





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
আব্দুল্লাহ ইবন বুসর আল-আসলামী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “সর্বোত্তম ব্যক্তি হলো সে যে দীর্ঘায়ু পেয়েছে এবং উত্তম আমল করেছে।”
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন। - এটি দারিমী বর্ণনা করেছেনএ হাদীসের অর্থ: মানুষ আল্লাহর আনুগত্যে যতো দীর্ঘায়ু প্রাপ্ত হবে আল্লাহর নৈকট্য সে ততোটাই প্রাপ্য হবে। কেননা দীর্ঘ আয়ুস্কালে সে যত আমলই করে থাকে তা তাকে আল্লাহর নৈকট্যে পৌঁছে দেয়। সুতরাং সর্বোত্তম সে ব্যক্তি যে উপরোক্ত দু’টি জিনিস লাভ করবে। দীর্ঘায়ু এবং উত্তম আমল। আল্লাহর আনুগত্যে ভালো আমল ব্যতীত দীর্ঘ জীবন লাভে কোনো কল্যাণ নেই। কেননা কখনও কখনও দীর্ঘায়ু ব্যক্তির জন্য অকল্যাণকর হতে পারে। যেমন, হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলো, সর্বোত্তম ব্যক্তি কে? তিনি বললেন, “যার জীবন হল দীর্ঘ এবং আমল হয় উত্তম”। আবার তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যক্তি কে? তিনি বললেন, “যার জীবন দীর্ঘ হলো; কিন্তু আমল নিকৃষ্ট হলো।” আবূ দাউদ, তিরমিযী, আলবানী রহ. সহীহ তিরমিযীতে (৫/৩৩০), হাদীস নং ২৩৩০ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, “আর যারা কুফুরী করেছে তারা যেন মনে না করে যে, আমরা তাদের জন্য যে অবকাশ দেই, তা তাদের নিজদের জন্য উত্তম। আমরা তো তাদেরকে অবকাশ দেই যাতে তারা পাপ বৃদ্ধি করে। আর তাদের জন্য রয়েছে অপমানজনক আযাব।” (সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৭৮) কাফিরদেরকে আল্লাহ দুনিয়াতে অবকাশ দিয়ে থাকেন অর্থাৎ তাদের রিযিক, সুস্থতা, দীর্ঘ জীবন, সন্তান-সন্তুতি ও স্ত্রী ইত্যাদি বৃদ্ধি করে দেন। এসব কিছুতে মূলত তাদের কল্যাণ নেই; বরং এতে রয়েছে তাদের জন্য অকল্যাণ। (আমরা আল্লাহর কাছে এসব থেকে পানাহ চাই) কেননা এসব কিছুর কারণে তাদের পাপাচার বৃদ্ধি পায়। ইমাম তীবী রহ. বলেছেন, নিশ্চয় সময় ও ঘন্টাসমূহ (হায়াত) ব্যবসায়ীর মূলধন। সুতরাং তার উচিৎ লাভজনক খাতে ব্যবসা করা। আর মূলধন যত বেশি হবে, ব্যবসায়ে লাভও তত বেশি হবে। সুতরাং যে ব্যক্তি কল্যাণকর ও লাভজনক খাতে মূলধন ব্যয় করবে সে লাভবান ও সফলকাম হবে। আর যে মূলধন নষ্ট করে ফেলবে সে ব্যবসায়ে সুস্পষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আবূ হুরায়রা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “দরজার সামনে থেকে বের করে দেওয়া এলোমেলো চুল বিশিষ্ট বহু লোক রয়েছে যারা আল্লাহর উপর ভরসা করে কোন ব্যাপারে শপথ করলে আল্লাহ তা’আলা তা সত্যে পরিণত করে দেন”।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেননবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এমন কিছু লোক আছে যাদের চুল জটলা এবং ধুলোয় ভরা, তারা তেল দেয় না বা ঘন ঘন ধোয় না। মানুষের কাছে তার সম্মান নেই, তাই তারা তাদের দরজা থেকে বিতাড়িত হন এবং তার প্রতি অবজ্ঞার কারণে তাদের কাছ থেকে তাকে বের করে দেওয়া হয়। তবে, যদি সে কোন কিছু ঘটার ব্যাপারে শপথ করে, তাহলে আল্লাহ তার মর্যাদার কারণে এবং তাকে শপথ ভঙ্গ করা থেকে রক্ষা করার জন্য সেটি সংঘটিত করেন।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে মারফু‘ সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার দরজায় ঝগড়া-বিবাদের আওয়াজ শুনতে পেলেন। দু’জন তাদের আওয়াজ উচ্চ করছিল। একজন আরেকজনের কাছে কোনো বিষয়ে ছাড় দেওয়ার এবং সহানুভূতি দেখানোর অনুরোধ করছিল। আর অপর ব্যক্তি বলছিল, না আল্লাহর কসম! আমি তা করব না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে তাদের কাছে আসলেন এবং বললেন, সৎকাজ করবে না বলে যে আল্লাহর নামে শক্ত কসম করেছে সে লোকটি কোথায়? সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি। (তবে আমি তা থেকে ফিরে এসেছি) সে যা চাইবে তার জন্য তাই হবে।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।হাদীসের অর্থ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম অর্থ সংক্রান্ত বিষয়ে দু’ব্যক্তির ঝগড়া শুনতে পেলেন। তারা দু’জনে খুব উচ্চ আওয়াজে ঝগড়া করছিল, এমনকি তাদের আওয়াজ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের গৃহ পর্যন্ত পৌঁছল। ফলে তিনি সে আওয়াজের দিকে কর্ণপাত করে শুনতে পেলেন যে, দু’জন লোকের একজন আরেকজনের কাছে কিছু পাওনা মাফ করে দেওয়ার এবং তা পরিশোধে সহানুভূতি দেখানোর অনুরোধ করছিল। কিন্তু অপর ব্যক্তি বলছিল, না আল্লাহর কসম! আমি তা করব না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে তাদের কাছে আসলেন এবং বললেন, সৎকাজ করবে না বলে যে আল্লাহর নামে শক্ত কসম করেছে সে লোকটি কোথায়? লোকটি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি শপথ করে বলেছি। (কিন্তু আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি) সুতরাং আমার প্রতিপক্ষ ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি ঋণের কিছু মাফ বা সহানুভূতির ব্যাপারে যা চাইবে তার জন্য তাই হবে। তবে মুসনাদে আহমদে (হাদীস নং ২৪৪০৫), ইবন হিব্বান (হাদীস নং ৫০৩২) এর বর্ণনায় এসেছে, ঋণদাতা লোকটি বলল, হে আল্লাহর রাসূল, আপনি বললে আমি তার যতটুকু কমতি হয়েছে সে পরিমাণ মাফ করে দিব, আপনি চাইলে আমি মূলধন থেকে কম করে নিব। অতঃপর যতটুকু কমতি হয়েছে ততটুকু সে মাফ করে দেয়। এ হাদীসটি এ অধ্যায়ে উল্লেখ করার যৌক্তিকতা সুস্পষ্ট। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু হক মাফ করে দেওয়া বা তা পরিশোধে সহানুভূতি দেখানোর মাধ্যমে বিবাদবান দুজন ব্যক্তির মধ্যে মীমাংসা করে দিয়েছেন। এ অধ্যায়ে বুখারী (হাদীস নং ২৪২৪) ও মুসলিম (হাদীস নং ১৫৫৮) বর্ণিত একই ধরনেের হাদীস রয়েছে। কা‘ব ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবন আবু হাদরাদ আল-আসলামী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর কাছে তার কিছু পাওনা ছিল। তিনি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন এবং পিছনে লেগে থাকলেন। তাঁরা উভয় কথা বলতে লাগলেন, এমনকি এক পর্যায়ে তাঁদের উভয়ের আওয়াজ উঁচু হলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে গেলেন এবং বললেন, হে কা‘ব! উভয় হাত দিয়ে তিনি ইশারা করলেন; যেন অর্ধেক (গ্রহণ করার কথা) বুঝিয়েছিলেন। তাই তিনি (কা‘ব) তার ঋণের অর্ধেক গ্রহণ করলেন এবং অর্ধেক ছেড়ে দিলেন। অতএব, মুসলিমের উচিৎ কল্যাণের কাজে অগ্রগামী হওয়া, বিশেষ করে মানুষের মধ্যে মীমাংসা করে দিয়ে। সুতরাং যখন সে দু’জনের বা দু’দলের বা দু’গোত্রের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ, হিংসা-বিদ্বেষ, মারামারি ও যুদ্ধ-বিগ্রহ দেখতে পাবে তখন তার উচিৎ তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেওয়া; যাতে তাদের মধ্যে দলাদলি ও হিংসা-বিদ্বেষ দূরীভূত হয়ে ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসা স্থাপিত হয়। কেননা এতে রয়েছে অনেক কল্যাণ ও অগণিত সাওয়াব; বরং এ কাজ নফল সাওম আদায়কারী, সালাত আদায়কারী ও দান-সদকাকারীর চেয়েও অধিক উত্তম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আমি কি তোমাদের সালাত, সাওম এবং যাকাত হতে উত্তম আমল সম্পর্কে অবহিত করবো না? সাহাবীগণ বললেন, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বললেন, তা হলো: পরস্পরের মাঝে আপোষ-মীমাংসা করে দেওয়া।” আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৯১৯. আলবানী রহ. সহীহ আবু দাউদে (৪৯১৯) হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
উসামাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফূ‘ সূত্রে বর্ণিত, ‘‘আমি জান্নাতের দরজায় দাঁড়ালাম। অতঃপর দেখলাম যারা জান্নাতে প্রবেশ করেছে তাদের অধিকাংশ গরীব-মিসকীন মানুষ। আর ধনবানদেরকে (তখনও হিসাবের জন্য) আটকে রাখা হয়েছে। তবে (অন্যান্য) জাহান্নামীদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। আর আমি জাহান্নামের দরজায় দাঁড়িয়ে দেখলাম যে, যারা তাতে প্রবেশ করেছে তাদের বেশীর ভাগই নারীর দল।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।ফকীর মিসকীনগণ ধনীদের আগে জান্নাতে প্রবেশ করবেন। কারণ, গরীব মিসকীনদের কোনো সম্পদ না থাকাতে তাদের হিসাবও নেই। এ ছাড়াও দুনিয়াতে তারা ধন-সম্পদ ও সৌন্দর্য থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণে, তার বিনিময় হিসেবে এবং সম্মানার্থে তাদেরকে আগে জান্নাত দেওয়া হবে। কিন্তু যারা অর্থবিত্ত ও উঁচুক্ষমতার ক্ষণস্থায়ী ভাগ্যের অধিকারী ছিল, তারা দীর্ঘ হিসেবের কারণে কিয়ামতের মাঠের কষ্টের মধ্যে বিভিন্ন কারণে আটকে থাকবেন। যেমন, তাদের সম্পদ, ইজ্জত ও সম্মানের বিস্তৃতি, দুনিয়ার জীবনে সম্পদ ও সম্মানের উপভোগ, প্রবৃত্তি ও নফসের চাহিদা অনুযায়ী জীবনকে উপভোগ করা। দুনিয়াতে হালালের জন্য দিতে হবে হিসাব আর হারামের জন্য পেতে হবে আযাব। গরীব-মিসকীনরা এ থেকে মুক্ত। আর জাহান্নামে যারা প্রবেশ করেছে তাদের বেশীর ভাগই নারীর দল। কারণ, তারা অধিকহারে অভিযোগ করে এবং স্বামীর ভালো ব্যবহারকে অস্বীকার করে।
আর আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য তার দুধের অংশ তুলে রাখতাম। তিনি রাতে আসতেন এবং এমনভাবে সালাম দিতেন যাতে ঘুমন্ত ব্যক্তি জাগ্রত না হয় আর জাগ্রত ব্যক্তি শুনতে পায়। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন এবং যেভাবে সালাম দেন সেভাবে সালাম দিলেন।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।মিকদাদ ও তার সাথীগণ -রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুম- বকরী দোহানোর পর তারা তাদের নিজেদের অংশের দুধ পান করত এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অংশ তুলে রাখতো; যাতে তিনি এসে তা পান করতে পারেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রাতে তাদের ঘুমের অবস্থায় আসতেন তখন তিনি মধ্যম আওয়াজে, স্বল্পতম প্রকাশ্য শব্দ ও তারচেয়ে একটু ওপরের শব্দে সালাম দিতেন। যাতে ঘুমন্ত লোকদের ঘুম ভেঙ্গে না যায় এবং একই সময়ে যারা জাগ্রত তারা সালাম শুনতে পায়।
সা‘দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি বললেন, “তোমাদের কোন ব্যক্তি প্রত্যহ এক হাজার নেকী অর্জন করতে অপারগ হবে কি?” তাঁর সাথে উপবিষ্ট ব্যক্তিদের একজন জিজ্ঞাসা করল, ‘কিভাবে এক হাজার নেকী অর্জন করবে?’ তিনি বললেন, “একশ’বার তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ) পড়বে। ফলে তার জন্য এক হাজার নেকী লেখা হবে অথবা এক হাজার গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হবে।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেননবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবীদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন: তোমাদের কেউ কি প্রতিদিন হাজারটা নেকি হাসিল করতে পারে না?! তার এক সাহাবী বললেন: একজন মানুষ খুব সহজে কীভাবে একদিনে হাজারটা নেকি অর্জন করতে পারে? তিনি বললেন: "سبحان الله" একশ বার বলবে, ফলে তার জন্য এক হাজার নেকী লেখা হবে। কারণ একটি নেকির প্রতিদান দশগুণ দেওয়া হয়, অথবা তার এক হাজার পাপ মুছে ফেলা হবে।
‘আমর ইবনু আউফ আল-আনসারী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফূ‘ সনদে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ উবাইদা ইবনুল জাররাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে বাহরাইনে সেখানকার জিযিয়া নিয়ে আসার জন্য পাঠালেন। আবূ উবাইদা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বাহরাইন থেকে অর্থ সম্পদ নিয়ে এলেন। আনসারগণ আবূ উবাইদার আগমনের সংবাদ শুনলেন। তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ফজরের সালাতে সবাই উপস্থিত হন। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন তখন তাদের দিকে ফিরলেন, তারা তাঁর সামনে উপস্থিত হলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের দেখে মুচকি হাসলেন এবং বললেন, “আমার মনে হয় তোমরা শুনেছ, আবূ উবাইদা বাহরাইন থেকে কিছু নিয়ে এসেছেন, তারা বলল, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সুসংবাদ গ্রহণ কর এবং যা তোমাদের খুশী করে তার আশা রাখ। আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের ব্যাপারে দারিদ্রের আশঙ্কা করি না। কিন্তু তোমাদের ব্যাপারে এ আশঙ্কা করি যে, তোমাদের উপর দুনিয়া এরূপ প্রসারিত হয়ে পড়বে যেরূপ তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর প্রসারিত হয়েছিল। আর তোমরাও দুনিয়া লাভে প্রতিযোগিতা করবে, যেমন তারা প্রতিযোগিতা করেছিল। আর তা তোমাদের ধ্বংস করবে, যেমন তাদের ধ্বংস করেছিল।’
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ উবাইদা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে বাহরাইনে জিযিয়া আদায় করার জন্য পাঠালেন। আবূ উবাইদা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বাহরাইন থেকে যখন মদীনায় আসলেন আনসারগণ তা শুনতে পেলেন। তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ফজরের সালাতে সবাই উপস্থিত হন। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাত আদায় করে মুখ ফিরালেন, তখন তারা তাঁর সামনে উপস্থিত হলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের দেখে মুচকি হাসলেন। কেননা তারা সম্পদের আশায় এসেছিলেন। ফলে তিনি তাদের বললেন, আমার মনে হয় তোমরা বাহরাইন থেকে আবূ উবাইদার আগমনের কথা শুনেছ। তারা বলল, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা তা শুনেছি অর্থাৎ আমরা আমাদের অংশ বুঝে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এসেছি। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে এমন সু-সংবাদ দিলেন, যা তাদেরকে খুশি করে দিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে আরও জানিয়ে দিলেন যে, তিনি তাদের ব্যাপারে দারিদ্রতার ভয় করছেন না। কারণ, দরিদ্রগণ ধনীদের চেয়ে অধিকাংশ সময় সত্যের কাছাকাছি থাকে। কিন্তু তিনি তাদের ব্যাপারে এ ভয় করেন যে, তাদের উপর দুনিয়াকে অধিকহারে প্রসারিত করা হবে। তখন তারা দুনিয়ার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়বে। তখন যত বেশি সম্পদই মানুষ উপার্জন করবে তা তার জন্য যথেষ্ট হবে না। বরং সে আরও বেশি আরও বেশি চাইতে থাকবে। হারাম হালাল যাচাই করা ছাড়া যে কোনো উপায়ে সম্পদ উপার্জন করতে লেগে যাবে। নিঃসন্দেহে এটিই নিন্দনীয় প্রতিযোগিতা; যা দুনিয়া অভিমুখী করবে এবং আখিরাত থেকে দূরে সরিয়ে দিবে। তখন তারা ধ্বংস হবে, যেমন ধ্বংস হয়েছিল তাদের পূর্বে যারা ছিল তারা।
আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আয় আল্লাহ্! আখিরাতের জীবনই সত্যিকারের জীবন। কাজেই আপনি আনসার আর মুহাজিরদের কল্যাণ করুন”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, পরকালে আল্লাহর সন্তুষ্টি, রহমত এবং জান্নাতে বসবাস ছাড়া আর কোন প্রকৃত জীবন নেই। কারণ পার্থিব জীবন ক্ষণস্থায়ী, আর পরকালের জীবন চিরস্থায়ী। তারপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও মুহাজিরদের আশ্রয়দানকারী, সাহায্যকারী এবং নিজেদের সম্পদ তাদের সাথে বন্টন করে গ্রহণকারী আনসারদের জন্য ক্ষমা, সম্মান এবং পরিশুদ্ধতার দোয়া করেন এবং সেই মুহাজিরদের জন্যও যারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টির জন্য তাদের ঘরবাড়ি এবং সম্পদ ত্যাগ করেছেন।
আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই এই পৃথিবী অভিশপ্ত এবং এর মধ্যে যা কিছু আছে তা অভিশপ্ত, আল্লাহর স্মরণ এবং এর সাথে সম্পর্কিত বিষয়গুলি ছাড়া এবং আলিম বা ছাত্র ছাড়া।"
এটি তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, পৃথিবী এবং এর মধ্যে যা কিছু আছে তা আল্লাহর গোস্বার বস্তু, নিন্দিত, পরিত্যক্ত এবং নির্বাসিত। এর মধ্যে যা কিছু আছে তা পরিত্যক্ত প্রশংসার যোগ্য নয়। কারণ এটি এবং এর মধ্যে থাকা সবকিছুই আল্লাহর থেকে বিচ্যুত করে এবং তাঁর থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, তবে আল্লাহর স্মরণ এবং তার নিকটবর্তী এবং এর অনুরূপ জিনিসগুলি যা আল্লাহ পছন্দ করেন, অথবা ইসলামী জ্ঞানের একজন আলিম যিনি মানুষকে তা শিক্ষা দেন, অথবা এর একজন ছাত্র।