





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরে বসলেন এবং আমরা তাঁর আশেপাশে বসলাম। তিনি বললেন: “আমার পরে তোমাদের ব্যাপারে আমি যা আশঙ্কা করছি তা হলো এই যে দুনিয়ার চাকচিক্য ও সৌন্দর্য (ধন-সম্পদ) তোমাদের সামনে খুলে দেয়া হবে” এক সাহাবী বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কল্যাণ কি কখনো অকল্যাণ বয়ে আনে? এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নীরব হলেন। প্রশ্নকারীকে বলা হলো, তোমার কী হয়েছে? তুমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে কথা বলছ, কিন্তু তিনি তোমাকে জওয়াব দিচ্ছেন না? তখন আমরা অনুভব করলাম যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উপর ওয়াহী নাযিল হচ্ছে। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি তাঁর ঘাম মুছলেন এবং বললেনঃ “প্রশ্নকারী কোথায়?” যেন তার প্রশ্নকে প্রশংসা করে বললেন, “কল্যাণ কখনো অকল্যাণ বয়ে আনে না। অবশ্য বসন্ত মৌসুম যে ঘাস উৎপন্ন করে তা (সবটুকুই সুস্বাদু ও কল্যাণকর বটে তবে) অনেক সময় হয়ত (ভোজনকারী প্রাণীর) জীবন নাশ করে অথবা তাকে মৃত্যুর কাছাকাছি নিয়ে যায়। তবে ঐ তৃণভোজী জন্তু, যে পেট ভরে খাওয়ার পর সূর্যের তাপ গ্রহণ করে এবং মল ত্যাগ করে, প্রস্রাব করে এবং পুনরায় চলে (সেই মৃত্যু থেকে রক্ষা পায় তেমনি) এই সম্পদ হলো আকর্ষণীয় সুস্বাদু। কাজেই সে-ই ভাগ্যবান মুসলিম, যে এই সম্পদ থেকে মিসকীন, ইয়াতীম ও মুসাফিরকে দান করে অথবা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেরূপ বলেছেন, আর যে ব্যক্তি এই সম্পদ অন্যায়ভাবে উপার্জন করে, সে ঐ ব্যক্তির ন্যায়, যে খেতে থাকে এবং তার পেট ভরে না। ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) দিবসে ঐ সম্পদ তার বিপক্ষে সাক্ষ্য দিবে”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমএকদা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথীদের সাথে কথা বলার জন্য মিম্বারে বসলেন এবং বললেন: আমার পরে আমি তোমাদের উপর সবচেয়ে বেশী যার ভয় ও আশঙ্কা করি তা হলো তোমাদের উপর দুনিয়ার কল্যাণ, দুনিয়ার চাকচিক্য এবং তার সৌন্দর্য ও শোভা এবং দুনিয়াতে যে বিভিন্ন প্রকার সম্পদ, কাপড়-চোপড়, শষ্য ইত্যাদি রয়েছে ক্ষণস্থায়ী সত্ত্বেও যা নিয়ে মানুষ অহংকার করে তা সব খুলে দেওয়া হবে। তখন জনৈক ব্যক্তি বললেন: দুনিয়ার চাকচিক্য হল আল্লাহর নিয়ামত, এই নিয়ামত কী পরিবর্তন হবে এবং শাস্তি ও আযাবের রূপ গ্রহণ করবে?! ফলে মানুষেরা তাকে ভর্ৎসনা করল যেহেতু তারা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে চুপ থাকতে দেখেছেন এবং তারা মনে করেছেন যে, সে তাকে রাগান্বিত করেছে। স্পষ্ট হল যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর অহী নাযিল হচ্ছিল, অতঃপর তার কপাল থেকে ঘাম মুছতে লাগলেন এবং বললেন: কোথায় প্রশ্নকারী? সে বলল, আমি। তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও তার গুণকীর্তন করলেন। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, প্রকৃত কল্যাণ কল্যাণ ছাড়া কিছুই নিয়ে আসে না, তবে এই চাকচিক্য কেবল কল্যাণই নয়, যেহেতু এটি ঝগড়া, পরস্পর প্রতিযোগিতা এবং আখিরাত ছেড়ে তা নিয়ে ব্যস্ত হতে ধাবিত করে। তারপর তিনি এর জন্য একটি উদাহরণ দিয়ে বললেন: বসন্তের উদ্ভিদ এবং তার সজীবতা; এটি এমন এক ধরনের শস্য যা গবাদিপশুকে আবেদন করে এবং পেট ভরে অতিরিক্ত খাওয়ার কারণে তাকে হত্যা করে বা তার কাছাকাছি নিয়ে যায়; তবে সে শস্য খাদক ব্যতীত, যে তার পেটের একপাশ পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত খেয়েছিল, তারপর সে সূর্যের মুখোমুখি হয়েছিল এবং তার পেট থেকে নরম বিষ্ঠা নিক্ষেপ করেছিল বা পেশাব করেছিল; তারপর সে তার পেটে যা ছিল তা তুলে চিবিয়ে খেয়েছিল, তারপর ফিরে এসে আবার খেয়েছিল। কারণ এই সম্পদ মিষ্টি সবুজ ভেষজ এর মতো; এটি প্রচুর পরিমাণে খেলে মেরে ফেলে বা প্রায় মেরে ফেলে। যতক্ষণ না সে তা সামান্য পরিমাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখে যা প্রয়োজন হয় এবং একটি বৈধ উপায়ে তা দিয়ে যথেষ্ট করে তখন এটি তার ক্ষতি করে না। সে কতই না ভালো মুসলিম যে তা থেকে গরীব, এতীম ও মুসাফিরকে দান করে। আর যে তার অধিকারসহ তা গ্রহণ করবে, সে এতে বরকত পাবে এবং যে ব্যক্তি তার অধিকার ব্যতীত তা গ্রহণ করবে, তার উদাহরণ সেই ব্যক্তির মতো যে খায় তবে তৃপ্ত হয় না এবং এটি হবে কেয়ামতের দিন তার বিরুদ্ধে একজন সাক্ষী।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে জিজ্ঞাসা করলো, হে আল্লাহর রাসূল! আমার কাছে কে উত্তম ব্যবহার পাওয়ার বেশি হকদার? তিনি বললেন, “তোমার মা।” লোকটি বলল, তারপর কে, তিনি বললেন, “তোমার মা।” সে বলল, তারপর কে? তিনি বললেন, “তোমার মা।” সে বলল, তারপর কে? তিনি বললেন, “তারপরে তোমার বাবা।” (বুখারী ও মুসলিম) মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে, একব্যক্তি প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসূল! মানুষের মধ্যে সদ্ব্যবহার পাওয়ার সর্বাপেক্ষা হকদার কে? তিনি বললেন, “তোমার মা। এরপরও তোমার মা। এরপরও তোমার মা। এরপর তোমার বাবা। এরপর তোমার নিকটবর্তী আত্মীয়-স্বজন। এরপর তোমার নিকটবর্তী লোকজন।” হাদীসে বর্ণিত সাহাবা শব্দটি সুহবাহ তথা সঙ্গের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, “সুম্মা আবাকা” উহ্য ক্রিয়া দ্বারা নসব বিশিষ্ট হয়েছে। অর্থাৎ অতঃপর তোমার বাবার সাথে উত্তম আচরণ করো। অন্য র্বণনায় “সুম্মা আবূকা” তথা রফ‘আ বিশিষ্ট হয়েছে। এর কারণ স্পষ্ট।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। - মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।এ হাদীস প্রমাণ করে যে, পিতামাতার অধিকার হলো তাদের সাথে সদাচারণ ও তাদের পরিপূর্ণ দেখাশুনা করা।আল্লাহ তা‘আলা বলেন, “দুনিয়ায় তাদের সাথে বসবাস করবে সদ্ভাবে”। (সূরা লুকমান, আয়াত: ১৫) তবে মায়ের হক বাবার চেয়ে অনেকগুন বেশি। যেহেতু হাদীসে মায়ের হক পরিপূর্ণ গুরুত্বের সাথে তিনবার সাব্যস্ত করার পরেই বাবার হকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পিতামাতা উভয়েই সন্তানের লালন পালনে অংশিদার হলেও যেমন পিতা তার ধন-সম্পদ ব্যয় ও দেখাশুনা করে সন্তানের লালন পালনে অংশিদার, আর মাতা সন্তানের পানাহার, পোশাক-পরিচ্ছদ ও বিছানাপত্র তৈরি করে সন্তানের লালন-পালনে অংশিদার; তথাপি মায়ের মর্যাদা পিতার চেয়ে উর্ধ্বে। কেননা সন্তান পালনে মাতা যেসব কষ্ট সহ্য করেন পিতা সেসব কষ্ট-ক্লেশ ভোগ করেন না। মাতা দীর্ঘ নয় মাস সন্তানকে অতি কষ্টের পর কষ্টে গর্ভে ধারণ করেন। তাকে অপরিসীম কষ্টে প্রসব করেন; প্রসবের সময় ভয়ানক কষ্টে তার জীবন নাশের উপক্রম হয়। এমনিভাবে দু’ বছর নিজের সব আরাম-আয়েশ ও নিদ্রা বিসর্জন দিয়ে সন্তানের আরাম-আয়েশ ও কল্যাণার্থে সন্তানকে দুগ্ধ পান করান। এ কাজে তিনি সীমাহীন কষ্ট সহ্য করেন। একথা আল্লাহ তাঁর অহীর ভাষায় এভাবে বর্ণনা করেছেন: “আর আমি মানুষকে তার মাতা-পিতার প্রতি সদয় ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে অতিকষ্টে গর্ভে ধারণ করে এবং অতিকষ্টে তাকে প্রসব করে। তার গর্ভধারণ ও দুধপান ছাড়ানোর সময় লাগে ত্রিশ মাস”। (সূরা আল-আহকাফ, আয়াত: ১৫) আপনি এখানে লক্ষ্য করছেন যে, আল্লাহ পিতামাতার সাথে সদাচরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। অথচ এর কারণস্বরূপ শুধু ঐসব কষ্টের কথা উল্লেখ করেছেন, যা কেবল মাতাই সন্তান প্রতিপালন করার ক্ষেত্রে সহ্য করে থাকেন। এতে সন্তানের ওপর মায়ের বিরাট অধিকারের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। পিতামাতার সাথে সদাচরণের অন্যতম উপায় হচ্ছে তাদের খাদ্য, পানীয়, বাসস্থান, পোশাক ও জীবন ধারনের অন্যান্য প্রয়োজন মিটানো; বিশেষ করে তারা যখন এগুলোর প্রয়োজন বোধ করেন। বরং আপনার পিতামাতা যদি আপনার চেয়ে নিম্ন মানের বা মধ্যম মানের জীবন যাপন করেন আর আপনি যদি উচ্চ মানের বিলাসী জীবন যাপন করেন তাহলে তাদের জীবন যাত্রার মান আপনার জীবন যাত্রার সমমানের করবেন অথবা আপনার চেয়ে আরো উন্নত মানের জীবন যাপনের ব্যবস্থা করবেন। কেননা এসব কাজ তাদের সাথে উত্তম আচরণের অন্যতম মাধ্যম। আপনি ইউসুফ আলাইহিস সালামের ঘটনার প্রতি খেয়াল করুন। তাকে রাজ সিংহাসন দেওয়ার পর তিনি তার পিতামাতার সাথে কী ধরনের আচরণ করেছিলেন। তিনি তাদেরকে গ্রাম থেকে আনয়ন করে নিজের রাজ সিংহাসনে বসালেন। পিতামাতার সাথে সদাচরণের আরেকটি উপায় বরং যা সকল সদাচরণের সমষ্টি, তা হচ্ছে, যা আল্লাহ তা‘আলা তাঁর এ বাণাীতে উল্লেখ করেছেন, “আর তোমার রব আদেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তাঁকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদাত করবে না এবং পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ করবে। তাদের একজন অথবা উভয়েই যদি তোমার নিকট বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদেরকে উফ বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না। আর তাদের সাথে সম্মানজনক কথা বলো। আর তাদের উভয়ের জন্য দয়া পরবশ হয়ে বিনয়ের ডানা নত করে দাও এবং বল, হে আমার রব, তাদের প্রতি দয়া করুন যেভাবে শৈশবে তারা আমাকে লালন-পালন করেছেন।” (সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ২৩-২৪) অতএব তাদের সাথে সব ধরণের অশ্লীল, অশালীন ও অভদ্র ভাষা থেকে বিরত থাকুন। সব ধরনের কষ্টদায়ক ভাষা পরিহার করুন। তাদের সাথে নম্র কথা বলুন, তাদের প্রতি বিনয়ের ডানা নত করুন, তাদের খিদমতে নিজেকে নত করুন, আপনার অন্তর থেকে মনে প্রাণে তাদের জন্য সর্বদা দো‘আ করে নিজের জিহ্বাকে ভিজিয়ে রাখুন এবং বলুন, “হে আমার রব, তাদের প্রতি দয়া করুন যেভাবে শৈশবে তারা আমাকে লালন-পালন করেছেন।” (সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ২৪) মহান আল্লাহ অহীর ইঙ্গিত ও রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীস অনুসারে মায়ের বিশেষ বাড়তি সেবা-যত্ন নিতে ভুল করবেন না।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, “যে কেউ আল্লাহর পথে জোড়া জোড়া জিনিস ব্যয় করবে তাকে জান্নাতের সব দরজা থেকে ডাকা হবে, হে আল্লাহর বান্দা! এটাই উত্তম। অতএব, সালাত আদায়কারীকে সালাতের দরজা থেকে ডাকা হবে, মুজাহিদকে জিহাদের দরজা থেকে ডাকা হবে, সাওম পালনকারীকে রাইয়্যান নামক দরজা থেকে ডাকা হবে এবং দানকারীকে সদকার দরজা থেকে ডাকা হবে। এরপর আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার জন্য আমার পিতা-মাতা কুরবান হোক, যদিও সব দরজা থেকে কাউকে ডাকার কোনো প্রয়োজন নেই, তবুও কি কাউকে সব দরজা থেকে ডাকা হবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ। আমি আশা করি আপনি তাদের অন্তর্ভুক্ত হবেন।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য কোনো শ্রেণির সম্পদ থেকে দু’টি বস্তু সদকা করবে, চাই তা খাদ্যদ্রব্য হোক বা পরিধেয় বস্তু বা বাহন কিংবা নগদ অর্থ হোক, ফিরিশতাগণ তাকে জান্নাতের দরজা থেকে জান্নাতে আসতে স্বাগত জানিয়ে ডাকবে। আর তারা তাকে বলবে, তুমি অনেক কল্যাণ পূর্বে প্রেরণ করেছ তাই আজ তোমাকে অনেক সাওয়াব দেওয়া হবে। অতএব, যারা অধিক সালাত আদায়কারী, তাদেরকে সালাতের দরজা থেকে ডাকা হবে এবং তারা সে দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে। যারা অধিক সদকাকারী তাদেরকে সদকার দরজা থেকে ডাকা হবে এবং তারা সে দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে। আর যারা অধিক পরিমাণ সিয়াম পালনকারী তাদেরকে ফিরিশতাগণ রাইয়্যান নামক দরজার সন্নিকটে অভ্যর্থনা জানাবে এবং সেখান দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করার আহ্বান জানাবে। রাইয়্যান অর্থ তৃষ্ণা নিবারক। কেননা সাওম পালনকারীগণ পানি থেকে বিরত থাকার ফলে তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়ে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে লম্বা ও গরমের দিনগুলোতে সিয়াম পালনকালে। এমনটি হয়ে থাকে। সুতরাং সিয়াম পালনে পিপাসার জ্বালা সহ্য করার কারণে তারা জান্নাতের যে দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে সেখানে তাদেরকে চিরস্থায়ীভাবে জান্নাতের তৃষ্ণা নিবারক পান করিয়ে পুরষ্কৃত করা হবে। আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন এ হাদীস শুনলেন তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার জন্য আমার পিতা-মাতা কুরবান হোক, যে ব্যক্তি উক্ত দরজাসমূহের কোনো একটি দিয়ে প্রবেশ করবে যদিও তার কোনো কমতি হবে না, ক্ষতিও হবে না, তবুও কি কাউকে সব দরজা থেকে ডাকা হবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ। আমি আশা করি আপনি তাদের অন্তর্ভুক্ত হবেন।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফূ‘ হাদীস বর্ণিত: “যে ব্যক্তি আমাকে স্বপ্নে দেখল, সে আমাকে জাগ্রত অবস্থায় দেখবে অথবা সে যেন আমাকে জাগ্রত অবস্থায় দেখল। কেননা, শয়তান আমার রূপ ধারণ করতে পারে না।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। - মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।আলিমগণ হাদীসের অর্থ বর্ণনা করতে গিয়ে একাধিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। এক: হাদীসটির উদ্দেশ্য তার যুগের লোক। তার অর্থ হচ্ছে, যে ব্যক্তি তাকে স্বপ্নে দেখেছে অথচ সে হিজরত করেনি, আল্লাহ তাকে হিজরত করা এবং জাগ্রত অবস্থায় স্বচক্ষে রাসলকে দেখার সুযোগ দান করবেন। দুই. যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে স্বপ্নে দেখবে, তিনি বাস্তবেই নবীকে দেখেছেন। অর্থাৎ রুহের জগতে, আর তার স্বপ্ন সত্য, তবে শর্ত হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তার প্রসিদ্ধ গুণে দেখতে হবে। তিন. আখিরাতের জীবনে সে এ স্বপ্নের বাস্তবায়ন জাগ্রত অবস্থায় দেখতে পাবে; এটা এক বিশেষ দেখা, যার অর্থ হচ্ছে তার নৈকট্য ও তার সুপারিশ লাভ করা ইত্যাদি। তার কথা “অথবা সে যেন আমাকে জাগ্রত অবস্থায় দেখল।” এটি সহীহ মুসলিমের বর্ণনা, অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম: “সে আমাকে জাগ্রত অবস্থায় দেখবে” বলেছেন, নাকি “সে যেন আমাকে জাগ্রত অবস্থায় দেখল” বলেছেন। এ সন্দেহযুক্ত শব্দে মুসলিম বর্ণনা করেছেন। তার অর্থ হচ্ছে, যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তার প্রকৃত রূপে স্বপ্নে দেখল, সে যেন তাকে জাগ্রত অবস্থায় দেখল। এটি সহীহ বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত হাদীসের মত: “যে আমাকে স্বপ্নে দেখল সে আমাকেই দেখল”। সহীহ বুখারী ও মুসলিমের অপর বর্ণনায় এসেছে, “যে আমাকে স্বপ্নে দেখল, সে সত্য দেখল।” আর তার বাণী: “শয়তান আমার রূপ ধারণ করতে পারে না।” অপর শব্দে এসেছে, “যে আমাকে ঘুমের মধ্যে দেখল, সে আমাকেই দেখল, কারণ, শয়তানের জন্য আমার আকৃতি ধারণ করা সমীচীন নয়।” অর্থাৎ শয়তানের পক্ষে সম্ভব নয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আসল আকৃতি ধারণ করা। অন্যথায় শয়তান এসে বলতে পারে, সেই আল্লাহর রাসূল, তখন সে এমন আকৃতিতে হবে যেটা আল্লাহর রাসূলের আকৃতি নয় এবং স্বপ্নের এই সত্ত্বাও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নয়। সুতরাং যদি কোনো ব্যক্তি কাউকে দেখে তারপর তার অন্তরে উদয় হয় যে তিনিই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাহলে সে তার দেখা গুণ অনসন্ধান করবে, সেটা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মিলে কিনা? যদি মিলে যায় তাহলে সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছে। আর যদি না মিলে তাহলে সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখেনি। বরং এটা শয়তানের পক্ষ থেকে নিচক ধারণা যা একজন ঘুমন্ত ব্যক্তির অন্তরে শয়তান উদ্রেক করেছে যে, সেই আল্লাহর রাসূল, অথচ সে আল্লাহর রাসূল নয়। ইমাম আহমদ ও ইমাম তিরমিযী তার শামায়েল গ্রন্থে ইয়াযীদ আল ফারসী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লামকে স্বপ্নে দেখেছি। আমি ইবন আব্বাসকে বললাম, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লামকে স্বপ্নে দেখেছি। ইবন আব্বাস বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন, শয়তান আমার সাদৃশ্য গ্রহণ করতে পারে না। যে আমাকে স্বপ্নে দেখেছে, সে আমাকেই দেখেছে। তুমি যে লোকটিকে দেখেছ তার বর্ণনা দিতে পারবে? আমি বললাম: হ্যাঁ, যখন সে তাকে বর্ণনা দিল, তখন ইবন আব্বাস বললেন, যদি তুমি তাকে জাগ্রত অবস্থায় দেখতে তাহলে এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে পারতে না। আলবানী হাদীসটিকে মুখতাসারুশ শামায়েলে হাসান বলেছেন। (পৃ: ২০৮) (হাদীস নং ৩৪৭) অর্থাৎ যদি তুমি জাগ্রত অবস্থায় তাকে দেখতে, তাহলে যে বিশেষণ বলেছ, তার চেয়ে বেশি বলতে পারতে না। এ থেকে বুঝা যায়, সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সত্যিই দেখেছে।
নু‘মান ইবনু বাশীর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কিয়ামতের দিন ঐ ব্যক্তির সর্বাপেক্ষা লঘু ’আযাব হবে, যার দু’পায়ের তলায় রাখা হবে জ্বলন্ত অঙ্গার, তাতে তার মগয ফুটতে থাকবে”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, কিয়ামতের দিন সবচেয়ে হালকা হবে সে ব্যক্তির আযাব যার জন্য দু’টো স্যান্ডেল ও বুট হবে যার গরমে তার মগয টগবগ করবে, যেমন তামার পাত্র টগবগ করে এবং সে তার চেয়ে বেশী শাস্তিতে কাউকে মনে করবে না; যদিও সে সবচেয়ে হালকা শাস্তিতে থাকবে, এটির কারণ হল যাতে তার উপর শারীরিক ও মানসিক উভয় শাস্তি একত্রিত হয়।
আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে মারফু হিসেবে বর্ণিত, “তিনটি জিনিস মৃত ব্যক্তিকে অনুসরণ করে: তার আত্মীয়-স্বজন, তার ধন-সম্পদ ও তার আমল। অতঃপর দু’টি জিনিস ফিরে আসে এবং একটি জিনিস রয়ে যায়। তার আত্মীয়-স্বজন ও তার ধন-সম্পদ ফিরে আসে, আর তার আমল (তার সঙ্গে) রয়ে যায়।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।হাদীসটির অর্থ: যখন কোনো মানুষ মারা যায়, তাকে এগিয়ে দিতে লোকেরা তার পিছনে পিছনে যায়। তাকে কবরে পৌঁছে দিতে তার আত্মীয়-স্বজন তার অনুগামী হয় এবং তার সম্পদও তার অনুগামী হয়। অর্থাৎ, তার গোলাম ও খাদেমরা। আর তার আমলও তার অনুসরণ করে। অতঃপর দু’টি জিনিস ফিরে আসে কিন্তু তার আমল তার সাথে রয়ে যায়। যদি আমল ভালো হয়, তবে ভালো, আর যদি খারাপ হয় তবে খারাপ।
আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আরোহী পায়ে হাঁটা ব্যক্তিকে, পায়ে হাঁটা ব্যক্তি বসে থাকা ব্যক্তিকে এবং অল্প সংখ্যক লোক অধিক সংখ্যক লোককে সালাম দিবে।” সহীহ বুখারী রহ. এর বর্ণনায় রয়েছে: “ছোট বড়কে, চলমান বসে থাকা ব্যক্তিকে এবং অল্প সংখ্যক অধিক সংখ্যককে সালাম দিবে।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের মাঝে সাক্ষাতে সালাম তথা ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ’ বলার শিষ্টাচার সম্পর্কে এ হাদীসে নির্দেশনা দিয়েছেন। ছোট বড়কে, আরোহী পায়ে হাঁটা ব্যক্তিকে, পায়ে হাঁটা ব্যক্তি বসে থাকা ব্যক্তিকে এবং অল্প সংখ্যক লোক অধিক সংখ্যক লোককে সালাম দিবে।
নাওওয়াস ইবনু সাম’আন আল আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পুণ্য ও পাপ সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম। তখন তিনি জবাব দিলেন: “পুণ্য হলো উন্নত চরিত্র। আর পাপ হলো যা তোমার অন্তরে দ্বিধা-দ্বন্ধ সৃষ্টি করে এবং লোকে তা জানুক তা তুমি অপছন্দ করো”।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেননবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পাপ ও পূন্য সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ফলে তিনি বললেন: পূণ্যের সবচেয়ে বড় কাজ হলো আল্লাহর সাথে তাকওয়া অবলম্বন করে এবং মানুষের সাথে কষ্ট সহ্য করে সদাচারণ করা, কম গোস্বা করা, চেহারা হাসি-খুশি রাখা, সুন্দর কথা বলা, সম্পর্ক অটুট রাখা, আনুগত্য করা, নরম আচরণ করা, ভালো কাজ করা এবং সুন্দর ব্যবহার ও সঙ্গ প্রদান করা। আর পাপ হলো এমন সন্দেহ যা আত্মায় উদ্বেলিত হয় এবং অন্তর তার জন্য পরিষ্কার না হয়ে দ্বিধাগ্রস্ত হয় এবং এটির কারণে হৃদয়ে সন্দেহ এবং তা পাপ হওয়ার ভয় জাগ্রত হয়, আর তা উল্লেখযোগ্য, সম্মানিত ও ভদ্র মানুষের নিকট খারাপ হওয়ার কারণে প্রকাশ করার ইচ্ছে হয় না, কারণ নফস স্বাভাবিকভাবে চায় মানুষ তার ভালোটি জানুক। কাজেই কিছু কর্ম যখন মানুষের জেনে যাওয়া পছন্দ করবে না তখন তাই পাপ হবে এবং সেখানে কোনো কল্যাণ নেই।
আনাস বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে মারফু হিসেবে বর্ণিত, ‘‘আল্লাহ তা‘আলা স্বীয় বান্দার তওবা করার জন্য ঐ ব্যক্তি অপেক্ষা বেশী আনন্দিত হন, যে তার উট জঙ্গলে হারিয়ে ফেলার পর পুনরায় ফিরে পায়।’’ অপর বর্ণনায় এসেছে, ‘‘নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দার তওবায় যখন সে তওবা করে তোমাদের সেই ব্যক্তির চেয়ে বেশী খুশী হন, যে তার বাহনের উপর চড়ে কোনো মরুভূমি বা জনহীন প্রান্তর অতিক্রমকালে বাহনটি তার নিকট থেকে পালিয়ে যায়। আর খাদ্য ও পানীয় সব ওর পিঠের উপর থাকে। অতঃপর বহু খোঁজাখুঁজির পর নিরাশ হয়ে সে একটি গাছের ছায়ায় ঘুমিয়ে পড়ে। ইতোমধ্যে বাহনটি হঠাৎ তার সম্মুখে দাঁড়িয়ে যায়। সে তার লাগাম ধরে খুশীর চোটে বলে ওঠে, ‘হে আল্লাহ! তুমি আমার দাস, আর আমি তোমার প্রভু!’ সীমাহীন খুশীর কারণে সে ভুল করে ফেলে।’’
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সংবাদ দিচ্ছেন যে, অন্তরের ইখলাস নিয়ে বান্দা যখন আল্লাহর নির্দেশ বাস্তবায়ন ও তার ইবাদতের দিকে ফিরে আসে তখন তোমাদের সেই ব্যক্তি থেকেও বেশী খুশি হন, যে ধু ধু ময়দানে ছিল। তার পাশে কেউ ছিল না, না পানি, না খাবার, না মানুষ। তার উটটিও হারিয়ে গেছে। ফলে সে তাকে তালাশ করতে লাগল; কিন্তু পেল না। অতঃপর সে একটি গাছের নিচে গিয়ে মৃত্যুর অপেক্ষায় ঘুমিয়ে পড়ল! সে উট থেকে এবং তার জীবন থেকেও নিরাশ হয়ে গিয়েছিল। কারণ তার খাবার ও পানীয় উটের উপর ছিল। আর উট গেছে হারিয়ে। ইত্যবসরে তার কাছেই তার উটকে দেখতে পেল যে, তার রশি ওই গাছের সাথেই বাঁধা। আর সে গাছের নিচেই শুয়ে আছে। এই খুশিকে কিসের দ্বারা পরিমাপ করা সম্ভব? যে এই পরিস্থিতির শিকার সে ব্যতীত অন্য কেউ এই খুশিকে পরিমাপ করতে পারবে না।কারণ এটা মহা খুশি। মৃত্যুর প্রহর গুণে জীবন লাভ করার খুশি। এই জন্যই সে রশি ধরে বলল, “হে আল্লাহ আপনি আমার বান্দা আর আমি আপনার রব!” সে মূলত আল্লাহর প্রশংসা করতে চেয়েছিল যে, হে আল্লাহ আপনি আমার রব এবং আমি আপনার বান্দা। কিন্তু অতি খুশিতে সে ভুল করেছে।