





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন আমার চাচা অনাস ইবন নাদ্বর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বদরের যুদ্ধের সময় অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! মুশরিকদের সঙ্গে আপনি প্রথম যুদ্ধ করেছেন, আমি সে সময় অনুপস্থিত ছিলাম। আল্লাহ যদি আমাকে মুশরিকদের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধে শরীক হওয়ার সুযোগ দেন তাহলে অবশ্যই আল্লাহ দেখতে পাবেন যে আমি কী করি। তারপর উহুদের যুদ্ধে মুসলিমরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়লে আনাস ইবন নাদ্বর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেছিলেন, হে আল্লাহ! এরা অর্থাৎ তার সাথীরা যা করেছেন, তার সম্বন্ধে আপনার কাছে ওযর পেশ করছি এবং এরা অর্থাৎ মুশরিকরা যা করেছে তা থেকে আমি নিজেকে সম্পর্কহীন বলে ঘোষণা করছি। তারপর তিনি এগিয়ে গেলেন এবং সা‘দ ইবন মু‘আযের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হলো। তিনি বললেন, হে সা‘দ ইবন মু‘আয, কা‘বার রবের কসম, উহুদের দিক থেকে আমি জান্নাতের সুগন্ধ পাচ্ছি। সা‘দ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি যা করেছেন, আমি তা করতে পারি নি। আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, আমরা তাকে এমতাবস্থায় পেয়েছি যে, তার দেহে আশিটিরও বেশি তলোয়ার, বর্শা ও তীরের যখম রয়েছে। আমরা তাকে নিহত অবস্থায় পেলাম। মুশরিকরা তার দেহ বিকৃত করে ফেলেছিল। তার বোন ছাড়া কেউ তাকে চিনতে পারে নি এবং বোন তার আঙ্গুলের ডগা দেখে চিনতে পেরেছিল। আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, আমাদের ধারণা, কুরআনের এই আয়াত, {من المؤمنين رجال صدقوا ما عاهدوا الله عليه} “মুমিনদের মধ্যে কিছু লোক রয়েছে যারা আল্লাহর সাথে কৃত তাদের প্রতিশ্রুতি সত্যে বাস্তবায়ন করেছেন।” [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: 23] শেষাংশ পর্যন্ত তার এবং তার মত মুমিনদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তার চাচা অানাস ইবন নাদ্বর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর ঘটনা বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, তার চাচা বদরের যুদ্ধের সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে উপস্থিত ছিলেন না। কেননা বদরের যুদ্ধের সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাফিরদের বিরুদ্ধে মূলত যুদ্ধ করতে বের হন নি; বরং কুরাইশ কাফেলাকে প্রতিহত করতে বের হয়েছিলেন। ফলে তাঁর সাথে মাত্র তিনশত দশের সামান্য বেশি (তিনশত তেরোজন) সৈন্য, সত্তরটি উট ও দু’টি ঘোড়া ছিলো। আনাস ইবন নাদ্বর রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর সাথে মুশরিকদের বিরুদ্ধে প্রথম যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করার কথা উল্লেখ করে বললেন, আল্লাহ যদি আমাকে মুশরিকদের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধে শরীক হওয়ার সুযোগ দেন তাহলে অবশ্যই আল্লাহ দেখতে পাবেন যে আমি কী করি। বদরের যুদ্ধের একবছর একমাস পরে উহুদের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। লোকজন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে যুদ্ধে বের হলেন এবং তাঁর সাথে মুশরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলেন। দিনের প্রথমভাগে যুদ্ধ মুসলিমদের পক্ষেই ছিল; কিন্তু তীরন্দাজ বাহিনী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক নির্ধারিত স্থান থেকে সরে আসেন। অথচ তিনি তাদেরকে শত্রুর মোকাবিলা করার সময় সেখানে অটল থাকতে নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং স্থান ত্যাগ করতে বারণ করেছিলেন।মুশরিকরা যুদ্ধে পরাজিত হয়ে ভেগে পালায়ন করার সময় তাদের মধ্যে কতিপয় লোক মুসলিমদের ত্যাগ করা স্থান দিয়ে আবার যুদ্ধের ময়দানে প্রবেশ করে। ফলে কুরাইশ অশ্বারোহীদল সেদিক থেকে মুসলিমদের উপর অতর্কিত হামলা করে। ফলে মুসলিমগণ ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন। কিন্তু আনাস ইবন নাদ্বর রাদিয়াল্লাহু আনহু তিনি কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অগ্রসর হন এবং বলেন, হে আল্লাহ! এরা অর্থাৎ তার সাথীরা যা করেছেন, তার সম্বন্ধে আপনার কাছে ওযর পেশ করছি এবং এরা অর্থাৎ মুশরিকরা যা করেছে তা থেকে আমি নিজেকে সম্পর্কহীন বলে ঘোষণা করছি। তারপর তিনি যুদ্ধে সম্মুখে এগিয়ে গেলেন এবং সা‘দ ইবন মু‘আযের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হলো। তিনি বললেন, হে সা‘দ, উহুদের দিক থেকে আমি জান্নাতের সুগন্ধ পাচ্ছি। এ ছিল তার প্রকৃত অনুভূতি, কাল্পনিক বা ধারণাকৃত বিষয় নয়। কেননা এটি আল্লাহর অনুগ্রহ যে, তিনি শহীদ হওয়ার পূর্বে তাকে জান্নাতের সুঘ্রাণ প্রদান করলেন। ফলে তিনি যুদ্ধে অগ্রসর হলেন এবং শহীদ হলেন। সা‘দ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি যা করেছেন, আমি তা করতে পারি নি। অর্থাৎ তিনি যে কঠোর পরিশ্রম দিয়েছেন আমি তার মতো পারি নি। বর্ণনাকারী আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, আমরা তাকে এমতাবস্থায় পেয়েছি যে, তার দেহে আশিটিরও বেশি তলোয়ার, বর্শা ও তীরের যখম রয়েছে। আমরা তাকে নিহত অবস্থায় পেলাম। মুশরিকরা তার দেহ বিকৃত করে ফেলেছিল। তার বোন ছাড়া কেউ তাকে চিনতে পারে নি এবং বোন তার আঙ্গুলের ডগা দেখে চিনতে পেরেছিল। ফলে মুসলিমগণ মনে করতেন যে, আনাস ইবন নাদ্বর রাদিয়াল্লাহু আনহু ও তার মতো লোকদের জন্যই কুরআনের এই আয়াত, {من المؤمنين رجال صدقوا ما عاهدوا الله عليه} “মুমিনদের মধ্যে কিছু লোক রয়েছে যারা আল্লাহর সাথে কৃত তাদের প্রতিশ্রুতি সত্যে বাস্তবায়ন করেছে।” [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ২৩] নাযিল হয়েছে। সত্যিকারার্থেই তিনি আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা পালন করেছিলেন। যেহেতু তিনি বলেছিলেন, আল্লাহ যদি আমাকে মুশরিকদের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধে শরীক হওয়ার সুযোগ দেন তাহলে অবশ্যই আল্লাহ দেখতে পাবেন যে আমি কী করি।" তিনি যা অঙ্গিকার করেছিলেন তা পালন করেছিলেন। ফলে তিনি এমন কিছু করেছেন যা আল্লাহর অনুগ্রহ ব্যতীত অনেকেই করতে পারেন নি; এমনকি তিনি শহীদ হয়েছেন।
তোমাদের পূর্বে যারা ছিলো তাদের মধ্যে এক লোক ছিলো যে নিরানব্বই জনকে হত্যা করেছিলো। সে পৃথিবীর সবচেয়ে জ্ঞানী ব্যক্তি সম্পর্কে জানতে চাইলো। তাকে এক পাদ্রীকে দেখিয়ে দেওয়া হলো। সে তার কাছে গিয়ে বলল, সে নিরানব্বই জনকে হত্যা করেছে, তার কোনো তাওবা আছে? পাদ্রী বলল, না। তখন সে তাকেও হত্যা করলো। তাকে দিয়ে শত পূর্ণ করলো। অতঃপর সে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আলেম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলো। তাকে একজন আলেমের সন্ধান দেয়া হলো। তারপর বললো, সে একশটি প্রাণ বধ করেছে, তার জন্য কি কোনো তাওবা আছে? তিনি বললেন, হ্যা। সে এবং তাওবার মাঝে কে প্রতিবন্ধক হবে? তুমি অমুক ভূমিতে গমন করো। সেখানে কিছু লোক আছে যারা আল্লাহর ইবাদত করে; তুমিও তাদের সঙ্গে আল্লাহর ইবাদত করো। আর নিজের ভূমিতে ফিরবে না। কারণ, তা মন্দের ভূমি। সে চলতে লাগলে মাঝামাঝি পৌঁছতে তার মৃত্যু এসে উপস্থিত হলো। তখন তাকে নিয়ে রহমত ও আযাবের ফিরিশতারা বসচায় লিপ্ত হলেন। রহমতের ফিরিশতারা বললেন, সে সহৃদয়ে আল্লাহু মুখী হয়ে তাওবা করতে এসেছে, আর আযাবের ফিরিশতারা বললেন, সে তো কখনো ভালো কাজ করেনি। ইত্যবসরে তাদের নিকট মানবের বেশে এক ফিরিশতা আবির্ভূত হলেন। তারা তাকে নিজেদের মাঝে মিমাংসাকারী বানালো। তিনি বললেন, দুই ভূমির পরিমাপ করো দেখ, যে ভূমির দিকে সে তুলনামূলক বেশি অগ্রসর, সে ওই দিকেরই পরিগণিত হবে। তারা পরিমাপ করে পেল যে, সে তার অভিষ্ট্য ভূমির বেশি কাছে। ফলে তাকে রহমতের ফিরিশতারাই কব্জা করলেন। সহীহ'র অন্য বর্ণনা মতে, 'সে নেকীর এলাকা পানে এক বিঘত বেশি অগ্রসর থাকায় তাকে তারই অন্তর্ভুক্ত করা হয়।' সহীহ'র অন্য বর্ণনা মতে, 'আল্লাহ তা‘আলা একে (জমিকে) প্রত্যাদেশ দিলেন, তুমি কিছুটা দূরে যাও। আর ওকে (জমিকে) বললেন, তুমি কাছে আসো এবং বললেন, এখন উভয়টি পরিমাপ করো। তারা তখন তাকে এর দিকে এক বিঘত অগ্রসর পেলেন। ফলে তাকে ক্ষমা করা হলো।' অন্য বর্ণনায়, ফলে সে তার বক্ষ দ্বারা তার (ভালো গ্রামের) দিকে এগিয়ে যায়।'
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আমাদের পূর্ববর্তী এক জাতিতে এক লোক ছিলো যে নিরানব্বইটি প্রাণ হরণ করেছিলো। অতপর সে অনুতপ্ত হলো এবং পৃথিবীর সবচেয়ে জাননেওয়ালা ব্যক্তি সম্পর্কে জানতে চাইলো। সে তাকে জিজ্ঞেস করবে তার তাওবা আছে কিনা? তাকে এক লোক দেখিয়ে দেওয়া হলো। দেখলো লোকটি আবেদ তবে তার কাছে কোনো ইলম নেই। তিনি জানতে চাইলে জানালো যে সে নিরানব্বই জনকে হত্যা করেছে, তার কি কোনো তাওবা আছে? পাদ্রীটি এই পাপকে গুরুতর মনে করে বলল, না তোমার কোনো তাওবা নেই। তখন সে ক্ষুব্ধ হয়ে পাদ্রীকেও হত্যা করে ফেললো। তাকে দিয়ে সে শতক পূর্ণ করলো। অতঃপর সে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আলেম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলো। তাকে একজন আলেমের সন্ধান দেওয়া হলো। তারপর বললো, সে একশটি প্রাণ বধ করেছে, তার জন্য কি কোনো তাওবা আছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। সে এবং তাওবার মাঝে কে প্রতিবন্ধক হবে? তুমি অমুক ভূমিতে গমন করো। সেখানে এক জাতি আছে যারা আল্লাহর ইবাদত করে। আর সে যেখানে থাকত সেটি ছিলো (আল্লাহই ভালো জানেন) কুফরভূমি। এই আলেম তাকে নির্দেশ দিলেন নিজের দীন নিয়ে এ ভূমিতে হিজরত করতে, যেখানে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা'লার ইবাদত করা হয়। তুমিও তাদের সঙ্গে আল্লাহর ইবাদত করো। আর নিজের ভূমিতে ফিরবে না। কারণ তা মন্দের ভূমি। সে চলতে লাগলে মাঝামাঝি পৌঁছতে তার মৃত্যু এসে উপস্থিত হলো। তখন তাকে নিয়ে রহমত ও আযাবের ফেরেশতারা বসচায় লিপ্ত হলেন। রহমতের ফিরিশতারা বললেন, সে আল্লাহ তা‘আলার কাছে সহৃদয়ে এসেছে তাওবা করতে। আযাবের ফিরিশতারা বললেন, সে তো কখনো ভালো কাজ করেনি। ইত্যবসরে তাদের মাঝে মানবের বেশে এক ফিরিশতা আবির্ভূত হলেন। তারা তাকে নিজেদের মাঝে মিমাংসাকারী বানালো। তিনি বললেন, দুই ভূমির পরিমাপ করো দেখ, যে ভূমির দিকে সে তুলনামূলক বেশি অগ্রসর, সে ওই দিকেরই পরিগণিত হবে। তারা তাকে অভিষ্ট্য পানের বেশি কাছে পেল। ফলে তাকে রহমতের ফিরিশতারা কব্জা করলেন। সহীহ'র অন্য বর্ণনা মতে, 'সে নেকীর এলাকা পানে এক বিঘত বেশি অগ্রসর থাকায় তাকে তারই অন্তর্ভুক্ত করা হয়।' সহীহ'র অন্য বর্ণনা মতে, 'আল্লাহ তা‘আলা একে প্রত্যাদেশ দিলেন, তুমি কিছুটা দূরে যাও। আর ওকে বললেন, তুমি কাছে আসো। বললো, এখন উভয়টি পরিমাপ করো। তারা তখন তাকে এর দিকে এক বিঘত অগ্রসর পেলেন। ফলে তাকে ক্ষমা করা হলো।' অন্য বর্ণনায়, ফলে সে তার বক্ষ দ্বারা তার (ভালো গ্রামের) দিকে এগিয়ে যায়।'
সা‘দ ইবন আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে আসেন। তখন তিনি বলেন, “হে আল্লাহ! আপনি সা‘দকে আরোগ্য দান করুন, হে আল্লাহ! আপনি সা‘দকে আরোগ্য দান করুন, হে আল্লাহ! আপনি সা‘দকে আরোগ্য দান করুন”
মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম), তবে শব্দ সহীহ মুসলিমের।সা‘দ ইবন আবি ওয়াক্কাস থেকে বর্ণিত হাদীস: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার অসুস্থতার মধ্যে তাকে দেখতে এসে তিনবার বললেন, “হে আল্লাহ! আপনি সা‘দকে আরোগ্য দান করুন”। হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, কোনো মুসলিম অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাওয়া সুন্নাত। হাদীস দ্বারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লামের উত্তম চরিত্র ও তার সাহাবীগণের সাথে সুন্দর ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি তাদের অসুস্থকে দেখতে যেতেন এবং তাদের জন্য দো‘আ করতেন। হাদীস দ্বারা আরও প্রমাণিত হয় যে, “হে আল্লাহ অমুককে (রোগীর নাম ধরে) আপনি আরোগ্য দান করুন” এ কথাটি তিনবার বলে দো‘আ করা মুস্তাহাব। কেননা, এটি অসুস্থ ব্যক্তির আরোগ্য লাভের কারণ হয়।
হাম্মাম ইবনে হারেস হতে বর্ণিত, তিনি মিকদাদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণনা করেছেন; এক ব্যক্তি উসমান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু-এর প্রশংসা শুরু করলে মিকদাদ হাঁটুর উপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে তার মুখে কাঁকর ছিটাতে শুরু করলেন। তখন উসমান তাঁকে বললেন, ‘ কী ব্যাপার তোমার?’ তিনি বললেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা (মুখোমুখি) প্রশংসাকারীদের দেখলে তাদের মুখে ধুলো ছিটিয়ে দিয়ো।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।মিকদাদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বর্ণনা করেন; এক ব্যক্তি উসমান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু-এর সামনেই তাঁর প্রশংসা শুরু করলে মিকদাদ তার স্বীয় হাঁটুর উপর ভর দিয়ে বসলেন এবং ছোট ছোট পাথর কুড়িয়ে প্রশংসাকারীর মুখে নিক্ষেপ করলেন। তখন উসমান তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ কী ব্যাপার তুমি এমন করলে কেন?’ তিনি বললেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মুখোমুখি) প্রশংসাকারীদের দেখলে তাদের মুখে ধুলো ছিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।”
‘উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু মাল বন্টন করলেন। অতঃপর আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! অন্য লোকেরা এদের চেয়ে এ মালের বেশি হকদার ছিল।’ তিনি বললেন, “এরা আমাকে দু’টির মধ্যে একটি গ্রহণ করতে বাধ্য করেছে। হয় তারা আমার নিকট অভদ্রতার সাথে চাইবে অথবা তারা আমাকে কৃপণ আখ্যায়িত করবে, অথচ আমি কৃপণ নই।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট যে সম্পদ এসেছে তা তিনি কিছু লোকের মধ্যে বন্টন করেছেন আর কিছু লোককে দেন নি। তখন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তাকে বললেন, আপনি কি তাদের দিবেন না, যাদের এখনো দেন নাই, অথচ তারাই বেশি হকদার, ওদের থেকে যাদেরকে আপনি দিয়েছেন? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তারা তাদের ঈমানের দুর্বলতার কারণে আমার উপর চাপাচাপি করছে এবং তাদের অবস্থা এমন ছিল যে, তারা আমাকে খারাপ ভাষা ব্যবহার করে (সম্পদ) চাইবে অথবা আমাকে কৃপণ আখ্যায়িত করবে। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে প্রদান করাই পছন্দ করলেন, কারণ কৃপণতা তার চরিত্র নয়, আর তার উদ্দেশ্য হচ্ছে তাদের সাথে ভদ্রতা প্রদর্শন ও তাদের আকৃষ্ট করা।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের একজন সচিব আবূ রিব‘ঈ হানযালাহ ইবন রাবী‘ আল-উসাইয়িদী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, একদা আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বললেন, ‘হে হানযালাহ! তুমি কেমন আছ?’ আমি বললাম, ‘হানাযালাহ মুনাফিক হয়ে গেছে!’ তিনি (আশ্চর্য হয়ে) বললেন, ‘সুবহানাল্লাহ! এ কি কথা বলছ?’ আমি বললাম, ‘আমরা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে থাকি, তিনি আমাদের সামনে জান্নাত ও জাহান্নামের আলোচনা করেন, যেন আমরা তা স্বচক্ষে দেখছি। অতঃপর যখন আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে বের হয়ে আসি, তখন স্ত্রী, সন্তান, ও অন্যান্য কারবারে ব্যস্ত হয়ে অনেক কিছু ভুলে যাই।’ আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন, ‘আল্লাহর কসম! আমাদেরও এই অবস্থা হয়।’ সুতরাং আমি ও আবূ বকর গিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে হাযির হলাম। অতঃপর আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! হানযালাহ মুনাফিক হয়ে গেছে।’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “সে কি কথা?” আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমরা যখন আপনার নিকটে থাকি, তখন আপনি আমাদেরকে জান্নাত-জাহান্নামের কথা শুনান; যেন আমরা তা প্রত্যক্ষভাবে দেখছি। অতঃপর আমরা যখন আপনার নিকট থেকে বের হয়ে যাই এবং স্ত্রী, সন্তান ও কারবারে ব্যস্ত হয়ে পড়ি, তখন অনেক কথা ভুলে যাই। (এ কথা শুনে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ আছে! যদি তোমরা সর্বদা এই অবস্থায় থাকতে, যে অবস্থাতে তোমরা আমার নিকটে থাক এবং সর্বদা আল্লাহর স্মরণে মগ্ন থাকতে, তাহলে ফিরিশতাগণ তোমাদের বিছানায় ও তোমাদের পথে তোমাদের সঙ্গে মুসাফাহা করতেন। কিন্তু ওহে হানযালাহ! (সর্বদা মানুষের এক অবস্থা থাকে না।) কিছু সময় (ইবাদতের জন্য) ও কিছু সময় (সাংসারিক কাজের জন্য)।” তিনি এ কথা তিনবার বললেন।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।হানযালাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু আবূ বকর সিদ্দিককে এ সু-বংবাদ দেন যে, তিনি যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থাকেন তখন তার যে অবস্থা হয়, অন্য সময় সেই অবস্থা হয় না। কারণ, তখন তারা আল্লাহকে স্মরণ-যিকির করার অবস্থায় থাকেন। আর যখন তারা ছেলে-মেয়ে, স্ত্রী ও দুনিয়াদারিতে লিপ্ত হন, তখন তাদের অবস্থা পরিবর্তন হয়। তিনি ধারণা করলেন এটি কপটতা বা নিফাক। কারণ, নিফাকের হাকীকত হচ্ছে অভ্যন্তর যে অবস্থা আছে বাইরে তার বিপরীত প্রকাশ করা। তারপর যখন তারা বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জানালো, তিনি তাদের বললেন, আমার নিকট থাকার সময় তোমাদের যে অবস্থা হয় তা যদি তোমাদের সব সময় থাকতো, তাহলে ফিরিশতাগণ হাত দ্বারা সালাম করত, এবং তোমাদের সর্বাবস্থায়। কিন্তু ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থা হওয়াই উচিত। কিছু সময় স্বীয় রবের জন্য আর কিছু সময় পরিবার পরিজন ও দুনিয়ার জন্য।
আবূ খুবাইব আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর(রাদ্বিয়াল্লাহু ‘‘আনহুমা) বলেন, যখন আমার পিতা যুবাইর)‘জামাল’ যুদ্ধের দিন দাঁড়ালেন, তখন তিনি আমাকে ডাকলেন। সুতরাং আমি তাঁর পাশে দাঁড়ালাম। অতঃপর তিনি বললেন, ‘হে বৎস! আজকের দিন যারা খুন হবে সে অত্যাচারী হবে অথবা অত্যাচারিত। আমার ধারণা যে, আমি আজকে অত্যাচারিত হয়ে খুন হয়ে যাব। আর আমার সবচেয়ে বড় চিন্তা আমার ঋণের। (হে আমার পুত্র!) তুমি কি ধারণা করছ যে, আমার ঋণ আমার কিছু সম্পদ অবশিষ্ট রাখবে (অর্থাৎ ঋণ পরিশোধ করার পর কিছু মাল বেচে যাবে)?’ অতঃপর তিনি বললেন, ‘হে আমার পুত্র! তুমি আমার সম্পদ বেচে আমার ঋণ পরিশোধ করে দিও।’ আর তিনি এক তৃতীয়াংশ সম্পদ অসিয়ত করলেন এবং এক তৃতীয়াংশের এক তৃতীয়াংশ তাঁর অর্থাৎ আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু-এর ছেলেদের জন্য অসিয়ত করলেন। তিনি বললেন, ‘যদি ঋণ পরিশোধ করার পর আমার কিছু সম্পদ বেঁচে যায়, তাহলে তার এক তৃতীয়াংশ তোমার ছেলেদের জন্য।’ (হাদীসের এক রাবী) হিশাম বলেন, আব্দুল্লাহর কিছু ছেলে যুবাইরের কিছু ছেলে খুবাইব ও আববাদের সমবয়স্ক ছিল। সে সময় তাঁর নয়টি ছেলে ও নয়টি মেয়ে ছিল। আব্দুল্লাহ বলেন, অতঃপর তিনি (যুবাইর) তাঁর ঋণের ব্যাপারে আমাকে অসিয়ত করতে থাকলেন এবং বললেন, ‘হে বৎস! যদি তুমি ঋণ পরিশোধ করতে অপারগ হয়ে যাও, তাহলে তুমি এ ব্যাপারে আমার মওলার সাহায্য নিও।’তিনি (আব্দুল্লাহ) বলেন, আল্লাহর কসম! তাঁর উদ্দেশ্য আমি বুঝতে পারলাম না। পরিশেষে আমি বললাম, ‘আব্বাজান! আপনার মওলা কে?’ তিনি বললেন, ‘আল্লাহ।’ আব্দুল্লাহ বলেন, অতঃপর আল্লাহর কসম! আমি তাঁর ঋণের ব্যাপারে যখনই কোন অসুবিধায় পড়েছি তখনই বলেছি, ‘হে যুবাইরের মওলা! তুমি তাঁর পক্ষ থেকে তাঁর ঋণ আদায় করে দাও।’ সুতরাং আল্লাহ তা আদায় করে দিয়েছেন।আব্দুল্লাহ বলেন, (সেই যুদ্ধে) যুবাইর খুন হয়ে গেলেন এবং তিনি (নগদ) একটি দীনার ও দিরহামও ছেড়ে গেলেন না। কেবল জমি-জায়গা ছেড়ে গেলেন; তার মধ্যে একটি জমি ‘গাবাহ’ ছিল আর এগারোটি ঘর ছিল মদীনায়, দু’টি বাসরায়, একটি কুফায় এবং একটি মিসরে।তিনি বলেন, আমার পিতার ঋণ এইভাবে হয়েছিল যে, কোনো লোক তাঁর কাছে আমানত রাখার জন্য মাল নিয়ে আসত। অতঃপর যুবাইর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলতেন, ‘না, (আমানত হিসাবে নয়) বরং তা আমার কাছে ঋণ হিসাবে থাকবে। কেননা, আমি তা নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছি।’ (কারণ আমানত নষ্ট হলে তা আদায় করা জরুরী নয়, কিন্তু ঋণ আদায় করা সর্বাবস্থায় জরুরী)।তিনি কখনও গভর্নর হননি, না কদাচ তিনি ট্যাক্স, খাজনা বা অন্য কোন অর্থ আদায় করার দায়িত্ব নিয়েছিলেন।(যাতে তাঁর মাল সংগ্রহে কোন সন্দেহ থাকতে পারে।) অবশ্য তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবূ বাকর, উমর ও উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুমদের সঙ্গে জিহাদে অংশ নিয়েছিলেন (এবং তাতে গনীমত হিসাবে যা পেয়েছিলেন সে কথা ভিন্ন)। আব্দুল্লাহ বলেন, একদা আমি তাঁর ঋণ হিসাব করলাম, তো (সর্বমোট) ২২ লাখ পেলাম। অতঃপর হাকীম ইবনে হিযাম আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন। হাকীম বললেন, ‘হে ভাতিজা! আমার ভাই (যুবাইর)এর উপর কত ঋণ আছে?’ আমি তা গোপন করলাম এবং বললাম, ‘এক লাখ।’ পুনরায় হাকীম বললেন, ‘আল্লাহর কসম! আমার মনে হয় না যে, তোমাদের সম্পদ এই ঋণ পরিশোধে যথেষ্ট হবে।’ আব্দুল্লাহ বললেন, ‘ কী রায় আপনার যদি ২২ লাখ হয়?’ তিনি বললেন, ‘আমার মনে হয় না যে, তোমরা এ পরিশোধ করার ক্ষমতা রাখো। সুতরাং তোমরা যদি কিছু পরিশোধে অসমর্থ হয়ে পড়, তাহলে আমার সহযোগিতা নিও।’ যুবাইর এক লাখ সত্তর হাজারের বিনিময়ে ‘গাবাহ’ কিনেছিলেন।অতঃপর আব্দুল্লাহ সেটি ১৬ লাখের বিনিময়ে বিক্রি করলেন। অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে ঘোষণা করলেন যে, ‘যুবাইরের উপর যার ঋণ আছে সে আমার সঙ্গে ‘গাবাহ’তে সাক্ষাৎ করুক।’ (ঘোষণা শুনে) আব্দুল্লাহ ইবনে জা’ফর তাঁর নিকট এলেন। যুবাইরকে দেওয়া তাঁর ৪ লাখ ঋণ ছিল। তিনি আব্দুল্লাহকে বললেন, ‘তোমরা যদি চাও, তবে এ ঋণ তোমাদের জন্য মওকুফ করে দেব?’ আব্দুল্লাহ বললেন, ‘না।’ তিনি বললেন, ‘যদি তোমরা চাও যে, ঋণ (এখন আদায় না করে) পরে আদায় করবে, তাহলে তাও করতে পার।’ আব্দুল্লাহ বললেন, ‘না।’ তিনি বললেন, ‘তাহলে তুমি আমাকে এই জমির এক অংশ দিয়ে দাও।’ আব্দুল্লাহ বললেন, ‘এখান থেকে এখান পর্যন্ত তোমার রইল।’ অতঃপর আব্দুল্লাহ ঐ জমি (ও বাড়ি)র কিছু অংশ বিক্রি করে তাঁর (পিতার) ঋণ পরিপূর্ণরূপে পরিশোধ করে দিলেন। আর ঐ ‘গাবাহ’র সাড়ে চার ভাগ বাকী থাকল। অতঃপর তিনি মুআবিয়াহর কাছে এলেন এমতাবস্থায় যে, তাঁর কাছে ‘আমর ইবনে উসমান, মুনযির ইবনে যুবাইর এবং ইবনে যাম‘আহ উপস্থিত ছিলেন। মু‘আবিয়াহ তাঁকে বললেন, ‘গাবাহর কত দাম হয়েছে?’ তিনি বললেন, ‘প্রত্যেক ভাগের এক লাখ।’ তিনি বললেন, ‘কয়টি ভাগ বাকী রয়ে গেছে?’ তিনি বললেন, ‘সাড়ে চার ভাগ।’ মুনযির ইবনে যুবাইর বললেন, ‘আমি তার মধ্যে একটি ভাগ এক লাখে নিয়ে নিলাম।’ ‘আমর ইবনে উসমান বললেন, ‘আমিও এক ভাগ এক লাখে নিয়ে নিলাম।’ ইবনে যাম‘আহ বললেন, ‘আমিও এক ভাগ এক লাখে নিয়ে নিলাম।’ অবশেষে মু‘আবিয়াহ বললেন, ‘আর কত ভাগ বাকী থাকল?’ তিনি বললেন, ‘দেড় ভাগ।’ তিনি বললেন, ‘আমি দেড় লাখে তা নিয়ে নিলাম।’ আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আব্দুল্লাহ ইবনে জা’ফর তাঁর ভাগটি মু‘আবিয়ার কাছে ছয় লাখে বিক্রি করলেন।’ অতঃপর যখন ইবনে যুবাইর ঋণ পরিশোধ করে শেষ করলেন, তখন যুবাইরের ছেলেরা বলল, ‘(এবার) তুমি আমাদের মধ্যে আমাদের মীরাস বণ্টন করে দাও।’ তিনি বললেন, ‘আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের মধ্যে (তা) বণ্টন করব না, যতক্ষণ না আমি চার বছর হজ্জের মৌসমে ঘোষণা করব যে, যুবাইরের উপর যার ঋণ আছে সে আমাদের কাছে আসুক, আমরা তা পরিশোধ করে দেব।’ অতঃপর তিনি প্রত্যেক বছর (হজ্জের) মৌসমে ঘোষণা করতে থাকলেন। অবশেষে যখন চার বছর পার হয়ে গেল, তখন তিনি তাদের মধ্যে (মীরাস) বণ্টন করে দিলেন এবং এক তৃতীয়াংশ মাল (যাদেরকে দেওয়ার অসিয়ত ছিল তাদেরকে তা) দিয়ে দিলেন। আর যুবাইরের চারটি স্ত্রী ছিল। প্রত্যেক স্ত্রীর ভাগে পড়ল বারো লাখ ক’রে। তাঁর সর্বমোট পরিত্যক্ত সম্পদ ছিল পাঁচ কোটি দু’লাখ।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।উসমান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর হত্যাকারীকে প্রত্যর্পণের জন্য সংঘটিত উষ্ট্রযুদ্ধের দিন যুবাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু তার পুত্র আব্দুল্লাহ ইবন যুবাইর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমাকে ডেকে বললেন, “আমার মনে হয়, আমি আজ মাযলুম হিসেবে শহীদ হবো। আর আমি আমার ঋণ সম্পর্কে বেশি চিন্তিত। তাই তুমি আমার ঋণ পরিশোধ করে দিবে। তার সমূদয় সম্পত্তির পরিমাণ ছিলো ঋণ। এতদ্সত্ত্বেও তিনি তার পুত্রের পুত্রদের জন্য (অর্থাৎ আব্দুল্লাহ ইবনু যুবায়েরের পুত্রদের জন্যে) অসিয়াত করে গিয়েছিলেন। কেননা তিনি জানতেন যে, তার মৃত্যুর পর তার পুত্র আব্দুল্লাহ জীবিত থাকায় তার (আব্দুল্লাহর) সন্তানেরা তার (যুবায়ের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর) সম্পদে ওয়ারিশ হবে না। তাই তিনি (আব্দুল্লাহর) সন্তানদের জন্য তৃতীয়াংশের তৃতীয়াংশ অসিয়াত করেন, যা মূল সম্পদের নয় ভাগের একভাগ। তার উপর ঋণ থাকার কারণ এই ছিল যে, তাঁর নিকট কেউ যখন কোনো মাল আমানত রাখতে আসতো তখন যুবাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলতেন, না, এভাবে নয়’ তুমি তা আমার কাছে ঋণ হিসাবে রেখে যাও। কেননা, আমি ভয় করছি যে, তোমার মাল নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তিনি একজন আল্লাহ ভীরু আমানতদার ছিলেন। তিনি কখনো কোনো প্রশাসনিক কাজের দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। তিনি মারা গেলে তার সমূদয় ঋণ তার পুত্র আব্দুল্লাহ আদায় করে দেন। তার ঋণ আদায়ের পরে কিছু সম্পদ অবশিষ্ট থাকলে তার ওয়ারিশগণ তা বণ্টন করে দিতে অনুরোধ করলে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তা অস্বীকার করে বলেন, যতক্ষণ আমি হজ্জের মৌসুমে তার ঋণের ঘোষণা প্রচার না করব, যদি স্পষ্ট হয় যে তার কাছে আর কারো ঋণ নেই তখন আমি তার সম্পদ ওয়ারিশদের মাঝে বণ্টন করব। অতঃপর তিনি তাই করলেন। অতঃপর যখন তার সমূদয় ঋণ আদায় হলো তিনি তার স্ত্রীদেরকে (যুবায়েরের) অষ্টমাংশ বণ্টন করেন। এটি ছিলো তাদের মিরাসের অংশ। আর সে সময় যুবাইর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর চারজন স্ত্রী ছিলেন।
আবূ সা‘লাবা আল-খুশানী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফূ‘ সনদে বর্ণিত, লোকেরা যখন কোনো স্থানে অবতরণ করত, তখন তারা বিভিন্ন গিরিপথ ও উপত্যকায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ত। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “এভাবে উপত্যকা ও গিরিপথে তোমাদের বিক্ষিপ্ত হওয়া অবশ্যই শয়তানের পক্ষ থেকে”। এরপর থেকে সাহাবীরা যখন কোনো জায়গায় অবতরণ করত তখন তারা পরস্পর মিলে মিশে থাকত।
এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন।সফর অবস্থায় যখন লোকেরা কোথাও অবতরণ করত, তখন তারা বিভিন্ন স্থানে ও উপত্যকায় ছড়িয়ে পড়ত। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জানিয়ে দেন যে, তোমাদের ছড়িয়ে পড়া অবশ্যই শয়তানের পক্ষ থেকে। যাতে সে আল্লাহর ওলীদের ভয় দেখায় এবং তার দুশমনদের উত্তেজিত করে। তারপর তারা যখনই কোনো স্থানে অবতরণ করত, একে অপরের সাথে এমনভাবে মিলে থাকত, যদি তাদের উপর একটি চাদর বিছিয়ে দেওয়া হতো তা তাদের সবাইকে ঢেকে ফেলত।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মারফূ হিসেবে বর্ণিত, ধনীর গড়িমসি করা যুলুম। যখন তোমাদের কাউকে কোন ধনী ব্যক্তির হাওয়ালা করা হয়, তখন সে যেন তা মেনে নেয়।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।আলোচ্য হাদীসে পারস্পরিক লেন-দেনের ক্ষেত্রে সর্বোত্তম আদব শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিকে ঋণী ব্যক্তিকে যথাযথভাবে ঋণ পরিশোধের আদেশ প্রদান করেছেন আবার পাওনাদারকে উত্তম পন্থায় স্বীয় হক চাওয়ার প্রতিও উদ্বুদ্ধ করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বর্ণনা করেন, যখন কোন পাওনাদার তার পাওনা ফেরত চায় অথবা ইশারা বা আলামত দ্বারা তার পাওনা চাওয়া বুঝা যায় তখন পরিশোধ করতে সক্ষম ধনীর জন্য দেরী করা যুলুম এবং কোন প্রকার অপারগতা ছাড়া তার হককে বারণ করার শামিল। ঋণী ব্যক্তি যদি পাওনাদারকে এমন ব্যক্তির নিকট সোপর্দ করে যার থেকে তার পাওনা গ্রহণ করতে সহজ হবে, তখন এ যুলুম দূর হয়ে যাবে। তখন পাওনাদার যেন বলে, তাহলে সোপর্দ করা হোক। কারণ, তার থেকে ভালোভাবে আদায় করা যাবে এবং সহজ হবে। যেমনটি তালবাহানা কারী ঋণী ব্যক্তির জিম্মায় থাকলে যে যুলুম হতো তাতে সে যুলুমও দূর হয়ে যাবে।