





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
আবূ উমামাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয় আল্লাহর সর্বাধিক নিকটবর্তী মানুষ সেই, যে প্রথমে সালাম দেয়।” তিরমিযীর বর্ণনায় এসেছে—জিজ্ঞাসা করা হলো, ‘হে আল্লাহর রসূল! দু’জনের সাক্ষাৎকালে তাদের মধ্যে কে প্রথমে সালাম দেবে?’ তিনি বললেন, “যে মহান আল্লাহর সর্বাধিক নিকটবর্তী।”
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন।মানুষের মধ্যে সে ব্যক্তি বেশি উত্তম ও আল্লাহর আনুগত্যের অধিক নিকটবর্তী যে তার ভাইদেরকে অগ্রে সালাম প্রদান করে; কারণ,আল্লাহর নিকট যে পুরস্কার ও বিনিময় রয়েছে তার প্রতি আগ্রহী হয়ে সে আনুগত্যের দিকে অগ্রণী হলো এবং দ্রূত অগ্রসর হলো। ফলে সে হয়ে গেলো মানুষের মধ্যে আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী ও তাদের মধ্য থেকে আল্লাহর সবচেয়ে অনুগত ব্যক্তি।
জাবির রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, “রাত্রিকালে এমন একটি সময় রয়েছে যে সময় কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের কোনো কল্যাণের প্রার্থনা করলে আল্লাহ অবশ্যই তাকে তা দান করেন। আর সে সময়টি রয়েছে প্রতি রাতে।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।প্রতি রাতে একটি সময় রয়েছে যখন দো‘আ করলে তা কবুল করা হয়। অতএব, কোনো মুসলিম যদি সে সময়ে হারাম ব্যতীত কোনো দো‘আ করে আল্লাহ অবশ্যই তার দো‘আ কবুল করবেন। আর সেটি হচ্ছে রাতের শেষ তৃতীয়াংশ- যা অন্যান্য সহীহ হাদীসের দ্বারা প্রমাণিত।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ সূত্রে বর্ণিত, আমি আসহাবে সুফ্ফার সত্তরজনকে দেখেছি, তাদের কারো গায়ে বড় চাদর ছিল না। হয়ত ছিল কেবল তহবন্দ (ইজার) কিংবা ছোট চাদর (কিসা), যা তারা ঘাড়ে বেঁধে রাখতেন। (নিচের দিকে) কারো নিসফে সাক বা অর্ধ হাঁটু পর্যন্ত আবার কারো টাখনু পর্যন্ত ছিল। তারা লজ্জা-স্থান দেখা যাওয়ার ভয়ে কাপড় হাতে ধরে একত্র করে রাখতেন।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।আহলে সুফ্ফা হলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে হিজরত করে আসা দরিদ্র সাহাবীগণ, যারা মক্কা থেকে তাদের ঘর-বাড়ি ও ধন-সম্পদ ত্যাগ করে মদীনায় হিজরত করেন, যে মক্কা ছিল তাদের কাছে সর্বাধিক প্রিয় দেশ। সুফ্ফার অধিবাসীগণ প্রায় সত্তরের অধিক ছিলেন। সুফ্ফা হলো মসজিদে নববীর পিছনের দিকে ছায়াময় ছাদযুক্ত স্থান, যার নিচে দরিদ্র মুহাজিরগণ ঘুমাতেন। শীত কিংবা গ্রীষ্মে তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ সম্পর্কে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেছেন, তিনি নিজেও একজন আহলে সুফফার অধিবাসী ছিলেন, “তাঁদের কারো গায়ে বড় চাদর ছিল না। হয়ত ছিল কেবল তহবন্দ (ইজার) কিংবা ছোট চাদর (কিসা)”। কেননা চাদর পরিধান করলে এর নিচে ইজার তথা সেলাই বিহীন লুঙ্গি পরিধান করার দরকার ছিল। ‘রিদা’ বা চাদরকে বর্তমানে ‘বদলা’ বা কোট বলা হয়। তখন একে ‘হুল্লা’ বা জামাও বলা হত। আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, তাদের কারো এ ধরণের কাপড় ছিল না; বরং তাদের একটি মাত্র কাপড় ছিল যা দ্বারা তারা উপর থেকে নিচ পর্যন্ত পুরো শরীর আবৃত করতেন। বর্তমানে যাকে ছোট গাউন বলা হয়। আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, “যা তারা ঘাড়ে বেঁধে রাখতেন।” অর্থাৎ বাচ্চারা যেভাবে তাদের কাপড় ঘাড়ে বেঁধে রাখে তেমনিভাবে তারা তাদের কাপড় ঘাড়ে বেঁধে রাখতেন। কেননা তাদের কাপড় এতো ছোট ছিল যে, তা তাদের শরীরের মাপমত তৈরী করা ও পরিধান করার জন্য যথেষ্ট ছিল না। বরং সে চাদরের এক অংশই কেবল ঘাড়ের উপর ছিল। অতঃপর আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, “কারো কাপড় নিসফে সাক বা পিণ্ডলীর অর্ধেক পর্যন্ত পৌঁছেছিল।” অর্থাৎ কাপড়ের দৈর্ঘ্য ঘাড় থেকে পিণ্ডলীর অর্ধেক পর্যন্ত ছিল, যা টাখনু পর্যন্ত পৌঁছত না। অতঃপর আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, “আবার কারো টাখনু পর্যন্ত ছিল। তাঁরা লজ্জাস্থান দেখা যাওয়ার ভয়ে কাপড় হাতে ধরে একত্র করে রাখতেন। অর্থাৎ সালাতে রুকু‘ বা সাজদাহ’র সময় লজ্জাস্থান প্রকাশ পাওয়ার ভয়ে কাপড় গুটিয়ে ধরে রাখতেন। আল্লাহ সকল সাহাবীগণের প্রতি সন্তুষ্ট থাকুন। মূলত অধিকাংশ সাহাবীরই এ ধরনের অবস্থা ছিল। তারা দারিদ্র ও অভাবের মধ্যেই বসবাস করতেন এবং দুনিয়ার ভোগ-বিলাস ও চাকচিক্যে নিমজ্জিত ছিলেন না। এমনকি আল্লাহ যখন তাদের জন্য দুনিয়ার বিজয় দান করেছিলেন তখনও তারা মৃত্যু পর্যন্ত স্বল্পে তুষ্টি ও দুনিয়ার প্রতি অনাগ্রহ পোষণ করেছেন।
ইবন মাস‘ঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ সূত্রে বণিত, এক ব্যক্তি এক মহিলাকে চুম্বন করে ফেলল। পরে সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বিষয়টি অবগত করালো। তখন আল্লাহ তা‘আলা আয়াত নাযিল করেন: “আর আপনি সালাত কায়েম করুন দিবসের দু’প্রান্তে এবং রাতের প্রথম অংশে। নিশ্চয় ভালো কাজ মন্দ কাজকে মিটিয়ে দেয়।” (সূরা হূদ, আয়াত: ১১৪) লোকটি জিজ্ঞাসা করল, হে আল্লাহর রাসূল, এ কি শুধু আমার বেলায়? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার সকল উম্মাতের জন্য।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।ইবন মাস‘ঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু আমাদেরকে অবহিত করেছেন যে, আবুল ইউস্র নামক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক সাহাবী কোনো এক পরনারীকে চুম্বন করে ফেলেছেন। এ ঘটনায় তিনি লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিষয়টি অবহিত করলেন। তখন আল্লাহ তা‘আলা তার এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে এ আয়াত নাযিল করেন: “আর আপনি সালাত কায়েম করুন দিবসের দু’প্রান্তে।” অর্থাৎ দিন ও রাতের দু’প্রান্তের মধ্যবর্তী সালাত তথা ফজর, যুহর ও আসরের সালাত কায়েম করুন। “এবং রাতের প্রথম অংশে” অর্থাৎ রাতের প্রথমাংশে যে সালাত তথা মাগরিব ও ইশার সালাম কায়েম করুন। “নিশ্চয় ভালো কাজ মন্দ কাজকে মিটিয়ে দেয়।” (সূরা হূদ, আয়াত: ১১৪) অর্থাৎ উক্ত পাঁচ ওয়াক্ত সালাত এ সময়ের মধ্যবর্তী যাবতীয় সগীরা গুনাহের কাফফারা। লোকটি জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল, এ কাফফারা কি শুধু আমার বেলায়? নাকি সকল মানুষের জন্য? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের এ কাফ্ফারা আমার সকল উম্মাতের জন্যই। “আবুল ইউস্র রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু ঘটনাটি বিস্তারিতভাবেই বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এক মহিলা একবার আমার কাছে খেজুর কিনতে আসল। আমি বললাম, ঘরে আরো ভালো খেজুর আছে। সে তখন আমার সাথে ঘরে প্রবেশ করল। আমি তার দিকে ঝুঁকে তাকে চুমু দেই। পরে আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর কাছে এসে তাকে বিষয়টি বললাম। তিনি বললেন, নিজের মধ্যে তা গোপন রাখ, আর তাওবা কর। এ বিষয়ে কাউকে জানাবে না। কিন্তু অনুশোচনায় আমি স্থির থাকতে পারলাম না। উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর কাছে এসে বিষয়টি বললাম, তিনিও বললেন, নিজের মধ্যেই তা গোপন রাখ, আর তাওবা কর। এ বিষয়ে কাউকে জানাবে না। কিন্তু অনুশোচনায় আমি স্থির থাকতে পারলাম না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বিষয়টি বললাম। তিনি বললেন, আল্লাহর পথে জিহাদরত একজন যোদ্ধার অনুপস্থিতিতে তার স্ত্রীর সাথে তুমি কি এ ধরনের আচরণ করলে? ফলে সে কামনা করতে লাগল সে যদি পূর্বে ইসলাম গ্রহণ না করে এ মুহূর্তে ইসলাম গ্রহণ করত এবং ধারণা করতে লাগল যে, সে জাহান্নামী হয়ে গেছে। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনেকক্ষণ মাথা নিচু করে থাকলেন। অবশেষে তাঁর কাছে অহী আসল: “আর আপনি সালাত কায়েম করুন দিবসের দু’প্রান্তে এবং রাতের প্রথম অংশে। নিশ্চয়ই ভালো কাজ মন্দ কাজকে মিটিয়ে দেয়। যারা উপদেশ গ্রহণ করে এ তাদের জন্য এক উপদেশ।” (সূরা হূদ, আয়াত: ১১৪)। আবুল ইউস্র রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে উপস্থিত হলাম। তিনি আমাকে এই আয়াত তিলাওয়াত করে শোনালেন। সাহাবীগণ বললেন, এটি কি বিশেষ করে এরই জন্য না সকল মানুষের জন্য। তিনি বললেন, না; বরং এটি সকল মানুষের জন্যই।” তিরমিযী, হাদীস নং ৩১১৫, আলবানী রহ. হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। দেখুন, সহীহ ও দ‘ঈফ তিরমিযী, হাদীস নং ৩১১৫)। অন্য হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোনো মুসলিম কোনো গুনাহ করলে, অতঃপর অযু করে দু’রাকাত সালাত আদায় করে আল্লাহর কাছে তাওবা-ইসতিগফার করলে তিনি তার গুনাহ মাফ করে দেন। অতঃপর তিনি এ আয়াতদ্বয় তিলাওয়াত করেন, “আর যে ব্যক্তি মন্দ কাজ করবে কিংবা নিজের প্রতি যুলুম করবে তারপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবে, সে আল্লাহকে পাবে ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১১০), “আর যারা কোনো অশ্লীল কাজ করলে অথবা নিজদের প্রতি যুলুম করলে।” (সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩৫)। মুসনাদ আহমাদ, হাদীস নং ৪৭, শাইখ আহমাদ শাকের হাদীসের সনদটিকে সহীহ বলেছেন। আর এটি বান্দার প্রতি মহান আল্লাহর অপার করুণা ও রহমত যে, তিনি পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ও নফল সালাতসমূহকে তাদের পাপের কাফ্ফারা করেছেন। অন্যথায় তারা ধ্বংস হয়ে যেত।
আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বলল, “হে আল্লাহর রাসূল! আমি হদ্দ তথা শরী‘আত নির্ধারিত শাস্তি পাওয়ার যোগ্য কাজ করে ফেলেছি। সুতরাং আপনি আমার ওপর তা প্রয়োগ করুন। বর্ণনাকারী বলেন, তখন সালাতের ওয়াক্ত হলো এবং লোকটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে সালাত আদায় করল। সালাত শেষ হলে লোকটি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি হদ্দ তথা শরী‘আত নির্ধারিত শাস্তি পাওয়ার যোগ্য কাজ করে ফেলেছি। সুতরাং আপনি আল-কুরআনের বিধান অনুসারে আমার ওপর শাস্তি প্রয়োগ করুন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি আমাদের সঙ্গে সালাতে ছিলে? লোকটি বলল, হ্যাঁ। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাকে ক্ষমা করা হয়েছে।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি হদ্দ তথা শরী‘আত নির্ধারিত শাস্তি পাওয়র যোগ্য কাজ করে ফেলেছি। সুতরাং আপনি আমার ওপর তা প্রয়োগ করুন। অর্থাৎ আল্লাহর বিধান অনুযায়ী তা আমার ওপর প্রয়োগ করুন। বর্ণনাকারী আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কী ধরনের অপরাধ করেছ সে সম্পর্কে কিছুই জিজ্ঞাসা করেন নি। কেউ কেউ বলেন, কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম অহীর মাধ্যমে তার কৃত অপরাধটি ও তা ক্ষমা হয়ে যাওয়া সম্পর্কে জানতেন। তখন কোনো এক সালাতের ওয়াক্ত অথবা আসর সালাতের ওয়াক্ত হয়েছিল এবং সে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সে ওয়াক্তের সালাত আদায় করেন। সালাত শেষে লোকজন চলে গেলে লোকটি আবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গিয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি হদ্দ তথা শরী‘আত নির্ধারিত শাস্তি পাওয়র যোগ্য কাজ করে ফেলেছি। সুতরাং আপনি আল-কুরআনের বিধান অনুসারে আমার ওপর শাস্তি প্রয়োগ করুন। অর্থাৎ কুরআন ও সুন্নাহ অনুসারে আমার ওপর শাস্তি প্রয়োগ করুন। এর অর্থ হলো আমার ব্যাপারে যে কোনো হদ্দ বা অন্যকিছু প্রযোজ্য হলে আমি সে অনুযায়ী আমল করব। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তুমি কি আমাদের সঙ্গে সালাত আদায় করেছ? লোকটি বলল, হ্যাঁ। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে আল্লাহ তোমার গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন অথবা তোমার শাস্তি মাফ করে দিয়েছেন। এখানে বর্ণনাকারীর সন্দেহ ছিল বলেই ‘অথবা’ বলা হয়েছে। শাস্তি বলতে শাস্তির কারণ বুঝানো উদ্দেশ্য। এখানে শাস্তি বা হদ্দের দ্বারা উদ্দেশ্য হলো দেশান্তরিত হওয়াসহ পরিপূর্ণ শাস্তি, আবার অন্য কিছুও উদ্দেশ্য হতে পারে। তবে এখানে প্রকৃত হদ্দ উদ্দেশ্য নয়, যেমন যিনা, মদ্য পান ইত্যাদি যেসব অপরাধের শাস্তি শরী‘আত কর্তৃক নির্ধারিত। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকটিকে তার কৃত অপরাধ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা না করার হিকমত হলো তিনি তার ওযরের ধরন সম্পর্কে জানতেন। ফলে তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করেননি যাতে তার উপর হদ্দ কায়েম করতে না হয়। যেহেতু লোকটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জানালে সে তাওবা করলেও তার ওপর উক্ত শাস্তি প্রয়োগ করা অত্যাবশ্যকীয় হয়ে যেত। কেননা তাওবা হদ্দ রহিত করে না। তবে ডাকাতের তাওবা ও যিম্মি যিনা করে মুসলিম হলে তার তাওবার দ্বারা হদ্দ রহিত হয়ে যায় (তাদের ওপর হদ্দ কায়েম করা যাবে না)। যাই হোক হাদীসে সালাতের দ্বারা কবীরা গুনাহ মাফের স্পষ্ট কোনো কথা নেই; বরং কবীরা গুনাহ মাফের কথা বললে পূর্বে বর্ণিত ইজমা‘র কারণে তা তা‘বীল করতে হবে।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, একবার এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসার জন্য অনুমতি চাইল, তিনি বললেন, “তাকে অনুমতি দাও। সে উক্ত বংশের কতই না খারাপ লোক।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইল। তিনি লোকটিকে দেখে বললেন, তাকে অনুমতি দাও। সে উক্ত বংশের নিকৃষ্ট ভাই অথবা উক্ত বংশের দুষ্টু সন্তান। এরপর সে যখন এসে বসলো, তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সামনে সহাস্য বদন হলেন ও উদারতার সাথে তাকে গ্রহণ করলেন। লোকটি চলে গেলে আয়েশা তাকে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! যখন আপনি লোকটিকে দেখলেন তখন তার সম্পর্কে এরূপ এরূপ বললেন, অতঃপর তার সাথে আপনি সহাস্যে ও উদার প্রাণে সাক্ষাৎ করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “হে আয়েশা! তুমি কখন আমাকে অশালীন পেয়েছো? কিয়ামতের দিন অবস্থানের দিক দিয়ে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট সে ব্যক্তি বিবেচিত হবে, যার বদ-স্বভাবের কারণে মানুষ তাকে পরিত্যাগ করে।” এই লোকটি নিকৃষ্ট ও খারাপ লোকদের একজন। এ কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার অবর্তমানে তার প্রকৃত অবস্থা উল্লেখ করেছেন, যেমন তিনি বলেছেন, লোকটি তার সম্প্রদায়ের নিকৃষ্ট সন্তান। যেন মানুষ তার অনিষ্ট থেকে সতর্ক থাকে এবং কেউ তার ধোঁকায় না পড়ে। সুতরাং যখন তুমি এমন কোনো দুষ্কৃতিকারী ও অনিষ্টপরায়ণ ব্যক্তিকে দেখতে পাবে যে মানুষকে তার বাগ্মিতা ও ভাষার জাদু দ্বারা মোহাবিষ্ট করছে, তখন তোমার ওপর আবশ্যক হয়ে যাবে এটা বলে দেওয়া যে, লোকটি খারাপ; যেন মানুষেরা তার দ্বারা ধোঁকায় পতিত না হয়। বিশুদ্ধভাষী সাবলীল বর্ণনার অধিকারী বহু মানুষ আছে, যাদের দৈহিক গঠন তোমাকে চমৎকৃত করবে, যারা কোনো কথা বললে শুনতেই ইচ্ছা করে; কিন্তু তাদের মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই। তখন তার প্রকৃত অবস্থা বর্ণনা করা ওয়াজিব। আর লোকটির সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোমল আচরণ ছিল সৌজন্যবোধ। আলেমগণ একমত যে, সকলের সাথে সৌজন্যমূলক আচরণ করা উচিৎ। অর্থাৎ আচার-আচরণে সৌজন্যবোধ রক্ষা করা; তবে তোষামোদ করা নয়। তোষামোদের ফলে কর্তব্য পালনে ব্যাঘাত ঘটে অথবা অবৈধ কাজ সমর্থন করা অথবা নিষিদ্ধ কাজে জড়িত থাকার সম্ভাবনা থাকে। এটি কোনো অবস্থাতেই জায়েয নয়। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘তারা কামনা করে, যদি আপনি আপোষকামী হন, তবে তারাও আপোষকারী হবে।” [সূরা আল-কালাম, আয়াত: ৯] অন্যদিকে সৌজন্যবোধ ও মানুষের সাথে এমন ব্যবহার করা যা জনস্বার্থ সংরক্ষণ করবে, পাশাপাশি তা কোনো ফেতনা-ফাসাদ তৈরী করবে না, এটি অবশ্যই শরী‘আতসম্মত।
ইবরাহীম ইবন আব্দুর রহমান ইবন ‘আওফ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু কর্তৃক বর্ণিত, একদিন আব্দুর রহমান ইবন আওফ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর কাছে খাবার আনা হলো, তখন তিনি সাওম পালন করছিলেন। তিনি বললেন, ‘মুস‘আব ইবন উমাইর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু শহীদ হলেন। আর তিনি ছিলেন আমার চেয়ে ভালো। (অথচ) তাঁকে কাফন দেওয়ার মতো একটি চাদর ভিন্ন কিছু পাওয়া যায় নি, যা দিয়ে তাঁর মাথা ঢাকলে পা দু’টি বের হয়ে যাচ্ছিল এবং পা দু’টি ঢাকলে মাথা বের হয়ে যাচ্ছিল! তারপর আমাদের জন্য দুনিয়া যা প্রসারিত করার তা প্রসারিত করা হলো, অথবা তিনি বললেন, আমাদেরকে দুনিয়ার জীবনে যা দেওয়ার সবই দেওয়া হয়েছে। এমনকি আমরা আশংকা করছি যে, আমাদের সৎকর্মগুলো (বিনিময়) আগেই (এ দুনিয়াতে) দিয়ে দেওয়া হয় নি তো? অতঃপর তিনি এমনভাবে কাঁদতে থাকলেন যে খাবারও ছেড়ে দিলেন।’
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।হাদীসটির অর্থ: আব্দুর রহমান ইবন আওফ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু একদিন সিয়াম পালন অবস্থায় ছিলেন। যখন ইফতারের সময় হলো তখন তার জন্য খাবার আনা হলো। সাওম পালনকারী সাধারণত খাবারের প্রতি আগ্রহী হয়। কিন্তু তিনি প্রথম যুগের সাহাবীদের কথা স্মরণ করলেন। তিনি নিজেও প্রথম যুগের মুহাজির সাহাবীদের একজন ছিলেন। কিন্তু তিনি নিজেকে খাটো করে বললেন, মুস‘আব ইবন উমাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন আমার চেয়ে ভালো লোক। নিজেকে খাটো করে ও বিনয় অবলম্বন করে অথবা সবর ও দারিদ্রতাকে অবলম্বনের দিক বিবেচনায় তিনি তাকে উত্তম বলেছেন। অন্যথায় আলেমগণ এ কথা স্পষ্ট করেছেন যে, সু-সংবাদ প্রাপ্ত দশজন সাহাবী অন্যান্য সাহাবীর তুলনায় উত্তম। মুস‘আব ইবন উমাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু ইসলাম গ্রহণের পূর্বে মক্কায় তার মাতা পিতার নিকট থাকতো। তার মাতা পিতা ছিল প্রাচুর্যের মালিক। তারা তাকে অতি উত্তম পোশাক পরিধান করাতো: যুবক ও নাওজোয়ানদের পোশাক। তারা তাকে অনেক বেশি আদর করত। যখন ইসলাম গ্রহণ করল, তার মাতা পিতা তাকে ত্যাগ করল, আর তিনি রাসূলুল্লাহর সাথে হিজরত করলেন এবং মুহাজিরদের অন্তর্ভুক্ত হলেন। তার গায়ে ছিল একটি বেমানান কাপড়, অথচ মক্কায় থাকা কালে তার পিতামাতার কাছে তিনি সবচে’ সুন্দর কাপড় পরিধান করতেন। কিন্তু এ গুলো সব ছেড়ে দিয়ে তিনি আল্লাহ ও তার রাসূলের দিকে হিজরত করলেন। আল্লাহর রাসূল উহুদের যুদ্ধে তার হাতে ঝাণ্ডা তুলে দিলেন এবং তিনি শহীদ হলেন। আর তার সাথে ছিল কেবল একটি চাদর, যা দিয়ে তাঁর মাথা ঢাকলে পা দু’টি বের হয়ে যাচ্ছিল কাপড়টি ছোট হওয়ার কারণে এবং পা দু’টি ঢাকলে মাথা বের হয়ে যাচ্ছিল! তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা দ্বারা মাথা ঢাকার নির্দেশ দিলেন। আর দুই পা প্রসিদ্ধ ঘাস ‘ইযখির’ দিয়ে ঢাকার নির্দেশ দিলেন। আব্দুর রহমান ইবন আওফ এ সাহাবীর কথা স্মরণ করলেন তারপর তিনি বললেন, তারা চলে গেছেন এবং তাদের পরে আল্লাহ দুনিয়ার সম্পদ ও অসংখ্য গনীমত যা উন্মুক্ত করেছেন তা থেকে তারা নিরাপদ ছিলেন। যেমন আল্লাহ বলেন, “অসংখ্য গনীমত যা তারা গ্রহণ করে।” [সূরা আল-ফাতহ,আয়াত: ১৯] তারপর আব্দুর রহমান ইবন আউফ বলেন, আমরা ভর করছি আমাদের সৎকর্মগুলো (বিনিময়) আগেই দেওয়া হয় নি তো? অর্থাৎ আমরা ভয় করছি যাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে: “যে দুনিয়া চায় আমি সেখানে তাকে দ্রুত দিয়ে দেই, যা আমি চাই, যার জন্য চাই। তারপর তার জন্য নির্ধারণ করি জাহান্নাম, সেখানে সে প্রবেশ করবে নিন্দিত, বিতাড়িত অবস্থায়।” [সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ১৮] আমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত হই কিনা? অথবা আল্লাহ তাআলার বাণী-“তোমরা তোমাদের দুনিয়ার জীবনে তোমাদের সুখ সামগ্রীগুলো নিঃশেষ করেছ এবং সেগুলো ভোগ করেছ।” এর অন্তর্ভুক্ত হই কিনা। যেমনটি উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে। আর যেহেতু সাহাবায়ে কিরামের আল্লাহর ভয় অধিক ছিল, তাই ‘আব্দুর রহমান ইবন ‘আওফ আশংকা করলেন যে, দুনিয়াতে তার নেক আমলসমূহের প্রতিদান দিয়ে দেওয়া হলো কিনা? তাই তিনি ভয় ও আতঙ্কে কেঁদে ফেলেন যে, হয়তো তিনি তার পূর্বে চলে যাওয়া নেককার লোকদের সাথে মিলিত হতে পারবেন না। অতঃপর তিনি তখনকার খাবার খাওয়াও ত্যাগ করলেন।
হাকীম ইবনু হিযাম রদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে কিছু চাইলাম। তিনি আমাকে দিলেন, আবার চাইলাম, তিনি আমাকে দিলেন, আবার চাইলাম, তিনি আমাকে পুনরায় দিলেন। তারপর বললেন, “হে হাকীম, এই সম্পদ শ্যামল সুস্বাদু। যে ব্যক্তি প্রশস্ত অন্তরে (লোভ ছাড়া) তা গ্রহণ করে তার জন্য তা বরকতময় হয়। আর যে ব্যক্তি অন্তরের লোভসহ তা গ্রহণ করে তার জন্য তা বরকতময় করা হয় না। যেন সে এমন ব্যক্তির মত, যে খায় কিন্তু তার ক্ষুধা মিটে না। আর উপরের হাত নিচের হাত থেকে উত্তম। হাকীম রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, আমি বললাম, যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন তাঁর কসম! হে আল্লাহর রাসূল! আপনার পর মৃত্যু পর্যন্ত (সাওয়াল করে) আমি কাউকে সামান্যতমও বিব্রত করব না। এরপর আবু বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হাকীম রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে অনুদান গ্রহণের জন্য ডাকতেন; কিন্তু তিনি তাঁর কাছ থেকে তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করতেন। তারপর উমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু (তার যুগে) তাকে কিছু দেওয়ার জন্য ডাকলেন। তিনি তাঁর কাছ থেকেও কিছু গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন, মুমিনগণ! হাকীম রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর ব্যাপারে আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি। আমি তার কাছে এই ফাই এর সম্পদ থেকে তার প্রাপ্য পেশ করেছি; কিন্তু সে তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে। (সত্য সত্যই) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর হাকীম রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু মৃত্যু পর্যন্ত কারো নিকট কিছু চেয়ে কাউকে বিব্রত করেন নি।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমহাকিম ইবনু হিজাম রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে কিছু পার্থিব জিনিসপত্র চাইলেন, তাই তিনি তা তাঁকে দিলেন। তারপর সে আবার তাকে জিজ্ঞাসা করল, তাই তিনি তাকে দিলেন। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: হে হাকীম, এই সম্পদ হল লোভনীয় এবং কাঙ্ক্ষিত। এটি যার কাছে না চাইতেই আসে এবং লোভ বা জেদ ছাড়াই তা গ্রহণ করে, তার জন্য এটি বরকতপূর্ণ হবে। কিন্তু যে ব্যক্তি নফসের অতি আগ্রহ ও লোভের বশে তা গ্রহণ করবে, তার জন্য তা বরকত পূর্ণ হবে না এবং সে এমন ব্যক্তির মতো হবে যে খায় কিন্তু কখনও তৃপ্ত হয় না। আল্লাহর কাছে ব্যয়কারী উপরের হাতটি ভিক্ষাকারী নিচের হাতের চেয়ে উত্তম। হাকীম বললেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, যিনি আপনাকে সত্য সহকারে পাঠিয়েছেন, তাঁর কসম, আমি আপনার পরে কারও কাছে কিছু চেয়ে তার সম্পদ কমাব না যতক্ষণ না এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যাই। আল্লাহর রাসূলের খলিফা আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু হাকীমকে উপহার দেওয়ার জন্য ডাকতেন, কিন্তু তিনি তার কাছ থেকে কিছু গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানাতেন। এরপর আমীরুল মুমেনীন উমর রাদিয়াল্লাহ আনহু তাকে উপহার দেওয়ার জন্য ডাকলেন, কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানালেন। তাই উমর বললেন: হে মুসলিমগণ, আমি তাকে তার অধিকার প্রদান করছি যা আল্লাহ তাকে যুদ্ধের গনীমত থেকে প্রদান করেছেন, যা মুসলিমরা কাফেরদের কাছ থেকে যুদ্ধ বা জিহাদ ছাড়াই অর্জন করেছে, কিন্তু সে তা নিতে অস্বীকার করে। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পর মৃত্যুর আগে পর্যন্ত হাকীম কারো সম্পদ চেয়ে তা কমাতেন না।
আব্দুল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ তাআলার নিকট উত্তম সঙ্গী হলো যে তার নিজ সঙ্গীর নিকট উত্তম। আল্লাহ তাআলার দৃষ্টিতে উত্তম প্রতিবেশী হলো যে তার নিজের প্রতিবেশীর নিকট উত্তম।”
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন। - এটি দারিমী বর্ণনা করেছেনআল্লাহ তাআলার নিকট মর্যাদা ও সাওয়াবের দিক দিয়ে উত্তম সঙ্গী হলো যে তার নিজ সঙ্গীর বেশি উপকার করে থাকে। এমনিভাবে আল্লাহ তাআলার দৃষ্টিতে উত্তম প্রতিবেশী হলো যে তার নিজের প্রতিবেশীর অধিক উপকারকারী।