





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেমে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত, “যে নিজেকে বড় মনে করে এবং চলার পথে অহংকার করে, সে আল্লাহর সাথে এমতাবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে, তিনি তার উপর ক্ষুব্ধ থাকবেন।”
এটি হাকিম বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।হাদীসটি অহংকার ও বড়াই করার প্রতি নিন্দা জ্ঞাপন করছে। আর এই অহংকার ও বড়াই প্রকাশ পায়, তার চলাফেরায়, লেবাস-পোশাকে, কথা-বার্তায় এবং তার সবকিছুতে। আর যার অবস্থা এ ধরনের অহংকার করা হয়, সে মনে মনে নিজেকে অনেক বড় ও মহান মনে করে। সে মনে করে যে, অন্যান্যদের থেকে সে অধিক সম্মান পাওয়ার হকদার। সে কিয়ামতের দিন আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে, এমতাবস্থায় যে তিনি তার ওপর ক্ষুব্ধ থাকবেন।
সাওবান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন কোনো মুসলিম তার মুসলিম ভাইয়ের রোগে দেখা শুশ্রুষা করে তখন সে প্রত্যাবর্তন না করা পর্যন্ত জান্নাতের ফলমূলে অবস্থান করতে থাকে। জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! জান্নাতের ফলমূলে থাকার অর্থ কী? তিনি বললেন, এর ফলমূল সংগ্রহ করা।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।সাওবান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন কোনো মুসলিম তার মুসলিম ভাইয়ের রোগে দেখা-শুনা ও শুশ্রুষা করে তখন সে প্রত্যাবর্তন না করা পর্যন্ত জান্নাতের ফলমূলে অবস্থান করতে থাকে। জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! জান্নাতের ফলমূলে অবস্থান করতে থাকার অর্থ কী? তিনি বললেন, এর ফলমূল সংগ্রহ করা।” অর্থাৎ যতক্ষণ সে রোগীর পাশে থাকবে ততক্ষণ সে জান্নাতের ফল-মূল সংগ্রহ করতে থাকবে। সুতরাং এ হাদীসে রোগীর সেবাকারীর মর্যাদাকে বাগানের ফল সংগ্রহকারীর সাথে তুলনা করা হয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন, হাদীসের অর্থ হলো, জান্নাতের পথে থাকবে। অর্থাৎ সে যতক্ষণ রোগীর সেবা করবে ততক্ষণ সে জান্নাতের পথে হাঁটতে থাকবে। তবে প্রথমোক্ত ব্যাখাটি অধিক উত্তম। রোগীর অবস্থা ও ব্যক্তির পার্থক্য ভেদে রোগীর কাছে বসা না বসার পার্থক্য হয়ে থাকে। কখনো কখনো কোনো কোনো রোগীর পাশে বসা জরুরী আবার কখনো তাদের পাশে বসার প্রয়োজন হয় না। যদি জানা যায় যে, রোগী এ ব্যক্তির সান্নিধ্যে ভালো অনুভব করে এবং এ ব্যক্তি তার পাশে বেশীক্ষণ ধরে থাকুক তা সে পছন্দ করে, তাহলে বেশিক্ষণ থাকাই উত্তম। আর যদি জানা যায় যে, শুশ্রুষাকারীর অল্প সময় থাকাই রোগী পছন্দ করে, তাহলে তার কাছে বেশি সময় ধরে না থাকা উত্তম। অতএব অবস্থাভেদে ব্যবস্থা।
সাহল ইবন সা‘দ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে পানীয় পরিবেশন করা হলে তিনি তা থেকে পান করলেন, আর তাঁর ডান দিকে ছিল একটি বালক এবং বাম দিকে ছিল কয়েকজন বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি। (নিয়ম হলো, ডান দিকে আগে দেওয়া তাই) তিনি বালকটিকে বললেন, “তুমি কি আমাকে অনুমতি দিবে, আমি ঐ বয়স্ক লোকদেরকে আগে পান করতে দিই?” বালকটি বলল, ‘আল্লাহর কসম! হে আল্লাহর রাসূল! আপনার কাছ থেকে আমার ভাগে আসা জিনিসের ক্ষেত্রে আমি কাউকে আমার ওপর অগ্রাধিকার দিব না।’ (সা‘দ বলেন,) ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন পেয়ালাটি তার হাতে তুলে দিলেন।’
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বৃদ্ধদেরকে পানীয় আগে দেওয়ার জন্য বাচ্চাটির অনুমতি চাইলেন। আর তিনি বৃদ্ধদের খুশি করা, তাদের প্রতি মহব্বতের জানান দেওয়া ও তাদের সম্মানকে প্রাধান্য দেওয়ার জন্যই কাজটি করেন, যখন তা করায় সুন্নাহ’র কোনো প্রতিবন্ধকতা না থাকে। এতে এ সুন্নাতটিও অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় যে, ডানে অবস্থানকারী ব্যক্তি আগে পাওয়ার বেশি হকদার। তার অনুমতি ছাড়া অন্যকে দেওয়া যাবে না। আর অনুমতি সাপেক্ষে দেওয়াতে কোনো অসুবিধা নেই। আর সে অনুমতি প্রদানে বাধ্যও নয়। যদি কোনো দীনি কল্যাণ বা আখিরাতের স্বার্থ ক্ষুন্ন হয়, তাহলে তার জন্য উচিৎ হলো অনুমতি না দেওয়া। এ বাচ্চাটি হলো, ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে। কেননা সে পুণ্যবান হলে সম্ভবত তার পুণ্য বৃদ্ধি পাবে। আর পাপী হলে হয়তো তাওবাহ করবে।” এ শব্দ বুখারীর। মুসলিমের অন্য এক বর্ণনায় আছে, আবু হুরায়রা-রাদিয়াল্লাহু আনহু-হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে এবং তা আসার পূর্বে তার জন্য দো‘আ করবে না। কারণ, সে মারা গেলে তার আমল বন্ধ হয়ে যাবে, অথচ মুমিনের আয়ু কেবল মঙ্গলই বৃদ্ধি করে।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: “তোমাদের কেউ মৃত্যু কামনা করবে না।” এখানে নিষেধাজ্ঞার অর্থ হারাম। কেননা, মৃত্যু কামনাতে রয়েছে এক প্রকার আল্লাহর ফায়সালার প্রতি নারাজি। মুমিনের জন্য জরুরি হলো, যখন তার কোনো বিপদ হয় সে ধৈর্য ধারণ করবে। বিপদে ধৈর্য ধারণ করলে সে গুরুত্বপূর্ণ দুটি জিনিস লাভ করবে। প্রথম: গুনাহসমূহের ক্ষমা। “মুসলিমকে যে কোনো চিন্তা, পেরেশানি, কষ্ট ও কোনো কিছু স্পর্শ করে, এমন (তার গায়ে) কাঁটাও লাগে, আল্লাহ তা‘আলা তার বিনিময়ে তার গোনাহসমূহ ক্ষমা করেন।” দ্বিতীয়: যখন আল্লাহর সাওয়াব আশা করার তাওফীক লাভ করবে, আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনায় সবর করবে তখন অবশ্যই সে সাওয়াব প্রাপ্ত হবে। কিন্তু যখন মৃত্যু কামনা করবে তখন বুঝা যাবে যে, লোকটি আল্লাহর ফায়সালার ওপর ধৈর্যশীল ও সন্তুষ্ট নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন যে, যদি সে মুহসিন হয়, তাহলে তার বেঁচে থাকাতে তার নেক আমল বৃদ্ধি পাবে। মুমিন যদিও কষ্ট ও বিপদে বেঁচে থাকে, তার নেক আমলসমূহ বৃদ্ধি পায়। আর যদি পাপীও হয়, যে গুনাহ করেছে, সে হয়তো আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবে, তার মনোনিবেশ কামনা করবে; অর্থাৎ তার সন্তুষ্টি চাইবে ও ওযর পেশ করবে। তারপর গুনাহসমূহ থেকে তাওবা করাবস্থায় মারা যাবে। সুতরাং মৃত্যু কামনা করবে না। কারণ, সবকিছুই নির্ধারিত, সবর করবে এবং সাওয়াবের আশা করবে। আর সব সময় অবস্থা একই থাকবে এটা অসম্ভব। তাছাড়া মৃত্যু কামনা ও তার জন্য দো‘আ করতে নিষেধ করার মধ্যে এদিকে ইঙ্গিত রয়েছে যে, মৃত্যুর দ্বারা আমল বন্ধ করার দো‘আ করা হয়। কারণ, হায়াত আমলের মাধ্যম। আর আমল দ্বারা অধিক সাওয়াব লাভ হয়। যদি তাওহীদের ওপর থাকা ছাড়া আর কোনো কিছু না হয় তাও সবচেয়ে উত্তম আমল। এখানে এ প্রশ্ন করা যায় না যে, হতে পারে সে ঈমান হারা হয়ে মুরতাদ হিসেবে মারা যাবে। কারণ, এ ধরনের ঘটনা খুব কম ঘটে। অধিকন্তু ঈমান যখন অন্তরের গভীরে পৌঁছে যায় তখন কেউ তা অপছন্দ করে না। আর যদি এ ধরনের ঘটনা ঘটেও, আর ঘটেছেও বটে তবে খুব কম, কিন্তু যার ভাগ্যে আল্লাহর ইলমে মন্দ পরিণতি রয়েছে, সেটা তাকে স্পর্শ করবেই। তার হায়াত কম হোক বা বেশি হোক। সুতরাং মৃত্যু কামনা করে তাড়াহুড়া করার মধ্যে তার জন্য কোনো কল্যাণ নেই। অনুরূপভাবে এ হাদীস মুহসিনদেরকে ইহসানের কর্মের প্রতি উৎসাহী হওয়া আর অপরাধীদেরকে অপরাধ থেকে সতর্ক করার প্রতি ইঙ্গিত করছে। যেন তিনি বললেন, যে ব্যক্তি মুহসিন সে যেন মৃত্যু কামনা ছেড়ে দেয়, বেশি করে নেক আমল করতে থাকে। আর যে ব্যক্তি অপরাধী সেও যেন মৃত্যু কামনা ছেড়ে দেয় এবং অপরাধ থেকে সরে আসে, যাতে অপরাধ করা অবস্থায় মারা না যায়, কারণ অপরাধ করা অবস্থায় মারা যাওয়ার পরিণতি ভয়াবহ।
আবূ রিফা‘আহ তামীম ইবন উসাইদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট গেলাম তখন তিনি খুৎবা দিচ্ছিলেন। অতঃপর আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসুল! একজন অপরিচিত মানুষ, নিজের দীন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে এসেছে, সে জানে না তার দীন কী?’ (এ কথা শুনে) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার দিকে ফিরলেন এবং খুৎবা দেওয়া বর্জন করলেন; এমনকি তিনি আমার নিকটে আসলেন। অতঃপর একটি চেয়ার আনা হলো। তিনি তার উপর বসে আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে যা শিক্ষা দিয়েছেন তা থেকে আমাকে শিখাতে লাগলেন। অতঃপর তিনি খুৎবায় ফিরে এসে তার শেষাংশটুকু পূর্ণ করলেন।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিনয়ের এটি একটি ঘটনা। একদা তিনি খুৎবা দিচ্ছিলেন, এমন সময় এক ব্যক্তি এসে বলল, একজন অপরিচিত লোক এসেছে, সে তার দীন সম্পর্কে জানতে চায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভাষণ বন্ধ করে তার দিকে দ্রুত অগ্রসর হলেন এবং তার কাছে এসে পৌঁছলেন। অতঃপর তাঁর কাছে একটি চেয়ার নিয়ে আসা হলো। তিনি এ লোকটিকে দীন শিক্ষা দিচ্ছিলেন। কারণ, লোকটি অাগ্রহ করে জ্ঞানের মহব্বতে ছুটে এসেছে। সে আমল করার উদ্দেশ্যে দীন শিখতে চায়। এ কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুৎবা দেওয়া মুলতবি করে তার দিকে অগ্রসর হলেন এবং তাকে দীন শিক্ষা দিলেন। অতঃপর তিনি তার অসম্পন্ন ভাষণ পরিপূর্ণ করলেন।
আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি একবার বাচ্চাদের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি তাদেরকে সালাম দিলেন এবং তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে করতেন (অর্থাৎ তিনিও বাচ্চাদেরকে সালাম দিতেন)।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।এ হাদীসে বিনয় ও সকলকে সালাম দিতে উৎসাহ প্রদান এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিনয় সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্যতম বিনয় ছিল তিনি যখন বাচ্চাদের পাশ দিয়ে যেতেন তখন তিনি তাদেরকে সালাম দিতেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীরা তাঁর অনুসরণ করতেন। যেমন, আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি একবার বাচ্চাদের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি তাদেরকে সালাম দিলেন। তিনি বাজারে খেলারত বাচ্চাদের পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে তাদেরকে সালাম দিতেন এবং তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে করতেন অর্থাৎ তিনিও বাচ্চাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলে তাদেরকে সালাম দিতেন)। আর বাচ্চাদেরকে সালাম দেওয়া হলো ব্যক্তির বিনয় ও উত্তম আদর্শের প্রমাণ, তাছাড়া এভাবে সালাম দেওয়া তাদেরকে সুশিক্ষা, উপদেশ ও পথ নির্দেশনা শিক্ষা দেওয়া। কেননা মানুষ যখন ছোটদেরকে সালাম দিবে তারাও সালাম দিতে অভ্যস্থ হবে এবং তাদের অন্তরে সালাম দেওয়ার প্রেরণা জাগ্রত হবে।
আবূ মূসা আশ-আশ‘আরী রাদিয়াল্লাহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন ব্যক্তিকে অপর এক ব্যক্তির প্রশংসা করতে শোনেন। আর সে প্রশংসায় বাড়াবাড়ি করছিল। তখন তিনি বললেন, তুমি তাকে ধ্বংস করলে অথবা তিনি বললেন, লোকটির পিট ভেঙ্গে দিলে।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন ব্যক্তিকে অপর এক ব্যক্তির ভালোা প্রশংসা করতে শোনেন। তবে লোকটি প্রশংসায় খুব বাড়াবাড়ি করছিল। তার এমন সব ভালো গুণাগুণ আলোচনা করছিল যা তার মধ্যে নেই। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম না করলেন এবং তিনি জানালেন যে, এটি তার ধ্বংসের কারণ হতে পারে। কারণ, এতে প্রশংসিত ব্যক্তি নিজেকে বড় মনে করতে বা বড়াই করতে সুযোগ পায়।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এক ব্যক্তি অন্য একজনের (তার সামনে) প্রশংসা করলে নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘হায় হায়! তুমি তোমার সাথীর গর্দান কেটে ফেললে!’ এরূপ বার-বার বলার পর তিনি বললেন, “তোমাদের কাউকে যদি প্রশংসা করতেই চায়, তাহলে সে বলবে, ‘আমি ওকে এরূপ মনে করি’ (যদি জানে যে, সে প্রকৃতই এরূপ) ‘এবং আল্লাহ তার যথার্থ পর্যবেক্ষক। আর আল্লাহর (জ্ঞানের) উপর কাউকে পবিত্র ঘোষণা করবে না।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।হাদীসটিতে একটি বরকতপূর্ণ সুন্নাতের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ একজন মুসলিম প্রশংসার ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি থেকে অবশ্যই বিরত থাকবে। কারণ, আত্মতৃপ্তি ও অহংকার শয়তানের একটি প্রবেশদ্বার। প্রশংসা ও সুনামের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ির ফলে প্রশংসিত ব্যক্তি আত্মতৃপ্তি ও অহংকারীতে লিপ্ত হতে পারে, যার ফলে সে ধ্বংস হবে। সুতরাং একজন মুসলিম কারো প্রশংসা ও সুনাম করার ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করবে এবং মানুষের বিষয়টি আল্লাহ সুবহানাহুর নিকট সোপর্দ করবে, যিনি মানুষের অন্তরের যাবতীয় বিষয় জানেন।
আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শত্রুদের দেশে কুরআন নিয়ে ভ্রমণ করতে নিষেধ করেছেন।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআন নিয়ে কাফিরদের দেশে ভ্রমণ করতে নিষেধ করেছেন, যারা ইসলামকে দীন হিসেবে গ্রহণ করেনি। কারণ, সেখানে অপমানের সম্মুখীন হতে পারে। আর যদি নিরাপত্তার ধারণা অধিক হয় তাহলে তাদের দেশে কুরআন নিয়ে ভ্রমণে কোনো অসুবিধা নেই।