





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ সূত্রে বর্ণিত, “সম্পদের আধিক্য ধনাঢ্যতা নয়, প্রকৃত ধনাঢ্যতা হল অন্তরের ধনাঢ্যতা।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যাখ্যা করেছেন, প্রকৃত ধনাঢ্যতা ধন-সম্পদের আধিক্য দ্বারা নয়। প্রকৃত ধনাঢ্যতা হলো আত্মার ধনাঢ্যতা। ব্যক্তিকে যা দেওয়া হয়েছে তাতে যদি সে সন্তুষ্ট থাকে ও যথেষ্ট মনে করে আর সম্পদ বাড়ানোর লোভ না করে এবং পীড়াপীড়ি করে না চায় তবে সে সবচেয়ে বেশী ধনী।
সাহাল ইবন সা‘দ সা‘য়েদী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাশ দিয়ে পার হয়ে গেল, তখন তিনি তাঁর নিকট উপবিষ্ট একজনকে জিজ্ঞেস করলেন, “এ ব্যক্তি সম্পর্কে তোমার মন্তব্য কী?” সে বলল, ‘এ ব্যক্তি তো এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের লোক। আল্লাহর কসম! সে কোথাও বিয়ের প্রস্তাব দিলে তা গ্রহণযোগ্য হবে এবং কারো জন্য সুপারিশ করলে তা কবুল করা হবে।’ তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নীরব থাকলেন। কিছুক্ষণের মধ্যে আর এক ব্যক্তি পার হয়ে গেল। তিনি ঐ (উপবিষ্ট) লোকটিকে বললেন, “এ লোকটির ব্যাপারে তোমার অভিমত কী?” সে বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! এ তো একজন গরীব মুসলিম। সে এমন ব্যক্তি যে, সে বিয়ের প্রস্তাব দিলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না, কারো জন্য সুপারিশ করলে তা কবুল করা হবে না এবং সে কোনো কথা বললে, তার কথা শ্রবণযোগ্য হবে না।’ তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “এ ব্যক্তি দুনিয়া ভর্তি ঐরূপ লোকের চেয়ে অনেক উত্তম।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।হাদীসের অর্থ: দুই ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাশ দিয়ে অতিক্রম করল। তাদরে একজন গোত্রের সম্মানিত ব্যক্তি, গোত্রের মধ্যে তার কথা গ্রহণযোগ্য, যিনি কোনো প্রস্তাব দিলে গ্রহণ করা হয়, কথা বললে শোনা হয়। আর দ্বিতীয় ব্যক্তিটি সম্পূর্ণ তার বিপরীত। সে একজন দুর্বল মুসলিম, সমাজে তার কোনো দাম নেই, তার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয় না, সুপারিশ কবুল করা হয় না এবং তার কথা শোনা হয় না। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “এ ব্যক্তি দুনিয়া ভর্তি ঐরূপ লোকের চেয়ে অনেক উত্তম।” অর্থাৎ যার নিজ সম্প্রদায়ের লোকদের মধ্যে ইজ্জত সম্মান রয়েছে তার তুলনায় এ নিরীহ ব্যক্তি আল্লাহর নিকট দুনিয়া ভর্তি ঐরূপ অগণিত লোকের চাইতে অনেক উত্তম। কারণ, আল্লাহ মানুষের পার্থিব ইজ্জত, সম্মান, বংশ, সম্পদ, আকৃতি, পোশাক, ঘরবাড়ী ও গাড়ি দেখেন না। তিনি শুধু দেখেন অন্তর ও আমলের প্রতি। একটি হাদীসে এসেছে: “আল্লাহ তোমাদের আকৃতি ও সম্পদের প্রতি তাকান না, কিন্তু দেখেন তোমাদের অন্তর ও আমলের প্রতি।” এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (হাদীস নং ২৫৬৪) সুতরাং যখন মহান আল্লাহর মাঝে ও তার মাঝে সুসম্পর্ক স্থাপিত হবে, সে আল্লাহর দিকেই ঝুকবে, আল্লাহর ভয়ে যিকিরকারী হবে এবং আল্লাহ যে আমল করলে খুশি হয় সে আমল করবে, সে ব্যক্তিই আল্লাহর নিকট সম্মানিত বলে বিবেচিত হবে। এ লোকই সে লোক যে আল্লাহর নামে শপথ করলে আল্লাহ তাকে দায়মুক্ত করেন।
জাবের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট কোনো কিছু চাওয়া হলে তিনি কখনো না বলতেন না।” আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইসলামের ওপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট যা চাওয়া হত, তিনি তা-ই দিতেন। (একবার) তাঁর নিকট এক ব্যক্তি আসলো। তিনি তাকে দুই পাহাড়ের মধ্যস্থলের সমস্ত বকরী দিয়ে দিলেন। অতঃপর সে তার সম্প্রদায়ের নিকট গিয়ে বলল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা ইসলাম গ্রহণ কর। কেননা, মুহাম্মাদ ঐ ব্যক্তির মত দান করেন, যে দারিদ্রতার ভয় করে না।’ যদিও কোনো ব্যক্তি কেবল দুনিয়া অর্জন করার জন্য ইসলাম গ্রহণ করত। কিন্তু কিছুদিন পরেই ইসলাম তার নিকট দুনিয়া এবং তার মধ্যে যা কিছু আছে সব কিছু থেকে প্রিয় হয়ে যেত।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।হাদীসটির অর্থ: কেউ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাামের নিকট দুনিয়াবী কোনো কিছু চাওয়ার পর তাকে আল্লাহর রাসূল দিতে নিষেধ করেছেন, এমন কখনো হয় নি; বরং যদি তার কাছে থাকতো তিনি তা দিয়ে দিতেন অথবা তিনি তার সাথে সুন্দর কথা বলতেন; আর এটা ছিল মহান আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী, তিনি বলেন, “তুমি ভিক্ষুককে ধমক দিও না” [সূরা আদ-দুহা, আয়াত: ১০]। ইমাম বুখারী তার আদাবুল মুফরাদ গ্রন্থে আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, “রাসূল ছিলেন অতিশয় দয়ালু, তার কাছে যে কেউ কোনো কিছুর জন্য আসত, তাকে তিনি প্রদান করার ওয়াদা দিতেন আর যদি তার নিকট তা থাকত তবে সাথে সাথে প্রদান করতেন” হাদীসটিকে শাইখ আলবানী আল-আদাবুল মুফরাদ গ্রন্থের টীকায় হাসান আখ্যায়িত করেছেন। (পৃ. ১৪৫) অনুরূপভাবে আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট (কিছু চাইতে) আগমন করল, তিনি তার স্ত্রীদের নিকট লোক পাঠালেন। তারা উত্তর দিল, আমাদের কাছে পানি ছাড়া কিছুই নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কে তাকে সাথে নিবে অথবা কে তাকে মেহমান বানাবে।” বুখারী, হাদীস নং (৩৭৯৮)। অনুরূপভাবে সহীহ বুখারীতে (হাদীস নং ২০৯৩) সাহাল ইবন সা‘দ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একজন মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট একটি চাদর নিয়ে আসলো। সে বলল, ‘আপনার পরিধানের জন্য চাদরটি আমি নিজ হাতে বুনেছি।’ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটাকে তার প্রয়োজন রয়েছে হিসেবে গ্রহণ করলেন। তারপর সেটা তিনি লুঙ্গীরূপে পরিধান করে আমাদের সামনে আসলেন। তখন এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল, ‘এটি আমাকে পরিধান করিয়ে দিন। তিনি বললেন, “হ্যাঁ, (তাই করব।)” নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মজলিসে (কিছুক্ষণ) বসলেন। অতঃপর ফিরে গিয়ে তা ভাঁজ করে ঐ লোকটির কাছে পাঠিয়ে দিলেন। লোকেরা বলল, ‘তুমি কাজটা ভালো করলে না, তুমি এটাই চেয়ে বসলে? অথচ তুমি জান যে তিনি কোনো প্রার্থীকে ফিরিয়ে দেন না।’ লোকটি বলল, ‘আল্লাহর কসম! আমার চাওয়ার একমাত্র উদ্দেশ্য সেটা আমার কাফন হবে।’ সাহাল বলেন, ‘সেটা তার কাফনই হয়েছিল।’ কোনো প্রার্থীর সাথে এটাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবস্থা ছিল। যদি তার কাছে থাকতো তা তাকে দিয়ে দিতেন যদিও তা তার প্রয়োজন ছিল। আর যদি না থাকতো তখন তিনি তার কাছে ওযর পেশ করতেন অথবা অন্য সময়ের জন্য ওয়াদা করতেন অথবা সাহাবীদের নিকট তার জন্য সুপারিশ করতেন। এ ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দয়া, বদান্যতা ও সুন্দর চরিত্রের কিছু চিত্র।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত: “যদি মু’মিন জানত যে, আল্লাহর নিকট কী শাস্তি রয়েছে, তাহলে কেউ তার জান্নাতের আশা করত না। আর যদি কাফের জানত যে, আল্লাহর নিকট কী রহমত রয়েছে, তাহলে কেউ তার জান্নাত থেকে নিরাশ হত না।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।যে মুমিনের জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়েছে সে যদি সত্যিকারভাবে জানে যে, আল্লাহর নিকট কাফির ও পথভ্রষ্টদের জন্য কী কঠিন শাস্তি ও মহা আযাব রয়েছে, তাহলে কখনো সে জান্নাতে প্রবেশের আকাঙ্ক্ষা করতো না। বরং তার আশা হবে কেবল জাহান্নাম থেকে দূরে থাকা; কারণ, তার শাস্তি ও আযাব এতো কঠিন, কোনো শরীর তার সামর্থ রাখে না। তার বিপরীতে যদি কাফের জানে যে, পরম দয়ালু ও মহিমান্বিত আল্লাহর নিকট কী করুণা ও রহমত রয়েছে, তাহলে সেও তার রহমত থেকে নিরাশ হতো না বরং আল্লাহর রহমতের ব্যাপকতা এবং তিনি যে মহা ক্ষমাশীল তা জেনে জান্নাতে প্রবেশের আশা করতো।
জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাজারে অতিক্রম করলেন। আর মানুষেরা তার দু’পাশে ছিল। ইত্যবসের ছোট কান বিশিষ্ট একটি মৃত ছাগলের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন। তিনি সেটার কানে ধরলেন এবং বললেন: “তোমাদের কে এটাকে এক দিরহামের বিনিময়ে নিতে আগ্রহী?” তারা বলল: এটাকে কোনো জিনিসের বিনিময়েই নিতে আগ্রহী নই, আমরা এটা দিয়ে করব? অতঃপর বললেন: “এটা তোমাদের হোক কেউ চাও না?” তারা বলল: আল্লাহর কসম, এটা জীবিত থাকলেও তার ভেতর দোষ ছিল। কারণ তার কান ছোট। আর মৃত অবস্থায় এটাকে কিভাবে পছন্দ করি! তিনি বললেন: “আল্লাহর কসম! তোমাদের কাছে এটা যেমন মূল্যহীন দুনিয়াটা আল্লাহর নিকট এর চেয়েও বেশী মূল্যহীন।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাদের সংবাদ দিচ্ছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাজারের ভেতর কান কাটা মৃত ছোট একটি ছাগলের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন। তিনি সেটা ধরে উপরে তুললেন এবং বললেন: “তোমাদের কেউ আছে কি যে এটাকে এক দিরহামের বিনিময়ে গ্রহণ করবে? তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল কোনো কিছুর বিনিময়েই সেটা গ্রহণ করতে চাই না। তিনি বললেন: তোমাদের কেউ কি তার মালিক হতে চায়? তারা বলল: না, তখন তিনি বললেন: আল্লাহর নিকট দুনিয়া এই মৃত ছাগলের চেয়েও মূল্যহীন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার সাথী ও পরবর্তী উম্মতের নিকট ব্যাখ্যা করতে চেয়েছেন যে, আল্লাহর নিকট দুনিয়া এই মৃত ছাগলের চেয়েও মূল্যহীন, যেই ছাগল কোনো সুস্থ মানুষ পছন্দ করে না। আখিরাতের তুলনায় এটাই দুনিয়ার অবস্থা। আল্লাহর নিকট দুনিয়ার কোনো মূল্য নেই। একটি মাছির পরের সমানও নয়। যেমন, সাহাল বিন সা’দ রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত, “আল্লাহর নিকট দুনিয়া যদি মাছির একটি পরের সমতুল্য হত, তিনি তা থেকে কোনো কাফিরকে এক ঢোক পানিও পান করতে দিতেন না।” হাদীসটি বর্ণনা করেছেন তিরিমিযী, হাদীস নং (২৩২০) শাইখ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ ও দাঈফ তিরমিযীতে সহীহ বলেছেন। হাদীস নং (২৩২০) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো চেয়েছেন, তার সাহাবী ও তার উম্মত যেন দুনিয়াকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উসিলা হিসেবে গ্রহণ করে। দুনিয়াকে কখনো আসল উদ্দেশ্য ও তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত না করে। কারণ, এতে তাদের ধ্বংস রয়েছে।
আবূ ইয়াহইয়া খুরাইম ইবন ফাতেক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, “যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় কিছু খরচ করে, তার জন্য সাতশ’ গুণ নেকী লেখা হয়।”
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।যে কেউ আল্লাহর রাস্তায় কম বা বেশি খরচ করবে, হোক সেটা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে অথবা অন্য কোনো কল্যাণকর কাজ ও ইবাদতে খরচ করবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার বিনিময়কে সাত শো পর্যন্ত বৃদ্ধি করবেন।
সাওবান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত: “যে ব্যক্তি আমার জন্য জিম্মাদার হবে যে, সে মানুষের নিকট চাইবে না, আমি তার জন্য জান্নাতের জিম্মাদার হব।” আমি বললাম, ‘আমি।’ সুতরাং তিনি কারো নিকট কিছু চাইতেন না।”
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।হাদীসের অর্থ:যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য মানুষের কাছে তাদের সম্পদ চাওয়া অথবা স্বীয় কর্ম কম হোক বা বেশি হোক সম্পাদনে কারো সাহায্য কামনা করা ছেড়ে দিবে, তার জন্য তিনি জান্নাতের জামিন হবেন। কারণ, মাখলুকের কাছে চাওয়া ছেড়ে দেওয়ার অর্থ আল্লাহর ওপর পুরোপুরি ভরসা, সুদৃঢ় আশা ও আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থার প্রমাণ। ফলে তার বিনিময়ে আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। সাওবান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হাদীসটি শোনার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লামকে প্রতিশ্রুতি দিলেন যে, তিনি কখনো মানুষের কাছে কিছু চাইবেন না। এমনকি ইবন মাজাহ’তে তার সম্পর্কে একটি বর্ণনা এসেছে, তিনি বাহনে থাকা অবস্থায় যদি তার লাঠিটি পড়ে যেত, তখন কাউকে বলতেন না আমাকে লাঠিটি তুলে দাও, তিনি নিজে নেমেই সেটি উঠিয়ে নিতেন। এটা ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়সাল্লামের সাথে তার প্রতিশ্রুতি রক্ষার নমুনা।
‘আবদুল্লাহ ইবন ‘আমর ইবনুল ‘আস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট দিয়ে গেলেন, তখন আমরা আমাদের একটি কুঁড়েঘর মেরামত করছিলাম। তিনি বললেন, এটা কী? আমি বললাম, নষ্ট হয়ে গিয়েছে, তাই সেটি আমরা মেরামত করছি। তিনি বললেন, আমি তো দেখছি মৃত্যু তার চেয়েও নিকটবর্তী।
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আমর ইবনুল ‘আস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন এমতাবস্থায় যে, তিনি তার ঘরের ভেঙ্গে যাওয়া অংশটুকু মেরামত করছেন বা ঘরটি মজবুত করার কাজ করছেন। আবূ দাউদের একটি বর্ণনায় এসেছে: “আমি আমার একটি দেয়ালে মাটির প্রলেপ লাগাচ্ছি।” তিনি বললেন, “বিষয়টি আমি এর চেয়েও অধিক তাড়াতাড়ি দেখছি।” অর্থাৎ তুমি মারা যাওয়ার পূর্বে ঘর ভেঙ্গে যাওয়ার ভয়ে যে মেরামত কাজ করছ, মৃত্যু তার চেয়েও অধিক নিকটে। হতে পারে ঘর ভেঙ্গে পড়ার আগেই তুমি মারা যাবে। সুতরাং, তোমার ঘর মেরামত করার চেয়ে আমলের মেরামত করা অধিক উত্তম। বাহ্যিকভাবে বুঝা যায় তার ঘর মেরামত করা জরুরি ছিল না, বরং মেরামতের প্রতি আগ্রহ তার আশা থেকে সৃষ্টি অথবা সৌন্দর্যের প্রতি তার আসক্তি থেকে। তাই তিনি তাকে বলেন যে, আখিরাতে যা কোনো উপকারে আসবে না, তা থেকে যে কর্ম আখিরাতে উপকারে আসবে সে কর্মে ব্যস্ত হওয়া অধিক উত্তম।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ছয়জন সাহাবীর সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাবার খাচ্ছিলেন। এমন সময় এক বেদুঈন হাযির হলো এবং সে দু’গ্রাসেই সমস্ত খাদ্য খেয়ে ফেলল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “শোনো! যদি এ ব্যক্তি ‘বিসমিল্লাহ’ বলত, তাহলে এ খাবারই তোমাদের সবার জন্য যথেষ্ট হত।”
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছয়জন সাহাবীর সাথে খাবার খাচ্ছিলেন। এমন সময় এক বেদুঈন হাযির হলো এবং সে দু’গ্রাসেই অবশিষ্ট খাদ্য খেয়ে ফেলল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “যদি এ ব্যক্তি ‘বিসমিল্লাহ’ বলত, তাহলে এ খাবারই তোমাদের সবার জন্য যথেষ্ট হত। কিন্তু সে আল্লাহর না নেয় নি। ফলে সে অবশিষ্ট সব খাদ্য দুই লুকমায় খেয়ে ফেলল। অথচ তা তার জন্য যথেষ্ট হলো না। এতে প্রমাণিত হয়, যখন কোনো মানুষ খাওয়াতে আল্লাহর নাম না নেয়, তার খাদ্য থেকে বরকত ছিনিয়ে নেওয়া হয়।