Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way






























Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহর পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলাম তখন আমার লুঙ্গি ঝুলে ছিল। তখন তিনি বললেন, হে আব্দুল্লাহ তুমি তোমার লুঙ্গি উঠাও। তখন আমি তা দুই টাখনু বরাবর বা তার কাছাকাছি উঠালাম। তারপর তিনি বললেন, একটু বেশি উঠাও। কারণ তা অধিক উত্তম এবং পবিত্র। আমি আরও বেশি উঠালাম এমনকি অর্ধ নলা পর্যন্ত। তারপর সুন্নাতের প্রতি গুরুত্বারোপ এবং অনুকরণ হিসেবে সর্বদা তাই করতাম। তখন কতক লোক বলল, উঠানোর নির্দেশ কোন পর্যন্ত গিয়ে শেষ হলো? তিনি বললেন, দুই নলার অর্ধ পর্যন্ত।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, “হে আল্লাহ আমরা আপনাকে তাদের গলায় স্থাপন করছি” অর্থাৎ তাদের সামনে পেশ করছি, আপনি আমাদের থেকে তাদেরকে প্রতিহত করবেন ও তাদের থেকে আমাদেরকে রক্ষা করবেন। হাদীসে নহর শব্দকে নির্দিষ্ট করার কারণ হলো, নহর/গলা ধরে ধাক্কা দিয়ে প্রতিহত করা ও নহর ধরে তাকে আয়ত্তে আনা অতি সহজ। আর শত্রু তো যুদ্ধের জন্য গলা দিয়েই অগ্রসর হয় অথবা তাদের গলাকে কব্জা করা ও তাদের হত্যা করার শুভ লক্ষণ হিসেবে নহর শব্দ ব্যবহার করেছেন। “তাদের অনিষ্ট থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি।” এমতাবস্থায় আপনার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট হবেন। এ দো‘আর মূল উদ্দেশ্য হলো, হে আল্লাহ আমরা আপনার কাছে প্রার্থনা করছি যে, আপনি তাদের সীনাকে প্রতিহত করুন বা তাদের সাথে যুদ্ধে মিলিত হওয়া থেকে বিরত রাখুন, তাদের অনিষ্ট প্রতিরোধ করুন, তাদের যাবতীয় ষড়যন্ত্রের মোকাবিলায় আপনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং আমাদের ও তাদের মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করুন। উপরোক্ত বাক্যদ্বয় যদিও সহজ, যখন কোনো মানুষ অন্তরের অন্তস্থল থেকে ইখলাসের সাথে তা বলবে তবে নিশ্চয় আল্লাহ তার থেকে শত্রুর শত্রুতা প্রতিহত করবেন। আর আল্লাহই একমাত্র তাওফিকদাতা।
এ হাদীসে উল্লিখিত বাক্যগুলো দ্বারা যিকির করার ফযীলতের প্রমাণ রয়েছে। কারণ, এ বাক্যগুলোতে রয়েছে মহান ও সর্বোচ্চ সত্তা আল্লাহর তাসবীহ, পবিত্রতা, মাহাত্ম্যের বিশেষ অর্থ। এছাড়াও রয়েছে আল্লাহর কর্মসমূহের ওপর প্রশংসা। সুতরাং আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া বান্দার কোনো কৌশল, নড়াচড়ার শক্তি ও সামর্থ্য নেই। আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া ক্ষতিকে প্রতিহত করার কোনো কৌশল এবং কল্যাণ লাভেরও কোনো ক্ষমতা বান্দার নেই। এ মহান অর্থসহ এ বাক্যগুলোর প্রভাব ও উপকার একজন মু’মিনের জন্য তার মৃত্যুর পরও অবশিষ্ট থাকবে।
গুরুত্বপূর্ণ এ দু‘আটি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বেদুঈনকে করতে শুনছেন। সে এ দু‘আটি করেছেন এবং আল্লাহর ইসমে আযমের মাধ্যমে উসিলা দিয়েছেন যা আল্লাহর তাওহীদকে এভাবে শামিল করেছে যে, তিনি এক, একক, মুখাপেক্ষীহীন, মানুষ তাঁর কাছে তাদের প্রয়োজন মিটাতে প্রার্থনা করে, তিনি কাউকে জন্ম দেন নি; কেননা তার কোন উপমা ও সাদৃশ নেই। তিনি সব কিছু থেকে অমুখাপেক্ষী, মুক্ত। তিনি কারো থেকেও জন্ম নেন নি, তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই। সুতরাং তাঁর জাত, বা সিফাত বা কর্মে কেউ তাঁর সমকক্ষ নেই। এ মহান অর্থবোধক দু‘আটি তাওহীদের মূলতত্ত্ব ও তাওহীদের সবকিছু এগুলো নিয়েই আবর্তিত। যে কারণে এটি অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ফযিলতময় দু‘আ। কোন বান্দা আল্লাহর কাছে এমন দু‘আর (ইসমে আযমের) মাধ্যমে দু‘আ করলে আল্লাহ কবুল করেন এবং সে যা প্রার্থনা করে তাকে তা দান করেন।
মানুষের জন্য আবশ্যক হচ্ছে, সে আল্লাহর নিকট এই প্রার্থনা করবে, তিনি যেরূপ তার বাহ্যিক গঠন সুন্দর করেছেন ও তাকে পূর্ণতা দান করেছেন, সেরূপ যেন তার অভ্যন্তরীণ অবস্থাও সুন্দর করে দেন। তাকে যেন এমন সুন্দর চরিত্র দান করেন, যা দ্বারা তার মনুষ্যত্ব পূর্ণতা লাভ করবে ও তার অভ্যন্তরীণ অবস্থা পবিত্র হবে।
হাদীসটিতে চমৎকার নববী চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ এবং অলঙ্কারিক সাদৃশ্য রয়েছে, যাতে অপর মুসলিমের প্রতি একজন মুসলিম ভাইয়ের অবস্থান কি হবে, তা তুলে ধরা হয়েছে এবং তার প্রতি কি দায়িত্ব তা নির্ধারণ করা হয়েছে। একজন মুসলিম তার ভাইকে সুন্দর চরিত্রের প্রতি পথ দেখাবে যাতে সে তা অবলম্বন করে এবং খারাব চরিত্র ধরিয়ে দেবে যাতে সে তা থেকে বেঁচে থাকে। সে তার জন্য কাঁচের আয়নার মতো, যার মধ্যে সে নিজেকে আসলরূপে দেখতে পায়। এ দ্বারা একজন মু’মিনের কল্যাণকামী হওয়া যে ওয়াজিব তাই বুঝানো হয়েছে। যখন সে তার ভাইয়ের কোনো দোষ ও ভুল-ভ্রান্তি সম্পর্কে অবগত হবে, তাকে তার ওপর সতর্ক করবে এবং তাকে তা থেকে সংশোধনের রাস্তা দেখাবে। তবে বিষয়টি যেন তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। কারণ, মানুষের সামনে সংশোধন করা তার জন্য অপমান।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের উদ্দেশ্যে খুতবা দেওয়ার জন্য দাঁড়ালেন আর তাঁর কথার মধ্যে ছিল: আল্লাহ তাঁর নিকট অহী করেছেন যে, মানুষ যেন নিজেদের মধ্যে বিনয়ী হয়, আর তা হল মানুষের কাছে তাদের ডানা নীচু করে এবং ভদ্র হয়ে, যাতে কেউ তাদের বংশ, সম্পদ বা অন্য কিছুর মাধ্যমে কারো উপর মহত্ত্ব, গর্ব বা সম্মান দাবি করে গর্ব না করে এবং কেউ কারো বিরুদ্ধে অন্যায় বা সীমালঙ্ঘন না করে।
সাক্ষাতের সময় হাস্যোজ্জ্বল, হাসি-খুশি ও প্রফুল্ল মনে কারো সাথে দেখা করার ফযীলত হাদীসটিতে প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়াও এতে মানুষের সাথে সুন্দর আচার-আচরণ, উত্তম লেনদেন, ভালো কথাবার্তা ও ভালো কাজের মর্যাদা বর্ণিত হয়েছে। এসব উত্তম কাজ করা প্রতিটি মানুষেরই সাধ্যের মধ্যে। এসব আচরণই মানব সমাজে পরস্পর ভালোবাসা টেনে আনে এবং মিল-মহব্বত স্থায়ী করে।
যে সব কারণে জান্নাত লাভ হয় এবং জাহান্নাম থেকে বাঁচা যায়, মুমিনদের জন্য আল্লাহ তা‘আলা সে সব কারণগুলো সহজ করে দিয়েছেন। এ সব কারণসমূহের একটি অন্যতম কারণ, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার যিকির। হাদীসটি যিকিরের ফযীলত প্রমাণ করে। এটি দুনিয়া ও আখিরাতের বিপদ থেকে মুক্তি লাভের অন্যতম কারণসমূহের একটি। আর তা জাহান্নাম থেকে মুক্তিরও কারণ। এ ফযীলতটিকে যিকিরের ফযীলতসমূহ থেকে মহান ফযীলত বলে বিবেচনা করা হয়।