





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
আবূ তালহা যায়েদ ইবন সাহল রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা (বাড়ির সামনের খোলা) আঙিনায় বসে কথাবার্তা বলছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলেন এবং আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, “রাস্তা-ঘাটে মজলিস করা তোমাদের অভ্যাস কেন? রাস্তাঘাটে বৈঠক করা তোমরা বর্জন করবে।” আমরা বললাম, আমরা তো বসেছি কোনও অসুবিধা করার উদ্দেশ্য নিয়ে নয়। আমরা বসে আলাপ-আলোচনা ও কথাবার্তা বলছি। তিনি বললেন, “যদি তোমরা একান্তই বসতে বাধ্য হও তাহলে রাস্তার হক আদায় করবে। আর তা হলো চক্ষু অবনত রাখা, সালামের জবাব দেওয়া এবং উত্তম কথা বলা।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।আবূ তালহা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু আমাদেরকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমরা আমাদের বাড়ির সামনের খোলা আঙিনায় বসে বিভিন্ন বিষয়ে কথাবার্তা বলছিলাম। (হাদীসে বর্ণিত, ‘ফিনায়ে দার’ বলতে বুঝানো হচ্ছে এমন জায়গাকে যা সাধারণত মানুষ ঘর-বাড়ীর সামনে প্রশস্তভাবে রেখে দেয় আর যেখানে বসে তাদের বিভিন্ন বিষয়ে খোসগল্পে মেতে থাকে), তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলেন এবং আমাদের সামনে দাঁড়ালেন।” অর্থাৎ তিনি তাদের কাছে এলেন, তাদের সামনে দাঁড়ালেন এবং রাস্তায় এভাবে দাঁড়িয়ে কথাবার্তা বলতে নিষেধ করলেন। তারা (সাহাবীরা) বললেন, “আমরা তো বসেছি কোনও অসুবিধা করার উদ্দেশ্য নিয়ে নয়। আমরা বসে আলাপ-আলোচনা ও কথাবার্তা বলছি।” অর্থাৎ হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের এখানে বসা তো শরী‘আতে নিষিদ্ধ নয়; বরং আমাদের এখানে বসা তো বৈধ কাজের জন্য। আর তা হলো আমাদের পরস্পর আলাপ-আলোচনা ও কথাবার্তা বলা। আবূ তালহা বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “যদি তোমরা একান্তই বসতে বাধ্য হও তাহলে রাস্তার হক আদায় করবে।” অর্থাৎ যদি তোমরা এ ধরনের বসা একান্তই বসতে চাও তাহলে রাস্তার হক আদায় করে বসবে। অন্য বর্ননায় এসেছে, “যদি এ ধরনের বৈঠক করতে বাধ্য হও তাহলে রাস্তাকে তার হক প্রদান কর (অর্থাৎ রাস্তার হক আদায় করো)। আরেক বর্ণনায় এসেছে, সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, তাহলে রাস্তার হক কী? তিনি তাদেরকে বললেন, চক্ষু অবনত রাখা, সালামের জবাব দেওয়া এবং উত্তম কথা বলা।” অন্য বর্ননায় এসেছে, রাস্তার হক হলো, চক্ষু অবনত রাখা, কষ্টদায়ক জিনিস থেকে বিরত থাকা, সালামের জবাব দেওয়া, সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করা।” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, এর অর্থ হলো, তোমরা রাস্তায় বসলে তোমাদের উপর রাস্তার দায়িত্ব ও কর্তব্যগুলো আদায় করো। অতএব, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে রাস্তায় বসতে নিষেধ করার কারণ উল্লেখ করলেন। কেননা এভাবে রাস্তায় বসলে যুবতী নারীদের উপস্থিতিতে ফিতনায় পতিত হওয়ার আশঙ্কা এবং তাদের দিকে দৃষ্টিপাত ও এর ফলে ফিতনায় জড়িয়ে পড়ার ভয় থাকে। তাছাড়া মানুষ ঘরে একাকী থাকলে আল্লাহর হক ও বান্দার হকসমূহ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তুলনামূলক কম থাকে; যেহেতু সে ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকে, অশ্লীল জিনিস দেখা থেকে বিরত থাকে। সুতরাং কেউ রাস্তায় বসলে তার উচিত মানুষকে সৎকাজের আদেশ দেওয়া ও অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখা। সে যদি এ কাজ না করে তাহলে সে আল্লাহর অবাধ্যতায় পতিত হলো। এমনিভাবে সে রাস্তায় থাকলে হয়ত তার সামনে দিয়ে লোকজন অতিক্রম করবে এবং তাকে সালাম দিবে। সুতরাং তার কর্তব্য হলো সালামের জবাব দেওয়া। কখনো তার পাশ দিয়ে হয়ত এতো সংখ্যক লোক অতিক্রম করতে পারে যারা সালাম দিলে তার পক্ষে এতো মানুষের সালামের জবাব দেওয়া অসম্ভব হতে পারে; অথচ তাদের সকলের সালামের জবাব দেওয়া তার উপর ওয়াজিব। তাই তাকে এ ধরনের কষ্টে (ফিতনায়) পতিত হওয়া অথবা নিজেকে এমন কাজে নিয়োজিত করা যা তার জন্য করা কষ্টকর, তা থেকে বিরত রাখতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিয়েছেন।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, “কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যার বিচার করা হবে, সে হচ্ছে এমন একজন, যে শহীদ হয়েছিল। তাকে উপস্থিত করা হবে এবং আল্লাহ তার নি‘আমত রাশির কথা তাকে বলবেন এবং সে তার সবটাই চিনতে পারবে (যথারীতি তার স্বীকারোক্তিও করবে)। তখন আল্লাহ তা‘আলা বলবেন, এর বিনিময়ে কী আমল করেছিলে? সে বলবে, আমি আপনারই পথে যুদ্ধ করেছি; এমন কি শেষ পর্যন্ত শহীদ হয়েছি। তখন আল্লাহ তা‘আলা বলবেন, তুমি মিথ্যা বলেছ। তুমি বরং এ জন্যেই যুদ্ধ করেছিলে যাতে লোকেরা তোমাকে বলে তুমি বীর। (দুনিয়াতে) তা বলা হয়েছে। এরপর নির্দেশ দেওয়া হবে। সে মতে তাকে উপুড় করে হেঁচড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে এবং জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। তারপর এমন এক ব্যক্তির বিচার করা হবে, যে জ্ঞানার্জন ও বিতরণ করেছে এবং কুরআন অধ্যায়ন করেছে। তখন তাকে উপস্থিত করা হবে। আল্লাহ তা‘আলা তার প্রদত্ত নি‘আমতের কথা তাকে বলবেন এবং সে তা চিনতে পারবে (যথারীতি তার স্বীকারোক্তিও করবে)। তখন আল্লাহ তা‘আলা বলবেন, এতো বড় নি‘আমত পেয়ে বিনিময়ে তুমি কী করলে? উত্তরে সে বলবে, আমি জ্ঞানার্জন করেছি এবং তা শিক্ষা দিয়েছি এবং তোমারই সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে কুরআন অধ্যায়ন করেছি। উত্তরে আল্লাহ তা‘আলা বলবেন, তুমি মিথ্যা বলেছে। তুমি তো জ্ঞান অর্জন করেছিলে এজন্যে যাতে লোকে তোমাকে জ্ঞানী বলেন। কুরআন তিলাওয়াত করেছিলে এ জন্যে যাতে লোকেরা বলে সে একজন ক্বারী। (দুনিয়াতে) তা বলা হয়েছে। তারপর নির্দেশ দেওয়া হবে এর মতো তাকেও উপুড় করে হেঁচড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে এবং জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। তারপর এমন এক ব্যক্তির বিচার হবে যাকে আল্লাহ তা‘আলা স্বচ্ছলতা এবং সর্ববিধ সম্পদ দান করেছেন। তাকে উপস্থিত করা হবে এবং তাকে প্রদত্ত নি‘আমত সমূহের কথা তাকে বলবেন। সে তা চিনতে পারবে (যথারীতি তা স্বীকারোক্তিও করবে)। তখন আল্লাহ তা‘আলা বলবেন, এ সব নি‘আমতের বিনিময়ে তুমি কী আমল করেছো? উত্তরে সে বলবে, সম্পদ ব্যয়ের এমন কোনো খাত নেই যাতে সস্পদ ব্যয়ে আপনি পছন্দ করেন; অথচ আমি সে খাতে আপনার সন্তুষ্টির জন্যে কিছু করি নি (অর্থাৎ আল্লাহর পছন্দকৃত সকল পন্থায় সম্পদ ব্যয় করেছি)। তখন আল্লাহ তা‘আলা বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছো। তুমি বরং এ জন্যে তা করেছিলে যাতে লোকেরা তোমাকে “দানবীর” বলে অভিহিত করে। আর দুনিয়াতে তা বলা হয়েছে। তারপর নির্দেশ দেওয়া হবে সে মতে তাকেও উপুড় করে হেঁচড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে এবং জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।হাদীসের অর্থ: কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম তিন শ্রেণির ব্যক্তির বিচার করা হবে। লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে কুরআন শিক্ষাকারী, লোক দেখানো শহীদ ও লোক দেখানো দানকারী। অতঃপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা‘আলা তাদেরকে কিয়ামতের দিন উপস্থিত করবেন এবং আল্লাহ তাদেরকে তাঁর প্রদত্ত নি‘আমতসমূহের কথা স্মরণ করিয়ে দিবেন অতঃপর তারা তা চিনতে পারবেন এবং যথারীতি তার স্বীকারোক্তিও করবে। অতঃপর আল্লাহ তাদেরকে বলবেন, এ সব নি‘আমতের শুকরিয়াস্বরূপ কী আমল করেছ? প্রথম প্রকারের লোকেরা বলবে, আমি জ্ঞানার্জন করেছি এবং তা শিক্ষা দিয়েছি এবং তোমারই সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে কুরআন অধ্যয়ন করেছি। উত্তরে আল্লাহ তা‘আলা বলবেন, তুমি মিথ্যা বলেছে। তুমি তো জ্ঞান অর্জন করেছিলে এজন্যে যাতে লোকে তোমাকে জ্ঞানী বলেন। কুরআন তিলাওয়াত করেছিলে এ জন্যে যাতে লোকেরা বলে সে একজন ক্বারী। তুমি আমার সন্তুষ্টির জন্য এগুলো করো নি; বরং লোক দেখানোর জন্য করেছো। (দুনিয়াতে) তা বলা হয়েছে। তারপর নির্দেশ দেওয়া হবে তাকে উপুড় করে হেঁচড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে এবং জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। এভাবে বাকীদেরকে বলা হবে এবং জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
আবূ যার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলো, সেই ব্যক্তি সম্পর্কে আপনার কী অভিমত, যে নেক আমল করে এবং লোকেরা তার প্রশংসা করে? তিনি বললেন, “এতো মুমিন ব্যক্তির জন্য অগ্রিম সুসংবাদ।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।হাদীসের অর্থ: কোনো ব্যক্তি ভালো আমল করল এবং সে লোকের প্রশংসা পাওয়ার আশা করে নি; অতঃপর লোকেরা তার প্রশংসা করল, যেমন তারা বলল, অমুক লোক অধিক পরিমাণে ভালোকাজ করে বা অধিক পরিমাণে ইবাদাত করে বা সৃষ্টিকুলের প্রতি অনেক ইহসান করে বা অনুরূপ ধরনের প্রশংসা। তার সম্পর্কে শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “এটা তো মুমিন ব্যক্তির জন্য অগ্রিম সুসংবাদ।” এটা তার জন্য লোকের প্রশংসা; কেননা মানুষ যখন ভালো কাজের জন্য কারো প্রশংসা করে তখন তারা আল্লাহর জমিনে তাঁর সাক্ষী হয়ে থাকে। এ কারণে এক ব্যক্তির জানাযা (লাশ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে দিয়ে অতিক্রম করলে তাঁর সাহাবীগণ লোকটির প্রশংসা করল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তার জন্য ওয়াজিব হয়ে গেল। অতঃপর আরেক ব্যক্তির জানাযা (লাশ) অতিক্রম করলে সাহাবীগণ তার ব্যাপারে খারাপ মন্তব্য (নিন্দা) করলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তার জন্য (তোমাদের মন্তব্য) অত্যাবশ্যকীয় হয়ে গেছে। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, কী ওয়াজিব বা অত্যাবশ্যকীয় হলো? তিনি বললেন, প্রথম ব্যক্তির জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে গেছে আর দ্বিতীয় ব্যক্তির জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব হয়ে গেছে। তোমরা জমিনে আল্লাহর সাক্ষী। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী (تلك عاجل بشرى المؤمن) এতো মুমিন ব্যক্তির জন্য অগ্রিম সুসংবাদ। হাদীসে বর্ণিত উক্ত সুসংবাদ এবং লৌকিকতার মধ্যে পার্থক্য হলো, লৌকিকতাকারী শুধু লোক দেখানো ও মানুষের প্রশংসা পাওয়ার উদ্দেশ্যেই আমল করে। সুতরাং এ অবস্থায় সে আল্লাহর সাথে অন্যকে শরীক করল। পক্ষান্তরে হাদীসে বর্ণিত ব্যক্তির নিয়াত শুধুই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং তার অন্তরে মানুষের প্রশংসা বা নিন্দার কোনো কামনাই থাকে না। এমতাবস্থায় মানুষ যদি তার আনুগত্যের বিষয়টি অবহিত হয়ে সেজন্য তার প্রশংসা করে, তাহলে তা রিয়া (লৌকিকতা) হবে না; বরং তা ব্যক্তির জন্য অগ্রিম সুসংবাদ। সুতরাং হাদীসে বর্ণিত অগ্রিম সুসংবাদ ও লোক দেখানো আমলের মধ্যে পার্থক্য বিশাল। দেখুন, শরহে রিয়াদুস সালিহীন, ইবন উসাইমীন, (৬/৩৫৪-৩৫৫)
জারীর ইবন আব্দুল্লাহ রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হটাৎ দৃষ্টি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছি, তিনি আমাকে আমার দৃষ্টি ফিরিয়ে আনতে নির্দেশ দিলেন।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনজারীর ইবনু আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কোন উদ্দেশ্য ছাড়াই অপরিচিত নারীর প্রতি একজন পুরুষের দৃষ্টি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন? তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নির্দেশ দিলেন যে, তার জানার সাথে সাথে তার মুখ অন্যদিকে এবং অন্য পাশে ঘুরিয়ে নিবে এবং তার কোন পাপ হবে না।
জাবের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে মারফু হিসেবে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “(রাত্রে ঘুমাবার আগে) তোমরা পাত্র ঢেকে দাও, পানির মশকের মুখ বেঁধে দাও, দরজাসমূহ বন্ধ ক’রে দাও, প্রদীপ নিভিয়ে দাও। কেননা, শয়তান মুখ বাঁধা মশক খুলে না, বন্ধ দরজাও খুলে না এবং পাত্রের ঢাকনাও উম্মুক্ত করে না। সুতরাং তোমাদের কেউ যদি পাত্রের মুখে ‘বিসমিল্লাহ’ বলে আড় ক’রে রাখার জন্য কেবল একটি কাষ্ঠখণ্ড ছাড়া অন্য কিছু না পায়, তাহলে সে যেন তাই করে। কারণ ইঁদুর ঘরের লোকজনসহ ঘর পুড়িয়ে ছারখার ক’রে দেয়।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাত্রে ঘুমাবার আগে সব ধরনের কষ্টদায়ক থেকে বাঁচা এবং রাতে অবতীর্ণ বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার পাত্র ঢেকে রাখা, পানির মশকের মুখ বেঁধে রাখা, দরজাসমূহ বন্ধ ক’রে দেওয়ার নির্দেশ দেন। কারণ, তাতে রয়েছে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ এবং অনিষ্টকারী ও খেলতামাশাকারী থেকে জান ও মালের সুরক্ষা। আর তিনি প্রদীপ নিভিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। কারণ, তাতে রয়েছে ঘর ও তার অধিবাসীদের সুরক্ষা। কারণ, বাতি না নিভালো আগুন লেগে পুড়ে ক্ষতি হওয়ার শঙ্কা থাকে। হাদীসটি রাতে ঘুমানোর সময়ের ক্ষেত্রে প্রযোজন্য। আর তিনি জানান যে, শয়তান মুখ বাঁধা মশক খুলে না, বন্ধ দরজাও খুলে না এবং পাত্রের ঢাকনাও উম্মুক্ত করে না। তবে যদি এমন কোন বস্তু দ্বারা পাত্র ডাকা সম্ভব না হয়, যাতে তার ভিতরে কি আছে দেখা না যায় বা কিছু অংশ খোলা না থাকে তখনও সে খোলা অবস্থায় পাত্র রেখে দেবে না। বরং তার উপর একটি কাষ্ঠখণ্ড বিছিয়ে রেখে দেবে। আর পাত্র ডাকা, মশক বন্ধ করা এবং দরজ বন্ধ করার সময় বিছমিল্লাহ পড়বে। আর তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রদীপ ইত্যাদি এমন বস্তু যখন তুমি তা আপন অবস্থায় রেখে দেবে এবং ঘুমের আগে তা নিভাবে না হতে পারে ইঁদুর তা নিয়ে খেলবে। তখন তা ঘুমের সময় বাড়ীর লোকদের জালিয়ে দেওয়ার কারণ হবে।
মাসরূক রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আব্দুল্লাহ ইবন মাস‘ঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর কাছে গেলাম। তিনি বললেন, হে মানব সকল! যে কেউ কোনো কিছু জানে সে যেন তা বলে। আর যে জানে না সে যেন বলে, আল্লাহই ভালো জানেন। কেননা এটাও জ্ঞানের অংশ যে, যে বিষয়ে জানে না সে বিষয়ে বলবে, আল্লাহ তা‘আলা ভালো জানেন। কেননা আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নবী রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলেছেন: “বলুন, আমি এর মোকাবেলায় তোমাদের নিকট কোনো প্রতিদান চাই না এবং আমি মিথ্যা দাবীদারদের অন্তর্ভুক্ত নই।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।হাদীসের অর্থ: মানুষকে যখন কোনো জিনিস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয় যা সে জানে, তখন সে তা মানুষকে বলে দিবে, গোপন করবে না। আর যদি তাকে এমন জিনিস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয় যা সে জানে না, তখন তার বলা উচিৎ: আল্লাহই ভালো জানেন, উত্তর দিতে ভণিতা করবে না। “কেননা এটাও জ্ঞানের অংশ যে, যে বিষয়ে জানবে না সে বিষয়ে বলবে, আল্লাহ ভালো জানেন।” অর্থাৎ অজানা বিষয় সম্পর্কে “আল্লাহ অধিক জ্ঞাত” বলা হচ্ছে জ্ঞানের অংশ। কেননা যে ব্যক্তি বলে, ‘আমি জানি না’, আর আসলেই সে জানে না, তবে সেই প্রকৃত জ্ঞানী। সে নিজের মূল্য জানে এবং নিজের অবস্থানও জানে যে, সে জানে না, তাই অজানা বিষয় সম্পর্কে বলে, আল্লাহই ভালো জানেন। আর হাদীসটি মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে এভাবে: “সেই তোমাদের ভেতর প্রকৃত জ্ঞানী, যে অজানা বিষয় সম্পর্কে বলে, আল্লাহই ভালো জানেন।” অর্থাৎ ব্যক্তি নিজের জ্ঞানের প্রতি পূর্ণ সুবিচার করেছে, আর তার জন্যে অধিক মঙ্গলজনক হচ্ছে, যে বিষয়ে জানে না সে বিষয়ে বলবে: আল্লাহই অধিক জানেন। অতঃপর ইবন মাস‘ঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু আল্লাহর বাণী দ্বারা দলীল পেশ করেন: “বলুন, আমি এর বিনিময়ে তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাই না এবং আমি মিথ্যা দাবীদারদের অন্তর্ভুক্ত নই।” [সূরা সোয়াদ, আয়াত: ৮৬] অর্থাৎ আমি তোমাদের কাছে যে অহী নিয়ে এসেছি তার বিনিময়ে কিছু চাই না; বরং আমি তোমাদেরকে কল্যাণকর পথ প্রদর্শন করি এবং আল্লাহর দিকে আহ্বান করি। “আর আমি মিথ্যা দাবীদারদের অন্তর্ভুক্ত নই।” অর্থাৎ আমি তোমাদের প্রতি কঠোরতা আরোপকারী নই বা না জেনে বলার ব্যক্তি নই। সারকথা হলো, যে বিষয়ে ফাতওয়া দেওয়া বৈধ সেখানেই শুধু ফাতওয়া দিবে, অন্য বিষয়ে ফাতওয়া দেওয়া বৈধ নয়। বাস্তব কথা হচ্ছে, আল্লাহ যদি কারো জন্যে ইমাম বা দীনী নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়টি লিখে রাখেন, যিনি মানুষদেরকে ফতোয়া দিবেন ও তাদেরকে সঠিক পথ দেখাবেন, তবে তা অবশ্যই হবে। আর যদি আল্লাহ এটা না চান, তাহলে সে যতোই ফাতওয়া প্রদান করতে দুঃসাহস করুক, কখনোই উপকারে আসবে না, বরং তা তার জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে ধ্বংস ও ক্ষতির কারণ হবে। দেখুন, মাতালি‘উল আনওয়ার ‘আলা সিহাহীল আসার (৪/৪৩৯); শরহু রিয়াদুস সালিহীন, ইবন ‘উসাইমীন (৬/৩৯১)।
জাবের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষকে দাঁড়িয়ে জুতা পরতে নিষেধ করেছেন।
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন।হাদীসটিতে দাঁড়িয়ে জুতা পরিধান করা থেকে নিষেধ করা হয়েছে। কারণ, বসা অবস্থায় জুতা পরিধান করা সহজ ও আসান। এ বিধানটি ঐ সব জুতার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট যে সব জুতা পায়ে প্রবেশ করাতে কষ্ট করতে হয়। কারণ, তখন যদি কোনো মানুষ দাঁড়িয়ে জুতা পরিধান করে, তখন সম্ভাবনা আছে সে যখন জুতা ঠিক করার জন্য পা উঠাবে তখন পড়ে যাবে। কিন্তু বর্তমানে প্রচলিত জুতা দাঁড়িয়ে পরিধান করাতে কোনো অসুবিধা নেই। তা এ হাদীসের নিষেধের আওতায় পড়বে না। কারণ, বর্তমানে প্রচলিত জুতা দাঁড়িয়ে খোলা ও পরিধান করা সহজ, তার জন্য বসার প্রয়োজন হয় না। বিধানটির ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। কারণ, শরী‘আতের বিধানের ক্ষেত্রে সাধারণত নারী ও পুরুষের কোনো পার্থক্য হয় না। অবশ্য যদি কারো জন্য নির্দিষ্ট হওয়ার ব্যাপারে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে ভিন্ন কথা। কিন্তু এখানে হাদীসটিতে পুরুষের কথা উল্লেখ করার কারণ, পুরুষরাই সাধরণত নারীদের তুলনায় অধিক পরিমাণে বের হয় আবার প্রবেশ করে। এ কারণেই বিশেষভাবে তাদের আলোচনা করা হয়েছে। দেখুন: ইবন উসাইমীনের রিয়াদুস সালেহীনের ব্যাখ্যা (৩/৮৮৬)
জাবির রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন উম্মুস সায়িব কিংবা উম্মুল মুসায়্যিব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার কাছে প্রবেশ করলেন। তিনি তাকে বললেন, “তোমার কি হয়েছে হে উম্মুস সায়িব অথবা উম্মুল মুসায়্যিব! এতো নড়াচড়া করছ কেন? (অর্থাৎ তুমি কাঁদছ কেন?)” তিনি বললেন, ভীষণ জ্বর। একে আল্লাহ ধ্বংস করুন। তখন তিনি বললেন, “তুমি জ্বরকে গালি দিয়ো না। কেননা জ্বর আদম সন্তানের গুনাহসমূহ মোচন করে দেয়, যেভাবে কামারের হাঁপর লোহার মরিচা দূর করে দেয়।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।এ হাদীসে জাবির রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সংবাদ দিচ্ছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন উম্মুস সায়িব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার কাছে গেলেন। তখন তিনি কাঁপছিলেন। তিনি তাকে এর কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি (উম্মুস সায়িব) বললেন, ভীষণ জ্বর। অর্থাৎ প্রচণ্ড জ্বরের কারণে তিনি ছটফট করছিলেন। হুম্মা হলো শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া। এটি এক ধরণের রোগ। জ্বরের অনেক প্রকার রয়েছে। তিনি (উম্মুস সায়িব) বললেন, আল্লাহ জরে বরকত না দিন (একে বৃদ্ধি না করুন, একে ধ্বংস করুন)। আর এটি ছিল জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার কারণে করা বদ-দো‘আ।তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “তুমি জ্বরকে গালি দিয়ো না।” অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম জ্বরকে গালি দিতে নিষেধ করেছেন। কেননা কারো জ্বরে আক্রান্ত হওয়া আল্লাহর কাজসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আর যেসব কিছু আল্লাহর তরফ থেকে হয়ে থাকে, মানুষের জন্য জায়েয নয় তাকে গালি দেওয়া। কারণ জ্বরকে গালি দেওয়ার অর্থ হলো তার সুমহান স্রষ্টাকে গালি দেওয়া। আর এ জন্যই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তোমরা সময়কে গালি দিও না; কেননা আল্লাহ তা‘আলাই তো সময় (কে নিয়ন্ত্রণ করেন)।” আর তাই মানুুষের উচিৎ কোনো বিপদাপদে পতিত হলে ধৈর্যধারণ করা এবং মহান আল্লাহর কাছে এর বিনিময়ে সাওয়াবের আশা করা। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, “কেননা জ্বর আদম সন্তানের গুনাহসমূহ সেভাবে মুছে দেয়, যেভাবে কামারের হাঁপর লোহার মরিচা দূর করে দেয়।” অর্থাৎ জ্বর গুনাহ মাফ ও মর্যাদা বৃদ্ধির কারণ। যেমনিভাবে লোহাকে আগুণে পোড়ালে মরিচা ও নিকৃষ্ট অংশ দূরীভুত হয়ে ভালো অংশ অবশিষ্ট থাকে। এমনিভাবে জ্বরও বনী আদমের সগীরা গুনাহসমূহ মোচন করে দেয়। অবশেষে সে পাপমুক্ত হয়ে পাক-পবিত্র হয়ে যায়। দেখুন, শারহু রিয়াদিস সালিহীন, ইবন ‘উসাইমীন (৬/৪৬৭)
জাবের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাবারান্তে আঙ্গুল ও থালা চেটে খাবার নির্দেশ দিয়েছেন এবং বলেছেন, “তোমরা জান না যে, এর কোনটিতে বরকত নিহিত আছে।” উক্ত রাবী থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমাদের কারো খাবারের লোকমা (পাত্রের বাইরে) পড়ে যাবে, তখন সে যেন তা থেকে ময়লা দূর করে খেয়ে নেয় এবং শয়তানের জন্য তা ছেড়ে না দেয়। আর রুমালে হাত মুছে ফেলার পূর্বে যেন আঙ্গুলগুলি চেটে নেয়। কেননা, সে জানে না যে, তার কোন খাদ্যাংশে বরকত নিহিত আছে।” উক্ত রাবী থেকেই বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “শয়তান তোমাদের সমস্ত কাজ কর্মে তোমাদের নিকট উপস্থিত হয়; এমনকি তোমাদের খাবারের সময়েও উপস্থিত হয়। সুতরাং যখন কারো খাবার লোকমা (থালার বাইরে) পড়ে যায়, তখন সে যেন তা তুলে তা থেকেময়লা পরিষ্কার ক’রে খেয়ে নেয় এবং শয়তানের জন্য তা ফেলে না রাখে।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।জাবের ইবন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে খাবারের কতিপয় আদব বর্ণনা করেন। তা হলো: যখন কোনো মানুষ খাবার শেষ করবে, তখন সে অবশ্যই আঙ্গুল ও প্লেট চেটে খাবে, যাতে সেখানে খাবারের কোনো অংশ অবশিষ্ট না থাকে। কারণ, তোমরা তো জানো না যে, তোমাদের খাবারের কোন অংশের মধ্যে বরকত নিহিত। অনুরূপভাবে খাবারের আরও আদব হলো: যখন খাবারের কোনো লোকমা যমীনে পড়ে যায়, তা যেন ফেলে না রাখে। কারণ, শয়তান মানুষের প্রতিটি কর্মে অংশগ্রহণ করে। ফলে সে লোকমাটি লুফে নেয়। কিন্তু সে এমনভাবে লুফে নেয় না যে আমরা তা দেখতে পাবো। কারণ, এটি গাইবী বিষয়; যা আমরা প্রত্যক্ষ করি না। কিন্তু যিনি পরম সত্যবাদী তার সংবাদ দেওয়ার মাধ্যমে আমরা বিষয়টি জানতে পারি, শয়তান তা লুফে নেয় এবং খায়। যদিও বাহ্যিক দৃষ্টিতে দেখা যায় তা আমাদের সামনে পড়ে আছে। কিন্তু সে তা ভক্ষণ করে গাইবীভাবে। এটি হলো গাইবী বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত যার ওপর বিশ্বাস করা আমাদের ওপর ওয়াজিব।