





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “মানুষের প্রতিটি অস্থির সন্ধিস্থানে (হাড়ের জোড়ায়) একটি সদকা (দান) আবশ্যক। প্রতিদিন সকালে যখন সূর্য ওঠে, তখন তুমি যদি দুই ব্যক্তির মধ্যে ন্যায়বিচার করো — সেটিও সদকা। কোনো ব্যক্তিকে তার বাহনে উঠতে সাহায্য করো, কিংবা তার মালপত্র বাহনে তুলে দাও — সেটাও সদকা। একটি ভালো কথা বলা সদকা। সালাতের উদ্দেশ্যে প্রতিটি কদম ফেলা সদকা। আর রাস্তা থেকে কোনো কষ্টদায়ক জিনিস সরিয়ে দেওয়া — সেটাও সদকা”।
ইমাম বুখারী ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেননবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন যে, শরী‘আতের আদেশপ্রাপ্ত প্রতিটি মুসলিম ব্যক্তির উপর প্রতিদিন তার হাড়ের গিরাসমূহকে সুস্থ রাখার কারণে সমান সংখ্যা পরিমাণ আল্লাহর তা‘আলার কাছে শুকরিয়া আদায়ের লক্ষ্যে সদকা করা আবশ্যক। আর এ কারণেও যে তিনি তার হাড়গুলোকে বিভিন্ন গিরা গিরাতে বিভক্ত করেছেন, যাতে করে ব্যক্তি সেগুলোকে সংকোচন ও প্রসারণ করতে পারে। আর এসব সদকা শুধুমাত্র অর্থ দান করার উপরে নির্ভর করে না, বরং এগুলো আদায় হতে পারে সকল ধরণের নেক আমলের মাধ্যমে, যার মধ্যে রয়েছে: দুজন ব্যক্তির মধ্যে তোমার ন্যায় সঙ্গত ফয়সালা বা তাদের ঝগড়া মিটিয়ে দেওয়া একটি সদকা। তুমি যখন কোন অপারগ ব্যক্তিকে তার পশু বা বাহনে সওয়ারের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেব, তুমি তাকে বাহনে উঠিয়ে দেবে অথবা তার মালগুলো তুলে দেবে, তাহলে তাও একটি সদকা। যিকর, দু‘আ, সালাম ও অনুরূপ উত্তম কথাগুলোও সদকা। সালাতে যাওয়ার পথে প্রতিটি পদক্ষেপ সদকা। যা কষ্ট দেয় এমন বস্তু পথ থেকে দূর করা একটি সদকা।
’উবাদাহ ইবনু সামিত রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট কষ্টে ও আরামে; স্বাচ্ছন্দ্যে ও অপছন্দে এবং আমাদের উপর অন্যকে অগ্রাধিকার দিলেও (আমীরের) কথা শোনা ও মানার উপর বাই’আত করেছি। আরও বাই’আত করেছি যে, আমরা ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে ক্ষমতা নিয়ে টানাটানি করব না। এবং যেখানেই থাকি না কেন হক্ব বলব এবং আল্লাহর ক্ষেত্রে কোনো নিন্দুকের নিন্দার ভয় করব না।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণের কাছ থেকে সহজে ও কঠিনে; সচ্ছলতা ও অভাবে ক্ষমতাসীন ও শাসকদের আনুগত্য করার শপথ ও অঙ্গীকার নিয়েছেন; তাদের আদেশগুলো মন পছন্দ করুক বা অপছন্দ করুক, এমনকি যদিও শাসকগণ সাধারণ জনগণের সম্পদ অথবা পদ-পদবী অথবা অন্য কিছুর ব্যাপারে প্রজাদের উপর নিজেদেরকে প্রধান্য দেয়, তবু তাদের কথা শোনা ও সুন্দরভাবে তাদের আনুগত্য করা ওয়াজিব।আরো অঙ্গীকার নিয়েছেন যে, তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করবে না। কারণ, তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার ক্ষতি ও অনিষ্ট তাদের অন্যায় থেকে সৃষ্ট ক্ষতি ও অনিষ্ট থেকে অনেক বড় ও গুরুতর। তাদের থেকে আরো প্রতিশ্রুতি নিয়েছেন যে, তারা যেখানে থাকবে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর জন্যে হক্ব বলবে এবং কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে পরোয়া করবে না।
মু'মিন জননী উম্মে সালামাহ রদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “অচিরেই এমন কতক শাসকের উদ্ভব ঘটবে, তোমরা তাদের (কিছু) কাজ পছন্দ করবে এবং (কিছু) কাজ অপছন্দ করবে। যেজন তাদের ভাল কাজ পছন্দ করল সে মুক্তি পেল এবং যেজন তাদের কে (অন্তর থেকে) অপছন্দ করলো সে নিরাপদ হলো। কিন্তু যেজন তাদের (মন্দ কাজ) পছন্দ করলো এবং অনুরসরণ করলো (সে ক্ষতিগ্রস্ত হলো)।” সাহাবীগণ জানতে চাইল: আমরা কি তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করব না? তিনি বললেন: “না, যতক্ষণ তারা সালাত আদায়কারী থাকবে।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেননবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের উপর একদল শাসক শাসন করবেন। আমরা তাদের (কিছু) ভালো কাজ পছন্দ করবো; কেননা সেগুলো শরী‘আহ অনুযায়ী তারা করে থাকবে এবং তাদের (কিছু) মন্দ কাজ অপছন্দ করবো; কেননা সেগুলো শরী‘আহ পরিপন্থী হবে। সুতরাং যে ব্যক্তি তার অন্তর থেকে তাদের মন্দকাজকে অপছন্দ ও ঘৃণা করলো, যেহেতু সে তাদের মন্দ কাজের প্রতিবাদ করতে সক্ষম নয়; তাহলে সে গুনাহ ও নিফাকী থেকে মুক্ত থাকলো। আর যে ব্যক্তি হাত ও জবানের দ্বারা তাদের মন্দ কাজের প্রতিবাদ করতে সক্ষম এবং সে তার প্রতিবাদ করলো, সেও গুনাহ ও তাতে অংশগ্রহণ করা থেকে নিরাপদ রইল। কিন্তু যে ব্যক্তি তাদের মন্দ কাজ পছন্দ করলো এবং তা অনুরসরণ করলো, তবে সে তেমনি ধ্বংস হবে যেমনিভাবে মন্দকাজ সম্পন্নকারীরা ধ্বংস হয়েছে । সাহাবীগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে জানতে চাইলেন: আমাদের যেসব শাসকগণ উপরোক্ত দোষে দোষী, আমরা কি তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করব না? তিনি তাদেরকে লড়াই করতে নিষেধ করলেন। তিনি বললেন: “না, যতক্ষণ তারা সালাত আদায়কারী থাকবে।”
আবূ মূসা আল-আশ‘আরী রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “যখন বান্দা অসুস্থ হয় কিংবা সফরে থাকে, তখন তার জন্য তা-ই লেখা হয়, যা সে স্বগৃহে অবস্থানকালে সুস্থ অবস্থায় আমল করত।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে আল্লাহ তা‘আলার অনুগ্রহ ও রহমত সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন। একজন মুসলিমের সাধারণ নিয়ম হলো সে সুস্থ ও মুকীম অবস্থায় নেক আমল করবে। অতপর যখন সে ওযরগ্রস্ত হবে, অসুস্থ হবে তখন তার পক্ষে আগের মতো আমল করা সম্ভব হয় না অথবা সফরে ব্যস্ত থাকলে বা অন্য কোন ওযর থাকলেও তার পক্ষে পূর্বের মতো নেক আমল করা সম্ভব হয় না। তখন আল্লাহ তার জন্য পরিপূর্ণ সাওয়াব লিখে দেন, যেমনিভাবে তাকে সুস্থ ও মুকীম অবস্থায় পরিপূর্ণ সাওয়াব দিতেন।
তামীম আদ-দারী রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “নসীহত প্রতিষ্ঠাই দীন।” আমরা জিজ্ঞাসা করলাম, কার জন্য? তিনি বললেন: “আল্লাহর, তাঁর কিতাবের, তাঁর রাসূলের, মুসলিম শাসক এবং মুসলিম সাধারণ জনগণের।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেননবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, দীন হচ্ছে ইখলাস ও সততার উপর প্রতিষ্ঠিত; যাতে আল্লাহ যেভাবে যা কিছু ফরয করেছেন তা কমতি বা প্রতারণা না করে সেভাবেই পরিপূর্ণতার সাথে আদায় করা যায়। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হল: কার জন্য নসীহত প্রতিষ্ঠা ? তিনি বললেন: প্রথমত: আল্লাহর জন্য নসীহত: আর তা হলো একমাত্র তাঁরই জন্য আমল করা, তাঁর সাথে কাউকে শরীক না করা, তাঁর রুবুবিয়্যাত, উলূহিয়্যাত এবং নাম ও সিফাতসমূহের উপরে ঈমান আনা, তাঁর আদেশকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া এবং তাঁর প্রতি ঈমান আনার দাওয়াত দেওয়া। দ্বিতীয়ত: তাঁর কিতাব তথা আল-কুরআনের নসীহত: আর তা হলো: আমরা বিশ্বাস স্থাপন করব যে, কুরআন আল্লাহর কালাম এবং তাঁর সর্বশেষ কিতাব। এটি পূর্ববর্তী সকল শরী‘য়াতকে রহিতকারী। আমরা আল-কুরআনকে সম্মান করব, যথাযথ হক আদায়সহ তিলাওয়াত করব, এর মুহকাম (স্পষ্ট বিধিবিধান সম্বলিত আয়াত) অনুযায়ী আমল করব, এর মুতাশাবিহাতসমূহের (অবোধগম্য) ব্যাপারে সোপর্দ করব, এর বিকৃত ব্যাখ্যাকারীদের অপব্যাখ্যাকে প্রতিহত করব, এর উপদেশসমূহ দ্বারা উপদেশ গ্রহণ করব, এর ইলম সম্প্রচার করব এবং এর প্রতি মানুষকে দাওয়াত দিব। তৃতীয়ত: তাঁর রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য নসীহত: তা হলো, আমরা বিশ্বাস করব যে, তিনি সর্বশেষ রাসূল, তিনি যা নিয়ে আগমন করেছেন সেগুলোকে অন্তর থেকে স্বীকৃতি দেব, তাঁর আদেশ পালন করব ও নিষেধসমূহ থেকে বিরত থাকব। তিনি যা কিছু নিয়ে এসেছেন একমাত্র সে অনুযায়ীই আমরা আল্লাহর ইবাদত করব, তাঁর অধিকারকে বড় মনে করে মর্যাদা দিব, তাঁকে সম্মান করব, তাঁর দাওয়াত সম্প্রসারণ করব, তাঁর শরী‘য়তের প্রচার-প্রসার করব এবং তাঁর থেকে সকল প্রকারের অপবাদ দূর করব। চতুর্থত: মুসলিম শাসকদের জন্য নসীহত: হকের ব্যাপারে তাঁদেরকে সাহায্য সহযোগিতা করব, ক্ষমতা নিয়ে তাদের সাথে বিবাদে লিপ্ত হব না, আল্লাহর আনুগত্যের ব্যাপারে তার কথা শুনব এবং মান্য করব। পঞ্চমত: মুসলিম সাধারণ জনগণের জন্য নসীহত: আর তা হলো: তাদের প্রতি সুন্দর আচরণ করা, তাদেরকে দীনের প্রতি দাওয়াত দেওয়া, তাদের থেকে কষ্টকর জিনিস অপসরণ করা, তাদেরকে ভালোবাসা, সৎকাজ ও তাকওয়ার ব্যাপারে তাদেরকে সহযোগিতা করা।
‘আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আমার এই ঘরে বলতে শুনেছি: “হে আল্লাহ ! যে আমার উম্মাতের কর্তৃত্ব লাভকারী যদি তাদের প্রতি রূঢ় আচরণ করে তুমি তার প্রতি রূঢ় হও, আর আমার উম্মাতের কর্তৃত্ব লাভকারী যদি তাদের প্রতি নম্র আচরণ করে,তুমি তার প্রতি নম্র ও সদয় হও।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমুসলিমদের ছোট বড় যে কোন ধরনের দায়িত্বভার যারা গ্রহণ করেন, চাই তা রাষ্ট্রীয় সাধারণ দায়িত্ব হোক বা আংশিক দায়িত্ব, তাদের জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের দু‘আ এ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। যারা তাদের প্রতি রূঢ় ও কষ্টদায়ক আচরণ করে এবং তাদেরক প্রতি কোমল আচরণ করে না, আল্লাহ তা‘আলা তাদের প্রতি সমজাতীয় আচরণ কঠোরতা আরোপ করেন। পক্ষান্তরে যারা তাদের প্রতি কোমল আচরণ করবে ও তাদের কাজগুলো সহজ করবে আল্লাহ তা‘আলাও তাদের প্রতি কোমল হবেন এবং তাদের কাজগুলো সহজ করবেন।
মা’কিল ইবনু ইয়াসার আল-মুযানী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “যে বান্দাকে আল্লাহু জন সাধারণের (জনতার) দায়িত্বশীল করেছেন; অথচ সে মারা যাওয়ার সময় তাদের প্রতারণাকারী, তবে তার জন্য আল্লাহ জান্নাত হারাম করে দেন।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে সংবাদ দিয়েছেন যে, আল্লাহ তা‘আলা প্রত্যেককে মানুষের প্রতিনিধি ও দায়িত্বশীল করেছেন; হোক তা সাধারণ প্রতিনিধিত্ব যেমন: আমীর হওয়া অথবা বিশেষ প্রতিনিধিত্ব যেমন: পুরুষ তার গৃহে ও নারী তার গৃহে কর্তা। সুতরাং সে যদি তার জনসাধারণের হকে ত্রুটি করে, বা তাদের সাথে প্রতারণা করে, তাদের কল্যাণকামী না হয়ে তাদের দুনিয়াবী ও আখেরাতের হক বিনষ্ট করে, তবে সে কঠোর শাস্তির উপযুক্ত হবে।
আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি (আমীরের) আনুগত্য থেকে বের হলো এবং জামা’আত থেকে বিচ্ছিন্ন হলো তারপর মারা গেল, সে জাহিলিয়াতের মরা মরলো। আর যে ব্যক্তি লক্ষ্যহীন নেতৃত্বের পতাকাতলে যুদ্ধ করল, গোত্ৰপ্রীতির জন্য ক্রুদ্ধ হয় অথবা গোত্র প্রীতির দিকে আহবান করে অথবা গোত্রের সাহায্যার্থে যুদ্ধ করে (আল্লাহর সন্তুষ্টির কোনো ব্যাপার থাকে না) আর নিহত হয়, সেটা জাহিলি মরা। আর যে ব্যক্তি আমার উন্মাতের উপর বিদ্রোহ করে এবং ভালো মন্দ সবাইকে নির্বিচারে হত্যা করে। মু’মিনকেও রেহাই দেয় না এবং যার সাথে সে ওয়াদাবদ্ধ হয় তার ওয়াদাও রক্ষা করে না, সে আমার কেউ নয়, আমিও তার কেউ নই”।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেননবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন, যে ব্যক্তি শাসকদের আনুগত্য থেকে বের হলো এবং ইমামের বায়আতের ওপর ঐকমত্য পোষণকারী ইসলামের জামাআত পরিত্যাগ করল, তারপর জামাআত থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া ও আনুগত্য ত্যাগ করা অবস্থায় মারা গেলো, সে জাহিলিয়্যতের মতই মারা গেলো, যারা কোনো আমীরকে মানতো না এবং কোনো এক জামাআতের সাথে সম্পৃক্ত হতো না, বরং তারা বিভিন্ন দল ও গ্রুপে বিভক্ত ছিল, একে অপরের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হত। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন, যে ব্যক্তি এমন পতাকার অধীনে যুদ্ধ করলো যেখানে হক থেকে বাতিল স্পষ্ট নয়, স্রেফ জাতি অথবা গোত্রের স্বার্থে গোস্বা করে, দীন ও হককে সাহায্য করার জন্যে নয়, ভালো-মন্দ যাচাই না করে ও না জেনে কেবল গোত্রপ্রীতির স্বার্থে যুদ্ধ করে, যখন সে এই অবস্থায় মারা গেলো, তার মৃত্যুটি জাহিলিয়্যাতের মৃত্যুর মত হলো। আর যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের ওপর বিদ্রোহ করল, তার উম্মতের নেককার ও বদকার সবাইকে হত্যা করে, আর সে যা করে তার পরিণতির কোনো পরোওয়া করে না এবং মুমিনদের হত্যা করার শাস্তির ভয় করে না, কাফিরদের অথবা শাসকদের ওয়াদাকে পূর্ণ করে না, বরং তা কেবল ভঙ্গ করে, তাহলে এটা কবীরা গুনাহ। যে এরূপ করল সে এই কঠোর হুশিয়ারীর উপযুক্ত হলো।
আরফাজা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “তোমাদের যাবতীয় কর্ম এক ব্যক্তির ওপর ন্যস্ত থাকা অবস্থায় যদি কেউ এসে তোমাদের ঐক্যের লাঠি ভাঙ্গতে চায়, অথবা তোমাদের জামাতের মধ্যে ফাটল ধরাতে চায়, তাহলে তোমরা তাকে হত্যা করো”।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেননবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করছেন, মুসলিমরা যখন এক শাসকের অধীনে ও এক জামাআতে ঐক্যবদ্ধ থাকেন, তারপর কেউ যদি শাসন ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার ইচ্ছায় অথবা মুসলিমদেরকে এক জামাআত থেকে একাধিক জামাআতে বিভক্ত করার ইচ্ছে করেন, তখন তাদের ওপর তার অনিষ্টকে রোধ করা ও মুসলিমদের রক্তের সুরক্ষার স্বার্থে তাকে বাধা দেওয়া ও তার সাথে যুদ্ধ করা ওয়াজিব।