





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
জাবির রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তার মৃত্যুর তিন দিন পূর্বে বলতে শুনেছি, “তোমাদের কেউ আল্লাহর সাথে সুন্দর ধারনা করা ছাড়া মৃত্যু বরণ করবে না”।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেননবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিমকে মৃত্যুর সময় আল্লাহ তাকে রহম করবেন ও ক্ষমা করবেন আশার এই দিকটি প্রধান্য দিয়ে আল্লাহর প্রতি সুন্দর ধারনা করা ছাড়া না মরতে উৎসাহ দিয়েছেন, কারণ ভয় উদ্দেশ্য হয় ভালো আমল করার জন্য, আর সেই হালতে আমল নেই, সেখানে উদ্দেশ্য হল অধিক আশা।
ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “মিরাজের রাতের সফরে ইবরাহীম ‘আলাইহিস সালামের সঙ্গে আমার সাক্ষাত হয়। তখন তিনি বললেন, হে মুহাম্মদ! আপনার উম্মতকে আমার পক্ষ থেকে সালাম জানাবেন এবং তাদের জানিয়ে দিবেন যে জান্নাতের মাটি উত্তম আর এর পানি সুমিষ্ট। তবে তা ফাঁকা ময়দান। এর বৃক্ষ রোপন হলো سُبْحَانَ اللهِ وَالحَمْدُ لِلَّهِ وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ “সুবহানাল্লাহ ওয়ালহামদু লিল্লাহ, ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার”।
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেন যে, তিনি ইব্রাহীম খলিল আলাইহিস সালামের সাথে ইসরা ও মি'রাজের রাতে সাক্ষাৎ করেছিলেন এবং তিনি তাকে বলেছিলেন, হে মুহাম্মদ, তোমার উম্মতকে আমার সালাম জানাও এবং তাদের জানিয়ে দিন যে জান্নাতের মাটি উত্তম, পানি মিষ্টি এবং কোন লবণাক্ততা নেই। জান্নাতটি প্রশস্ত, সমতল এবং বৃক্ষবিহীন আর তার বৃক্ষরোপণ হল উত্তম-পবিত্র বাক্যসমূহ; তা হলো বাকিয়াতুস সালিহাত: سُبْحَانَ اللهِ، وَالحَمْدُ لِلَّهِ، وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ [আল্লাহ্র পবিত্রতা, আল্লাহর প্রশংসা, আল্লাহ্ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নেই এবং আল্লাহ্ মহান] যখনই একজন মুসলিম এটা বলে এবং বার বার বলে, তার জন্য জান্নাতে একটি বীজ বপন করা হয়।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, “সুসংবাদ ছাড়া নবুওয়াতের কিছু বাকি নেই।” লোকেরা প্রশ্ন করল, ‘সুসংবাদ কী?’ তিনি বললেন, “ভালো স্বপ্ন।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুতে অহীর ধারা বন্ধ হয়ে গেছে। ভবিষ্যতে কী হবে তা জানার জন্যে ভালো স্বপ্ন ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যদি আমার নিকট উহুদ পাহাড় সমান সোনা থাকত, তাহলে আমি এতে আনন্দিত হতাম যে, ঋণ পরিশোধের পরিমাণ মত বাকী রেখে অবশিষ্ট সবটাই তিন দিন অতিবাহিত না হতেই আল্লাহর পথে খরচ করে ফেলি।”
মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম), তবে শব্দ সহীহ বুখারীর।আমি যদি উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণের মালিক হতাম, সবই আমি আল্লাহর রাস্তায় খরচ করে দিতাম। পাওনা পরিশোধ করা ও আমার ওপরস্থ ঋণ আদায় করা পরিমাণ সম্পদ ছাড়া তার কিছুই অবশিষ্ট রাখতাম না।”
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, “এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমার আত্মীয়-স্বজন আছেন। আমি তাদের সাথে সদাচরণ করি; কিন্তু তারা আমাকে বিচ্ছিন্ন করে রাখে। আমি তাদের উপকার করে থাকি; কিন্তু তারা আমার অপকার করে। আমি তাদের সহনশীলতা প্রদর্শন করে থাকি আর তারা আমার সঙ্গে মূৰ্খসুলভ আচরণ করে। তখন তিনি বললেন, “তুমি যা বললে, তাহলে যদি প্রকৃত অবস্থা তাই হয় তুমি যেন তাদের উপর জলন্ত অঙ্গার নিক্ষেপ করছ। আর সর্বদা তোমার সঙ্গে আল্লাহর তরফ থেকে তাদের বিপক্ষে একজন সাহায্যকারী (ফেরেশতা) থাকবে, যতক্ষণ তুমি এ অবস্থায় বহাল থাকবে”।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনজনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট অভিযোগ করল যে, তার ঘনিষ্ট ও নিকট আত্মীয় রয়েছে; সে তাদের সাথে সুন্দর আচরণ করে, কিন্তু তারা তার সাথে তার বিপরীত করেন; সে তাদের সাথে সম্পর্ক অটুট রাখে এবং তাদের নিকট গমন করেন, কিন্তু তারা তার সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করেন, সে তাদের সাথে নেকি ও ওয়াদা পূরণ করে ভালো আচরণ করেন, কিন্তু তারা তার প্রতি জুলম ও কঠোরতা করেন, তিনি ধৈর্য ধরেন ও ক্ষমা করেন, কিন্তু তারা কথা ও কর্মের দ্বারা তাদের সাথে মূর্খতার আচরণ করেন, উল্লিখিত বিষয়গুলোর সাথেও কী তাদের সাথে সম্পর্ক অনবরত রাখবে? নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তুমি যেমন উল্লেখ করেছ যদি তেমন হয়, তাহলে তুমি তাদের অপমান করছ এবং তাদেরকে তাদের নিজের নফসের ব্যাপারে খাঁটো করছ। আর সর্বদা আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমার সাথে তাদের বিপক্ষে একজন সাহায্যকরী রয়েছেন এবং তোমার থেকে তাদের কষ্ট দূর করছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি তাদের প্রতি ইহসান করবে এবং তারা তোমার প্রতি দূর্ব্যবহার করবে।
মুস্তাওরিদ ইবন শাদ্দাদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত, “আখেরাতের মোকাবেলায় দুনিয়ার দৃষ্টান্ত ঐরূপ, যেমন তোমাদের কেউ সমুদ্রে আঙ্গুল ডুবায় অতঃপর দেখে তা কতটুকু পানি নিয়ে ফিরে।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।হাদীসটির অর্থ: যদি তুমি আখিরাতের তুলনায় দুনিয়ার বাস্তবতা জানতে চাও, তবে তোমার একটি আঙ্গুল সমুদ্রে রাখ তারপর উঠাও। তারপর দেখ কতটুকু পানি নিয়ে তোমার আঙ্গুল ফিরে আসে?! সমূদ্রের তুলনায় কিছুই নিয়ে ফিরে না। আর এটি হলো আখিরাতের তুলনায় দুনিয়ার হাকীকত। বস্তুত দুনিয়ার সামান্য জীবন ও ক্ষণস্থায়ী স্বাদের সাথে আখিরাতের দীর্ঘ জীবন, স্থায়ী স্বাদ ও নি‘আমতের তুলনা অথৈই সমুদ্র থেকে আঙ্গুলে লেগে আসা সামান্য পানির মতো। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, “আখিরাতের জীবনের তুলনায় দুনিয়ার জীবনে ভোগ সামগ্রী একেবারেই নগণ্য।” [সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ৩৮] দুনিয়ার যেসব নি‘আমত ও ভোগসামগ্রী মাখলুককে দেওয়া হয়েছে তা সে সামান্য সময় ভোগ করে, তাও ত্রুটি ও বিষাদ মিশ্রিতভাবে। লৌকিকতা ও অহংকারবশতঃ মানুষ ক্ষণিকের জন্যে তা দিয়ে সজ্জিত হয়, তারপর তা খুব দ্রুত শেষ হয়ে যায় এবং পশ্চাতে রেখে যায় আফসোস ও হতাশা। আল্লাহ বলেন, “আর তোমাদেরকে যা কিছু দেওয়া হয়েছে তা দুনিয়ার জীবনের ভোগ ও সৌন্দর্য মাত্র। আর আল্লাহর কাছে যা আছে তাই উত্তম ও স্থায়ী। তোমরা কি বুঝবে না?” [সূরা আল-কাসাস, আয়াত: ৬০] সুতরাং আল্লাহর নিকট যেসব স্থায়ী নি‘আমত, সুখময় জীবন, প্রাসাদ ও আনন্দ রয়েছে তা গুণে ও সংখ্যায় অধিক উত্তম ও স্থায়ী, আর তা সদা-সর্বদা থাকবে।
আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কোনো কাওম যখন কোনো মজলিস থেকে আল্লাহর যিকির করা ছাড়া ওঠে, তখন তারা যেন গাধার মর দেহের মতো হয়ে উঠল। আর এটি তাদের জন্য পরিতাপের কারণ হবে”।
আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেননবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিচ্ছেন যে, কোন কওম কোন সভাতে বসে তারপর যখন তা ত্যাগ করল এবং সেখানে আল্লাহর যিকির করল না, তারা অবশ্যই মৃত গাধার দেহের মত দুর্গন্ধ এবং নাপাক বস্তুর উপর জড়ো হওয়া একটি সভা থেকে উঠে দাঁড়াল; কারণ তারা আল্লাহর যিকির থেকে গাফিল ছিল। কিয়ামতের দিন এটি তাদের উপর আফসোস, ক্ষতির কারণ এবং অবশ্যই লজ্জার উপকরণ হবে।
আবূ যার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একদা নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মদীনার কালো পাথুরে যমীনে হাঁটছিলাম। উহুদ পাহাড় আমাদের সামনে পড়ল। তিনি বললেন, “হে আবূ যার! এতে আমি খুশী নই যে, আমার নিকট এই উহুদ পাহাড় সমান স্বর্ণ থাকবে, এ অবস্থায় তিনদিন অতিবাহিত হবে অথচ তার মধ্য থেকে একটি দীনারও আমার কাছে অবশিষ্ট থাকবে। অবশ্য তা থাকবে যা আমি ঋণ আদায়ের জন্য বাকী রাখব অথবা আল্লাহর বান্দাদের মাঝে এইভাবে এইভাবে এইভাবে নির্দেশ দেওয়ার জন্যে রাখব, অর্থাৎ ডানে, বামে ও পিছনে খরচ করব।” অতঃপর এগিয়ে চললেন, এবং বললেন, “প্রাচুর্যের অধিকারীরাই কিয়ামতের দিন নিঃস্ব হবে। অবশ্য সে নয় যে সম্পদকে এইভাবে এইভাবে এইভাবে ডানে, বামে ও পিছনে ব্যয় করে। কিন্তু এ রকম লোকের সংখ্যা নেহাতই কম।” তারপর তিনি আমাকে বললেন, “তুমি এখানে বসে থাক, যতক্ষণ না আমি তোমার কাছে (ফিরে) এসেছি।” এরপর তিনি রাতের অন্ধকারে চলতে লাগলেন, এমনকি শেষ পর্যন্ত তিনি অদৃশ্য হয়ে গেলেন। হঠাৎ আমি জোরে এক শব্দ শুনলাম। আমি ভয় পেলাম যে, কোনো শত্রু হয়তো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে পড়েছে। সুতরাং আমি তাঁর নিকট যাওয়ার ইচ্ছা করলাম, কিন্তু তাঁর কথা আমার স্মরণ হলো, “তুমি এখানে বসে থাক, যতক্ষণ না আমি তোমার কাছে (ফিরে) এসেছি।” সুতরাং আমি তাঁর ফিরে না আসা পর্যন্ত বসে থাকলাম। (তিনি ফিরে এলে) আমি বললাম, ‘আমি জোরে এক শব্দ শুনলাম, যাতে আমি ভয় পেলাম।’ সুতরাং যা শুনলাম আমি তা তাঁর কাছে উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন, “তুমি শব্দ শুনেছিলে?” আমি বললাম, ‘জী হ্যাঁ!’ তিনি বললেন, “তিনি জিবরীল ছিলেন। তিনি আমার কাছে এসে বললেন, ‘আপনার উম্মতের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক না করে মরবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ আমি বললাম, ‘যদিও সে ব্যভিচার করে ও চুরি করে তবুও কি?’ তিনি বললেন, ‘যদিও সে ব্যভিচার করে ও চুরি করে।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।হাদীসটির অর্থ আবূ যার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সংবাদ দেন যে, তিনি একদা নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মদীনার কালো পাথুরে যমীনে হাঁটছিলাম। তখন প্রসিদ্ধ উহুদ পাহাড় তাদের সামনে পড়ল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “হে আবূ যার! এতে আমি খুশী নই যে, আমার নিকট এই উহুদ পাহাড় সমান স্বর্ণ থাকবে, এ অবস্থায় তিনদিন অতিবাহিত হবে অথচ তার মধ্য থেকে একটি দীনারও আমার কাছে অবশিষ্ট থাকবে।” অর্থাৎ তার থেকে কিছু আমার কাছে বাকী থাকা অবস্থায় আমার ওপর তিনদিন অতিবাহিত হওয়াতে আমি খুশি নই। তবে আমি ঋণ আদায়ের জন্য কিছু বাকী রাখব। অর্থাৎ যদি আমি উহুদ পাহাড় পরিমাণ নীরেট স্বর্ণের মালিক হই তার সবই আমি আল্লাহর রাস্তায় খরচ করে দিব। তার থেকে একটু জিনিসও অবশিষ্ট রাখবো না। তবে কিছু জিনিস যা আমার ওপর ওয়াজিব এমন ঋণ ও বিভিন্ন হক আদায়ে প্রয়োজন পড়ে তা ছাড়া। আর এর ওপর যা অতিরিক্ত থাকবে তা আমার নিকট থাকা অবস্থায় তিনদিন অতিবাহিত হওয়াকে আমি পছন্দ করি না। এটি প্রমাণ করে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুনিয়াতে সবচেয়ে বেশি পরহেযগার ছিলেন। কারণ, ঋণ পরিশোধ করার উদ্দেশ্য ছাড়া আর কোন উদ্দেশ্যে তিনি সম্পদ একত্র করা ইচ্ছা করেন না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুনিয়ার থেকে এ অবস্থায় বিদায় নেন যে, তার পরিবারের প্রয়োজনে তার বর্মটি একজন ইয়াহূদীর নিকট বন্দক রাখেন। যদি আল্লাহর নিকট দুনিয়া প্রিয় হতো তাহলে তিনি তার নবীকে তা থেকে বঞ্চিত করতেন না। সুতরাং দুনিয়া অভিসপ্ত তাতে যা কিছু আছে সবই অভিশপ্ত, তবে আল্লাহর যিকির এবং তার আনুসাঙ্গিক বিষয়সমূহ, আলেম এবং তালেবে ইলম ব্যতীত। আর যা আল্লাহর আনুগত্যে হবে। অতঃপর তিনি বলেন, কিয়ামতের দিন তারাই কম আমলের অধিকারী যারা দুনিয়াতে অধিক সম্পদের অধিকারী। কারণ, দুনিয়াতে যার সম্পদ বেশি তাদের অধিকাংশই আল্লাহর আনুগত্য থেকে বিমুখ, অহংকারী বা হতাশ। কারণ, দুনিয়া তাকে অমনোযোগী বানিয়ে দেয়। তখন সে দুনিয়ার সম্পদ অধিক উপার্জনকারী হয়, আর আখিরাতের বিষয়ে কম আমলের অধিকারী হয়। আর তার বাণী: অথবা আল্লাহর বান্দাদের মাঝে এইভাবে এইভাবে এইভাবে ডানে, বামে ও পিছনে খরচ করব।” অর্থাৎ সম্পদের বিষয়ে এবং তা আল্লাহর রাস্তায় খরচা করা বিষয়ে নির্দেশ দেব। তারপর তিনি বলেন, (কতইনা কম তাদের সংখ্যা) অর্থাৎ যে ব্যক্তি তার সম্পদকে আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করে তাদের সংখ্যা খুবই কম। তারপর তিনি বলেন, ‘আপনার উম্মতে মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক না করে মরবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। যদিও সে ব্যভিচার ও চুরি করে’ এর অর্থ এ নয় যে, ব্যভিচার ও চুরি করা স্বাভাবিক গুনাহ। বরং তা কঠিন অপরাধ। এ কারণেই আবূ যার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু একে বড় মনে করছে এবং তিনি বলেন, যদিও সে ব্যভিচার করে ও চুরি করে তবুও কি?’ তিনি বললেন, ‘যদিও সে ব্যভিচার করে ও চুরি করে।” এর কারণ হলো যে ব্যক্তি ঈমানের ওপর মারা যাবে অথচ তার ওপর কবীরাহ গুনাহের দায় রয়েছে, তার বিষয়ে আল্লাহ বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ তার সাথে শির্ক করাকে ক্ষমা করবেন না এ ছাড়া অন্যান্য গুনাহ যাকে ইচ্ছা করেন ক্ষমা করবেন। [সূরা নিসা, আয়াত: ৪৮] আল্লাহ কখনো তাকে শাস্তি ছাড়া ক্ষমা করে দেবেন। আর কখনো তাকে শাস্তি দিবেন। কিন্তু যদি শাস্তিও দেন তার শেষ পরিণতি জান্নাত। কারণ যে কোন ব্যক্তি যদি সে শির্ক না করে এবং কাফেরে পরিণত করে এমন কোনো কর্ম না করে তার শেষ পরিণতি অবশ্যই জান্নাত। আর যে ব্যক্তি কুফরী করে সে চির জাহান্নামী হবে এবং তার সমস্ত আমল নষ্ট। কারণ, মুনাফিকরা রাসূলুল্লাহকে বলত, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি নিশ্চয় আপনি আল্লাহর রাসূল। সূরা আল-মুনাফিকুন, আয়াত: ১] তারা আল্লাহর স্মরণ করত। তবে তারা খুব কমই আল্লাহর স্মরণ করত। তারা সালাত পড়ত। কিন্তু তারা যখন সালাতে দাড়াতো আলসতার সাথে দাড়াতো। [সূরা নিসা, আয়াত: ১৪০] এতদসত্ত্বেও তারা জাহান্নামের নিম্ন স্তরে। প্রমাণিত হয়, দুনিয়াতে পরহেযগারী কতই জরুরী। একজন মানুষের আত্মা দুনিয়ার সাথে সম্পৃক্ত থাকা উচিৎ নয়। দুনিয়া তার হাতে থাকবে অন্তরে নয়। যাতে সে অন্তর দিয়ে আল্লাহর দিকে অগ্রসর হয়। কারণ, এটিই হলো পরিপূর্ণ পরহেযগারী। এর অর্থ এ নয় যে, তুমি দুনিয়ার কোনো কিছু গ্রহণ করবে না। বরং তুমি দুনিয়ার যা হালাল তার সবকিছুই গ্রহণ করবে। দুনিয়ার কোনো অংশই তুমি ভুলবে না। কিন্তু তা তুমি তোমার হাতে রাখবে তা তুমি তোমার অন্তরে প্রবেশ করাবে না। এটিই হলো গুরুত্বপূর্ণ।
আবূ মাস‘ঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে তার প্রতিপালকের যিকর করে, আর যে যিকর করে না, তাদের উপমা হলো জীবিত ও মৃত ব্যক্তি”। আর মুসলিমের শব্দ হলো: “যে ঘরে আল্লাহকে স্মরণ করা হয় আর যে ঘরে আল্লাহকে স্মরণ করা হয় না এরূপ দুটি ঘরের তুলনা করা যায় জীবিত ও মৃতের সঙ্গে”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে ব্যক্তি মহান আল্লাহকে স্মরণ করে এবং যে ব্যক্তি তাঁকে স্মরণ করে না তাদের মধ্যে পার্থক্য বয়ান করেছেন। এটি হল উপকারিতা ও সুন্দর চেহারার দিক থেকে জীবিত ও মৃত ব্যক্তির মধ্যে পার্থক্যের মতো। যে ব্যক্তি তার রবকে স্মরণ করে সে ঐ জীবিত ব্যক্তির মতো যে বাহ্যিকভাবে জীবনের আলোয় সুশোভিত এবং জ্ঞানের আলো দ্বারা অভ্যন্তরীণভাবে সুশোভিত এবং তার ভেতর রয়েছে উপকার; যে ব্যক্তি আল্লাহকে স্মরণ করে না সে মৃত ব্যক্তির মতো যে বাহ্যিকভাবে নিষ্ক্রিয় এবং অভ্যন্তরীণভাবে বাতিল এবং তার মধ্যে কোন উপকার নেই। অনুরূপভাবে ঘরকে জীবিত বলা হয় যদি তাতে বসবাসকারীগণ আল্লাহর যিকির করেন, অন্যথায় সেটি মৃত ঘর যেহেতু তাতে বসবাসকারীগণ আল্লাহর যিকির করে না। যদিও ঘরের বিশেষণে জীবিত ও মৃত উল্লেখ করা হয়েছে, তবে তার দ্বারা উদ্দেশ্য হল ঘরে অবস্থানকারী।