তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে একটি প্রয়োজনে পাঠিয়েছিলেন। তিনি বললেন, তাঁর প্রয়োজনটি কী ছিলো? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের গোপন তথ্য আপনাকে বলবো না। অর্থাৎ কাউকেই এ গোপন তথ্য বলবো না। তিনি (আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর মা) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের গোপন তথ্য কখনো কাউকে বলবে না। অতঃপর আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর সার্বক্ষণিক সাহচর্যে থাকা তার ছাত্র সাবিত আল-বুনানীকে বললেন, আল্লাহর কসম, আমি যদি সেই গোপন তথ্য কারও কাছে ব্যক্ত করতাম তাহলে তোমার কাছেই ব্যক্ত করতাম।
হুযাইফা রদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা যখন আল্লাহর রাসূল-এর সঙ্গে আহারে বসতাম, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাবারে হাত রেখে শুরু না করা পর্যন্ত আমরা তাতে হাত রাখতাম না (এবং আহার শুরু করতাম না)। একদা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে খাবারে উপস্থিত ছিলাম। হঠাৎ একটি বাচ্চা মেয়ে এমনভাবে এল, যেন তাকে (পিছন থেকে) ধাক্কা দেওয়া হচ্ছিল এবং সে নিজ হাত খাবারে দিতে উদ্যত হয়েছিল, এমন অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাত ধরে নিলেন। তারপর এক বেদুঈনও (তদ্রূপ দ্রুত বেগে) এল, যেন তাকে ধাক্কা মারা হচ্ছিল (সেও খাবারে হাত রাখতে উদ্যত হলে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাতও ধরে নিলেন এবং বললেন, “যে খাবারে আল্লাহর নাম নেওয়া হয়নি, শয়তান সে খাদ্যকে হালাল মনে করে। আর এ মেয়েটিকে শয়তানই নিয়ে এসেছে, যাতে ওর বদৌলতে নিজের জন্য খাদ্য হালাল করতে পারে। কিন্তু আমি তার হাত ধরে ফেললাম। তারপর সে বেদুঈনকে নিয়ে এল, যাতে ওর দ্বারা খাদ্য হালাল করতে পারে। কিন্তু আমি ওর হাতও ধরে নিলাম। সেই মহান সত্তার কসম! যার হাতে আমার প্রাণ আছে, শয়তানের হাত তাদের দু’জনের হাতের সঙ্গে আমার হাতে আটকা পড়েছে”।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনহুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যখন তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে খাবারে উপস্থিত হতেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাত না দেওয়া পর্যন্ত তারা তাতে হাত দিতেন না। একবার আমরা তাঁর সাথে খাবারে হাজির হয়েছিলাম আর একটা ছোট মেয়ে এলো, যেন তাকে ধাক্কা দেওয়া হচ্ছে, তাই সে খাবারে হাত দিতে গেল, কিন্তু আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার হাত ধরে ফেললেন। তারপর একজন বেদুইন এমনভাবে এলো যেন তাকে ধাক্কা দেওয়া হচ্ছে এবং খাবার স্পর্শ করার আগে তিনি তার হাত ধরে ফেললেন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: যদি কেউ আল্লাহর নাম না নিয়ে খাবার খেতে শুরু করে, তাহলে শয়তান খাবার খেতে সক্ষম হয়। সে এই মেয়েটিকে নিয়ে এসেছে যাতে তার মাধ্যমে খাবার খেতে সক্ষম হয়। তাই আমি তার হাত ধরে ফেললাম। তারপর সে এই বেদুইনকে নিয়ে এল যাতে তার মাধ্যমে খাবার খেতে সক্ষম হয়, তাই আমি তার হাত ধরে ফেললাম। যার হাতে আমার প্রাণ, সেই সত্তার শপথ, শয়তানের হাত তার সাথে আমার হাতেও আছে। তারপর তিনি আল্লাহর নাম উচ্চারণ করলেন এবং খেলেন।
আবূ মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবন আ’স রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “চল্লিশটি সৎকর্ম আছে তার মধ্যে উচ্চতম হল, দুধ পানের জন্য (কোন দরিদ্রকে) ছাগল সাময়িকভাবে দান করা। যে কোন আমলকারী এর মধ্য হতে যে কোন একটি সৎকর্মের উপর প্রতিদানের আশা করে ও তার প্রতিশ্রুত পুরস্কারকে সত্য জেনে আমল করবে, তাকে আল্লাহ তার বিনিময়ে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন”।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উম্মতকে ভালো কাজের প্রতি উৎসাহ দেন। তিনি সংখ্যাও উল্লেখ করে বলেন, তা হলো চল্লিশটি ভালোকর্ম। আর তিনি একটি কর্ম যা সর্বোত্তম তা ছাড়া বাকী ভালো আমলগুলো অস্পষ্ট রাখেন। তা হলো: একজন মানুষের নিকট ছাগল আছে। সে মাদী ছাগলটি কোন একজন গরীব মানুষকে দুধ পানের জন্য সাময়িকভাবে দান করল। তারপর যখন সে তার প্রয়োজন মিটাল তখন ছাগলটি তার মালিকের নিকট ফিরিয়ে দিল। এটি উল্লেখ করেছেন যাতে মানুষ বুঝে যে, এ ধরনের আমল সহজ ও অসংখ্য। মানুষ যেন ভালো কর্মে প্রতিযোগিতা করে।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, “যখন কিয়ামত নিকটবর্তী হবে তখন মুমিনের স্বপ্ন খুব কমই মিথ্যা হবে। আর মুমিনের স্বপ্ন নবুওয়াতের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ।” অন্য বর্ণনায় এসেছে, “তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক সত্যভাষী ব্যক্তি সর্বাধিক সত্য ও বাস্তব স্বপ্নদ্রষ্টা হবে।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।হাদীসের অর্থ: শেষ যমানায় মুমিনদের স্বপ্ন সত্য হবে। মুমিনের সে সময়কার স্বপ্ন কখনো সংঘটিত ঘটনা সম্পর্কে হবে অথবা ভবিষ্যতে সংঘটিতব্য ঘটনা সম্পর্কে হবে, ফলে তা তাদের স্বপ্ন অনুযায়ী সংঘটিত হবে। বস্তুত এসব স্বপ্ন নবুওয়াতের অহীর ন্যায় সত্যে পরিণত হবে। “আর মুমিনের স্বপ্ন নবুওয়াতের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ।” অর্থাৎ নবুওয়াতী ইলমের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ। যেহেতু সেসব স্বপ্নে গায়েব সম্পর্কে সংবাদ থাকবে। যদিও নবুওয়াত আর অবশিষ্ট নেই; তবে নবুওয়াতের ইলম এখনো অবশিষ্ট আছে। হাদীসে ছেচল্লিশ সংখ্যাকে নির্দিষ্ট করার কারণ হলো, অধিকাংশ সহীহ বর্ণনা অনুযায়ী নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বয়স পেয়েছিলেন তেষট্টি বছর। আর তন্মধ্যে নবুওয়াতী জীবন ছিল তেইশ বছর। কেননা তিনি চল্লিশ বছর বয়সে নবুওয়াত প্রাপ্ত হন। আর নবুওয়াত লাভের পূর্বে ছয় মাস তিনি ঘুমে সত্য স্বপ্ন দেখতেন। যে স্বপ্নই তিনি দেখতেন তা একেবারে ভোরের আলোর ন্যায় স্পষ্ট প্রকাশ পেত। অতঃপর তিনি জাগ্রত অবস্থায় ফিরিশতা দেখতে পান। তেইশ বছরের নবুওয়াতী জিন্দেগীর সাথে স্বপ্নে প্রাপ্ত অহীর জীন্দেগী ছয় মাসের তুলনা করলে দেখা যায় যে, ছয় মাস সময় তেইশ বছরের দ্বিগুণের একাংশ। যেহেতু তেইশের দ্বিগুণ হলো ছেচল্লিশ (সুতরাং নবুওয়াতের ছেচল্লিশ ভাগের একভাগ হলো মুমিনের স্বপ্ন)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, “তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক সত্যভাষী ব্যক্তি সর্বাধিক সত্য ও বাস্তব স্বপ্নদ্রষ্টা হবে।” অর্থাৎ মানুষ কথায় যত বেশি সত্যবাদী ও আল্লাহর সর্বাধিক নিকটবর্তী হবে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তার স্বপ্নও ততো বেশি বাস্তব হবে। এ কারণেই ইমাম বুখারী রহ. এ হাদীসের শিরোনামে শর্তযুক্ত করেছেন, “সৎলোকের সুন্দর স্বপ্ন।” অন্যদিকে যে ব্যক্তি সত্য কথা বলে না; বরং প্রকাশ্যে ও গোপনে অশ্লীল কথাবার্তা বলে তাহলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তার স্বপ্ন সত্য হয় না; বরং তা শয়তানের খেলতামাশার অন্তর্ভুক্ত বলে ধর্তব্য হয়। ইবনুল কাইয়্যেম রহ. বলেছেন, যে ব্যক্তি তার স্বপ্ন সত্যে পরিণত হওয়া চায় সে যেন সর্বদা সত্য অনুসন্ধান করে, হালাল ভক্ষণ করে, আল্লাহর আদেশ ও নিষেধ সংরক্ষণ করে, পরিপূর্ণ পবিত্রাবস্থায় কিবলামূখী হয়ে আল্লাহর নাম স্মরণ করে ঘুমায়। এ ধরণের লোকের স্বপ্ন খুব কমই মিথ্যা হয়।
আবূ সা‘ঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, “আদম সন্তান যখন সকালে উপনীত হয় তখন তার অঙ্গ-প্রতঙ্গ জিহ্বার কাছে মিনতি প্রকাশ করে এবং বলে, আমাদের ব্যাপারে আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো, আমরা তো তোমার দ্বারাই পরিচালিত হই। তুমি ঠিক থাকলে আমরাও ঠিক থাকি, আর তুমি বক্র হলে আমরাও বক্র হয়ে যাই।”
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।হাদীসের অর্থ: শরীরের প্রত্যেকটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ জিহ্বার প্রতি নত ও অনুগত। সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ জিহ্বার দ্বারা পরিচালিত। এ কারণে প্রত্যহ সকালে তারা বলে, আমাদের ব্যাপারে আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো, আমরা তো তোমার দ্বারাই পরিচালিত হই। অতএব, জিহ্বার ভূমিকা অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের চেয়ে অত্যন্ত ভয়ংকর ও গুরুত্বপূর্ণ। সে ঠিক থাকলে অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ঠিক থাকে এবং যাবতীয় কাজও সঠিক হয়। আর সে বক্র হলে অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গও বক্র হয়ে যায় এবং তার অন্যান্য কাজও বিনষ্ট হয়ে যায়। আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “বান্দার ঈমান ততক্ষণ পর্যন্ত সঠিক হবে না যতক্ষণ তার অন্তর ঠিক না হবে। আর তার অন্তর ততক্ষণ সঠিক হবে না যতক্ষণ তার জিহ্বা ঠিক হবে না।” জিহ্বার গুরুত্ব সম্পর্কে এ অধ্যায়ে অনেক হাদীস রয়েছে। জিহ্বার কারণেই ব্যক্তির সৌভাগ্য আবার জিহ্বার কারণেই মানুষের দুর্ভাগ্য। ব্যক্তি যদি জিহ্বাকে আল্লাহর আনুগত্যাধীন করতে পারে তবে দুনিয়া ও আখিরাতে তা তার জন্য সৌভাগ্যের কারণ হবে। আর যদি সে জিহ্বাকে আল্লাহর অসন্তুষ্টির কাজে মুক্ত করে দেয় তাহলে তা দুনিয়া ও আখিরাতে আফসোসের কারণ হবে। দেখুন, মিরকাতুল মাফাতীহ শরহি মিশকাতুল মাসাবীহ, মোল্লা আলী আল-ক্বারী (৭/৩০৪০)।
আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “দুনিয়া হলো মু’মিনের জেলখানা আর কাফিরের জান্নাত”।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেননবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, মুমিনের পার্থিব জীবন একটি কারাগারের মতো, কারণ সে শরীয়তের হুকুমগুলো আঁকড়ে ধরে যা আদেশ করা হয়েছে তা পালন করে এবং যা নিষিদ্ধ তা এড়িয়ে চলে। যখন সে মারা যাবে, তখন সে এ থেকে মুক্তি পাবে এবং আল্লাহ তার জন্য যা প্রস্তুত করেছেন, সেই অনন্ত সুখে ফিরে যাবে। আর এই জীবন কাফিরদের জন্য জান্নাতের মতো। কারণ সে এখানে তার আত্মা যা চায় এবং তার ইচ্ছা তাকে যা করতে নির্দেশ দেয় তাই করে এবং যখন সে মারা যাবে, তখন সে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার জন্য যে স্থায়ী আযাব প্রস্তুত রেখেছেন তার দিকে ফিরে যাবে।