





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
ইবন মাস‘ঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “ওহে, আমি কি তোমাদের জানাবো চোগলখুরী কী? চোগলখুরী হচ্ছে মানুষের মাঝে কথা চালাচালি।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে উম্মতকে চোগলখুরী করে বেড়ানো থেকে সাবধান করেছেন। আর চোগলখুরী হলো পরস্পর ঝগড়া ও ফ্যাসাদ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে একের কথা অন্যের কাছে লাগানো। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাদীসটি জিজ্ঞাসা ও প্রশ্ন দিয়ে শুরু করেছেন, যাতে বিষয়টি তাদের মনে ভালোভাবে গেঁথে যায় এবং এ ব্যাপারে তারা খুব সতর্ক হন। তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, “চোগলখুরী কী?” অর্থাৎ মিথ্যা ও অপবাদ কী? কেউ কেউ একে যাদু বলে ব্যাখ্যা করেছেন। অতপর তিনি নিজেই এ প্রশ্নের উত্তরে বলেন, চোগলখুরী হলো, মানুষের মাঝে দ্বন্দ্ব-বিভেদ ছড়াতে কুৎসা রটনা করা। কেননা যাদুকরগণ এ ধরণের কাজ করে থাকে জমিনে ফিতনা-ফ্যাসাদ সৃষ্টি , মানুষের ক্ষতি সাধন, ভালোবাসার দু;ব্যক্তির মাঝে বিচ্ছেদ ঘটানো, নিটতাত্মীয়দের মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং হিংসা-বিদ্বেষে অন্তর ভরে রাখতে। যা মানুষের মাঝে দৃশ্যমান।
আবূ সা‘ঈদ ও আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত,“যখন তিনজন ব্যক্তি কোনো সফরে বের হবে, তখন তারা যেন তাদের একজনকে আমীর বানিয়ে নেয়।”
এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসাফিরদের নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তারা যেন তাদের থেকে একজনকে আমীর নিযুক্ত করে। যে তাদের মধ্যে উত্তম ও সঠিক সিদ্ধান্তের অধিকারী, যেন তিনি তাদের যাবতীয় কর্মের অভিভাবকত্ব করতে পারেন। কারণ, তারা যদি তাদের কাউকে আমীর না বানায় তাদের কাজকর্ম অগোছালো হয়ে যাবে।
আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক পীড়িত বেদুঈনের সাক্ষাতে গেলেন। আর নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে রোগীকেই সাক্ষাৎ করতে যেতেন, তাকে বলতেন, অর্থাৎ, কোন ক্ষতি নেই, (গোনাহ থেকে) পবিত্র হবে, ইনশাআল্লাহ।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন বেদুঈনকে তার অসুস্থতার মধ্যে দেখতে গেলেন। আর নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে রোগীকেই সাক্ষাৎ করতে যেতেন, তাকে বলতেন, অর্থাৎ, কোন ক্ষতি নেই, (গোনাহ থেকে) পবিত্র হবে, ইনশাআল্লাহ। অর্থাৎ. তোমার ওপর কোন কষ্ট ও বিপদ নেই। আশা করা যায় যে, তোমার এ রোগ তোমার গুনাহের জন্য পবিত্রকারী এবং তোমার দোষগুলো মিটিয়ে দেওয়ার কারণ হবে। এ ছাড়াও আখিরাতের তোমার মর্যাদা বৃদ্ধির কারণ হবে।
আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন, «اللهم إني أعوذ بك من البَرَصِ، والجُنُونِ، والجُذَامِ، وَسَيِّئِ الأسْقَامِ» অর্থাৎ, হে আল্লাহ! অবশ্যই আমি তোমার নিকট শ্বেতী, উম্মাদ, কুষ্ঠরোগ এবং সকল প্রকার কঠিন ব্যাধি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।হাদীসটিতে বলা হয় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দিষ্ট কয়েকটি ব্যাধি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। তবে এ সব ব্যাধি থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আশ্রয় চাওয়া প্রমাণ করে এ ব্যাধিগুলো খুব বিপদ জনক ও মারাত্মক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতক ব্যাধি থেকে বিশেষভাবে আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন। অতঃপর তিনি অন্যান্য ব্যাধির ক্ষতি থেকেও ক্ষমা ও নিরাপত্তা ব্যাপকভাবে চেয়েছেন। ফলে এ দো’আ বিশেষ ব্যাধি ও ব্যাপক ব্যাধি দুটিকেই অন্তর্ভুক্ত করে। এক অংশ বিস্তারিত এবং অপর অংশ সামগ্রিক ও ব্যাপক। আর তার বর্ণনা: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশ্রয় প্রার্থনা করেন এবং তিনি বলেন, হে আল্লাহ! অবশ্যই আমি তোমার নিকট শ্বেতী থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। আর তা হলো দেহ সাদা হওয়া। এ ধরনের ব্যাধিতে আক্রান্ত মানুষ থেকে অন্যান্য মাখলুক দূরে সরে থাকে, যার ফলে রোগী একাকী হয়ে যায় যা অনেক সময় আল্লাহর তাকদীরের ওপর তাকে অসন্তুষ্টি করে তুলে। নাঊযু বিল্লাহ। আর তিনি উন্মাদনা থেকে আশ্রয় চেয়েছেন। আর তা হলো মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি চলে যাওয়া। মানুষের জ্ঞানই হলো আল্লাহর বিধান প্রয়োগের ক্ষেত্র। এর দ্বারাই একজন মানুষ তার রবের ইবাদত করে এবং তার মাখলুক ও মহান কালামের মধ্যে চিন্তা ও গবেষণা করে। একজন মানুষের জ্ঞান না থাকা মানে তার থাকাটাই অর্থহীন। এ কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তিন ব্যক্তি থেকে কলম তুলে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন পাগল যতক্ষণ না সে জ্ঞান ফিরে পায়। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুষ্ঠরোগ থেকে আশ্রয় চেয়েছেন। এটি এমন একটি ব্যাধি যা মানুষের অঙ্গে এমনভাবে আক্রান্ত হয় যার ফলে তার দেহের মাংস জরে পড়ে। নাঊযুবিল্লাহ। এটি একটি সংক্রামক ব্যাধি। এ কারণেই একটি হাদীসে এসেছে, তুমি কুষ্ঠরোগ থেকে এমনভাবে পলায়ন কর যেমনি-ভাবে বাঘ থেকে পলায়ন কর। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল প্রকার কঠিন ব্যাধি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন। অর্থাৎ সকল প্রকার কঠিন ব্যাধি। আর তা হলো এমন সব ব্যাধি যা একজন মানুষকে হেয় প্রতিপন্ন করে, আক্রান্ত ব্যক্তি মানুষের মধ্যে ঘৃণিত হয়, যেমন প্যারালাইসিস, অন্ধত্ব ও ক্যান্সার ইত্যাদি। কারণ, এগুলো এতই মারাত্মক ব্যাধি যেগুলোর চিকিৎসায় অনেক সম্পদের প্রয়োজন হয়। আর অনেক ধৈর্য ধারণ করতে হয় যা একমাত্র আল্লাহ যাদের তাওফীক দিয়েছেন এবং যারা তাদের অন্তরকে আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত করেছেন তাদের দ্বারাই সম্ভব। এ হাদীসের মধ্যে ইসলামের মহত্ব প্রকাশ পায়, যাতে একজন মুসলিমের দেহ ও দীন উভয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
’আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত: একদা ফাতিমাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা যাঁতা ব্যবহারে তাঁর হাতে যে কষ্ট পেতেন তার অভিযোগ নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলেন। তাঁর কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট দাস আসার খবর পৌঁছে ছিল। কিন্তু তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পেলেন না। তখন তিনি তাঁর অভিযোগ ’আয়িশাহর ( রা.) কাছে বললেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে আসলে ’আয়িশাহ (রা.) তাঁকে জানালেন। ’আলী রা. বলেনঃ রাতে আমরা যখন শুয়ে পড়েছিলাম, তখন তিনি আমাদের কাছে আসলেন। আমরা উঠতে চাইলাম, কিন্তু তিনি বললেনঃ তোমরা উভয়ে নিজ স্থানে থাক। তিনি এসে আমার ও ফাতিমার মাঝখানে বসলেন। এমনকি আমি আমার পেটে তাঁর দুপায়ের শীতলতা উপলব্ধি করলাম। তারপর তিনি বললেনঃ “তোমরা যা চেয়েছ তার চেয়ে কল্যাণকর বিষয় সম্পর্কে তোমাদের কি জানাবো না? তোমরা যখন তোমাদের শয্যাস্থানে যাবে, অথবা বললেনঃ তোমরা যখন তোমাদের বিছানায় আশ্রয় নিবে, তখন তেত্রিশবার ’সুবহানাল্লাহ’,তেত্রিশবার ’আল্ হাম্দুলিল্লাহ’ এবং চৌত্রিশবার ’আল্লাহু আকবার’ বলবে। এটা খাদিম অপেক্ষা তোমাদের জন্য অধিক কল্যাণদায়ক”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যা ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহা যাঁতা ব্যবহারের ফলে হাতে যে কষ্ট পেতেন তার অভিযোগ করলেন। যখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বন্দীরা আসল সেই বন্দীদের থেকে একজন খাদিম চাইতে তিনি তাঁর নিকট গেলেন, যাতে সে তার জায়গায় গৃহস্থালির কাজ করতে পারে, কিন্তু তিনি তাঁকে তাঁর বাড়িতে পেলেন না। তিনি আয়েশা রা.কে পেলেন, তাই তাকে এ ব্যাপারে জানালেন। যখন তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলেন, আয়েশা রা. তাঁকে জানান যে ফাতিমা তাঁর কাছে একজন খাদিম চাইতে এসেছেন। যখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাতিমা এবং আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুমার কাছে এলেন, তখন তারা ঘুমের জন্য বিছানায় শুয়েছিলেন, তিনি তাদের মধ্যে বসলেন এমতাবস্থায় আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুই পায়ের শীতলতা তার পেটের ওপর অনুভব করলেন। আর তিনি বললেন: তোমরা আমার কাছে তোমাদেরকে খাদিম দেওয়ার যে চাহিদা পেশ করেছ তার চেয়ে আমি উত্তম জিনিস তোমাদেরকে শিক্ষা দেব না? তারা বলল, অবশ্যই, তখন তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: যখন রাতে ঘুমের জন্য তোমরা তোমাদের বিছানা গ্রহণ করবে তখন ‘আল্লাহু আকবার’ বলে চৌত্রিশ বার তাকবীর বলবে। আর ‘সুবহানাল্লাহ’ বলে তেত্রিশ বার তাসবীহ পাঠ করবে। এবং ‘আল-হামদুলিল্লাহ’ বলে তেত্রিশ বার তাহমীদ পাঠ করবে। আর এই জিকির তোমাদের জন্য খাদিমের চেয়ে উত্তম।
আব্দুল্লাহ ইবন খুবাইব রদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক বর্ষণমুখর রাতে গভীর অন্ধকারে আমাদের কে সলাত পড়ানোর উদ্দেশ্যে আমারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তালাশ করতে বের হলাম। এক স্থানে গিয়ে আমি তাঁকে পেলাম। তখন তিনি বললেন: “বল”, আমি কিছুই বললাম না। তিনি আবার বললেন: “বল” আমি কিছুই বললাম না। পুনরায় তিনি আমাকে বললেন: “বল”। আমি বললাম: কি বলব? তিনি বললেন: সকাল-সন্ধ্যায় কুল হুয়াল্লাহু আহাদ এবং মুআওওয়াযাতায়ন (কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক ও কুল আউযু বিরাব্বিন নাস) তিন বার পাঠ করবে; তবে তা সব কিছুর ক্ষেত্রে তোমার জন্য যথেষ্ট হবে।"
এটি আবূ দাউদ, তিরমিযী ও নাসায়ী বর্ণনা করেছেন।সম্মানিত সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে খুবাইব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বর্ণনা করেন যে, এক রাতে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছিল এবং অন্ধকার ছিল খুব ঘন। তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে খুঁজতে বের হলেন, যাতে তিনি তাদেরকে সালাত পড়ান। অতঃপর তারা তাঁকে পেলেন। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুল্লাহকে বললেন: "বল" অর্থাৎ পড়। কিন্তু আবদুল্লাহ কিছুই পড়লেন না। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার তাঁকে বললেন। এবার আবদুল্লাহ জিজ্ঞাসা করলেন: "হে আল্লাহর রাসূল, আমি কী পড়ব?" নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "সুরা ইখলাস {কুল হুয়াল্লাহু আহাদ} এবং মু'আওয়াযাতাইন(আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার দুটি সূরা) সূরা নাছ ও ফালাক পড়। এ তিনটি সূরা সকাল ও সন্ধ্যায় তিনবার করে পড়বে। এটি তোমাকে সব ধরনের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করবে এবং সব ধরনের ক্ষতি থেকে হিফাযত করবে।"
আবান ইবনু উসমান সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উসমান ইবনু আফফানকে বলতে শুনেছি: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: “যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় তিনবার বলবেঃ سْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ، فِي الْأَرْضِ، وَلَا فِي السَّمَاءِ، وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ ’আল্লাহর নামে যাঁর নামের বরকতে আসমান ও যমীনের কোনো বস্তুই ক্ষতি করতে পারে না, তিনি সর্বশ্রোতা ও মহাজ্ঞানী।’’ সকাল হওয়া পর্যন্ত তার প্রতি কোনো হঠাৎ বিপদ আসবে না। আর যে তা সকালে তিনবার বলবে সন্ধ্যা পর্যন্ত তার উপর কোনো হঠাৎ বিপদ আসবে না”। আবান পক্ষাঘাতগ্রস্ত হলে যে লোকটি তার থেকে হাদীস শুনেছিল, তার দিকে তাকাচ্ছিল। তখন আবান তাকে বললেন, তোমার কি হয়েছে? তুমি আমার দিকে তাকাচ্ছো কেন? বিশ্বাস করো, আল্লাহর কসম! আমি উসমান এর প্রতি মিথ্যা আরোপ করিনি আর উসমানও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি মিথ্যা আরোপ করেননি। তবে যেদিন আমি পক্ষাঘাতগ্রস্ত (শরীরের একপাশ অবশ রোগাক্রান্ত) হয়েছি সেদিন আমি রাগের বশে তা বলতে ভুলে গিয়েছি।
সুনানে আবূ দাউদ, তিরমিযী, নাসায়ীর সুনানুল কুবরা, ইবনে মাজাহ ও মুসনাদে আহমদনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন, যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে ফজরের পর এবং প্রতি রাতে সূর্যাস্তের আগে তিনবার বলে: আমি সাহায্য চাই এবং নিজেকে রক্ষা করি প্রত্যেক ক্ষতিকারক থেকে (بسم الله) আল্লাহর নামে (الذي لا يضر مع اسمه) যার নাম উল্লেখ করার সাথে (شيء) কোনো জিনিস ক্ষতি করতে পারে না সে যত বড় হোক না কেন (في الأرض) পৃথিবীতে এবং তা থেকে উদ্ভূত বিপর্যয় আর (ولا في السماء) না আসমানে এবং তার থেকে নেমে আসা বিপদ। তিনিই আমাদের কথাসমূহ (وهو السميع) শ্রবণকারী এবং আমাদের অবস্থা সম্পর্কে (العليم) অবগত। যে সকালে দোয়াটি পড়ল ভোর না করা পর্যন্ত তাকে বিপদ স্পর্শ করবে না এবং যে সকালে পড়ল সন্ধ্যা না করা পর্যন্ত বিপদ তাকে স্পর্শ করবে না। অতঃপর হাদীস বর্ণনাকারী আবান ইবনু উসমানকে পক্ষাঘাত আঘাত হানল; এটি হল শরীরের একটি পার্শ্ব নিস্তেজ হয়ে যাওয়া। ফলে তার থেকে হাদীস শ্রবণকারী ব্যক্তি আশ্চর্য হয়ে আবানের দিকে তাকাচ্ছিলেন! তিনি ব্যক্তিকে বললেন: কী হল আমাকে দেখছ?! আল্লাহর কসম আমি উসমানের ওপর মিথ্যারোপ করেনি এবং উসমান নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর মিথ্যারোপ করেনি, তবে যেই দিন আমাকে আল্লাহর তাকদীরে নির্ধারিত বিপদটি স্পর্শ করল সেই দিন তা পড়তে ভুলে গিয়েছিলাম। আমাকে রাগ স্পর্শ করেছিল, ফলে উল্লিখিত বাক্য বলতে ভুলে গিয়েছিলাম।
আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একটা লোক বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমাদের মধ্য থেকে কোন লোক তার ভাইয়ের সাথে কিম্বা তার বন্ধুর সাথে সাক্ষাৎ করলে তার সামনে কি মাথা নত করবে?’ তিনি বললেন, “না।” সে বলল, ‘তাহলে কি তাকে জড়িয়ে ধরে চুমা দেবে?’ তিনি বললেন, “না।” সে বলল, ‘তাহলে কি তার হাত ধরে তার সঙ্গে মুসাফাহা করবে?’ তিনি বললেন, “হ্যাঁ।”
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।কোনো ব্যক্তির তার ভাইয়ের সাথে সাক্ষাতকালে মাথা নত করা সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করা হলো, তিনি বললেন, তার জন্য মাথা নত করবে না। প্রশ্নকারী বলল, মাথা নত না করে তাকে জড়িয়ে ধরবে এবং মু‘আনাকা করবে? তিনি বললেন, না, প্রশ্নকারী বললেন, তার সাথে মুসাফাহা করবে কি? তিনি বললেন হ্যাঁ।
সা‘দ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদিন এক বেদুঈন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন কিছু দু’আ-কালাম শিখিয়ে দিন যা আমি পড়তে পারি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি পড়বে: «لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، اللهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا، سُبْحَانَ اللهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ» অর্থ: “আল্লাহ ছাড়া কোন প্রকৃত মাবূদ নেই, তিনি একক, তার কোনই শরীক নেই। আল্লাহ অনেক বড়, আল্লাহর জন্য অনেক প্রশংসা, আমি পবিত্রতা ঘোষণা করি সে আল্লাহর যিনি সৃষ্টিজগতের রব, কারো কোন উপায় বা শক্তি নেই আল্লাহ ছাড়া, যিনি প্রতাপান্বিত ও প্রজ্ঞাবান।” (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শেখানো দু’আ শুনে) সে বেদুঈনটি বলল: হে আল্লাহর রাসূল! এটা তো আমার রবের জন্য (তাঁর প্রশংসা), আমার জন্য কী? তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি পড়বে:اللهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَاهْدِنِي وَارْزُقْنِي». “হে আল্লাহ! তুমি আমাকে মাফ কর, দয়া কর, হিদায়াত দান কর এবং আমাকে রিযিক দাও)।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনএকজন বেদুইন ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে চাইলেন, তাকে যেন তিনি এমন একটি জিকির শিখিয়ে দেন, যা তিনি বলতে পারেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: বলো- "لا إله إلا الله وحده لا شريك له" "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু" (একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তাঁর কোন শরীক নেই) তিনি তাওহীদের সাক্ষ্য দিয়ে শুরু করেছেন। অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্যিকার মাবূদ নেই। "আল্লাহু আকবার কাবীরা" অর্থাৎ, আল্লাহ সবচেয়ে মহান এবং সবকিছুর চেয়ে বড়। "ওয়াল হামদু লিল্লাহি কাসীরা" অর্থাৎ, আল্লাহর জন্য অনেক প্রশংসা, তাঁর গুণাবলী, কাজ এবং অগণিত নিয়ামতের জন্য। "সুবহানাল্লাহি রাব্বিল আলামীন" অর্থাৎ, আল্লাহ সকল ত্রুটি থেকে পবিত্র এবং মহান। "লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আজীযিল হাকীম" অর্থাৎ, এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় পরিবর্তন শুধুমাত্র আল্লাহর দ্বারা, তার সাহায্য ও তাওফীকের মাধ্যমেই সম্ভব। তারপর সেই ব্যক্তি বললেন: এই কথাগুলো আমার রবের যিকির ও মহিমা বর্ণনার জন্য। তাহলে আমার নিজের জন্য দুআ কী? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: বলো- "আল্লাহুম্মাগফির লী" অর্থাৎ, আল্লাহ আমার গুনাহগুলো মোচন করুন এবং তা ঢেকে দিন। "ওয়ারহামনী":আমার প্রতি দয়া করো অর্থাৎ, আমাকে ধর্মীয় ও পার্থিব উপকারিতা এবং কল্যাণ পৌঁছানোর মাধ্যমে। "ওয়াহদিনী" অর্থাৎ, আমাকে সর্বোত্তম অবস্থার দিকে এবং সিরাতুল মুস্তাকিমের দিকে হিদায়াত দিন। "ওয়ারযুকনী"আমাকে রিজিক দান করো অর্থাৎ আমাকে হালাল সম্পদ, সুস্বাস্থ্য এবং সব ধরনের ভালো ও সুস্থতা দান করুন।